• বুলবুলভাজা  ধারাবাহিক  উপন্যাস  শনিবারবেলা

  • নকশিকাঁথা (১৭)

    বিশ্বদীপ চক্রবর্তী
    ধারাবাহিক | উপন্যাস | ১৩ নভেম্বর ২০২১ | ১৬৬ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • ১৭


    তিন বছর বাদে নিউ অরলিন্সে পা রাখল ইনোসেন্ট।
    মাউন্ট বাউ অত কিছু দূর নয়। ঘণ্টা পাঁচেক। তবু কালোদের কামরা থেকে সাদার্ন রেলের টার্মিনালে পা দিতেই দূরত্বটা শতাব্দী-ছোঁয়া হয়ে গেল। অন্য এক জগত, যে জীবনটা কড়া-পড়া হাতের তালুর মত চেনা ছিল একসময়। যার এককোণে গুটিসুটি তারও ঠাঁই ছিল। এককোণেই, যতটা সম্ভব সাদা মানুষদের চোখের আড়ালে। শুধু কাজের সময় ছাড়া। রেলরোডে কাজ ছিল নিজের জাতভাইদের সঙ্গেই। ওইরকম ঘাম ঝরানো পরিশ্রম আর কে করবে নিগ্রোরা ছাড়া! এরকম ছোট কাজে হাত লাগাবে সাদারা? শুধু বড় সাহেব সাদাম্পটন ছিল সাদা চামড়ার মানুষ, দিনে দু’বার তদারকিতে আসত, কাজের গাফিলতির জন্য দু’-দশটা জরিমানা ঠুকে চলে যেত। তবু রেলরোডের কাজটা ছিল বলে বাঁচোয়া। একসময় তুলো চাষের জমিতে যারা দিনভর কাজ করেছে, দাসত্ব থেকে খালাস পেয়ে কোথায় যেত তারা? ইনোসেন্টের বাপের মত অনেকেই ভিড়েছিল রেলরোডে। রেলের লাইনে কাজের অভাব ছিল না। একটু গায়ে গতরে গত্তি লাগতেই ইনোসেন্টও জুটে গেছিল সেই কাজে। কিন্তু জমির টান যাবে কোথায়? হাওয়ায় তুলোর বীজ উড়তে না দেখলে দম আটকে আসত কেমন। বাপ-মায়ের পিছন পিছন ছোটবেলায় জমিতে কাজ করেছে ইনোসেন্ট। কালো মাটির সঙ্গে আত্মার টান। সেই কাজে ফিরে যাওয়ার তরাশ লেগে থাকত মনে। একটু টাকা জমতেই চলে গেছিল নিগ্রোদের নতুন পত্তন মাউন্ট বাউ। আর ধার মাড়ায়নি এদিকের। এত দিন।

    চারদিকে সাদাদের ভিড়ে চোখ ধাঁধিয়ে যাচ্ছে আজ। রাতের অন্ধকারে হঠাৎ চোখে আলো ফেললে যেমন হয়। ভিতরে ভিতরে কুঁকড়েও গেল বুঝিবা। চোখের চাহনি নিজের অজ্ঞাতেই মাটি খুঁজছিল। সেটা নাহলে অনেক আগেই অ্যাবিয়েলকে দেখতে পেত।
    You don’t never hear a thin’! অ্যাবিয়েল প্রায় কানের কাছে এসেই চেঁচাল। কথায় রাগ ছিল না, রাগ থাকলে কালো চোখের তারা এমন হরিণের মত লাফাত না।

    অ্যাবিয়েল ইনোসেন্টের থেকে বয়সে অনেক ছোট। ইনোসেন্ট জন্মেছে তুলোর ক্ষেতে, কটনভিলে। তখন তারা সবাই ছিল দাস। স্বাধীন হওয়ার পর ডারনেল আর মলি ইনোসেন্টকে নিয়ে চলে এসেছিল নিউ অরলিন্সে। কিইবা করার ছিল! সারা জীবন জমিতে কাজ করেছে, কিন্তু পয়সা তো নেই, যে স্বাধীন হয়েছে বলেই নিজের জমি কিনে চাষ করবে। বছর দুয়েক ভাগচাষ করে কটনভিল ছেড়ে এই শহরে এল কাজের খোঁজে। ইনোসেন্টের বড় দুই ভাই পড়ে রইল ফেলে আসা কটনভিলের মাটিতে। ডারনেল রেলরোডে কাজ করতে করতেই চলে গেল একদিন। বাঁচার তাগিদে মলিকে সব রকমের কাজ করতে হয়েছে। নিউ অরলিন্সে জন্মানো অ্যাবিয়েলের গায়ের কফি-রঙে ছড়িয়ে গেছে দুধের সাদা। ইনোসেন্টের গায়ের রং সরল, সাদাসিধে কালো।

    অ্যাবিয়েলকে বুকে জড়িয়ে ধরল ইনোসেন্ট। ছোট্ট বোনটা আরও বড় হয়ে গেছে। আরও উজ্জ্বল। উচ্ছলও। You gettin’ on fleek sistas. Still be dancin’ singin’?
    তোমার ক্ষেতখামারির কাজ কেমন চলচে ব্রাদার?
    শুনেই চোখ চকচক করে উঠল ইনোসেন্টের। সিস্তাস! মামা আর তুই যদি আসিস দেকতে পাবি। আমাদের নিজেদের জমি, নিজেদের চার্চ। ব্যাঙ্ক আছে আমাদের। ব্রাদার মন্টোগোমারি ইস্কুল খুলচে। পুরোপুরি আমাদের ঠাঁই, ওখেনে গিয়ে কর না যা খুশি, পরাণখুশিতে নাচবি, গাইবি। কারো তোয়াক্কা নেই।
    অ্যাবিয়েল এখেনেও কাউকে কেয়ার করে না। দেকো যদি মামাকে নিয়ে যেতে পারো, আমি ট্রেম ছেড়ে কোতাও নড়চি না।

    ইনোসেন্ট ওদের নিয়ে যেতে চেয়েই এসেছে। যখন গিয়েছিল, তখন না ছিল জমি, না ছিল ঠিকানা। তিন বছর খেটে তার এক চিলতে নিজের জমিতে তুলো ধরিয়েছে বেশ। বানিয়েছে নিজের ঘর। এবার মামা আর সিস্তাসকে নিয়ে যেতে পারবে, খুব আশা নিয়ে এসেছে ইনোসেন্ট। অ্যাবিয়েল স্টেশানেই না করে দিল, সে ঠিক আছে। বুঝিয়ে বলতে হবে। কিন্তু আরও কিছু বলার আগেই তার চোখ থমকে গেল সামনের কামরায়। সাদাদের কামরা থেকে নাবল এক অদ্ভুত পোশাকের লোক। তার পরনে কমলা রঙের পোশাক, মাথায় অমনই কমলা রঙের ফেট্টি। লোকটার গায়ের রং তো কালোই লাগছে, তবে সাদাদের কামরা থেকে নাবল যে বড়? নিউ অরলিন্স এই ক’বছরে এত বদলে গেছে?

    অ্যাবিয়েল, এই লোকটা কে? ও কেমন করে সাদাদের কামরা থেকে নাবচে? এখন কি আর সাদাদের কামরা আলাদা নয়?
    ও তো হিন্দু ফকির, দাভে দ্য রাজা। গাঁয়ের রং অমনই। কিন্তু সে কালারড নয়, হিন্দু।
    খুব অবাক হল ইনোসেন্ট। হিন্দু আবার কে? তারা কেমন করে কালো হলেও কালারড নয়, দিব্যি সাদাদের সঙ্গে ওঠাবসা করছে? কৌতূহল দমন করতে না পেরে, অ্যাবিয়েলকে ছেড়ে লম্বা লম্বা পায়ে এগিয়ে গেল ইনোসেন্ট। আর একটু হলেই একটা সাদা লোকের গায়ে ধাক্কা লেগে যাচ্ছিল তার। সেই লোকটা হে নিগ্রো! বলে ভীষণ জোরে খেঁকিয়ে উঠল। তবু না দমে আর একটু এগিয়ে যেতেই চমকে উঠল ইনোসেন্ট। আরে এই লোকটা হিন্দু? একে তো ডিওয়েনের মত লাগছে।
    ডিওয়েন! ডিওয়েন!

    দাভে দ্য রাজা তার পাগড়িতে একবার হাত দিল শুধু, একবারও না ফিরে সামনে এগিয়ে গেল।
    এত বড় ভুল হল তার? এক সঙ্গে তারা রেলের লাইনে কাজ করেছে, পাটাতন উপর-নীচ করার তালে তালে গান গেয়েছে, কাজের শেষে সিগার খেয়েছে - সেও দু’জনে। পিছন পিছন ছুটতে ছুটতে গেল ইনোসেন্ট। একদম কাছে এসে গেছিল। ডিওয়েন! ডিওয়েন!
    Listenin’, now swerve! Be comin’ to Treme. একবারও তার দিকে না তাকিয়ে দাঁতের ফাঁক দিয়ে কথাগুলো ছুঁড়ে দিয়ে অমনই হেঁটে চলে গেল সে ফকির। কিন্তু ও ডিওয়েন, নিশ্চিত। তার ট্রেমের বাড়িতে আগে এসেছে। আসবে সেখানেই। তাজ্জব! ওখানে দাঁড়িয়েই বিড়বিড় করছিল ইনোসেন্ট।

    ব্রাদার! কি হল? ওই ফকিরকে তুমি চেনো নাকি?
    হয়তো, হয়তো চিনি। পুরোটা না জেনে কাউকে কিছু বলা ঠিক হবে না। ডিওয়েন বিপদে পড়ে যাবে। ডিওয়েন যখন শিকাগো পাড়ি দিয়েছিল, অ্যাবিয়েল বেশ ছোট। চিনতে না পারারই কথা। এইটা মাথায় রেখে অ্যাবিয়েলকেও সেদিন কিছু বলেনি ইনোসেন্ট।
    কথা রেখেছিল ডিওয়েন। দুটদিন বাদেই হাজির। পরনে কমলা-রঙা পোশাক নেই এখন। এ যে ডিওয়েন, সেই বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই, বরং দাভে দ্য রাজাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এখন মোটেই।

    You gave me a scare. হাসতে হাসতে বলল ডিওয়েন, মুখের ভাষাটা দাভের থেকে ধার করা।
    এসব কি আখ্যান ব্রাদার? সেদিনের সেই পোশাক, হিঁদু? আমাকে অ্যাবিয়েল বলল, তুই নাকি হিঁদু ফকির?
    নিউ অরলিন্সে গোটা মানুষ হয়ে বেঁচে থাকার ওটা একটা উপায়। এখন আমি যেকোনো সাদাদের পল্লীতে ঢুকে যেতে পারি, থাকিও তো সেখানেই। আমার কাছে বরং সাদারা ভিড় করে হিন্দু শাস্ত্রের কথা শুনতে।

    হিঁদু? হিঁদুদের শাস্তর? সেসব আবার কি? ডিওয়েন খুব চালাক চতুর ছিল, বেশ বলিয়ে কইয়ে ছিল। পড়তে পারত। চেহারাটাও বেশ জবরদস্ত। ওর গায়ের রঙেও দুধের মিশেল আছে। সাদাদের স্কুলে সুযোগ পেলে ওকে আর রেলরোডে কাজ করতে হত না। কিন্তু যতই ধুরন্ধর হোক, নিজে নিজে এসব কিছু জানবে কেমন করে?
    এত সব হল কেমন করে? এখানে ফিরে এলিই বা কবে? তুই না উত্তুরে পালিয়ে গেচিলি?
    গেছিলাম তো। শিকাগো ছিলাম বেশ কয়েক বছর। তারপর ফিরে এসে দেখলাম তুই জমির খোঁজে চলে গেছিস মাউন্ট বাউ। শুনেছি পুরোপুরি নিগ্রোদের আস্তানাটা বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে। কেমন জায়গা রে সেটা?
    বলবো’খন সেসব পরে। আগে বল, শিকাগো বড় ভাল শহর বলে শুনেচি। ফিরলি কেন?
    আরে ব্রাদার, সেসব অনেক কথা। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সেসব কথা হবে, নাকি দুই-এক পাত্তর চড়িয়ে? বড় বড় দাঁত বের করে হাসল ডিওয়েন। অনেক ঘাটের জল খেয়েছে ডিওয়েন, চেহারায় পালিশ পড়েছে খুব। রেলরোডের শ্রমিক বলে চেনা শক্ত।
    হিঁদু ফকির খায় সেসব?

    এখন আমি ডিওয়েন হয়ে ট্রেমে এসেছি যখন, ওসব ধরাচূড়া পড়ার দরকারটা কি? বাড়িতে আর কেউ আছে? বিগ মামা, তোর বোন অ্যাবিয়েল?
    না, সবাই কাজে বেরিয়েছে।
    ব্যস, তাহলে নিশ্চিন্তে কথা বলা যাবে। লোক-জানাজানি হলে আমার গায়ের চামড়া খুলে নেবে সাদাদের মহল্লায়। হাসতে হাসতেই বলল ডিওয়েন। গলার স্বর শুনে খুব ভয় পায় এমন জানান দিল না।

    মাউন্ট বাউতে ভাল আছিস তাহলে? অ্যাবসিন্থ হাতে নিয়ে গুছিয়ে বসে জিজ্ঞেস করল ডিওয়েন।
    সেসব কতা বাদে হবে। আগে তোর কথা ক’ তো দেকি। শিকাগোর কতা। শুনেচি ওধারে নাকি সাদা আর কালোর মদ্দে কোন ফারাক নেই কো।
    বলতে গিয়ে একবার থমকাল ডিওয়েন। নেই আবার আছেও। সেরকম না হলে আমি আবার ফিরে এলাম কেন। তবে হ্যাঁ, সেগ্রিগেশান নেই সেটা ঠিক। স্মৃতি রোমন্থন করতে করতে মুচকি হাসল সে। আমি যখন ট্রেনে করে যাচ্ছিলাম, ট্রেন যেই ইলিনয় ঢুকেছিল, আমি কি করেছিলাম বল তো একবার?
    কি?
    সিধা ঢুকে গেলাম সাদাদের কামরায়। একটা অদ্ভুত কথা কি জানিস, আমাদের এই দক্ষিণের শহরে থেকে থেকে আমরা ভাবি – যা কিছু সাদাদের সব বুঝি ভাল। ওদের বাগানওলা বাড়ি, জামা কাপড় ধোপদুরস্ত, মেয়েরা হাঁটছে মাটির দু’ ইঞ্চি উপর দিয়ে – ওদের দিকে তাকালে পর্যন্ত গায়ের চামড়া খুলে নেবে। আর আমাদের নিগ্রোদের সব নোংরা, ভাঙাচোরা। অথচ ওই কামরায় ঢুকে কি দেখেছিলাম বল তো? কামরার মেঝেতে যত কাগজ, খেয়ে ফেলা উচ্ছিষ্ট, কি নেই! ঠিক আমাদের নিগ্রোদের কামরার মতই গন্ধ। সাদা মেয়েরাও বসেছিল সেই কামরায়, ওই নোংরার মধ্যেই। পা পুরোদস্তুর মাটিতে। They also piss and shit like us.

    They aint doing no cleanin by them hands. Negros doin’ all stuff.
    আসলে কি জানিস সেদিন প্রথম বুঝলাম, আমাদের এই যে কালো চামড়াটা – সরিয়ে নাও, কোনো তফাত নেই।
    কিন্তু তুই সেকেনে ঢুকলি কি করে? এমনটা সত্তিই হয়?
    হল তো। আরও কি হল সেটা শোন। আমি ভাবলাম ঢুকে তো গেলাম এবার বসবো কি দাঁড়াবো? কেউ কি তফাত যাও বলে চিল্লিয়ে উঠবে?
    সাদাদের কামরায় বসতে গেচিলি? পরানে ভয়ডর নেই? ধাক্কা মেরে ট্রেন থেকে ফেলে দিলে কি হত? অবাক বিস্ময়ে ইনোসেন্টের চোখ সত্যি বড় বড় হয়ে গেছিল।

    ভয়ে বুক ধড়ফড় করছিল, তবু বসেছিলাম। বসলাম, কেউ কিছুই বলল না। আমি ভেবেছিলাম হয়তো ভাল করে খেয়াল করেনি। খানিক বাদে বুকের ভয় একটু কমলে, আমি পাশের সাদা লোকটাকে জিজ্ঞেস করলাম, শিকাগো আর কত দূর? আমার মুখের দিক ভাল করে তাকাল এই লোকটা। বলল, এই তো ঘণ্টা দুয়েক। ব্যস, এইটুকুই। আমাকে পাশে বসে থাকতে দেখেও আর কিচ্ছু বলল না। আমি ট্রেনের দুলুনির সঙ্গে সঙ্গে নিজের কনুই দিয়ে একবার ওকে ইচ্ছা করে ছুঁয়ে দিলাম, তাতেও রা কাড়ল না।
    এরকম হয় বুঝি? শুনেছে লোকমুখে, উত্তরের শহরগুলোয় সাদা-কালোয় এমন বিভেদ নেই। সেইসব কথায় কতটা দুধ আর কতটা মিশেল – সেই বিষয়ে সন্দেহ রয়েই গেছিল। কিন্তু ডিওয়েন যখন বলছে মিথ্যা কেন বলবে।

    শুধু তা-ই নয়। ট্রেন তখনো শিকাগোতে ঢোকেনি। কি দেখলাম বল তো? ডিওয়েনের কথায় বেশ নাটকীয়তা আছে। এক একটা কথা হাওয়ায় ছেড়ে দিয়ে অপেক্ষা করে, থিথোতে দেয়। দেখলাম শয়ে শয়ে লোক রেল রোডের ধারে কাজ করছে।
    সেটা আবার নোতুন কি। চারদিকে রেলরোড ছড়িয়ে পোচ্ছে, লোক তো কাজ করবেই। আমরাও তো করেচি। করিনি?
    আরে কথাটা শোন না আগে। তোর আর আমার চামড়ার রংটা তো আর সাদা নয়। আমাদের এখানে যত নিগ্রো কাজ করে, আর তাদের কাজ করায় সাদা চামড়ার মনিব। কিন্তু শিকাগোর রেল রোডের কাজ করছিল কারা? সব সাদারা। কি বলব রে ইনোসেন্ট, দেখে আমার চোখ ছানাবড়া। এমনটাও কি হতে পারে?
    বলিস কি? আমাদের মত গাঁইতি আর শাবল নিয়ে কাজ কচ্চে সাদারা?
    বিলকুল, লাইন দিয়ে। বরং অনেক খুঁজেও একটা কালো পেলাম না।
    ঠিক আমাদের মতন? একই কাজ?
    হ্যাঁ রে ব্রাদার, রেল রোডের কাজ আলাদা হবে কেন? শুধু আমরা মনে আছে কাজ করতে করতে সারাদিন গান করতাম? আমি তো জানালায় মুখ বাড়িয়ে দেখছিলাম ওদের। মাথা গুঁজে কাজ করছে আর একে অপরকে খিস্তিখাস্তা করছে, কিন্তু আমাদের মত গান গাইছিল না কেউ। ওদের গান করতে দেখিনি কক্ষনো। সেদিনও না, তার পরেও দেখিনি।

    ইনোসেন্টের মনে পড়ে যাচ্ছিল রেলরোডের কাজের দিনগুলো। গুনগুন করে উঠল, Sliding them in, sliding them in!
    মনে আছে আমাদের গান? তড়াক করে চেয়ার ছেড়ে লাফিয়ে উঠে দাঁড়াল ডিওয়েন। খুব ভরাট গলা তার, কাজ করতে করতে সেই গলা তুলে গাইত। গ্যাং-এর আর সবাই ধুয়ো তুলত। পেটে কয়েক পাত্তর পড়তেই পুরোনো দিনের কথায় গানের মেজাজ এসে গেছে ডিওয়েনের। গলা ছেড়ে গেয়ে উঠল।
    I don’t know but I been told
    Susie has a jelly roll
    Susie, Susie, don’t you know
    I can make your belly grow.

    শুধু গান গাওয়া নয়, ডিওয়েনের অঙ্গভঙ্গি দেখার মত। কে বলবে এই লোকটাই আবার হিন্দু ফকির সেজে ঘুরে বেড়ায়!
    ইনোসেন্টও গলা মিলিয়ে দিল। হাতে তাদের লাইন ঠিক করার গাঁইতি নেই। কিন্তু হাতটাকে সামনে নিয়ে কোমর দুলিয়ে গেয়ে উঠল দু’জনে গলা মিলিয়ে – যেন সত্যিই রেলরোডের লোহার পাতগুলো উপর নীচ করে দিচ্ছে।
    Standing on the corner
    With a mantelpiece
    Greasing my foot
    With a little axle grease
    Sliding them in, sliding them in.
    গলা সপ্তমে চড়েছিল। মাঝখানের এতগুলো বছর কোথায় উবে গেল। একজন মাউন্ট বাউতে কাপাস ফলায় আর একজন নিউ অরলিন্সের হিন্দু ফকির। সেসব পরিচয় ভুলে ট্রেমের এই দুই কামরার ঘরের কাঠের মেঝেতে রেলের লাইন পাতছিল দু’জনে দুলে দুলে।

    I be aksin’ me, dat old man be comin’ back! What up playa? You was wildin’?
    দরজার পাল্লা ধরে দাঁড়িয়েছিল মলি। আর দুলে দুলে হাসছিল।

     

  • বিভাগ : ধারাবাহিক | ১৩ নভেম্বর ২০২১ | ১৬৬ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা খুশি মতামত দিন