• বুলবুলভাজা  ধারাবাহিক  উপন্যাস  শনিবারবেলা

  • নকশিকাঁথা (২১)

    বিশ্বদীপ চক্রবর্তী
    ধারাবাহিক | উপন্যাস | ১১ ডিসেম্বর ২০২১ | ২৩৮ বার পঠিত
  • নকশিকাঁথা – উপন্যাসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং বাঙালি অভিবাসী জীবনের না জানা সময়


    ১৮৯০ এর দশক। তখন আমেরিকা এক সন্ধিক্ষণে। কালো মানুষেরা সদ্যই স্বাধীন। কিন্তু আমেরিকার দক্ষিণের রাজ্যগুলোতে বিভিন্নভাবে তাদেরকে আবার অন্ধকারে ঠেলে দেওয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে। অন্যদিকে শিল্প বিপ্লবের শেষ পর্যায়ে এসে মধ্যবিত্ত সাদা মানুষের আমেরিকা নিজেদের জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য পেরিয়ে ধর্ম এবং সংস্কৃতির খোঁজ শুরু করেছে। বিবেকানন্দের আমেরিকা বিজয়, হিন্দু ধর্মের জন্য আমেরিকার কৌতূহল এবং পৃষ্ঠপোষকতার খবর আমাদের জানা আছে। কিন্তু এই আগ্রহ শুধু ধর্মের ক্ষেত্রে নয়। পণ্য এবং বিনোদনের জগতেও ছিল। তারই হাত ধরে এমনকি বিবেকানন্দ আসার আগেও আমেরিকায় এসে গেছিল চুঁচুড়া, তারকেশ্বর, চন্দনপুর, বাবনানের কিছু লোক তাদের চিকনের কাজের পসরা নিয়ে। হাজির হয়েছিল উত্তর আমেরিকার সমুদ্রতটে। ছড়িয়ে পড়েছিল আমেরিকার বিভিন্ন শহরে, সংসার পেতেছিল কালোদের সমাজের অংশ হয়ে। শুধু চিকনদারেরা নয়। শতাব্দীর শেষের দিকে বৃটিশ জাহাজ থেকে পালিয়ে নিউ ইয়র্কে নেবে যাচ্ছিল সিলেট, চট্টগ্রাম থেকে আসা মাঝি-মাল্লারাও। মধ্য আমেরিকার শিল্পাঞ্চলে কাজের অভাব ছিল না কোন।


    বড় অদ্ভুত এই সময়। একদিকে দ্রুত শিল্পের বিকাশ ঘটছে, দেশ বিদেশ থেকে মানুষ এসে জড়ো হচ্ছে আমেরিকায়। আবার পাশাপাশি কালোদের উপর নিপীড়ন বাড়ছে, এশিয়া থেকে আসা অভিবাসীদের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে সব নিয়মকানুন। বাবনানের চিকনদার আলেফ আলি আর পাঁচকড়ি মণ্ডল, সিলেটের গোবিন্দ সারেং কি আক্রাম, বেদান্ত সোসাইটি গড়ে তুলতে আসা অভেদানন্দ - এমনি আরও অনেকের জীবন জড়িয়ে যাবে অনেক রঙের মানুষের দেশ আমেরিকার এক উথালপাথাল সময়ে, বুনবে নানা রঙের নকশিকাঁথা।

    ২১


    ফিরি করতে বেরোবার পথে প্রায় দিন পিকাউন পায়ারে এসে বসে আলেফ। লোকে বলে লাগারস ল্যান্ডিং। একটা বিশাল বড় কাঠের পাটাতন ঘাট থেকে জলে নামানো, ঢেউয়ের সঙ্গে উথাল পাথাল খায় সেটা। ঘাটে বসে, হাঁটুতে মুখ রেখে, দিগন্তবিস্তৃত মিসিসিপির জল মাপে আলেফ। এই জলে ঘুঘু পাখির রং। ঘাট ছুঁয়ে চলে যায় দূরে, কতদূরে। ঠিক যেমন আলেফের জীবন ছুঁয়েছে নিউ অরলিন্সের মোহানা। জল এগিয়ে যায় নিজের খেয়ালে, আলেফ এগোতে পারে কই। তার ভালও লাগে, আবার লাগেও না। থেকে থেকে বাবনানের মেঠো পথ, সবুজ আবাদ ডাক দেয়। আমিনাও। কিছু হারানোর বেদনা জমেই থাকে, সময়ের সঙ্গে তার কোন নিরসন নেই।

    দেখতে দেখতে কত কত ছোট নৌকা সার দিয়ে এসে দাঁড়ায় ওই পাটাতনে। যেমনধারা গঙ্গার ঘাটে জেলেদের ডিঙ্গি নৌকা লাগত ভোর থেকে। সেখানে থাকত রুপালি ইলিশের ঢের। নৌকা করে কলিন রোডে চিকনের বাক্স নিয়ে যাওয়ার সময়ে দেখেছে। এখানে মেক্সিকো উপসাগর থেকে ঝিনুকের সওদা আসে জালটানা নৌকায়, একেকটার মাথায় হরেক রঙের পালের কাপড়। যখন ভোর ভোর এসে লাগে পিকাউনের ঘাটে, পুরো জায়গাটা ঝলমল করে ওঠে। আলেফের অনভ্যস্ত চোখ ধাঁধিয়ে যায়। এখানে জীবনের চলনটাই এমন ধারা, সবাই নিজের নিজের দেশের রঙ ছেনে এনে সাজিয়েছে।

    নৌকারা ঘাটে এসে লাগলেই, হইহই করে ঝিনুকের বোঝা নামাতে ছুটে যায় একদল মজদুর। কে ঝিনুক পাড়ে নামাবে, সেই নিয়ে বেজায় হুড়োহুড়ি। সেই লোকেরা কেউ তুর্কিস্তানের, কেউ রাশা কি নেপোলির। কাজ কেড়ে নেবার উত্তেজনায় নিজের নিজের ভাষায় কিচির মিচির জুড়ে দেয়, যতক্ষণ না ঝিনুক পাড়ে নামানোর দাবিদাওয়ার ফয়সালা হচ্ছে। তাদের টুকরো টুকরো কথার থেকে দেশ চিনতে শিখে যাচ্ছে আলেফ। কিন্তু কইতে পারে না মোটে। তবু এই যে এত, আরও লোক, নিজের দেশ ছেড়ে কাজের খোঁজে তার মতন এই দূর দেশে হাজির হয়েছে, সেটা ভেবেই এদের সঙ্গে একাত্মবোধ করে। দেশের টানটা খানিক হলেও বাঁটোয়ারা হয়ে যায়।

    আ-লেফ!
    আলেফ যেমন ফিরি করতে বেরোয় সকালে, অ্যাবিয়েল তার খোঁজে কোনো কোনো দিন এসে হাজির হয়। ঠিক জানে এই ঘাটে পাওয়া যাবে আলেফকে।

    আ-লেফ!
    অ্যাবিয়েল তার নামটা এমনি টেনে টেনে উচ্চারণ করে। এই ডাক তাকে অন্য মানুষ করে দেয়। যে আর আলেফ নয়, আ-লেফ। নিজেকে অন্যরকম ভাবতে ইচ্ছে করে, যে জীবনের রঙ বদলে বদলে কখনো বেগুনি, কখনো সবুজ কি সোনালি। তার মনের মধ্যে এই কথাগুলো আকুলি বাকুলি করে, ঠেলে বেরিয়ে আসতে চায়। যদি গুছিয়ে এসব কথা বলতে পারত, হয়তো অ্যাবিয়েল বলে উঠতে পারত – আলেফ যখন তাকে আবিল বলে ডাকে, তার মনে এরকম কিছু হয় কি না। কিন্তু সেটা জানা হয় না। কারণ অত কথা বলার মত এদেশি ভাষা তার মুখে জোটে না।

    আলেফ মুখ দিয়ে কথা বলতে না পেরে ফাঁক পূরণ করে তার হাসি দিয়ে, হাত দিয়ে। কখনো সর্বাঙ্গ দিয়ে। আবার কখনো কিছুই না বলে, শরীর একদম না নড়িয়েও। কোনো কোনো সময়ে বোঝানোর জন্য পথের ধারে বসে ধূলায় আঁকিবুঁকি কাটে। এই যেমন অ্যাবিয়েল জিজ্ঞেস করল, অ্যাবিয়েলের সঙ্গে ক্যানাল স্ট্রিট দিয়ে এমন রোজ রোজ হেঁটে যেতে ওর ভাল লাগে কি না। সাইকেল পাশে নিয়ে এইভাবে হেঁটে যেতে ওর কাজের দেরি হয়ে যায় না কি?

    ঘাট থেকে উঠে রেলের পাটরি পার করে দুজনায় ক্যানাল স্ট্রিটে এসে পড়েছিল। এখানে থেকে দুটো রাস্তা পেরিয়ে যেতে হবে র‍্যাম্পারট স্ট্রিটে, বেলার দিকে ট্রেন এসে লাগবে অনেক সওয়ারি নিয়ে। তাদের ধরতে হবে, কিন্তু তার অনেক সময় মজুদ এখনো। অ্যাবিয়েলের বাড়ি ট্রেমে, সেই রাস্তা উল্টো পথে বেসিন স্ট্রিট পার করে। ওর জন্য এই ঠাঠা রোদে কম দূর নয়। ঘামে চিকচিক করছে মেয়েটার মুখ, কোঁকড়া চুলের গাছি কপালে লেপ্টে গেছে। আলেফ দেখে। অ্যাবিয়েলের মুখের কথা যদি কম বোঝে, মনের কথা বোঝে ঢের বেশি। কিন্তু বলতে মুখে কথা জড়িয়ে যায়, শব্দ হাতড়ে বেড়ায় শুধু। কন্ঠনালীতে কাঁপন ধরে। শরীরের পেশি কেমন টানটান হয়ে যায় বাতাস-টানা নৌকার পালের মত।

    নিরুপায় যুবক ডেকে উঠল, আবিল! আবিল! – তারপর দুই হাত জড়ো করে কাত করল আর মাথাটা রাখল তার উপর। হয়তো বলতে চেয়েছিল, অ্যাবিয়েলের সঙ্গে হেঁটে যেতে তার মনে খুব শান্তি হয়, কিংবা এটাও বলে থাকতে পারে যে অ্যাবিয়েলের সঙ্গে হেঁটে যাওয়া তার কাছে স্বপ্নের মত।
    তার এই ভঙ্গিমায় অ্যাবিয়েল নিজের ঘন কালো চোখ বড় করে তিরস্কার করার ভান করেই ফিক করে হেসে ফেলল। তার বাদামী গাল টসটস করে উঠল আনন্দে। নাকের উপর ঘামের বিন্দু মুক্তোদানার মত ঝিলিক মারল। সে বলল, আ-লেফের আর হেঁটে হেঁটে কথা কইতে ভাল লাগচে না, শুয়ে শুয়ে গল্পো কত্তে চায়?

    তাই বলে এমন নয় ওদের কথা না-বলাতেই আটকে থাকে। আলেফ অ্যাবিয়েলকে তার গ্রামের কথা বলেছে না? হেঁটে হেঁটে গ্রামের পথে ফিরি করে বেড়ানোর কথা! তখন আলেফকে সাইকেল আর কাপড়ের পেটি দাঁড় করিয়ে পথের পাশে বসতে হয়। কিংবা যেদিন ওরা মিসিসিপির পাড় ধরে হাঁটে, সেখানে কাদামাটির উপর আলেফ তাদের গ্রামের বাড়ির ছবি আঁকে আঙুল দিয়ে। কুঁড়েঘরের পাশ দিয়ে দাদপুরের রাস্তা চলে যায়। সেই পথের রেখার উপর চারটে লম্বা দাগ দিয়ে নিজেকে আঁকে আলেফ। গোল্লা করে মাথা, আরও এক বড় গোল্লায় মাথার উপরের বোঁচকা। পথের ধারে থাকে একটা খেজুর গাছ। আর তার পাশে দাঁড়ানো আমিনা। সে আমিনার হাসি বোঝানোর জন্য ভরদুপুরে খেজুর গাছের মাথায় একটা বাঁকা চাঁদ আঁকে। আমিনা যে আলেফকে ভালবেসেছে, সেটা বোঝাতে আমিনার একটা হাত লম্বা হয়ে চার কাঠিতে আঁকা আলেফের মাথার গোল্লাটকে ছুঁয়ে দেয়। তার পরেই আলেফের সেই গোল্লা মাথাটা আনন্দে সূর্যের মত দিকে দিকে আলো ছড়াতে থাকে। এতটুকু এঁকে খুব হাসিখুশি মুখ নিয়ে অ্যাবিয়েলের দিকে তাকায় চিকনদারি ব্যাপারী আলেফ।

    অ্যাবিয়েল খুব মন দিয়ে সেই ছবি দেখছিল। তারপর তার ডান হাতটা বাড়িয়ে আলেফের মাথার চুলে হাত রাখে। লম্বা লম্বা আঙুলে চুল ঘেঁটে দিতে থাকে, যতক্ষণ খানকয়েক চুলের গোছা সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে না পড়ে।

    আ-মিনা, আ-লেফ, আবিল? আলেফের পিঠের উপর ঝুঁকে পড়ে কানের কাছে ফিসফিস করে বলে অ্যাবিয়েল। তার মাথার লম্বা কালো কোঁকড়ানো চুল আলেফের কাঁধে রেশমি স্পর্শ দেয়, অ্যাবিয়েলের গরম নিশ্বাসে আলেফের কান তেতে ওঠে। এর পরে পিছন থেকে দু’ হাতের বেড় দিয়ে আলেফকে জড়িয়ে ধরে মোক্ষম প্রশ্ন করে অ্যাবিয়েল। আ-লেফ কাকে পচন্দ করে আ-মিনা নাকি আবিল?

    আলেফের ঠোঁট নড়ে না, আঙুল নড়ে না, কাঁধ নড়ে না। আসলে উবু হয়ে বসে আঁকছিল তো। অ্যাবিয়েলের পুরো শরীরটা এখন তার পিঠে চেপে বসেছে, সে কিছুক্ষণ সামলানোর পরে সামনে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। মাটিতে উলটে পড়লেও, অ্যাবিয়েলের শরীরে হাসি তবু উছলে পড়ছিল সমুদ্রের অফুরান ঢেউয়ের মত। ওইভাবেই আকাশের দিকে মুখ রেখে, আলেফের চোখে চোখ বেঁধে প্রশ্ন করে আবার, আগে বলো আ-লেফ কাকে পচন্দ করে, আ-মিনা নাকি আবিল?

    আলেফ দুই পায়ে উঠে দাঁড়ায়। খানিক এমনি দাঁড়িয়ে থাকে। শেষে একদিকে আঙুল তুলে বলে দাদপুর, অন্যদিকে আঙুল বাড়িয়ে বলে স্টোরিভিল। তারপর দুই হাত জড়ো করে একটা ফুল বানানোর চেষ্টা করে ছুঁড়ে দেয় দাদপুরের দিকে। তারপর দুই পায়ে সিঁড়ি ভাঙ্গার মত স্টোরিভিলের দিকে এগিয়ে গিয়ে দুহাত উপরে ছুঁড়ে দেয় একদম।

    কি বুঝবে বোঝো। অ্যাবিয়েল মাটিতে পাছা ঠেকিয়ে অবাক হয়ে দেখছিল। খানিকসময় চোখ ছোট করে বোঝার চেষ্টা করে, পুরু ঠোঁট দুটো ছুঁচোল হয়ে যায়। তারপর মাথা ঝাঁকিয়ে বিরক্ত হয়ে বলে ওঠে, কিচ্ছু বুঝলাম না। তার কোঁকড়ানো কালো চুলের রাশি ঝাঁপি থেকে বেরিয়ে আসা অনেক সাপের মত মাথা পেরিয়ে কিলবিল করে, কপাল থেকে নেমে এসে ছড়িয়ে যায় গালের ওপরে। তারপর গালে টোল ফেলে চোখ থেকে আলো টেনে ভরাট করে, কোঁচকানো ভুরু জোড়া সমুদ্রতীরে ভেঙ্গে পড়া ঢেউয়ের মত মোলায়েম হয়ে যায়, ঠোঁটের ফাঁকে – সন্ধ্যায় প্রথমে একটা-দুটো করে, তারপর অনেক আলো জ্বলার মত – দাঁতের সারি বেরিয়ে আসে। খপ করে আঁকড়ে ধরে আলেফের বাঁ হাতের কবজি। আ-লেফ, চল আমার সঙ্গে।

    কোতায়? এই শব্দটা মুখ দিয়ে বের করতে অসুবিধা হয়নি আলেফের। অ্যাবিয়েলকে সব স্পষ্ট করে বোঝানো গেছে, এই খুশি ছড়িয়ে পড়ছিল আলেফের শিরা উপশিরায়।
    কিন্তু খিলখিল হাসি ছাড়া আর কোনো শব্দ মুখ থেকে বের করল না অ্যাবিয়েল । বরং ডান পা উপরে তুলে অঙ্গভঙ্গি সহকারে সিঁড়ি ভাঙা দেখাল। শরীরটায় ঢেউ খেলল মরুভূমিতে চলমান উটের মত। নদীর পাড় ধরে প্রায় ছুটতে ছুটতে চলেছে অ্যাবিয়েল, ডান হাতে ধরা আলেফের বাঁ হাত। সে বেচারা কোথায় যাবে জানতে চেয়ে এবার দু’টি শব্দ জড়ো করল ঠোঁটের ডগায়। যাচ্চি কোতায়?
    মেহগনি হল।
    মেগনি হল? সেখানে কেন? আমি গিয়ে কি করবো? এসব অনেক প্রশ্ন হুড়মুড়িয়ে মাথায় ভিড় করে আলেফের। কিন্তু ছুটন্ত অবস্থায় হাওয়ায় কথা আঁকা ভারি মুশকিল। অ্যাবিয়েল হাসতে হাসতে ছুটেছে, তার সঙ্গে ছুটেছে বিভ্রান্ত হিন্দু চিকনদার আমাদের আলেফ আলি। এ যদি অন্য কোনো শহর হত – শুধু শহর কেন, তাদের গ্রাম দাদপুরেও – লোকে এই দৃশ্য দেখে তাজ্জব হয়ে দেখত, চাই কি দিঘির পাড়ে লোকের ভিড় হয়ে যেত। কিন্তু নিউ অরলিন্সে নয়। এখানে পথে-ঘাটে মাতাল জগঝম্প নেত্য করছে, রমণ সম্পন্ন করে হিসাব না চুকিয়ে পালানো মক্কেলের পিছনে তাড়া করেছে কোনো বরদেলোর পাহারাদার, আরও রগড়ের কাণ্ড হয়, যখন বেশ্যালয়ের বিছানা থেকে ভাতারকে খেদিয়ে নিয়ে যায় কোন পরাক্রমা নারী। সেন্ট লুই স্ট্রিট শহরের পাপ এবং পুণ্যের মাঝে এক বিভাজনরেখা। তাই এই রাস্তায় এমন বিচিত্র সম্ভাবনা নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার। বিন পোশাকের লোকই যথেষ্ট সাড়া জাগায় না, তাহলে আর অ্যাবসিন্থ হাউজের সস্তা নর্তকী আর পরনে বেঢপ পাতলুন, কাপড়ের পেটির বোঝা মাথায় হিন্দু চিকনদারের দৌড় দেখার কার সময় আছে? অ্যাবিয়েল হাসতে হাসতে আর আলেফকে টানতে টানতে চলেছে বেসিন স্ট্রিটের মেহগনি হলে।

    স্টোরিভিলের আকর্ষণ দিনদিন বেড়েই চলেছে। সাকুল্যে বারো-পনেরোটা ইমারত নিয়ে শুরু হয়েছিল, দ্যাখ-না-দ্যাখ এখন শ’ ছুঁইছুঁই। হয়েছে রংদার বেশ্যালয়। ফ্র্যাঙ্ক আরলির স্যালন আছে, জো ভিক্টরের ঠেকটাও মন্দ না। কিন্তু মেহগনি হলের মত চমকদার আর কোনোটা নয়।
    স্টোরিভিলের একদিকে ফ্রেঞ্চ কোয়ার্টার, অন্য ধারে ব্যাপারিদের মহল্লা। এই মহল্লায় কচিও আছে, বুড়োখোকাও অঢেল। কালো আছে, সাদাও আছে। হলদে, বাদামি এবং আর অন্য যত রঙের মিশেল নিয়ে সব জাতের টিকি-বাঁধা এই রাস্তায়। ক্রেওল, চিনা আর ইদানিংকালের হিন্দু ফেরিওয়ালার গায়ে গা লাগিয়ে স্কটিশ নাবিক, আরবি সওদাগর কি উজবেকি জাদুকর পথে দেখা যাবে যে কোনো সময়ে। ছোট ছোট দোকান গজাচ্ছে ব্যাঙের ছাতার মত। সেখানে সিসিলিয়ান দোকানির ফলের ঠ্যালা, চিনাদের ধোপাখানা, আদিবাসী বাজনদার, নিগ্রোদের নাচঘর, গোলন্দাজি শুঁড়িখানা অথবা ফরাসী সরাইখানা – সকলেই খদ্দের ধরছে। তার মধ্যেই স্কুল, চার্চ আর অবশ্যই বেশ্যালয়। কোথাও ঘণ্টা হিসাবে ঘর এবং মেয়ে ভাড়া খাটছে, আবার কিছু আছে বিলাসবহুল সুসজ্জিত বেশ্যালয় – যেখানে শুধু পয়সাওয়ালা অভিজাত গ্রাহকের ঢোকার পরোয়ানা আছে। মেহগনি হল স্টোরিভিলে সেইরকম এক উঁচুদরের জায়গা, লুলু হোয়াইটের বরদেলো।

    লুলু হোয়াইট সাদা হয়েও সাদা নয়, অক্টারুন। সাত ভাগ দুধে, এক চামচ কফি মেশানো সৌন্দর্য নিয়ে লুলুর দাম আকাশছোঁয়া। তার মেহগনি হল বিখ্যাত অক্টারুন আর ক্রেওল সুন্দরীদের জন্য। তাই না এমন চকমিলান জায়গার পত্তন করতে পেরেছে! খিলানওয়ালা চারতলা প্রাসাদ। সেখানে পনেরো-বিশখানা ঘর আছে অতিথি আপ্যায়নের। কোনো ঘর পারস্যের কার্পেটে মোড়া, কোথাও জাপানের ছবিতে চিত্রবিচিত্র, আবার কোনো ঘর খোদ প্যারিস থেকে আনা আসবাবে ঠাট বাড়িয়েছে। প্রতিটা ঘরের সঙ্গে একেকটা গা ধোওয়ার জায়গা – যেখানে জলকেলি করতে করতে নারীসঙ্গের সুখ পেতেও কোনো অসুবিধা নেই। শ্বেত মার্বেলের প্রশস্ত সিঁড়ির দু’ ধারে পুষ্পকুঞ্জ – যেখানে অতিথির অপেক্ষায় লুলু হোয়াইটের অক্টারুনদের নিজস্ব পরিচারিকারা বসে থাকে। যাদের অক্টারুন বা ক্রেওল সুন্দরী-অবধি পৌঁছানোর হিম্মত নেই, তারা পরিচারিকাদের সঙ্গেই বিশ্রম্ভালাপ করে যায় খানিক। কিন্তু এখন ভরদুপুরে তেমন কেউ ছিল না। কেউ না থাকলে কি হয়, আলেফের ভয় লাগছিল। এ এমন বাড়ি, যেটার সামনে তাদের চন্দনপুরের জমিদারবাড়ি লজ্জা পেয়ে যাবে। সেই জমিদারবাড়িতে যদি কোনোদিন চিকনের কাজ বেচতে গেছে, তো কোচোয়ানদের সঙ্গে বসে থেকেছে, ডাক পড়লে বার-বারান্দা অবধি গেছে, তার বেশি এগোনোর হুকুম ছিল না। অথচ এখানে এই রাজবাড়িতে – এটা কি রাজবাড়ি? সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে নিজের মাথায় মুকুট এঁকে জিজ্ঞাসু চোখে তাকায় অ্যাবিয়েলের দিকে? কিং?

    হেসে ওঠে অ্যাবিয়েল। কুইন। আসতে চেয়েছিলে না?
    রাজা ছাড়া রানী? একি সত্যিকারের রানী? কিন্তু অত বড় প্রশ্নটা করা এই সময়ে মুশকিল। চার তলায় পৌঁছাতে সাক্ষাৎ রানীর দেখা পেয়ে গেল।
    রানী এক লাল আরাম কেদারায় বসে পা উপরে তুলে দিয়েছে, এক সহচরী তার পা মালিশ করছে। আর একজন তার চুলের কেয়ারি করছে। সিঁড়ির শেষ মাথায় এসে বেলজিয়ান কাঁচের জানালা দিয়ে দেখাল অ্যাবিয়েল, ফিসফিস করে বলল, লুলু ম্যাডাম।

    আলেফকে সেখানে দাঁড় করিয়ে রেখে নিজে একা ঢুকল অ্যাবিয়েল। পা মালিশ করা মেয়েটি তার চেনা, সেই ভরসাতেই এসেছে অ্যাবিয়েল। মেয়েটি চোখ তুলে তাকাতে তার হাতের মর্দনে ঢিলা পড়ল। পটাং করে চোখ খুলে লুলু ম্যাডামের সুন্দর করে আঁকা ভুরু কুঁচকে গেল। এই অসময়ে কে এসেছে জোহানা?
    আপনাকে বলেচিলাম, যে আমার এক বন্ধু আছে – খাস হিন্দুস্তানের সামান বিক্রি করা এক ব্যাপারিকে নিয়ে আসবে। ওকে আসতে বলবো?

    লুলু খুব একটা প্রসন্ন হল না। শেষ দুপুরে এরা শরীরের যত্ন করে, লুলু ওয়াইনের পাত্র নিয়ে আমেজে আধশোয়া হয়ে দিবাস্বপ্ন দেখে। নিমরাজি হয়েই আসতে বলল। হিন্দু জিনিসের কদর হচ্ছে আজকাল, একটা ঘর ওই কায়দায় সাজাতে পারলে মন্দ না।
    অ্যাবিয়েল ডাক দিলে আলেফ তার পেটি এনে সামনে মেলে ধরল। মার্বেলের মেঝে, হাঁটতে গেলে পা পিছলে যায়। তেমনি দুধ-সাদা। এর মধ্যে লুলু হোয়াইট। লাল কেদারায় আসীন জ্যোৎস্না-নীল সারঙ্গের আড়ালে লুলুর শরীর যেন তারাভরা আকাশ। কাজল রেখায় টানা চোখের মণির ঘূর্ণিতে কত লোকের চক্কর লেগে যায়, আলেফ আর কি!

    কোনোমতে পেটি খুলে বের করল তার পশরা।
    এটা কি? খড়খড়ে গলায় বলল লুলু।
    কি বলে আলেফ? এটা হল জায়মাজ। হলুদ আর কালোয় বড় অপূর্ব তার কাজ। কিন্তু জায়মাজ বললে ওরা কি বোঝে? বোঝাবে যে, জিভে সেই শক্তি কি আছে আলেফের? ইতিউতি চেয়ে আলেফ ওই জায়মাজের উপরে বসে বুকে ক্রস আঁকল।
    মেঘ চিরে রোদ ঝলকানোর মত এক চিলতে হাসি উঁকি দিল কি দিল না লুলুর মুখে। এটা কি চার্চ নাকি? তারপরে কি মনে হতে জোহানাকে বলল, এনে রাখ ওটা কেদারার পিঠে, দেখি কেমন লাগে।

    তখন আলেফ বের করল লাল জমিনে হলুদ নর্তকী আঁকা এক খাট কাঁথা। সঙ্গে লাল আর নীলে বোনা বালিশ কাঁথা। খাট কাঁথা মেলে দিয়ে তাঁর উপরে একখানা তাকিয়া টেনে বিছিয়ে দিল বালিশ কাঁথাখানা। সেটার উপরে মাথা রেখে শোয়ার ভান করে দেখিয়েও দিল।
    এবার খুশিতে হেসে উঠল লুলু। তার চোখ চিকমিক করে উঠল। জিনিসের থেকেও হিন্দু ব্যাপারির এই দেখানোর ভঙ্গিতে আমোদ পেয়েছে বেশি।
    এরপর আলেফ বের করল আমিনার বানানো সেই চাদর, যার রং আমিনার বুকের খুনের মতন লাল। সেই লালের উপর আমিনা সবুজ আর নীল রেশমি সুতায় গেঁথেছিল এক ঝাঁক ময়ূর, যারা বর্ষার পানির আনন্দে পেখম মেলে দাঁড়িয়েছিল। সেটা বের করতেই, ওই শেষ দুপুরে মার্বেলের মেঝে বৃষ্টির ছাঁট এসে ভিজিয়ে দিল। আয়েশ করে বসে থাকা লুলু হোয়াইট এবার উঠে বসল। জোহানা মনিবের আগ্রহ বুঝে সেই রক্ত লাল-বুনোটে ময়ূরকণ্ঠী নীলের কাজ এনে ধরাল লুলুর হাতে। লুলু সেই কাপড় নিজের চোখের সামনে ধরল, চোখের বরফ গলে নদী বইল। মুঠো করে বুকের কাছে ধরল, পাথরপানা স্তনের বোঝা পদ্মের পাপড়ির মত উন্মুখ হল। উঠে দাঁড়িয়ে সারা শরীরে জড়িয়ে নিল, দাবদাহে উজাড় হয়ে যাওয়া প্রেয়ারিতে নতুন অঙ্কুরোদ্গম হল। লুলু, যার ব্যবসাবুদ্ধি ষোল আনার উপরে আঠেরো আনা, সব ভুলে জোহানাকে বলল, ওর সব পশরা নিয়ে নাও। আর ব্যাপারি – এই নাও, বলে এক তোড়া সবুজ টাকা বাড়িয়ে দিল আলেফের দিকে।

    তিন গুণ দাম পেয়ে আলেফ হাসবে, না কাঁদবে, না আহ্লাদে বগল বাজাবে – কিছুই বুঝতে পারছিল না। আলেফকে আরও জিনিস নিয়ে আবার একদিন আসার হুকুম হল। আলেফ হাওয়ায় হাঁটতে হাঁটতে সিঁড়ি দিয়ে মুখ থুবড়ে পড়তে পড়তে কোনোমতে নিচে নেমে জিজ্ঞেস করল হু লুলু? লুলু কে?
    কে লুলু সেটা বোঝাতে আবার পথের ধারে চেরি গাছের নিচে বসে পাতা আর কাঠি দিয়ে গোটা কয়েক মানুষ পুতুল বানাল অ্যাবিয়েল। হাঁ করে চেয়ে ছিল আলেফ, আবিল করছে কি? এমন সুন্দর হাতের কাজ ওর, চারটে পাতা আর কাঠি দিয়ে জলজ্যান্ত পুতুল বানিয়ে ফেলতে পারে? আমিনা কাপড়ে ফুল পাতা তোলে সুন্দর, আর আবিল তেমনি মজাদার পুতুল বানায়! এরপর সেই পুতুলগুলো দিয়ে শুরু হল কাঠি ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে অ্যাবিয়েলের পুতুল নাচ। সে বলে গেল লুলু হোয়াইটের কথা, মেহগনি হলের মাদাম। তার তাঁবে আছে দশ-বিশখানা মেয়ে, আর গোটা চারেক পাহারাদার। মেয়েরা খরিদ্দার সামলায়, আর তেমন তেমন রইস লোক এলে লুলু নিজে। এই করে করে লুলু এমন বাড়ি বানিয়েছে। আলেফ কি চায়, আবিল এমনি করে আলেফের জন্য একটা সিঁড়িওয়ালা বাড়ি বানায়?

    অ্যাবিয়েল এমনি একটা লম্বা চওড়া গল্প ফাঁদল। গল্পের তালে তালে পাতাপুতুলেরা নাচাকোঁদা করল। তার সঙ্গে অ্যাবিয়েল কখনো হাসল, কখনো চোখ ছলছল করে তাকাল। শেষে বলল, আলেফ চাইলে অ্যাবিয়েল তাও করতে পারে।
    আলেফ কিছু বুঝল, কিছু বা বুঝল না। আবিলের জন্যেই আজ এত বড় ব্যবসা হল তার। আবিলের হাসি তার ভাল লাগল, কান্নার কারণ বুঝতেও পারল না। শেষমেশ দুই হাতে অ্যাবিয়েলের মুখ উপর তুলে চোখের জল মুছিয়ে দিল। অ্যাবিয়েলের ঠোঁটে হাসি ফুটল, সেই হাসির কয়েক কোয়া আলেফের ভাগে জুটল। এমনি করে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হলে অ্যাবিয়েল অ্যাবসিন্থ হাউজে ঢুকে গেলে তবে সেদিন ঘরের পথ ধরেছিল আলেফ।

    পকেটে অনেকগুলো টাকা। মহা ফুর্তির দিন আজ আলেফের। সব বিক্রি করে তিনগুণ টাকা উপায় করে বাড়ি ফিরেছে বলে কথা। সবার ফিরতে এখনো অনেক দেরি। আজকের এত খুশির দিনের গল্প আমিনাকে না বললেই নয়। ডিব্বা খুলতেই হাসিমুখ আমিনা হাজির। তাকে মেহগনি মহলের কথা বলল, শুনে চোখ বড় বড় হয়ে গেল আমিনার। বিক্রি করে তিনগুণ টাকা রোজগারের খবর শুনে আনন্দে হাততালি দিয়ে উঠল আমিনা। তোমার সব জিনিস বিক্রি হয়ে গেলেই দাদপুরে আসবে তো আলেফ মিয়া?
    আলেফ সব কিছু বললেও আবিলের কথা কিছুতেই বলতে পারল না। অ্যাবিয়েলকে আমিনার কথা বললেও আমিনাকে আবিলের কথা এখনো বলা হয়নি আলেফের।



    ক্রমশঃ

     

  • বিভাগ : ধারাবাহিক | ১১ ডিসেম্বর ২০২১ | ২৩৮ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খেলতে খেলতে মতামত দিন