• বুলবুলভাজা  আলোচনা  স্বাস্থ্য

  • করোনা ও আমরা

    অভিজিৎ মজুমদার
    আলোচনা | স্বাস্থ্য | ২৩ এপ্রিল ২০২১ | ৬৪২ বার পঠিত | ২ জন
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • করোনার প্রথম ওয়েভে এতটা হতাশ লাগে না যতটা এখন লাগছে। শুধু যে এই মৃত্যু মিছিলের কারণে হতাশ লাগছে তা নয়। শুধু যে সামান্য বেড, অক্সিজেন, ওষুধের অপ্রতুলতার কারণে হতাশ লাগছে তা নয়, শুধু যে শ্মশান কবরের দীর্ঘ লাইন দেখে হতাশ লাগছে তা নয়। শুধু রাজনৈতিক নেতাদের অনুভবহীনতা দেখে হতাশ লাগছে তা নয়, শুধু কেন্দ্রীয় সরকারের ক্রিমিনাল দিশাহীনতা দেখে হতাশ লাগছে তা নয়। হতাশ লাগছে চারপাশের মানুষদের দেখে। প্রথমবার আমরা জানতাম না। ঠিক আছে। এবার?

    একদল লোক এখনও বলে চলেছে, কোভিড একটি অতি সাধারণ অসুখ। কোভিড নিয়ে যাবতীয় প্রচার নাকি আতঙ্ক ছড়ানোর কৌশল। পৃথিবীর কয়েক হাজার বৈজ্ঞানিক-গবেষক-চিকিৎসক না কি এই ষড়যন্ত্রের অংশীদার। ভ্যাকসিন না কি বহুজাতিক ওষুধ কোম্পনিগুলোর ষড়যন্ত্র, দ্বিতীয় ওয়েভ সেই ভ্যাকসিন বেচার কৌশল। লক্ষ লক্ষ মৃত্যুও তাদের নিজেদের বিশ্বাস থেকে টলাতে পারে না। তবে কী আমার যে বন্ধু তার বাবা-মা কে কোভিডে হারাল, সে কি মিথ্যা কথা বলছিল? সেও কি বহুজাতিক কোম্পানির দালাল?

    আরেকদল বলে চলেছে, সরকার কী করবে? মানুষগুলোই বদ। মানুষগুলোই কোনও কথা শোনে না। তাই তো বটে। রাজনৈতিক প্রচার থেকে কুম্ভমেলা, তাতে তো সরকারের কোনও দায় নেই। যাবতীয় সচেতনতার প্রচার যে জানুয়ারি ফেব্রুয়ারি মাসে শূন্যে পৌঁছে গিয়েছিল, তাতে সরকারের দায় নেই। দাবাই ভি আওর কড়াই ভি বলে চলা নেতা মাস্ক না পরে ব্রিগেডে সভা করছে, সরকারের কোনও দায় নেই। কোভিড টাস্কফোর্স যে গত দু-মাস কোনও মিটিং করে নি তাতেও সরকারের দায় নেই। মানুষ যে আজ লকডাউন শব্দটা শুনলে রেগে যাচ্ছে, তাতেও রাষ্ট্রের দায় নেই। অক্সিজেন বিদেশে এক্সপোর্ট হল, সরকারের কোনও দায় নেই। খাদ্য থেকে ওষুধ, কোনও কিছুতেই সুরক্ষা দেওয়ার কোনও দায় রাষ্ট্রের নেই। সব মানুষদের দোষ।

    এর বিপ্রতীপে দাঁড়িয়ে আছে আরেক যুযুধান পক্ষ। মাস্ক পরতে বললে তারা নিয়ে চলে আসছে গরীব মুটে-মজুরদের অসহায়তার কথা। তারা দুটো কথা ভুলে যাচ্ছে। এক, মহামারীতে সব থেকে বেশি কষ্ট সহ্য করবে ওই নীচেরতলার মানুষগুলোই। যে যত ওপরে, তার চিকিৎসা পাওয়ার সুরক্ষা তত বেশি। দুই, একথা অর্থনীতিতে প্রমাণিত সত্য যে গরীবদের চিকিৎসা ও তৎসংক্রাম্ত আঘাত সহ্য করার ক্ষমতা কম। পরিবারের একজনের অসুখ হলেও তারা দারিদ্রের আরও বেশি ব্ল্যাক হোলে চলে যায়। আজকে মধ্যবিত্ত পরিবারের আর্নিং মেম্বার মারা গেলেও, পরিবারের শিশুদের শিক্ষা সাধারণত বন্ধ হয় না। মামা-মাসি-পিসি-কাকা কেউ না কেউ চালিয়ে নেয়। কিন্তু ওই মুটেমজুর পরিবারের রোজগেরে মানুষটা চলে গেলে বাচ্চাদের পড়াশুনো আটকে যায়। তাই ওই মুটেমজুরদের কথা ভেবেই সবার মাস্ক পরা দরকার। যারা কায়িক পরিশ্রম করেন, তাঁরা সবসময় পরে থাকতে পারবেন না। তবু যতক্ষণ পরে থাকতে পারবেন, ততটাই লাভ।

    আর সবার শেষে আছে জ্ঞানপাপী। যারা এই ওপরের কোনও গোত্রে পড়েন না, অথচও এখনও রেস্টুরেন্ট আর শখের ঘোরাঘুরি করে চলেছেন।

    একেক সময় মনে হয়, মরুক গে ছাই। কিছু তো পাল্টানো যাবে না, তাই যে পারে করুক। যা কপালে আছে, তা হবে।

    তারপর এই ২০০০-৩০০০ মৃত্যুর সরকারি সংখ্যাটা দেখি। বেসরকারি হিসেব এর কম করে হলেও পাঁচ-ছয় গুণ।

    তারপর কি হতে চলেছে তার প্রোজেকশন দেখি। অঙ্ক দেখি। খাড়াই উঠতে থাকা কার্ভটা দেখি।

    ব্যাক্তিগতভাবে যারা নিজের আত্মীয়দের হারিয়েছে, তাদের দেখি।

    তারপর নিতান্ত এক অপারগতা থেকে রাত্রি একটায় বসে বসে ফোনে এই লেখাটা লিখি। কিচ্ছু পাল্টাবে না, জানি। একজনও তাদের মত পাল্টাবে না, যতক্ষণ না নিজের ঘরে আগুন লাগছে।

    শুধু তাতে অনেক দেরি হয়ে যাবে।
  • বিভাগ : আলোচনা | ২৩ এপ্রিল ২০২১ | ৬৪২ বার পঠিত | ২ জন
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • guru | 146.196.45.250 | ২৪ এপ্রিল ২০২১ ০৭:৩৮105085
  • আসলে এই রাষ্ট্র ব্যবস্থাটি যেটি আমাদের এই দেশে আছে সেটি পাবলিক হাসপাতাল এর বদলে মানুষকে শিখিয়েছে প্রাইভেট হসপিটালে যেতে | প্রাইভেট হসপিটালগুলি কেবল মাত্র বড়োলোক শ্রেণীর জন্য তৈরী যারা সংখ্যায় খুব কম | করোনা মহামারীর ফলে এখন এতো পেশেন্ট হয়ে গেছে যে এই প্রাইভেট হসপিটালগুলি এখন অক্সিজেন বেড দিয়ে কুলাতেই পারছেনা যেহেতু এই প্রাইভেট হসপিটালগুলি এতো বেশি হারে পেশেন্ট আসবে এইটা ভেবে তৈরী করা হয়নি | কাজেই যা হচ্ছে তাই হবার ছিল |

    এতো বড়ো ১৫০ কোটির দেশে শুধু সবেধন নীলমনি সিরাম ইনস্টিটিউট ভ্যাকসিন বানাবার জন্য কেন ? সমস্ত মানুষকে কিছুতেই এই ভাবে ভ্যাকসিন এতো তাড়াতাড়ি দেওয়া সম্ভব নয় | ফলাফল তাই হবার ছিল যেটা আমরা এখন দেখছি |

    এতে কিছুটা কর্মফলের ব্যাপার আছে বলে আমি মনে করি | আমরাই তো দিল্লির সরকার কে দুইবার ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছি | সে কর্মের ফল তো এখন ভোগ করতেই হবে |

    লেখক কি বলেন আমার এই random  thoughts  এর  ব্যাপারে ? আপনি কি একমত ?

  • Ranjan Roy | ২৪ এপ্রিল ২০২১ ০৮:৪০105089
  • মেয়ে-- আমাদের কারও যদি আজ হাসপাতালে ভর্তির দরকার হয় তুমি কি একটা বেড জোগাড় করতে পারবে? এখানে না হোক,   কোলকাতায়? কোন সোর্স?


    আমি-- না, পারব না।


    মেয়ে-- তাহলে কী করবে? যদি এরকম দিন আসে?


    আমি-- মরব। যেমন আরও অনেকে, আমরা কোন স্পেশাল না। দেশের হেল্প কেয়ার ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।          গত একবছরে কিস্যু 


    মেয়ে-- সকাল বেলা পজিটিভ কিছু বল।


    আমি-- বেঁচে যেতেও পারি। সাবধান হয়ে, ইমিউনিটি বাড়িয়ে। আর খানিক চান্স ফ্যাক্টর। 

  • chaitali chattaraj | ২৪ এপ্রিল ২০২১ ১১:৩২105100
  • ইতিবাচক ভাবনা, সচেতনতা , ও  আক্রান্তদের প্রতি  সহমর্মিতা -এই  মুহূর্তে  বেশি প্রয়োজন...

  • Jhanku Sengupta | 45.64.224.86 | ২৪ এপ্রিল ২০২১ ১১:৫৪105105
  • রঞ্জন রায়, একদম ঠিক বলেছেন! আমাদের বেচেঁ থাকার স্বাধীনতা, সেই কবেই হারিয়েছি, নতুন করে কিছু ভাবার নেই, সবই এখন তেনাদের ইচ্ছে! তবু, লড়াই জারি রাখতে হবে, অন্তত সবার কথা ভেবে, তাতে আখেরে নিজেরও বাঁচার , ওই চান্স ফ্যাক্টর !!!!

  • santoshbanerjee | 43.251.171.195 | ২৪ এপ্রিল ২০২১ ১৯:৫১105119
  • একটা অপদার্থ , কুশিক্ষিত/অশিক্ষিত /অর্ধ শিক্ষিত  মোটা মাথা পার্টি দেশ টাকে চালাচ্ছে , এরা বিদেশ থেকে শিক্ষা নেয় না বিদেশ ঘুরতে যায় এদের আইএএস , আইপিএস আর তাবড় তাবড় অফিসার গুলো লক্ষ লক্ষ টাকা মাইনে পেয়ে সব দেশ উদ্ধার করছেন , প্রধান মন্ত্রী ২৪ ঘন্টা মিথ্যে বলেযাচ্ছেন , কাউকে সন্মান দেননা .... চরম ভন্ড একটা ।...সেই দেশে আর কি আশা করবো !!!!

  • somnath | 203.110.242.23 | ২৫ এপ্রিল ২০২১ ০৭:৫৬105127
  • পৃথিবীর ইতিহাসে মহামারী, দুর্ভিক্ষ যুদ্ধ সবই বারবার আসে। এত চাপ নিয়ে কিছু করার নেই। কিছু লোক অসুস্থ হবে, কিছু লোক মারা যাবে। এরকম হাজার হাজার বছর ধরেই হয়েছে। তাবলে হাত পা পেটে সেঁধিয়ে প্রতিদিন একবার করে মরতে হবে নাকি!

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যুদ্ধ চেয়ে মতামত দিন