ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  আলোচনা  বিবিধ

  • শিলিগুড়ি পুরমেয়র নির্বাচন -- জোটে চোটঃ বেআব্রু বাম শিবির

    অভিজিৎ মজুমদার লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | বিবিধ | ১১ অক্টোবর ২০০৯ | ৭৩৮ বার পঠিত
  • লেখাটি আদতে লিবারেশন এর মুখপত্র দেশব্রতীর জন্য রচিত। কলকাতায় যে প্রেস থেকে পত্রিকাটি ছাপা হয়, পুলিশী ধরপাকড়ের জন্য আপাতত: তা বন্ধ। অতএব, লেখাটি ছাপা যায়নি। পার্টি মুখপত্রে প্রকাশিত বা প্রকাশযোগ্য কোনো লেখা সাধারণত: আমরা প্রকাশ করিনা। কিন্তু এক্ষেত্রে বিষয়টির সঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সরাসরি জড়িত। অতএব...

    শিলিগুড়ি পুর নিগম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় বিগত ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০০৯। ১৫ সেপ্টেম্বর ফলাফল ঘোষিত হলে দেখা যায় ৪৭টি আসনের মধ্যে কংগ্রেস-তৃণমূল জোট ৩০টি আসনে জয়লাভ করে নির্ধারক বহুমত হাসিল করেছে। অন্যদিকে, সিপিএম ১৫টি এবং আর এস পি ও ফরোয়ার্ড ব্লক ১ টি করে আসন পেয়ে শোচনীয়ভাবে পর্যুদস্ত হয়। ২০০৪-এ বামফ্রন্টের মোট আসন সংখ্যা ছিল ৩৬। কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস আলাদাভাবে লড়ে ১১টি আসন পেয়েছিল। বামফ্রন্টের জয়যাত্রা অব্যাহত ছিল বিগত ২৭ বছর ধরে।

    নির্বাচনী প্রস্তুতি-পর্ব
    --------------------
    চাঁদমনি, কাওয়াখালি, সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম পরিঘটনায় সিপিএম তথা বামফ্রন্টের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের পুঞ্জিভূত ক্ষোভকে সাফল্যের সঙ্গে কাজে লাগাতে কংগ্রেস-তৃণমূল জোট নির্বাচনী প্রচারের জৌলুসে বামফ্রন্টের কান্ডারী নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্য্যের সমস্ত কৌশলকে (সন্ত্রাস, টাকা ছড়ানো, দাম্ভিক প্ররোচনা) নস্যাৎ করতে উঠেপড়ে লাগে। নির্বাচনী প্রচার পর্বে অশোকের "স্নেহধন্য' হিসেবে খ্যাত জেলা কংগ্রেস সভাপতি শংকর মালাকার এবং তৃণমূল জেলা সভাপতি গৌতম দেবের বিরুদ্ধে দলদুটির সাধারণ কর্মীদের উষ্মা যাতে এতবড় সুয়োগ হাতছাড়া না করতে পারে, সেই লক্ষে দুটি দলের নির্বাচনী প্রচার চালানোর জন্য দুটি পৃথক রাজ্যস্তরের কোর কমিটি গঠন করে। কংগ্রেসের কোর কমিটির নেতৃত্বে থাকা সাংসদ দীপা দাসমুন্সী তাঁর মুমূর্ষু স্বামীর নামে শপথ নিয়ে শিলিগুড়িতে শিবির স্থাপন করে কোমর বেঁধে প্রচারে নেমে পড়েন। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের কোর কমিটির পক্ষে পার্থ চট্টোপাধ্যায় সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী, মুকুল রায়, মদন মিত্রদের নিয়ে নির্বাচনী ময়দানে অবতীর্ণ হন। বেসামাল বামফ্রন্টের পক্ষে বড় শরিক সিপিএম কর্মীবৃন্দের বিমর্ষতা কাটাতে একদিকে তাঁদের প্রার্থীদের পেডিগ্রি প্রচার এবং অন্যদিকে জুৎসই রাজনৈতিক ইস্যুর অভাবে ব্যক্তি আক্রমণ ও জাতি-ভাষা গোষ্ঠিকে জোটের বিরুদ্ধে প্ররোচিত করতে উদ্যত হলেও শেষ রক্ষা করতে পারেনা।

    আহা! আজ কী আনন্দ!
    --------------------
    দক্ষিণবঙ্গের জয়রথের গতিকে প্রথমবারের জন্য উত্তরবঙ্গের রাজধানী ও উত্তরবঙ্গের দাপুটে "মুখ্যমন্ত্রী' অশোক ভট্টাচার্য্যের খাসমহলে অবারিতভাবে অনুপ্রবেশ করাতে পেরে স্বভাবতই উৎফুল্ল থাকে জোট শিবির। বিজয় সম্বর্ধনার বোলবোলায় পরিবর্তনকামী ভোটাররাও বুকের উপর চেপে বসা ২৭ বছরের জগদ্দল বামশাসনের অবলুপ্তিতে চিত্তসুখ ব্যক্ত করতে থাকেন প্রকাশ্যে।

    হা হতোস্মি!
    --------------------
    কিন্তু বিধি বাম! কথা ছিল পূর্ব নির্ধারিত তারিখ ১ অক্টোবরে নগর নিগমের বিধি মেনে জোট-শিবির সর্বসম্মতভাবে তাঁদের মনোনীত মেয়র ও পুর কর্পোরেশনের চেয়ারপার্সনের নাম ঘোষনা করবে। তৎপরবর্তীতে দুটি দল দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে মেয়র-ইন-কাউন্সিল ও প্রধান চেয়ারম্যানের লোভনীয় পদগুলি নিজেদের মধ্যে বিলিবন্টন করবে। কিন্তু মেয়র নির্বাচনকে ঘিরে জোট-শিবির ঐক্যমতে পৌঁছনোতো দূরের কথা, বরং মধ্যবর্তী ১৫ দিনে দুই দলের মেয়র পদ দখল নিয়ে চাপান-উতোর ও পারস্পরিক খেয়োখেয়ি সংসদীয় রাজনীতির ক্ষমতার অলিন্দে প্রবহমান (এতাবৎ গোপন) সমস্ত অনৈতিক কৌশলকে জনসমক্ষে উন্মোচিত করে ফেলে। তৃণমূল নেত্রী মেয়র পদে তাঁর দলের গৌতম দেবকেই মনোনীত করার দাবিতে অনড় থাকেন। অন্যদিকে, কংগ্রেস নেত্রী দীপা দাসমুন্সী রাজ্যস্তরে কংগ্রেস পারিষদীয় দল এবং সোনিয়া গান্ধি, প্রনব মুখার্জী সহ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে তাঁর প্রার্থী গঙ্গোত্রী দত্তর পক্ষে মুসাবিদায় ব্যাপৃত হন। অত:পর, দুটি দলের কোর কমিটির যুগ্ম বৈঠকে এই কাজিয়া অব্যাহত থাকে এবং চূড়ান্ত মীমাংসা ঝুলে যায়।

    বাম দেউলিয়াপনা
    --------------------
    ইত্যবসরে, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর সাধের ও সাধ্যের শিলিগুড়ি আসনটি খুইয়ে ফেলার অবশ্যম্ভাবি আশংকা থেকে মুক্ত হতে সিপিএম সুপ্রিমো অশোক ভট্টাচার্য্য এই ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমে পড়েন। প্রকাশ কারাটের কংগ্রেস পরিচালিত ইউপিএ সরকার থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করার "পাপ'-এর "বেংগল লাইন' নামক প্রায়শ্চিত্ত সম্পন্ন করতে তিনি উঠেপড়ে লাগেন। অশোকবাবু বুর্জোয়া রাজনীতির সমস্ত ঘাঁটঘোট মুহুর্ত মধ্যে আয়ত্তে এনে সিপিএম এর রাজ্য সম্পাদকমন্ডলী এবং শরিক দলগুলির রাজ্য নেতাদের প্রচ্ছন্ন সম্মতি নিয়ে কংগ্রেস জেলা সভাপতি শংকর মালাকারের সঙ্গে গোপন বোঝাপড়া সেরে ফেলেন। ৩০ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে মালাকারবাবু সপারিষদ অশোক ভট্টাচার্যর বাড়িতে গিয়ে তৃণমূলের গা-জোয়ারির বিরুদ্ধে মেয়র নির্বাচনে বামফ্রন্টের জয়ী প্রার্থীদের কংগ্রেস সমর্থনের লিখিত আবেদনপত্র জমা দেন এবং এই মর্মে সিপিএম সুপ্রিমোর সমর্থনের শিলমোহর আদায়ে সমর্থ হোন।

    পর্যবেক্ষন, এখন
    --------------------
    (১) সিপিএম নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট নগর নিগম নির্বাচনী প্রচারপর্বের সমস্ত সময়সীমা জুড়ে কংগ্রেস-তৃণমূল জোটের বিরুদ্ধেই কামান দেগে গেছে। বুর্জোয়া সংসদীয় রাজনীতির রীতি-প্রকরণেও বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখিয়ে কংগ্রেসকে সরাসরি সমর্থন দানের মাধ্যমে সিপিএম তথা বামফ্রন্ট তাঁদের শ্রেণী চরিত্রকে উন্মোচিত করেছে। এইসঙ্গে জনরায়ে প্রত্যাখ্যাত হয়েও শুধুমাত্র ক্ষমতার কাঙালপনাকে প্রকাশ্যে এনেছে। এমনকি বামফ্রন্টের জয়ী ১৭ জন কাউন্সিলর তাঁদের ভোটারদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতায় এক অন্য মাত্রা যোগ করেছে।

    বাম শরিকদের মধ্যে ফরোয়ার্ড ব্লকের জেলা নেতৃত্ব সিপিএম এর "অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা থেকে শিলিগুড়িবাসিকে পরিত্রাণ'এর অবান্তর চিৎকারে গলা মিলিয়েছে। আবার, আরএসপির রাজ্য নেতৃত্বের পক্ষে ক্ষিতিবাবু, মনোজবাবুরা তাঁদের দলের একমাত্র জয়ী কাউন্সিলর কে ভুল বুঝিয়ে কংগ্রেসের পক্ষে ভোট দেওয়ানোর জন্য সিপিএম কে দোষারোপ করে চলেছেন শুধুমাত্র বামমহলে মুখ রক্ষা করার জন্য। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, তাঁদের দলে দার্জিলিং জেলা সম্পাদক এ ব্যাপারে অদ্যবধি মুখে কুলুপ এঁটে রেখেছেন। অনুসন্ধিৎসু পাঠক অচিরেই জেলা বামফ্রন্টের দস্তাবেজে সিপিএমের সিদ্ধান্তের পক্ষে তাঁর শিলমোহরও খুঁজে পাবেন।

    (২) কংগ্রেস দল তাঁদের ঘোষিত নির্বাচনী কৌশলের নিরিখে স্থানীয়স্তরে বিশ্বাসঘাতকতার দায়ে অভিযুক্ত হলেও সর্বভারতীয় স্তরে তাঁদের নির্বাচনী কৌশলকে ভ্রান্ত দিশায় নিয়ে গেছে, এ কথা বলা বোধহয় ঠিক নয়। বিগত লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ইউপিএ ভেঙে দিয়ে কংগ্রেসের একক প্রচার তাদের অভূতপূর্ব সাফল্য এনে দিয়েছে। ইউপিএর পূর্বতন শরিকদের মধ্যে বিহার এ লালু প্রসাদ-রামবিলাস পাসোয়ানদের দরকষাকষির দস্তুর কে অগ্রাহ্য করে তাঁদের প্রান্তিক অবস্থানে ঠেলে দিতেও কংগ্রেস পিছপা হয়নি। পশ্চিমবঙ্গের নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সিপিএম বিরোধী জনজোয়ারে তৃণমূল নেত্রীর অবিচল অগ্রগতি এবং আসন সংরক্ষনের ক্ষেত্রে "জোট-ধর্ম' পালনের বিপরীতে যারপরনাই একপেশে একনায়কতন্ত্র কংগ্রেসকে এতাবৎ কোনঠাসা করে রেখেছে। কেন্দীËয় সরকার গঠনে কংগ্রেসের একাধিপত্য ক্ষমতার অলিন্দে তৃণমূলের এহেন পরাক্রমী অস্তিত্বকে মান্য করে চলতে নারাজ। আসন্ন ১০টি বিধানসভা নির্বাচনের আগে কোথাও না কোথাও তৃণমূল নেত্রীকে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় মান্যতার প্রশ্নে সবক শেখানো অবধারিত ছিল। "শিলিগুড়ি মডেল' কে সামনে রেখে কংগ্রেস অন্তত: তাদের জোটসঙ্গীকে পরিত্যাগ না করেও এই সংসদীয় কৌশল নির্মমভাবে প্রয়োগ করেছে।

    (৩) তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বের পক্ষে "তীরে এসে তরী ডোবার' পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের চরম বিশ্বাসঘাতকতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়াটা অপ্রত্যাশিত নয়। তৃণমূল নেত্রী সশরীরে রণাঙ্গনে প্রবেশ করে ঘৃণার আগুনে ঘৃতাহুতি দেবেন -- এমনটাই ভেবেছিলেন অনেকে। অথচ মমতাদেবী তাঁর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় অনেকটাই ম্যাড়মেড়ে। ইতিমধ্যে কংগ্রেস মুখপাত্র অভিষেক সিংভি এবং পশ্চিমবঙ্গের ভারপ্রাপ্ত এআইসিসির সাধারণ সম্পাদক কে কেশব রাও দুজনেই "শিলিগুড়ি মডেল'টিকে একটি প্রক্ষিপ্ত এবং স্থানীয়স্তরের পরিঘটনা বলে প্রমান করে "জোট-ধর্ম' পালনের অঙ্গীকার করে রেখেছে। পাছে জোট ভেঙে যায় তাই প্রায় হাতের মুঠোয় এসে পড়া মুখ্যমন্ত্রিত্বলাভে উদ্বেল তৃণমূল নেত্রীকে শিলিগুড়ির প্রকাশ্য জনসভায় প্রতিদ্বন্দী দীপা প্রমুখের বিরুদ্ধে বিষোদ্‌গারে বিরত থাকতে হয়েছে। বরং কিছুটা ঢোঁক গিলেই "আমাদের বন্ধুরা অন্যায় করেছে। ওদের হয়ে আমি আপনাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী' এই বাক্যবন্ধে যীশু-সুলভ মমতাময়ী থাকতে বাধ্য হতে হয়েছে।

    শেষ নাহি যে, শেষ কথা কে বলবে---
    --------------------
    মেয়র নির্বাচন কে কেন্দ্র করে ঘটনা-দুর্ঘটনার প্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। জলপাইগুড়ি কংগ্রেস বিধায়ক শ্রীযুক্ত দেবপ্রসাদ রায় কোর কমিটি তাঁকে অন্ধকারে রেখে সিপিএমের সঙ্গে গোপন বোঝাপড়ায় প্রবল আপত্তি জানিয়ে কংগ্রেসের রাজ্য সহসভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। ইস্তফা দেওয়ার দুদিনের মধ্যে রেলমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে নতুন ট্রেনগুলির উদ্বোধনি অনুষ্ঠানের ভাষনে তিনি একধাপ এগিয়ে তৃণমূল নেত্রীকে "বাংলার নেত্রী আমাদের নেত্রী' আখ্যা দিয়ে একদিকে জলপাইগুড়ি জেলা কংগ্রেস সভাপতির সঙ্গে তার দীর্ঘদিন যাবৎ চলতে থাকা দ্বৈরথে দরকষাকষির মাত্রা বাড়াতে চেয়েছেন। অন্যদিকে, আগামীতে মমতাদেবীর সান্নিধ্যে ধন্য হয়ে কংগ্রেসের তারকা প্রতিনিধির ভূমিকায় আসন সংরক্ষনের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে একটি অনন্য ভূমিকা পালনের রাস্তা প্রশস্ত রেখেছেন।

    আবার দার্জিলিং জেলা কংগ্রেসের অভ্যন্তরে ট্রেড ইউনিয়ন নেতা অলোক চক্রবর্তীর নেতৃত্বে বিক্ষুব্ধ কিছু নেতা শংকর মালাকারের সঙ্গে তাঁদের পুরোনো হিসেব চুকোতে বাগে পেয়ে সিপিএম সমর্থনের ইস্যুটিকে কাজে লাগাতে সচেষ্ট। কংগ্রেসের মত সর্বভারতীয় বুর্জোয়া দলটির পক্ষে পরিস্থিতি সামাল দিতে এমনকি শংকরবাবুর মত চূনোপুঁটি নেতাকে সংসদীয় কৌশলের যূপকাষ্ঠে বলি দেওয়াও অসম্ভব কিছু নয়।

    পক্ষান্তরে, অশোকবাবুদের নেতৃত্বে জেলা বামফ্রন্ট বা নির্দিষ্টভাবে সিপিএম দলটি তাৎক্ষনিকভাবে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় চলে এলেও তাঁদের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা সুদূরপরাহত। বরং নিচুতলার সিপিএম কর্মীরাও তাঁদের নেতৃত্বের বিরাট বিপরীত যাত্রাকে মেনে না নিয়ে বিক্ষোভকে প্রকাশ্যেই ব্যক্ত করে চলেছে। বামফ্রন্টের শরিক দলগুলির মধ্যেও অসন্তোষ দানা বাঁধছে।

    তৃণমূলনেত্রী এমতাবস্থায় তাঁর দলের কাউন্সিলরদের প্রলোভনে পা না দিয়ে "নীতিনিষ্ঠার উঙ্কÄল দৃষ্টান্ত' তুলে ধরার কথা বলছেন। নতুন কংগ্রেস পুর বোর্ডের তঙ্কÄ¡বধানে প্রস্তাবিত ৫৪৯ কোটি টাকার উন্নয়ন তহবিলের উপর নিয়ন্ত্রণ হারানো তৃণমূলের হতোদ্যম কাউন্সিলরদের সন্তুষ্ট রাখতে তিনি অগত্যা রেল-মন্ত্রকের চটকদারী উপহার নিয়ে মঞ্চে হাজির। "কল্পতরু' রেলমন্ত্রীর আশীর্বাদে তৃণমূল কংগ্রেস জোরের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের মানুষকে "সুইজারল্যান্ড'-এ প্রতিস্থাপিত করার অঙ্গীকারের মাধ্যমে কংগ্রেসের "হার্টল্যান্ড'-এ অনুপ্রবেশ অব্যাহত রাখতে চাইবে এতে আশ্চর্য্য হবার কিছু নেই।

    এত ভঙ্গ বঙ্গদেশ, তবু রঙ্গে ভরা।

    অক্টোবর ১১, ২০০৯
  • | বিভাগ : আলোচনা | ১১ অক্টোবর ২০০৯ | ৭৩৮ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লড়াকু প্রতিক্রিয়া দিন