• হরিদাস পাল  ব্লগ

  • আব্বাস! সাব্বাস!

    Bagchi P লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ০৬ মার্চ ২০২১ | ২৭৩৪ বার পঠিত
  • আব্বাস! সাব্বাস! : সংযুক্তা মিত্র

    ছিল রুমাল হয়ে গেল বেড়াল। মাত্র এক সপ্তাহ আগেও যেখানে ইসু ছিল বিজেপির সোনার বাংলা বা তৃণমূলের ঘরের মেয়ে হঠাৎ সেখানে উড়ে এসে জুড়ে বসল ‘ভাইজান’ আব্বাস সিদ্দিকি। এমনকি এখন গ্যাস ও তেলের লাগামছাড়া দাম বাড়ানোর মতো ইসুও কিছুটা ব্যাকফুটে। উপলক্ষ, সবাই জানেন, ২৮ ফেব্রুয়ারির বাম কংগ্রেস জোটের ডাকা ব্রিগেড সমাবেশ --- যেখানে খানিকটা ‘ভিনি ভিডি ভিসি’-র মতো তিনি টেনে নিলেন মঞ্চের আলো, তাঁকে জামাই আদরে আপ্যায়িত করা হল মঞ্চে, তার নামে জয়ধ্বনি উঠল। বাংলার বামফ্রন্টের পিতামহ বিমানবাবু সেই দৃশ্য দেখলেন, হয়তো কিছুটা ঢোকও গিললেন। তাঁর দলের বাঘা বাঘা নেতারা যেভাবে আলিঙ্গনে আটকে রইলেন এই চৌত্রিশ বছরের যুবকটির সঙ্গে তাতে মনে হল অনেকদিন বাংলার টিভি চ্যানেল ও সাংবাদিকরা এমন ইসু পাননি। পরের দিন থেকেই উপচে পড়ছে নানা সংবাদ ও বিসংবাদ। কেউ বলছেন তাল কেটে গেল, কেউ বলছেন সব্বোনাশ! বাম কংগ্রেসের ধর্মনিরপেক্ষতা কি তাহলে বাবরি মসজিদের মতোই এবার ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া হল !

    ব্যাপারটাকে খোলা মনে দেখা ভাল। এটা হিন্দু উচ্চবর্ণের একটা মানসিক বাধা যে তারা যেহেতু এখনো বাঙালি সমাজের মূলস্রোতের মাথা হয়ে আছে, তাই সেই জায়গাটায় তারা কোনো সংখ্যালঘু মুসলমানকে জায়গা দিতে চায় না। কেউ কোনোভাবে সেখানে এসে পড়লে প্রথমেই তাঁকে সন্দেহের চোখে দেখা হয়। অবিভক্ত বাংলায় মুসলমানরা ছিলেন সংখ্যাগুরু (৫৪%) --- যদিও তখন থেকেই হিন্দু উচ্চবর্ণ বাংলার রাজনীতি শিক্ষা সংস্কৃতি সরকারি উচ্চপদ সবই দখল করতে পেরেছিল শিক্ষায় দীক্ষায় ও সামাজিকভাবে অনেকটা এগিয়ে থাকার সুবাদে। বাংলা যে ভাগ হয়েছিল তার একটা কারণ যেমন মুসলমানদের নিজস্ব ধর্মরাষ্ট্রের চাহিদা ও দাবি অন্যদিকে বাংলার উচ্চবর্ণের হিন্দুরাও চেয়েছিল বাংলার পশ্চিমভাগ আলাদা হলে সেখানে তারাই সংখ্যাগুরু হয়ে থাকবে, কারণ মুসলিম জনসংখ্যার বেশিটাই ছিল পুব বাংলায়। এই হিসেব থেকেই হিন্দু মহাসভার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বাংলা ভাগের পক্ষে সওয়াল করেছিলেন, বিজেপি এটাকেই ঘুরিয়ে প্রচার করে যে শ্যামাপ্রসাদ না থাকলে বাঙালি হিন্দুর সর্বনাশ হত আর সেই কারণেই নাকি তিনি পশ্চিমবঙ্গের ‘প্রতিষ্ঠাতা’। এবং এই সঙ্কীর্ণ ভেদবুদ্ধির চাপেই সেদিন শরৎচন্দ্র বসুর অখণ্ড বঙ্গরাষ্ট্রের চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়। সেই থেকে এপার বাংলায় মুসলমানরা সংখ্যালঘু, এখন এই রাজ্যে মুসলিম জনসংখ্যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৭%। শুধু তাই নয়, প্রায় এক তৃতীয়াংশ জনসংখ্যা নিয়েও এত বছর পরেও রাজ্যের পাবলিক ফিগার হিসেবে সেইভাবে কোনও মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষকে আমরা পাই নি। এমনকি রাজনীতি সচেতন বলে পরিচিত এই রাজ্যের রাজনীতিও গত সত্তর বছরে রায়-সেন-মিত্র-ঘোষ-বসু-দাসগুপ্ত-ভট্টাচার্য -চক্রবর্তী-ব্যানার্জি-মুখার্জি-চ্যাটার্জি দের মধ্যেই ঘোরাফেরা করেছে। সেই জায়গায় বঙ্গ রাজনীতির উঠোনে সদ্য খেলতে আসা একজন মুসলিম নেতাকে দেখে কারোর কারোর গাত্রদাহ হতেই পারে। একেবারেই গোড়ায় গেল গেল রব তুলছেন তারাই। তারাই ফেজ টুপি পরা নেতা দেখে তাঁকে মৌলবাদী বলে দেগে দিতে চাইছেন। এঁদের স্মরণে কেন এল না সম্পূর্ণ গেরুয়া পোশাকে সজ্জিত স্বামী অগ্নিবেশ কীভাবে অসাম্প্রদায়িক চরিত্র নিয়ে পিছিয়ে পড়া জনজাতিদের মধ্যে কাজ করে দুবেলা বিজেপির গালমন্দ কুড়িয়েছেন? পোশাক দেখে কে যেন একবার সিএএ বিরোধী আন্দোলনের নেতাদের চিহ্নিত করতে বলেছিলেন, বছর খানেক আগে, মনে পড়ে? মাথায় পাগড়ি দেখে কৃষক আন্দোলনের নেতাদের কীসব যেন বলা হচ্ছিল কিছু দিন আগেও, মনে পড়ছে?

    আরেকটা কথা, যে নেতাকে ঘিরে এত বিতর্ক তিনি নিজে কিন্তু ‘ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট’ এর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে নিজেকে দাবি করেছেন যে সদ্য গঠিত ফ্রন্টের সেক্রেটারি শ্রীমন সোরেন একজন জনজাতির মানুষ। এই ফ্রন্ট এখনো অবধি যা প্রকাশ্যে দাবি করেছে তাতে তারা বাংলার মুসলমান, দলিত ও জনজাতিদের প্রতিনিধিত্ব করতে রাজনীতিতে এসেছে --- সেই উদ্দেশ্যেই তাঁদের বাম কংগ্রেসের সঙ্গে মোর্চা তৈরি করা। এখানে বলা দরকার, পশ্চিম বাংলার জনসংখ্যার মধ্যে আরো একটা উপেক্ষিত অংশ তফসিলি জাতি ও উপজাতি জনগোষ্ঠী যারা রাজ্যের জনসংখ্যার ২৯ শতাংশ । সংরক্ষণের সুযোগ পেলেও তাঁদের সামাজিক স্বীকৃতি এখনো অধরা শুধু নয় রীতিমতো নিন্দিত। কয়েক দশক আগের চুনী কোটালের কথা আমাদের মনে পড়ে। খেয়াল করতে যেন ভুলে না যাই খ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা মেরুনা মুর্মুর কথা, যিনি সদ্য বেথুন কলেজের এক ছাত্রীর দ্বারা সমাজ মাধ্যমে নিজের জাতিগত পরিচয়ে বিদ্বেষের শিকার হয়েছেন। আর ঐতিহাসিক ভাবে এটা মেনে না নিয়ে উপায় নেই, সারা বাংলায় যে গরিব মুসলমানরা থাকেন তাঁদের বড় অংশই আদপে তফশিলী জাতির মানুষ, উচ্চবর্ণের হিন্দুদের অত্যাচারে যারা একসময় মধ্যযুগে ইসলামের শরণ নিয়েছিলেন। আর মুসলমানদের মতোই এই দলিত ও জনজাতিদেরও আমরা আমাদের মূলস্রোতে সামিল করতে পারিনি আজও। সেইসব কথা মাথায় রাখলে ‘ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট’ যদি তাঁদের আর্থ সামাজিক উন্নয়নের কথা বলে রাজ্যের রাজনীতিতে সামিল হয়, আমাদের নাক কুঁচকে ওঠার কিছু নেই।

    বরং সমস্যাটা অন্য জায়গায়। ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের মুখ হিসেবে যে আব্বাস সিদ্দিকিকে প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে তার অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন আছে। ব্রিগেডে ওই ফ্রন্টের সেক্রেটারি শিমুল সরেন, যিনি জনজাতির প্রতিনিধি তাঁকে সেইভাবে ফোকাস করা হয়নি, করা উচিত ছিল। এই সদ্য গঠিত ফ্রন্ট ( আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠা ২১ জানুয়ারি ২১) ঠিক কীভাবে রাজ্যের একটা বড় পেছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছে সেটা কি আমাদের সকলের কাছে খুব পরিষ্কার ? কী তাঁদের কর্মসূচি, কেমন তাঁদের ভাবনা? আর মুসলমান সমাজ ও জনজাতি সমাজের সমস্যা তো ঠিক একইরকম নয়, এই তফাৎ নিয়ে তারা ভাবছেন তো? যেমন সাঁওতালি জনগোষ্ঠীর একটা প্রধান দাবি সাঁওতালি ভাষায় ও অলচিকি লিপিতে তাঁদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করা --- এই বিষয়ে কিছুটা ব্যবস্থা হলেও সব জায়গায় উপযুক্ত শিক্ষক নেই, বিশেষ করে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এর কোনো সুযোগই নেই। এটা আবার মুসলমানদের দাবি নয়। ফলে দুটো/তিনটে স্বতন্ত্র গোষ্ঠীর দাবি দাওয়াকে কীভাবে একটা সাধারণ মঞ্চে নিয়ে আসা যাবে সেই বিষয়ে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতার দরকার হয়। তেমন কোনো সচেতন প্রক্রিয়ার ভিতর কি আমরা এঁদের দেখেছি?



    এরপরে আসে ব্যক্তি হিসেবে আব্বাস সিদ্দিকির প্রশ্ন। সাতশো বছরের পুরোনো, কিন্তু একশো পচাত্তর বছরের প্রামাণ্য ইতিহাসে সমৃদ্ধ ফুরফুরা শরিফের মাজার ইসলামের যে শাখা নিয়ন্ত্রণ করেন তাঁরা মূলত সুফি ধর্মে প্রভাবিত। বলা হয় ‘দেওবন্দি’ ও ‘বেরলভি’ মতবাদের মাঝামাঝি এঁদের একটা ধর্ম ধারা আছে যা কোরাণ বা হাদিসের অনুসারী গোঁড়া মতবাদের থেকে কিছুটা আলাদা ও উদার। ধর্মীয় কাজের পাশাপাশি নানা সমাজকল্যাণ মূলক কাজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা এসব কাজে ফুরফুরা শরিফ কর্তৃপক্ষ দীর্ঘ দিন ধরে অংশগ্রহণ করে আসছে । ইসলামের বাইরেও অন্য ধর্মের মানুষ ফুরফুরার পীরের ভক্ত আছেন। বাংলাভাষায় ইসলাম চর্চার সূত্রপাতেও এঁদের ইতিবাচক ভূমিকা ছিল। পণ্ডিত মহম্মদ শহিদ্দুলা এঁদের অনুগামী ছিলেন। আব্বাস সিদ্দিকি সেই পীর পরিবারের যুবক, তাঁর চিন্তায় চেতনায় এই উদারতার ছাপ থাকবে বলে ধরে নেওয়াই যায়। এমনকি তাঁর ধর্ম পরিচয় নিয়েও কিছু বলার নেই। ধার্মিক ও সাম্প্রদায়িক দুটি সত্ত্বা আলাদা। মহাত্মা গান্ধী ধার্মিক ছিলেন কিন্তু সাম্প্রদায়িক ছিলেন না, আবার মহম্মদ জিন্না ধার্মিক ছিলেন না কিন্তু সাম্প্রদায়িক ছিলেন। কিন্তু এই সব ব্র্যাকেটের মধ্যে আব্বাস সিদ্দিকিকে রাখার ক্ষেত্রে কিছু বাধা এসে দাঁড়াচ্ছে।

    কেন তা বলি। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ২০১৮ সালে কেরালাতে যখন বন্যা চলছে, সেখানকার ত্রাণকার্যে যোগ দিতে আব্বাস গিয়েছিলেন, এবং তখনই জড়িয়ে পড়েন ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগের কার্যকলাপের সঙ্গে। সেখানে প্রায় ৬ মাস থেকে তাদের কাছে প্রশিক্ষণ নেন আব্বাস। লিগের প্রতিষ্ঠাতা পরিবার, পানাক্কার থাংগালদের দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে আব্বাস চেয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গে লিগের শাখা খোলা হোক, যাদের সঙ্গে জোট বেঁধে তিনি কাজ করবেন। মুসলিম লিগ আব্বাসের সেই প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছিল। যাই হোক, আব্বাস একই সঙ্গে আলাপ আলোচনা চালিয়েছিলেন আসাদউদ্দিন ওয়াইসির মীম নামক দলটির সঙ্গেও - যুক্তিটা দুই ক্ষেত্রেই এক - সব মুসলিমদের এক ছাতার তলায় নিয়ে আসা। এন ডি টিভির নিউজ পোর্টালে দেখা যাচ্ছে, তাঁদের প্রতিবেদক জানাচ্ছেন, ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের সঙ্গে ওয়াইসির মিম দলের সমর্থন আছে (২১ জানুয়ারি ’২১)। আবার ইন্ডিয়া টিভিতে এক সাক্ষাৎকারে স্বয়ং আব্বাস জানাচ্ছেন, ওয়াইসি তাঁকে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন (১৭ ফেব্রুয়ারি ’২১) --- চ্যানেল যদি তাঁকে ভুল ভাবে উদ্ধৃত করে থাকে তার কোনো প্রতিবাদ আমাদের এখনো চোখে পড়েনি। এর সঙ্গে যোগ করে দেখতে হবে, বিভিন্ন সমাজমাধ্যমে ঘুরে বেড়ানো আব্বাসের বিভিন্ন বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপিং। সেইসব বক্তব্যে তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন তিনি শরিয়তপন্থী ইসলামে বিশ্বাস করেন। তিনি মনে করেন, সিনেমা বা নাটকে মেয়েদের অভিনয় করা মানে দেহ দেখিয়ে পয়সা উপার্জন করা এবং এসবের জন্যে এদেরকে নাকি গাছে বেঁধে পেটানোই বিধেয়। যদিও একজন সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন, এই ভিডিও নাকি গত বছর (২০২০) বসিরহাটে একটি এন আর সি বিরোধী সমাবেশের, সেখানে আব্বাস নাকি সেখানকার তৃণমূল সাংসদ নুসরত জাহানের শেষ মুহূর্তে এন আর সি র বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার প্রতিবাদ করেছিলেন । তবে সেটা যদি নিন্দারও হয় তার প্রতিবাদের ভাষা ওরকম কেন হল তার ব্যাখ্যা প্রয়োজন। তিনি জানিয়েছেন, মুসলিম ঘরে জন্ম গ্রহণ করেও যারা ইসলাম মানে না, তাদেরকে উনি তাড়িয়ে দেওয়ার এবং মারার নিদান দেন।করোনা ভাইরাসের মহামারীর সময়ে তিনি মন্তব্য করেন, যে আল্লা নাকি ভারতের ৫০ কোটি লোক মেরে দিতে এই ভাইরাস পাঠিয়েছেন। এই সব ভিডিওর সত্যতা আমরা যাচাই করিনি ঠিকই, কিন্তু এই ব্যাপারে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের পক্ষেও কিছু আপত্তি জানানো হয়েছে, এমন খবর নেই। আরো কিছু বিষয় নিয়ে কথা থাকছে। ব্রিগেডে আব্বাস দলের পক্ষে যে বক্তব্য রেখেছেন সেখানে এনআরসি / সিএএ নিয়ে কিছু বলা হয়নি। অথচ এই মুহূর্তে এই প্রসঙ্গটা রাজ্যের মুসলমান, আদিবাসী জনজাতি ও কিছু কিছু তফসিলী জাতির ক্ষেত্রে খুবই দরকারি, কারণ তাদের অনেকের কাছেই ‘কাগজ’ নেই যা দিয়ে তাদের নাগরিকত্ব প্রমাণ হবে। আদিবাসীদের মধ্যে কাজ করা কিছু সংগঠন এই বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এই অস্পষ্টতা দূর করার প্রয়োজন আছে। আর সবথেকে বড় কথা হল, রাজ্যের প্রায় ৫৬ শতাংশ ভোটারের দাবি নিয়ে আজ হঠাৎ যারা সরব হয়ে উঠলেন, তাদের এর আগে কোথাও কোনো ভোটে তো বাংলার মানুষ দেখেন নি! ভোট যদি বাদও রাখি, যারা বলছেন বাম কংগ্রেস বা তৃণমূল কোনো আমলেই মুসলমান ও অনগ্রসর জনজাতির কোনো উন্নয়ন হয়নি ---- তাদের বিগত সময়ে কোথাও কোনো ফোরামে কথা বলতে বা দাবি দাওয়া জানাতে আমরা কি দেখেছি? তাহলে তাদের এই ফ্রন্ট গঠন ও বাম কংগ্রেসের সঙ্গে জোট তৈরি করে ভোটে লড়া, এর মধ্যে কি সাময়িক একটা আবেগই সব ? নাকি এর পেছনে কোনো বড় খেলা আছে ? একটা ফ্রন্ট তৈরি করতে গেলেও অনেক দিনের আলাপ আলোচনার প্রক্রিয়া, সমাবেশ এইসব লাগে । শুধু ধর্মীয় ভিত্তিতে নিজের কিছু সমর্থককে ব্রিগেডে নিয়ে এসে, এবং আগে জানলে আরো বেশি আনতে পারতেন ( আগে জানলেন না কেন, ব্রিগেডের ঘোষণা হয়েছে অন্তত একমাস আগে ) এই বক্তব্য রেখে নিজের ওজন ভারি করার চেষ্টা আর যাই হোক জনমুখী রাজনীতির পথ হতে পারে না ----- বড় জোর ওয়ান ম্যান শো হতে পারে। কিছু কিছু মহল থেকে এমন শঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে, এই ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট বিজেপির সমর্থনপুষ্ট আদপে একটা রাজাকার বাহিনী।এই আশঙ্কার একদম ভিত্তি নেই, তা নয়। রাজ্যের চল্লিশ পয়তাল্লিশটি আসনে লড়তে গেলে যে অর্থবল লাগবে তার সংস্থান কোথা থেকে হবে, সেই বিষয়ে এদের অবস্থান খুব দ্রুত পরিষ্কার করা দরকার। আব্বাসকে নিয়ে সন্দেহ বাড়ছে। এখনো অবধি যে সব আসন নিয়ে তাঁরা দর কষাকষি করছেন তার সবগুলিই সংখ্যালঘু এলাকার আসন, দলিত বা জনজাতি এলাকার আসন নয়, সন্দেহ বাড়ছে বই কি। সারা রাজ্যে বিজেপির সাম্প্রদায়িক দাপাদাপির মধ্যে পাল্টা সাম্প্রদায়িকতা বেশি বিপদ --- কার্যত বিজেপি ঠিক এইটাই চায়।

    এখন আরেকটা কথা এই সূত্রে অবধারিত ভাবে এসে পড়ে যে এমন একটা দলের সঙ্গে একই জোটে রাজ্যের বাম রাজনীতির কেষ্ট বিষ্টুরা হাত মেলালেন কেন ? অবশ্য বামেরা এর প্রত্যেকটি অভিযোগই উড়িয়ে দিয়ে বলবেন, তারা এই আব্বাসের চোখেই নতুন দিনের আলো দেখেছেন তাই ‘আব্বাস বিনে গীত নেই’। পত্র পত্রিকা পড়ে বোঝা যাচ্ছে, এখনো রাজ্যের অনেক মানুষ বাম রাজনীতির থেকে একটু অন্যরকম কিছু আশা করেন, তারা এই ব্রিগেড কাহিনিতে খানিকটা বিভ্রান্ত। ব্রিগেডের মূল হোতা ছিল বাম দলগুলো, বরাবরই তাই হয়। কিন্তু সেই আয়োজনে সমস্ত মনোযোগ এমন একজন নিয়ে চলে গেল যার আচারে আচরণে ভাবনায় অনেক অসংগতি আছে, এটা কট্টর বাম সমর্থকরা ঠিক হজম করতে পারছেন না। যদিও বামেরা আব্বাস সিদ্দিকিকে ইতিমধ্যেই “আলোর পথযাত্রী” হিসেবে চিহ্নিত করে দিয়েছেন তাই তারা বুক বাজিয়ে বলে বেড়াচ্ছেন, ওসব কিছু না, আব্বাসের চালেই নাকি টিএমসি বিজেপি মাত হয়ে যাবে। হবেও বা। কিন্তু তার পরেও তো কিছু প্রশ্নের পথ আটকে দাঁড়ানো যাবে না। আপাতত সেইরকম দুটি প্রসঙ্গ ।

    এই রাজ্যে মুসলমান বা জনজাতিদের উপযুক্ত উন্নয়ন হয়নি, এটা অস্বীকার করা যাবে না কিন্তু তারই মধ্যে মুসলমান সমাজের একাংশের মধ্যে শিক্ষার প্রসার ঘটেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে মুসলিম মেয়েরা স্কুলে কলেজে যাচ্ছেন, বাইরে বেরোচ্ছেন, সরকারি প্রকল্পের সুবিধে পাচ্ছেন। আল আমীন মিশনের মতো কিছু প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন স্কুল কলেজে শিক্ষার সুযোগ পৌঁছে দিচ্ছেন, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার কোচিং দিচ্ছেন। সফলভাবে প্রতিষ্ঠিতরা নিজেরা আবার কোনো কোনো ছাত্র বা ছাত্রীর দায়িত্ব নিচ্ছেন। আরো এমন অনেক সংগঠন আছে যারা এই ধরণের সামাজিক কাজ করে চলেছেন। কিন্তু, মূলধারা মিডিয়ায় তাঁদের খবর উপেক্ষিত থাকে । মুসলমান সমাজের এই উদার অংশটার ভূমিকা কোনোভাবেই কম নয়। কিন্তু সেই উদার অংশের কোনো প্রতিনিধিত্ব সেকুলার ফ্রন্টের মধ্যে নেই । অথচ ওই অংশটাকে বৃহত্তর সামাজিক পরিসরে জায়গা দিতে পারলে একটা সত্যি প্রতিষ্ঠা করা যেত। বিজেপি তাদের প্রচারে বৃহত্তর হিন্দু সমাজে মুসলমানদের বিষয়ে যে একটা ছকে বাঁধা একমাত্রিক কাঠামোর কথা বলে, তার বিপরীতে মুসলমান সমাজেরও যে অন্য একটা চেহারা আছে সেটা ছড়িয়ে দিতে পারলে বামপন্থীরা একটা জরুরি দায়িত্ব পালন করতে পারতেন। আর এই বাংলায় দীর্ঘ বাম শাসনে মুসলমানরা তো তাঁদের পাশেই ছিলেন, নিজেদের মধ্যেকার মৌলবাদী শক্তিগুলোকে সরিয়ে রেখে । রাজ্যের বাম আন্দোলনের ঐতিহ্যে বরাবরই মুসলমানরা একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে এসেছেন, সমস্ত সাম্প্রদায়িক শক্তিকে প্রতিহত করেই। কিন্তু নিজেদের যারা অগ্রণী সমাজদর্শনের ধারক বাহক ভাবেন, তাদেরই নেতারা হাত ধরলেন ওই সন্দেহ জড়িয়ে-থাকা পেছিয়ে পড়া মানসিকতার প্রচারক দলের নেতার! কৌশল যখন নীতিকে ছাপিয়ে যায় অবশ্য তখন এমনই হওয়ার কথা ছিল।

    আরেকটা কথা, বামপন্থীরা ইদানিং দাবি করছেন গোটা লকডাউন জুড়ে বামকর্মীরা রাস্তায় থেকে কাজ করেছেন, নবান্ন অভিযানের মধ্যে দিয়ে যেভাবে বেকারত্বের প্রশ্নটিকে সামনে এনেছেন, তাতে মানুষের মনে তাঁদের বিষয়ে নতুন করে আস্থা জেগেছে। জেগেছে কি না সেটা সময় বলবে । কিন্তু এই গোটা সময়টায় আব্বাসের কী ভূমিকা ছিল? এনআরসি-সিএএ প্রশ্নে বা, কৃষিবিল বিরোধী আন্দোলনে অথবা বেকারির বিরুদ্ধে ‘নবান্ন অভিযান’, একবারও কি বামেদের সহযোগী হিসেবে রাস্তায় নেমেছেন তিনি বা তাঁর দল? বৃহত্তর কোনো গণ-উদ্যোগে বা আন্দোলনে যাকে দেখা যায়নি, রাজ্য বা দেশের জরুরি রাজনৈতিক অর্থনৈতিক সমস্যা নিয়ে যাকে কোনো কথা বলতে শোনা যায়নি, যিনি শুধু ধর্মীয় সমাবেশে এক মাস আগে অবধি ভাষণ দিয়েছেন, সেই ধর্মগুরুকে স্রেফ কিছু ভোটের জন্য মাথায় তুলে নিয়ে আসতে হল? তাঁরা এক কদম এগোলেন না দুই কদম পেছোলেন?

    তথ্যসূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, এন ডি টিভি, ইন্ডিয়া টিভি, আরেক রকম, আনন্দবাজার পত্রিকা, উত্তরবঙ্গ সংবাদ, ইনসাফ টিভি
  • বিভাগ : ব্লগ | ০৬ মার্চ ২০২১ | ২৭৩৪ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • পাতা :
  • Aa | 2409:4060:30c:d873:b033:b4af:9d62:4b23 | ০৭ মার্চ ২০২১ ১৯:২২103226
  • সিপিআইএম যাকে দূরবীন দিয়েও দেখা যায় না, তারা কি করল না করলো এই নিয়ে সবার এত মাথাব্যথা কেন এটাই বোঝা যাচ্ছে না। 


    কারা যেনো তিন বার বিজেপির সাথে জোট করেছিল। সিপিআইএম বা কংগ্রেস তো করেনি কোনো দিন।

  • Ranjan Roy | ০৭ মার্চ ২০২১ ২০:৫৯103229
  • ১ কংগ্রেসের বিজেপির হাত ধরার কেন দরকার হবে? ওরা এবং বিজেপিই তো ভারতের সবচেয়ে বড় দুটো দল যাদের সমস্ত রাজ্যে সংগঠন ও জনসমর্থন আছে। কংগ্রেস কার বিরুদ্ধে বিজেপির সঙ্গে জোট করবে?


    ২ বাজপেয়ীর হাত জ্যোতি বসু কেন এবং কখন ধরেছিলেন?

  • Ranjan Roy | ০৭ মার্চ ২০২১ ২৩:৫২103233
  • আপনিই দয়া করে পুরোটা জানুন।


    তখন আর এস এসের রাজনৈতিক দলটি ছিল জনসংঘ, সেটাই পরে খালি প্রস্তাব পাশ করে বিজেপি হল।  বাজপেয়ী তখন থেকেই ওদের প্রধান চেহারা। ঠিক যেমন ষাটের দশকে সিপিএমের ছাত্রফ্রন্টের নাম ছিল বিপিএস এফ, পরে নাম পালটে হল এসএফ আই। কী বলবেন? আগে সিপিএমের কোন ছাত্রফ্রন্ট ছিল না? নাকি সুভাষ শ্যামল বিমান দীনেশ আগে সিপিএমের ছাত্রফ্রন্ট করতেন না? শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যায়?

  • Politician | 2603:8001:b143:3000:25bf:5c60:1cd3:eb15 | ০৮ মার্চ ২০২১ ০৩:০০103237
  • পশ্চিমবঙ্গে কোনো অসাম্প্রদায়িক দল আছে? কৌতূহলী। 

  • :|: | 174.251.160.53 | ০৮ মার্চ ২০২১ ০৫:১০103238
  • ৮ মার্চ 3 ঘটিকা: অফ কোর্স আছে। শ্রীরামকৃষ্ণ-এর মতে বিশ্বাসী লোকজনের দল। ওই যে শ্রীরামকৃষ্ণের বর্ণনায় বলেছে "সিদ্ধ-সর্ব-সম্প্রদায় সম্প্রদায় বর্জিতম।"  অর্থাৎ যিনি সর্ব সম্প্রদায়ের পথেই সাধনা করে সিদ্ধি লাভ করে সকল সাম্প্রদায়িকতাকেই ত্যাগ করেছিলেন। তো, তাঁকে যাঁরা অনুসরণ করেন তাঁরা অসাম্প্রদায়িক তো বটেই। রাজনৈতিক দল নয় অবিশ্যি। তা আপনার প্রশ্নে "রাজনৈতিক" দলের কথা জানতেও চাননি। 

  • Abhyu | 198.137.20.25 | ০৮ মার্চ ২০২১ ০৬:৪০103239
  • মোটেই না। রামকৃষ্ণ মিশন মোটামুটি RSSএর একটু মার্জিত উপস্থাপন। তবে এটা যেহেতু পলিটিক্যাল টই তার এর বেশি কিছু এখানে লেখার মানে হয় না। বলতে পারেন রামকৃষ্ণ মিশন আর শ্রীরামকৃষ্ণ-এর মতে বিশ্বাসী লোকজনের দল এক নয়। সেক্ষেত্রে আমার কিছু বলার নেই।

  • cm | 2405:8100:8000:5ca1::10b2:82fa | ০৮ মার্চ ২০২১ ০৭:৩৫103241
  • RSS নিয়ে নিন্দামূলক কথাবার্তা শুনেছি, Abhyuর পোস্ট সত্যি হলে ধারণা বদলাতে হবে দেখছি

  • Abhyu | 47.39.151.164 | ০৮ মার্চ ২০২১ ০৭:৩৯103242
  • না না রামকৃষ্ণ মিশন দাঙ্গা বা লিঞ্চিং তো করেনি এখনো। কখনো করবে বলেও মনে হয় না। অতো চিন্তিত হবেন না।

  • Abhyu | 47.39.151.164 | ০৮ মার্চ ২০২১ ০৭:৪৪103243
  • আমি যেটা লিখেছিলাম সেটা আদর্শের দিক থেকে। রামকৃষ্ণ মিশন একটা হিন্দু প্রতিষ্ঠান। কোর্টের রায়ে স্বীকৃত।

  • :|: | 174.251.160.53 | ০৮ মার্চ ২০২১ ০৮:০৯103244
  • অভ্যু বাবু ৬টা ৪০: দ্বিতীয়টাই ঠিক। সচেতন ভাবেই আমার পোস্টে রামকৃষ্ণ মিশন কথাটি ছিলোনা। এখন মনে হচ্ছে থাকলেও অবশ্যি খুব পার্থক্য হতো না। কারণ ৭টা ৪৪-এ আপনিই বলেছেন হিন্দু; অর্থাৎ ধর্ম আর সম্প্রদায় এই দুটি শব্দের পার্থক্য তো থেকেই যাবে। 


    আর, আরএসএসের মার্জিত ভার্সান প্রসঙ্গে মনে রাখবেন মানুষ কিন্তু বাঁদরেরই মার্জিত ভার্সন। তাতে অনেকটাই পার্থক্য হয় নাকি?

  • Politician | 2603:8001:b143:3000:25bf:5c60:1cd3:eb15 | ০৮ মার্চ ২০২১ ০৮:২৯103245
  • তাহলে রামকৃষ্ণ মিশনকে ভোটে দাঁড়াতে অনুরোধ করলে ভাল হবে। 

  • :|: | 174.251.160.53 | ০৮ মার্চ ২০২১ ০৮:৪৫103248
  • ও আপনি ভোটে দাঁড়াবার দলের খোঁজ করছিলেন?! তা আগে বলতে হয়! তিন ঘটিকার পোস্ট পড়ে সেটা বোঝে কার বাপের সাধ্যি! কৌতূহল নিরসনের ....


    যাগ্গে। 

  • দীপ | 2402:3a80:a55:6ff1:8930:f9a4:732e:3e | ০৮ মার্চ ২০২১ ১০:৪৫103251
  • রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন কোনোদিনই রাজনীতিতে আসবে না, এটাই বিবেকানন্দের নির্দেশ। ১৮৯৭ সালে মঠের নিয়মাবলী তৈরির সময় যে মে নিয়ম লিপিবদ্ধ হয়েছিল, এটি তার মধ্যে একটি।  যদি রাজনীতিতে আসে, তবে মিশনের অধঃপতনের শুরু হবে।


    আর মিশনকে কাজ করার জন্য সবার সঙ্গেই সুসম্পর্ক রাখতে হয়। কংগ্রেস, সিপিএম, বিজেপি, তৃণ, নকশাল, মাওবাদী- সবার সঙ্গে। তাতে প্রমাণিত হয়না যে‌ মিশন‌ তাদের রাজনৈতিক নীতির সঙ্গে যুক্ত। 


    আশা করব তথ্য ও যুক্তি দিয়ে কথা বলবেন।

  • দীপ | 2402:3a80:a55:6ff1:8930:f9a4:732e:3e | ০৮ মার্চ ২০২১ ১০:৫০103252
  • তবে আব্বাসকে মহান প্রলেতারিয়েত নেতা বানানোর আকুল প্রচেষ্টা দেখে দারুণ মজা লাগছে। কতোটা অপদার্থ, ধান্দাবাজ হলে একটা দলের এই পরিণতি হয়!

  • পলিটিশিয়ান | 2603:8001:b143:3000:48b0:6be:754f:fa89 | ০৮ মার্চ ২০২১ ১১:২৬103253
  • তাহলে আমরা কি (ভোটে দাঁড়ানোর) অসাম্প্রদায়িক দলের খোঁজ পাবো না? অসাম্প্রদায়িক (ভোটে দাঁড়ানোর) দলের খোঁজ কি পাবো না আমরা?

  • বোধিসত্ত্ব দাশগুপ্ত | 202.142.93.101 | ০৮ মার্চ ২০২১ ১১:২৯103254
  • মুসলমান রা শুধু দক্ষিণ পন্থীদের ভোটব্যাঙ্ক না, শুধু বড় দলে বড় নেতা না, শুধু নিজেদের দল না, নানা সংখ্যালঘু র সঙ্গে দল গড়ে , অংশিদারীর দাবি নিয়ে ফ্রন্ট পলিটিক্স এ ঢুকবে , এটা অনেক লিবেরাল দের ই পছন্দ হবেনা। সিপিএম সমর্থক দেরো পছন্দ না হতে পারে। তাতে কিছু এসে যায়না। পাবলিক পোলিটিকাল স্পেস শেয়ারিং এটাই আপাতত সিপিএম এর রাস্তা, এ পথে যারা হাঁটবেন না তাদের বিকল্পের অভাব নেই সে হাঁ টা দিন।

  • | 2a06:1700:0:3c::1 | ০৮ মার্চ ২০২১ ১২:২২103255
  • অই হৈল। কমিউনিস্ট আর কমিউনাল-একই ব্যাপার। ফারাক খুইজা প্যাচাল পাড়েন ক্যান? 

  • Ranjan Roy | ০৮ মার্চ ২০২১ ১৩:২৩103259
  • দক্ষিণপন্থীরা 'সেকুলার' শব্দটিকে গালাগালের পর্যায়ে নামিয়ে এনেছে। বামপন্থীরা 'লিবেরাল' শব্দবন্ধটিকে। 


    বক্তব্য নিয়ে কিছু বলা হবে না, দেগে দেওয়া হবে লিবেরাল। তারপর গর্জন-- লিবেরাল দূর হটো।


    প্রশ্ন কোত্থেকে 'হাঁ টা দিন।'? এই পাতা থেকে?

  • দীপ | 2401:4900:3a18:f01:7c4e:dc22:ee63:2b92 | ০৮ মার্চ ২০২১ ১৪:৩৮103262
  • সমাজতান্ত্রিক মতাদর্শ, ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলব আর অন্যদিকে এক অশিক্ষিত, ধর্মোন্মাদকে সমর্থন করব; তাকে ভণ্ডামি ছাড়া আর কিছু বলেনা! 


    মুসলিম সমাজে অসংখ্য মানুষ আছেন যাঁরা উদার আধুনিক চিন্তার মানুষ। অথচ তাঁদেরকে গুরুত্ব না দিয়ে এক ধর্মোন্মাদকে মুসলিম সমাজের মুখ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে! ধান্দাবাজি বুঝতে কোনো কষ্ট হয়না! 


    একদিকে সিদিকুল্লা, আরেক দিকে সিদ্দিকী! এতো বিজেপিকে পুরো ফাঁকা মাঠ ছেড়ে দিচ্ছে! 

  • দীপ | 2401:4900:3a18:f01:7c4e:dc22:ee63:2b92 | ০৮ মার্চ ২০২১ ১৪:৩৮103263
  • সমাজতান্ত্রিক মতাদর্শ, ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলব আর অন্যদিকে এক অশিক্ষিত, ধর্মোন্মাদকে সমর্থন করব; তাকে ভণ্ডামি ছাড়া আর কিছু বলেনা! 


    মুসলিম সমাজে অসংখ্য মানুষ আছেন যাঁরা উদার আধুনিক চিন্তার মানুষ। অথচ তাঁদেরকে গুরুত্ব না দিয়ে এক ধর্মোন্মাদকে মুসলিম সমাজের মুখ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে! ধান্দাবাজি বুঝতে কোনো কষ্ট হয়না! 


    একদিকে সিদিকুল্লা, আরেক দিকে সিদ্দিকী! এতো বিজেপিকে পুরো ফাঁকা মাঠ ছেড়ে দিচ্ছে! 

  • দীপ | 2401:4900:3a18:f01:7c4e:dc22:ee63:2b92 | ০৮ মার্চ ২০২১ ১৪:৪২103265
  • আর দলিত-মুসলিম ঐক্যের গল্প বাংলার মানুষ আগেও শুনেছে! আর তার প্রবক্তা যোগেন মণ্ডলের পরিণতিও জানা আছে! 


    ন্যাড়া বেলতলায় কবার যায়?

  • দীপ | 2401:4900:3a18:f01:7c4e:dc22:ee63:2b92 | ০৮ মার্চ ২০২১ ১৪:৪৭103266
  • চিন্তা নেই, আবার বছর দশেক পরে "ঐতিহাসিক প্রবন্ধ" নামানো হবে! অবশ্য ততদিন যদি দল থাকে!

  • দীপ | 2401:4900:3a18:f01:7c4e:dc22:ee63:2b92 | ০৮ মার্চ ২০২১ ১৫:১১103268
  • সমাজতান্ত্রিক মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, আর পার্টির প্রতি অন্ধ‌ আনুগত্য এক নয়। পার্টি যা বলবে তাই সত্য আর আর তার বিরুদ্ধে বললেই প্রতিক্রিয়াশীল, এই নির্বোধ তত্ত্ব বেশিদিন চলেনা। আসলে এটাই চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়াশীল মনোভাব। এজন্য‌ই দেবব্রত, ঋত্বিক, সলিল, সমরেশ একে একে পার্টির সংশ্রব ত্যাগ করেন!


    এই প্রতিক্রিয়াশীল মনোভাবের চূড়ান্ত প্রকাশ দেখি এক উদ্ধত নির্বোধের‌ কথায়- "আমরা ২৩৫, ওরা ৩০। ওরা কি করবে?" নির্বোধ ভুলে গেছে সে রাজ্যের‌ মুখ্যমন্ত্রী, দলের নয়! আর এর পরিণতি আমরা সবাই জানি! 


    ঋত্বিক বলেছিলেন, "অশিক্ষিত শুয়োরের বাচ্চা!" আর মানিক সরকার "ছাগলের তৃতীয় বাচ্চা!" 


    পার্টিতন্ত্রের শেষ পরিণতি পাঁঠাতন্ত্র! অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ‌ থাকে?

  • b | 14.139.196.16 | ০৮ মার্চ ২০২১ ১৬:৩৬103270
  • "মানুষ কিন্তু বাঁদরেরই মার্জিত ভার্সন"


    বাঁদরেরা (কিম্বা অন্য জন্তু জানোয়ার ) কি ​​​​​​​তা ​​​​​​​মনে ​​​​​​​করবে? ​​​​​​​বোধ ​​​​​​​হয় ​​​​​​​না। 

  • এলেবেলে | 202.142.71.86 | ০৮ মার্চ ২০২১ ১৭:৪২103271
  • চতুরানন উবাচ "ওই যে শ্রীরামকৃষ্ণের বর্ণনায় বলেছে "সিদ্ধ-সর্ব-সম্প্রদায় সম্প্রদায় বর্জিতম।"  অর্থাৎ যিনি সর্ব সম্প্রদায়ের পথেই সাধনা করে সিদ্ধি লাভ করে সকল সাম্প্রদায়িকতাকেই ত্যাগ করেছিলেন।" 


    এই বর্ণনাটি কার? শ্রীমর? ওটা একটা বিশুদ্ধ বুজরুকি মানে ওই কথামৃত। আর কে 'সর্ব সম্প্রদায়ের পথেই সাধনা করে সিদ্ধি লাভ করে সকল সাম্প্রদায়িকতাকেই ত্যাগ করেছিলেন'? রামকৃষ্ণ? ওটাও একটা বিশুদ্ধ বুজরুকি। মারা যাওয়ার আগে পর্যন্ত তাঁর শূদ্রজ্ঞান টনটনে ছিল। লাটু মহারাজ তার সাক্ষী।


    রামকৃষ্ণ সর্ব সম্প্রদায়ের পথেই সাধনা করেছিলেন বুঝি? মানে একদিন প্যাঁজ-রসুন খেলে আর নামাজ আদায় করলেই মুসলমান হওয়া যায় বুঝি? হে ঠাকুর!


    আর রামকৃষ্ণ মিশন অসাম্প্রদায়িক ও অরাজনৈতিক? অ! তাই আর এস এসের প্রতিষ্ঠাতা হেডগেওয়ারের উত্তরসূরী গোলওয়ালকর স্বামী অখণ্ডানন্দের কাছে দীক্ষা নিতে চেয়েছিলেন? তাই আর এস এসের 'বাইবেল' হচ্ছে 'We or Our Nationhood Defined'? তাই বিবেকানন্দ শিলা মার্কা ঢপের চপের আমদানি? এটা করেছিল ওই আর এস এস এবং সেই শিলার 'প্রাণপ্রতিষ্ঠা' করেছিলেন মিশনের তৎকালীন অধ্যক্ষ? এ তো বড় রঙ্গ যাদু!


    , তার মানে মেনে নিচ্ছেন সিপিএম তার ৩৪ বছরের শাসনে মুসলমান ও দলিতদের ভোটব্যাঙ্ক হিসেবেই বিবেচনা করেছে এবং তাঁদের এতটাই উন্নতি করেছে যে ২০২১ সালে তাঁদের জোটবদ্ধ হতে হচ্ছে নিজেদের অধিকার বুঝে পাওয়ার জন্য? মানে সিপিএম যাকে যা সার্টিফিকেট দেবে সেটাই সোনা দিয়ে বাঁধানো হবে আর বাকিরা হাঁটা লাগাবে? এ মাইরি নির্লজ্জ পার্টিজান হওয়ারও তো একটা সীমা থাকে নাকি?

  • পলিটিশিয়ান | 2603:8001:b143:3000:48b0:6be:754f:fa89 | ০৮ মার্চ ২০২১ ২০:০৯103276
  • হায়, পশ্চিমবঙ্গে কি একটিও (ভোটে দাঁড়ানো) অসাম্প্রদায়িক দল নাই? তাহা হইলে এই ভোট লইয়া আমি কী করিব? 

  • Ranjan Roy | ০৮ মার্চ ২০২১ ২০:৫৮103280
  • ইহাই লক্ষ টাকার যক্ষ প্রশ্ন!!!

  • Ramit Chatterjee | ০৮ মার্চ ২০২১ ২১:১৬103281
  • নমস্কার এলেবেলে , আপনাার কি রামকৃষ্ণ এর  ওপর কোনো নিিিিিহর্মর্ময়মম

  • :|: | 174.251.160.53 | ০৮ মার্চ ২০২১ ২১:১৯103282
  • এলেবেলবাবু ১৭টা ৪২: "এই বর্ণনাটি কার? শ্রীমর?"


    না। কার? খেটে ​​​​​​​বার করুন। এতো কম ​​​​​​​জানা লোকের সঙ্গে তর্কে যাবার ​​​​​​​সময় ​​​​​​​নাই। 

    এইবার দেখুন আমি আপনার সঙ্গে কথা বলতে গেলাম আর আপনি মিষ্টি করে এড়িয়ে গেলেন। তাতে কি প্রমাণিত হয় আপনি-আমি এক গোত্রের? আমার তো উল্টোটাই মনে হয়। দীক্ষা না পাবার ঘটনাটি তাই প্রমান করছে। 
     
    কোন দলের কি প্রিয় বই তাই নিয়ে আমরা ভেবে করবো কি? 
     
    আর স্বামীজিকে প্রচার করতে স্বামীজীর মঠের মহারাজরা ভালোবাসেন। হয়তো স্বামীজির মত আদর্শকে ভালোবেসে জীবনটা দিয়েছেন -- তাই। আপনিও যদি স্বামীজির উচ্চ আদর্শকে দেখতে পান, যদি ওই উদারতাকে কেন্দ্র করে কিছু লিখতে পারেন, দেখবেন, আপনি আরএসেএস না হলেও মিশন আপনাকেও প্রশংসা করছে। মানে, ঠিক আপনাকে না স্বামীজীর কথাকে।
     
    এনিওয়ে এই টই অন্য বিষয়ে বলিপ্রদত্ত। এখানে আর আলোচনা করতে চাই না। লাটু মহারাজ আর শ্রীরামকৃষ্ণের সাধনার চর্বিত চর্বন তো নয়ই। 
     
    নমস্কার। 
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • পাতা :
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। বুদ্ধি করে মতামত দিন