এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  স্মৃতিকথা

  • অঙ্কে যত শূন্য পেলে

    প্রবুদ্ধ বাগচী লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | স্মৃতিকথা | ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩ | ৩০৫ বার পঠিত | রেটিং ৪ (১ জন)
  • অঙ্কে যত শূন্য পেলে
    প্রবুদ্ধ বাগচী

    (পূর্ব প্রকাশিতের পর)
    পর্ব ৫
        ক্লাস নাইনে ওঠার পরে প্রথম যে বোধ আমাদের মধ্যে জারিত করে দেওয়া হয়েছিল তা হল, এই প্রথম আমরা একটা বড় বোর্ডের পরীক্ষার মুখোমুখি হতে যাচ্ছি— ফলে স্কুলের চেনা গণ্ডি, চেনা মাস্টারমশায়দের বাইরে অন্য কেউ প্রশ্ন করবেন, খাতা দেখবেন তাই প্রস্তুতি নিতে হবে সেইভাবেই। আমাদের সময়ে ক্লাস নাইন ও ক্লাস টেন মিলিয়ে একসঙ্গেই মাধ্যমিক পরীক্ষা হত। স্বভাবতই মাধ্যমিকের অঙ্ক মানে ক্লাস নাইন ও টেনের মিলিত পরীক্ষা। আর এই পর্বে এসে যোগ হল অতিরিক্ত বিষয় ( অ্যাডিশনাল সাবজেক্ট) নেওয়ার ব্যাপারটা —- এই বিষয়ে পাশ না করলেও চলে কিন্তু পাশের নম্বরের বাড়তি নম্বর যোগ হয় পরীক্ষার মোট নম্বরে। ভাল ফল প্রত্যাশী পড়ুয়ারা এই সুযোগ ছাড়ে না। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের নিয়ম অনুযায়ী এই বাড়তি বিষয় হিসেবে নেওয়া যেত অঙ্ক, মেকানিক্স, স্ট্যাটিস্টিক্স আর বুক-কিপিং —- বলা বাহুল্য প্রথম তিনটি বিজ্ঞান নিয়ে পড়তে আগ্রহী পড়ুয়াদের জন্য আর বাকিটা বাণিজ্য-শাখায় পড়তে চাওয়াদের জন্য। খুব ভুল যদি না-করি তাহলে কলা বিভাগে পড়তে-চাওয়া ছাত্রদের জন্য কোনো অতিরিক্ত বিষয় ছিল না, ছাত্রীরা অবশ্য হোম সায়েন্স, এডুকেশন বা সঙ্গীত নিতে পারত। বলা হত, এই অতিরিক্ত বিষয়গুলো পড়া থাকলে উচ্চমাধ্যমিক স্তরে নাকি কিছু সুবিধে পাওয়া যায় — যদিও বাস্তবে তা ঘটেছে বলে আমার অন্তত মনে হয়নি।
     সে যাই হোক, একটা ‘লজ্জার কথা’ এখানে বলি, নিজেরা উচ্চমাধ্যমিক স্তরে বিজ্ঞান নিয়ে পড়ব এটা প্রায় স্থির হয়ে গিয়েছিল বলেই কি না জানি না, অন্য শাখার পড়ুয়াদের আমাদের একটু লঘুভাবে দেখার চোখ হয়েছিল। অবশ্য এর জন্য আমাদের অভিভাবকরাও বেশ কিছুটা দায়ী — বিজ্ঞান নিয়ে না-পড়লে দুনিয়া রসাতলে যাবে এমন একটা ভুল ধারণা আমাদের মধ্যে সঞ্চারিত করেছিলেন তাঁরাই। যেমন, ‘বুক-কিপিং’ বিষয়টা যে আদপে কী আমি অন্তত অনেকদিন সেটা জানতাম না বা জানার চেষ্টাই করিনি । আমার মনে হয়েছিল ওটা বোধহয় ‘বই বাঁধানো’  শেখার বিষয় ! জাতপাতের উঁচু-নিচু স্তরের  মতো যারা বিজ্ঞান পড়েন তাঁরা কৌলীন্যে উঁচু এমন একটা ভুল ধারণা আমাদের ছিল, আজও সম্ভবত আছে।  বি কম বা বাণিজ্য শাখায় যারা পড়ে তাঁদের ‘বুদ্ধি কম’ এমন একটা লব্জ আমি নিজের কানেই শুনেছি। এই ভুল আর বানিয়ে-তোলা কৌলীন্যের চেতনায় আমরা যে একসময় অধঃপাতে গিয়েছিলাম, আজ এজন্য খুব আত্মগ্লানি হয়। সব বিষয়ই সমান, কেউ কম নয়, কেউ বেশি নয়। হতে পারে বিজ্ঞানের প্রায়োগিক এলাকা অনেক বড় আর তা আমাদের প্রতিদিনের জীবনের সঙ্গে অন্বিত, কিন্তু তার মানে এমন নয়, সাহিত্য-কলা-অর্থনীতি-ইতিহাস-সমাজতত্ত্ব-অ্যাকাউন্টেন্সি বা ম্যানেজমেন্ট  সব ফেলনা ! আজকের সময়ে তো ম্যানেজমেন্ট একটা রীতিমতোন দামী বিষয়, ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ পড়ুয়ারা ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে প্রশিক্ষিত না-হলে নিজেদের পেশায় কল্কে পান না বলেই শুনতে পাই।  
          ইদানিং অবশ্য আমাদের শিক্ষানীতি মেনে নিয়েছে এই ইন্টার-ডিসিপ্লিনারি ব্যবস্থার কথা, যা অনেক আগেই স্বীকৃত হয়েছে ইউরোপে বা আমেরিকায় । যদিও শুনতে পাই ,নাম-কা-ওয়াস্তে চালু হলেও তার চর্চার সম্ভাবনা খুবই সীমিত—- এর একটা কারণ মনে হয় আমাদের মানসিকতা অর্থাৎ মাইন্ডসেট। তাছাড়া,  বিজ্ঞানী বা গণিতবিদরা সবাই যে ধোয়া তুলসিপাতা বা মহাপুরুষ নন তার একটা বড় উদাহরণের কথা সম্প্রতি পড়লাম ।  বার্টল্ট ব্রেখটের  বিখ্যাত নাটক ‘গ্যালিলিওর জীবন’-এর (Life of Galileo)  কথা আমরা সকলেই জানি, যা একসময় জার্মানির সুবিখ্যাত নাট্য-পরিচালক  ফ্রিটজ বেনেভিৎজ (Fritz Bennewitz)-এর  নির্দেশনায় ও শম্ভু মিত্র মশায়ের অভিনয়ে কলকাতার কিংবদন্তী প্রযোজনায় পরিণত হয়েছিল। স্বয়ং নাট্যকার ব্রেখট এই নাটকটি প্রথম লেখেন ১৯৩৮ সালে, তাতে গ্যালিলিও-কে দেখানো হয়েছিল চতুর, কিন্তু শঠ নন, এমন এক চরিত্র হিসেবে। হিরোসিমা- নাগাসাকির  ঘটনার পরে ( আগস্ট ১৯৪৫)  ব্রেখট এই নাটকটি আবার নতুন করে লেখেন যেখানে বিজ্ঞানী হিসেবে গ্যালিলিওকে চিত্রিত করা হয় শুধু চতুর নন, একই সঙ্গে শঠ হিসেবে —-- কারণ ততদিনে আণবিক বোমা দেখিয়ে দিয়েছিল বিজ্ঞানীরা সহজেই বিক্রি হয়ে যেতে পারেন ও দাঁড়িয়ে পড়তে পারেন চরম মানবতা-বিরোধী অন্যায়ের পক্ষে। এই সরল সত্যিটা আজও মনে রাখা দরকার বলেই মনে করি। 
          যাই হোক, এবার আবার মূল প্রসঙ্গে ফেরা যাক। ক্লাস নাইনের গণিতে সব থেকে নতুন বিষয় দুটো। একটা হল ত্রিকোণমিতি অন্যটা হল অ্যাডিশনাল গ্ণিতের সিলেবাস, এখানে উল্লেখ দরকার আমাদের স্কুলের পরিকাঠামোয় গ্ণিতের বাইরে অন্যান্য অনুমোদিত অ্যাডিশনাল বিষয়গুলি নিয়ে পড়ার কোনো সুযোগ ছিল না।  এই ত্রিকোণমিতি আসলে একটা অত্যন্ত জরুরি ও বিরাট সাবজেক্ট, কারণ বহু কেজো সমস্যার সমাধান করা যায় এরই হাত ধরে। এই বিষয়টার বুনিয়াদি ব্যাপারটা হল ত্রিভুজের বাহু ও কোণের মধ্যে একটা যোগাযোগের সূত্র —-- সাইন, কস ও ট্যান — এই তিনটে হল মৌলিক ধারণা, তার থেকেই বিকশিত হতে থাকে অন্যান্য অনুপাতগুলি। এদের ঠিক বিপরীত ( বা ইনভার্স) হল কোসাইন, সেক ও কট, আসলে সেগুলোও একেকটা অনুপাতই। এই সাইন, কস আর ট্যানের গল্পগুলো গুছিয়ে নেওয়ার জন্য প্রাথমিকভাবে বাবা আমায় শিখিয়ে দিয়েছিল অব্যর্থ একটা সূত্র, যা আসলে বাবাও পেয়েছিল তার শিক্ষকদের কাছ থেকেই। বিচিত্র সেই সূত্রটি হল, ‘ সাম পিপল হ্যাভ কার্লি ব্রাউন হেয়ার টার্নস পারমানেন্টলি ব্ল্যাক’ (some people have curley brown hair turns permanently black ) ।  এর  ভিতরের মানে খুঁজে পেতে গেলে দেখতে হবে এর ইংরিজি আদল : (S)ome (P)eople (H)ave ( C)urley (B)rown (H)air (T)urns (P)ermanently (B)lack । এবার খেয়াল করতে হবে ব্র্যাকেটের মধ্যে থাকা অক্ষরগুলি —- অর্থাৎ এস (S),  পি(P), এইচ (H)  ইত্যাদি ।   প্রথম তিনটে অক্ষর হল S P H — এদের মানে হল S= Sine  P= Perpendicular (সমকোণী ত্রিভুজের লম্ব)  ও H= Hypotenuse ( অতিভুজ) আর এর ব্যঞ্জনা হল সাইন(Sine) কোণের সংজ্ঞা হল আসলে তা লম্ব বাহু ও অতিভুজের অনুপাত। একইভাবে কস (Cos) কোণ হল বি অর্থাৎ বেস বা ভূমিবাহু ও অতিভুজের অনুপাত আর ট্যান (Tan)  হল লম্ব আর ভূমির অনুপাত। একটামাত্র সরল বাক্যে ত্রিকোণমিতির মূল সূত্রকে গুলে খাইয়ে দেওয়ার এত বড় দৃষ্টান্ত আমি আজও পাইনি, আর ওই সূত্র এতটাই অব্যর্থ ছিল যে আজ এত বছর পরেও তার ঔজ্জ্বল্য এতটুকু ম্লান হয়নি। কিন্তু এটাও বলার, এই ফর্মুলা আমাদের মাস্টারমশাইরা কিন্তু শেখাননি, তাঁরা একেবারে ক্লাসে এসে সাইন আর কস এর অঙ্ক করাতে শুরু করে দিয়েছিলেন।
          ত্রিকোণমিতির বীজমন্ত্র হল সাইন স্কোয়ার ও কস স্কোয়ারের যোগফল সব সময় এক (ওয়ান) —-  এই মূল সূত্রের ওপর গোটা ত্রিকোণমিতি দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু ত্রিকোণমিতির যে বিরাট ইতিকথা, যার সূত্রে এত কিছু তা কিন্তু আমাদের কোনোদিন জানার সুযোগ হয়নি, পাঠ্যবইতেও কিছু লেখা ছিল না। এই যে সাইন স্কোয়ার ও কস স্কোয়ারের সমষ্টি এক (one)  হওয়ার ঘটনাটা, আমার প্রায়ই মনে হয়, এটা কি আদিকাল থেকেই তৈরি ছিল ? সেই গুহামানবের যুগেও তো মানুষ শিকারের হাতিয়ার বানাতো, পরে ঘর বাঁধতেও শেখে — ঘর মানেও তো জ্যামিতি আর ত্রিকোণমিতির সমাহার । আদি মানব -মানবী ,  তাঁরা অঙ্ক জানতেন না কিন্তু নিজেদের অভিজ্ঞতা আর পর্যবেক্ষণ দিয়ে একটা কিছু তো নিজেদের মতন করে বুঝতেন ও ভাবতেন। তার মানে কি এই যে প্রকৃতির মধ্যেই লুকিয়ে আছে অমোঘ কিছু নিয়ম-কানুন যা মানব-অস্তিত্ব নিরপেক্ষ ?  পাঁচ লক্ষ বছরেও যদি মানুষের মস্তিষ্ক বিকশিত না হত তবু সাইন স্কোয়ার আর কস স্কোয়ারের যোগফল হত এক ! এই নিহিত প্রাকৃতিক সূত্রের কথা একবার বলেছিলেন আইনস্টাইন, তার মতো করে। ঈশ্বরের অস্তিত্ব বা অনস্তিত্ব নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করায় তিনি বলেছিলেন, ঈশ্বর আছেন কি নেই জানি না, কিন্তু পৃথিবী বা আরো বৃহত্তর অর্থে মহাবিশ্বে যেসব সূত্র আজ আবিষ্কৃত হল সেগুলোকে এড়িয়ে বিশ্বসৃষ্টির উপায় তাঁর ছিল না। অর্থাৎ সেই ‘ওমনিপোটেন্ট গড’  এর হাতে কোনও বাড়তি ক্ষমতা আদৌ নেই, এইসব প্রাকৃতিক নিয়মের নিগড়েই ‘তিনি’ আবদ্ধ —- তাহলে ‘তিনি’  আর মহাক্ষমতাশালী হলেন কী করে ?
         ত্রিকোণমিতির সাইন কস ট্যান যে আবার অন্যদিক দিয়ে বৃত্তের চাপ বা স্পর্শক (ট্যাঞ্জেন্ট)-এর সঙ্গেও কিছুটা সম্পর্কিত, সেই খবর জেনেছিলাম উচ্চমাধ্যমিকে, কিন্তু নাইন-টেন অর্থাৎ মাধ্যমিক পর্বে একটা অনুশীলনী ছিল যাতে ত্রিকোণমিতির মৌলিক সূত্রগুলি কাজে লাগিয়ে উচ্চতা ও দূরত্বের ( Height & Distance) কিছু কিছু অঙ্ক করতে হত, যেগুলোর সঙ্গে বাস্তব জীবনের বেশ যোগ ছিল। কীভাবে একটা দেওয়ালে মই হেলিয়ে রাখলে কোনো কিছুর নাগাল পাওয়া যাবে, পাহাড়ের চূড়ায় দূরবিন বসিয়ে কীভাবে দূরত্ব মাপা যাবে বা বিপরীতপক্ষে ভূমিতলে ক্যামেরা রেখে কেমন করে মাপা যাবে পাহাড়ের উচ্চতা — এইসব অঙ্ক ছিল বেশ কৌতূহল-উদ্দীপক, মনে হত, বাহ এই তো কেমন অঙ্ক কষে বাস্তব প্রয়োজনের সমাধান করা যায়। যদিও এটা ঠিক, সেইসব অঙ্ক ছিল নিতান্তই বুনিয়াদি স্তরের। তবে, মাধ্যমিক-স্তরে পড়ার সময় কোনো অঙ্কের স্যার আমাদের এই কাহিনি শোনাননি যে আমাদের দেশে ব্রিটিশ আমলে বৈজ্ঞানিক উপায়ে জমি বা নানা পাহাড়-পর্বত জরিপের যে কাজ আরম্ভ হয়েছিল তার প্রধান সহায় ছিল এই ত্রিকোণমিতিক জ্ঞান। অনেক পরে পড়েছি,  জর্জ এভারেস্ট আর রাধানাথ শিকদারের কাহিনি।  ভারতীয় হিসেবে রাধানাথ শিকদার ছিলেন তৎকালীন জরিপ বিভাগের ( যার বর্তমান রূপ ‘সার্ভে অফ ইন্ডিয়া’ প্রতিষ্ঠান)  একজন দক্ষ কর্মী ও গ্ণিতবিদ , কার্যত বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশিখর হিসেবে মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা নির্ণয়ের মূল কৃতিত্ব তাঁরই। কিন্তু যেহেতু ব্রিটিশ উপনিবেশের কাল, সেখানে সাহেবকে পেরিয়ে নেটিভ কৃতিত্ব নিয়ে নেবে, তা তো হওয়ার নয়—- তাই  দুনিয়ায় সব থেকে উঁচু পর্বতশৃঙ্গের নাম ‘মাউন্ট এভারেস্ট’ , ‘মাউন্ট রাধানাথ’ নয় ।  শ্রদ্ধেয় রাধানাথ শিকদারের জন্মশতবার্ষিকী তে এই নিয়ে প্রচুর তথ্য আবিষ্কৃত হয়েছে লেখা হয়েছে বেশ কিছু গবেষণা-ঋদ্ধ বই ।  সেই অর্থে ত্রিকোণমিতির সঙ্গে জুড়ে আছে আমাদের ঔপনিবেশিকভাবে পদানত থাকারও ইতিকথা। কলকাতার উত্তর শহরতলিতে বি টি রোড বরাবর যে ঐতিহাসিক জরিপ হয়েছিল ওই সাহেবদেরই প্রযোজনায়,  তার স্মারক-চিহ্ন আজও ধরা আছে বি টি রোডের চিড়িয়ামোড় ও সোদপুরের শুকচর এলাকায় স্থাপিত ইট দিয়ে তৈরি দুটি সুউচ্চ মিনারের গায়ে —- সেখানে মিনারের গায়ে খোদিত পরিচয়ে প্রত্যক্ষভাবে লেখা আছে ত্রিকোণমিতিক জরিপের কথা। এও এক ত্রিকোণমিতি। 

        তবে এই প্রসঙ্গ শেষ হবে, এই ত্রিকোণমিতি নিয়েই কিঞ্চিত ‘আমিষ’ রসিকতার চাটনিতে। কস অনুপাতের বিপরীত হল সেক (Sec) , এটা আগেই বলা হয়েছে —- তাহলে কোনো কোণের পরিমাণ যদি থিটা হয়, তাহলে তার সাইন-কে বলা হবে সাইন থিটা, আর কস ( বা কোসাইন) কে বলা হবে কস থিটা আর তার বিপরীতে সেক থিটা। এখন যদি কোণটির মান থিটার বদলে ‘c’ (সি) হয় তাহলে তার কস হবে cos c —-- আর তাহলে তার বিপরীত হলে কী বলব ? সহজ জবাব, কেন সেক সি (sec C) ? এখানেই উচ্চারণের মজায় তা আসলে দাঁড়ায় ‘সেক্সি’ —-- ত্রিকোণমিতি ক্লাসের আগে-পরে এই যৌনগন্ধী জোকস ভেসে বেড়াত আমাদের মধ্যে। আহা,  আপাত-রসকষহীন গ্ণিতের সঙ্গে যৌনতার কী অসম্ভব আর বৌদ্ধিক সমন্বয় ! কে বলে গণিতে শৃঙ্গার রস নেই ! 
     
    পরবর্তী পর্ব প্রকাশিত  হবে  ১৩ জানুয়ারি ২০২৪
     

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ধারাবাহিক | ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩ | ৩০৫ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • সৃষ্টিছাড়া | 2405:201:a41e:a09d:14a0:3b9a:3872:2171 | ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৮:২৫527288
  • কলাবিভাগের জন্য উৎসুকদের জন্য ছিল logic বা তর্কবিদ্যা ঐচ্ছিক বিষয়। এই অধম আপনাদের পাশের শহর এর একমাত্র প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১৯৭৮ এর মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছিল।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লুকিয়ে না থেকে মতামত দিন