এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  স্মৃতিকথা

  • অঙ্কে যত শূন্য পেলে

    প্রবুদ্ধ বাগচী লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | স্মৃতিকথা | ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩ | ৩৭৮ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • অঙ্কে যত শূন্য পেলে
    ____________________
    প্রবুদ্ধ বাগচী

    পর্ব ৪

    জ্যামিতি বিষয়টার একটা সুবিধে হল, এই একটা ক্ষেত্রে যা পড়ানো হয় তাকে চোখে দেখা যায়। আর শিশুকাল থেকে ঠিক যেভাবে আমাদের চেতনা বিকশিত হয় তার মধ্যে আকারের একটা ধারণা থাকে বা কিছুটা গড়েও তোলা হয়। প্রাক-প্রাথমিক স্তরে নার্সারি ক্লাসের শিশুদের শেখানো হয় কোনটা গোল, কোনটা চৌকো, কোনটা তিনকোনা ইত্যাদি। বলতে গেলে জ্যামিতিক আকার নিয়ে সেইটাই শিশুর গোড়ার শিক্ষা। যেসব চিকিৎসা-বিজ্ঞানী শিশুজন্মের পর মাতৃস্তন্য পান করার উপযোগিতা নিয়ে গবেষণা করেছেন, তাঁদের মত হল, জন্মের পর মাতৃস্তনের স্পর্শ ও নিবিড় যোগাযোগ শিশুকে একধরনের নিরাপত্তার বোধ দেয়, তাই এটা শিশুর মনের পক্ষে অবশ্য প্রয়োজন। এখানে জ্যামিতি প্রশ্ন তুলতে পারে, স্তন মানে তো একটি অর্ধ-গোলোক, ওই বিশেষ আকার কি শিশুমনের পক্ষে আলাদা প্রশ্রয় ? কারণ ব্যাপারটা ত্রিকোণ বা চৌকো হলে তার সারফেস বা পৃষ্ঠদেশ অবাধ হত না। এটা বিজ্ঞানীরা ভেবে দেখবেন। যদিও কতকাল আগেই রবীন্দ্রনাথ তাঁর ‘স্তন’ কবিতায় (কাব্যগ্রন্থ : কড়ি ও কোমল) ওই প্রত্যঙ্গটিকে বলেছেন ‘নারী হৃদয়ের পবিত্র মন্দির’, কালিদাসের ‘কুমারসম্ভব’-এ পার্বতীর ‘স্তন বর্ণনা’ সাহিত্যের মধ্যেও এরোটিক (erotic) আর দেবী সরস্বতীর অঞ্জলি দেওয়ার সময় দেবীর স্তবে যখন বলা হয় ‘জয় জয় দেবী চরাচর সারে/ কুচযুগ শোভিত মুক্তাহারে’ — ওই ‘কুচযুগ’ আসলে তো রূপসী দেবীর উন্নত পয়োধরেরই ইলাস্ট্রেশন। এসব যারা লিখেছিলেন তারা জ্যামিতি জানতেন বলে মনে হয় না। তাছাড়া মানুষের শরীরের মধ্যেও অনেক রকম জ্যামিতির হিসেব-নিকেশ আছে, এটা আমায় বুঝিয়েছিলেন এক গণিতের শিক্ষক-কাম-পুরসভার বামপন্থী কাউন্সিলার, সেসব অনেক পরের কথা।

    চোখে দেখার এই সুবিধে নিয়েই শুরু হয়েছিল আমাদের জ্যামিতির ক্লাস। ব্ল্যাকবোর্ডে স্যারেরা এঁকে দেখালেন প্রথমে কোণ, তারপর ত্রিভুজ। সেই জানলাম কোণ কতরকম আর তার কত বিচিত্র সব নাম—সূক্ষ্ম কোণ, স্থুল কোণ, সমকোণ, প্রবৃদ্ধ কোণ ইত্যাদি প্রভৃতি। সেই সঙ্গে বিভিন্ন কোণের মধ্যে কতরকমের আত্মীয়তার সম্বন্ধ! কোণের পরে ত্রিভুজ, সেও এক অচেনার আনন্দ। ত্রিভুজের তিনটি কোণের মধ্যেও কত না যোগাযোগ, এসব কি শুনেছি আগে ? সেই ত্রিভুজকে আবার যখন কোনো সরলরেখা ভাগ করে, নানাভাবে নতুন করে তৈরি হয় সব সূত্র। আর তার থেকে বিকশিত হতে থাকে নানান জ্যামিতিক সূত্র আর উপপাদ্য। ত্রিভুজদের মধ্যে সব থেকে কুলীন হল সমকোণী ত্রিভুজ কারণ তার তিনতে বাহুর অবস্থানের ওপর দাঁড়িয়ে তৈরি হবে ত্রিকোণমিতির মতো বিষয়, যা পাঠ্যসূচিতে আসবে আরও পরে। কিন্তু সমকোণী ত্রিভুজের রহস্য তো অপার, তার একই অঙ্গে কত রূপ! আর ত্রিভুজ নিয়ে চর্চা করতে গেলে একেবারে গোড়াতেই যে কথাটা আমাদের বলা হল, ত্রিভুজের তিনটে কোণের সমষ্টি একশো আশি ডিগ্রি অর্থাৎ দুই সমকোণ। এটা একটা চমকে যাওয়ার মতো খবর। যেন একটি ত্রিভুজের অনিবার্য নিয়তিই হল ওই একশো আশি ডিগ্রি কোণের মধ্যে আটকে থাকা, ইংরিজিতে যাকে বলে প্রি-ডেসটিনড (predestined)। কোনোভাবেই তাকে আর পাল্টে দেওয়ার সাধ্য নেই কারো। ব্যাপারটা কি অনেকটা মানবজীবনের মতোই নয় ? জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই তো আমাদের জীবনে নির্ণয় হয়ে যায় এক আয়ুরেখা, কারোর ক্ষেত্রে সেটা ছ’মাস বা ছ’বছর বা ছিয়াত্তর কিংবা ছিয়ানব্বই — কিন্তু তার একটা শেষ আছে — ইনফিনিটির মতো তাকে টেনে টেনে বাড়িয়ে তোলা যায় না কোনোভাবেই। ত্রিভুজের বিশ্ব যেন শঙ্খ ঘোষের কবিতার মতোই বলে যায় ‘লেখো আয়ু, লেখো আয়ু’ অথচ তার আয়ু যে রচিত হয়ে গেছে সে বেচারা জানে না — একে কি বলা যায় ‘ক্যাপ্টিভ ট্র্যাংগল’ (খাঁচাবন্দি ত্রিভুজ)?



    এইখানেই বোধহয় জ্যামিতির বাস্তবের সঙ্গে কিছুটা পাল্টে যায় বীজগণিতের নানারকম কল্পনার হিস্টিরিয়া। জ্যামিতি বেশি বাস্তব। তাকে জ্যান্ত দেখা যায় আমাদের চারপাশের প্রকৃতিতে, আকাশের সূর্য বা চাঁদে, ছাদের কার্নিশে, রাস্তার বাতিস্তম্ভে বা খেলার আয়তাকার মাঠে। অবশ্য এটাও এখানে বলা দরকার একটা পর্যায়ে এসে আমরা যখন সমতল জ্যামিতি থেকে বক্রতল জ্যামিতিতে উত্তীর্ণ হলাম তখন সেই নতুন জগতে কিন্তু ত্রিভুজের তিনটি কোণের যোগফল আর একশো আশি ডিগ্রি থাকল না, এটা সেই স্পেস টাইমের মায়াবী জগতের ম্যাজিক রিয়ালিটি। লাতিন আমেরিকার গ্যাব্রিয়েল গারসিয়া মারকোয়েজ তাকে ষাটের দশকে সাহিত্যে রূপ দিলেও আদপে গণিতের দুনিয়ায় এর জানলা খুলে দিয়েছেন স্বয়ং আইনস্টাইন তার সাধারণ আপেক্ষিকতার তত্ত্বে, সেটা ১৯১৫ সালের কথা। তবে এসব প্রসঙ্গ পরে যথাসময়ে আসবে। আপাতত আমরা আবার ফিরি জ্যামিতির ক্লাসে।

    ত্রিভুজের পর চতুর্ভুজ অর্থাৎ চারটি দিক আছে এমন আকার। খুব চেনা উদাহরণ আমাদের ঘর, জানলা, বারান্দা, খেলার মাঠ, পুকুর। কিন্তু তারও আছে সব রকমফের। বর্গক্ষেত্র, আয়তক্ষেত্র, সামান্তরিক বা রম্বস — চেহারা একই অথচ আলাদা জ্যামিতিক নাম শুধু নয় তাদের ধর্ম অর্থাৎ প্রপার্টিজ আলাদা আলাদা। আসলে এই অনুসন্ধানগুলোই গণিতের প্রকৃত বিস্ময়। অনেক সময়েই আমার মনে হয়েছে এই ভাবনাগুলো আসলে ভেবেছিলেন কারা? কীভাবে জানা গেল, চরিত্রের দিক দিয়ে বর্গক্ষেত্র হলে একরকম, রম্বস হলে আরেকরকম? কারা কোন বিন্দু থেকে শুরু করলেন এইসব সন্ধান, কেনই বা করলেন, তার পেছনে কি ছিল কোনও বৃহত্তর উদ্দেশ্য? গণিতের ক্লাসে যেমন জ্যামিতির সূত্র নিয়ে কোনো বাক্য উচ্চারণ করা হত না, তেমনই বলিহারি আমাদের পাঠ্যবইগুলো, সেখানে উপপাদ্য রচনার বাইরে কটা বাক্য লেখা হত জ্যামিতির ইতিহাস নিয়ে?



    অথচ এই যে জ্যামিতি, আসলে তো তার স্রষ্টা গ্রিসের গণিতবিদ ইউক্লিড, যে ভদ্রলোকটির মৃত্যুই হয়েছে খ্রিষ্টজন্মের তিনশো বছর আগে। আর তার উদ্ভাবিত জ্যামিতির সবটাই সমতলিক অর্থাৎ আমাদের জ্ঞানের মধ্যে যেসব দেখি সবই সমতল — তার আওতায় দাঁড়িয়েই জ্যামিতির হিসেব-নিকেশ। এর পরে তলের ধারণা নানাভাবে বদল হয়েছে আমরা জানি, কিন্তু আজও গোটা দুনিয়ায় স্থাপত্যের ক্ষেত্রে সমতলিক জ্যামিতির কদর ও প্রয়োগ সবথেকে বেশি। ইউক্লিড আসলে একজন যুগপুরুষ, আড়াই হাজার বছরে একজন ইউক্লিড জন্ম নেন কিন্তু ক্লাসের বর্গক্ষেত্রে বসে আমরা কতটুকুই বা জেনেছি তাঁকে? তাঁর তৈরি উপপাদ্য প্রমাণ করা মানেই কি জ্যামিতির রস ও রহস্য বুঝে যাওয়া?

    এরকমই একটা রসের ব্যাপার হল এই আকার আয়তনগুলির বাহুর সংখ্যা নিয়ে। যদি ত্রিভুজের তিনটে বাহু সমান হয় তাহলে তাকে বলা হবে সমবাহু ত্রিভুজ। যদি কোনও আয়তক্ষেত্রের সব কটি বাহু সমান হয় সেটি বর্গক্ষেত্র, এ পর্যন্ত বোঝা গেল। কিন্তু পাঁচ বা সাত বা নয় বাহুর কোনো জ্যামিতিক আকারে কি সব কটা বাহু সমান হতে পারে ? কার্যত হতে পারে না। এমন কোনো আকার স্কেল দিয়ে ধরে ধরে আঁকতে গেলে দুটো জিনিস ঘটে — সবগুলি বাহু সমান করতে গেলে আকারটি সম্পূর্ণ চেহারাই পায় না অথবা যদি আকারটি সম্পূর্ণ করতে হয় তাহলে কোনো না কোনো বাহু বাকিদের থেকে অসমান হয়ে যায়। কেন এমন হয়? এগুলো আমাদের কেউ শিখিয়ে দেননি। অনেক পরে হয়তো সিমেট্রি বা সমতার একটা আবছায়া ধারণা এসেছিল। কিন্তু কেন এমন সম্ভব নয়? এর মধ্যে কি একটা নিহিত রহস্যের হ্রদ আছে? আমি যা চাইছি, তা আমি কোনোদিনই করতে পারব না — কী যেন নিয়তির নিশিডাক ঢেকে আছে আমার সমূহ প্রয়াস আর শ্রম। ত্রিভুজ বা চতুর্ভুজ যাই হোক সে তো শুধু কয়েকটা সরলরেখার সমাহার — কিন্তু তারই মধ্যে তিন বা চার বা ছয়জনকে নিয়ে যেমন নিবিড় এক ঘর বাঁধা যায়, যেখানে সবাই সমান কিন্তু সংখ্যার হেরফেরে পাল্টে যায় এই বিন্যাস। চাই, কিন্তু পারি না — যতবার আলো জ্বালাতে যাই / নিভে যায় বারে বারে! মিস্টার ট্রাংগল, আপনি খুব ভাগ্যবান, আপনি আপনার আপনজনদের নিয়ে ষাট ডিগ্রি কোণে নিটোল এক সাম্যের বাসা গড়তে পারেন, সবাই পারে না! জ্যামিতির উঠোনে সাম্য-অসাম্যের খেলা পান্তো ভুতের জ্যান্তো ছানার মতোই আমাদের চোখে ঝাপসাই থেকে যায়।



    তবে জ্যামিতি নিয়ে কথা বলতে গেলে আপাতত যে বিস্ময় তা হল বৃত্ত। সেভেন এইটের জ্যামিতিতে বৃত্তের উপপাদ্য খুব সম্ভব ছিল না, কিন্তু ছিল তার সংজ্ঞা। একটি বিন্দু আরেকটা বিন্দুর সঙ্গে সমান দূরত্ব বজায় রেখে তার চারপাশে ঘুরে চলেছে, তার ফলশ্রুতি হল একটি বৃত্ত। ব্যাপারটা ভেবে ওঠা একটু শক্ত। কিন্তু সত্যি যে এটা ঘটে তা তো খুব সহজেই জানা যায়, আমরা যদি একটা দড়ির মাথায় একটা চকখড়ি বেঁধে সেই একটা নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে সেটা ঘুরিয়ে যাই — তাহলেই মাটি বা ব্ল্যাকবোর্ডের ওপর ফুটে ওঠে একটা বৃত্ত। কিন্তু মজা হল, বৃত্তের ওই যে পরিধিরেখা আসলে তা একেকটি ক্ষুদ্রতম সরলরেখার সমষ্টি। আজকের পরিভাষায় আমরা যাকে বলি জুম করা অর্থাৎ বড় করে কাছ থেকে দেখা, সেই পদ্ধতি প্রয়োগ করলে পরিধি আদৌ বক্ররেখা নয়।

    এখানে এসে মনে হয়, বৃত্তের এই ছলনাময় অবস্থানের সঙ্গে বোধহয় থেকে গেল দূর আর কাছের সেই চিরকালীন দ্বন্দ্বের আলোছায়া। যাকে দূর থেকে দেখে মনে হয় মোহময়ী, কী অপরূপ - আর কাছে গেলেই ভেঙে যায় সব ঘুমঘোর, তখন সবটাই বিবর্ণ, নিরুত্তাপ, লাবণ্যহীন। ওই দূরে দেখছি বরফঢাকা শৈলশিরা, তার শিখরে দিনের প্রথম আলো পা ফেলেছে নুপূরধ্বনি্র ছন্দে অথবা উঁচু পাহাড়ি পথ থেকে নীচে দেখা যাচ্ছে সবুজ উপত্যকার মাঝে এক চঞ্চল ঝর্ণার শিঞ্জন — অথচ কাছে গেলে সেই পাহাড়চূড়া আসলে ধূসর পাথর আর স্যাঁতসেঁতে বরফের বিছানায় যেন এক অসুস্থ বালক, চঞ্চল ঝর্ণা আর সবুজ পথের কাছে গেলেই যেন হারিয়ে গেল মোহময়ী যুবতীর সব চমক ! ‘শেষের কবিতা’ য় রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন দিঘির জল আর ঘড়ার জলের উপমা -- একরকম প্রেম শুধু দূর থেকে স্পর্শ করে থাকার আর অন্যটা ঘরে সাজিয়ে রাখা তোলা জল, সেই জলের ভিতর কোনো তরঙ্গের আভাস নেই। আমরা ছেলেবেলায় পড়েছি ‘ওষধি’ বৃক্ষের কথা — সে এমনই এক গাছ যে একবার ফল দিয়েই মারা যায়। একবার, মাত্র একবার, তাকে স্পর্শ করা যায়, পাওয়া যায় তার স্বাদু ফল। বৃত্তের দিকে তাকিয়ে এইসব নিকট আর দূরের বোধ যেন আরো ঘন হয়ে আসে আমাদের ভিতর। ‘এ পৃথিবী একবার পায় তাকে / পায়নাকো আর’ — বৃত্ত কি আসলে সেই জীবনসত্যের দিকেই আমাদের এগিয়ে দেয় তার অমোঘ আবর্তনে ?

    (ক্রমশ)
    পরবর্তী পর্ব ৩০ ডিসেম্বর
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ধারাবাহিক | ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩ | ৩৭৮ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    Fraud  Alert - ১ - দ
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • মোহাম্মদ কাজী মামুন | ১৭ ডিসেম্বর ২০২৩ ২৩:২৭527035
  • "যেন একটি ত্রিভুজের অনিবার্য নিয়তিই হল ওই একশো আশি ডিগ্রি কোণের মধ্যে আটকে থাকা, ইংরিজিতে যাকে বলে প্রি-ডেসটিনড (predestined)। কোনোভাবেই তাকে আর পাল্টে দেওয়ার সাধ্য নেই কারো। ব্যাপারটা কি অনেকটা মানবজীবনের মতোই নয় ?"
    চিন্তাকেও একশো আশি ডিগ্রি ঘুরিয়ে আনে এমন বিশ্লেষণ!
    "লাতিন আমেরিকার গ্যাব্রিয়েল গারসিয়া মারকোয়েজ তাকে ষাটের দশকে সাহিত্যে রূপ দিলেও আদপে গণিতের দুনিয়ায় এর জানলা খুলে দিয়েছেন স্বয়ং আইনস্টাইন তার সাধারণ আপেক্ষিকতার তত্ত্বে, সেটা ১৯১৫ সালের কথা।"
    অপেক্ষায় থাকবো আরো বিশদ বুঝতে পরের পর্বগুলির জন্য।
    "সবগুলি বাহু সমান করতে গেলে আকারটি সম্পূর্ণ চেহারাই পায় না অথবা যদি আকারটি সম্পূর্ণ করতে হয় তাহলে কোনো না কোনো বাহু বাকিদের থেকে অসমান হয়ে যায়। কেন এমন হয় ? "
    সৃষ্টিরহস্যের গন্ধ এসে লাগছে।
    এই লেখাটা আমায় ঘোরের মধ্যে রেখেছে। আমি জানি, সবগুলো পর্ব শেষ না হলে এই ঘোর থেকে বেরুনোর সুযোগ নেই।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভ্যাবাচ্যাকা না খেয়ে মতামত দিন