এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  ধারাবাহিক  ইতিহাস  খাই দাই ঘুরি ফিরি

  • বাংলার নবাবি কেল্লা ও কেল্লাবাসীর কিসসা - ১৩

    ফারুক আব্দুল্লাহ
    ধারাবাহিক | ইতিহাস | ০৯ জুন ২০২৩ | ১৬৪৫ বার পঠিত

  • আজ শোনাবো কেল্লার জ্বিনের কিসসা। কেল্লায় বসবাসকারী কিছু প্রবীণ মানুষদের কাছে শুনেছিলাম কেল্লা নিজামতের ভেতরে অসংখ্য জ্বিন বসবাস করে বহু যুগ ধরে। এক সময় নাকি সন্ধ্যার পর কেল্লার বাসিন্দারা সহজে কেউ বাড়ি থেকে বাইরে বেরোতেন না। আসলে তখন কেল্লার ভেতর জঙ্গল ছিল, পর্যটকদেরও তেমন আনাগোনা ছিল না, কেল্লায় আজকের মতো এত দোকানপাটও ছিল না, হাজারদুয়ারী তখনও সরকার অধিগ্রহণ করেনি। ঠিক সেই সময় জ্বিনের বহু ঘটনার কথা শোনা যেত কেল্লার মধ্যে। তবে আজকাল কেল্লায় যে জ্বিনের ঘটনা আর ঘটেনা তেমনটি কিন্তু নয়। এখনো সন্ধ্যা কিম্বা রাতের বেলায় কেল্লার ভেতরে অনেকেই নানান ভৌতিক ঘটনার সাক্ষী হন।

    প্রথমেই আসা যাক কেল্লার ভেতরের কিছু ভৌতিক ঘটনায়। আজ থেকে প্রায় ১৩-১৪ বছর আগে কেল্লার এক প্রবীণ ব্যক্তির কাছে শুনেছিলাম, রাতের বেলায় নাকি হাজারদুয়ারী জীবন্ত হয়ে ওঠে। সেখানে কে যেন ঘুঙুর পায়ে ঝুম ঝুম শব্দ করে হেঁটে বেড়ায়। আবার সেখানে থাকা তৈলচিত্রগুলিও নাকি জীবন্ত হয়ে ওঠে এবং তাঁরা চোখ মেলে তাকিয়ে থাকেন। রাতের বেলায় হাজারদুয়ারীর ভেতরে প্রায়ই ফিস ফিস করে কথা বলার আওয়াজ পাওয়া যায়, কিন্তু কোথা থেকে সেই ফিসফিস শব্দ আসে—তা বোঝা যায় না। শুধু ফিসফিস শব্দই নয়, অনেকে আবার হাসির শব্দও শুনতে পাওয়ারও দাবি করেন। অবস্থা এমনও হয়—মনে হয় যেন হাজারদুয়ারীতে দরবার বসেছে, চারিদিক গমগম করছে, অথচ দেখা যায় সবই ফাঁকা—কোথাও কারো দেখা মেলে না। ২০০৬ কিম্বা ২০০৭ সালে বাংলার এক প্রথম সারির দৈনিকে কেল্লার ভিতরে ঘটে চলা নানান ভৌতিক ঘটনার কথা প্রকাশিতও হয়েছিল।

    কেল্লার ভেতরে নিজামত ইমামবাড়াও বেশ ভৌতিক জায়গা। তবে শুধু রাতের বেলায় নয়, সেখানে ভরা দুপুরেও নানান ভৌতিক ঘটনা ঘটে। ইমামবাড়ার ভেতরে একটি ভৌতিক মসজিদ রয়েছে, যেখানে বছরে দুই একবার বিশেষ দিনগুলিতে নামাজ পড়া হয়, বাকি দিনগুলি তালাবন্দি পড়ে থাকে। একদিন নিজামত পরিবারেরই কোনো এক ব্যক্তি সেই মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে দেখেন—মসজিদে তিনি বাদে আর কেউই তখন আসেনি, মসজিদে প্রবেশের দরজা বাইরে থেকে তালা বন্ধ ছিল, অথচ সেই ব্যক্তি মসজিদের ভেতর থেকে এমন শব্দ শুনতে পাচ্ছিলেন যেন মসজিদের ভেতরে প্রচুর মানুষ নামাজ পড়ছে। পরে তিনি জানতে পেরেছিলেন—ইমামবাড়ার মসজিদে নাকি জ্বিনরাও নামাজ পড়েন। হতেই পারে সেদিন দুপুরে হয়তো জ্বিনরাই নামাজ পড়ছিল বন্ধ মসজিদের ভেতরে অদৃশ্য হয়ে।




    তবে শুধুমাত্র ইমামবাড়ার ভেতরের মসজিদেই নয়, শুনেছি ইমামবাড়ার দোতলার বড় বড় ঘর গুলিতেও নাকি জ্বিনরা বসবাস করে, অনেকেই তাঁদের দেখেছেন বলে দাবি করেন। তাই আজও একা কেউই ইমামবাড়ার এই সব ঘর গুলিতে থাকতে সাহস করে না। আমারও বহুবার ইমামবাড়ায় যাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে, ইমামবাড়ার প্রতিটি ঘর, এমনকি ছাদেও উঠেছি কিন্তু আমার জ্বিন দেখার সৌভাগ্য হয়নি। তবে ইমামবাড়ার ভেতরের বেশ কিছু জায়গায় অদ্ভুতভাবে গা ছমছম করে উঠেছে বহুবার।

    যাইহোক, ইমামবাড়ার মসজিদ ছাড়াও কেল্লার ভেতরের সফেদ মসজিদ ও জুরুদ মসজিদেও জ্বিন রয়েছে বলে অনেক কেল্লাবাসী বিশ্বাস করেন। হাজারদুয়ারীর পাশে হলুদ রঙের জুরুদ মসজিদে রাতে এক গার্ড থাকতেন। তিনি এক রাতে মসজিদের ভেতরে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই সময় কোনো এক অদৃশ্য শক্তি তাঁকে জোরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। তারপর থেকে সেই ব্যক্তি আর মসজিদে থাকতে পারেননি। সফেদ মসজিদেরও এমন একটি ঘটনা আছে—কোনো এক রাতে মসজিদে একটি ছোটো ও অদ্ভুত আকারের একটি মানুষকে নামাজ পড়তে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু তারপর তাকে আর কোথাও দেখা যায়নি। নিজামত পরিবারের মানুষদের কাছে শোনা যায় কেল্লার ভেতরের এই মসজিদগুলি খুব ভৌতিক। মসজিদে একা গেলে নাকি গা ভারি হয়ে যায়, অনুভব করা যায় মসজিদের ভিতরে বহু মানুষের কোলাহল—কিন্তু কাউকেই দেখা যায় না।

    কেল্লার আরও একটি ভৌতিক ঘটনার কথা বলি, এই ঘটনাটি আজ থেকে প্রায় ১৪-১৫ বছর আগে বাংলার এক প্রথম সারির দৈনিকে পড়েছিলাম, তারপর মুর্শিদাবাদ শহরের ভাগীরথীর পশ্চিমপারের কিছু প্রবীণ ব্যক্তিদের কাছে শুনেছি—এই ঘটনাটি নাকি অনেকে প্রত্যক্ষও করেছেন। এবার ঘটনাটি জেনে নেওয়া যাক।

    শুধুমাত্র ভাগীরথীর পশ্চিমপাড় থেকে প্রতি পূর্ণিমার রাতে হাজারদুয়ারী ও ইমামবাড়ার মাঝে অবস্থিত ফাঁকা মাঠে একজন ব্যক্তিকে দেখা যেত, যিনি সাদা রঙের রাজকীয় পোশাক পরে হাতে খোলা তলোয়ার নিয়ে একটি সাদা ঘোড়ার পিঠে চড়ে সমগ্র মাঠ পায়চারি করতেন। কিন্তু এই ঘটনার রহস্য আজও উদ্ধার হয়নি। যদিও ভৌতিক ঘটনার পেছনে কোনো রহস্য খুঁজতে যাওয়াটাও বোকামি।




    কেল্লার আরও একটি ভৌতিক ঘটনার কথা বলি—এই ঘটনাটি আজ থেকে প্রায় ৪৫ বছর আগের। নিজামত পরিবারের সদস্য এক ভদ্রলোক রাতের বেলায় হাজারদুয়ারীর কাছে ভাগীরথী নদীর পাশ দিয়ে যাওয়া রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখনও নদীর ধারে আজকের মত এই সব দোকানপাট গজিয়ে ওঠেনি। যাইহোক, নিজামত পরিবারের সেই ভদ্রলোকটি রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় হঠাৎ করেই খেয়াল করেন, যে, নদীর ধারে তাঁর খুব কাছাকাছি একজন সুন্দরী মহিলা সাদা শাড়ি ও গয়না পরে দাড়িয়ে আছে; ভদ্রলোক লক্ষ্য করেন সেই মহিলা তাঁকে ডাকছেন।

    ভদ্রলোক সেই সুন্দরী মহিলার রূপে মুগ্ধ হয়ে যেই তাঁর দিকে এগোতে যাবেন—ঠিক সেই সময় তাঁর নজর পড়ে মহিলার পায়ের দিকে এবং দেখেন মেয়েটির পা দুটো সম্পূর্ণ উল্টোদিকে ঘোরানো। এই অস্বাভাবিক দৃশ্য দেখে ভদ্রলোক ভীষণ ভয় পেয়ে যান এবং তৎক্ষণাৎ সেখান থেকে পালাতে গিয়ে দেখেন যে তাঁর পা যেন সেখানেই জমে গেছে। কিছুতেই তিনি নড়তে পারছেন না, এই ঘটনায় তিনি ভীষণ ভয় পেয়ে কোরআনের কিছু আয়াত পড়া শুরু করে দেন, কোরআন পাঠের আওয়াজ ফলে সেই মহিলার কানে পৌঁছাতেই সে হঠাৎ করেই প্রচণ্ড চিৎকার করতে শুরু করে, এই ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যে সেই ভদ্রলোকের অসাড় পা ঠিক হয়ে যায় এবং সে সেখানে থেকে দৌড়ে কোনও রকমে বাড়ি ফেরে। সেদিন সেই রাতে বাড়ি ফিরে ভদ্রলোক কিছু বলার মতো অবস্থায় ছিলেন না, তাঁর সমস্ত শরীর ঘামে ভিজে গিয়েছিল এবং সেই রাত থেকে পরবর্তী তিনদিন জ্বরে ভুগেছেন এবং জ্বর থেকে আরোগ্য লাভ করার পর তিনি সেদিন রাতের সমস্ত ঘটনা বাড়িতে জানিয়েছিলেন।

    নিজামত পরিবারের প্রবীণ সদস্য রেজা আলি মির্জা বা ছোটে নবাবও নাকি একবার এই সুন্দরী মহিলা ভূতের পাল্লায় পড়েছিলেন। কেল্লার ভেতরে ছোটে নবাবের বাড়ির একেবারে কাছে ভাগীরথী নদী। তখন ছোটে নবাবের বয়স অল্প। কোন এক রাতে তিনি হাজারদুয়ারীর পাশ দিয়ে দক্ষিণ দরজার কাছে তাঁর বাড়ি ফিরছিলেন মধ্য রাতে, তিনি কেল্লার চক ঘাটে এসে দেখেন ঘাটের রেলিং এর উপর সাদা পোশাক পরে এক অতীব সুন্দরী মহিলা খোলা চুলে বসে আছে, গায়ে গয়না ভর্তি ছোটে নবাব সাহেব মেয়েটিকে প্রথম দেখে ভেবেছিলেন মহিলাটি হয়তো নিজামত পরিবারেরই কোনো সদস্য, গরমের দিনে হয়তো হাওয়া খেতে বেরিয়েছে। সেই সময় কেল্লা এত জমজমাটও ছিল না, নদীর ধার বরাবর পুরো জঙ্গলে ঢাকা ছিল। ছোটে নবাব মহিলাটিকে চেনার জন্য যেই তাঁর দিকে তাকিয়েছেন, অমনি কোনো এক জাদুবলে তিনি সম্মোহিত হয়ে পড়েন এবং মহিলাটিকে অনুসরণ করতে শুরু করেন তাঁর রূপে মুগ্ধ হয়ে। এভাবেই চক ঘাট থেকে মোতিমহল ঘাটে এসে দেখেন সেই সুন্দরী মহিলা ঘাটের সিঁড়ি দিয়ে নিচে নদীতে নামতে শুরু করেন। তখন ছোট নবাব খেয়াল করেন সেই মহিলাটির পা দুটি পেছনের দিকে ঘোরানো, উর্দূ ভাষায় এমন জ্বিনদের বলে পিছেল প্যায়রী, কিন্তু নবাব সাহেব কে কোনো এক মন্ত্রবলে আচ্ছন্ন করে রেখেছেন সেই মেয়ে তিনিও ক্রমশ তাকে অনুসরণ করতে করতে নদীতে নেমে গিয়েছেন। কোমর পর্যন্ত জলে ডুবে গিয়ে হঠাৎ তাঁর হুস ফিরে আসলে তিনি তাঁকে নদীর ভেতরে পান এবং দ্রুত নদী থেকে বেরিয়ে আসেন, তখনও সেই সুন্দরী নদীতে ছিল,এবং ছোটে নবাব সাহেবের চোখের সামনেই সে নদীতে ডুব দিয়ে হারিয়ে যায়।

    সুন্দরী মহিলা ভূতের আক্রমণের শিকার শুধু পুরুষরাই হতেন না, মহিলারাও হয়েছেন। বছর কয়েক আগের এক সন্ধ্যা বেলায় একজন মহিলা কেল্লার ভেতর দিয়ে যাচ্ছিলেন, নদীর ধারে ওয়াসিফ মঞ্জিলের কাছাকাছি এসে তিনি দেখতে পান এক অপূর্ব সুন্দরী মহিলা তাঁকে দেখে হাসছেন এবং তাঁর পাশাপাশি হাঁটছেন। এর মধ্যে সেই মহিলা হঠাৎ করেই লক্ষ্য করেন তাঁর পাশাপাশি হাঁটতে থাকা সেই সুন্দরী মহিলার বদলে তাঁর সাথে হেঁটে চলেছে শুধুমাত্র লোমশ দুটি পা—যার ঊর্ধ্বাঙ্গ বলে কিছুই নেই। এই দৃশ্য দেখে সেই মহিলা ভীষণ ভয় পেয়ে যান এবং এক দৌড়ে কেল্লা ত্যাগ করে নিজেকে সুরক্ষিত করেন।




    নিজামত পরিবারের এক তরুণ সদস্য দানিশ মির্জা সাহেব আরও একটি অদ্ভুত ঘটনা শোনান, সেই ঘটনা অবশ্য কাকতালীয়ও হতে পারে। ঘটনাটি বছর পাঁচ ছয়েক আগের। এক স্থানীয় ব্যক্তি যিনি কেল্লার ভেতরে প্রতিদিন রাতের বেলায় বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতেন। একদিন রাতে আড্ডা দেয়ার মাঝে সেই ব্যক্তির ফোন এলে তিনি একটি সিগারেট ধরিয়ে কথা বলতে বলতে হাঁটতে থাকেন এবং এক সময় তিনি কেল্লার সরসরিয়া ঘাটের কাছে এসে পৌঁছালে হঠাৎ তাঁর নজর পড়ে নদীর পাড়ে, সেখানে তিনি দেখেন সাদা পোশাক পরে খোলা চুলে এক অল্পবয়সী মেয়ে বসে আছে, রাত তখন প্রায় সাড়ে নটা-দশটা হবে, নদীর পাড়ে এই দৃশ্য দেখে সেই ব্যক্তি বেশ ভয় পান এবং সেখান থেকে দ্রুত আড্ডায় ফিরে গিয়ে তাঁর বন্ধুদেরকে সেই রহস্যময়ী মেয়েটির কথা জানান, একথা শুনে সবাই মিলে সরসরিয়া ঘাটের কাছে গেলে সেখানে সেই মেয়টিকে আর দেখা যায় না। কিন্তু অদ্ভুতভাবে সেদিন রাতে বাড়ি ফিরে মাঝ রাতে নাকি সেই ব্যক্তির হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয়।

    ইমামবাড়াতে কর্মরত এক মহিলা কর্মচারীরও কেল্লার ভেতরে খুব বাজে অভিজ্ঞতা হয়েছিল। একদিন সন্ধ্যাবেলায় ইমামবাড়ায় তাঁর ডিউটি শেষে তিনি ফিরছিলেন। ওয়াসিফ মঞ্জিল প্রাসাদের কাছাকাছি এসে তিনি দেখেন—তাঁর সামনে বেশ কিছুটা দূরে একদল মহিলা হেঁটে যাচ্ছেন। সেই মহিলাদের দলে তিনি হুসনা নামে তাঁর বান্ধবীকে দেখতে পেয়ে তাঁর নাম ধরে ডাকেন, কিন্তু তাঁর সেই বান্ধবী যেন তাঁর ডাক শুনেও না শোনার ভান করে এগিয়ে যাচ্ছিল। এইভাবে আরও কিছুটা পথ চলে এক সময় হঠাৎ করেই সেই মহিলা দেখলেন তাঁর চোখের পলকে মহিলাদের সেই দলটি অদৃশ্য হয়ে গেল তাঁর সেই বান্ধবী সমেত। এই ঘটনা দেখে সেই মহিলাটি ভীষণ ভয় পেয়ে দৌড়ে গিয়ে প্রথমে সফেদ মসজিদের ঢুকে পড়েন এবং কিছুটা ধাতস্থ হয়ে তবেই বাড়ি ফেরেন।

    নবাব ফেরাদুনজার আমলে কেল্লার ভেতরে লোমশ পা-ওয়ালা দানবের একটি গল্প আমি নবাব আব্বাস আলি মির্জা সাহেবের কাছে শুনেছিলাম বছর পাঁচেক আগে। একবার নবাব ফেরাদুন জা কেল্লার ভেতরে কোনো এক মসজিদে এবাদত বন্দেগী করে অনেক রাতে প্রাসাদে ফিরছিলেন, এমন সময় প্রাসাদ চত্ত্বরে প্রবেশের প্রধান দরজার উপর থেকে দুটি বিরাট আকারের লোমশ পা ঝুলতে দেখতে পান, কিন্তু তার শরীর দেখা যাচ্ছিল না। নবাব সেই দানবকে দেখে ভয় পাননি, কিন্তু সেই দানব নবাবকে কিছুতেই সেই দরজা পার হতে দিচ্ছিল না, এমতাবস্থায় সাদা পোশাক পরিহিত দরবেশের মত দেখতে একজন ব্যক্তি সেখানে আসেন এবং সেই দানবকে তিনি ধমক দিয়ে বলেন, “তুই জানিস না ইনি কে? তুই কাকে ভয় দেখাচ্ছি? ভাগ এখন থেকে নাহলে মেরে তাড়াবো তোকে”। এ কথা শুনে দানবটি সেখান থেকে পালিয়ে যায়। নবাব তখন সেই সাদা পোশাকের ব্যক্তিটিকে ধন্যবাদ জানিয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “আপনি কোথায় থাকেন?” তখন সেই ব্যক্তি দক্ষিণ দরজার সামনে অবস্থিত একটি ইমামবাড়া দেখিয়ে জানান তিনি ওই ইমামবাড়ার কাছে থাকেন। মজার বিষয় হল, সেই ইমামবাড়ার সামনে একটি অজানা কবরও রয়েছে, নবাব আব্বাস আলি মির্জা সাহেব জানান, “হতেই পারে এই কবরটি সেই দরবেশেরই ছিল”। তবে নিজামত পরিবারের অনেকে কবরটিকে জ্বিনের কবরও বলে থাকেন, তবে কবরটি আসলে কার—সে সম্পর্কে করো কাছেই কোনো গ্রহণযোগ্য তথ্য পাওয়া যায় না।

    দরবেশের কথা প্রসঙ্গে দানিশ মির্জা সাহেবের মুখে শোনা আরও একটি ঘটনার কথা মনে পড়ে গেল, তিনি একবার জানিয়েছিলেন—তাঁর বাড়ি থেকে সফেদ মসজিদ খুব ভালোভাবে দেখা যায়, বছর সাত আটেক আগে এক রাতে হঠাৎ কালবৈশখীর ঝড় শুরু হয়, সেই সাথে চলতে থাকে মেঘের তীব্র তর্জন-গর্জন ও বিদ্যুতের খেলা। তিনি সেই বিদ্যুতের আলোয় সফেদ মসজিদের পাশে দেখতে পান সাদা পোশাক পরিহিত একজন বিশাল আকারের ব্যক্তিকে যার দুই হাত আকাশের দিকে তোলা ছিল, ঠিক যেমন মোনাজাত করার সময় থাকে। কিন্তু কয়েক সেকেন্ড পর আবার বিদ্যুৎ চমকালে তাঁকে আর দেখা যায়নি। হতেই পারে নবাব ফেরাদুনজা-কে সাহায্য করা সেই দরবেশকেই দানিশ সাহেব দেখেছিলেন মুহূর্তের জন্য।




    নিজামত পরিবারের কিছু প্রবীণ মানুষদের কাছে শুনেছি কেল্লার ভেতরে বিশেষ করে চক ঘাট থেকে দক্ষিণ দরওয়াজা পর্যন্ত রাস্তাটি খুব ভয়ানক। সন্ধ্যার পর থেকেই এক সময় এই রাস্তায় নানান ভৌতিক ঘটনা ঘটা শুরু হয়ে যেত এক সময়।

    আজ থেকে বেশ কয়েক বছর আগের ঘটনা, নিজামত পরিবারেরই এক তরুণ সদস্য ছিলেন, যার ভূতে তেমন ভয় ছিল না, গরমের দিনে তিনি মাঝেমধ্যেই রাতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নদীর ধারে এসে বসে থাকতেন। এমনকি খুব গরম অনুভূত হলে মাঝ রাতেই নদীতে স্নান করতে নেমে পড়তেন। এইরকমই এক ভীষণ গরমের রাতে তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে সফেদ মসজিদের সামনে একটি বড় গাছের কাছে এসে দাঁড়িয়েছিলেন, গাছের সামনেই রয়েছে আমীর মহলের ভগ্নাবশেষের পিছনের অংশ। সেখানে এসে তিনি হঠাৎ লক্ষ্য করেন—সেই ভগ্নাবশেষের উপর নববধূর মত লাল শাড়ি পরে এক মহিলা বসে তাঁর দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন, কিন্তু সেই ব্যক্তি এই দৃশ্য দেখেও তেমন গুরুত্ব না দিয়ে নদীতে স্নান করতে সরসরিয়া ঘাটে নামেন, ঘাটে নেমে তাঁর মনের ভেতরে কু ডেকে উঠে সেই মহিলার কথা ভেবে, তাই সেদিন স্নান না করে আবার সেই বটগাছতলায় যান, সেখানে গিয়ে দেখেন সেই মহিলাটি তখনও সেখানেই বসে আছে। সেই মহিলাটির দিকে চোখ পড়তেই দেখেন মহিলাটি হিংস্র চোখে তাঁর দিকেই তাকিয়ে রয়েছে, এই দৃশ্য দেখে তাঁর ভেতর কেঁপে ওঠে এবং তিনি দ্রুত বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হন।

    কেল্লার ভেতরের জ্বিনের গল্প বলে শেষ করা যাবে না। আরও একদিনের কথা কেল্লার সন্নিকটে বসবাসকারী এক ব্যক্তি রাতের বেলায় কেল্লার ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি হঠাৎ করেই উপলব্ধি করেন তাঁর পেছনে কেউ যেন তাঁকে অনুসরণ করছে। এভাবে কিছুটা যাওয়ার পর হাজারদুয়ারী ও ওয়াসিফ মঞ্জিল এর মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থিত পাহাড় বাগানের কাছে এসে সেই ব্যক্তি পেছনের দিকে তাকাতেই তিনি দেখতে পান প্রায় তিন তলার সমান উঁচু একটি ছায়া মানব তাঁর পেছন পেছন আসছেন। এই দৃশ্য দেখে সেই ব্যক্তি ভয়ে সেখান থেকে দৌড়ে পালান।

    আরও একটি জ্বিন কেল্লার ভেতরে আতঙ্ক তৈরি করেছিল। কেল্লা নিজামতের রৌনক আফজা দরওয়াজার কাছাকাছি এলাকায় নাকি একটি ‘খবিস জ্বিন’ থাকত। জনশ্রুতি রয়েছে এই খবিস জ্বিনের চেহরা অত্যন্ত ভয়ানক, এদের কানগুলি অনেক বড় বড়, মুখে নাকি ধারালো বড় দাঁত ও হাতে পায়ে নাকি বড় বড় নখ থাকে। এরা খুব নোংরা জ্বিন তাই এরা থাকেও নোংরা আবর্জনার মধ্যে। কথিত রয়েছে এক সময় কেল্লার ভেতরে বিশেষ করে রৌনক আফজা এলাকায় সন্ধ্যা হলেই মানুষরা এই খবিস জ্বিনের ভয়ে বাইরে বেরোতে চাইত না, কোনো মানুষ অজান্তে বাইরে বেরোলেই এই জ্বিনের শিকারে পরিণত হত। না প্রাণে মেরে ফেলত না, তবে ধারালো নখ দিয়ে সেই ব্যক্তির শরীরে আঘাত করে ক্ষতবিক্ষত করে ফেলত। কেল্লার রৌনক আফজা দরওয়াজা এলাকায় বসবাসকারী নিজামত পরিবারের এক সদস্য সেই খবিস জ্বিনকে দেখেছিলেন। তিনি জানান, গরমের সময় তিনি এক রাতে তাঁর বাড়ির সামনের ফাঁকা চত্বরে শুয়ে ছিলেন ফুরফুরে হাওয়াতে। হঠাৎ দেখেন ভয়ানক দেখতে এক জন্তু তাঁর বুকের উপর বসে তাঁর গলা চেপে ধরেছেন, সেই জন্তুটির চেহরা বিভৎস ও আকারে ছোটো, হাতে তার বড় বড় ধারালো নখ এবং সমগ্র শরীর লোমে ভর্তি। এই ভয়ানক জ্বিনের খপ্পর থেকে বাঁচতে সেই ব্যক্তি কোরআনের আয়াত পড়তে শুরু করলে জন্তু রূপি খবিস জ্বিনটি তাঁকে ছেড়ে দিয়ে জঙ্গলের দিকে কিছুটা গিয়ে অদৃশ্য হয়ে যায়।




    কেল্লার এই রৌনক আফজা একালায় একটি মাথাকাটা জ্বিনও থাকত বলে শোনা যায় নিজামত পরিবারের সদস্যদের কাছে। সেই মাথা কাটা জ্বিনটি ছিল অনেক লম্বা, তবে তাঁর মাথা ছিল না শুধু দেহটি ছিল। এই মাথা কাটা জ্বিনটি নাকি রাতের বেলায় আশেপাশের এলাকায় ঘুরে বেড়াত এবং তার হাত দুটি নাড়াতে থাকত, সেই হাতের নাগালে কাউকে পেয়ে গেলে তাঁর আর নিস্তার থাকত না। তবে অনেকে বলেন, যে যেহেতু এই জ্বিনের মাথা ছিল না তাই একে ফাঁকি দিয়ে পালানোও নাকি খুব সহজ ছিল। নিজামত পরিবারের অনেকে এই মাথা কাটা জ্বিনকে ‘গলাকাটা সৈয়দ’ বলেও ডাকেন।

    কেল্লার ভেতরে সফেদ মসজিদের জ্বিনের আরও একটি ঘটনা রয়েছে। ছোটে নবাব সাহেব অল্প বয়স থেকেই সফেদ মসজিদে নামাজ পড়তেন। অনেক সময় অবস্থা এমন হত যে নবাব সাহেবকে অনেক সময় সেখানে একাই নামাজ পড়তে হত। এমনই একদিন ফজরের নামাজের সময় ছোটে নবাব সাফেদ মসজিদে একা নামাজ পড়ছিলেন, নামাজ পড়তে পড়তে হঠাৎ তিনি খেয়াল করেন মসজিদে তিনি একা নন, তাঁর কিছুটা দূরে আরও একজন ব্যক্তি নামাজ পড়ছেন। ছোটে নবাবের বর্ণনা অনুযায়ী সেই ব্যক্তিটি দেখতে অত্যন্ত সুদর্শন। তিনি সাদা রঙের জোব্বা বা পা পর্যন্ত বড়ো পোশাক পরে ছিলেন এবং তাঁর মুখ সাদা দাড়িতে ভরা ছিল। ছোটে নবাব ভেবেছিলেন নামাজ পড়া শেষ হলেই তিনি এই অপরিচিত ব্যক্তিটির সাথে পরিচয় করবেন, হাত মেলাবেন কিন্তু ছোটে নবাবের নামাজ শেষ করা কিছুক্ষণ আগেই সেই ব্যক্তি মসজিদ থেকে বেরিয়ে যান, এই দৃশ্য দেখে ছোটো নবাবও দ্রুত নামাজ শেষ করে মসজিদের বাইরে বেরিয়ে চারিদিকে দেখেন কোথাও কেউ নেই, অথচ সফেদ মসজিদের সামনেটা বিরাট ফাঁকা মাঠ। এত অল্প সময়ের মধ্যে বেরিয়ে সেই ভদ্রলোক যেদিকেই যাক না কেন তাঁকে দেখা যাবেই, কিন্তু কোথাও তাঁর কোনো চিন্হ পাওয়া যায় না। তবে সাদা পোশাকের সেই সুন্দর মানুষটি কোথায় অদৃশ্য হয়ে গেলেন? তিনি কি আসলেই কোনো মানুষ ছিলেন নাকি জ্বিন? সেই রহস্যের আজও কোনো সমাধান হয়নি।




    কেল্লার জ্বিনদের নিয়ে ছোটে নবাব সাহেবের আরও বহু অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি জানান ছোটো বেলায় তাঁরা যখন বেগম মহলে থাকতেন তখন রাত্রি বেলায় মাঝে মধ্যেই বেগম মহলের ছাদের উপরে নানান আওয়াজ হত। মনে হত ছাদের উপর যেন অনেক মানুষ একসাথে দৌড়াচ্ছে। তিনি আরও জানান বেগম মহলে থাকার সময় প্রতি মাসের প্রথম শুক্রবার রাতে ছাদের উপরে ক্ষীর রান্না করে একটি বড় পাত্রে রেখে আসা হত জ্বিনদের জন্য, সকালে উঠে দেখা যেতো সেই পাত্রটি খালি হয়ে গেছে।

    ছোটে নবাব তাঁর ছোটো বেলার আরও একটি ভৌতিক ঘটনার কথা জানান, নবাব ওয়াসিফ আলি মির্জা তখন পাকাপাকি ভাবে কলকাতাতেই বসবাস করতেন এবং প্রতি মাসে অন্তত একবার হলেও মুর্শিদাবাদে আসতেন। ছোটে নবাব এক শীতের সন্ধ্যায় তাঁর নানা নবাব ওয়াসিফ আলি মির্জাকে ঘোড়ার গাড়ি থেকে নেমে ওয়াসিফ মঞ্জিলে প্রবেশ করতে দেখেন কিছুটা দূর থেকে। এই দৃশ্য দেখার বেশ কিছুক্ষণ পর বাড়ি ফিরে তাঁর নানা নবাব ওয়াসিফ আলি মির্জার খোঁজ করতেই তাঁর মা তাঁকে পরিষ্কার জানিয়ে দেন তাঁর নানা আজ নাকি মুর্শিদাবাদেই আসেননি সেদিন। এই ঘটনার তিনদিন পর নবাব ওয়াসিফ আলি মির্জা কলকাতা থেকে মুর্শিদাবাদে ফেরেন।

    দানিশ মির্জা সাহেব কেল্লার আরও একটি অদ্ভুত ঘটনা শুনিয়েছিলেন আমাকে, তিনি এই ঘটনাটি শুনেছিলেন তাঁর নানা-নানির কাছে। তিনি জানান যে তাঁর নানির বাড়িতে এক সময় মাঝেমধ্যেই বাড়ির রান্না করা খাবার হঠাৎ করেই হারিয়ে যেত। রান্না করে ঠিকমতো রাখলেও পরে খাওয়ার সময় দেখা যেত সেই হাঁড়ি ফাঁকা—তাতে কোনো খাবারই থাকত না,তবে হাঁড়ির হারিয়ে যাওয়া খাবারগুলি বাড়ি-সংলগ্ন জঙ্গলের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখা যেত। কিন্তু কে এই কাজ করত, আজও তা জানা যায়নি। তবে অনুমান করা হয় এই কাজটি খুব সম্ভবত জ্বিনেরা করত।




    কেল্লার ভেতরে জ্বিন সংক্রান্ত এমন অজস্র ঘটনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে, যা হয়তো এভাবে লিখে শেষ করা যাবে না, তবুও শেষে একটি ঘটনা না বললেই নয়, এটা বলেই শেষ করব কেল্লার ভেতরে জ্বিনের কিসসা। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসের কথা। আমরা বেশ কয়েকজন বন্ধু বান্ধবী মিলে আমীর মহল প্রাসাদ নিয়ে একটি তথ্যচিত্র করার কথা ভাবি এবং সেই মতোই আমরা প্রতিদিন বিকেল বেলায় কেল্লায় যেতাম দল বেঁধে। সেখানে গিয়ে আমীর মহলে বসেই নানান আলাপ আলোচনা চলত আমাদের, তারপর সন্ধ্যা বেলায় পাশের দোকানে চা খেয়ে আমরা বেরিয়ে পড়তাম বাড়ির পথে। প্রতিদিনের মতো সেদিনও সেই চায়ের দোকানে চা খাচ্ছিলাম, আমাদের সাথে বসে দুজন বৃদ্ধা ভদ্রমহিলাও চা খাচ্ছিলেন। দুজনের বয়সই প্রায় ৮০ উপরে হবে বলেই মনে হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে একজন জানিয়েছিলেন তাঁর নানি আমীর মহলের ঝি-এর কাজ করতেন এবং তিনি একবার আমীর মহলে থাকা এক বিড়াল জ্বিনের খপ্পরে পড়েছিলেন। আসলে সেই বিড়াল রূপি জ্বিনটি নবাবের জন্য রান্না করা খাবার নবাবকে পরিবেশন করার আগেই প্রতিদিন এসে খেয়ে যেত, কিন্তু দোষ হত নবাবের খাবার পরিবেশনের দায়িত্বে থাকা ভৃত্যদের। বেশ কিছুদিন এভাবে চলার পরে একদিন সেই বিড়ালটি ধরা পড়ে এবং নবাবের আদেশে শাস্তি হিসেবে সেই বিড়ালটিকে বস্তা বন্দি করে আমীর মহলের দোতলা থেকে ফেলে দেওয়া হয়। এই কাজটি করতে হয়েছিল এই ভদ্রমহিলার নানিকে। সেদিন রাতের বেলায় জ্বিন বিড়ালটি ভদ্রমহিলার নানির স্বপ্নে এসে তাঁকে হুমকি দিয়ে নাকি বলেছিল, “তুই আমাকে দোতলা থেকে ফেলে আঘাত করেছিস, আমি তোকে এখন মেরে ফেলবো।” বিড়াল জ্বিনটি আরও জানায়, যে সে নাকি দীর্ঘদিন থেকে এই আমীর মহলে বিড়াল রূপে থাকে। পরে সেই মহিলা স্বপ্নেই বিড়াল রূপি সেই জ্বিনের কাছে কাতর হয়ে জানান সে নিরুপায় হয়েই এই অন্যায় কাজ তাকে করতে হয়েছে নবাবের আদেশে, এতে তাঁর কোনো দোষ ছিল না, কারণ তিনি প্রাসাদের সামান্য একজন ভৃত্য, হুকুম তালিম করাই তাঁর কাজ। সব শুনে বিড়াল জ্বিনের রাগ কমে এবং জ্বিনটি তাঁকে ক্ষমা করে দেয়। আজও সেই আমীর মহল প্রাসাদ রয়েছে জরাজীর্ণ অবস্থায়, আমি সময় পেলে মাঝে মধ্যেই আমীর মহলে চলে যাই, এক অদ্ভূত ভালোলাগা কাজ করে সেখানে গেলে। তবে সেই বিড়াল জ্বিনের দেখা আমি এখনও পাইনি সেখানে, তিনি আজকাল আমীর মহলে থাকেন কিনা সেই খবরও অবশ্য আমার জানা নেই।




    কেল্লায় যে এত ভূতের বসবাস আমি নিজেও তা জানতাম না আগে, আমি তো সপ্তাহে অন্তত পক্ষে একদিন হলেও কেল্লায় যাই, কিন্তু কেল্লার ভেতরে জ্বিন দেখার সৌভাগ্য আমার এখনও হয়নি। একবার তো কেল্লার জঙ্গলে ঢাকা বেগম মহলে ভরা শীতের সময় প্রায় সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত ছিলাম, কিন্তু সেদিনও সেখানে কিছুই দেখতে পাইনি—তবে নিশ্চয় কোনো না কোনো দিন ঠিকই কেল্লার ভেতরে জ্বিনের দেখা পাবো—এই আশা রাখি।




    ছবি - লেখক



    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
  • ধারাবাহিক | ০৯ জুন ২০২৩ | ১৬৪৫ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • প্যালারাম | ০৯ জুন ২০২৩ ১৩:০৬520328
  • মন্তব্যের থেকে কৈফিয়ত দীর্ঘ হতে চলেছে।
    মানে, বুঝলাম যে এটা বেশ ভৌতিক ব্যাপার। ছবিগুলিও ভালো। অতীত + সেই সময়ের গল্প মিলে বেশ একটা খিচুড়িও হয়েছে। হয়তো ভূত-শিকারি/বিশ্বাসীদের এর ফলে উৎসাহিতও করা যাবে এইসব কেল্লার ব্যাপারে, কিন্তু ওই, একটা দায় থেকে যায় না - 
    এত কুসংস্কার-তন্ত্র-বশীকরণ-ওঝা-জ্যোতিষ-তাবিজ-কবচ আমাদের দেশে, যে বিজ্ঞানমনস্কতা ব্যাপারটা সেলোটেপের মতো গায়ে লেগে থেকে গেল, আর ভেতরে ঢুকল না। তাই যেখানেই ছাই পাই, উড়িয়ে দেখি।

    এবার আসল মন্তব্য - লেখক কি নিজে জ্বিনে বিশ্বাস করে এই লেখা লিখেছেন? তাহলে কী হয় জানেন, এটা ধারাবাহিক 'ইতিহাস' কম, ধারাবাহিক গল্প বেশি হয়। তাহলে অন্যান্য পর্বের বিশ্বাসযোগ্যতাও, একই কারণে কমে যায়। অর্থাৎ আর কিছুই না, একটা ডিসক্লেমার থাকলে ভালো হত মনে হয়।
  • ফারুক আব্দুল্লাহ | 103.175.63.163 | ০৯ জুন ২০২৩ ১৫:২৮520332
  • যেহেতু ধারাবাহিকটি নবাবী কেল্লা ও কেল্লাবাসিদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখা তাই এখানে কেল্লায় প্রচলিত নানান ভৌতিক ঘটনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ভূত বা জ্বিন সত্যিই  আছে কিনা, কিম্বা এসবে কেউ বিশ্বাস করেন কিনা তার চেয়েও আমার কাছে কেল্লায় প্রচলিত এই সব নানান ঘটনা গুলিতে তুলে ধরা বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়েছে।কেল্লা নিয়ে এটাই শেষ পর্ব এর পর থেকেই শুরু হবে কেল্লা বাসীর কিসসা।
  • Prativa Sarker | ১০ জুন ২০২৩ ১৫:০৫520355
  • ফিরোজ শা কোটলাতেই জ্বিনেরা অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে, একানে আর কী করে থাকবে।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আলোচনা করতে প্রতিক্রিয়া দিন