• হরিদাস পাল  বইপত্তর

  • পুস্তকালোচনা — গ্লানির্ভবতি ভারত — দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    AritraSudan Sengupta লেখকের গ্রাহক হোন
    বইপত্তর | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ৯৩৫ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • #পুস্তকালোচনা#গ্লানির্ভবতি_ভারত#দেবারতি_মুখোপাধ্যায়
    বই = গ্লানির্ভবতি ভারত
    লেখিকা = দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    প্রকাশক = দীপ প্রকাশন
    পৃষ্ঠা সংখ্যা = ৩২৬
    মুদ্রিত মূল্য = ২৯৫ টাকা (দ্বিতীয় প্রকাশ)
    ————————————————————————————————————
    সাম্প্রতিক কালের বেশ কিছু রহস্য এবং গোয়েন্দা কাহিনী পড়ে একটা ধারা লক্ষ্য করছি যেখানে মূল কাহিনীর সাথে (অর্থাৎ রহস্যের সাথে) যোগাযোগ না থাকলেও কোনও একটা বিষয় নিয়ে পাতার পর পাতা তথ্য দেওয়া হচ্ছে। এটা একদিকে কাহিনীর মেদ বৃদ্ধি করে কাহিনীর গতি হ্রাস করছে, অন্যদিকে পাঠকের মনকে রহস্য থেকে অন্য বিষয়ে নিয়ে গিয়ে রসভঙ্গ ঘটাচ্ছে। যার ফলে রহস্য বা গোয়েন্দা কাহিনী হিসেবে তার মান পড়ে তো যাচ্ছেই, তার সাথে সাথে Thriller কাহিনী যে টানটান গতি এবং পরপর ঘটনা ঘটার যে দাবী রাখে, সেটা মেটাতেও ব্যর্থ হচ্ছে। এছাড়া এত তথ্য দিতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই ভুল তথ্য পাঠকের কাছে যাচ্ছে অথবা Fiction লেখার তাগিদে লেখক নিজেই প্রমাণিত তথ্যের পরিবর্তন ঘটাচ্ছেন ("তিন বাহু দশ মুখ" বইটি দ্রষ্টব্য)।
    এই বিষয়ে চলুন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম বিখ্যাত গোয়েন্দা চরিত্র ফেলুদা তথা তার লেখক সত্যজিৎ রায়ের কাজ দেখে নিই। খেয়াল করলে দেখা যাবে যে, তার লেখার কাহিনীর প্রয়োজনে বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য এসেছে কিন্তু তা যথারীতি প্রয়োজন অনুযায়ী। তিনি চাইলেই "টিনটোরেটোর যিশু" গল্পে টিনটোরেটোর জীবনী তথা সেই সময়ের চিত্রশিল্প সম্পর্কে পাতার পর পাতা লিখতে পারতেন। আবার একই ভাবে "কৈলাশে কেলেঙ্কারি" কাহিনীতেও তিনি যক্ষী বা ইলোরা নিয়েও পাতার পর পাতা লিখে যেতে পারতেন, বিশেষ করে তার কাছে যেখানে সিধুজ্যাঠার মতো চরিত্রও হাতে ছিলো। কিন্তু সত্যজিৎ সেটা না করে কাহিনীর প্রয়োজনে যতটা বলা যায় ততটুকুই বলেছেন।
    আবার, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় রচিত কাকাবাবু অর্থাৎ রাজা রায়চৌধুরী কিন্তু প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে কাজ করেছেন। কাজেই তাকে নিয়ে লেখা কিছু প্রত্নতত্ত্ব-বিষয়ক রহস্য - রোমাঞ্চ কাহিনীতে গল্পের প্রয়োজনেই তথ্য দিতে হয়েছে; কারণ সন্তু বা অনেক চরিত্রই বোঝেনি যে কাশ্মীরের একটি বিশেষ জায়গাতেই কণিষ্কের মূর্তির মুন্ডু কেন খোঁজা হচ্ছে অথবা বিজয়নগরের বিখ্যাত বড় হিরে ঐ বিশেষ মন্দিরের মাধ্যমেই কেন পাওয়া যেতে পারে। তাই এক্ষেত্রে তথ্য বেশী দেওয়া হলেও তা গল্পের গতিকে ব্যাহত করে নি বরং গল্পের চরিত্র তথা পাঠকদের কৌতুহল মিটিয়ে রসোত্তীর্ণ হতে পেরেছে। এমনকি এক্ষেত্রেও কিন্তু গল্পের অনুপাতে তথ্য অনেক কম এসেছে।
    বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত দাদাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী তথ্য (এবং হয়ত সবচেয়ে সঠিক তথ্য) বোধহয় ঘনাদার গল্পে আমরা পেয়ে থাকি, কিন্তু সেখানেও কাহিনীর প্রয়োজনেই তথ্যগুলি দেওয়া হয়ে থাকে, যেগুলো না দিলে কাহিনীটিই দাঁড় করানো অসম্ভব হবে এবং ঐ তথ্যগুলি থাকার ফলে গল্পের চরিত্রগুলি তথা পাঠকেরা ঘনাদাকে সরাসরি গুলবাজ বা মিথ্যাবাদী বলে উড়িয়ে দিতে পারেন না, বরং তার প্রতি শ্রদ্ধার উদ্রেক হয়। আর এভাবেই ঘনাদার চরিত্রের মান প্রেমেন্দ্র মিত্র ক্রমশ বৃদ্ধি করেছেন।
    কিন্তু এতগুলো খ্যাতনামা উদাহরণ আমাদের চোখের সামনে থাকার পরেও দুঃখের বিষয় এই যে, সাম্প্রতিক কালে পড়া বেশ কয়েকটি রহস্য বা গোয়েন্দা কাহিনীর মতোই "গ্লানির্ভবতি ভারত" কাহিনীটিতেও এই অনর্থক একগাদা তথ্য দেওয়ার সমস্যা দেখতে পেলাম। কাহিনীতে জগন্নাথ তর্কপঞ্চাননের অতীত জীবন নিয়ে যতটা আলোচনা করা হয়েছে, মূল রহস্য তৈরীতে বা ভেদ করতে কিন্তু অত তথ্যের প্রয়োজন হয় নি। আবার যদি কেউ এটা দাবী করেন যে এই বইটি পড়লে জগন্নাথ তর্কপঞ্চাননের জীবনী পড়ার সমতুল্য হবেও, তাহলে সেটাও ধোপে টেকে না। বিশেষত লেখিকা নিজেই যেখানে কাহিনীর প্রয়োজনে কালাতিক্রমণ ঘটিয়েছেন বলে বইটিতেই স্বীকার করেছেন।
    সংক্ষিপ্ত কাহিনী (Spoiler Free) — "অঘোরে ঘুমিয়ে শিব" বইয়ের ঘটনার পরে রুদ্রাণী ব্যাঙ্কের চাকরী ছেড়ে পরীক্ষার মাধ্যমে ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিসে যোগ দেয় এবং অ্যাডিশনাল এস পি হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের শ্রীরামপুরে কাজ শুরু করে। এর কিছু পরে হুগলীর বিভিন্ন জায়গায় পর পর পাঁচটি খুন হয় যার যোগসূত্র হিসেবে প্রাথমিক ভাবে দেখা যায় যে মৃতেরা সবাই ব্যবসায়ী ছিলো। এই খুনগুলির তদন্তের জন্য রুদ্রাণীকে একটি দলের প্রধান হিসেবে নিয়োগ করে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপরে রুদ্রাণীর এই দায়িত্ব কেমন করে পালন করে এবং তাতে সে সফল হয় কি না, সেটা এই গল্পে বিবৃত।
    এই কাহিনীসংক্ষেপে প্রিয়ম, আমীশ সম্প্রদায় বা জগন্নাথ তর্কপঞ্চাননের উল্লেখ নেই, কারণ কাহিনীতে তাদের প্রভাব হয় সীমিত বা যোগাযোগের কারণ থাকার যুক্তিগুলি দুর্বল অথবা জোর করে আরোপিত (পরবর্তী অংশে কাহিনী নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার সময় এগুলো ব্যাখ্যা করা হবে)।
    ————————————————————————————————————
    আজ এই অবধিই। পরবর্তী অংশে কাহিনী নিয়ে বিশদে আলোচনা করা যাবে।
  • বিভাগ : বইপত্তর | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ৯৩৫ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন গ্রাহক পুনঃপ্রচার
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ২০:২২102838
  • ওই গ্রুপে যা বললাম সেটাই বলি।  অপ্রাসঙ্গিক তথ্য গাদাগুচ্ছের ঠুসে দেওয়া হয় বই মোটা করে দাম বাড়ানোর জন্য মূলতঃ 

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। মন শক্ত করে মতামত দিন