কিন্তু এতগুলো খ্যাতনামা উদাহরণ আমাদের চোখের সামনে থাকার পরেও দুঃখের বিষয় এই যে, সাম্প্রতিক কালে পড়া বেশ কয়েকটি রহস্য বা গোয়েন্দা কাহিনীর মতোই "গ্লানির্ভবতি ভারত" কাহিনীটিতেও এই অনর্থক একগাদা তথ্য দেওয়ার সমস্যা দেখতে পেলাম। কাহিনীতে জগন্নাথ তর্কপঞ্চাননের অতীত জীবন নিয়ে যতটা আলোচনা করা হয়েছে, মূল রহস্য তৈরীতে বা ভেদ করতে কিন্তু অত তথ্যের প্রয়োজন হয় নি। আবার যদি কেউ এটা দাবী করেন যে এই বইটি পড়লে জগন্নাথ তর্কপঞ্চাননের জীবনী পড়ার সমতুল্য হবেও, তাহলে সেটাও ধোপে টেকে না। বিশেষত লেখিকা নিজেই যেখানে কাহিনীর প্রয়োজনে কালাতিক্রমণ ঘটিয়েছেন বলে বইটিতেই স্বীকার করেছেন।
সংক্ষিপ্ত কাহিনী (Spoiler Free) — "অঘোরে ঘুমিয়ে শিব" বইয়ের ঘটনার পরে রুদ্রাণী ব্যাঙ্কের চাকরী ছেড়ে পরীক্ষার মাধ্যমে ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিসে যোগ দেয় এবং অ্যাডিশনাল এস পি হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের শ্রীরামপুরে কাজ শুরু করে। এর কিছু পরে হুগলীর বিভিন্ন জায়গায় পর পর পাঁচটি খুন হয় যার যোগসূত্র হিসেবে প্রাথমিক ভাবে দেখা যায় যে মৃতেরা সবাই ব্যবসায়ী ছিলো। এই খুনগুলির তদন্তের জন্য রুদ্রাণীকে একটি দলের প্রধান হিসেবে নিয়োগ করে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপরে রুদ্রাণীর এই দায়িত্ব কেমন করে পালন করে এবং তাতে সে সফল হয় কি না, সেটা এই গল্পে বিবৃত।
এই কাহিনীসংক্ষেপে প্রিয়ম, আমীশ সম্প্রদায় বা জগন্নাথ তর্কপঞ্চাননের উল্লেখ নেই, কারণ কাহিনীতে তাদের প্রভাব হয় সীমিত বা যোগাযোগের কারণ থাকার যুক্তিগুলি দুর্বল অথবা জোর করে আরোপিত (পরবর্তী অংশে কাহিনী নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার সময় এগুলো ব্যাখ্যা করা হবে)।
————————————————————————————————————
আজ এই অবধিই। পরবর্তী অংশে কাহিনী নিয়ে বিশদে আলোচনা করা যাবে।
  • বিভাগ : বইপত্তর | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ১৯৩৭ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


    গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
    মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


    পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। পড়তে পড়তে মতামত দিন