• বুলবুলভাজা  ইস্পেশাল  উৎসব  শরৎ ২০২০

  • অন্য রূপকথা

    রৌহিন ব্যানার্জি
    ইস্পেশাল | উৎসব | ০৫ নভেম্বর ২০২০ | ৬০৫ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • তিস্তা পেরোবার পর জ্যাকেটটা গায়ে চাপিয়ে নেয় সাকিনা। এদিকে ইতিমধ্যেই শীতের আমেজ। ট্রেনের দুপাশে কুয়াশা এখনো লেপ্টে আছে। একটু নীচে ৩১ নং জাতীয় সড়ক সাপের মত এঁকেবেঁকে এই লাইনের সাথে জড়াজড়ি করতে করতে চলেছে। সাপেরা এভাবেই সঙ্গম করে। এইসব অতি পরিচিত দৃশ্য গত তিরিশ বছর তার জীবনে ছিল না। তিরিশ বছর আগের এই দৃশ্যকে যেন গতজন্মের মনে হয় সাকিনার। ডুয়ার্স ছেড়েছিল ষোল বছর বয়সে, আর ফিরে আসা এই ছেচল্লিশের প্রৌঢ়ার। যদিও তাকে দেখলে কেউ প্রৌঢ়া বলবে না, এখনো পঁচিশ তিরিশ বলেই দিব্যি চালিয়ে দেওয়া যায়। কিন্তু তবুও চলে যাওয়া কিশোরী আর এই ফিরে আসা প্রৌঢ়া যে আলাদা মানুষ সে নিয়ে তার নিজেরও কোন সন্দেহ নেই। যতই চেনা হোক, এই জাতীয় সড়ক আর রেললাইন নামের সাপদুটোও সেই সাপ নয় যাদের সে দেখত। এরা নবীন, চকচকে সাপ। শরীরে দাগ তেমন নেই এখনো। পুরনো বলতে শুধু ওই চায়ের ডালগুলোই আছে বোধ হয়। চারশো বছর বাঁচে চা গাছ - তিরিশ বছর এদের কাছে পলক মাত্র।

    ডামডিম স্টেশনে যখন নামল সাকিনা ঘড়িতে তখন ন'টা বেজে পঁচিশ। প্রায় রাইট টাইম বলা যায়। স্টেশনে ঝকঝকে শরতের রোদ, ঠান্ডা ভাবটা আর নেই, কিন্তু গরমও নয়। সঙ্গে তার একটামাত্র পিঠব্যাগ, টুকটুক করে স্টেশন ছেড়ে বেরিয়ে আসে সে। কয়েকটা টোটো দাঁড়িয়ে আছে, লোক ডাকছে। রাণীচেরা যাবার একটা টোটো সহজেই পেয়ে গেল সে। ভুলে যাওয়া চেনা রাস্তা ধরে চা বাগানের ভুলে যাওয়া চেনা গন্ধ বেয়ে বেয়ে গড়গড়িয়ে চলতে থাকে গাড়ি। গ্লাসগোয় টোটো নেই। যদিও ইলেক্ট্রিক কার্টগুলোর সাথে এর বেশী ফারাকও নেই। মজা লাগছিল সাকিনার।

    রাণীচেরা বাগানের ভিতরে বিশেষ কোন পরিবর্তন চোখে পড়ে না সাকিনার। কুলি লাইন, বাঙালিপাড়া, খেলার মাঠ সবই একরকম আছে - যদিও মাঠটাকে একটু ছোট ছোট মনে হল সাকিনার। কিন্তু সেটা তার মনের ভুলও হতে পারে। ছোটবেলার বিরাট মাঠগুলোকে যত বড় হয় তত ছোট মনে হতে থাকে, সে জানে। মানুষ বয়স বাড়লে আকারে বাড়ে, আর মাঠের ক্ষেত্রে উল্টো। অবশ্য একটা বয়সের পরে মানুষকে আবার আকারে কমতেও দেখেছে সাকিনা।

    কুলিবস্তির ভিতরে ঢুকে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সাকিনা। একেবারেই পাল্টায়নি জায়গাটা। শুধু বাড়তি বলতে বোধ হয় কটা বিদ্যুতের খুঁটি - আর কিছু ঘরে টিভি চলছে। বেশ কয়েকজনের হাতে মোবাইল ফোনও দেখতে পেল সে। কিন্তু এই জায়গার মূলসুরটা সেই তিরিশ বছর আগের তারেই থমকে আছে - এটা বেশ বুঝতে পারে সে। এমনকি গলির মুখের মুদি দোকানটা পর্যন্ত - প্রায় একই রকম রয়ে গেছে। দোকানের কাছে গিয়ে একবার উঁকি মারে সাকিনা - ভিতরে নিয়ামত খালু বসে! এত বছর পরেও লোকটা একইভাবে দোকানদারি করে যাচ্ছে! চুলগুলো সব পাকা - কিন্তু আর বিরাট কোন ফারাক চোখে পড়ে না তার।

    সাকিনাকে দোকানের সামনে দেখে চোখ তুলে তাকায় নিয়ামত - "কী দিব?"

    "খালু, আমি সাকিনা। জব্বারের মাইয়া। মনে আছে আমারে?" যতটা সম্ভব নিজ ভাষায় বললেও সাকিনা বোঝে তার কথার টান আলাদা হয়ে গেছে। খানিকটা হয়তো মেকি শোনাচ্ছে। কিন্তু কিছু করার নেই - রপ্ত করতে একটু সময় লাগবেই। সে আর কথা না বাড়িয়ে একটু এগিয়ে দাঁড়ায়। তাকে খুঁটিয়ে দেখছে নিয়ামত।

    "সাকিনা? তিন নম্বর লাইন?"

    "হ্যাঁ গো। ঠিকই তো মনে আছে দেখি। আমি ভাবলাম ভুলছ গিয়া"

    এবারে নিয়ামতের চোখে আলো জ্বলে - "এতদিন পর! কই ছিলি এতদিন? তোর আম্মু তোর কাছে চলে গেছিল না?"

    "আম্মুর এন্তেকাল হইছে পাঁচ বছর হইল" সাকিনা হাসে, "আমি ইংল্যান্ডে ছিলাম। গ্লাসগো বলে একটা জায়গায়"

    "ইংল্যান্ড?! আরে বাপ রে - সে তো জব্বর জায়গা! তর আম্মু সেখানেই ছিল?"

    "হুম। জারিনা বিবি ইংল্যান্ডের মাটিতেই গোর পাইছে। তোমাগো খবর কও"

    "আমরের আর খবর। আছি একই রকম" এবারে ভিতর দিকে হাঁক পাড়ে নিয়ামত - "ও জলিলের আম্মা - কে আইছে দেইখা যাও আইসে"

    "কে আবার আইল? আসতাছি" হানিফা বিবির গলা পায় সাকিনা। পাশে নিজের পিঠব্যাগটা নামিয়ে টুলের ওপরে বসে সে। হানিফা ভিতর থেকে বেরিয়ে তাকে দেখে আবার নিয়ামতের দিকে তাকিয়েও আবার চোখ ঘুরিয়ে ভাল করে দেখে তাকে। একটু এগিয়ে আসে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তার চোখে আলো জ্বলতে দেখে সাকিনা "সাকিনা!! এদ্দিন পর!" হানিফা এরকম দেখেই তাকে চিনতে পারবে এটা সাকিনা আশা করেনি। সে বেশ অবাক হয়, "তুমি আমারে চিনতে পারলা খালা?"

    "ধুরো মাইয়া" হানিফা হাসে, "তর মায়ের থেকে আমি তোরে বেশী কোলে তুলছি, আমি চিনব না তোরে? তোর চোখের পাশের ওই জড়ুল দেইখেই তো যে কেউ চিনব"

    নিজের চোখের পাশে হাত দেয় সাকিনা, এটার কথা মনেও ছিল না তার। চশমা নেবার পরে এই ছোট্ট জড়ুলটা চট করে কারো চোখেও পড়ে না, আর পড়লেও কারো শারিরীক বৈশিষ্ট্য নিয়ে মন্তব্য করা ইংরেজ এটিকেটের মধ্যে পড়ে না, আর গ্লাসগোয় তার কোন ভারতীয় বন্ধু নেই। কিন্তু হানিফা বিবির চোখ এড়ানো এত সহজ নয়, সে ভুলে গেছিল। সত্যিই, সে তার মায়ের থেকে হানিফার কাছেই বেশী থাকত, সেটাও তার মনে পড়ে গেল। হানিফার বড় ছেলে জলিল তার চেয়ে দু বছরের ছোট, তাকে প্রচুর শাসনে রাখত সাকিনা।

    জারিনা আর হানিফা, জব্বার আর নিয়ামতের বিবি, ছিল এই কুলিবস্তির দুই উজ্জ্বল স্ফুলিঙ্গ। দুজনেই কুমলাই বাগানের মেয়ে, বাল্যসখী। জব্বার যখন জারিনাকে শাদী করতে গেছিল, নিয়ামৎ ছিল বরযাত্রীদের পান্ডা। আর কন্যাপক্ষের পান্ডা যথারীতি হানিফা। তাকে দেখেই পছন্দ করে ফেলেছিল নিয়ামত। এক বছর পরে দুই বাল্যসখী আবার একই পাড়ার হল।

    দুই সখীই মাধ্যমিক পাশ, সেই সময়ের তুলনায় ব্যতিক্রমী ব্যপার। তাদের বরেরা এইট পাশ করে আর ইশকুলের ধার মাড়ায়নি। জারিনা আর হানিফা অচিরেই এই কুলিবস্তির মহিলামহলের নেত্রী হয়ে উঠল। দুজনেই ভাল গান গায় - প্রকাশ্যে গান বাজনা যে ইসলামে হারাম এসব কথা বলার মত কোন সুন্নি মৌলবী সেই কুলি লাইনে ভাগ্যিস ছিল না। জারিনা হানিফা সকলের বিপদে আপদে ঝাঁপিয়ে পড়ে, মেয়েদের ইশকুলে পাঠাতে উৎসাহ দেয়, চিঠি লেখা থেকে হিসাব করা সবেতে তারাই ভরসা। ক্রমে শুধু মেয়েরা নয়, পুরুষেরাও তাদের গ্রামের নেত্রী বলেই মেনে নিল।

    জারিনার প্রভাবেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়া জব্বারের। ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন সূত্রে এই বাগান, সেই বাগান। ডুয়ার্সের চা শিল্প তখনো ধুঁকতে শুরু করেনি ঠিকই, কিন্তু লক্ষণগুলো ক্রমেই ফুটে উঠছে। সেইরকমই এক মীটিং এর জন্য জব্বার গেল কুমলাই বাগান - তার শ্বশুরবাড়ির এলাকা। রাতে সেখানেই থেকে যাবার কথা। কিন্তু সে বাড়ি আর যাওয়া হয়নি জব্বারের। মিছিল হচ্ছিল। গুলি চালাল পুলিশ। তিনজন শহিদ হল, তাদের একজন জব্বার হোসেন। তার পরের দিন জারিনাকে তুলে নিয়ে গেল পুলিশ। নিয়ামত দোকানে ছিল, আছাড়ি পিছাড়ি করা হানিফাকে ভিতরের ঘরে শিকল দিয়ে আটকে রেখে।

    তিনদিন পরে প্রমাণের অভাবে ছাড়া পেয়ে ঘরে ফেরে জারিনা। এই তিনদিনে তার ওপর দিয়ে কী কী ঝড় গেছে তা তার চেহারা দেখে আন্দাজ করা গেলেও আসল সত্যিটা হানিফা ছাড়া কেউ জানে না। সাকিনাও না। সাকিনা শুধু জানল, এই রাণীচেরায় তাদের আর থাকা চলবে না। এক মাস পর সে আর তার মা, জারিনা চলে যায় শিলিগুড়ি, ফুলেশ্বরী বাজারের কাছে জারিনার এক ফুফাতো বোনের বাড়ি। তারপর সেখান থেকে কলকাতা, একটা ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের সেলস গার্লের চাকরি পায় জারিনা। সাকিনা আবার ভর্তী হল নবম শ্রেণীতে।

    "ঘরে চল, এইখানেই দাঁড়ায়ে থাকবি নাকি ছেমড়ি?" হানিফার ডাকে হুঁশ ফেরে সাকিনার। ব্যাগটা তুলে হানিফার পিছন পিছন ভিতরে ঢোকে সে। ঘরের ভিতরটা কিছুটা বদলেছে বটে। উঠোনের ওপারে আগে কাঁটাগাছের বেড়া ছিল, মাঝে মাঝে ফাঁকা। ওখানটায় একটা ঘর উঠেছে। পাকঘরটা ছিল ডান দিকে, বাম দিকে খালপাড়ে খাটা পায়খানা। এখন ওখানে পাকা পায়খানা হয়েছে, রাস্তাটায় একটু সিমেন্ট দেওয়া। রান্না হচ্ছে এদিকের বারান্দার এক কোনে, সেখানে দুটি বউ কাজ করছে। সম্ভবতঃ জলিল আর খলিলের বিবি ওরা। ওদের আসতে দেখে একটু অবাক হয় দুজনেই। তাদের কাছে ডাকে হানিফা, "এই দেখ ছেমড়িরা, আমার একখান মাইয়া আছে কইছিলাম না? এই হইল সাকিনা বানু - আমার সই জারিনার মাইয়া। কিন্তু আসলে আমারই। ছালাম কর"

    দুজনেই ব্যস্ত হয়ে উঠলে সাকিনাই তড়িঘড়ি আটকায় তাদের "আরে খালার কথা বাদ্দাও - নিজেদের মধ্যে আবার ছালাম টালাম কি? নাম কী তোমাদের, সেইটা কও"

    "আমি ফরিদা" অপেক্ষাকৃত কালো মেয়েটি হেসে ফেলে বলে, "আর এই হল ফরজানা" জা এর গাল টিপে দেয় ফরিদা, "আমাগো খলিল মিঞাঁর পেয়ারী সোন্দরী" বলতে বলতে হেসে গড়িয়ে পড়ে ফরিদা। ফরিদার বুদ্ধিমত্তায় চমৎকৃত হয় সাকিনা। কেমন এক কথায় বুঝিয়ে দিল সে জলিলের বিবি - একবারও তার নাম না করেই। মেয়েটা কালো, কিন্তু চোখেমুখে তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তার ঝিলিক দেখে সাকিনা। মনে মনে হাসে সে - হানিফা বিবি তার মত করে বিপ্লব চালিয়ে যাচ্ছে, বোঝাই যায়।

    ~~~~


    দুপুরে খাওয়াটা একটু বেশীই হয়ে গেল আজ। হাল্কা লাঞ্চ খেয়ে অভ্যেস সাকিনার, কিন্তু সেটা এখানে খাটবে না সেটা ও জানত। ফরজানার হাতের শুঁটকি মাছ নাকি এ পাড়ায় বিখ্যাত। সাকিনা বহুদিন শুঁটকি খায়নি, তার গন্ধ না লাগলেও প্রচণ্ড ঝাল লাগছিল, ঘাম ঝরছিল। আরো নানান পদ ছিল - অল্প অল্প করে খেয়েও একগাদা খাওয়া হয়ে গেল। তারপর একটা ঘুম দিল সে, ফরিদার ঘরে, ওদের সাথে গপ্প করতে করতে। ঘুম ভাঙতে দেখে বিকেল প্রায় শেষ। এখন এদিকে পাঁচটাতেই অন্ধকার হয়ে যায়, আর বড়জোর আধঘন্টা আলো পাবে সে। তড়িঘড়ি মুখেচোখে জল দিয়ে বাইরে বেরোয় সাকিনা।

    "বাইরে যাবা?" ফরিদা শুধায়

    "হুম একটু ইশকুলের দিকে যাব" সাকিনা বলে।

    "তোমার প্যান্টখান গলায়ে নাও - এই হাফপ্যান্ট পইরা গেলে কাজের থিকে বাধাই বেশী হইব" আবার হাসে ফরিদা

    "ঠিক কইছ" লজ্জা পায় সাকিনা - স্থান কাল পাত্র ভুলে গেলে কোন কাজ হয় না, এটা সে নিজেই মানে, অথচ এখন নিজেই তার উল্টোটা করছিল। কিন্তু ফরিদা যে তার কথার সুরে আর শরিরী ভাষাতেই বুঝে গেল সে কোনো কাজেই যাচ্ছে, সেটা বুঝে আরো একবার চমৎকৃত হয় সে। এই মেয়েটা বেশ অন্যরকম, বেশ বুঝতে পারছে সাকিনা। সে আর কথা না বাড়িয়ে চটপট একটা জিনস পরে নেয়, কুর্তি পরে ওপরে। তারপর চুলটা ঠিক করতে করতে কী মনে হতে বলে, "যাবি আমার লগে, ফরিদা?"

    "চলো, ঘুইরা আসি। ও সোনু, তুই চুলাটা ধরায়ে রাখিস" ফরিদা এক কথায় রাজি হয়ে যায়। তৈরী হতে বেশী সময় নেয় না সে - পরণের শাড়িটাই একটু ঠিকঠাক করে নেয়, দুই হাতে খোপা বাঁধে, "চলো, অফিস বন্ধ হইয়া যাইব গিয়া"

    এই ইশকুলে ছোটবেলায় সেও পড়েছে - ফাইভ থেকে অবশ্য ওদলাবাড়ি যেতে হত। সে সময়কার টিচারদের কেউই এখন আর নেই - স্কুলবাড়িটাও তার স্মৃতির সঙ্গে ঠিকমত মেলে না যেন। এখন স্কুল বন্ধ, খালি অফিসে হেডমিস্ট্রেস আছেন। উনি বিকালের দিকেই থাকেন, খবর নিয়েই এসেছে সাকিনা। ফরিদার পিছন পিছন এসে হেডমিস্ট্রেসের ঘরের দরজায় দাঁড়ায় সে। ফরিদাই আওয়াজ দেয়, "আসব, দিদিমনি?"

    চোখ তুলে তাকান ভদ্রমহিলা - সামান্য পাকা চুল, চাপা নাক, চোখের কোনে দাগ - তবুও একটু নজর করে দেখেই আর কোন সন্দেহ থাকে না সাকিনার - "জয়া?" চমকিত হেডমিস্ট্রেস ভাল করে দেখেন এবার সাকিনাকে - "আপনি--"

    "আমি সাকিনা রে - সাকিনা খাতুন। কুলি বস্তি। মনে পড়ে?"

    এবারে স্মৃতির ধুলো ঝেড়ে তাকে চিনতে পারে জয়া - এবং একটু অস্বস্তিই বোধ করে সে - "ওহহ সাকিনা। আসুন - ইয়ে, মানে আয়, বোস। কী ব্যপারে?"

    "তোকেই কি ফোন করেছিলাম আমি, আমাদের একটা প্রোজেক্টের ব্যপারে?"

    "ও, ওই স্বনির্ভর সংস্থা? আচ্ছা ওটা নিয়ে এখনো স্কুল কমিটির সঙ্গে কথা হয়নি। এখন তো স্কুল বন্ধ - কমিটির মীটিং ডাকাটাই সমস্যা। আপনাদের - ইয়ে, তোদের প্রোজেক্টটা কিসের যেন?"

    "ফিমেল হাইজিন। স্যানিটারি ন্যাপকিনের প্রয়োজনীয়তা বোঝানো, হ্যান্ডমেড ন্যাপকিন বানানো এবং মেইনটেন্যান্সের জন্য ট্রেনিং, বাসন মাজার বা কাপড় কাচার হ্যান্ড গ্লাভস, রান্নাঘরের বিভিন্ন জিনিষপত্তর মেয়েরা নিজেরাই বানাবে, সেসব ট্রেনিং দেওয়া হবে। এই প্রোজেক্টে ইন ফ্যাক্ট তোদের কর্মশিক্ষা টিচারকেও রাখতে চাই যাতে ভবিষ্যতেও তিনি ছাত্রীদের ট্রেন করতে পারেন"

    "হুম" ডেস্কের পেপারওয়েটটা ঘোরাতে থাকে জয়া, "এসব এখানে কতটা ফলপ্রসূ হবে? এদিকের লোকের এসব সচেতনতা একেবারেই নেই তো"

    "হাতে কলমে কাজ করলে সচেতনতা বাড়তে বাধ্য" সামান্য ঝুঁকে পড়ে সাকিনা, "তাছাড়া এদিকের লোকের সচেতনতা কম এটা একটা প্রচার মাত্র। আমার অন্তত তেমন কিছু চোখে পড়েনি"

    "কবে এলেন - এলি, তুই?" জয়া জানতে চায়

    "আজ সকালে। ওদের বাড়িতেই উঠেছি" ফরিদাকে দেখায় সাকিনা। জয়া সম্ভবতঃ চিনে উঠতে পারে না, "ও আচ্ছা আচ্ছা" ফরিদার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসে সে। তারপর সাকিনার দিকে ঘুরে তাকায় সে, "তা এই একবেলাতে কী এমন দেখে ফেললেন যে এখানকার মানুষের 'সচেতনতা' নিয়ে এত বড় সার্টিফিকেট দিয়ে ফেললেন? আমি কুড়ি বছর এই ইশকুলে পড়াচ্ছি, শেষ পাঁচ বছর হেডমিস্ট্রেস হিসাবে, আমার তো কখনো মনে হয়নি এরা হাইজিন বিষয়ে খুব সচেতন বলে" এবারে আর 'আপনি' টা শুধরে তুমি করার চেষ্টা করে না জয়া, সাকিনা লক্ষ্য করে মৃদু হাসে মনে মনে।

    "আমি গত বারো বছরে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে এই মিশনের কাজে ঘুরেছি। এদের চেয়ে কম সচেতন মানুষজনও দেখেছি এবং সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই বলতে পারি, সাধারণ মানুষ পৃথিবীর কোথাওই আমাদের সংজ্ঞানুযায়ী 'যথেষ্ট সচেতন' নন, আবার এও ঠিক যে মানুষের স্বাভাবিক প্রজ্ঞা বলে একটা ব্যপার থাকে, যেটা আমরা তথাকথিত 'শিক্ষিতেরা' অবজ্ঞা করে থাকি আমাদের অহঙ্কারে। সেই হিসাবে এরা কিছু বাড়তি পিছিয়ে পড়া বলে আমার মনে হয়নি" এবারে সাকিনা সম্বোধন এড়িয়ে যায়। সে বরং মনে মনে ভাবতে থাকে সেও তুইতোকারি ছেড়ে আপনিতেই ফিরে যাবে কি না।

    জয়া আর বেশী কথা বাড়ায় না। সে বলে, "ঠিক আছে - আমি দেখছি। আগামী শনিবার হয়তো স্কুল কমিটির মীটিং হবে, সেদিন আমি প্রস্তাবটা তুলব। তারপর দেখা যাক" বস্তুত সেও সম্বোধন এড়িয়ে গেল বলেই মনে হয় সাকিনার। জয়ার শরিরী ভাষায় স্পষ্ট যে মীটিং শেষ। আর বেশী কথা না বাড়িয়ে চেয়ার ঠেলে উঠে পড়ে সাকিনা "ধন্যবাদ। কী হল জানার জন্য অপেক্ষা করব। এখন চলি"

    বাইরে বেরিয়ে দেখে সন্ধ্যা নেমে গেছে ইতিমধ্যেই। একটা বুনো গন্ধ আসছে বাগানের দিক থেকে। চুপচাপ হাঁটছিল সাকিনা, হুঁশ ফেরে ফরিদার কথায়, "ওরা কিছুই করবে না আপা, কইয়া দিলাম"। সাকিনা তাকায় ওর দিকে। বুদ্ধিমতি মেয়ে, ও ঠিকই বুঝেছে। সাকিনাও বুঝতে পেরেছে জয়া আদৌ কমিটিতে কথাটা তুলবেই না, অথবা তুললেও তেমন গুরুত্ব দেবে না। কিন্তু সে এত সহজে হাল ছেড়ে দেবে বলে তো এতদূর ছুটে আসেনি। চিবুক শক্ত করে সে, " স্কুল কমিটিতে আর কারা আছে জানা গেলে তাদের সাথে একটু কথা বলতাম। কেউ না কেউ নিশ্চই বুঝবে" -

    "কেউ না, বাজি ফেলো" তার কথা শেষ না হতেই বলে ওঠে ফরিদা, "এতে তাদের কী স্বার্থ? কেন তারা করব এইসব কও?"

    "এটা তো একটা বিরাট অ্যাক্টিভিটি। এর সঙ্গে যুক্ত হলে তো স্কুলের সুনাম বাড়বে। তাছাড়া এখানকার মেয়েরাও কিছু কাজ পাবে। বাগান তো এখন প্রায় বন্ধই, আদ্ধেক কামিনের কাজ নাই"

    "আপা মনে কিছু নিও না," মৃদু হাসে ফরিদা, "তুমি এত দেশ ঘুরছ, মানুষ চিনছ, কিন্তু এই ভদ্দরলোকেদের এখনো চিনলা না? স্কুলের সুনামে এদের কিছুই যায় আসে না। এরা ছকে চলে আপা। স্কুলে পড়াশুনা হইব, দুই একজন ছাত্রছাত্রী ভাল রেজাল্ট করব, তাগো নিয়া টিচাররা পরে বিশ তিরিশ বছর সোনামনা করব, বাস। কাহিনী শ্যাষ। এর বাইরে অন্য কাজ করলে অগো রুটিন ঘাইটা যাইব গা"

    "কিন্তু সবাই কি সেরকম?" সাকিনা খানিকটা অসহায়ভাবেই বলে ওঠে।

    "সবাই তেমনই কিনা কইতে পারিনা আপা" ফরিদা এবারে আর হাসে না, "কিন্তু তেমন কেউ থাকলে এই ইশকুল কি এতগুলা বছরে এট্টুও বদলাইত না? আমি সাইলিহাটের মাইয়া, কিন্তু এইটা আমারও ইশকুল ছিল, আজও তো কোন বদল দেখিনা"

    "এই ইশকুলে পইড়াও এত বুদ্ধি কেমনে পাইলি ক দেখি ছেমড়ি?" ফরিদার বেণীতে একটা টোকা দেয় সাকিনা।

    "তুমিও তো এই ইশকুলেরই আপা - তুমি তো আরও তিন কাঠি উপরে যাও আমার। তুমি হইতে পারলে আমিই বা হই না ক্যান, কও?"

    এবারে হেসে উঠে ফরিদাকে জড়িয়ে ধরে সাকিনা, "তুই একটা দারুণ মাইয়া। জলিল বেটা সত্যি ভাগ্যবান"

    "একটা কথা কই আপা" হঠাৎ একটু গম্ভীর শোনায় ফরিদার গলা, "তুমি কী কাজে আইস আজ শুনলাম। আমি তোমায় কইয়া দিতাসি এই ভদ্রলোকেরা তোমারে এইসব করতে দিব তো না ই, উল্টায়ে বাধা দিব। কিন্তু তোমার মনখারাপের দরকার নাই। তোমার কাজ কী করে হইব আমি জানি"

    "কী করে?" ফরিদার আত্মবিশ্বাস দেখে নিজেও পুরোপুরি হতাশ হতে পারে না সাকিনা। এই সফরে আর কিছু পাক না পাক, এই ফরিদা মেয়েটার সাথে আলাপই তার পরম পাওয়া হয়ে থাকবে।

    "আম্মিজান। আম্মুর কাছে উপায় পাবা। আসো" - সাকিনাকে নিয়ে উঠোনের দরজা দিয়ে ঢুকে পড়ে ফরিদা।

    ~~~~


    "এরা কিছু করবে না, ঠিক কইছে ফরিদা," হানিফা বিবি হালকা সুরে বলে, "কিন্তু তুই তো আমাগো মাইয়া, আমাগো জন্য কাজ করতে আইসা ওই ভদ্দরলোকেদের দোর ধরিস ক্যান? আমরা কি কেউ না?"

    "না গো খালা, সেইডা কথা না" সাফাই দেয় সাকিনা, "আসলে আমি তো ভেবেছিলাম স্কুলেই" --+

    "স্কুলে খালি লেখাপড়া হয়। এমন লেখাপড়া যেগুলা আমাগো ছেলেপিলে ভাল পারে না, ওদের বাচ্চাগুলাই ফাস্ট সেকেন্ড হয়, আমরারগুলা ফেইল মারে। আমরা যা পারি তা অগো স্কুলে শেখানোর ব্যবস্থা নাই" হানিফা বিবি যে এই কুলি লাইনের একজন হোমরা চোমরা নেতা, সে কথা ভুলেই গেছিল সাকিনা, "তর এই প্রোজেক্ট আমাগো মাইয়াদের জন্য। আমরা এইটা হওয়াবই"

    "কিন্তু কিভাবে? একটা সংস্থা তো লাগবে, যার মাধ্যমে টাকা পয়সা আসবে, যোগাযোগ হবে, চুক্তি হবে - স্কুল হলে এসব সহজেই হয়। অন্য সংস্থা তৈরী করলেও তো এত তাড়াতাড়ি বিদেশ থেকে ---"

    "টাকা আনাবি না" তাকে বাঁধা দিয়ে বলে হানিফা, "আমাগো মাইয়াদের কাজের জন্য বিদেশ থিকে টাকা আনার দরকারটা কি? কত খরচ শুরুতে?"

    "বলো কি খালা" অবাক গলায় বলে সাকিনা, "অনেক টাকার ব্যপার তো। মেটেরিয়াল লাগবে, একটা প্রেমিসেস লাগবে ট্রেনিং এর জন্য, যারা কাজ করবে তাদের মাইনা, ট্রেনারদের আনা, রাখা ---"

    "বুঝছি" হানিফা হাসে, "তুই বিলাতে থাকতে থাকতে আমাগো দেশের কথা ভুইলা মারছিস সব। শুন ছেমড়ি, আমরের হইল সরল মানুষজন, আমরা ছোট কইরা ভাবি। যেটুকু ভাবি সেটুকু কইরা ফালাই"

    "কিভাবে করবা বুঝাও আমারে" সাকিনা ফরজানার কাঁধে মাথা রেখে বলে।

    "ট্রেনারদের আনা, রাখা - বাদ। তুই ট্রেনিং দিবি। কদিন শিখে নিলে ফরিদা, ফরজানা, আরও তিন চারটে মাইয়া রেডি হইয়া যাব গা। যারা কাজ করবে তারা মাইনা এখন পাবে না, কিছু হাতখরচা পাবে, পরে আমাদের রোজগার শুরু হলে তারা মাইনে পাবে। প্রেমিসেস মানে ঘর তো - সেটার ব্যবস্থা আছে। আমরের অফিস ঘর। ক্লাসঘরের কাজ চইলা যাইব, ইশকুল থিকা খারাপ কিছু না। বাকি রইল মালমশলা - এই তো?"

    "হুম" কেমন মোহাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে সাকিনা, "সেও কিন্তু" ---

    "হ্যাঁ জানি, সে অনেক টাকার ব্যপার। দুই লাখ দিয়ে শুরু করতে পারবি?"

    "দু লাখ টাকা! কী বলছ খালা!!" এবারে চমকেই যায় সাকিনা, "অত লাগে না শুরুতে - কিন্তু পাবা কই অত টাকা?"

    কথা না বলে ফরিদার দিকে তাকায় হানিফা। ফরিদা উঠে পিছনদিকে একটা আলমারি খুলে তার দেরাজ থেকে একটা চটিমতন বই বার করে এনে সাকিনার হাতে দেয়। বইটা হাতে নিয়ে দেখে সাকিনা - গ্রামীন ব্যাঙ্কের পাশবই! প্রথম পাতা ওল্টাতেই চোখে পড়ে অ্যাকাউন্টের নাম - "জারিনা বেগম মেমোরিয়াল ট্রাস্ট"। নামের পাতাটা খুলে অনেক্ষণ চুপ করে বসে থাকে সাকিনা। পাতা উলটে আর দেখা হল না যে এই মুহুর্তে ব্যাঙ্ক ব্যালান্সের পরিমাণ প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ টাকা। হানিফা বিবি আর কুলি লাইনের মেয়েদের গত পঁচিশ বছর ধরে তিলতিল করে জমানো টাকা। মাঝে মাঝে খরচও আছে কিছু। কিন্তু এসব কিছুই আর দেখা হয় না সাকিনার। এতদিন পরে আম্মির জন্য চোখে ধারা নেমেছে তার। এতদিন পরে প্রথম গাল, চিবুক ভাসিয়ে বুকের ওপর জমা হচ্ছে ফোটা ফোটা অশ্রুবিন্দু। আজ তার কান্নার দিন।


    ছবিঃ ঈপ্সিতা পাল ভৌমিক

    পড়তে থাকুন, শারদ গুরুচণ্ডা৯ র অন্য লেখাগুলি >>
  • বিভাগ : ইস্পেশাল | ০৫ নভেম্বর ২০২০ | ৬০৫ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • স্বাতী রায় | ০৫ নভেম্বর ২০২০ ১৫:৩৫99663
  • সাকিনার সঙ্গে পাঠকেরও চোখে জল এল। 

  • পারমিতা | 1.23.160.67 | ০৫ নভেম্বর ২০২০ ১৯:২৫99669
  • খুব ভালো লাগল গল্পটা।

  • Ranjan Mukherjee | ০৫ নভেম্বর ২০২০ ১৯:৩২99670
  • এতো ভালো লাগলো, রেশ রয়ে গেল। দুদিন আর কিছু পড়ব না.....তারপর কি হলো ভাবতে হবে.....  ছোট গল্পের সারথকতা! 

  • Amrapali | 2402:3a80:196f:8793:878:5634:1232:5476 | ০৫ নভেম্বর ২০২০ ২০:৩৭99671
  • মন ছুঁয়ে যাওয়া লেখা।  এর পরেরবার যখন ওই  বাগানের  ধরবো ,  নিঃসন্দেহে জারিনা , সাকিনা , হানিফাদের   মনে পড়বে।  

  • কোয়েল Maria | ০৫ নভেম্বর ২০২০ ২০:৪৪99672
  • জয়ী হোক হানিফা বিবি, সাকিনা, জারিনারা

  • Prativa Sarker | ০৫ নভেম্বর ২০২০ ২২:১০99673
  • কুলি লাইন খুব বিশ্বস্ত ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্বাস্য হেডমিস্ট্রেস থেকে শুরু করে আর সব চরিত্র। শুধু কুলি লাইনের ভাষা যে অদ্ভুত জগাখিচুরি সেইটেতে কিছু খামতি আছে। তবে তাতে মূল কাহিনির রসগ্রহণ বাধাপ্রাপ্ত হয় না। 

  • সুদেষ্ণা মৈত্র | 42.110.155.230 | ০৫ নভেম্বর ২০২০ ২৩:২৪99675
  • বেশ লাগল 

  • রৌহিন | ০৫ নভেম্বর ২০২০ ২৩:৪০99676
  • @প্রতিভাদি, হ্যাঁ কুলি লাইনের ভাষা নিয়ে সমস্যা আছে, মানছি। এর একটা কারণ স্মৃতির লুকোচুরি। ডুয়ার্স অঞ্চলের এই বিশেষ চা বাগানটিতে (রাণীচেরা) আমি নিজে দুয়েকবার গেছি - কিন্তু বাঙালিপাড়ার ভাষা (বাবুদের) আর কুলি লাইনের ভাষায় জমিন আশমান ফারাক। সেই শোনা ভাষা আজ ৩০ বছর পরে (আমারও) অনেকটাই গুলিয়ে গেছে। তবে এই ভাষার কিছুটা সংশোধনের চেষ্টায় আছি


    তোমার কাছ থেকে পরামর্শ পাচ্ছি এটা আমার বিরাট সৌভাগ্য

  • জিয়ারত সেখ | 2409:4060:2e87:994b::e889:e400 | ০৬ নভেম্বর ২০২০ ০৩:৩৯99677
  • কেমন যেন একটা রেশ রয়ে গেল।।

  • জারিফা | 223.223.146.118 | ০৬ নভেম্বর ২০২০ ০৭:৩০99678
  • কী ভাল গল্পটা। শুধু ওই বস্তির ভাষাটা কোথাও কোথাও একটু শহুরে লাগছে। সাকিনা,  জারিনাদের গল্প আরও হোক। 

  • শক্তি | 2405:201:8005:9034:bca1:a691:24f6:7b71 | ০৮ নভেম্বর ২০২০ ২২:১৩99776
  • হানিফা সাকিনা ফরিদারা এগিয়ে চলুক সঙ্গে চলুক দেশ 

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। সুচিন্তিত প্রতিক্রিয়া দিন