• বুলবুলভাজা  আলোচনা  বিবিধ

  • ক্রিকেটের দেশ

    রৌহিন ব্যানার্জি লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | বিবিধ | ২৫ মার্চ ২০১৫ | ১০১ বার পঠিত
  • জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
  • ক্রিকেটের বিশ্বযুদ্ধ। চারিদিকে রে-রে রব। আমেরিকা, চীন, রাশিয়া, জার্মানি, জাপান এ খেলা খেলে না। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন খেলে না। নিদেনপক্ষে নাইজেরিয়া, মেক্সিকো বা ঘানাও নয়। তবে কি না এ হল গে রাজার খেলা – যাকে বলে খাঁটি ইংলিশ ম্যানার গেম। আর তাতে আবার ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হল গে আমাদের এই মহান ভারতবর্ষ – যেখানে নাকি সেই বৈদিক যুগ থেকে মঙ্গলযান চালু আছে, প্লাস্টিক সার্জারি তারও আগে থেকে। অতএব গর্জন – বকশিস টঙ্কা। বিশ্ববিজয় অভিযানে বেরিয়ে আমাদের দামাল ছেলেরা ‘বধ’ করছে একের পর এক ‘শত্রু’ – উল্লাসে ফেটে পড়ছি আমরা। আর সমস্ত যুদ্ধে যেমন হয়, কিছু ক্ষয়ক্ষতি, কিছু কো-ল্যাটারাল ড্যামেজ থাকেই – যেমন ধরা যাক রাজনৈতিক সম্পর্কের উর্ধে সীমানার দুই পারের মানুষের আঙুলে আঙুল ছোঁয়াবার ইচ্ছে। তা সে ইচ্ছেরা মরুকগে যাক – যুদ্ধ চলছে এখন এসব গায়ে মাখলে চলে?

    এখানে একটা ডিসক্লেইমার দিয়ে রাখি। ক্রিকেটের বিরুদ্ধে কলরব করতে এই কলমের অবতারণা করিনি। কে খেলে আর কে খেলেনা সেটা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ ততটা নয় আমার কাছে কারণ খেলাটা খেলতে আমার ভালো লাগে। আমি নিজেই একটা পর্যায় অবধি খেলেছি এবং এখনো দেখতে ভালোবাসি। আর সেভাবে বলতে গেলে আমার ছোটবেলার প্রিয়তম খেলা যে লুকোচুরি, তার তো আন্তর্জাতিক দূরস্থান পাড়া স্তরেও কোন টুর্নামেন্টই হয়না – তা বলে কি খেলাটাকে ভালোবাসব না? কিন্তু কথাটা হল, ক্রিকেট খেলতে ভালোবাসি, যুদ্ধ করতে নয়। প্রশ্ন উঠতেই পারে, খেলাটা যখন একটা স্তরে পৌঁছে যায়, যেমন আন্তর্জাতিক স্তর, তখন তো তা যুদ্ধের পর্যায়েই – পছন্দ করি বা না করি। ধারণাটায় আমার আপত্তি আছে, কিন্তু সে প্রসঙ্গ এখন থাক, ওই তর্কে আপাততঃ যেতে চাই না বলে মেনেই নিচ্ছি যে হ্যাঁ, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মানে একটা যুদ্ধ, যেমন আন্তর্জাতিক ফুটবল মানেও। তা প্রশ্নটা হল কতটা গুরুত্বপূর্ণ এই যুদ্ধ? বস্তুতঃ এই কথাটা বলতেই এই লেখার শুরুতে ধান ভানতে শিবের ওই ‘এলিটিস্ট’ গীত। যে খেলাটা খেলেই মাত্র দশ-বারোটা দেশ (যার অন্যতম প্রধান চারটে আবার এই উপমহাদেশ থেকেই), তাদের খেলার ‘যুদ্ধ’টা কি সত্যিই ‘বিশ্বযুদ্ধ’ আখ্যা পাওয়ার যোগ্য?

    অথচ উপমহাদেশের সমর্থকদের আচরণ দেখলে মনে হয় এর থেকে জরুরী দুনিয়াতে কিছু আর নেই। শুধু এই খেলার হারজিতের ওপরেই নির্ভর করে আছে আমার ‘দেশে’র সম্মান-উন্নয়ন-স্বপ্ন। তা-ও আবার সীমান্তের ওপারের পাকিস্তান ভারতকে অথবা ভারত বাংলাদেশকে হারালে যতটা ‘সম্মানহানি’ হবে, অস্ট্রেলিয়া বা দক্ষিণ আফ্রিকা হারালে ঠিক ততটা নয়। অতএব স্লোগান ওঠে – বিশ্বকাপ না জেতো ক্ষতি নেই, পাকিস্তানের কাছে হেরে এসো না। যদি হারো তো দেশে ফিরলে ইঁট-পাটকেল নিশ্চিত। বাড়িতে দু-চার পিস এক্সট্রা জানালা ফানালা অর্ডার দিয়ে রাখো বাপু – পয়সার জন্য ভাবতে হবে না। পরের ম্যাচটা জিতলে আবার আমরাই সুদে-আসলে সব উশুল করে দেবো।

    কেন এই শিশুপনা? ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশ সর্বত্র এই একই মানসিকতা – এই অপরিণত আচরণ। এমনিতে বহু ক্ষেত্রে এই অপরিণতি আমরা দেখিয়ে থাকি ঠিকই, কিন্তু ক্রিকেট ঘিরে এই ছেলেখেলা যেন একটা চরম আকার নেয়। শুধুই আবেগ? ক্রিকেট ঘিরে একটা জাতির ঘুরে দাঁড়ানোর মহান কাহিনী? যেমন ব্রাজিলে ফুটবল কিংবা জাপানে কুংফু? কিন্তু আদৌ কি ক্রিকেট কোন বৃহত্তর পরিবর্তন আনতে পেরেছে এই উপমহাদেশে? ভারত-বাংলাদেশ-পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা-আফগানিস্তান – ক্রিকেট কোন বড় অর্থনৈতিক, সামাজিক বা রাজনৈতিক বিপ্লবটা ঘটিয়েছে এই সব দেশগুলোয়? হ্যাঁ এই প্রসঙ্গে অন্ততঃ ভারতের ক্ষেত্রে অনেকেই ক্রিকেট অর্থনীতির কথা বলবেন – ক্রিকেট নাকি ভারতে বিদেশী মুদ্রা আনার এক বিরাট হাতিয়ার। বিশেষতঃ আইপিএল উত্তর ভারতে। মিথ।

    হ্যাঁ, মিথ। প্রথম কথা এই আলোচনাটাও পুরো উপমহাদেশের মধ্যে শুধু ভারতেই সীমাবদ্ধ (বস্তুতঃ সমস্ত ক্রিকেট খেলিয়ে দেশের মধ্যেই) – এই বিপুল অর্থনৈতিক লাভের বিষয়টা। অন্যান্য দেশগুলি এর ছিটেফোঁটাও দেখতে পায় না। কিন্তু যদি শুধু ভারতের কথাও ধরি, এই যে “বিপুল পরিমাণ ক্রিকেট বাণিজ্য”, এই বিপুল তরঙ্গ কোথা হইতে কোথায় আসিয়া কোথায় চলিয়া গেল, কেউ তাহা জানে কি? একটা কোন সামাজিক, রাজনৈতিক বা এমন কি নিখাদ অর্থনৈতিক প্রকল্পের কথা কারুর জানা আছে যা ক্রিকেট থেকে হওয়া আয়ের টাকায় চলে? বলতে পারবেন না, কারণ চলে না। কোন প্রকল্প। “ভারতীয়” ক্রিকেট দল, আমার আপনার কাছে যতই ‘জাতীয়’ দলের আবেগের রিপ্রেজেন্টেটিভ হোক না কেন, আইনতঃ তা “বিসিসিআই একাদশ” – যার পোশাকী নাম “টীম ইন্ডিয়া”। এই দলের মালিকানা “বোর্ড অফ কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া”র– যা একটি স্বয়ংশাসিত বেসরকারী সংস্থা। এবং ‘ভারতীয় ক্রিকেটে’র যাবতীয় লাভ-লোকসানের দায় এবং অধিকার শুধু এবং শুধুমাত্র তাদেরই। ভারতে ক্রিকেট ব্যবসা ভাল হয় কারণ বিসিসিআই অন্যান্য বোর্ডগুলির তুলনায় ভালো ব্যবসায়ী, এবং যে কোন সফল ব্যবসায়ীর মতই তারা এক্সপ্যানশন করে ও মুনাফা বাড়ায়। সরকার একটা কর পায়। মোটা কর। কিন্তু তাতে আবার ছাড় দিতে দিতে তার অবস্থা দাঁড়ায় হরিপদ কেরানীর ছাতা বা জরিমানা দেওয়া মাইনের মত।

    কিন্তু কেন? কি প্রয়োজন এই মিথের? কি ভাবে তৈরী হল উপমহাদেশ জোড়া এই ক্রিকেট কাল্ট?হল কারণ তাকে নির্মাণ করা হল – পরম যত্নে। ১৯৮৩ তে ভারতের বিশ্বকাপ জয় এবং তার পরপরই ১৯৮৫ তে বেনসন এন্ড হেজেস কাপ জয় এই উপমহাদেশে ক্রিকেটকে একটা বাড়তি গুরুত্বের আসন পাইয়ে দেয়। মাঝে ১৯৮৭ টা বাদ দিলে ১৯৯২ এবং ১৯৯৬ তে পরপর পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কা বিশ্বকাপ জেতায় (মাঝে ভারতের হীরো কাপ জেতাও আছে) সেই আবেগে একটা বাড়তি পরৎ যোগ হল। লক্ষ্য করে দেখবেন, এই দেশগুলি কিন্তু এর আগে বা পরে কখনো কোন আন্তর্জাতিক খেলায় তেমন বড় কোন খেতাব জেতেনি (সেই মান্ধাতা আমলে ভারত-পাকিস্তানের হকি মাস্তানিটা ধরছি না ইমপ্যাক্টে ধারে কাছে আসে না বলে)। ফলে আম জনতা থেকে মিডিয়ার যাবতীয় আবেগের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়াতে লাগলো এই একটা খেলা। ক্রিকেট হয়ে উঠলো ধর্ম। পুরো উপমহাদেশ জুড়ে এবং বিশেষতঃ লোকসংখ্যার কারণে ভারতে তৈরী হল এক বিরাট ক্রিকেট বাজার। লক্ষ কোটি ছাড়িয়ে লাভের হিসাব হতে থাকলো বিলিয়ন – ট্রিলিয়ন ডলারে। আর সেই পথ দিয়েই ক্রিকেটের হাত ধরল রাজনীতি – ক্রিকেট রাজনীতি। ক্রিকেট বোর্ডগুলিতে বাড়তে লাগলো রাজনৈতিক ক্ষমতাবানদের আনাগোনা। আর এই সংসদীয় রাজনীতির বাইরেও তৈরী হচ্ছিল আরেক রকম রাজনীতির ক্ষেত্র – রাষ্ট্রযন্ত্রের রাজনীতি। রাষ্ট্র বা সিস্টেম তো এরকম একটা আফিমেরই সন্ধানে থাকে – যা লোকে সহজে খাবে – গোগ্রাসে খাবে। খেয়ে বুঁদ হয়ে থাকবে। প্রশ্ন করবে না। বলিউডি সিনেমা এবং ক্রিকেট ভারতীয় জনতার জন্য রাষ্ট্রের দুই সেরা আফিম। কত সহজে মানুষকে ভুলিয়ে দেওয়া যায় দাঙ্গার স্মৃতি, বন্যার স্মৃতি, ভূমিকম্পের স্মৃতি, দুর্ভিক্ষের স্মৃতি। উদ্ভুত হল নতুন ফ্রেজ – “ক্রিকেটের হাত ধরে একটি জাতির উঠে দাঁড়ানো”র ছেলে ভোলানো গপ্প। ক্রিকেটের সঙ্গে রন্ধ্রে রন্ধ্রে বুনে দেওয়া হল জাতীয়তাবাদ।ক্রিকেট ঘিরে তৈরী হল “জাতীয়” আবেগ – দেশের সম্মান, সম্মানের যুদ্ধ। ক্রিকেট একটা যুদ্ধ।

    এই জাতীয়তাবাদ এবং দেশের সংজ্ঞা নিয়ে আগের একটা লেখায় কিছু সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেছিলাম। তার জের টেনেই বলি, ক্রিকেট ঘিরে নির্মিত এই জাতীয়তাবাদী উন্মাদনা মূলতঃ একটি পরিকল্পিত নির্মাণ। ‘দেশ’ এর সংজ্ঞা প্রশ্নাতীত নয়। ‘দেশ’ কাকে বলে এ প্রশ্ন বহুবার তুলেছি, আমার মতো অনেকেই তুলেছেন। প্রাপ্ত উত্তরগুলোও বহু আলোচিত। আমি বরং আমার একটা নিরীক্ষা পেশ করি। দেখছি, উত্তরটা দিয়েছেন মূলতঃ তাঁরাই যাঁদের কাছে দেশ একটা আবেগের প্রশ্ন, সম্মানের প্রশ্ন। না তার মানে এই নয় যে যাঁরা উত্তর দেন নি, তাঁরা কেউ দেশ নিয়ে কোন আবেগ লালন করেন না। কিন্তু সম্ভবতঃ তাঁরা যুক্তিকে আবেগের ওপরে রাখতে চান কোন কিছুকে ‘সংজ্ঞায়িত’ করার সময়ে। এঁরা দেখেছি দেশ এর সংজ্ঞা প্রসঙ্গে প্রায় মৌন – অথবা বড়জোর ওই “যতদূর আমি পাশপোর্ট ছাড়া ঘুরতে পারি” গোছের পলিটিক্যালি কারেক্ট উত্তর। কিন্তু যাঁরা আবেগসহ উত্তর দেন তাঁদের সেই আবেগটার কি কোন দামই নেই? আছে তো অবশ্যই – অতএব তাঁদের উত্তর থেকেই খঁজা যাক দেশের সংজ্ঞা। কিন্তু কি মুশকিল দেখুন, প্রত্যেকের উত্তর যদি আলাদা আলাদা হয় তাহলে কোনটাকে ধরব? প্রশ্নটা তাই থেকেই যায়, নিরীক্ষায় যা উঠে আসে তা হল ‘দেশ’ প্রত্যেকে নির্মাণ করে নেন নিজের মত করে – নিজের মনের মধ্যে। আর রাষ্ট্র তার সুবিধেমতো মানচিত্র এঁকে নির্ধারণ করে দেয় তার ক্ষেত্র।

    এখন প্রশ্ন হচ্ছে তাহলে কি নিজের ‘দেশ’, তা বলতে আমি হাতি ঘোড়া বেগুনপোড়া যা-ই বুঝিনা কেন, তাকে সমর্থন করব না? ভারত বা বাংলাদেশের হয়ে গলা ফাটাবো না? উত্তরে বলি (আমার কাছে উত্তর চাননি হয়তো, তবু এতখানি ধ্যাস্টামো যখন করেই ফেলেছি), সমর্থন আমিও করি – আপনিও করেন। সমর্থন করতেই পারি। খেলা দেখতে যারা ভালোবাসি, খেলা দেখবো। কিন্তু সেই দেখা, সেই সমর্থনকে আমার স্বাভাবিক চিন্তা করার ক্ষমতাকে গ্রাস করতে দেবো কেন? ধরুন কাল যদি ভারতের বুকে বসে ‘ভারতবাসী’ হয়ে কেউ অস্ট্রেলিয়াকে সমর্থন করেই (কী ভাগ্যি কাল বিপক্ষে পাকিস্তান বা বাংলাদেশ নেই), তবে তার সহজ এবং একমাত্র ব্যখ্যাটা এটাই হয়না যে সে বা তারা ‘দেশদ্রোহী’। না হয়না। কারণ প্রথম কথা ‘দেশ’ এর সংজ্ঞা প্রত্যেকের কাছে আলাদা এবং রাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া সীমানাকে অস্বীকার করা মানুষের মৌলিক মানবিক অধিকার। আর দ্বিতীয় কথা, এটা ‘যুদ্ধ’ নয়। দু দেশের ক্রিকেট বোর্ডের দল নিজেদের মধ্যে খেলেছে, আমরা কোন না কোন দলকে ‘দেশ’ হিসাবে (বা আমার দল হিসাবে) ধরে নিয়ে সমর্থন করছি আমার স্বাধীন নির্বাচন অনুযায়ী, কোন রাষ্ট্রীয় বাধ্যবাধকতায় নয়। আমার বিপরীত দিকে বসা মানুষটারও তার মতন করে নির্বাচন করার অধিকার আছে বৈ কি। সেটা আমার সঙ্গে না মিললে সমর্থকের কথার লড়াই চলতেই পারে – দেশের বিরুদ্ধে লড়াই হয় না।

    জীবনে অনেক যুদ্ধ। বেঁচে থাকার যুদ্ধ, প্রতিদিনের হাসার যুদ্ধ। ওটা থেকে পালাবার পথ নেই বিশ্বাস করুন, ক্রিকেট আপনাকে ওই যুদ্ধে একটুও বাড়তি সুবিধা দেবে না। স্টেডিয়ামের লক্ষ ওয়াটের আলোর ছিটেফোঁটাও ঢুকবে না আপনার ঝুপড়িতে বা এক চিলতে ফ্ল্যাটে – ম্যান অফ দি ম্যাচের কোটি টাকার গাড়ি আপনার একটা ই এম আই শোধের কাজে আসবে না। না ওটা আমাদের যুদ্ধ নয় – স্রেফ এন্টারটেইনমেন্ট। ক্রিকেট থাকুক, সমর্থন থাকুক, আনন্দ বিষাদ থাকুক, সেই সঙ্গে স্যানিটিও থাকুক।

     
  • বিভাগ : আলোচনা | ২৫ মার্চ ২০১৫ | ১০১ বার পঠিত
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • যম | 193.90.37.140 (*) | ২৫ মার্চ ২০১৫ ০৫:২৮86951
  • উফ, আঁতলামোর চূড়ান্ত।
  • দেব | 135.22.193.150 (*) | ২৫ মার্চ ২০১৫ ০৬:০৭86952
  • "কেন এই শিশুপনা?" শিশু তো শিশুপনাই করবে আর কথা কি? এভারেজ ভারতীয় আমার আপনার মতন লেভেল হেডেড হলে তো হয়েই যেত (আই ডোন্ট মিন দিস সারকাস্টিকালি)।
  • maxmin | 127.248.137.145 (*) | ২৫ মার্চ ২০১৫ ০৮:০৫86953
  • পার্ফেক্ট। একেবারে মনের মত লেখা। অভিনন্দন।
  • sswarnendu | 198.154.74.31 (*) | ২৫ মার্চ ২০১৫ ১১:৩৭86954
  • লেখাটা পড়তে পড়তে একটা কথা মনে হল... শেষের অংশটা, মানে যেখানে লেখাটা গভীর হচ্ছে, পাঠক-পাঠিকাদের ছুঁতে আসছে ঠিক সেইখানটাই কেমন বড় তাড়াতাড়ি দুম করে ফুরিয়ে গেল... মানে যে অংশটা লেখাটার বস্তুত প্রস্তাবনা, সেইখানটা পড়তে পড়তে যে এক্সপেক্টেশনটা তৈরি হয় সে তুলনায় বড় তাড়াতাড়ি লেখাটা ইনিংস ডিক্লেয়ার করে দিল...
    ভাল লেখা... কিন্তু পাঠক-পাঠিকা তা সত্ত্বেও বেশ খানিকটা অতৃপ্তি বোধ করবে লেখাটা শেষ করে মনে হয়...

    সম্ভব হলে ভেবে দেখবেন।

    আর হ্যাঁ, স্পেড কে স্পেড বললে লেখার গুনগত উৎকর্ষ কমে না,
    "যার অন্যতম প্রধান চারটে আবার এই উপমহাদেশ থেকেই" এইটা আলাদা করেই 'তোষণ নীতি' অবলম্বন করে লেখা মনে হল... তিনটে লিখতে ক্ষতি কিছু ছিল না বোধহয়...
  • S | 109.27.138.238 (*) | ২৫ মার্চ ২০১৫ ১১:৫৬86955
  • রৌহিন বাবু, কিছু মনে করবেন না। খুব ভালো লাগলো না লেখাটা। লাস্ট পয়েন্টটা একদম খাঁটি। কিন্তু সেটা প্রমাণ করতে গিয়ে যে রুটটা নিলেন সেটা খুব তাড়াহুরো মনে হোলো। অনেক অসঙ্গতি রয়েছে লেখায়। এখন আপনি যদি আমায় জিগ্যেস করেন, না আমি এমন লেখা লিখতে পারবোনা। আপনার লেখার হাত খুব ভালো - কিন্তু একটা রিভাইসড ভার্সান চাই।

    ১) এমন একটা খেলা বলুন যেটা পয়সা ছাড়া খুব বড় হয়েছে। অতএব পয়সার অ্যাঙ্গেলটাকে ঠিক ঠাক ভাবে প্রেজেন্ট করতে হবে।

    ২) মাঝে ১৯৮৭ টা বাদ দিলে - না বাদ দেবোনা। প্রথমবার ইংল্যান্ডের বাইরে হোলো - ভারতে। সেটা খুব বড় একটা ঘটনা।

    আরো আছেঃ ২০০৭ এর বিশ্বকাপে হারার কয়েকদিন পরেই মনে হয় টি২০ চ্যাম্পিয়নশিপ করা হোলো - তাতে ভারত জিতলো। লাস্ট ওভারে পাকিস্তানকে হারিয়ে। আরো নাটক চাই?

    ৩) নিদেনপক্ষে নাইজেরিয়া, মেক্সিকো বা ঘানাও নয় ঃ ওয়ার্ল্ড সিরিজের কথা নিস্চই জানেন। তাহলে আমরাও ওয়ার্ল্ড কাপ বলবো। কোনো খারাপ কিছু নেই।

    ৪) ক্রিকেট নাকি ভারতে বিদেশী মুদ্রা আনার এক বিরাট হাতিয়ার। বিশেষতঃ আইপিএল উত্তর ভারতে। মিথ।
    আবার বলছেন "লক্ষ কোটি ছাড়িয়ে লাভের হিসাব হতে থাকলো বিলিয়ন – ট্রিলিয়ন ডলারে।"

    ট্রিলিয়ন ডলার? এতো বড় (এমনকি যদি ১০০ বিলিয়ন) হলে তো আমি বলবো ভাগিস হয়েছে। আর সব কিছুই কি আর শুধু গভমেন্টের ঘরে কত ট্যাক্সো জমা পড়লো তাই দিয়ে হয়। গভমেন্টের বাইরেও একটা বড় ইকনমি চলে। সেটা বড় হলেও খুব ভালো কথা।

    ৫) আর আনফর্চুনেটলি দেশের সংজ্ঞা ক্রমশই প্রশ্নাতীত হয়ে উঠছে। আপনি অস্ট্রেলিয়ার সমর্থক হতেই পরেন। খুব ভালো কথা। আমিও চাইছিলাম এবারে সাউথ আফ্রিকা কাপ পাক। কিন্তু উল্টো সমর্থন হওয়ার চান্স খুব কম।
  • Bhagidaar | 218.107.71.70 (*) | ২৬ মার্চ ২০১৫ ০১:৫৫86958
  • বিশ্বকাপ শুরু হওয়া থেকেই ভাবছিলাম কবে এরম পোস্ট হবে একখান। আজ ষোলকলা পূর্ণ হইলো।
  • sosen | 24.139.207.126 (*) | ২৬ মার্চ ২০১৫ ০২:০২86959
  • খেলা দিয়ে পরিবত্তোন করার চেষ্টা করে লাভটা কি মশাই। খেলাটাকে খেলাই থাকতে দিন্না। এমনিই পরিবত্তোনের চোটে হয়রান।
  • Arpan | 125.118.57.189 (*) | ২৬ মার্চ ২০১৫ ০২:২৩86960
  • ভাগি ঃ)))
  • dc | 213.109.107.241 (*) | ২৬ মার্চ ২০১৫ ০২:৫২86961
  • " কিন্তু যদি শুধু ভারতের কথাও ধরি, এই যে “বিপুল পরিমাণ ক্রিকেট বাণিজ্য”, এই বিপুল তরঙ্গ কোথা হইতে কোথায় আসিয়া কোথায় চলিয়া গেল, কেউ তাহা জানে কি? একটা কোন সামাজিক, রাজনৈতিক বা এমন কি নিখাদ অর্থনৈতিক প্রকল্পের কথা কারুর জানা আছে যা ক্রিকেট থেকে হওয়া আয়ের টাকায় চলে? বলতে পারবেন না, কারণ চলে না। "

    ক্রিকেট বানিজ্য বা ক্রিকেট ইকনমিক্সকে সামাজিক বা রাজনৈতিক প্রকল্প কেন গ্রহন করতে হবে বুঝলাম না। টাকা যতো হাত ঘুরবে ইকনমির পক্ষে এমনিতেই ততো ভালো হবে, তার সাথে সামাজিক প্রকল্পর কি সম্পর্ক? ক্রিকেট বানিজ্যের সাথে অনেক লোক জড়িয়ে আছে। খেলোয়াড় থেকে শুরু করে তাদের সাপোর্ট স্টাফ, টিভিওয়ালা, খেলার সরঞ্জাম যারা বানায়, স্টেডিয়াম দেখাশুনো করে, যারা নানারকম প্রোডাক্ট মার্কেটিং করে। এরা সকলেই ক্রিকেট ঘিরে আয় করে, সেটা আরো নানান খাতে ব্যয় করে। বিপুল টাকা আসছে সমাজের নানান সেগমেন্টের কাছ থেকে, তাদের কাছে নানান উপায়ে ফিরেও যাচ্ছে। কোথা হইতে আসিয়া কোথায় চলিয়া গেল সেটা না জানার কি আছে?
  • S | 109.27.138.238 (*) | ২৬ মার্চ ২০১৫ ০২:৫৭86962
  • ডিসির সাথে একমত। আর বিসিসিআই তো প্রাইভেট - তাহলে তাদের সমাজ কল্যান করতে হবে কেন বুঝলাম না।
  • b | 135.20.82.164 (*) | ২৬ মার্চ ২০১৫ ০৫:৪০86963
  • "জীবনে অনেক যুদ্ধ। বেঁচে থাকার যুদ্ধ, প্রতিদিনের হাসার যুদ্ধ। ওটা থেকে পালাবার পথ নেই বিশ্বাস করুন, ক্রিকেট আপনাকে ওই যুদ্ধে একটুও বাড়তি সুবিধা দেবে না।"

    ওয়েস্ট ইন্ডিজের মারকাটারি বোলার গিলক্রিস্ট রঞ্জি খেলছেন। বাঙলা দলের আর্ধেকের ওপরে চোট পেয়ে হাসপাতালে। তখন পঙ্কজ রায় গিলক্রিস্টকে নির্বিষ করেছিলেন সেঞ্চুরী হাঁকিয়ে। গায়ে জ্বর, তার ওপর বাড়িতে অসুস্থ মানুষ নিয়ে। প্রত্যেকটা বলের পর তিনি নিজেকে বলতেন, 'কনসেন্ট্রেট, রায়, কনসেন্ট্রেট'। দু দিন ধরে খেলেছিলেন।

    জয় গোস্বামীর লেখায় পাচ্ছি, এক কিশোরের কথা, একবার তাকে হসপিটালে শুয়ে থাকতে হয়েছিলো। লাংসে জল জমে গেছিলো, সজ্ঞানে পিঠ দিয়ে সূঁচ ঢুকিয়ে সেই জল বার করতে হবে। খুব যন্ত্রণাদায়ক , কিন্তু একটু নড়াচড়া করলেই সূঁচ ভেঙে আটকে যেতে পারে। পুরো অপারেশনটা চলবে এক মাস ধরে।সেই কিশোর , সেই প্রচন্ড যন্ত্রণার দীর্ঘতম মূহুর্তগুলিতে স্থির থাকার জন্যে বারবার নিজেকে বলতঃ 'কনসেন্ট্রেট, রায়, কনসেন্ট্রেট'।
  • b | 125.243.195.208 (*) | ২৬ মার্চ ২০১৫ ১০:০৮86964
  • লেখাতা ভলো লাগলো
  • b | 135.20.82.164 (*) | ২৬ মার্চ ২০১৫ ১০:১৬86965
  • ইয়ে, আমি 11:10:32 IST 135.20.82.164 পোস্ট করিচি। যিনি b নামে 15:38:22 IST 125.243.195.208 করেছেন পিলিজ অন্য নিক নিন।
  • S | 109.27.138.238 (*) | ২৬ মার্চ ২০১৫ ১২:০৪86956
  • এটা ভুলে গেছিঃ
    ৬) না ওটা আমাদের যুদ্ধ নয় – স্রেফ এন্টারটেইনমেন্ট। - আইপিএল প্রিসাইসলি এই কাজটাই করছে। যেদিন শোয়েব আক্তার ইডেনে শেওয়াগকে আউট করেছিলো সেইদিন যা উচ্ছসিত হয়েছিলাম খুব কম হয়েছি ইদানিঙ্গ কালে।
  • lcm | 118.91.116.131 (*) | ২৬ মার্চ ২০১৫ ১২:১৭86957
  • পৃথিবীর সাত বিলিয়ন মানুষ নিয়ে একটা গামলার মধ্যে ফেলে তার থেকে র‌্যান্ডমলি কয়েক কোটি মানুষ তুলে তুলে তো দেশ বানানো হয় না।
    দেশ হল কিছু মানুষের মধ্যে কমনালিটি। সেটা ভাষা হতে পারে, খাবার, পোষাক, গান-বাজনা, চামড়ার রং, আকৃতি, প্রকৃতি, সংস্কৃতি সব মিলিয়ে একটা জিনিস বহু বছর একসঙ্গে থেকে তৈরী হয় দেশ। আবার কখনও দেশ তৈরী হয় অন্য দেশ থেকে বিছিন্ন হয়ে। যেমন হয় গ্রহ থেকে উপগ্রহ। যেমন তৈরী হয় মানুষ থেকে মানুষ। তৈরী হয় নিজের লোক, নিজের পরিবার, নিজেদের সম্প্রদায়, নিজের দেশ, নিজেদের রাষ্ট্র। এসব হয় ন্যাচারালি।
  • রৌহিন | 233.223.133.251 (*) | ২৯ মার্চ ২০১৫ ০৫:০৫86966
  • b বাবুর 'কনসেন্ট্রেট রায়, কনসেনট্রেট' প্রসঙ্গে - কে কোথা থেকে প্রেরণা পাবেন সেটা পুরোটাই তাঁর নিজের ওপর - নয়? আমি যদি প্রবল বিপদের সময় গলায় একটা মাদুলি ঝুলিয়ে মনে করি সেটা আমায় শক্তি দিচ্ছে এবং সেই মনের জোরে শেষ অবধি বিপদ কাটিয়ে উঠি তার কৃতিত্ব আমার না মাদুলির? আমার মতে, আমার, মাদুলির নয়।

    dc - "টাকা যতো হাত ঘুরবে ইকনমির পক্ষে এমনিতেই ততো ভালো হবে, তার সাথে সামাজিক প্রকল্পর কি সম্পর্ক?" - কোন সম্পর্ক নেই। ক্রিকেটকে সামাজিক, অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক প্রকল্পের দায়িত্ব নিতে হবে এমনও কোন বাধ্যবাধকতা নেই। কিন্তু দায়িত্ব না নিয়েও একটা 'বিরাট সামাজিক দায়িত্ব পালন করছে ক্রিকেট' এই মিথটারও কোন গুরুত্ব নেই সেটাও মানতে হবে। যতো টাকা আসে, ততো হাত ঘোরে কিনা - ইকোনমির সাধারণ শর্ত মেনে সে বিষয়ে কোন নির্দিষ্ট তথ্য আছে কি? নেই। রাখা হয়নি - শুধু প্রচারটা আছে।

    S - "১) এমন একটা খেলা বলুন যেটা পয়সা ছাড়া খুব বড় হয়েছে। অতএব পয়সার অ্যাঙ্গেলটাকে ঠিক ঠাক ভাবে প্রেজেন্ট করতে হবে।" - কোন খেলাই হয়নি। আপনি একটা খেলার নাম করুন যে দাবী করে সে তার দেশের মানুষের কাছে শুধু খেলামাত্র নয় - ধর্ম। যার জন্য ধর্মযুদ্ধ লড়া যায়।

    ২) মাঝে ১৯৮৭ টা বাদ দিলে - না বাদ দেবোনা। প্রথমবার ইংল্যান্ডের বাইরে হোলো - ভারতে। সেটা খুব বড় একটা ঘটনা। - একমত।
    আরো আছেঃ ২০০৭ এর বিশ্বকাপে হারার কয়েকদিন পরেই মনে হয় টি২০ চ্যাম্পিয়নশিপ করা হোলো - তাতে ভারত জিতলো। লাস্ট ওভারে পাকিস্তানকে হারিয়ে। আরো নাটক চাই? - না চাইলেও অভাব নেই। একমত।

    ৩) নিদেনপক্ষে নাইজেরিয়া, মেক্সিকো বা ঘানাও নয় ঃ ওয়ার্ল্ড সিরিজের কথা নিস্চই জানেন। তাহলে আমরাও ওয়ার্ল্ড কাপ বলবো। কোনো খারাপ কিছু নেই। - বেশ বলুন না। পরে উইকিতে আইসিসির লিস্ট দেখলাম - প্রত্যেকে ক্রিকেট খেলে। যেমন ইন্ডিয়াও ফুটবল খেলে। :D

    ৪) ক্রিকেট নাকি ভারতে বিদেশী মুদ্রা আনার এক বিরাট হাতিয়ার। বিশেষতঃ আইপিএল উত্তর ভারতে। মিথ।
    আবার বলছেন "লক্ষ কোটি ছাড়িয়ে লাভের হিসাব হতে থাকলো বিলিয়ন – ট্রিলিয়ন ডলারে।"
    ট্রিলিয়ন ডলার? এতো বড় (এমনকি যদি ১০০ বিলিয়ন) হলে তো আমি বলবো ভাগিস হয়েছে। আর সব কিছুই কি আর শুধু গভমেন্টের ঘরে কত ট্যাক্সো জমা পড়লো তাই দিয়ে হয়। গভমেন্টের বাইরেও একটা বড় ইকনমি চলে। সেটা বড় হলেও খুব ভালো কথা। - গভরমেন্টের বাইরে যে বড় ইকোনমি চলে সেটার কথাই তো হচ্ছে। সেই ইকোনমি যা শ্রীধর শ্রীনিবাসন বা মুকেশ আম্বানিকে বিশ্বের সেরা ২৫ বড়লোকের তালিকায় নিয়ে যায় আর আমি আপনি একটা নতুন পাখা কিনতে ফিনান্স খুঁজি। ক্রিকেট আমাদের ধর্ম বলে ধার করে ১০০০ টাকার টিকিট কিনে ইডেন ভরাই।
  • b | 135.20.82.164 (*) | ৩০ মার্চ ২০১৫ ০৬:৪৩86967
  • ঠিক। তেমনি "ক্রিকেট আপনাকে ওই যুদ্ধে একটুও বাড়তি সুবিধা দেবে না" এটাও আপনার নিজস্ব মত, ঐ কিশোরের মতো। জেনেরালাইজ না করলেই ভালো হয়।
  • S | 139.115.2.207 (*) | ৩০ মার্চ ২০১৫ ০৮:৩৪86969
  • "আপনি একটা খেলার নাম করুন যে দাবী করে সে তার দেশের মানুষের কাছে শুধু খেলামাত্র নয় - ধর্ম। যার জন্য ধর্মযুদ্ধ লড়া যায়।"

    এইটা তো টিকিট বিক্রির জন্যে বলা হয়। সক্কলে জানে। আইপিএল এখন সেই ধর্মের এক নম্বর যুদ্ধ - কিন্তু ধর্মযুদ্ধ নয়। সক্কলে গিয়ে মস্তি করে ফিরে আসে। সিনেমার থেকে আলাদা আবেগ কোথায়? আমি তবুও তো সেই মানেটা বুঝি। কিন্তু আর্যেন্তিনা/ব্রাজিল/জার্মানী নিয়ে কোলকাতাবাসীর যে বাড়াবাড়ি/রেষারেষি তার তো কোনো কারণ খুঁজে পাইনা।

    "গভরমেন্টের বাইরে যে বড় ইকোনমি চলে সেটার কথাই তো হচ্ছে। সেই ইকোনমি যা শ্রীধর শ্রীনিবাসন বা মুকেশ আম্বানিকে বিশ্বের সেরা ২৫ বড়লোকের তালিকায় নিয়ে যায় আর আমি আপনি একটা নতুন পাখা কিনতে ফিনান্স খুঁজি। ক্রিকেট আমাদের ধর্ম বলে ধার করে ১০০০ টাকার টিকিট কিনে ইডেন ভরাই।"

    এইকথাগুলোর আমি কোনই মানে খুঁজে পেলাম না। তাহলে তো সিনেমা-সফ্টয়ার-থেকে মায় পাড়ার দোকান অবধি বন্ধ করে দিতে হয়। সরকারের বাইরে কোনো ইকনমির কোনো দাম নেই, বন্ধ করে দিতে হবে? কেউ যদি বড়লোক হয়ে যায় এই ভয়ে? এমন ইকনমি একমাত্র উঃকোরিয়াতে আছে শুনেছি। আমি বুঝলাম না সক্কলে করে খাচ্ছে - হঠাত ক্রিকেটারদের উপরে আপনার এতো রাগ কেন হোলো?

    "ক্রিকেট আমাদের ধর্ম বলে ধার করে ১০০০ টাকার টিকিট কিনে ইডেন ভরাই।" যার ক্ষমতা নেই, এইটা না করলেই তো হয়। তার জন্যে যাদের ট্যাকের জোর আছে তাদের জন্যেই থাকুক - ইন্ফ্যাক্ট তারা এটা করুক - এইকরে টাকা বেশি হাত ঘুরবে। কোনো বাধ্য বাধকতা নেই।

    "যতো টাকা আসে, ততো হাত ঘোরে কিনা - ইকোনমির সাধারণ শর্ত মেনে সে বিষয়ে কোন নির্দিষ্ট তথ্য আছে কি? নেই। রাখা হয়নি - শুধু প্রচারটা আছে।"
    ডিসির কমেন্টের বাইরে আর কিছু লেখার দরকার হয়না। তবুও,
    তথ্য?
    ১) আপিএলের সময় টিভি বিক্কিরি বেড়ে যায়।
    ২) খেলার সময় যেই গ্রাউন্ডে খেলা হয় লোকে পানীয়-খাদ্য-টিশার্ট কেনে।
    ৩) খেলার জন্যে অনেক অ্যাড ফিলিম তৈরী হয়। টিভি চ্যানেল গুলোতে কাজ বাড়ে।

    ইন্ডিয়ার ইকনমিতে ক্রিকেটের যে অবদান সেটা খুব খুব বড় - চাই আরো আরো বড় হোক। আর বিলিয়ন-ট্রিলিয়ন নাম্বারগুলো ব্যবহার করার আগে একবার বোঝার চেস্টা করুন সেগুলো কি? আর মুকেশ আম্বানী ক্রিকেট করে বড়লোক হোলো? কে জানে। শুনলাম তো নাকি কোনোমতে ব্রেক ইভেন করছে।

    আপনি বলছেনঃ সরকার ইকনমি সামলাবে আর প্রাইভেট কোম্পানী সমাজসেবা করবে। ভাবুন?
  • dc | 132.164.32.164 (*) | ৩০ মার্চ ২০১৫ ১২:৪৮86968
  • "ক্রিকেটকে সামাজিক, অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক প্রকল্পের দায়িত্ব নিতে হবে এমনও কোন বাধ্যবাধকতা নেই। কিন্তু দায়িত্ব না নিয়েও একটা 'বিরাট সামাজিক দায়িত্ব পালন করছে ক্রিকেট' এই মিথটারও কোন গুরুত্ব নেই সেটাও মানতে হবে। "

    ঠিক বলেছেন, ক্রিকেট একটা বিরাট সামাজিক দায়িত্ব পালন করছে এটা একেবারেই একটা মিথ। ক্রিকেট স্রেফ একটা খেলা, যে খেলা ঘিরে অনেকে ইনকাম করছে। এর বেশীও না, কমও না। যুদ্ধও না, সামাজিক প্রকল্পও না, স্রেফ খেলা।

    তবে একদম শেষে যেটা লিখেছেন, ক্রিকেট আমাদের ধর্ম বলে ধার করে ১০০০ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে ইডেন ভরাই, ওরকম যারা ক্রিকেটকে ধর্ম ভাবে তারাও বোকামো করে। আমি অনেকদিন হলো ক্রিকেট খেলা দেখা ছেড়ে দিয়েছি। তাও টিকিট কেটে স্টেডিয়ামে যেতে হলে আমার নিজের এনটারটেইনমেন্টের জন্যই যাবো, অন্য কোন কারনে না। আমার যদি মনে হয় ১০০০ টাকা ব্যয় করলে আমার ভালো টাইমপাস হবে তো টিকিট কিনবো, তাতে শ্রীনি বা আম্বানি কি করলো সেসব নিয়ে মাথা ঘামাবো না।

    "যতো টাকা আসে, ততো হাত ঘোরে কিনা - ইকোনমির সাধারণ শর্ত মেনে সে বিষয়ে কোন নির্দিষ্ট তথ্য আছে কি? নেই। রাখা হয়নি - শুধু প্রচারটা আছে।"

    এটা বোধায় ঠিক হলোনা। যতো টাকা আসবে ততো হাত না ঘুরে কিছু হাত ঘুরলেও দেশের ইকনমিকালি লাভ হবে। হাত ঘোরা মানেই কেউ ক্রিকেট থেকে ইনকাম করছে, তার একটা অংশ স্পেন্ড করছে, অন্য কেউ আর্ন করছে। খারাপ তো না!
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। চটপট মতামত দিন