• ডেরা সাচা সৌদা - সত্যি কাহিনি

    হরনিধ কৌর - অনুবাদ রৌহিন ব্যানার্জি লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা : বিবিধ | ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | ১৬৯ বার পঠিত | | জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
  • ডেরা সাচা সৌদার (ডি এস এস) এই হিংসাকে বুঝতে হলে আমাদের সবার আগে বুঝতে হবে পঞ্জাবে ডেরার সৃষ্টি কিভাবে হল এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার ভূমিকার কী পরিবর্তন হয়েছে সেই ইতিহাসকে। নির্ভয়ে।
    উত্তর ভারতের একটা বিরাট সংখ্যক দরিদ্র মানুষ, যাদের একটা বড় অংশই দলিত এবং পিছড়ে বর্গ এর মানুষ এবং ঐতিহাসিক কাল থেকে অত্যাচারিত এবং অবদমিত (উত্তর ভারতে এই জাতিগত অত্যাচারের তীব্রতা আশা করি পাঠককে মনে করিয়ে দিতে হবে না) তাদের নতুন আত্মপরিচয় দিয়েছে ডিএসএস – দীর্ঘকাল ধরে। এবং দিয়েছে নিরাপত্তা। এই নিম্নবর্গের মানুষগুলি প্রথম দিকে শিখ ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন কিন্তু সেখানেও উচ্চবর্ণের অত্যাচার তাদের পিছু ছাড়েনি। তত্ত্বগতভাবে শিখধর্মে কোন জাতিভেদ নেই কিন্তু দুর্ভাগ্যবশতঃ প্রকৃত ছবিটা অত সুন্দর নয়। ধর্মীয় রাজনীতিতে জাঠ-ক্ষত্রী গোষ্ঠীই মূল নিয়ন্ত্রক, বিশেষত গুরদোয়ারার বিভিন্ন কমিটিগুলিতে এদের উপস্থিতিই প্রধান এবং নির্ণায়ক। এই নব্য শিখদের তাঁরা অত্যন্ত সুকৌশলে এই ক্ষমতাকেন্দ্রগুলির বাইরে রাখেন এবং দমন করেন কারণ স্বভাবতঃই এদের অন্তর্ভুক্তি তাঁদের ক্ষমতার স্থিতাবস্থায় আলোড়ন আনার সম্ভাবনা রাখে।
    এই ধরণের নানান বঞ্চনা আর অত্যাচার এই মানুষগুলোর মোহভঙ্গ ঘটাচ্ছিল, সেই সঙ্গে জন্ম নিচ্ছিল ক্রোধ এবং হতাশা। অথচ এর থেকে বেরোনোর কোন রাস্তা তাদের সামনে খোলা ছিল না। ফলস্বরূপ সমাজের একটা বড় অংশ ড্রাগ এবং অন্যান্য নেশার ঝোঁকে পড়ে যাচ্ছিল। এক সময় প্নজাব আর নেশা প্রায় সমার্থক হয়ে গেছিল – অশিক্ষা আর দারিদ্র পরিস্থিতিকে আরো খারাপ করে তুলছিল ক্রমশঃ। মানুষগুলো উদভ্রান্ত, দিশাহারা হয়ে পড়ছিলেন। স্বভাবতঃই এই প্রেক্ষিতে যখন ডেরা সাচা সৌদার মত আশ্রম এগিয়ে এল তাদের ত্রাতা হিসাবে, এরাও সাড়া দিলেন। না দেবার কোন কারণ ছিল না, কারণ ডেরা তাদের সম্মানজনক জীবনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ডেরায় এই মানুষগুলির শিক্ষালাভের ব্যবস্থা আছে, তাদের ড্রাগ ও অন্য নেশা থেকে দূরে রাখার ব্যবস্থা আছে এবং সর্বোপরি, খাদ্যসংস্থান আছে। ডেরা তাদের কর্মসংস্থান দেয়, জীবনের উদ্দেশ্য দেয়। দিশাহারা অসহায় মানুষের কাছে খড়কুটোর মতন যে বাবাজী দিশা দেখাচ্ছে, সে রেপিস্ট কি না জানতে বা মানতে তাদের বয়ে গেছে। ভুললে চলবে না – পেটে সর্বগ্রাসী খিদে থাকলে কে আমাকে খাবার দিচ্ছে, সে খুনী না ধর্ষক, তাতে আমার কিছুই এসে যায় না।
    আমরা গত ক’দিনে যা দেখলাম তাকে শুধুমাত্র মিসোজিনি এবং ধর্মীয় উন্মাদনা বলে ভাবলে মস্ত ভুল হবে। এগুলি তো অবশ্যই ছিল – কিন্তু তার থেকেও বেশি যেটা ছিল, তা হল নিরাপত্তাহীনতার বোধ। আমি আপনি, অবশিষ্ট ভারত যেটাকে “বিচার” এবং “রায়” বলে ভাবছি, এই মানুষগুলোর কাছে তা কিন্তু একটা বিপজ্জনক খাদের ধসে পড়া – যে খাদ থেকে তারা উঠে এসেছে একটু একটু করে। আজ আমরা যা প্রত্যক্ষ করলাম, তা আসলে দেড়খানা প্রজন্ম ধরে একটু একটু করে আঁচে তপ্ত হয়ে তিলে তিলে তৈরি হয়েছে। আমরা যখন জাতি হিসাবে “উন্নত” হয়ে উঠছি একটু একটু করে, আমরা ক্রমশঃ ভুলতে বসেছি যে উন্নয়ন প্রকৃত অর্থে অর্থনীতির একদম প্রাথমিক সুত্র ধরেই মূলতঃ অসম, অযৌক্তিক, অন্যায়ের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে এবং তার বহু সমস্যা রয়েছে। এই দাঙ্গা আর প্রাণহানি থেকে আমরা কি এটুকু শিখব যে আমরা যদি দিনের পর দিন অন্য কারো নুয়ে পড়া পিঠের ওপর দাঁড়িয়ে ওপরে ওঠাটাকে উন্নয়নের নামে চালাতে চাই, সেই মানুষগুলোও একদিন উঠে দাঁড়াতে চাইতেই পারে?
    মজার ব্যপার হল একজন ঝানু রাজনীতিবিদ কিন্তু এই অন্যায় অযৌক্তিক খেলাটা বোঝেন। কখন কোন কৌম একটা ভোটব্যাঙ্ক হয়ে ওঠে সেটা তারা বোঝেন এবং সেই ভোটব্যাঙ্ককে লালন পালন করায় প্রয়োজনীয় মদত দেন। সেই কারণেই তাঁরা রাজনীতিবিদ। এক্ষেত্রে স্বভাবতঃঅই ডেরার উত্থান ও বিকাশের পথে মদত দিয়ে এসেছেন রাজনীতিবিদেরা দলমত নির্বিশেষে। ডেরার যাবতীয় অপকর্ম, কু-সংস্কারকে এরা সমর্থন করেছেন, প্রত্যক্ষে বা পরোক্ষে, এই বিপুল ভোটব্যাঙ্কের কথা মাথায় রেখে – এবং এভাবেই ডেরা প্রায় একটি মুক্তাঞ্চল হয়ে উঠেছে একটু একটু করে। ডেরা ভক্তদের নিজেদের মধ্যে লড়াই বাঁধলেও হিংসা উন্মত্ত আকার নেয় কিন্তু প্রায় কখনোই প্রশাসন বিশেষ নাক গলায় না – কারণ রাজনীতিবিদেরা এতে মদত দেন। এভাবে সহজেই ডেরা তাদের প্রভাবাধীন থাকতে পারে। বহু রাজতন্ত্রে যেমন রাজাকে ঈশ্বরের প্রতিনিধি ঘোষণা করে তাঁর শাসনকেই চূড়ান্ত বলে মেনে নেওয়া হয়, ডেরার ক্ষেত্রেও তার গুরুজীর জন্য একই ব্যবস্থা। বাবাজীই ঈশ্বর।
    তাহলে শেষমেষ আমরা কী পেলাম? পেলাম মানুষের অসহায়তা, অনিশ্চয়তাকে ব্যবহার অর্জন করে দায়হীন দেবত্বের এক কাহিনী। ড্রাগের নেশার বদলে বিশ্বাস আর নিরাপত্তার নেশায় আম্নুষকে ভোলানোর মরণফাঁদ। ধর্মকে বলি আফিম – কিন্তু অন্ধবিশ্বাস? সে আরো অনেরক বেশি ভয়ঙ্কর। একবার যদি বিশ্বাস গেঁড়ে বসে, তার মত মরণফাঁদ আর একটাও নেই। এখন ডেরার নিজস্ব দল আছে যারা স্বেচ্ছায় ডেরার জন্য মরতে এবং মারতে প্রস্তুত – ফিদায়েন জঙ্গীদের মতই। এবং এদের তৈরি করেছি আমরাই – আমাদের অবজ্ঞা দিয়ে, আমাদের ঘৃণা দিয়ে, আমাদের উচ্চ বর্ণের, উচ্চ বর্গের অহঙ্কার দিয়ে। এই উন্মত্ত প্রতিবাদকারীদের দিকে যখন তাকাবেন, একথাটা স্মরণে রাখবেন। আমরা দায়ী, ভীষণ, ভীষণভাবে দায়ী।
    হরনিধ কৌরের অনুমতিক্রমে অনূদিত।
  • বিভাগ : আলোচনা | ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | ১৬৯ বার পঠিত | | জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • পাতা :
  • dd | 59.207.59.176 (*) | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ০২:৪৮82160
  • "বড়লোক মুসলমান রাও, একেবারে ইমিগ্রান্ট মুসলমান না হলে, ঘেটোর কাছে র পাড়া গুলোতেই থাকেন। হলিউড যেমন হোয়াইট ওয়াশ্ড, আমাদের দেশ অনেক বেশি দিন ধরে তাই।" - হানু উবাচ।

    নাঃ। সারা দেশে নয়। লুরুতে নয়।

    বিশাল বিশাল ফ্ল্যাট বাড়ী। গেটেড কমুনিটি। তাতে সর্ব ধর্ম সমন্বয় থাকে। কেউ জানেও না, টেরও পায় না, নেক্ষ্ট ডোর নেবারের জাত ধর্ম কী। আমি ই একদা একটা ফ্ল্যাট বাড়ীতে ছিলেম যেখানে বারোটা ফ্ল্যাটের মধ্যে চারজন মুসলিম, চারজন খ্রীষ্টান আর চারজন হিঁদু। এ যেন সরকারী বিজ্ঞাপনের মতন।

    আমার তিন মে যখন হেথায় স্কুল কালেজে পড়তো তখন তাদের প্রচুর সংখ্যায় মুসলিম ও খ্রীষ্টান সহপাঠী ছিলো। যেটা কলকেতায় নেই।

    সায়ণ ও একবার হিসেব দিয়েছিলো ওর গেটেড কম্যুনিটির - সেখানেও এইরকম হিসেব। শুনেছি মুম্বাইএর ও অনেক অঞ্চলে তাই।
  • h | 194.185.177.155 (*) | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ০৫:৩৩82161
  • শহরের মধ্যে অভিজ্ঞতার প্রতিযোগিতা করে লাভ নেই, সারা দেশে বড়লোক হলেই, ফ্ল্যাট কেনার পয়সা থাকলেই, মুসলমান রা ভীষণ গেটেড কমিউনিটির মধ্যে জায়গা পাচ্ছেন , বা ফ্ল্যাট কিনে উঠতে পারলে, ভীষণ সকলের একজন হয়ে বাঁচছেন, এবং ভীষণ পশ্চিমী কসমোপোল্লিটান কায়দায় কেউ কারো খবর রাখছেন না, এরকম খবর আমার কাছে নেই। অভ্জ্ঞতাও তা বলে না। আমি ৯২ থেকে ২০০০ এবোঙ্গ পরে ২০০০ এর দশকের একেবারে শেষ দিকটা ভারতের নানা শহরে থেকে, বিভিন্ন ধরণের সংখ্যালঘু দের জন্য ভীষণ খোলামাঠ দেখেছি , এটা বলতে পারি না। বিভিন্ন জেঠু দের বিভিন্ন খবর দিতে দিতে ক্লান্ত লেগেছে জীবনে অনেকটা, যতদিন না পর্যন্ত, আমার ভুঁড়ি ওয়ালা সেফ মিডল ক্লাস অ্যাকসেপ্টেবিলিটি তৈরী হয়েছে, সহজে হয়েছে হিন্দু উচ্চ বর্ণ হওয়ার কারণেই। দেশটা ভারতবর্ষ, এখানে আধুনিক কসমোপৈল্টানিজম তৈরী হয় নি তা না খুব ই সীমিতা ভাবে হয়েছে। আশা করি ইমরান হাশমির কন্ট্রোভার্সি র কথা সবার মনে আছে। আরেকটা কথাও যুড়ে দি, আমেরিকায় বড়লোকতম শহরের বড়লোক তম পাড়া গুলোর মধ্যে অফ অল প্লেসেস, যেখানে কোন বাড়ি ই হয়তো মিলিয়ন ডলারের কম দাম না, সেখানেও আমার বিশাল বড়লোক বন্ধুদের ও রেশিয়াল প্রোফাইলিং হজম করতে হয়েছে। তারা যদি অবিশ্বাসী হিন্দু না হয়ে বিশ্বাসী মুসলমান হত, তাহলে ব্যাগড়া বাড়ত, নানা অজুহাতে বাড়িটাই হয়তো বিক্রি হত না।

    এই জিনিস আছে, বলেই সারা পৃথিবীর সব বড় শহরে ঘেটো আছে। আমরা মজা করে বলতাম, আরে সাদ্দাম কে পাওয়া যাচ্ছে না ইরাকে, এজওয়ার রোডে একটু রাত করে খোঁজো দেখবে কোন দোকানে বসে হুঁকো খাচ্ছে। সি এল আর জেম্স এতো সাহেব এতো সাহেব, লর্ড্স এ ক্লাব হাউজে গেলে, লোকে উঠে দাঁড়াতো, কালো হওয়ার কারণেই থাকতেন সেই সালা ল্যাম্বেথ এ, মে ফেয়ার বা ব্লুমসবেরি তে না। বিদেশে ঐতিহাসিক কসমোপোলিটানিজম একবার ই কনভিন্সিং লি চোখে পড়েছিল। মাই ফেয়ার লেডির সেই , ডাক্তার আর বড়লোক ইন্টেলেকচুয়াল পাড়া, উইম্পোল স্ট্রীট এর কাছেই ব্রুক স্ট্রীটে সম্ভবত, তার কাচাকাছি জয়গায়, অক্সফোর্ড স্ট্রীটের পেছনে, একটাই ফ্ল্যাট, তাতে ১৬৬৮ তে থাকতেন, সুরকার হ্যান্ডেল, তখন তিনি হাপসবার্গ রাজবাড়ির বরাতে , ওয়াটারমুজিক করতে লন্ডনে এসেছেন, তার ঠিক পাশের ফ্ল্যাট তাতেই ১৯৬৮ তে থাকতেন জিমি হেন্ড্রিক্স, অফ অল পিপল, আই বলছি কিছু পাড়া যাছে যাতে এই তিনশো বছরের মোবিলিটি ও রেয়ার, সারা পৃথিবীর বড় শহরে।

    স্পেসিফিক ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ট্রেডিং এ যাচ্ছি না। কলকাতা , বম্বে, পুনা এই তিঅন্টে শহরে আমি নব্বই এর দশক থেকে থেকেছি, নাগরিক সহাবস্থান দেখি নি তা না, কিন্তু এমন কি বড়লোক মুসলমান দের সোশাল মোবিলিটি তে বিশেষত ফিজিকাল স্পেস শেয়ার করার ব্যাপারে, ডিসক্রিমিনেশন নেই, এ দাবী করা মিথ্যাচার হবে।

    কথাটা কলকাতা র পাড়া অর্গানাইজেশনে কাস্ট লাইন্স এর কথা হচ্ছিল, খুব সঙ্ক্ষেপে যেটা বলা যায়, কলকাতার মুসলমান পাড়া গুলো তেই আশে পাশে বড়লোক মুসলমান রাও থেকে গেছেন। বাঙ্লাভাষী হিন্দু উচ্চবর্ণ রা , যেমন ভাবে পছন্দ মত, বা পকেট অনুযায়ী, আর্বান এক্সপ্যানসন এর সঙ্গে সঙ্গে সরে গেছেন, এটা মুসলমান মিডল ক্লাসের বেলায় হয় নি। যদিও এটা মেনে নিতে অসুবিধে নেই, হলেও বোঝা যেত না, কারণ কলকাতায় মুসলমান দের মিডল ক্লাস এর সাইজ খুব ছোটো। হ্যাঁ বাঙ্লাভাশী মুসলমান প্রফেসনাল যাঁরা তাঁরা হয়তো জেলা থেকে এসে কলকাতায় বাড়ি কিনছেন কেউ কেউ, তাকে আগেই বলেছি , ইমিগ্রান্ট বলেই ধরছি। কিন্তু কলকাতার হিন্দী উর্দু ভাষী বড়লোক বা মিডলক্লাস মুসলমান, মূলত পুরোনো পাড়াগুলোতেই রয়ে গেছেন। ইনভেস্ট করে থাকলে আলাদা কথ। সে হয়তো চিৎপুরের রোডের বা লিন্ডসে স্ট্রীটের বড়লোক মুসলমান, পার্ক সার্কাসে নতুন বড় ফ্ল্যাট কিনে পরিবার কে শিফ্ট করেছেন, কিন্তু তাইবলে সন্তোষ্পুরে ফ্ল্যাট কিনে আপিস করছেন না। এটাই কলকাতার বাস্তব। হতেই পারে, প্রফেসনাল ক্লাসটাই এতো ছোটো, নগন্য সংখ্যায় তাঁরা ফ্ল্যাট কেনার জায়গায় আশছেন, নতুন গেটেড কমিউনিটি গুলো তে, সেটাও মূলতঃ সোশাল মোবিলিটির অভাবের কারণ।

    পাই, এটা দীপেশ চক্রবর্তীর অনেক দিনের থিম, পড়ে নিস। ওনার লেখাও পড়তে পারিশ, ওনার লেখাকে রেফার করে কোটি কোটি লোক লিখে হেজে গেছে, তাও পড়তে পারিস ঃ-)) এ ব্যাপারে অপেশাদার হিসেবে আমি আর নতুন কি বলবো।
  • h | 194.185.177.155 (*) | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ০৫:৪২82162
  • অমি এই বক্তব্যের সঙ্গে কেন কখন একমত নই, সেটা সহজে অনুমেয়, তবে হি হ্যাজ হিজ শেয়ার অফ কম্পেলিং আর্গুমেন্ট্স। তবে আমি এই বিষয়ে প্রশিক্ষিত লোক নই, এর চেয়ে বেশি হেজিয়ে লাভ নেই।
  • Rabaahuta | 132.167.22.211 (*) | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ০৫:৪৪82165
  • আমাদের অ্যাপার্টমেন্টেও এক ভদ্রলোক/ পরিবারকে ফ্ল্যাট বেচা হয়নি ধর্মপরিচয়ের কারনে। পরে জেনেছি।

    অবশ্য আগে জানলেও কিছু হতো না, দামে পোষাচ্ছে, লোন পাচ্ছি, সর্বসুবিধা। প্রোমোটারের চাড্ডীপনার প্রতিবাদে আত্মত্যাগ কি আর করতাম। 'পরে জেনেছি'টা নিছকই সান্ত্বনা বা অজুহাত।
    ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা আরকি।

    এইবার যদি ধরি ব্যান্ক ম্যানেজারও সমমনস্ক, তাহলে ঐ ভদ্রলোকের লোন পাওয়াও শক্ত।
    যাগ্গে।
  • aranya | 83.197.98.233 (*) | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ০৫:৫১82163
  • রিভার্স ডিসক্রিমিনেশন বা প্রেশার-ও থাকে, কোন কোন ক্ষেত্রে। আমার এক হিন্দু বন্ধুর কয়েক পুরুষের বাড়ি ছিল খিদিরপুরে, মুসলমান পাড়ায়। হুমকি এবং চাপে পড়ে বাধ্য হয়ে বাড়ি বিক্রি করে অন্যত্র যান। প্রতিবেশী এক মুসলিম ডাক্তার বাড়িটা কেনেন এবং ওদের বলেন - ঠিকই করছেন, এখানে আপনারা থাকতে পারবেন না।
    খুবই কম ঘটে হয়ত এমন ঘটনা, কিন্তু একেবারে বিরল নয়
  • h | 194.185.177.155 (*) | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ০৭:২১82166
  • ঠিক ই বলেছো, আমাদের অনেকের ই গ্লানি এবং গ্লানিসুখের আত্মরতি এ ছাড়া কিসুই করা হয়ে ওঠে না। আমার পরিবার একটা বড় অংশ ফুল বিজেপি হয়ে গেল, তারা জে এন ইউ যাদবপুরে নিউক্লিয়ার অ্যাটাক হলে বোধ হয় খুশি হবে, ইচ্ছে করে না কথা বলতে, তাও বলি, জমি তো ফুল ছাড়া যাবে না, যে কোন ফোরামে।
  • h | 194.185.177.155 (*) | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ১২:৩১82164
  • হ্যাঁ, আবার চারিদিকে মুসলমান, একটু ভালো পাড়ায় যাই বাবা, এটাও রয়েছে।

    হ্যা ইহাই মেজরিটারিয়ান ডিসকোর্স। এবং স্কেলে র তারতম্যটা বোঝার জন্য সাচার কমিটির রিপোর্ট ছাড়া আমাদের হাতে বিশেষ কিছু নেই। তবে নতুন টাউনশিপ আর বড় হাউজিং গুলোয় ভোটার'স লিস্ট দেখা যেতে পারে। বিধান সভা ক্ষেত্র বা পার্ট ধরে।

    টিপুর অনুগামীদের টলিগঞ্জে এব`, ওয়াজিদ আলি শাহ র এন্টুরেজ কে খিদিরপুরে বসানো হয়েছিল এবং কনফাইন করে রাখা হয়েছিল। আদি ঘেট্টো ওখানে। আর নাখোদা মসজিদ অঞ্চলে আরেকটা এলাক তৈরী হয়, তবে সেটা ট্রেডার দের নিজেদের স্থাপিত বসতি। আমি চান`দনি নিয়ে বিশেষ পড়াশুনো এখনো করে উঠতে পারিনি। কিছু ডেটা পেলে শেয়ার করা যাবে। তো মেজর এলাকাই ঘেটো হিসেবেই তৈরী।

    কলকাতায় দুটো ঘটনা একটু মাথায় রাখা দরকার। বিজয়গড়ে এবং আনোয়ারশাহ রোডের পেছনে বা এখন যেটা গল্ফগ্রীন, ইত্যাদি তে যখন রিফিউজি আন্দোলন চলছে, খুব কষ্ট করে রিফিউজি রা সেটল করছেন, তখন সেখানকার মুসলমান রা ডিসপ্লেস্ড হয়ে পার্ক সার্কাসে আসছেন। আর তার ও আগে, সি আই টি রোড তৈরীর আগে এন্টালি ওয়াজ দ্য এরিআ অফ দোজ অন বর্ডার লাইন্স। সি আইটি রোড তৈরী হওয়ার পরে, এবং ঝাউতলা রোড , কঁগ্রেস এগজিইবিশন রোড এই জায়গা গুলো সংজুক্ত হওয়ার পরে বড়লোক মুসলমান দের এখানেই বেশি দেখা যাচ্ছে। খিদির পুর এবং চিৎপুর রোডের নাখোদা মসজিদ সংলগ্ন এলাকার বাইরে। কিন্তু পার্ক সার্কাস ঠিক কত সাল থেকে প্রিডমিনান্টলি মুসলমান বস্তি হয়ে উঠছে, সেটা সি আই ট রেকর্ড্স এ পরিষাকার না, মিউনিসিপাল রেকর্ড্স এ কিছু আছে, সেটার ডিটেল এখন মনে নেই।
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • পাতা :
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত