• বুলবুলভাজা  আলোচনা  পরিবেশ

  • বনমহোৎসবের ব্যাপারস্যাপার

    অনিন্দিতা রায় সাহা
    আলোচনা | পরিবেশ | ২১ জুলাই ২০২১ | ৪৩৭ বার পঠিত | ১ জন
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • বনমহোৎসবের ব্যাপারস্যাপার
    একটি গাছ, একটি প্রাণ।
    গাছ আমাদের বন্ধু।
    গাছ লাগাও, পরিবেশ বাঁচাও।

    এমনি হাজারো স্লোগান। এসেছে বর্ষার মরশুম, বৃক্ষরোপনের সময়। শহরের স্কুল, কলেজ, আপিস, কাচারী, সরকারি, বেসরকারি, পাড়া, ক্লাব সব জায়গাতেই গাছ লাগানোর জোরদার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পরিবেশকে বাঁচাতে বনমহোৎসবের আয়োজনকে সাধুবাদ। এ বছর বিশ্ব পরিবেশ দিবসে জাতিসংঘের আহ্বান Reimagine Recreate Restore. অর্থাৎ নিজেদের বাঁচাতে, পরিবেশকে বাঁচাতে, পৃথিবী গ্রহকে বাঁচাতে আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে, নতুন করে গড়তে হবে, নতুন করে পুরোনোকে উদ্ধার করতে হবে। এক কথায় জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে হবে, পশুপাখি ও গাছপালাকে আমাদের পাশাপাশি সমানভাবে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। তাই আরো আরো গাছ লাগানো, আরো আরো হরিৎ পট্টি গড়ে তোলা।

    বনমহোৎসবের ধুমধাম আর সরকারি নিয়মরক্ষা মিটে গেলে আমরা গাছের প্রতি কতখানি যত্নবান থাকি সে প্রশ্ন নিন্দুকের মনে আসতেই পারে। বঙ্গদেশে অবশ্য একটা প্রাকৃতিক সুবিধা এই যে এখানে জলের অভাব নেই, অন্তত এই বৃষ্টির মরশুমে চারাগাছগুলি বাড়ার সময় তো নয়ই। তাই কলকাতার রাস্তার ধারে কিছুদিন পরে শুকিয়ে যাওয়া চারাগাছ দেখতে হয় না, দেশের অনেক জায়গাতেই যা চোখে পড়ে। বৃক্ষরোপন উৎসবের পরে আমরা ফুটপাথ বাঁধিয়ে ফেলবো কিনা, খোঁড়াখুঁড়ি করে রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ, টেলিফোন বা বৈদ্যুতিন তার পাঠাবো কিনা, সেসব অপ্রিয় প্রশ্ন। আরো গোড়ার কথা হচ্ছে, গাছ লাগানোর আগেও অনেক বিষয় ভাবার থাকে, যেমন, কী গাছ লাগানো উচিত, কোথায় লাগানো উচিত, পশুপাখি বা মানুষ কার জন্য লাগানো হচ্ছে, এইসব আর কি। যদিও গাছগাছালি নিয়ে গবেষণাগারে কাজ হয়, তবু এইসব সামাজিক কার্যক্রম আমাদের দেশে খুব একটা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে করা হয় না। যথাযথ পরিকল্পনা আর বৈজ্ঞানিক ধারণার রূপায়ণ ব্যতিরেকে গাছ লাগালে তার ফল সবসময় ভালো নাও হতে পারে। বনমহোৎসবের মরশুমে গাছগাছালি সম্বন্ধে এমনই কিছু বিষয় সুধী পাঠকের সামনে তুলে ধরার জন্য এই আলোচনা।

    গাছ লাগানোর মূল উদ্দেশ্য হ'ল তাদের জৈবিক গুণাবলী আমাদের সুবিধার্থে ব্যবহার করা। আমরা জানি, শীতলতা আর ছায়া দেওয়া ছাড়াও গাছ মাটির ক্ষয় রোধ করে এবং বৃষ্টির জল ধরে রাখে। সেই সঙ্গে গাছ বায়ুমণ্ডলীয় কার্বন ডাই অক্সাইড এবং অন্যান্য গ্যাসকে অঙ্গে ধারণ করে। বিভিন্ন মাপের ও মানের ধূলিকণা গাছের পাতায় বসে গেলে বায়ুতে প্রদূষণের মাত্রা কমে যায়। এমন হরেক রকম উপকারিতা আছে বলেই না গাছ আমাদের বন্ধু! বৃক্ষরোপন করে সেই বন্ধুত্বকেই আরো এগিয়ে নিয়ে চলা। এই প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাপী প্রচলিত একটি সাম্প্রতিক ধারণার উল্লেখ করা যেতে পারে, যার নাম সবুজ পরিকাঠামো বা Green Infrastructure (GI). এটি একটি সবুজ জাল, যার মধ্যে বিভিন্ন জৈবিক প্রজাতি এবং একাধিক মানবিক ক্রিয়াকলাপ একসাথে মিলেমিশে থাকে। ঘনবসতিপূর্ণ শহরে ও শিল্পাঞ্চলে এর প্রয়োজন অতি ব্যাপক। শহুরে সবুজায়ন (Urban Greening) আজকের দুনিয়ায় শহুরে বাস্তুতন্ত্র (Urban Ecosystem) রক্ষা করার ও জীববৈচিত্র্য বজায় রাখার এক শক্তিশালী হাতিয়ার।

    যে সুবিধাগুলির জন্য শহরে গাছ লাগানোর ওপর এতো গুরুত্ব দেওয়া হয়, সেগুলি হচ্ছে প্রধানত বায়ু দূষণ হ্রাস, বায়ুর গুণগত মানের উন্নতি, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং শব্দদূষণের সংশ্লেষ। বাতাসে ভেসে থাকা ধূলিকণা (Suspended Particulate Matter বা SPM) নিয়ে বিপুল সমস্যা আমাদের সংবাদপত্রের নিয়মিত শিরোনাম। এই SPM গাছের পাতায় জমে গেলে বায়ুর দূষণ কম হয়। ধূলিকণা হ্রাস করার এই পদ্ধতিটির (Dust Attenuation) পরিমাপ খুব সহজ। ধরা যাক, কোনো অঞ্চলে গাছের সারি রয়েছে। এবার সেই এলাকার ভেতরের ও বাইরের দূষণের স্তরের মাত্রা মেপে একটি অনুপাত (Dust Attenuation Factor) কষা যায়। যদি এর মান ১-এর কম হয়, তাহলে তার অর্থ বাইরের সব ধূলিকণা ভেতরে ঢুকতে পারে নি। অর্থাৎ গাছের সারি দূষণকে আটকে বা কমিয়ে দিয়েছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যেসব অঞ্চলে প্রচুর গাছ আছে, সেখানে SPM-এর মাত্রা ১০% থেকে ২৫% পর্যন্ত কম হয়ে যায়। শিল্পাঞ্চলে গাছপালা থাকলে এই মাত্রা প্রায় ৫০% কম হতে পারে। ভারী যানবাহন চলাচলের এলাকায়, বাস টার্মিনাল, পেট্রোল পাম্প ইত্যাদির আশেপাশের অঞ্চলে বায়ু দূষণের মাত্রা হ্রাস করার জন্য তাই গাছ অপরিহার্য।

    এবার প্রশ্ন, গাছ তো লাগানো হবে, কিন্তু কোন প্রজাতির গাছ? জানা থাকা ভালো যে, সমস্ত গাছ দূষণকে সমানভাবে রোধ করতে পারে না। গাছেদের এই ক্ষমতা পরীক্ষা করার যে সূচক তাকে বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় বলা হয় বায়ু দূষণ সহনশীলতা সূচক (Air Pollution Tolerance Index বা APTI). এই APTI সংখ্যাটি ধূলিকণা এবং বায়বীয় দূষকের প্রতি গাছের সহনশীলতা বুঝতে সাহায্য করে। এটি পাতায় ক্লোরোফিল, অ্যাসকরবিক অ্যাসিড, অম্ল-ক্ষারক অনুপাত বা pH ফ্যাক্টর এবং জলীয় সামগ্রীর স্তরের উপর নির্ভর করে। এর মান যত বেশি, গাছের দূষণ রোধ করার ক্ষমতাও তত বেশি। গবেষণায় পাওয়া বিভিন্ন গাছের APTI মানের সাধারণ গড় হচ্ছে: পর্ণমোচী ১৪-২৪, চিরহরিৎ ১২-২০, ঝোপঝাড় ১০-১৮ এবং ঘাস ১৬-২৯। এগুলি সাধারণভাবে প্রাপ্ত APTI মানের ভিত্তিতে সংজ্ঞাবদ্ধ করা হয়েছে। এই হিসেব অনুযায়ী আমাদের খুব চেনা কিছু গাছের গুণ দেখে নেওয়া যাক। পরিচিত পর্ণমোচী শ্রেণীর গাছের মধ্যে সবচেয়ে ভালো শিরীষ (৩২), অমলতাস (২৮), নিম (২২), অশ্বত্থ (২০), পেয়ারা (১৮), আমলকি ও তেঁতুল (১৪)। চিরহরিৎ শ্রেণীর মধ্যে দূষণ রোধকারী গাছেরা হল বট (১৯), দেবদারু (১৮), অর্জুন (১৬) ইত্যাদি। আমাদের অতি প্রিয় আম (১২), আতা (১০) সজনে (১২) গাছেরা এই সূচক অনুযায়ী একটু পিছিয়ে আছে। অন্যদিকে কাঁটাঝোপের দিকে তাকালে দেখা যায় সবচেয়ে ভালো গাছ বোগেনভিলিয়া (৩০)। রাস্তার দুই ধারে যে রংবাহারী বোগেনভিলিয়ার ঝাড় লাগানো হয়, তার কারণ শুধু তার সৌন্দর্য নয়, তার প্রদূষণ সহ্য করার ক্ষমতাও। ঝোপঝাড়ের মধ্যে আকন্দ (২৭), লেবু (১৫) আর গোলাপ (১২) আছে বোগেনভিলিয়ার পরেই। বিভিন্ন গবেষণায় এই মানগুলির কিছু কিছু তারতম্য পাওয়া যায় কারণ নানা জায়গায় পরীক্ষিত গাছগুলি আগে থেকেই নানা মাত্রায় দূষণের শিকার। তাই বিশুদ্ধ মাপ পাওয়া সবসময় সম্ভব নয়।

    দূষণ সহ্যশক্তির পরে গণনা করা হয় গাছের প্রত্যাশিত পারদর্শিতা সূচক (Anticipated Performance Index বা API). এই হিসেবের ক্ষেত্রে নজর দেওয়া হয় আরো কয়েকটি জৈবিক বিষয়ের ওপর, যেমন, গাছের প্রকৃতি (plant habit), পাতার মাপ (laminar size), চাঁদোয়ার বিস্তার (canopy size) ইত্যাদি। এগুলির ভিত্তিতে গাছকে কিছু নম্বর দেওয়া হয়। এইসব জৈবিক গুণাগুণের পাশাপাশি গাছটির অর্থনৈতিক মূল্য (economic value) বিচার করাও জরুরি। বিচার্য গাছের অন্তত দু-তিনটি ব্যবহার্য গুণ থাকা দরকার। যেমন, ওই গাছের ডাল, পাতা, ফুল, ফল আমাদের কোনো কাজে লাগে কিনা, ওই গাছে মৌচাক হয় কিনা ইত্যাদি। API হল উপরে উল্লিখিত জৈবিক সূচক, প্রদূষণ সহ্যশক্তি সূচক ও অর্থনৈতিক সূচকের একটি সম্মিলিত গড়। গাছের পাতার APTI যেমন প্রদূষণকে নিষ্ক্রিয় করতে কার্যকরী হয়, তেমনি পাতার প্রকৃতি, মসৃণতা ইত্যাদিও প্রদূষক ধূলিকণা ধারণে সাহায্য করে। API এই সবগুলি লক্ষণকে একত্র করে একটি সম্মিলিত মান কষে দেয়। API মান ৯০% এর ওপরে হলে সেই গাছ সবচেয়ে উৎকৃষ্ট। ৩০% থেকে ৭০% পর্যন্ত API-যুক্ত গাছেরা পরিস্থিতি অনুযায়ী উপযুক্ত বলে গণ্য হয়। আর API ৩০% এর কম হলে সেই গাছ পুরোপুরি বর্জ্যনীয়।

    সামগ্রিক বিচারে যে গাছগুলি গ্রহণযোগ্য, সেগুলি হল বট, অশ্বথ, পলাশ, চম্পা, নিম, আম, অমলতাস ইত্যাদি। পাতার আকার ছোট হওয়া সত্ত্বেও বড় চাঁদোয়া থাকার দরুন আর গুণাগুণের কারণে নিম একটি ভাল গাছ। ফলধারী আমের ক্ষেত্রেও একই কথা। উচ্চ মানযুক্ত গাছগুলি সবই বড় আকারের আর তাই এদের বেড়ে উঠতে অনেক বেশি সময় লাগে। তবু গুণগত কারণে এগুলিই উৎকৃষ্ট। বৃক্ষরোপনের দায় মেটাতে চটজলদি বেড়ে ওঠা গাছ নয়, এই গুণী গাছগুলিকেই লাগানো দরকার। দ্রুত বর্ধনশীল বলে ইউক্যালিপটাস একসময় খুব প্রাধান্য পেয়েছিল। কিন্তু তার ক্ষতির দিকগুলি এখন সকলেরই জানা।

    এই যে গাছগুলি দূষণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য হিসাবে গ্রাহ্য হল, সেগুলি আরো একটি দিক থেকেও জোরদার সুপারিশ পেতে পারে। আম, জাম, নিম, বট, অশ্বত্থ জাতীয় গাছেরা হাওয়ার মুখে অনেক বেশি মজবুত। রাস্তার দু’ধারে রাধাচূড়া, কৃষ্ণচূড়ার ফুলের শোভা আমরা দেখতে ভালোবাসি। কিন্তু এগুলি ঝড়ের সময় হাওয়ার বেগে ভেঙে পড়ে খুব সহজেই। আজ যখন সাইক্লোন আমাদের দোসর হয়ে উঠেছে, তখন শহরে বৃক্ষরোপনের ক্ষেত্রে এদের বাদ দিতে হবে বৈকি! সেই তুলনায় বকুল আর ছাতিম অপেক্ষাকৃত ভালো ফুলের গাছ। ফণী ঘূর্ণিঝড়ের পরে ভুবনেশ্বরে উদ্যোগ নিয়ে বৃক্ষরোপনের পুরোনো প্রথা বদলে বকুল আর ছাতিম লাগানো শুরু হয়েছে। তবে যে কোন বড়ো গাছ নিয়েই ভেঙে পড়ার ভয় থাকে, বিশেষত বুড়ো হলে।

    অভ্যন্তরীণ গুণাগুণ বাদে গাছের দূষণ রোধ করার ক্ষমতা স্থানীয় জলবায়ুর অবস্থার উপরও নির্ভর করে। তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং বাতাসের গতি দূষণ হ্রাস করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। হাওয়ার অভিমুখ সহায়তা করলে খুব বেশি দূষিত এলাকাও অনেকখানি পরিষ্কার হয়ে যেতে পারে। কিন্তু আবহাওয়া সম্পর্কিত কারণগুলি পরিবর্তনশীল। তাই সঠিক ধরণের গাছ নির্বাচনকেই শহুরে সবুজায়ন প্রকল্পগুলিতে বেশি প্রাধান্য দেওয়া উচিত। উপযুক্ত পদ্ধতিতে বৃক্ষরোপন করে দূষিত শহরে উদ্যান, লোকালয়, জনবসতি, শিল্পাঞ্চল সর্বত্রই সফল সবুজায়ন সম্ভব। পৃথিবীর নানা দেশে আজকাল জীবন্ত ও সবুজ দেওয়ালের (Living Wall Systems বা LWS) কথা শোনা যাচ্ছে। গাছ দিয়ে গড়া প্রাচীর, ফ্লাইওভারের গায়ে লতাগুল্ম তার উদাহরণ। এমন দেয়াল পরপর বিভিন্ন উচ্চতার গাছ লাগিয়েও তৈরি করা যায়। তার ফলে ধাপে ধাপে দূষণ কম হয়। রাস্তার ধারে গাছ থাকা মানে শব্দ দূষণ রোধও। দেখা গিয়েছে, একটি ৪৫ ফুট উঁচু এবং ১০০ ফুট লম্বা বৃক্ষপ্রাচীর প্রায় ৫০% শব্দদূষণ রোধ করার ক্ষমতা রাখে। আমাদের অতিপরিচিত বাঁশঝাড় এ ব্যাপারে খুবই দক্ষ। দূষণ রোধের ক্ষেত্রে পায়ের তলার ঘাসও কিন্তু আমাদের বিশেষ বন্ধু।

    গাছগাছালি নিয়ে এতো বিশ্লেষণের উদ্দেশ্য আমাদের সচেতন হওয়া। যখন বৃক্ষরোপন করছি, তখন সবচেয়ে ফলপ্রসূ উপায়েই করি। এই প্রসঙ্গে আরো বলা যেতে পারে, গাছ লাগানোর জায়গাগুলিও সঠিকভাবে নির্বাচন করতে হয়। জলবায়ু কিংবা মাটির ধরন তো দেখতেই হয়। দেশি প্রজাতির (Native species) গাছ সবসময়েই বিদেশী আমদানী করা গাছের (Exotic species) চেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য। উত্তর ভারতে বহুল পরিচিত বিলায়েতী কীকর (Prosopis Juliflora) নামটিই বাতলে দেয় যে এটি দেশজ নয়। গাছটি জীববৈচিত্র্য রক্ষার পক্ষে একটি বিভীষিকা কারণ এর শিকড় মাটির গভীরে ১৫ ফুট পর্যন্ত চলে গিয়ে জল সংগ্রহ করে। ফলত, মাটির উপরিভাগের জলীয় বাষ্প শুকিয়ে যায়, আশপাশের গাছ জল পায় না। এ ছাড়াও স্থান নির্বাচনের জন্য আরো বিবেচ্য বিষয় থেকে যায়। যেমন, হাইওয়ের আশেপাশে গাছ লাগাতে হলে ফলের গাছ নয়, অন্যান্য গাছই উপযুক্ত। কারণ ফল পাকলে পশুপাখি আকৃষ্ট হয়। সেক্ষেত্রে দ্রুতগামী যানবাহনের মুখে পড়ে তাদের মৃত্যুর সম্ভাবনা বেড়ে যায়। হাইওয়ে প্রসঙ্গে আমাদের দেশেরই একটি নথিভুক্ত ঘটনার উল্লেখ করি। বড় রাস্তার পাশে গাছের গায়ে সাদা রঙের পট্টি আঁকা হয় তা আমরা সবাই দেখেছি। রাতে তার গায়ে আলো পড়ে গাছ স্পষ্ট দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। এই ব্যবস্থা চালু হওয়ার পেছনে রয়েছে একটি জনস্বার্থ মামলার ইতিহাস। পাঞ্জাবের ট্রাক ড্রাইভারদের স্ত্রীরা এই মামলা করেছিলেন । কারণ অন্ধকারে বড় গাছে ধাক্কা লেগে ট্রাক দুর্ঘটনা ও ড্রাইভারের মৃত্যু হয়ে উঠেছিল সেখানকার একটি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা।

    ঘরের দোরে গাছপালা আমাদের যত পরিচিতই হোক, তাদের নিয়ে অনেক কিছু ভাবার আছে, বোঝার আছে। বনমহোৎসব করার আগে তাই দরকার বৈজ্ঞানিক বিচার, যথাযথ পরিকল্পনা আর তার সঠিক প্রয়োগ। গাছ লাগিয়ে প্রাণ বাঁচাতে তো হবেই, তার জন্য ঠিকঠাক তোড়জোড় করে শুরু করা যাক। আসুন, এই বর্ষায় শহরকে সবুজ করে তুলতে আর প্রাণ ভ’রে শ্বাস নিতে আমরা সঠিক দিশায় প্রস্তুত হই।


    ছবি - ঈপ্সিতা পাল ভৌমিক
    বনমহোৎসবের ব্যাপারস্যাপার
  • বিভাগ : আলোচনা | ২১ জুলাই ২০২১ | ৪৩৭ বার পঠিত | ১ জন
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Ramit Chatterjee | ২১ জুলাই ২০২১ ২৩:৪৪495975
  • খুব ভালো লাগল। ভীষন প্রয়োজনীয় লেখা

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লুকিয়ে না থেকে মতামত দিন