এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  প্রশ্ন

  • ঈশ্বর বলে কি কেউ আছেন?

    প্যালারাম লেখকের গ্রাহক হোন
    প্রশ্ন | ১০ মার্চ ২০২৪ | ১২৮৪ বার পঠিত | রেটিং ৪.৮ (৪ জন)
  • Photographer: Yousuf Karsh, 1949


    "ঈশ্বর আছেন কি?" — বিভিন্ন সম্প্রদায় বা ব্যক্তির থেকে এই প্রশ্নের নানারকম উত্তর পাওয়া যায়। অধিকাংশ মানুষই [১] এ ব্যাপারে নিজের সম্প্রদায়ের মতামতকে নিজের মত হিসেবে গ্রহণ করে। অতীতে—যবে থেকে ঠিকঠাক ইতিহাসের অস্তিত্ব আছে—সকলেই বহু ঈশ্বরে (দেবতায়) বিশ্বাস করতো। ইহুদিরাই প্রথম একটিমাত্র ঈশ্বরে বিশ্বাস করতে শুরু করে। 'দশটি প্রত্যাদেশ' (Ten Commandments)-এর প্রথমটি (Thou shalt have no gods before me.) যখন প্রচলিত হয়, সে সময় ওটি মেনে চলা ইহুদিদের পক্ষে খুবই কষ্টকর ছিল, কারণ তাদের ধারণা ছিল—বাল, আশটোরথ, দাগন, মোলখ এবং বাকি দেবতারা খুবই দুষ্টু হলেও (কারণ তাঁরা ইহুদিদের শত্রুদের সাহায্য করেন), তাঁরা আগমার্কা আসল দেবতাই বটেন। দেবতাদের 'দুষ্টু' ভাবা থেকে 'নেই' ভাবনায় যেতে যে পদক্ষেপটা নিতে হয়, তা খুবই কঠিন। রাজা চতুর্থ অ্যান্টিওকাস-এর সময়ে ইহুদিদের হেলেনিজ়মে ধর্মান্তরিত [২] করার খুব জোরদার একটা চেষ্টা করা হয়। অ্যান্টিওকাস আদেশ দেন, যে, ইহুদিদের শুয়োরের মাংস খেতে হবে, খৎনা (circumcision) করা বন্ধ করতে হবে আর চান করতে হবে [৩]

    জেরুজ়ালেমের অধিকাংশ ইহুদি এই আদেশের কাছে নতিস্বীকার করে, কিন্তু গ্রামাঞ্চলে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ছিল প্রবল; অবশেষে ম্যাকাবি-দের নেতৃত্বে ইহুদিরা নিজেদের অদ্ভুত সব নীতি ও প্রথা-পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। একেশ্বরবাদ, যা কিনা এই অ্যান্টিওকাসীয় নিপীড়নের প্রথমদিকে এক অতি ক্ষুদ্র দেশের একটিমাত্র অংশের ধর্মবিশ্বাস ছিল, একসময় খ্রিস্টান ও পরে ইসলাম ধর্মের অংশবিশেষে পরিণত হয় এবং—ভারতবর্ষের পশ্চিমে—গোটা বিশ্বজুড়েই প্রধান বিশ্বাস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ভারত থেকে শুরু করে পূর্বদিকে একেশ্বরবাদ বিশেষ সাফল্য পায়নি: হিন্দু ধর্মে অনেক দেবতা, বৌদ্ধ ধর্মের আদিম চেহারায় একটিও দেবতা ছিল না, আর একাদশ শতক থেকে কনফুসিয়ানিজ়মেও ঈশ্বর অনুপস্থিত। তবু, কোনো ধর্মমতের অন্তর্নিহিত সত্য যদি তার জাগতিক সাফল্য থেকেই নির্ণয় করতে হয়, তবে একেশ্বরবাদের পক্ষে পাল্লা বেশ ভারি, কারণ – তার সৈন্যবাহিনী সর্ববৃহৎ, নৌবহরও তাই, ঐশ্বর্য অঢেল। আমাদের এই বর্তমান যুগে এই 'সাফল্যে'র যুক্তিটি যদিও অনেকটাই দুর্বল হয়ে এসেছে। অ-খ্রিস্টান জাপানের আতঙ্ক পরাজিত হয়েছে—সত্য। তবে খ্রিস্টান জগত তার বদলে মুখোমুখি হয়েছে নাস্তিক মস্কো-বাহিনীর, আর পরমাণু বোমা যে শুধু আস্তিক-জগতের পক্ষ নিয়ে এ তর্কের অবসান করবে, এমন আশাও ক্ষীণ। [৪]

    তবে, এইভাবে—রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক চশমা দিয়ে—ধর্মমতগুলোকে দেখা এবার বন্ধ করা দরকার।
    সেই প্রাচীন গ্রিকদের সময় থেকেই—সময়ের সঙ্গে আরো বেশি সংখ্যায়—চিন্তাশীল মানুষেরা এই আঙ্গিকে ধর্মের সত্যতার বিচার বর্জন করে আসছেন। কিছু মানুষ, সেই সময় থেকেই, বিনা বাক্যব্যয়ে নিজের প্রতিবেশীদের ধর্মমতকে আপন করে না নিয়ে, ভাবার চেষ্টা করেছেন—যুক্তি আর দর্শন এ ব্যাপারে কী বলে? আয়োনিয়া[৫]-র বাণিজ্যনগরীগুলোয়—যে শহরগুলি গ্রিক দর্শনের আঁতুড়ঘর—খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীতেও মুক্ত-চিন্তকরা বাস করতেন। আধুনিক মুক্তমনাদের তুলনায় তাঁদের কাজটা অনেক সহজ ছিল, কারণ—অলিম্পাস পর্বতের দেবতারা কবিদের অঢেল কল্পনার/অনুপ্রেরণার উৎস হলেও, নিরালম্ব দার্শনিক যুক্তির [৬] সামনে তেনাদের পক্ষে সমর্থন তৈরি করা খুবই কঠিন। অলিম্পিয়ান দেবতারা দু-রকমের প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়েছিলেন – লোকায়তভাবে অর্ফিজ়মের (এই ধর্মমতটির কাছে খ্রিস্টান ধর্ম অনেকটাই ঋণী) [৭], আর দার্শনিকভাবে প্লেটোর থেকে; গ্রিকরা তাঁর থেকে দার্শনিক একেশ্বরবাদ পেয়েছিল—যার থেকে ইহুদিদের রাজনৈতিক ও জাতীয়তাবাদী একেশ্বরবাদের স্বরূপ অনেকটাই আলাদা। গ্রিক দুনিয়া যখন ধর্মান্তরিত হয়ে খ্রিস্টান হয়, তারা নতুন মতবাদটির সঙ্গে প্লেটো-র অধিবিদ্যা [৮] মিলিয়ে ধর্মতত্ত্বের (theology) জন্ম দেয়। সন্ত অগাস্টিনের সময় থেকে আজ অবধি, সমস্ত ক্যাথলিক ধর্মতাত্ত্বিকের বিশ্বাস—কেবল নিরালম্ব যুক্তির সাহায্যেই এক-ঈশ্বরের অস্তিত্ব প্রমাণ করা সম্ভব। তাঁদের যুক্তিগুলিকে সংকলিত করে আধুনিকতম চেহারাটি দেন সন্ত থমাস অ্যাকুইনাস, ত্রয়োদশ শতকে।

    সপ্তদশ শতকে, আধুনিক দর্শনের জন্মের সময়ে, দেকার্তে ও লিবনিজ় এই পুরোনো যুক্তিগুলিকে মাজাঘষা করে চকচকে করে তোলেন। প্রধানত তাঁদের কাজের ফলেই, বৌদ্ধিক জগতে ভক্তি/বিশ্বাসের তখনও কিছু সম্মান ছিল। কিন্তু লক [৯]—নিজে নিশ্চিতভাবে খ্রিস্টান হওয়া সত্ত্বেও—এই পুরোনো যুক্তিগুলির তাত্ত্বিক ভিত্তি নড়িয়ে দিয়েছিলেন; ফলত, তাঁর বহু অনুগামী—অধিকাংশই ফরাসী—নাস্তিক হয়ে যান। ঈশ্বরের অস্তিত্বের সপক্ষে এই সমস্ত দার্শনিক যুক্তিগুলি ও তাদের খুঁটিনাটি আমি আপনাদের সামনে আনার চেষ্টা করবো না। আমার মতে, এদের মধ্যে মাত্র একটিই এখনো দার্শনিকদের কাছে কল্কে পায়—মহাজাগতিক যুক্তি/প্রথম কারণ-যুক্তি। এই যুক্তি-মতে – সব ঘটনারই যেহেতু কোনো একটা কারণ আছে, অতএব কোনো একটি মহাজাগতিক 'প্রথম কারণ'বশতই নিশ্চয়ই এই সবকিছুর শুরু হয়েছিল। যুক্তিটির গোড়ায় গলদ—ঠিক যেমন সেই হাতি আর কচ্ছপের গল্পে ছিল। লোকে বলে (আমি জানিনে তার কতটা সত্যি), এক হিন্দু ঋষি নাকি ভাবতেন, যে পৃথিবীটা একটা হাতির পিঠে রাখা। 'হাতিটা তবে কীসের ওপর দাঁড়িয়ে?' জিজ্ঞেস করায় তিনি বলেন, সেটা এক কচ্ছপের পিঠের ওপর দাঁড়ানো। কচ্ছপটা কোথায় দাঁড়ানো জিজ্ঞেস করায় তাঁর উত্তর, 'প্রসঙ্গ বদলাও তো হে, হাঁপিয়ে গেলাম উত্তর দিতে দিতে!' এই গপ্পোটা থেকে মহাজাগতিক যুক্তির অপূর্ণতার একটা পরিচয় পাওয়া যায়। তা সত্ত্বেও, পদার্থবিদ্যার যে সব অত্যাধুনিক বইয়ে বলা হয়, যে, ভৌত প্রক্তিয়াগুলিকে সময়ের সঙ্গে পিছনদিকে অনুসরণ করলে দেখা যাবে সেগুলির এক অকস্মাৎ-শুরুয়াৎ হয়েছে—তারাই এ থেকে মহাজাগতিক যুক্তি লাগিয়ে এর পিছনে ঐশ্বরিক হস্তক্ষেপ খুঁজে পায়। এর ফলে ব্যাপারস্যাপার কী করে আরো বোধগম্য হল—সেই প্রশ্নটা তারা সন্তর্পণে এড়িয়ে যায়।

    কোনো এক সর্বোচ্চ-ধী-র অস্তিত্বের সপক্ষে এই পুরোনো পণ্ডিতি যুক্তিগুলো বর্তমানের অধিকাংশ প্রোটেস্টান্ট ধর্মতাত্ত্বিক পরিত্যাগ করেছেন। তার বদলে যে নব-যুক্তিগুলির অবতারণা করা হয়েছে, আমার চোখে সেগুলি কোনোভাবেই উন্নততর নয়। পুরোনো তক্কোগুলি—খাঁটি ও গভীর চিন্তার ফসল আর তাদের পিছনের যুক্তিগুলো পোক্ত হলে তাদের সিদ্ধান্তগুলিও শক্তপোক্ত হত। আধুনিকতাবাদীদের যুক্তিগুলি অস্বচ্ছ, অথচ সেগুলিকে স্বচ্ছ, নিখুঁত করার কোনো চেষ্টাই আধুনিকদের তরফে দেখা যায় না। বুদ্ধির কাছে আপিলের বদলে, তাঁরা আপিল করেন হৃদয়ের দরবারে। তাঁদের বিরোধীদের তাঁরা 'অযৌক্তিক' বলেন না—বলেন নৈতিকভাবে রিক্ত, গভীর অনুভূতিশূন্য। তবুও, চলুন, আধুনিক যুক্তিগুলির বিশ্লেষণ করে দেখি—তারা আদৌ কিছু প্রমাণ করতে পারে কিনা।

    এঁদের একটা খুব প্রিয় যুক্তি আসে বিবর্তন থেকে। দুনিয়া একসময় প্রাণশূন্য ছিল; প্রথম উদ্গত প্রাণ ছিল অতি সাধারণ গঠনের—সবুজ পিচ্ছিল শ্যাওলা-পাঁক আর অন্যান্য আবর্জনা দিয়ে তৈরি। বিবর্তনের ধারায় একসময় তা উন্নীত হল প্রাণী ও উদ্ভিদে এবং সবশেষে—মানুষে। অতএব ধর্মতাত্ত্বিকরা আমাদের আশ্বস্ত করছেন—যে নাটকের অন্তে মানুষ নামের এই চমৎকার জীবটি নায়ক সাব্যস্ত হয়েছে, ওই যুগান্তরব্যাপী ঘোলাটে, পিচ্ছিল শ্যাওলা আসলে তার ভূমিকা বই আর কিছু নয়। আমার মনে হয়, এই ধর্মতাত্ত্বিকরা তাঁদের পরিচিত বৃত্তে মেলামেশার ক্ষেত্রে ভাগ্যবান। ওঁরা মনে হয় হিটলার বা 'বেলসেনের পিশাচ'[১০]-কে তাদের সঠিক গুরুত্ব দিয়ে হিসেবে ধরেননি। যদি এক সর্বশক্তিমান—হাতে আক্ষরিক অর্থেই 'অনন্ত কাল' সময় নিয়ে, লক্ষ লক্ষ বছরের বিবর্তনের ফলে এইসব মানুষ তৈরি করার পরিকল্পনা করে থাকেন, তবে বলতে বাধ্য হচ্ছি, তেনার নৈতিক ও নান্দনিক রুচি—অস্বাভাবিক। যাই হোক, ধর্মবিশারদদের মনে কোনো সন্দেহ নেই, যে পরবর্তী বিবর্তনের ফলে আরো বেশি বেশি করে তাঁদের মতো মানুষ জন্মাবে আর ভবিষ্যত-হিটলারদের সংখ্যা ক্রমাগত কমবে। বেশ, আশায় বুক বাঁধি। তবে মনে রাখবেন, এর ছলনে ভুলে, আমরা বাস্তব অভিজ্ঞতার জমি ত্যাগ করে এমন এক আশাবাদের আশ্র‍য় নিচ্ছি, যাকে ইতিহাস কোনোমতে সমর্থন করে না।

    এই 'বিবর্তনবাদী' আশাবাদের বিরুদ্ধে অন্যান্য আপত্তিও আছে। জাগতিক ইতিহাসের ধারার ওপর ভর করে দাঁড়ানো এই আশাবাদ নেহাতই ক্ষণস্থায়ী, তার পরিধিও সীমিত; কারণ—সব যুক্তিই নির্দেশ করে—আমাদের এই গ্রহে অনন্তকাল ধরে প্রাণের অস্তিত্ব থাকবে না। অন্য কোথাও, অন্য কোনোখানে প্রাণের অস্তিত্ব অবশ্যই থাকতে পারে, কিন্তু, যদি থাকেও, তার সম্পর্কে আমরা কিচ্ছুটি জানি না এবং এমন ধরে নেওয়ার কোনো কারণ নেই, যে, সেই প্রাণের সঙ্গে হিটলারের মিল কম আর আমাদের ন্যায়পরায়ণ ধর্মতাত্ত্বিকদের মিল বেশি হবে। মহাবিশ্বের এক অতি সঙ্কীর্ণ, নগণ্য মোড় আমাদের এই পৃথিবী; এমনকি সৌরজগতেরই এক ছোট্ট টুকরোমাত্র। সৌরজগত আবার আকাশগঙ্গার (আমাদের ছায়াপথ) এক ক্ষুদ্র অংশ—যা কিনা নিজে, বহু কোটি ছায়াপথের (আধুনিক দূরবীনদের সাহায্যে যাদের খুঁজে পাওয়া গেছে) এক সাধারণ সদস্য। মহাজগতের এই পুঁচকে, তুচ্ছ পাড়ায়, দুই দীর্ঘ প্রাণহীন সময়কালের মধ্যে এক সীমিত বিরতি চলছে। সেই বিরতিরও এক সামান্য অংশে এখানে আছে—মানুষ। মহাবিশ্বের উদ্দেশ্যই যদি মানবজাতির উদ্ভব হয়ে থাকে, তবে তার জন্যে এটা একটা বিচ্ছিরিরকম লম্বা, অপ্রয়োজনীয় ভূমিকা নয়? যেন এক নীরস বৃদ্ধের মুখে শোনা তার জীবনের এক অশেষ, ঝিমোনো, সাধারণ অভিজ্ঞতার গল্প শোনা, যার শেষে সামান্য কিছু একটা হয়। এমন একখান তুলনা টানার ফলে ধর্মতাত্ত্বিকদের ভক্তির প্রতি খুব একটা সুবিচার করা হয় না বলেই মনে হয়।

    আমাদের গ্রহটির প্রতি অন্যায্য পরিমাণ গুরুত্ব আরোপ করার এই ভুল—সর্বকালের ধর্মতাত্ত্বিকরাই করে এসেছেন। কোপার্নিকাসের আগের পৃথিবীতে এই—গোটা মহাকাশ পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে—ভাবনা নিতান্তই স্বাভাবিক ছিল, কিন্তু কোপার্নিকাসের সময় থেকে, বিশেষ করে মহাবিশ্বের সুদূর অঞ্চলগুলিকে পর্যবেক্ষণ করার সাম্প্রতিক চেষ্টার পর—পৃথিবীর প্রতি এই অহৈতুকী ভক্তি নেহাতই সংকীর্ণ ধার্মিক বোধের ফলাফল। যদি মহাবিশ্বের কোনো নির্মাতা থাকতো, আমাদের এই প্রান্তবাসী ক্ষুদ্র জনপদটির জন্যে তাঁর প্রাণ আলাদা করে কাঁদছে—এমন ভাবা সত্যিই অযৌক্তিক। আর, যদি সত্যিই আমাদের বিশেষ কোনো গুরুত্ব না থেকে থাকে, তবে আমাদের মূল্যবোধের সঙ্গে তাঁরটি খুব সম্ভবত আলাদা—কারণ মহাবিশ্বের অধিকাংশ অংশেই প্রাণের উদ্ভব অসম্ভব।

    ঈশ্বরে বিশ্বাস করার একটি নৈতিক যুক্তিও আছে—প্রচার করেছিলেন উইলিয়াম জেমস। এই মত অনুসারে, ঈশ্বরে বিশ্বাস করা উচিত, কারণ—সারাদিন যেন মোরা ভালো হয়ে চলি। এই যুক্তির বিরুদ্ধে প্রথম ও প্রধান আপত্তি—এ দিয়ে ঈশ্বরের অস্তিত্বের প্রমাণ হয় না, বড় জোর প্রমাণ হয়: ঈশ্বর যে আছেন, সেটা সাধারণ মানুষকে বোঝানো রাজনীতিক আর শিক্ষকদের কর্তব্য। এমন করা উচিত কিনা – তা ধর্মতত্ত্বের প্রশ্ন নয়, রাজনীতির প্রশ্ন। এই যুক্তিটি সেই শ্রেণীর তক্কো, যারা বলে: শিশুদের শেখানো উচিত—জাতীয় পতাকাকে সম্মান করতে হয়। ঈশ্বরে বিশ্বাস— উপকারী: শুধুমাত্র এই যুক্তি কোনো সত্যিকারের ধার্মিক মনোবৃত্তির ব্যক্তির পক্ষে যথেষ্ট নয়, কারণ তিনি তো জানতে চাইবেন—ঈশ্বর সত্যিই আছেন কিনা! ঈশ্বর আছেন কিনা, আর ঈশ্বরে বিশ্বাস স্বাস্থ্যকর কিনা – এই দুটি প্রশ্নকে এক করে দেখা নেহাত আহাম্মকি। নার্সারি ক্লাসে সান্তা ক্লজ়ে বিশ্বাস হয়তো কার্যকর, কিন্তু সেই কারণই যদি যথেষ্ট হত, তবে বড়রাও সান্তায় বিশ্বাস করতো।

    আমাদের রাজনীতি নিয়ে মাথাব্যথা নেই, অতএব এইটুকুতেই আমরা এই নৈতিক যুক্তিটি খণ্ডিত হয়ে গেছে বলে ধরে নিতে পারতাম, কিন্তু এ নিয়ে আরও একটু আলোচনা হলে আখেরে ক্ষতি নেই। প্রথমত, ঈশ্বরে বিশ্বাস করার আদৌ কোনো শুভ নৈতিক প্রভাব আছে কিনা—তা নিয়ে আমি সন্দিহান। ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ চরিত্রগুলির অনেকেই অবিশ্বাসী ছিলেন। জন স্টুয়ার্ট মিল একটি উদাহরণ। সেই সঙ্গেই, ইতিহাসের ঘৃণ্যতম চরিত্রগুলির অনেকেই বিশ্বাসী ছিল—এর অসংখ্য প্রমাণ আছে। অষ্টম হেনরি একটা ভাল উদাহরণ হতে পারে।

    সে যাই হোক—আসল কথা হল, রাষ্ট্র যখন কোনো মতামতকে, তার সত্যতার নয়, বরং তার উপযোগিতার ভিত্তিতে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা শুরু করে, তখন তার ফলাফল সর্বদা ভয়ঙ্কর। যে মুহূর্তে এমন করা হয়, সেই মুহূর্ত থেকে এর বিরুদ্ধাচারী সব মতামতকে রুদ্ধ করার প্রয়োজন হয়, আর তরুণদের মধ্যে যাতে "বিপজ্জনক চিন্তাভাবনা"-র প্রসার না ঘটে, তাই তাদের চিন্তা করার ওপরই প্রহরা চাপানোর দরকার পড়ে। ঠিক এইরকম অসদাচরণ যখন সোভিয়েত রাশিয়ায় 'ধর্মের বিরুদ্ধে' করা হয়, তখন ধর্মতাত্ত্বিকরা দিব্যি তার খারাপ চরিত্র অনুধাবন করতে পারেন, কিন্তু সমস্যা হল, তাঁরা যে মতামতগুলিকে শুভ মনে করেন—তার পক্ষ নিয়ে এমনটা করা হলে, রাষ্ট্রের তরফে সেই আচরণও কদাচারই থাকে। চিন্তার স্বাধীনতা আর তথ্যপ্রমাণকে গুরুত্ব দেওয়ার অভ্যেস – যেকোনো সাপ-ব্যাঙ ধর্মীয় অনুশাসনের তুলনায় এই দুটির নৈতিক গুরুত্ব অনেক অনেক বেশি। এইভাবেই—কোনো ধর্মতত্ত্বের অন্তর্লীন সত্যতার বদলে তার ব্যবহারিক গুরুত্বের ওপর ভিত্তি করে তাকে মেনে নেওয়া—এই যুক্তির সমূহ খণ্ডন করা সম্ভব।

    অনেকের কাছে, এই যুক্তিরই আরো সরল, সাদাসিধে একখান সংস্করণের বেশ আবেদন আছে। তাঁরা আমাদের বলেন—ধর্মমতের সান্ত্বনা-স্পর্শ না পেলে তাঁরা অসহনীয় কষ্টের মধ্যে থাকতেন। তা যদি সত্যিও হয়—তাহলেও, এ এক ভীরুর যুক্তি। এক নিতান্ত ভিতু মানুষই কেবল যেচে মূর্খের স্বর্গে বাস করতে চায়। নিজের স্ত্রীকে ব্যভিচারিণী বলে সন্দেহ করা কোনো পুরুষ যখন নিশ্চিত প্রমাণের থেকেও চোখ ফিরিয়ে থাকে—তাকে তো কই আমরা ভালো চোখে দেখি না? প্রমাণকে অগ্রাহ্য করা—কেন একক্ষেত্রে সমালোচনার, অন্যক্ষেত্রে সমীহের বিষয় হবে—এ আমার মাথায় ঢোকে না। এই যুক্তিটুকু ছাড়া, ব্যক্তিগত সুখ-শান্তির উপর ধর্মমতের প্রভাবের সব গল্পই অতিরঞ্জিত। সুখী বা অসুখী হওয়া অনেকগুলি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। অধিকাংশ মানুষের প্রয়োজন সুস্বাস্থ্য আর পর্যাপ্ত আহারের জোগান। তারই সঙ্গে প্রয়োজন—তার সম্পর্কে প্রতিবেশী সমাজের চোখে সম্মান, আর প্রিয়জনের ভালোবাসা। শুধু শারীরিক নয়, মানসিক সুস্বাস্থ্যও প্রয়োজন। ধর্মমত-নির্বিশেষে, অধিকাংশ ব্যক্তি সুখে থাকেন—এই ক-টি শর্ত পূরণ হলেই। এদের অবর্তমানে, তাঁরাই, ধর্মমত-নিরপেক্ষভাবেই—অসুখী। নিজের পরিচিত বৃত্তের কথা ভাবলে, গড়পড়তা বিশ্বাসী ব্যক্তি যে গড়পড়তা অবিশ্বাসীর থেকে বেশি সুখী—কই, এমন তো আমি দেখতে পাই না!

    যখন নিজের বিশ্বাসের দিকে চোখ ফেরাই—মহাবিশ্বের অস্তিত্বের কোনো উদ্দেশ্য উদ্ধার করা তো বটেই, এমন কোনো উদ্দেশ্যের আশা করাও আমার পক্ষে সম্ভব হয় না। যাঁরা কল্পনা করেন – কোনো এক স্রষ্টার পছন্দসই কোনো উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে এই মহাজাগতিক বিবর্তন ঘটছে—তাঁরা সাধারণত বুঝতে পারেন না, যে একটি বিশেষ যুক্তির প্রতি তাঁরা অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে পড়েন; সেটি হল—হয় সেই স্রষ্টা সর্বশক্তিমান নন, নয়তো, চাইলেই, এই ঝামেলার মধ্য দিয়ে না গিয়ে, তাঁর পক্ষে সেই অন্তিম লক্ষ্যে পৌঁছনো সম্ভব। আমি নিজে তো দেখতে পাই না—এমন কোনো পরিপূর্ণতার দিকে মহাবিশ্ব এগিয়ে চলেছে। পদার্থবিদদের মতে, শক্তি যত সমসত্ত্বভাবে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে, ততই তার উপযোগিতা কমবে [১১]। একসময়, যা কিছু আমাদের আকর্ষণীয় বা আরামদায়ক মনে হয়, যেমন প্রাণ, বা আলো — উবে যাবে — অন্তত এমনটা বলেই তাঁরা আমাদের আশ্বস্ত করেন। এই মহাবিশ্ব যেন এক নাট্যশালা, যার মঞ্চে একবারই আলো জ্বলে ওঠে, অভিনয়ের শেষে একবারই পর্দা পড়ে আর তারপর থেকে তা অসাড়, নিস্তব্ধ পড়ে থাকে—জীর্ণতার, ধ্বংসের অপেক্ষায়। আমি একবারও জোর দিয়ে বলছি না—এমনটাই হবে। তাহলে,যতটা জানি না, ততটা জানার ভান করা হবে। আমি বলছি, বর্তমানে প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে এমনটাই সম্ভাব্য বলে মনে হচ্ছে। মহাবিশ্ব উদ্দেশ্যহীন—এমনটাও আমি গলার জোরে প্রমাণ করার চেষ্টা করবো না, শুধু বলবো—এমন কোনো উদ্দেশ্যের সপক্ষে প্রমাণের চিহ্নমাত্র নেই।

    আমি আরো বলবো—যদি তেমন কোনো উদ্দেশ্য থেকে থাকে, আর সেই উদ্দেশ্য যদি কোনো সর্বশক্তিমান স্রষ্টার হয়েও থাকে, তবে সে, পরম করুণাময়, দয়াময় হওয়া তো দূরস্থান (যেমনটা আমাদের বলা হয়ে থাকে)—আসলে অননুকরণীয় নৃশংসতার ক্ষমতা ধরে। একটি খুন করা লোককে আমরা খারাপ লোক বলি। সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, যদি থেকে থাকে, তবে সে সবাইকে খুন করে। ইচ্ছাকৃতভাবে একজনকেও দুরারোগ্য ক্যান্সার-ব্যধিগ্রস্ত করে তোলাকে আমরা ইতরের কাজ বলে মনে করি। স্রষ্টা, যদি সে থেকে থাকে, প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষকে এই ব্যধি প্রদান করে। নিজের সন্তানদের সুপথে মানুষ করার ক্ষমতা ও জ্ঞান থাকাসত্ত্বেও তাদের বিপথে চালিত করে যে ব্যক্তি—তাকে আমরা ঘৃণার চোখে দেখি। কিন্তু ঈশ্বর, যদি সে থাকে, তবে নিজের অধিকাংশ সন্তানের ক্ষেত্রেই সেই সিদ্ধান্ত নেয়। এক সর্বশক্তিমান ঈশ্বর—যার সমালোচনামাত্রই অপবিত্র—এই পুরো ধারণাটিই যেন প্রাচ্যের কোনো স্বৈরতন্ত্র থেকে উঠে এসেছে [১২], যেখানে রাজন্যের খামখেয়ালী অত্যাচার সত্ত্বেও তাঁরা প্রজাদের নয়নের মণি। এই অচল রাজতন্ত্রের উপযোগী মানসিকতাই যেন আজও গোঁড়া ধর্মতত্ত্বের মধ্যে বেঁচে আছে।

    এক আধুনিক আস্তিকতাও আছে বৈকি, যেখানে ভাবা হয়—ঈশ্বর ঠিক সর্বশক্তিমান নন, তবে, অনেক বাধাবিপত্তি সত্ত্বেও, নিজের সেরাটা দিচ্ছেন এই কাজে। এমন ধারণা খ্রিস্টানদের মধ্যে নতুন হলেও, চিন্তার ইতিহাসে মোটেই নতুন নয়। আদতে প্রথম এর খোঁজ পাওয়া যায় প্লেটো-র কাছে। এই চিন্তাটিকে ভুল প্রমাণ করা সম্ভব বলে আমার মনে হয় না। যা বলা যায়, তা হল, এর সপক্ষে ভাবার মতো কোনো জোরালো কারণ নেই।

    অনেক গোঁড়া আস্তিক এমনভাবে কথা বলেন, যেন তাঁদের অন্ধবিশ্বাসকে ঠিক প্রমাণ করার দায় তাঁদের নয়—ভুল প্রমাণ করার দায় অবিশ্বাসীদের। বলা বাহুল্য, এ ভাবনা ভুল। আমি যদি এখন দাবি করি— পৃথিবী আর মঙ্গলের মধ্যে কোথাও একটি চিনেমাটির চায়ের কেটলি উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে, আর এ-ও পরিষ্কার করে বলে দিই, যে আমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী দূরবীন দিয়েও সেই ক্ষুদ্র কেটলিটা দেখতে পাওয়া সম্ভব না—তবে কেউই আমায় ভুল প্রমাণ করতে পারবে না। কিন্তু আমি যদি তার সঙ্গে এ-ও যোগ করি—যেহেতু আমায় ভুল প্রমাণ করা সম্ভব না, তাই আমায় সন্দেহ করা যুক্তির তরফে ঘোর অসঙ্গত আচরণ—তবে আমি কি নেহাতই অবান্তর বকছি না? অথচ দেখুন, তেমন কোনো কেটলির অস্তিত্বের কথা যদি প্রাচীন কোনো শাস্ত্র বা পুঁথিতে লেখা থাকে, প্রতি রোববার এই কথাটিকে পবিত্র সত্য বলে আওড়ানো হয়, আর স্কুলের ছেলেমেয়েদের মাথায় গেঁথে দেওয়া হয়, তাহলে কেটলির অস্তিত্বে অবিশ্বাসকে ছিটের লক্ষণ বলে দেগে দেওয়া হত, যাতে কিনা সন্দেহকারীকে—এই আলোকপ্রাপ্ত সময়ে, কোনো মনোরোগবিশেষজ্ঞের কাছে, বা পুরোনো দিন হলে, ইনক্যুইজ়িটরের কাছে— নিয়মিত হাজিরা দিতে হত। যা রটে, তার কিছু বটে—এমনটা ভাবা প্রায় স্বতঃসিদ্ধের আকার নিয়েছে, অথচ, ইতিহাসের কোনো পড়ুয়াই এতে বিশ্বাস রাখেন বলে আমার মনে হয় না। বন্য মানুষের সমস্ত বিশ্বাসই, কার্যত, অবাস্তব। প্রাচীন সভ্যতাগুলির হয়তো, মেরেকেটে এক শতাংশ বিশ্বাসের মর্মে তাও কিছু সত্য ছিল, আজকালকার দিনে...
    কিন্তু রোসো! এইবারে আমায় কিঞ্চিৎ সাবধানে কথা বলতে হবে। সোভিয়েত রাশিয়ায় যে বহু উদ্ভট বিশ্বাস চালু—সে কথা আমরা সকলেই জানি। আমরা প্রোটেস্টান্ট হলে, ক্যাথলিকদের মধ্যে প্রচলিত উদ্ভট আচারের কথা আমাদের জানা। আমরা ক্যাথলিক হলে, প্রোটেস্টান্টদের অদ্ভুতুড়ে বিশ্বাসের কথাও আমরা জানি। আমরা রক্ষণশীল দলের হলে, লেবার পার্টির মধ্যে প্রচলিত কুসংস্কারের গল্প শুনে আমরা অবাক হই। সমাজতন্ত্রী হলে, রক্ষণশীলদের অতি সহজে সবকিছু বিশ্বাস করে নেওয়ার ক্ষমতা দেখে আমাদের গা জ্বলে যায়। প্রিয় পাঠক, আমি জানি না—তোমার নিজের বিশ্বাস কী; তবে তা যা-ই হোক, এ কথা তোমায় মেনে নিতেই হবে, যে, মানবসমাজের নব্বই শতাংশের, শতকরা নব্বইভাগ বিশ্বাসই, সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। অবশ্যই, যে সব অযৌক্তিক ধ্যানধারণার কথা হচ্ছে—তাতে তুমি মোটেই বিশ্বাস করো না। অতএব, এবার নিশ্চয়ই বুঝতে পারছ—কেবলমাত্র কোনো কোনো বিশেষ ভৌগোলিক অঞ্চলে দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসছে বলেই, কোনো বিশ্বাসকে (সব ধর্মবিশ্বাসই কোনো না কোনো ভৌগোলিক অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত) সন্দেহ না করার কোনো কারণ আমি দেখতে পাইনে।

    অতএব, আমার সিদ্ধান্ত হল—কোনো গতানুগতিক ধর্মতত্ত্বে বিশ্বাস করারই কোনো কারণ নেই, আর তার চেয়েও বড় কথা—সেগুলি সত্য হোক—এমন আশা করাও অর্থহীন। যতক্ষণ না প্রাকৃতিক শক্তির কাছে নতি স্বীকার করতে হয়, ততক্ষণ মানুষ তার নিজের মর্জির মালিক, নিজের নৌকার কাপ্তেন। দায়িত্ব যেমন তার নিজের, সমস্ত সুযোগও—তারই।

    ----- বার্ট্রান্ড রাসেল

    "Is There a God?" (1952),
    The Collected Papers of Bertrand Russell,
    Volume 11: Last Philosophical Testament, 1943-68,
    ed. John G. Slater and Peter Köllner
    (London: Routledge, 1997), pp. 543-48.

    ফুটনোট কণ্টকিত এই অ্যামেচার অনুবাদের চেষ্টাটি বুঝতে অসুবিধে হয়ে থাকলে ক্ষমা করবেন, আর উপরের লিঙ্কে গিয়ে আসল ইঞ্জিরিটা পড়ে ফেলুন প্লিজ়। বলাবাহুল্য, লেখাটি রাসেলবুড়োর হলেও, ছ্যাবলা ফুটনোটগুলি আমার।






    [১] ২০২৪-এর ফেব্রুয়ারিতে, উইকি-মতে, দুনিয়ার জনসংখ্যার ৮৪.৪% নিজেকে কোনো না কোনো ধর্মের অংশ মনে করেন। এঁদের প্রায় সকলেই যে অ-ধর্মান্তরিত, এই হিসেবটা মনে রাখলেই লেখায় ব্যবহৃত "অধিকাংশ" শব্দটির গুরুত্ব পরিষ্কার হবে।

    [২] আলেক্সান্ডারের যুদ্ধযাত্রার সঙ্গে গ্রিক শিল্প-সংস্কৃতি আর ধর্মের এক সমসত্ত্ব সংস্করণ ছড়িয়ে পড়েছিল উপনিবেশগুলোয়। একেই হেলেনিজ়ম বলে।

    [৩] পুরোনো যুগের ইহুদি পুরুষদের প্রতি শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে জলে ডুব দিয়ে চান করার রীতি প্রচলিত ছিল, এর নাম মিকভা। আজও আছে, তবে এখন আর তার মানে এই নয়, যে অন্যদিন চান করা যাবে না।
    আমাদের গুরু-গাঁয়ের যোগী, ইহুদি-বিশেষজ্ঞ ('ইহুদি-রসিকতা'-খ্যাত) হীরেন সিংহরায়কে জিজ্ঞেস করায় এই উত্তরটি পেয়েছি:
    "জলের সঙ্গে ইহুদিদের একটি বৈমাত্রেয় সম্পর্ক আছে। স্নান না করার জন্য তাদের অসম্ভব খ্যাতি আছে। তাই মিকভার ব্যাঙ্গার্থ – 'দাও বেটাকে চুবিয়ে'! তবে এখন মিকভা আবশ্যিক নয়।"
    এই প্রসঙ্গে 'ইহুদি-রসিকতা'-র একটি টুকরো না তুলে পারছি না—হীরেনবাবুই দেখালেন:

    "কার্লসবাদ (কার্লোভি ভারি, আজকের চেক)–
    সেখানে মাটি ফুঁড়ে উঠে আসে খনিজ জল। জলের দ্বারা স্বাস্থ্য—সানুস পের আকুয়াম। (SPA-স্পা!) ইলান গেছে জল চিকিৎসার টিকিট কাটতে।
    কাউন্টারের মহিলা: একটা কেন, একসঙ্গে যদি বারোটা টিকিট কাটেন, সস্তা হবে। এগারোটার দামে বারোটা পাবেন।
    ইলান (দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে): আমি কি আর বারো বছর বাঁচবো?"

    [৪] ১৯৫২ সালের বক্তৃতার প্রতিলিপি। বুঝতেই পারছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর আর ঠান্ডা-লড়াইয়ের পূর্ববর্তী দুনিয়ার অবস্থা ঠিক কী ছিল...

    [৫] এশিয়া মাইনরের পশ্চিম সমুদ্রপাড়ে, বর্তমান তুর্কির ইজ়মির-এর দক্ষিণে।

    [৬] unaided reason: বহির্জগতের সাহায্য ছাড়াই যে পর্যালোচনা সম্ভব; বাইরে হয় বৃষ্টি হচ্ছে, নয় হচ্ছে না – এই দুটিই মাত্র বিকল্প। এইটে হল নিরালম্ব যুক্তি। বৃষ্টি হচ্ছে দেখে নেওয়ার পর আপনার সিদ্ধান্তটি আর 'নিরালম্ব' থাকে না।

    [৭] অর্ফিউস-এর নাম থেকে। "রহস্যাবৃত ধর্মমত"গুলির অন্যতম।

    [৮] Metaphysics: দর্শনের সেই ঘোলাটে চশমা-পরা অংশ, যা সবকিছুর মূলে গিয়ে তার প্রকৃত মানে বোঝার চেষ্টা করে। এসবের চর্চা করতে গিয়ে একদলের মাথায় সামান্য ছিট দেখা দিলে, তেনাদের Philosophical Skeptic বলে (মশকরা কচ্ছি, রাগবেন না)

    [৯] John Locke: চিকিৎসক, দার্শনিক, রাজনীতিবিদ, বিশ্রুত জ্ঞানতাত্ত্বিক। বলা হয়, প্রথম অভিজ্ঞতাবাদী (empericist)।

    [১০] Beast of Belsen: জোসেফ ক্রেমার। প্রথমে আউশভিৎসের গ্যাস চেম্বারের, পরে বের্গেন-বেলসেন কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পের দায়িত্বে। প্রায় ৬০ হাজার প্রাণ-নিধনের জন্যে প্রত্যক্ষভাবে দায়ী। একটা সহজ হিসেব—সেই সময় গোটা আলাস্কার জনসংখ্যা এর সমান ছিল।

    [১১] Heat death: মহাবিশ্বের এনট্রপি বেড়ে চলেছে, বেশি শক্তির অঞ্চল থেকে কম শক্তির অঞ্চলে শক্তির প্রবাহ হচ্ছে। কিছু না কিছু ঘটছে। এনট্রপি যখন সর্বাধিক, শক্তির বণ্টন যখন সমসত্ত্ব—শক্তির প্রবাহ বন্ধ, আর কিছু ঘটাও বন্ধ—অনন্ত একঘেয়েমি পড়ে থাকে।

    [১২] Oriental Despotism: অ্যারিস্টটলের সময় থেকে চলে আসা, প্রথমে গ্রিক, পরে ইউরোপীয় ধারণা—এশিয়ার স্বৈরতান্ত্রিক রাজ্যব্যবস্থা সম্পর্কে।


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • প্রশ্ন | ১০ মার্চ ২০২৪ | ১২৮৪ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • বক্তব্য  | 165.225.8.117 | ১০ মার্চ ২০২৪ ০৭:১০529180
  • ধন্যবাদ, অনুবাদটির জন্যে। 
    ইতিহাসসংক্রান্ত একটি প্রশ্ন করে যাই, যদি কেউ সাহায্য করতে পারেন। 
    প্রচলিত মত এই যে ইহুদিরা একেশ্বরের ধারণা নিয়ে আসেন। পারস্য ও চীনে এ ধারণা নিশ্চিতই পরে আসে।
    ভারতভূমির ক্ষেত্রে, পরমব্রহ্ম ও একেশ্বরবাদ সম্ভবত এক নয়, তবু ধারণাগত একটা সাদৃশ্য আছে বলেই আমার মত।  এখানে পরমব্রহ্মের ধারণার কখন প্রথম  ঐতিহাসিক প্রমাণ পাওয়া যায় - এ বিষয়ে যদি কেউ তথ্যসূত্র দিতে পারেন - উপকৃত হই। 
  • হীরেন সিংহরায় | ১০ মার্চ ২০২৪ ১৪:২৯529201
  • রবিবারের সকালে একটু আড্ডা একটু বিতর্ক হোক- সিগমুন্ড ফ্রয়েড ( মোজেস অ্যান্ড মনোথেইজম) বললেন মোজেস ওই আইডিয়া আখনাতন থেকে নিয়েছেন। দশ আদেশ যে হাম্মুরাবি থেকে ৮০% টোকা এটা মানতেই হয়। হাম্মুরাবি আরো ডিটেলসে বলেছেন। 
    সেলেট হাতে পাহাড থেকে নেমে মোজেস বললেন হত্যা করিও না। সামনে কিছু লোক সোনার বাছুরের পুজো করছিল - আদেশ দিলেন ওদের কাটো ( মিশর থেকে আসা দলের লোক )। তিন হাজার মারা গেলেন। 
  • Rouhin Banerjee | ১০ মার্চ ২০২৪ ১৮:১৪529206
  • "এই যুক্তিরই আরো সরল, সাদাসিধে একখান সংস্করণের বেশ আবেদন আছে। তাঁরা আমাদের বলেন—ধর্মমতের সান্ত্বনা-স্পর্শ না পেলে তাঁরা অসহনীয় কষ্টের মধ্যে থাকতেন" - এই "ভীরুর যুক্তি"টি আমি নিজেও বেশ কিছু জায়গায় দিই। ভীরুর যুক্তিই, তাতে কোনো সন্দেহই নেই, এবং এটা যে কুযুক্তিও, তাতেও নেই। তবুও ঘটনাচক্রে আমরা যে দুনিয়ায় বাস করি, তা মূলত ভীরুদেরই পৃথিবী, ফলে এই যুক্তি এখানে একটা বাস্তব সমর্থন পেয়ে যায়। তাছাড়া আমার চোখে এটা ঠিক যুক্তি নয় - ব্যাখ্যা মাত্র।

    এই অনুবাদটার জন্য প্যালারামের অনেক বড় থ্যাঙ্কু প্রাপ্য।
  • হীরেন সিংহরায় | ১০ মার্চ ২০২৪ ১৯:৩১529209
  • ভলটেয়ার বলেছিলেন If God didn't exist it would be necessary to invent him 
  • Rouhin Banerjee | ১০ মার্চ ২০২৪ ১৯:৩৯529210
  • The invention was made about 70000 years ago - more or less, right?
  • dc | 2401:4900:2341:2ef1:8d14:372a:5c6d:1ff6 | ১০ মার্চ ২০২৪ ১৯:৫৭529211
  • রাসেলের কেটলির অনুবাদ পড়তে খুব ভালো লাগলো। রাসেলের কাজ অনুবাদ করতে সাহস লাগে, কিন্তু সেই কাজটা দেখছি প্যালারাম সুন্দরভাবে করেছেন :-) 
     
    এই এসেটা নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা আছে বার্ট্রান্ড রাসেলের গড অ্যান্ড রিলিজিয়ন বইতে, কেউ চাইলে পড়ে দেখতে পারেন। 
  • হীরেন সিংহরায় | ১০ মার্চ ২০২৪ ২০:২৫529212
  • আজ প্যারিসের রাস্তায় হাঁটছিলাম - তিনি দেখা দিলেন 
     
  • শারদা মণ্ডল | 202.142.73.184 | ১০ মার্চ ২০২৪ ২১:৪৯529220
  • ভালো লাগলো। 
  • | ১০ মার্চ ২০২৪ ২২:৪৯529221
  • এক কথায় নাহ নেই।
    দুই কথায় অনুবাদটি অতি উমদা হইছে।
  • kk | 2607:fb90:eab2:c595:f982:14a6:e0a8:2c0b | ১০ মার্চ ২০২৪ ২৩:১৩529223
  • অনুবাদ খুবই  ভালো লাগলো। মূল বইটা পড়িনি, এই লেখা পড়ে সেটা পড়ার  ইচ্ছেটা জেগে উঠলো। আমার ব্যক্তিগত মত যদিও এখানে আদৌ রেলেভ্যান্ট নয়, তবু বলছি [দ'দির "এক কথায়" এর মত :-)] আমার মনে হয় -- God is just another coping mechanism.
  • dc | 2401:4900:2341:2ef1:45f6:9cb0:7e8:8ddf | ১০ মার্চ ২০২৪ ২৩:২৩529226
  • "আমার মনে হয় -- God is just another coping mechanism." দারুন! কোট করার মতো :-)
  • রঞ্জন | 2405:201:4011:b002:7276:af39:32de:971a | ১১ মার্চ ২০২৪ ০৬:৫৮529233
  • যেমন ভাল অনুবাদ  তেমনি কেকে'র কোট।
  • Somnath | ১১ মার্চ ২০২৪ ০৯:০৪529237
  • এইটাই সম্ভবতঃ ধর্মের মূল পরিসরটা তৈরি করছে --" যতক্ষণ না প্রাকৃতিক শক্তির কাছে নতি স্বীকার করতে হয়, ততক্ষণ মানুষ তার নিজের মর্জির মালিক, নিজের নৌকার কাপ্তেন।"
    হিন্দ স্বরাজ লিখছে- We notice that the mind is a restless bird; the more it gets the more it wants, and still remains unsatisfied. The more we indulge our passions the more unbridled they become. Our ancestors, therefore, set a limit to our indulgences. They saw that happiness was largely a mental condition. 
  • | ১১ মার্চ ২০২৪ ০৯:১৬529239
  • হ্যাঁ কেকে আমিও তাই মনে করি।
  • প্যালারাম | ১১ মার্চ ২০২৪ ১২:০৯529246
  • @রৌহিনদা, তোমার ফেবু পোস্টে ক-দিন আগেই ব্যাপারটা পড়েছি।
     সাহস বা ভীরুতা তো আমাদের মনের অবস্থামাত্র; তার কোনোটির আধিক্যই বাঁচার পক্ষে ভালো না, কিন্তু সমাজের চলতি মাচিস্মোর বিরুদ্ধে গিয়ে, নিজের মনে ভীরুতার অস্তিত্বের এই স্বীকার যে সততার পরিচয় দেয়—তার প্রশংসা না করে পারছি না। 
    আমার মনে হয়, যুক্তির চর্চার সময় নিজের নশ্বরতা, শারীরিক সীমাবদ্ধতার কথা পাশে সরিয়ে রেখে চলতে পারা—একটা গুণ। আর যুক্তির চর্চাকে প্রাত্যহিকতার অংশ বানাতে পারলে তো কেল্লা জিতেই ফেললাম। তবে, যন্ত্রণার, দুর্বলতার সময় যুক্তির কথা মনে রাখতে হবে কেন? আমাদের এই ভঙ্গুর শরীর তো চলছে সেই লক্ষ বছরের পুরোনো লিগেসি কোডে—আপডেট রোল-আউট হতে ঢের দেরি। ওর ওপর যুক্তির লোড চাপানো অত্যাচার। laugh
     
    নেহাত বৌদ্ধিক চর্চা যদি বলো, আমার যা বলার—নির্ভরতাই যদি খুঁজতে হয়, জগতে নিজের অবস্থানের ক্ষুদ্রতার ঊর্ধ্বে উঠে শান্তিই যদি খুঁজতে হয়, তবে বিজ্ঞান কেন নয়? দেহকে যা রোগগ্রস্ত করলো—সেই জীবাণু আর তার থেকে এই জটিল শরীরকে বাঁচিয়ে রাখলো—সেই ইম্যুন সিস্টেম—তা নিয়ে ভাবতে বসে স্পিরিচুয়াল হওয়া শ্রেয় না? "পরম করুণাময় আছেন"-এর থেকে "We are made of star-stuff" কিসে খাটো?
  • একক | ১১ মার্চ ২০২৪ ১৭:৪৮529249
  • কারণ, ওতে নেশা হয় না। আর,  বিজ্ঞান ভাবতে ভাবতে যে মূহুর্তে নেশা নেশা ভাব আসে,  তাকিয়ে দেখবা -- কোদ্দিয়ে এক থিওরি অফ এভরিথিং উঁকি মারচে। ওটিও এসেনশিয়ালি ঈশ্বর। 
     
    ঈশ্বর একেবারেই নেশার বস্তু। কাজের সময় কাজাও নেশার সময় নেশা। আপিসে নেশা করে না গেলেই হল। অসুবিধে কী??  আমি ত দেখেচি,  নাস্তিক হলে আরও জমিয়ে নেশা করা যায়।  ঈশ্বর কে ভাবনা করো - আহবান করো - স্থাপন করো - ভজন করো - নাচো কোঁ দো - আবার বিসর্জন করো। ফের নাস্তিক। আপিসে ত যাচ্চ না। আপত্তি কী??  
     
    করেই দ্যাকো,  ভজুনে নেশা অতি উপাদেয় :))
  • একক | ১১ মার্চ ২০২৪ ১৭:৫১529250
  • তবে,  সৎ ভাবে হারামি হতে হবে। নৈলে অই গৃহে প্রবেশ- বাহির খেলা যায়না। 
  • একক | ১১ মার্চ ২০২৪ ১৭:৫২529251
  • বা, কবিও হতে পারো। একই হলো। 
  • বক্তব্য | 165.225.8.117 | ১১ মার্চ ২০২৪ ১৭:৫৩529252
  • এই নেশাটা মানুষের লাগে। কেন? 
    অন্য প্রাণীদের তো এটা লাগে না। 
  • বক্তব্য | 165.225.8.117 | ১১ মার্চ ২০২৪ ১৭:৫৬529253
  • তাছাড়া, এই নেশার need টাও খুবই ফান্ডামেন্টাল (আমার বলার অপেক্ষা রাখে না, নইলে বার্ট্রান্ড রাসেলকে লেখাটা লিখতেই হয় না)। 
  • Ekak | 103.175.186.85 | ১১ মার্চ ২০২৪ ১৮:০৯529255
  • বুদ্ধিমান প্রাণীদের মধ্যে নেশার মজানেওয়ার প্রবণতা দেখাযায়।  ডলফিন নাকি বিষাক্ত পাফার ফিশকে খুঁচিয়ে যে বিষ বেরোয় তাতে নেশা করে মজা নেয়। এবার কেন মানুষ নেশা করা এনজয় করে তা বিজ্ঞানীরা জানবেন। করে যে তা ঘটনা।সবাই করেনা , কিন্তু অনেকেই করে। 
     
    রাসেলের বক্তব্য নিয়েও কোনো সন্দেহ নেই . থাকবেই বা কেন ?দিব্যি  যুক্তিনিষ্ঠ কথা।  
     
    এছাড়া নেশা করা যে খ্রাপ কাজ , এতে যুগে যুগে কত ক্ষেতি হয়েচে তা কেও অস্বীকার করবেন বলে মনে হয়না। 
  • r2h | 192.139.20.199 | ১১ মার্চ ২০২৪ ১৯:১৩529258
  • নেশার ব্যাপারটা ভালো, বুদ্ধিমান প্রাণীর ব্যাপার স্যাপার।

    বিজ্ঞানের আশ্রয় নিলে সমস্যাটা হলো কোন মিরাকল আশা করা মুশকিল। সেই যে সুধাংশু শেখর মহাভারতের গল্প লিখেছেন, লতায় পা জড়িয়ে উল্টো ঝুলে বলের বাহু আর বাধার বাহুর অংক, ইঁদুরের দাঁতের ধার আর লতার সামর্থ্য এইসব কষতে কষতে দেখা গেল সাপের কামড় খাওয়া ছাড়া কোন উপায় নেই।
    ঈশ্বরে বিশ্বাস থাকলে পড়ার আগে পর্যন্ত মনে হবে এই বুঝি পরম পিতা ঘেঁটি ধরে টেনে তুললেন। আর নাও যদি তোলেন তবে নিশ্চয় পরের জন্মে রাজা হয়ে জন্মাবো।
  • kk | 2607:fb90:eab2:c595:f982:14a6:e0a8:2c0b | ১১ মার্চ ২০২৪ ২০:৩৬529269
  • নেশা করার দরকারের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নিশ্চয়ই আছে। আমি একটা কিছুটা জানি। মানুষের কথা বলছি। মানুষের একটা ইনহেরেন্ট স্বভাব আছে কষ্টকর ইমোশন ফীল না করতে চাওয়া। ঐগুলো এড়ানোর জন্য সে কী না করে! তো, কঠিন ইমোশন ফীল না করার জন্য আমরা যতগুলো উপায় নিই (ডিস্ট্র‌্যাকশন, র‌্যাশনালাইজেশন, ব্লেমিং, এম্প্যাথি ইত্যাদি) তার মধ্যে একটা হলো 'স্টেট চেন্জিং'। আমার মধ্যে একটা কষ্টকর ইমোশন এলো, খুব পীড়া দিতে লাগলো, আমি সেই স্টেটটা পাল্টে ফেলতে চাইছি, কারণ এটা আমার খুব খারাপ লাগছে। তার জন্য আমরা অনেক ক্ষেত্রেই কোনো সাব্স্ট্যান্স ইউজ করার দিকে ঝুঁকি। অ্যালকোহল, ড্রাগ, সিগারেট, খাবার। অন্য নেশার দিকেও ঝোঁকে মানুষ। শপিং, সেক্স, সোশ্যাল মিডিয়া। এইসব জিনিষ একটা টেম্পোরারি ভালো লাগা তৈরী করে যা দিয়ে ঐ কষ্টের স্টেট থেকে পালিয়ে থাকা যায়। এর পেছনে অবশ্যই নিউরোট্রান্সমিটার সিক্রিশন ইত্যাদি আছে। সেসব ডিটেলে আর নাই গেলাম। তো, নেশা করার এই হলো একটা কারণ। বেহুদা কারণ, আল্টিমেটলি লাভ হয়না। চাপা দেওয়া ইমোশন আরো বিগড়ে যায় আর ফিরে এসে আরো বেশি ঝামেলা পাকায়। তখন ঐ "পরমপিতা ঘেঁটি ধরে টেনে তুলবেন" ভেবে আবার পালাতে পারেন। কিম্বা নিরুপায় হয়ে কাঁটার ওপরে দিয়েই হাঁটা অভ্যেস করতে পারেন। অভ্যেস হয়ে গেলে আর ততটা কষ্ট হবেনা। নিশ্চিত বোধহয়।
  • Arindam Basu | ১২ মার্চ ২০২৪ ১০:০৮529285
  • God শব্দের তর্জমা কি ঈশ্বর? 
    আর কি কি হতে পারে?
    ভগবান? ব্রহ্মা? দেবতা? 
    ঈশ্বর মূলত একটি ধারণা, তার মূর্ত প্রতীক হয়ত আছে কিন্তু ঈশ্বর অরূপ ।
    গড সেখানে অবজেক্টিফায়েড, যেমন আমাদের ব্রহ্মা বা বিষ্ণু বা মহেশ্বর ("দেবতা"?)।
    Abrahamic God এর অস্তিত্বের অনস্তিত্বের একটা বিচার বিবেচনা  করা যেতে পারে কিন্তু যা একাধারে অরূপ, নির্গুণ তার "অস্তিত্ব্রের" ধারণাটা সহজ নয় । 
  • প্যালারাম | ১২ মার্চ ২০২৪ ১২:৪০529292
  • যাঁরা আড়ষ্ট অনুবাদটা কষ্ট করে পড়েছেন, সবাইকে একসঙ্গে থ্যাঙ্ক্যু!

    @হীরেনবাবু, ভলতেয়ারের কথাটির শেষাংশে একমত, প্রথমাংশ চমকে চেয় - সন্দেহ জাগে - সেটাই বোধহয় উদ্দেশ্য ছিল। laugh

    @সোমনাথদা: আমি গড়গড় করে টাইপাতে পারি না, তাই এই নিয়ে পরে আলোচনা করবো 'সামনের শনিবার'  cheeky আপাতত এইটুকু বলে কাটছি।

    @একক, কেকে, বক্তব্য, হুতোদা, দ-দি: ঈশ্বর / ধর্মাচরণ আসলেই, নেশার প্রসঙ্গ এসে পড়ে, অবধারিত। সে আফিম হোক বা গঞ্জিকা। ব্যক্তির 'নেশা'-র প্রয়োজন আছে কিনা - বলার আমি কোনো এক্সপার্ট নই। 'ব্যক্তি'-র মানসিক স্বাস্থ্যরক্ষায় তার গুরুত্ব-ও অন্যত্র আলোচনার বিষয় (coping mechanism - প্রসঙ্গে)। এ নিয়ে জ্যোতিষ্ক একখান ফেবু পোস্টে আমায় ট্যাগ করেছিল, লিঙ্কটা দিয়ে রাখছি... 

    https://www.facebook.com/chirantan.kundu/posts/pfbid0nV5CCVESqSE7YwVeyFFQi83fbGbPLTupg44TbVJZs5mvNLex6YrEcyGY1mVkpw6El

    আমি যা নির্দ্বিধায় বলতে পারি, ধর্মবিশ্বাস হোক বা দেশপ্রেম, প্রিয় খেলোয়াড়/নায়ক/দলের সঙ্গে একাত্মবোধ বা সঙ্গী-সঙ্গিনী-র ওপর নির্ভরতা+/আনুগত্য/প্রেম - নেশা সবই। কয়েকটি নিয়ে কাজকম্মোও হয়েছে। নেশা মানেই কিন্তু অস্বীকার্য নয়। রীতিমতো গুরুত্বপূর্ণ, ভালো-মন্দ দুই দিকই থাকে সবসময় - যেকোনো নেশার মতোই। কাজ হল, ব্যালান্স মেন্টেন করে ফাংশনাল থাকা, বিলাসকে ক্রাচ না বানানো। আরো আছে - মরণাপন্ন বা যন্ত্রণাভোগীর ক্ষেত্রে ছাড় - যেমন ছাড় ক্যান্সার হলে গাঁজা / ওপিঅয়েডে থাকে। কিন্তু...
    র‍্যাশনাল আলোচনায় বসতে হলে (মানে আফিমের আড্ডার বাইরে) তো বারে বারে গোলাপি হাতি আনা যাবে না। সমাজেও নয়। বিজ্ঞানের ওপর নির্ভর স্পিরিচুয়ালিটির কথা যkহন বলেছিলাম, সে অনেকটা সিগারেট ছাড়াতে চা খেতে বলার মতো। সবাই পারে না, দরকারও নেই কিন্তু ক্ষতি হচ্ছে বুঝলে করা ভালো। 

    সমস্যা আর কিছুই না - এ নেশার সমাজ-সমর্থিত, ক্যাম্পেন করা রি-হ্যাব নেই। তাই থেকে থেকে সেফ-হেল্প লেখালিখি করতে হয়। অথচ, ভোটের আগে বোতল বোতল নেশার সাপ্লাই ঠিকই আছে - তারপর সে মাতলামো থেকে বাচ্চাগুলোকে বাঁচায় কে? 
    সরি, বেজায় বাজে বলে ফেললাম। চল্লিশ হয়ে গেলো আসলে। devil

    @অরিন্দমবাবু: নির্গুণ ব্রহ্ম ওই একক-উল্লিখিত প্লাঙ্ক স্কেলের সম্ভাব্য ফিজিক্সের মতো - কী যে আছে, কেমন করে আছে - কোনো #%লা জানে না। যা নাকি বলা/লেখা যায় না, বোঝানো যায় না - এককথায় ধর্তব্যের বাইরে - তা নিয়ে আর এই কমেন্টবক্সে কী করে বলি বলুন, নাসদীয় সূক্ত-মতে তো সৃষ্টিকর্তা নিজেও না-ও জানতে পারে। --- মানে নৌকা পুরো পাহাড়তলী পৌঁছে গেছে, বুঝলেন তো...cheeky

    কো অদ্ধা বেদ ক ইহ প্র বোচৎকুত আজাতা কুত ইয়ং বিসৃষ্টিঃ।
    অর্বাগ্দেবা অস্য বিসর্জনেনাথা কো বেদ যত আবভূব॥৬॥

    ইয়ং বিসৃষ্টির্যত আবভূব যদি বা দধে যদি বা ন।
    যো অস্যাধ্যক্ষঃ পরমে ব্যোমন্সো অঙ্গ বেদ যদি বা ন বেদ॥ ৭॥

     
  • প্যালারাম | ১২ মার্চ ২০২৪ ১৩:০২529293
  • বক্তব্য  | 165.225.8.117 | ১০ মার্চ ২০২৪ ০৭:১০
    আপনার প্রথম মন্তব্যটি অ্যাড্রেস করতে ভুলে গেছি। এ লেখা বেরোনোর পরে জানলাম - সোমনাথ রায় একখানা ফেসবুক নোট লিখেছিলেন বহুদিন আগে। (গুরুর সাইটে কেন দেননি - ওঁকেই জিজ্ঞেস করবেন laugh)
    তবে লেখাটার একটা গুগল ডক বানিয়ে রেখেছি - এখানে দিলাম - দেখতে পারেন... 

    https://docs.google.com/document/d/1labfgyiANntqPkLugagPWj_ZSytoq0fPj50t0CkWnTE/edit?usp=drivesdk
  • Arindam Basu | ১২ মার্চ ২০২৪ ১৩:২৯529294
  • প্যালারাম, "নির্গুণ ব্রহ্ম ওই একক-উল্লিখিত প্লাঙ্ক স্কেলের সম্ভাব্য ফিজিক্সের মতো - কী যে আছে, কেমন করে আছে - কোনো #%লা জানে না।"
     
    আপনার লেখাটা (অনুবাদ যদিও, তবে আপনার লেখাটা ঠিক মামুলি অনুবাদ নয়, অনুবাদকে ছাপিয়ে গেছে), পড়তে পড়তে এই কথাটা বারবার মনে হচ্ছিল বলে লিখলাম (আপনার God -> ঈশ্বর শব্দের অনুবাদের সমালোচনা করার জন্য নয়), কারণ ঈশ্বরের এই কনসেপটটা (কি, কেমন, অস্তিত্ব, অনস্তিত্ব) আমার কাছে অসম্তব জটিল লাগে। সোমনাথ বাবুর লেখাটাতেও দেখলাম, শেষের দিকটায় লিখেছেন, 
     
    " ঈশ্বরচেতনা দৃঢ়মূল প্রোথিত করতে শুরু করে খানিকটা শৈব আর মূলতঃ বৈষ্ণবদের হাত ধরে। বিশেষতঃ বৈষ্ণব ভাবধারাটি আলাদা করে এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য, কারণ নিরীশ্বর মতগুলি কর্ম, জ্ঞান ও বৈরাগ্যের উপর জোর দিচ্ছিল এবং আলাদা করে ব্যক্তি-ঈশ্বরের প্রয়োজন এই প্র্যাক্টিসগুলোতে থাকছে না। বৈষ্ণবরা সেইখানে ভক্তির ধারণা আনে, এবং ভক্তি সম্পূর্ণ নৈর্ব্যক্তিক হতে পারেনা।"
     
    এটা একটা সাংঘাতিক গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট আমার মনে হয়। অব্যক্ত চেতনাকে রূপ দেবার এই ব্যাপারটি সবিশেষ প্রণিধানযোগ্য। 
  • বক্তব্য   | 165.225.8.117 | ১৪ মার্চ ২০২৪ ২১:২৪529372
  • অরিনের সঙ্গে সহমত। 
    প্যালারামকে ধন্যবাদ দেওয়ার ছিল চমত্কার কিছু রেফারেন্সের জন্যে। নেশার বিষয়ে এরকম কথাই বলাই ছিল, আপনি খুব ভালভাবে বুঝিয়েছেন। 
    আমার দু-একটা র‌্যাডিকাল আইডিয়া আছে। যেমন, নেশা সব্বাই করে। কিছু না কিছুর। সুন্দরের, বা অসুন্দরের। লজিকের, বা না-লজিকের। অথবা, মাঝখানের ধোঁয়াটে এলাকার। ঈশ্বর আরেকটি সুযোগ। Coping mechanism - ও বটে। কিন্তু একে অন্য সবের সাথে একগোত্রের করে দেখা ভীষণ ভুল। মনে রাখা উচিত, সহস্রাব্দীর পর সহস্রাব্দী অজস্র ধীমান মনীষা ঈশ্বর- সম্পর্কিত body of work এ contribute করেছেন।  তাঁদের সবাইকে একযোগে  stupid বলে দেওয়া কি বুদ্ধিমানের কাজ? আমি এবিষয়ে নিশ্চিত যে শুধু evolutionary approach দিয়ে এই ঘটনাকে (ঈশ্বরকে একটি event বলেই মনে করছি)। ঈশ্বর যেভাবে interdisciplinary approach নিয়ে মানুষের ব্যক্তিগত, সামাজিক, এমন কি রাজনৈতিক জীবনের অপরিহার্য অঙ্গ হয়ে উঠেছেন, এই event কে direct counter করা বহুক্ষেত্রে (সবক্ষেত্রেই হয়ত) সময় ও শক্তির অপচয় হতে পারে। অনেক ধারণাই তো আমরা মেনে নিয়েছি, টাকা, রাষ্ট্র - এইসব। এগুলি তো এক একটি abstract ধারণা ছাড়া কিছু নয়।   
    আমার আর একটি র‌্যাডিকাল ধারণা হচ্ছে - নাস্তিক বলে কিছু হয় না। যাঁরা নাস্তিক, তাঁরা ঠিক কিসে বিশ্বাস করেন না? কিছু একটাতে তো বিশ্বাস করেন! করতেই হবে। লজিকের নিয়মানুসারে। অন্ততঃ নিজের অস্তিত্বে তো বিশ্বাস করেন! তো, ভগবানের সংজ্ঞা পাল্টে যদি তাকেই (যাতে বিশ্বাস করেন) ভগবান বলে define করি - অর্থাত ভগবানের সংজ্ঞাটা নমনীয় রাখি (আছেই, নতুন কিছু তো বলা হচ্ছে না) - তখন কি আর নাস্তিক রইলেন? 
    এই সব বুর্বক কথাবার্তা - আপনারা বলতেই পারেন! নাস্তিকের প্রকৃত সংজ্ঞার স্কোপ তো এরকম নয় - বলতেই পারেন। তো, আমার বক্তব্য - আসলে ঈশ্বরের স্কোপটা ছোট করা যায় কিনা - সেইটে হয়ত খতিয়ে দেখা দরকার। ঈশ্বরঘটিত কথাবার্তা কাউন্টার না করে সশ্রদ্ধভাবে এঋয়ে প্রকৃত তথ্যের কাউন্টার করা উচিত। 
    অবশ্যই সহজ নয়। বিশেষ করে ভারতে, যেখানে 'ভক্তি' ধর্মের প্রধান উপায় - জ্ঞান ও কর্মের আগে। কিন্তু, এটা হয়ত অন্য আলোচনায় ঢুকে যাচ্ছে। মূল বক্তব্যটা হচ্ছে - মানুষের সহজভাবে নেশা করার কিছু একটা লাগেই। সেটা সবচেয়ে ভাল জানে, ও ব্যবহার করে, যাদের অত তাড়াতাড়ি নেশা হয় না, তারা  ...
     
  • প্যালারাম | ১৪ মার্চ ২০২৪ ২৩:৫৯529375
  • @বক্তব্য, আপনার আইডিয়া দুটি কিন্তু আদতে খুব র‍্যাডিকাল নয়। বরং, অমন কথাই অহরহ শুনে বড় হয়েছি।
    আপনার ১ নং পয়েন্টে দুটি কথা জুড়ে আছে –
     ক] যা রটে, এমনকি যুগযুগান্তর ধরে রটে, তুখোড় বুদ্ধিমান লোকজন রটান – তার কিছু কি বটে না?
    খ] নির্মিতি (construct/ consrructed reality)-র লিস্টে টাকা, রাষ্ট্র, ইত্যাদি থাকলে, ঈশ্বর-ই বা কী দোষ করলো? থাকুক নয় আরেকটি নির্মিতি?
     
    আর ২নং পয়েন্ট তো ওয়ান লাইনার—নাস্তিক বলে আসলে কিছু হয় না। এর সঙ্গে একটি বিপজ্জনক প্রস্তাব— ঈশ্বরের নমনীয় সংজ্ঞা।
     
    আমার এই বিভাজন/সংক্ষেপণ যদি আপনার অপছন্দ না হয়, তবে—
    প্রথমে যে বিষয়ে একমত, তা পরিষ্কার করে নিই... হ্যাঁ, অন্যান্য নির্মিতির সঙ্গে ঈশ্বর-কে একাসনে ফেলা ঠিক না। তবে আমার কারণগুলি আলাদা। 
    এবার ভিন্নমত: 
     
    ১, ক] না, বটে না। ইথার নিয়ে আলমারি আলমারি বই টান মেরে ফেলে দিতে হয়েছে, একটিমাত্র মাইকেলসন-মোর্লি-র এক্সপেরিমেন্টের পর। অনেকে রাঘববোয়াল বলেছে বলেই কোনো অনুকল্প (hypothesis) ঠিক হয়ে যায় না কিন্তু... 
     
    আরও এগোনোর আগে দেখি ঈশ্বর কথাটার কী মানে করা যায়, এতে আলোচনার সুবিধে হবে:
    অরিনবাবুর মন্তব্যের উত্তরে নির্গুণ ব্রহ্ম নিয়ে আলোচনায় আমার সমস্যাটা বলেছি; ওটা বাদ দিলে ঈশ্বর কথাটির মধ্যে দুটি ধারণা মিশে থাকে — 
    অ) স্রষ্টা (তিনি প্রেমময় পিতা/মাতা হোন, বা উদাসীন), আ) জগতের কর্মপদ্ধতি নিয়ে আমাদের যা জ্ঞান, তার ওপারের অন্ধকার। 
    দুটোর জট ছাড়িয়ে, শুধু প্রথমটি নিয়ে বসলে— সোমনাথদার লেখায় যা দেখা গেছে – আমাদের অঞ্চলের বৈদিক 'উদাসীন' স্রষ্টা কীভাবে ভক্তি-র আবির্ভাবে করুণাময়ে বদলে যাচ্ছেন—সেই প্রসঙ্গটা বোঝা যায়।
    দ্বিতীয় অংশটা নিয়ে বসলে দেখা যাবে, মাত্র কয়েক শতকে আমাদের অজ্ঞানতা যেভাবে কমেছে, তাতে বারংবার জানার ওপাশের না-জানাটাকে ঈশ্বর না বলে, 'না-জানা' বলাই শ্রেয়। অতএব, যুগযুগান্তর ধরে যা-ই বলে আসা হোক, সেটা আর না বললেও চলে। একই কথা—কাস্টিজ়ম বা জিওসেন্ট্রিক মহাবিশ্ব নিয়েও বলা যায় কিন্তু! wink

    ১, খ] ঈশ্বর নামক নির্মিতির উপস্থিতি, জগতে তার প্রভাব—এর কোনো কিছুই অস্বীকার করা হয়নি, উচিতও না। কিন্তু, নৈর্ব্যক্তিক আলোচনায় আমরা চেষ্টা করি এই সীমাবদ্ধতা থেকে বেরোতে। এইরকম ডিস্প্যাশনেট আলোচনা ছাড়া—টাকা, কোম্পানি বা রাষ্ট্র যে নির্মিতি—এ কথা জানতে পারতাম আমরা, বলুন? এই লেখাতেও সেই রকমই পরিসরে আলোচনা করা হয়েছে। থাকুক ঈশ্বর-নির্মিতি, তবে এই ধরনের নৈর্ব্যক্তিক আলোচনায় না।
     
    ২) এবারে, উক্ত অন্যান্য নির্মিতিগুলির ধার ধারে না—এমন লোক নেই কি? ভাবতে বসে নিজের সময়ের থেকে এগিয়ে নিজের মনে বর্ডারলেস বিশ্ব কল্পনা করে 'ইমাজিন' গায় না কেউ? "বাইরে যতই মানতে হোক"—বর্ডারে, ধর্মের পার্থক্যে, কাস্টে, মুদ্রায় – কোনো একখানাতেও মনের গভীরে মোটে বিশ্বাস রাখে না—এমন কাউকে চেনেন না, বলুন? 
    ঈশ্বরে ঠিক সেরকম অবিশ্বাসীকেই নাস্তিক বলে। অবিশ্বাসী ≠ নাস্তিক। স্রষ্টারূপী ঈশ্বর—এই অনুকল্পে অবিশ্বাসী = নাস্তিক। হ্যাঁ,  নাস্তিক হয়।

    না, সংজ্ঞা নমনীয় করলে, আর আলোচনাই সম্ভবে না। ধরুন, কোন বিরিয়ানি ভালো তা নিয়ে আলোচনায় বসেছেন — কিছুক্ষণ পরে বন্ধু বললো, আচ্ছা, বাদ দে, চাল থাকলেই এখন থেকে বিরিয়ানি — বাসন্তী পোলাওই বা কীসে খারাপ? হবে আলোচনা? তারপর কি পায়েসকেও বিরিয়ানি বলবেন? ভাইনবার্গের এ নিয়ে একটা কমেন্ট আছে :
    "It makes me nervous when physicists use the word "God" loosely, as talking about the laws of nature as the mind of God, or even Einstein's famous remarks about God playing dice with the cosmos. I think mostly they're just using the word "God" in the metaphorical sense.
    By "God" most of them simply mean the laws of nature, the principles that govern everything. And, well, there's nothing wrong with the metaphor, I suppose, but the word "God" is charged with so much meaning, it carries so much historical freight, and I think one ought to be careful about how one uses it." 
    --( https://www.pbs.org/faithandreason/transcript/wein-frame.html )
    অতএব, ও লাইনে কথা বাড়াবো না।
     
    অন্তিমে, টিপ্পনী... laugh
    "বাইরে যতই মানতে হোক" —এইটে আসল কথা।
    ইন্টারকাস্ট বিবাহ হলে বাড়ির লোকে মেরে ফেলে না—এমন সব রাজ্যে ধাঁই ধাঁই হচ্ছে না সেরকম বিয়ে? আরেকটু এগিয়ে ভাবি: আমেরিকায় সোজা চলে গেলাম, গিয়ে একটা ফাঁকা জায়গায় বাড়ি বানালাম—এমনটা করতে দিলে কি ডাংকি সিনেমাটা হত? পরিষ্কার বুঝি—বর্ডারের অস্তিত্ব ছাড়া পুরীও যা, প্যারিসও তাই—ট্রাভেল করতে পারলেই হল। মুদ্রাসঞ্চয় না করেও যদি খেতে পরতে পেতাম, বিলাস সম্ভব হত—ফুল সোশ্যালিস্ট সমাজ—এত খাটতো কেউ ফালতু কাজে?
    তেমনি, 
    ঈশ্বরে অবিশ্বাসী জানালে কোতল—এমন সব দেশে মোটে অবিশ্বাসী নেই। যেখানে নাস্তিক পরিচয়ে কোতল বা একঘরে হয় না, সেখেনে কাঁড়ি কাঁড়ি।
    নির্মিতির প্রয়োজন মিটে গেলে, সে গল্পকথা হয়ে যায়।
    কাস্ট মুছবে একদিন, যেমন মুছছে নারী-পুরুষ হায়ারার্কি। হয়তো দারিদ্র্যও। 
     
    ঈশ্বর কেন নয়?
  • বক্তব্য | 165.225.8.117 | ১৫ মার্চ ২০২৪ ১৭:৫৫529400
  • প্যালারাম - ধন্যবাদ কাউন্টারগুলোর জন্যে। বেশ কিছু বক্তব্য রাখার আছে। 
    কিন্তু ইলেকশানের পরে। এখন উল্টো মানে হতে পারে। smiley
    তুলব, কালক্রমে। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভালবেসে মতামত দিন