
শুধুমাত্র মহিলাদের দৃষ্টিতে ও কলমে নবারুণ ভট্টাচার্যের লেখালেখি সংক্রান্ত আলোচনার e-সংকলন "নবারুণারী"-র পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করার উদ্দেশ্যে যে সমস্ত মহিলারা নবারুণ ভট্টাচার্যকে সবটা, অনেকটা এমনকি কিছুটা হলেও পড়েছেন, তাঁদের পাঠ অভিজ্ঞতা এবং নবারুণের লেখালেখি সম্পর্কে তাদের ভাবনা, প্রশ্ন বা দৃষ্টিভঙ্গি সকলের সাথে ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে এই লেখাগুলি সংগ্রহ করা হয়েছে। আমরা জানিয়েছিলাম, লেখার কোনো শব্দসীমা নেই, এক বা একাধিক লেখা পাঠানো যাবে, ইতিপূর্বে অন্যত্র প্রকাশিত লেখার পুনঃ e-প্রকাশের অনুমতিও পাঠানো যেতে পারে। আমরা চেয়েছিলাম লেখার ভিড় থাকুক, সকলে অংশ নিন। ছোটো বড় মাঝারি যে কোনো আকারে নিজেদের নবারুণ-পাঠ লিপিবদ্ধ করুন, আমাদের পাঠান, সকলের সাথে শেয়ার করার জন্যে।
সবাই পূর্ণাঙ্গ নবারুণ রচনাবলীর best possible সমালোচনা করবেন এমনটা দাবি ছিল না। আমরা ভেবেছিলাম, যিনি যেটুকু পড়েছেন, তাঁর কাছে সেটুকুর মাধ্যমেই নবারুণ ও তাঁর সৃজন কীভাবে ধরা দিয়েছে, সেটুকু পাঠপ্রতিক্রিয়া ভাগ করে নিলেই অনেক। হয়তো একটা গল্প একটা উপন্যাস বা একটা বই নিয়েই লিখলেন কেউ, বা হয়তো আরো কিছু। ক্যানভাস বাড়াতে চাইলেও স্বচ্ছন্দে। ভালো লাগলে ভালো মন্দ লাগলে সেটাও, অকুণ্ঠে। কোনো মাল্যদান অনুষ্ঠান যেহেতু হচ্ছে না, ফুল-চন্দন শোভিত বৃন্দ-বন্দনা চাইছিলাম না স্বভাবতই। কাটা-ছেঁড়া হোক, থুতু-বমি রক্তপাত থাকলে থাকুক, খণ্ড খণ্ড এই সমস্ত দেখার পড়ার কোলাজেই সামগ্রিকভাবে e-সঙ্কলনটি থেকে নবারুণ প্রতিফলিত হোন, এটুকুই ছিল আশা। তাই, যদি কেউ কিছুমাত্র নবারুণ পড়ে থাকেন, সেটুকু নিয়েই লিখতে অনুরোধ জানিয়েছিলাম।
আশা ছিল সকলেই নিজেদের জানা নবারুণ-পাঠিকাদের লিখতে উৎসাহী করবেন, এবং জরুরি, যারা চেষ্টা করেও নবারুণ-পাঠিকা হয়ে উঠতে পারেননি, তাদেরও। কেন একজনের লেখা একেবারেই আকর্ষণ করছে না - এটাও ত লেখার। এই জায়গাটা দেখেছি একেবারেই ধরা পড়ে না কোথাও। অথচ বর্তমান বাংলা ভাষার একজন মেজর লেখক হিসেবে তিনি চিহ্নিত হচ্ছেন। বিরূপ পাঠপ্রতিক্রিয়া ও তো লিখে ফেলা যায়। কেন এগনো যাচ্ছে না লেখার মধ্যে, কোথায় কীভাবে আটকাচ্ছে। ইন্টারভিউও তো ভালো অপশন। ইন্টারভিউ নিয়ে কেউ কোথাও কিছু লিখেছে বলে জানিনা। যে, ইন্টারভিউর মধ্যে দিয়ে মানুষটা কীভাবে বেড়িয়ে আসছেন, কিভাবে তাঁকে নিজের মতো একরকম বুঝে নেওয়া যাচ্ছে। চেয়েছিলাম নিজের কথাও লিখবেন কেউ কেউ, ওঁর লেখা পড়তে পড়তে কীভাবে রিয়্যাক্ট করছেন, রিলেট করছেন বা করছেন না, থট প্রসেস পাল্টে যাচ্ছে দৃষ্টিভঙ্গী পালটে যাচ্ছে বা যাচ্ছে না। কতটা পারা গেল, এই সংকলনটিই তার সাক্ষ্য দেবে।
শুধু মহিলা পাঠকদের লিখতে বলার কারণ আছে। গত ৩-৪ বছর ধরে নবারুণ ভট্টাচার্যের উপর লেখালেখি আর্কাইভ করার অভিজ্ঞতায় বলি, নবারুণ ভট্টাচার্যের উপর লেখালেখির খুব সামান্যই মহিলাদের। ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ বাদ দিলে সংখ্যাটা আরও কমে। ব্লাইন্ড স্পট বাড়তে বাড়তে একটা দিক দৃষ্টিসীমার বাইরে। এটা কেন হচ্ছে? অর্থাৎ কোথাও কিছু একটা গোলমাল আছে, যেটা সারফেসে নেই। ওঁর লেখালেখি এবং লেখার সমালোচনার প্রক্রিয়ার সাথে বাংলা সাহিত্যে ও সাহিত্য পাঠের পরিমণ্ডলে কী কোনোভাবে তবে লিঙ্গরাজনীতিও জড়িয়ে যাচ্ছে? বুঝতে চেয়েছিলাম।
৩১শে জুলাই নবারুণের তিরোধান দিবসের দ্বিতীয় বাৎসরিকে সংকলনটি প্রকাশ করার ইচ্ছে ছিল। এর মধ্যেই মহাশ্বেতা দেবী চলে গেলেন। আরো নানা কারণে একটু দেরি হল। তবু হল তো। আংশিক হলেও আমরা জেনে নিলাম, এই গ্রহের মহিলা পাঠকেরা কীভাবে মুখোমুখি হয়েছেন নবারুণের। মহিলাদের নবারুণ পাঠ কি কোনো আলাদা আঙ্গিক এনে দিচ্ছে তাঁর রচনার মূল্য নিরুপণে? আদৌ কি মহিলারা নবারুণকে পড়েছেন, খানিকটা, অনেকখানি বা সম্পূর্ণভাবে? প্রথম পাঠ, একটা গল্প, একটা উপন্যাস, একটা সিরিজ, কিছু কবিতা, সাক্ষাৎকার একটা বই বা অনেকগুলো বই, অনেক লেখা নিয়ে বা সামগ্রিক মূল্যায়ণ - এর কিছু আমরা মহিলাদের কলমে পেলাম, আরো কিছু পাওয়া যেতে পারে ভবিষ্যতে যদি আরো কেউ লেখেন। প্রচলিত নবারুণ মূল্যায়ণের ক্ষেত্রে তা আলাদা মাত্রা যোগ করল কিনা পাঠকই বলবেন।
এই e-সংকলনে প্রকাশিত লেখার বাইরে ইতিমধ্যে মহিলাদের যে সমস্ত লেখালেখির সন্ধান জানা ছিল, নিচে তার একটা লিস্ট রইল। সামগ্রিকতার দাবি নেই, কিন্তু তবু বেশ কিছুটাই ডকুমেন্ট করতে পেরেছি বলে মনে হয়। ওয়েব-মাধ্যমে প্রকাশিত লেখাগুলি হাইপারলিংকড রইল। হার্ড কপি বই বা পত্রিকার বাইরে যেগুলো পাওয়ার সম্ভাবনা নেই, সেগুলোর প্রকাশতথ্য রইল।
পাঠক | ০৫ আগস্ট ২০১৬ ০২:০০81245