ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • একটা অ-সমাপ্ত গল্প (পর্ব: ২৮ - ৩০)

    Kaushik Ghosh লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ | ১২৯৮ বার পঠিত
  • ২৮।

    দিন পাঁচেকের ছুটিটা যেন পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনা! হঠাৎ করে এক পশলা খুশির মতন। আগে হলে ভালো লাগত না তেমন; স্কুলে না গেলে ওদের পাঁচজনের এক জনেরও মন ভালো থাকে না। বাকি চার জনের এবার কেমন লাগছে জানে না শোভা, কিন্তু এবার ওর মোটেই তেমন খারাপ লাগছে না - সারাদিন শুয়ে শুয়ে নিজের মনে চিন্তার জলছবি আঁকতে যে এত ভালো লাগে, তা ও এর আগে বোঝেনি কোনদিন। তাই তো সেদিন যখন বড়দিদিমনি ক্লাসে এসে বললেন, উপনির্বাচনের জন্য আগামী পাঁচদিন তোমাদের স্কুল ছুটি থাকবে - তখন তেমন খারাপ লাগেনি শোভার।

    তবে এ ছুটিটা একটু আলাদা ভাবে কাটছে ওর। আগে হলে বাড়িতে থাকার সময়টুকু ও কাটাত হয় বাবার কাছে রিসাইটেশন শুনে, নয়ত মায়ের কাছে এটা ওটার আব্দার করে আর তা না হলে কিরনের সাথে খুনসুটি করে।
    এবার কিন্তু এ সব কিচ্ছুই করতে ইচ্ছে করছে না তেমন ভাবে। সারাদিন অবসর সময় গুলোতে শুয়ে বসে শোভা আনমনা হয়ে যাচ্ছে থেকে থেকেই। থেকে থেকেই মনে করছে বিশ্বনাথ'দার কথা। আর মনে হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মুখে লাগছে লালের ছোঁয়া - নিজের অজান্তেই।

    পরশু শুক্রবার, শোভার গান শিখতে যাওয়ার দিন। ওর বিশ্বনাথ'দার সাথে দেখা হওয়ার দিন। মাঝে অতিরিক্ত একটা দিনকে অভিসম্পাত করার সাথে সাথে একটু যেন আনন্দও হল শোভার; আর মোটে একটা দিন, তার পর দিনই দেখা হবে বিশ্বনাথদার সাথে!

    সপ্তাহের এই বিশেষ দিনটার জন্য আজকাল মুখিয়ে থাকে শোভা। বিশ্বনাথ'দার সাথে এক সাথে গান গাওয়া, গাইতে গাইতে চোখা চোখি হওয়া, গুরুজীর নজর এড়িয়ে অল্প হাসি বিনিময় - এ সবই সত্যি,কিন্তু তবু যেন স্বপ্নের মতন মনে হয়! এক নাম না জানা আবেশ জড়িয়ে ধরে শোভাকে ওই মূহুর্ত গুলোতে। ওই মূহুর্ত গুলোকে মনের বাক্সে ভরে বাড়ি নিয়ে আসে শোভা এক সপ্তাহের জন্য। সময়ে অ-সময়ে মন বাক্সের ডালা খুলে মূহুর্ত গুলোকে ঝালিয়ে নিতে নিতে প্রতীক্ষায় থাকে পরের শুক্রবারের।

    এ এক অদ্ভূত অনুভূতি! এরকমটা ওর এই পনের বছরের জীবনে হয়নি কখনও। কেন যে হয়নি!
    বিশ্বনাথ'দার মধ্যেও আজকাল একটা পরিবর্তন দেখতে পায় ও; সেই কাঠখোট্টা গম্ভীর ভাবটা অনেকটাই উধাও হয়ে গেছে যেন। ক্লাসের পরে শোভাকে বাড়ি অবধি এগিয়ে দিতে এসে আজকাল অনেক গল্প করে বিশ্বনাথ'দা, অনেক হাসি খুশি ভাবে কথা বলে আজকাল।

    পরিবর্তন যে শোভার মধ্যেও কিছু হয়নি তেমনটা নয়। আগের সেই ডানপিটে লড়াকু শোভাটা যেন কোথায় হারিয়ে গেছে! এখন ও অনেক শান্ত, একটু চুপচাপ ও যেন। আর হ্যাঁ! আরেকটা নতুন উপসর্গ দেখা দিয়েছে শোভার ব্যাবহারে - লজ্জা। এত লজ্জা যে ও কোথা থেকে পেতে শিখল তা ভগবানই জানেন। এখন ওর আর কিরনের আচরনের মধ্যে তাই তেমন কোন পার্থক্য নেই।

    দিন কতক হল কিরনটা যেন আরও চুপচাপ হয়ে গেছে। কে জানে কেন! আজ রাতে পিঠে সুড়সুড়ি খেতে খেতে জিজ্ঞেস করতে হবে কিরন কে। এটা ওদের দু-বোনের বহুদিনের অভ্যেস। রাতে শোয়ার সময় একে অপরের পিঠে পাঁচশো বার সুড়সুড়ি দেবে। প্রথমে কিরন শোভার পিঠে পাঁচশো সুড়সুড়ি দেবে, তারপর শোভা কিরনের পিঠে। বেশির ভাগ দিনই তাই কিরনের আর ভাগের সুড়সুড়িটা নেওয়া হয়না শোভা ঘুমিয়ে পড়ে বলে। তা নিয়ে কোনদিন কোন অনুযোগ জানায় না কিরন। মেয়েটা ওরকমই। আর তাই তো শোভা এত ভালোবাসে কিরন কে!

    আকাশ পাতাল ভাবনার চমকটা ভেঙে গেল। সামনের রাস্তাটা দিয়ে একটা মিছিল যাচ্ছে। জানলার কাছটায় উঠে গেল শোভা। সিপিএম। ওদের মিছিলে সবাই বলে ইনক্লাব জিন্দাবাদ । কংগ্রেসের মিছিলের বন্দে মাতরম ধ্বনি শুনতে ওর বেশি ভালো লাগে। তবে ইনক্লাব জিন্দাবাদ স্লোগানটার মধ্যেও একটা ব্যাপার আছে। তবে একটু ধাঁধাঁও লাগে শোভার! বিপ্লবকে দীর্ঘজীবি করবার বাসনার মধ্যে কোথাও যেন একটা নঞর্থক ভাবনা লুকিয়ে আছে বলে মনে হয় ওর। তার চাইতে এটা কি বেশি ভালো নয় - বিপ্লবের কোন দরকারই না থাকুক! পৃথিবীর কোথাও কেউ অত্যাচারিত না হলে তো আর বিপ্লবের প্রয়োজনই থাকে না! যদিও সেরকমটা হওয়ার সম্ভাবনা কম, তবু আশা করতে তো আর বাধা নেই!

    মিছিলটা থেকে স্লোগান উঠছে - তোমার নাম আমার নাম, ভিয়েতনাম ভিয়েতনাম। দূর, ভুলভাল স্লোগান! আরো অনেক সুন্দর ভাবে তৈরি করা যেত স্লোগানটা। যেমন - প্রতিবাদের নতুন নাম,ভিয়েতনাম ভিয়েতনাম।
    সত্যি, কি অমানুষিক অত্যাচারটাই না চলছে ওখানে! আচ্ছা, এই যে জাতী সঙ্ঘ না কি যেন একটা বলে - তারা কিছু করতে পারেনা! তা না হলে ভারতের একটা মফঃস্বল শহরে একটা প্রতিবাদ মিছিলের কিইই বা দাম আছে! যে মানুষ গুলো ভিয়েতনামে লড়াই করছে, তারা তো জানতেই পারছে না এই প্রতিবাদের কথা! শুধু শুধু সময় ও শক্তির অপচয়। এই সময়টা নিজেদের দেশের সমস্যা গুলোকে নিয়ে নাড়াচাড়া করলে ভালো হতনা! উদ্ধাস্তু সমস্যার সমাধান হয়নি এখনও, তার মধ্যে দেশে এত বেকার। কংগ্রেস সরকার যে কিভাবে সারা দেশের মানুষের ভোট পাচ্ছে কে জানে! নতুন কোন একটা দলকে সুযোগ অবশ্যই দেওয়া উচিৎ, তারা তো দেশটাকে এর চাইতে ভালো চালাতেও পারে!

    ও ঘর থেকে বাবার গলার আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। কার সাথে কথা বলছে বাবা? বাবার বাকি কথা গুলোর সাথে সাথে ভিয়েতনাম কথাটাও কানে এল। কে এসেছে এই সময়?
    ও ঘরে ঢুকতেই কে যেন দমাদ্দম হাতুড়ি পিটতে শুরু করল শোভার বুকের ভেতর। বিশ্বনাথ'দা। এই সময়?

    বিশ্বনাথ'দা বসেছে শোভার দিকে পিঠ করে।বাবার কথা শুনতে শুনতে মাথা নাড়ছে মাঝে মাঝে। বাবা থামলে পরে বিশ্বনাথ'দা বলল, " কিন্তু মেসোমশাই, প্রেসিডেন্ট জনসন তো বলেইছেন যে যুদ্ধের ইনটেনসিটি কমাবেন। বিমান হানাও বন্ধ করবার কথা ভাবছেন। তবে কেন এই সব মেকি প্রতিবাদ? এ তো লোক ঠকানোর কারবার!" আরো কিছু বলতে যাচ্ছিল বিশ্বনাথ'দা কিন্তু তার আগেই বাবা দেখতে পেয়ে গেছে শোভা কে।

    - শোভা মা, ভেতরে আয়। বিশ্বনাথ অনেক্ষন আইয়া গল্প করতাসে আমার লগে।
    তারপর হঠাৎ কিছু মনে পড়ার ভঙ্গিতে বললেন, "দেখছিস কান্ড! এতক্ষন ওরে চা কইরা দিতে কই নাই। শিগ্গির তোর মা রে ঘুম থিকা তোল।"

    বিশ্বনাথ'দা বারন করতে যাচ্ছিল, কিন্তু তার আগেই শোভা বেড়িয়ে এসেছে ঘর থেকে, ধরা পড়ে যাওয়ার লজ্জা ঢাকতে। ওর ইচ্ছে ছিল আরো কিছুক্ষণ বিশ্বনাথ'দাকে দেখে লুকিয়ে লুকিয়ে কিন্তু তার আগেই বাবা দিল সব মাটি করে!

    মা কে ইচ্ছে করেই ডাকল না শোভা। তা হলে ওর নিজের হাতের তৈরি চা খাওয়াতে পারবেনা বিশ্বনাথ'দাকে।
    চায়ের সাথে অল্প কিছু জলখাবার নিয়ে পায়ে পায়ে ঘরে ঢুকল শোভ। ও বুঝতে পারছে ওর নাকে আর ঘাড়ে জমা হয়েছে স্বেদ বিন্দু। বুকের ভেতরে একটা মৃদু, অথচ দ্রুত ধুকপুকুনি টের পাচ্ছে ও। লজ্জা নয়, ভয়ও নয় - অন্য কোন অজানা অনুভূতিই জনক এই ধুকপুকুনিটার।

    বাবারা এখনও যুদ্ধ নিয়েই কথা বলছে। রিচার্ড নিক্সন বলে কার একটা যেন কথা বলছে বিশ্বনাথ'দা। বাবা বলছে, "নিক্সন আইলেও ওই একই ভাবে মানুষ মারবে, তুমি দেইখ্যা নিও। এহন ভোট পাওয়ার লগে যুদ্ধ থামায়া দিব বইলা জিগীর তুলতাসে।"

    চায়ের কাপটা টেবিলে বসিয়ে চলে যাচ্ছিল শোভা। বাবা পেছন থেকে ডাকল। "বিশ্বনাথ তোরে একটা খবর দিবার লগে আইসিল। এই শুক্কুরবার তোগো গুরুজী বিশ্বনাথ দের বাসায় শিখাইবেন।"

    ঘরের বাইরে বেড়িয়ে শোভা অনুভব করল বুকের ধুকপুকুনিটা বেড়ে গেছে শত গুণে ।

    ২৯।

    ক্লাস থেকে বেড়িয়ে লাইব্রেরির দিকে এগোল রতন। অপটিক্সের ওপর একটা রেফারেন্স বই তুলতে হবে।যদিও এ. আর. স্যরের পড়ানোর পরে আর কোন বই না পড়লেও চলে, তবু লাইব্রেরি ওয়ার্কটাকে এই কমাসের মধ্যে অভ্যেসে পরিনত করে ফেলেছে ও। এ কলেজের প্রফেসররা এক এক জন সব দিকপাল; তাঁদের ক্লাস নোটের ওপর ভরসা করে বছর বছর ছেলেরা ভালো নম্বর পেয়ে পাশ করছে। কিন্তু পড়াশোনাটা রতনের কাছে শুধু পরীক্ষা পাশ করা নয়, এটা ওর বড় ভালোলাগার, বড় ভালোবাসার একটা জায়গা। এখানে এসে ও বুঝেছে, যদি কেউ পড়তে চায় তবে এখানে তার জন্য সব মজুত রয়েছে। স-ব। ভালো শিক্ষক, ল্যাবোরেটরি, পর্যাপ্ত বই। এখানে ফাঁকি মেরে ঘুরে বেড়ানো আর নিজের পায়ে কুড়ুল চালানো - দুইই এক।

    বাড়িতে থাকতে অনেক নেই এর সাথে লড়াই করতে হয়েছে ওকে, এখানে লেখাপড়ার জন্য অন্তত কোন কিছুর অভাব নেই। ওর নিজের ইচ্ছে অবশ্য ছিল হায়ার সেকেন্ডারির পর ফিজিক্সে অনার্স নিয়ে পড়বার কিন্তু ঘটনা চক্রে আজ ও হাওড়ার বি।ই। কলেজে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এর ছাত্র।

    আসলে কিছু কিছু ঘটনা - হয়ত খুবই সামান্য - মানুষের জীবনের পূর্ব নিয়ন্ত্রিত গতিপথ কে আমূল পাল্টে দেয়।
    এই যেমন ওর ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া। সেদিন খেলার মাঠ থেকে ওর সোজা যাওয়ার কথা ছিল পার্টি অফিসে। পথে হঠাৎই ও ঢুকে যায় অপুদের বাড়ি। জয়েন্ট এনট্রান্সের ফর্মটা নেহাতই অপুর কথায় ভরেছিল রতন; ভেবেছিল পড়ব তো সেই ফিজিক্স অনার্সই! কিন্তু জয়েন্টের রেজাল্টটা বেরোনোর পরে পাল্টে গেল সব কিছু। সকাল বেলায় ন-কাকার ঘরে বসে খবরের কাগজ পড়ছিল ও। আগের দিনই যে জয়েন্টের রেজাল্ট বেড়িয়েছে তা জানত রতন। স্বাভাবিক কারনেই দেখতে যায়নি - ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার কোন ইচ্ছে তখনও ওর মনে দানা বাঁধেনি। কিন্তু সব পাল্টে গেল একটা খবর থেকে অন্য খবরে যাওয়ার সময়টুকুর মধ্যে। হাতে এক তাড়া কাগজ নিয়ে অপু এসে ঢুকল বাড়িতে। মুখে একগাল হাসি।

    অপুর মুখে খবরটা শুনেও নিষ্পৃহ ছিল রতন - পড়বে ও ফিজিক্সই! কিন্তু বাধ সাধল মা। মায়ের চোখের অনেক জলের সামনে ভেসে গেল রতনের সব আপত্তি, খুলল একটা নতুন দড়জা। অপু মেক্যানিক্যাল নিয়েছে। অন্য সেক্সানে পড়ে। থাকেও অন্য হস্টেলে। তবে দেখা হয় রোজই। আর দেখা হলেই এ কথা সে কথার পরে অপু বলবে - তা বাবু রাদারফোর্ড, কেমন লাগছে এই মিস্তিরিদের আখড়ায়!

    লাইব্রেরির সামনে এসে অবাক হল রতন। প্রবীর দাঁড়িয়ে আছে। হাতে দুটো মোটা মোটা ভল্যুম। প্রবীরের স্ট্রীম মেটালার্জি কিন্তু রতনের সেক্সানেই পড়ে। প্রথম দু-বছর সবাইকে কমন পেপারই পড়তে হয়। থার্ড ইয়ারে গিয়ে যে যার নিজের স্ট্রীমের পেপার পাবে।

    এ ক-মাসে প্রবীরের সাথে বেশ বন্ধুত্ব হয়েছে রতনের। অপু কে বাদ দিলে এখানে রতনের সব চাইতে প্রিয় বন্ধু ওই প্রবীরই।
    প্রবীরের পিঠে একটা চাপড় মেরে রতন জিজ্ঞেস করল, "কি রে, লাইব্রেরির সামনে তুই কি করছিস? তোর লাইব্রেরি কার্ড আছে?" কপট রাগের অভিনয় করে প্রবীর বলল, "কেন রে শালা! পড়াশোনা করবার অধিকার কি শুধু গাঁয়ের ছেলেদেরই আছে? কলকাতার ছেলেরা এবার থেকে আড্ডার সময় কমিয়ে দেবে, বুঝলি!" প্রবীরের সব ভালো কিন্তু বড্ড মুখ খারাপ করে ছেলেটা। রতন অবশ্য তাতে তেমন কিছু মনে করেনা, ও জানে প্রবীর ওকে কতটা ভালোবাসে।
    চোখ মেরে প্রবীর বলল, "কি গুরু, সত্যি ভাবলি নাকি? আরে দূর দূর! আমি কি তোর মতন মিস্তিরি হতে এখানে এসিচি নাকি? বাপের পয়সাগুলোর একটা সদগতি হচ্ছিলনা তাই এসে ঢুকলুম এই হরি ঘোষের গোয়ালে। এ বই গুলো রমেন'দার। ফেরৎ দিতে বলেছিল।"

    রমেন'দা, মানে মেক্যানিক্যালের রমেন ব্যানার্জী। বি.ই. কলেজ চত্ত্বরে রমেন'দা সম্পর্কে একটা চালু রসিকতা আছে। রমেন'দা ব্রিটিশ আমলে ইঞ্জিনিয়ারিং-এ ভর্তি হয়েছিল। তারপর প্রায় সিকি শতাব্দি পার হতে চলল, কিন্তু রমেন'দা এখনও বোট্যানিক্যাল গার্ডেনের বট গাছটার মতন থার্ড ইয়ারের মাটি কামড়ে পড়ে রয়েছে। তাই, " থার্ড ইয়ারের রমেন'দা"-কে সক্কলে এক ডাকেই চেনে!

    তবে এ কথা সত্যি, যে রমেনদা রোজ সন্ধ্যেবেলায় নিয়ম করে পড়তে বসে। বিকেলের দিকে একটু ঢুকুঢুকু হয় অবশ্য, তা না হলে রমেনদা ঠিক কনসেনট্রেট করতে পারেনা! এ সব দেখে বড় খারাপ লাগে রতনের। সময়-সুযোগের কি সাঙ্ঘাতিক অপচয়! প্রথম প্রথম এ সব দেখে বড় অস্থির লাগত ওর,কিন্তু এখন ও নিজেকে বুঝিয়ে নিচ্ছে ধীরে ধীরে - বড়লোক বাবার ছেলেরা হয়ত একটু এরকমই হয়। একটু বেপরোয়া আর অনেকটাই বেহিসেবি। আসলে জীবনটা ওদের কাছে তেমন সিরিয়াস কোন জায়গা নয়। পড়াশোনা তো নয়ই। আসলে ওদের তো আর রতনদের মতন লড়াই করতে হয়নি! না চাইতেই ওদের কাছে সব চলে এসেছে, তাই চেয়ে না পাওয়ার দুঃখটা ওদের বোঝানো যাবেনা। তার জন্য অবশ্য রতন ওদের ঈর্ষা করেনা, ও শুধু চায় নিজের পায়ে দাঁড়াতে। ওকে যে প্রতিষ্ঠিত হতেই হবে! না হলে মায়ের দুঃখ ঘুঁচবে না। ওই এজমালির বাড়ি, ওই রান্নাঘর আর ওই একই পরচর্চার আখড়া থেকে মা কে বের করে আনতেই হবে।
    তিনটে ব্যাঙ্ক ফেল হওয়ার দুঃখ বাবা আজও ভুলতে পারেনা। ভোলার কথাও নয়। রতন মাঝে মাঝে ভাবে, ব্যাংক তিনটে যদি ফেল না করত, তবে কি হত। ওদের আর্থিক অবস্থা প্রবীরদের অনুরুপ না হোক, তুলনামূলক হত অবশ্যই! তা হলে কি ও পড়াশোনার প্রতি একই রকম নিষ্ঠাবান থাকত? না কি রমেন'দার মতন জীবনটাকে বইয়ে দিত খেয়াল-খুশিতে?

    লাইব্রেরি থেকে বেড়িয়ে ওরা দুজনে গিয়ে বসল গঙ্গার ধারে। এখন আর ক্লাস নেই কোন। অন্যদিন এই সময় রতন হস্টেলের ঘরে গিয়ে একটু বিশ্রাম নিয়ে নেয়, তারপর রাতের খাওয়া সেরে পড়তে বসে। এই সময়টায় ওর বড় খিদে পায়। দুপুরের পর হস্টেলে খেতে দেয় সেই রাতে। স্কলারশিপের টাকাটা দিয়ে কোনমতে চলে ওর - সেই টাকা দিয়ে বাইরের খাবার খাওয়ার কথা ভাবাটাও ওর কাছে অবাস্তব। খুব খিদে পেলে জল খেয়ে কাটিয়ে দেয়, যতক্ষণ না খাওয়ার সময় হচ্ছে। আর তো কটা বছর!

    গঙ্গার হাওয়ায় খিদেটা চাগাড় দিচ্ছে। প্রবীর মনের সুখে বকে যাচ্ছে। একটু পরেই ও ক্যাম্পাসের বাইরে গিয়ে এটা ওটা খাবে, রাতে আর মেসে খেতে আসবে না। রতন বলল, "এই, আমি রুমে চললাম বুঝলি!" প্রবীর একটা পা গঙ্গার জলে ডুবিয়ে বসেছিল। রতনের কথা শুনে জল থেকে পাটা তুলে উঠে দাঁড়াল। বলল, "শালা, এক্ষুনি পড়তে বসবি না? তোর সতীপনা আজকে আমি ঘোঁচাচ্ছি! এক্ষুনি আমার সাথে চল আড্ডা মারতে।"

    প্রমাদ গুনল রতন। আড্ডা মারা মানেই এটা ওটা খাওয়াবে প্রবীর। ও কোনোওদিন প্রবীরকে কিছু খাওয়াতে পারেনা - এটা যে ওর কত বড় কষ্ট, সে কথা প্রবীর বুঝবে না। কিছু একটা বলে ওকে নিরস্ত্র করতেই হবে। কিন্তু ইতিমধ্যেই প্রবীর ওর হাত ধরে টানতে শুরু করে দিয়েছে। রতনের কোন কথাই ও শুনছে না ও। বলছে, "আজকে শালা তোমার কোন ছেনালিপনা আমি সহ্য করব না! আজ তুই আমার সাথে মহেশের দোকানে আড্ডা মারতে যাবি, এই আমার শেষ কথা।"
    রতন বলল, "আমার কথাটা শোন, আজ আমার শরীরটা ভালো নেই।" রতনকে প্রায় বগলদাবা করে ফেলেছে প্রবীর, হাসতে হাসতে বলছে - আরে ব্যাটা, মহেশের দুটো সিঙ্গাড়া ঝাড়বি দেখবি শরীর পুরো ফিট হয়ে গেছে!

    সর্ব শক্তি দিয়ে নিজেকে ছাড়িয়ে নিল রতন। বলল, " আমি কিছুতেই যেতে পারব না রে, একটু বোঝার চেষ্টা কর!" রতনের চোখ দুটো জলে ভরে গেছে। প্রবীরকে ওখানেই দাঁড় করিয়ে রেখে ছুটে চলে গেল রতন। অবাক বিস্ময়ে সেদিকে তাকিয়ে রয়েছে প্রবীর। বন্ধুর ব্যবহারের মাথামুন্ডু কিছুই বুঝে উঠতে পারছেনা । একেবারেই পারছে না কি?

    গঙ্গার ঘাট থেকে উঠে ডান দিকে ওদের কলেজের মেন গেট। গেটের ঠিক বাইরেই মহেশের দোকান। বাঁ দিকের রাস্তাটা যায় ছেলেদের হস্টেলের দিকে। ভেজা পায়ে জুতোটা গলাতে গলাতে বাঁ দিকের রাস্তাতা ধরল প্রবীর।

    ৩০।

    খুব একচোট হয়ে গেল আজ, যা হোক! পুরন্দরটা চিরকালের গোঁয়ার। এঁড়ে তর্ক করাতে ওর জুড়ি মেলা ভার। আচ্ছা, না হয় তুই ইস্টবেঙ্গলের সাপোর্টার, তা বলে যা ইচ্ছে তর্ক করবি? চুনীর মতন ফরোয়ার্ড ভারতে জন্মেছে আজ অবধি? এ নিয়ে কোন তর্কই চলতে পারে না! তা সে কথা ওই মাথা মোটা পুরন্দর মানলে তো! পঞ্চপান্ডপ মারাচ্ছিল - গাধা কোথাকার! অশোকটা মাঝখানে না এলে ব্যাটার নাক ফাটিয়ে তবে বাড়ি আসত আজ গণেশ। হতভাগা!

    কলতলায় গিয়ে রগড়ে রগড়ে গোড়ালী থেকে কাদা তুলল গণেশ। বাঁ পায়ের বুটটার গোড়ালীর নিচের স্টাড দুটো ভেঙে গেছে, কদিন তাই খালি পায়েই খেলতে হচ্ছে ওকে। অবশ্য তাতে একটা সুবিধে আছে - খালি পায়ে বল কনট্রোল করা সহজ। স্কীল ও অনেক ভাল হয় তাতে। কিন্তু অসুবিধেও আছে অনেক। শটের জোর কমে যায়। চোট লাগার সম্ভাবনাও বেশি। কিন্তু খালি পায়ে খেলেই তো শৈলেন মান্নারা অলিম্পিকে ফোর্থ হয়েছেন! আর ১৯১১র ঘটনা তো ইতিহাস! পারে কালিদা, এ সব আমাদের মোহনবাগানের প্লেয়াররা পারে! চুনীর সামনে ওসব আপ্পারাও-সালে নস্যি! স্রেফ নস্যি!

    মোহনবাগান এবারের কলকাতা লীগটা জিতলে আর দেখতে হবে না! পর পর চার বার হয়েছে, এবার যদি হয়ে যায়.....! মহামেডানের তিরিশ বছরের রেকর্ড গেল বলে! আর না হওয়ার কোন কারন ও নেই - চুনী তো আছেই, ক্যাপ্টেন জার্নেল ও যা ফর্মে আছে, উড়িয়ে দেবে সবাইকে এবার! ডুরান্ড ও পরপর তিনবার জেতা হয়ে গেল! এবার রোভার্সটা টার্গেট কর বাবারা!

    বাইরের ঘরে জোর গজল্লা চলছে। কলেজের ছুটিতে কাল রাতের ট্রেনে দাদা এসেছে। থাকবে আরো দিন সাতেক। বেচারা! আর দিন পনের আগে এলে কমল'দার বিয়ের নেমন্তন্নটা এভাবে ফস্কাতো না!

    এই ক মাসে দাদার মধ্যে অনেক পরিবর্তন এসেছে। এখন আগের চাইতে অনেক বেশি কথা বলে দাদা। অনেক নতুন নতুন কথাও শিখেছে - এই যেমন কালিদা কথাটা! ওদের কলেজে সকলে নাকি কথায় কথায় বলে - এই তো জীবন কালিদা! ওদের কলেজের কম্পাউন্ডটা নাকি বিশাল বড়, ওরা বলে ক্যাম্পাস। ক্লাসের মাঝের ছুটি গুলো কে বলে ব্রেক। এ রকম আরো কত কি!

    মেজ জ্যাঠা বলছে, তোর দাদার পেটে কলকাতার জল পড়েছে রে গণেশ!
    আচ্ছা, সত্যিই কি কলকাতার জল হাওয়ায় এমন কিছু আছে যা মানুষ কে পাল্টে দেয়? দেয় নিশ্চয়ই! তা না হলে দাদাকে এর আগে কে এত কথা বলতে দেখেছে? আর আগের চাইতে অনেক হাসিখুশিও লাগছে দাদাকে। ভালো। হাসিখুশি থাকা ভালো।

    দাদার অনারে ভাইবোনেরা সব পড়ায় ফাঁকি দিয়ে গল্প করছে বাইরের ঘরে। জ্যাঠাও তেমন কিছু বলছেন না কাউকে। সেও ওই দাদার জন্যই। দাদাকে জ্যাঠা খুব ভালো বাসেন, মুখে নাই বা বললেন,কিন্তু গণেশ জানে। আচ্ছা, গণেশ যদি আজকে দাদার মতন বাইরে থেকে আসত, তবেও কি জ্যাঠা সকলের পড়ার ছুটি করে দিতেন?

    জ্যাঠা। বাড়ির সকলের বড়। সারা পাড়ার জ্যাঠা। এ সংসারটার ক্যাপ্টেন। মেজ জ্যাঠা আর বাবার যৌথ ব্যবসার হাল অনেক দিন ধরেই টলমল। বোধ হওয়া ইস্তক তাই ওরা ভাইবোনেরা সকলেই দেখে আসছে জ্যাঠা শক্ত হাতে হাল ধরে আছেন সংসারটার।

    বাইরের ঘরে ঢুকে গণেশ দেখল বেশ একটা জমাটি আড্ডা বসেছে। দাদাকে ঘিরে বসে রয়েছে জ্যাঠতুতো দাদারা, ছোটরা একটু দুরে বসেছে জটলা করে। আজকে জ্যাঠাও উপস্থিত ভাই বোনেদের মধ্যে, রোগী দেখতে বেরোননি। ওকে দেখে দাদা ডেকে নিল নিজের পাশে। বড় ভালো লাগলো গণেশের। এর আগে কোনদিন এরকম হয়নি। মানে দাদার ওকে আলাদা করে ডাকবারই প্রয়োজন পড়েনি! ওরা সব ভাইবোনেরা জন্মে থেকেই এক সাথে জরাপট্টি করে পাশাপাশি রয়েছে, একজনের উপস্থিতি অন্যের কাছে রোদ বৃষ্টি নিঃশ্বাস প্রশ্বাসের মতই স্বতঃসিদ্ধ। একে অপরকে অলাদা করে অনুভব করতে হয়নি কখনও। তাই দাদা ওকে আলাদা করে ডেকে পাশে বসাতে আর সকলের মাঝে নিজের উপস্থিতিটা যেন আলাদা করে বুঝতে পারল গণেশ।

    নিজের কলেজের পড়াশোনার গল্প করছে দাদা। বলছে প্রফেসরদের কথা। পড়াশোনার গল্প গণেশের তেমন প্রিয় নয় তবু আজকে চুপ করে দাদার কথা গুলো শুনতে ইচ্ছে করছে ওর। গণেশের উল্টোদিকে বসে আছে বাবলুদা। বাবলুদার সাথে একবার চোখাচোখি হল গণেশের। একটা ম্লান হাসি ফেরৎ দিল বাবলুদা। গণেশ কোনদিন নিজের ভাইবোনেদের সাথে জেঠতুতো ভাইবোনেদের পার্থক্য করেনি কিন্তু আজকে, সকলে একসাথে বসে গল্প করতে করতে,একটা প্রচ্ছন্ন গর্ববোধ ওর সত্ত্বা কে জড়িয়ে ধরছে বারে বারে। জড়িয়ে ধরছে ও না চাইলেও।

    দাদাদের কলেজে একটা মাঠ আছে নাম ওভাল। সকলে গল্প শুনছে। দাদার পাশে বাবু হয়ে বসেছে গণেশ। ওর ডান হাঁটুটা দাদার বাঁ হাঁটুতে ঠেকে আছে। ভালো লাগছে গণেশের। বাবলুদা বলল, হ্যাঁ রে রতন, ওই যে ক্লক টাওয়ার না কি বললি তা সে ব্যাপার খানা কি একবার বল তো? এ ব্যাপারটা গণেশ জানে! কালকেই দাদা বলেছে ওকে। তাই তাড়াতাড়ি করে ওই বলতে শুরু করেছিল কিন্তু তার আগেই সকলে ওকে চুপ করিয়ে দিল। সকলে দাদার মুখ থেকেই শুনতে চায় ব্যাপারটা, মানে যাকে বলে ফ্রম দ্য হর্সেস মাউথ।

    গল্পে গল্পে রাত বাড়ছে। আজকে পাশের ঘর থেকে ন'কাকাও এসে বসে অছেন। কতটা কি শুনছেন বোঝা যাচ্ছেনা কিন্তু ওঁনার মুখে একটা হাসির আভাস দেখতে পাচ্ছে গণেশ।
    ন'কাকার দিকে তাকালেই বুকের ভেতরটা কেমন ঢিপঢিপ করে গণেশের। ওঁনার ঘোলাটে চোখ দুটো দেখলে কেমন যেন ভয় ভয় করে ওর। এখন কিন্তু ন'কাকাকে দেখে একটুও ভয় করছে না ওর। মনে হচ্ছেনা এই মানুষটাই সময়ে অসময়ে অস্বাভাবিক ব্যবহার করে, নেহেরুজীকে বলে শুওরের বাচ্চা। এখন ওনার আর জ্যাঠার ব্যবহারে কোন প্রভেদ নেই।

    তবু চোখ সরিয়ে নিল গণেশ।

    আড্ডায় ছেদ পড়ল জেঠিমার ডাকে। খেতে ডাকছেন সকলকে। এত রাত হয়ে গেল? রান্নাঘরের উল্টোদিকের টানা বারন্দাটায় ওরা ভাইবোনেরা খেতে বসে একসাথে। জ্যাঠা ওই একই সময়ে নিজের ঘরে বসে খেয়ে নেন। জেঠিমা খাবার দিয়ে আসে।
    দিদিরা আসন পেতে দিচ্ছে। এর পরে মেজ জেঠিমা থালা গুলো রেখে দেবেন আসন গুলোর সামনে আর তার পরে মা এসে খাবার বেড়ে দেবে। গণেশ রোজ বাবলুদার পাশে বসে খায়। আজকে যদি ও বাবলুদার পাশে না বসে তবে কি বাবলুদার খারাপ লাগবে?

    থালা দেওয়া হয়ে গেছে। মা অসবে একটু পরেই। বাবলুদার ডানপাশের জায়গাটা খালি পড়ে রয়েছে। রোজ ওখানটাতেই বসে গণেশ। দাদা এখনও বসেনি খেতে। দাদা নিজের থেকে ওকে ডেকে নিলে বেশ হয়! বাবলুদা ওর দিকেই তাকিয়ে রয়েছে, বুঝতে পারছে গণেশ। মুখটাকে তাই আরেকটু অন্য দিকে ঘুরিয়ে নিল ও। একে একে সকলে বসে গেছে নিজের জায়গায়। দাদাও বসে পড়েছে।

    মা চলে আসবে একটু পরেই। পায়ে পায়ে বাবলুদার ডানদিকের আসনটাতে গিয়ে বসল গণেশ।
  • | বিভাগ : ব্লগ | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ | ১২৯৮ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    গল্প: - pradip kumar dey
    আরও পড়ুন
    গল্প: - pradip kumar dey
    আরও পড়ুন
    পরিশেষ - Katha Haldar
    আরও পড়ুন
    ছায়া - Rifon Sircar
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। না ঘাবড়ে মতামত দিন