ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • অধ্যাপক‚ দেবদূতী ও একটা কোড

    Kaushik Ghosh লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ০৮ মে ২০১৬ | ১৮৭৯ বার পঠিত
  • অধ্যাপক.....

    আজ সারাটা দিন প্রায় ফাঁকাই আছে| থার্ড পিরিয়ডে একটা ক্লাস আছে শুধু, তারপর একটি ছাত্রী আসবে| মেজর প্রজেক্টের টপিক নিয়ে কিছু আলোচনা আছে| টপিক ঠিকই করা আছে‚ শুধু কি ভাবে কাজটা এগোবে তার একটা আইডিয়া দিয়ে দিতে হবে মেয়েটিকে| মাস ছয়েক সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে কাজ| তাই খুব বেশি স্ক্র্যাচ থেকে কাজ করালে চলবে না| নিজের তৈরি যে প্রোটোকলটা আছে সেটাকেই একটু ইম্প্রোভাইজ করিয়ে দিলেই হবে| ব্যাচেলর লেভেলের কাজ‚ পি এইচ ডি তো নয়‚ ওতেই মোটামুটি চলে যাবে| কিছু স্টাডি মেটিরিয়ালের সাথে প্রোটোকলের কোডটাও দিয়ে দেবো মেয়েটিকে| দেয়ার্স নো পয়েন্ট রিইন্ভেন্টিঙ দ্য হুইল|

    কোডটার আউটলাইন যাদবপুরের ল্যাবে থাকার সময় সর্বাণীদি করে দিয়েছিলো| তারপর নতুন নতুন ফাংশন ঢুকেছে, কিছু ফাংশন বদলেওছে‚ তবে মোটের ওপরে প্রোটোকলটার চরিত্র একই রয়েছে| যাদবপুরেরে ল্যাবের দিনগুলোর কথা মনে হলেই মনটা বেশ ফুরফুরে হয়ে যায়| একটু বিষন্নও| ভারি সুন্দর দিনগুলো ছিলো| পাঁচজনের গ্রুপ| আমি, রাতুল, মধুলীনা‚ পৌলমি আর ব্যান্ডমাস্টার সর্বাণীদি| সকলের গাইড এক নয়| কিন্তু ব্রড এরিয়া অফ রিসার্চ একই - ডিস্ট্রিবিউটেড কম্পিউটিঙ| আমার আর রাতুলের সেন্সর নেটওয়র্ক| মধুলীনা, পৌলমির গ্রীড কম্পিউটিঙ| সর্বাণীদি সবে ঢুকেছে ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপিকা হয়ে| তার আগে আমাদের মতই ওই একই ল্যাবে নিজের পি এইচ ডির কাজ করতো| গাইডদের কাছে বকা খেয়ে এলে সর্বাণীদিই ভরসা - সকলের কোডে ঠেকনা দেওয়ার কাজ ছিলো সর্বাণীদিরই| আজ এই প্রবাসে সেই পুরনো দিন গুলো বড় মনে পড়ে!

    প্রোটোকলটা মোটামুটি দাঁড়িয়েছে একরকম| সেন্সর নেটওয়ার্কের বেশ কিছু সর্বজনবিদিত এনার্জী এফিসিয়েন্ট প্রোটোকলের সাথে তুলনা করলে বেশ কম এনার্জী কন্সাম্পশন দেখাচ্ছে| বেশ কটা পাবলিকেশনও হয়ে গেল সেই সব রেজাল্ট দেখিয়ে| প্রোগ্রামটায় দু-একটা বাগ যে নেই তা নয়‚ কিন্তু ও সব না ধরলেও চলে!

    মেয়েটি ক্লাসের ঠিক পরেই আসবে| কি কাজ দেওয়া যায় একটু ভেবে নেওয়া যাক| এনার্জী এফিসিয়েন্সির লাইনেই রাখবো না কি কোয়ালিটি অফ সার্ভিস? অবশ্য সেন্সর নেটওয়ার্কে কোয়ালিটি অফ সার্ভিস ব্যাপারটা পুরোটাই একটা ঢপবাজি| অন্তত এই মূহুর্তে| আসলে এই মূহুর্তে সেন্সর নেটওয়র্ক ব্যাপারটা যে জায়গায় দাঁড়িয়ে রয়েছে‚ সেখানে নোড গুলোর একটাই কাজ - কিছু ফিজিক্যাল প্যারামিটার সেন্স করো আর সেটাকে কোনো একটা জায়গায় পাঠাও ডেটা এনালিসিস করার জন্য| লোকজন সেন্সর নেটওয়র্ক দিয়ে মাল্টিমিডিয়া ডেটা পাঠানোর জন্য বড়ই উৎসাহী‚ কিন্তু তার জন্য নোড গুলোকে যে হার্ডওয়ার সাপোর্ট দিতে হবে‚ তা তো নেই! তবে! কোয়ালিটি অফ সার্ভিসে যত পেপার বেরুচ্ছে তার প্র্যাকটিক্যাল ইমপ্লিমেন্টেশন কম‚ থিওরিটিক্যাল কচকচানিই বেশি| অন্য গবেষকরা হয়ত অন্য রকম ভাবেন‚ কিন্তু আমার কাছে সেন্সর নেটওয়র্কের চ্যালেঞ্জ বলো‚ ইস্যু বল‚ একটাই - এনার্জী কন্সাম্পশন| আরে বাবা‚ দেশলাই বাক্সের সাইজের একটা নোড‚ তাতে এনার্জী সোর্স কি‚ না লিথিয়াম ব্যাটারি| তার মধ্যে সেন্সর নোডের কাজের এলাকা এমন এমন সব জায়গা যে সেই সব ব্যাটারি না পারছো তুমি পাল্টাতে‚ না চার্জ দিতে| নোড গুলোর কার্যক্ষেত্র বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হয় যুদ্ধের ময়দান‚ নয়ত ধু ধু প্রান্তর| সেখান থেকে প্রয়োজনীয় ডেটা সেন্স করে পাঠানোই তার কাজ| সেই জন্যই চাই এমন প্রোটোকল যা কিনা ডেটা পাঠাবে নূন্যতম শক্তি ক্ষয় করে|

    না‚ না‚ ওই এনার্জী এফিসিয়েন্সিই ঠিক আছে| তা হলে কোডটাকে আরেকটু অপ্টিমাইজ করতে বলতে হবে মেয়েটিকে| আরেকটু বেটার রেজাল্ট চাই| ল্যাপটপটা সামনে খোলাই আছে| ছিমছাম কোডটা| এক হাজার লাইন মতন| প্রোটোকলটা C তেই সিমুলেট করা| ওহ‚ রিচি কিছু একটা ল্যাঙ্গুয়েজ বানিয়েছিলেন বটে! কি যে হয়না তার ইয়ত্তা নেই| অপারেটিঙ সিস্টেম ডিজাইন থেকে এই সেন্সর নেটওয়র্কেও দিব্বি কলার তুলে চলছে C তে লেখা প্রোগ্র্যাম| দশ গন্ডা নতুন সিমুলেটর বেরিয়েছে বটে‚ কিন্তু তাতে এক্সট্রা কিছু হচ্ছে কি? হ্যাঁ‚ নতুন সিমুলেটর গুলো একটা ঝকঝকে গ্র্যাফিক্যাল ইন্টারফেস দিচ্ছে‚ ব্যস! সে তো লে ম্যান দের জন্য! গ্র্যাফিক্যালি দেখাচ্ছে একটা নোড থেকে আরেকটা নোডে প্যাকেট যাচ্ছে আর কিছু গ্রাফ প্লট করছে| আরে বাবা‚ ডেটা থাকলে সে প্লট তো এক্সেলেও করে নেওয়া যায়‚ ওতে আছেটা কি! আর এক নোড থেকে আরেক নোডে ডেটা ট্র্যান্স্ফার - সে তো C তে পয়েন্টার ব্যবহার করে দিব্বি দেখানো যায়! ইনফ্যাক্ট আমার প্রোটোকলটায় তো তাইই করেছি! দেশ বিদেশের কোনো রিসার্চার তো সে নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলেন নি কখনো| হ্যাঁ‚ সিমুলেটর গুলো অবশ্য প্যাকেট ড্রপ ইত্যাদি দেখায়‚ কিন্তু ওসব তাদের কাজে লাগবে যারা কোয়ালিটি অফ সার্ভিস নিয়ে কাজ করছে| সেন্সর নেটওয়ার্কে কোয়ালিটি অফ সার্ভিস নিয়ে কথা বলা মানে একটা বিরাট ভাঁওতাবাজি‚ ভাবের ঘরে চুরি|
    ক্লাসের সময় হয়ে এসেছে| একবার পার্থদার কেবিন হয়ে তারপর যেতে হবে ক্লাসে| পার্থদার সাথে জয়েন্টলি ডিএসটি-তে পাঠানো প্রজেক্টটা একসেপ্ট হয়েছে‚ এবার সব অফিসিয়াল হ্যাপা শুরু হবে| ধুর!

    দেবদূতী....

    সন্ধে বেলায় একটা হাওয়া দিচ্ছে কদিন ধরে| বড্ড মন কেমনিয়া হাওয়াটা| শীতের শেষ আর বসন্তের শুরুর ঘোষনা| ক্যাম্পাসটাও ফুলে ফুলে ভরে রয়েছে| ডিনারের সময় হতে দেরি আছে বেশ খানিকটা| হস্টেলটাও এই সময় বেশ শান্ত থাকে| মেয়েরা সকলেই প্রায় বাইরে| অন্যদিন হলে আমিও হয়ত ড্রামাটিক্স সোসাইটির রিহার্স্যালে থাকতাম কিন্তু আজ একটু পড়তে হবে| স্যর বেশ কটা পেপার দিয়েছেন পড়তে| বেশিরভাগই ওঁনার নিজের পেপার| প্রোটোকলটার কোডও দিয়েছেন| তবে আগে পেপারগুলো পড়ে নিয়ে প্রোটোকলটা সম্পর্কে একটা স্বচ্ছ ধারনা করে নিতে হবে| তারও আগে অবশ্য দরকার সেন্সর নেটওয়র্ক নিয়ে একটু পড়ে নেওয়া| এখনো অবধি পড়ে যেটুকু বুঝলাম -

    ১| অনেকগুলো সেন্সর নোড নিয়ে তৈরি হবে একটা ওয়ারলেস সেন্সর নেটওয়র্ক| নোড গুলোকে যেখানে ছড়িয়ে দেওয়া হবে সেটা হচ্ছে ডিপ্লয়মেন্ট সাইট|
    ২| সেন্সর নেটওয়র্ক তাপমান‚ হিউমিডিটি‚ মাটির ময়েশ্চার কন্টেন্ট ইত্যাদি প্যারামিটার সেন্স করে সেই ডেটা পাঠাবে সাইট থেকে দূরে অবস্থিত কোনো কম্পিউটারে‚ যাকে বলে সিঙ্ক|
    ৩| দেখতে হবে এই কাজ করতে যেন যথা সম্ভব কম শক্তি ক্ষয় হয়| তা না হলে সেট-আপটার রানিঙ কস্ট বেড়ে যাবে| আর তাই প্রয়োজন এনার্জী এফিসিয়েন্ট রুটিঙ প্রোটোকল; অর্থাৎ সাইট থেকে সিঙ্কে ডেটা পাঠাতে হবে যথা সম্ভব কম শক্তি ক্ষয় করে|
    ৪| প্রত্যেকটা নোডের একটা ট্রান্সমিশন রেঞ্জ আছে‚ মানে যার ট্রান্সমিশন রেঞ্জ পঞ্চাশ‚ সে পঞ্চাশ মিটার দুর অবধি ডেটা পাঠাতে পারবে| আর ওই পঞ্চাশ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে যত নোড‚ তাদের বলা হবে তোমার নেবার বা পড়শি|
    ৫|আপাতত এই থাক এবার স্যরের প্রোটোকলটার বর্ণনা পড়ে দেখা যাক|

    প্রথম পেপারটা ২০০৯-এর| এটার ওপরেই অনেক ইম্প্রোভাইজেশন হয়েছে‚ কিন্তু প্রোটোকলটার বেসিক চরিত্রটা বুঝতে গেলে এই পেপারটাই পড়তে হবে - স্যর বলেছেন| এনার্জী ইক্যুয়েশন গুলোতে যা দেখা যাচ্ছে তা হল এক একটা সেন্সর নোডের মূলত শক্তিক্ষয় হয় ট্রান্সমিশনে| আর যত দুরে ট্রান্সমিশন করবে‚ ততই বেশি শক্তি ক্ষয়| স্যর তাই ফরম্যাট পয়েন্টের কন্সেপ্ট লাগিয়ে দূরত্বটাকে নূন্যতম করেছেন| প্রোটোকলটায় তিনটে সিঙ্ক বা গন্তব্য| নোডের সেন্স করা ডেটা ওই তিন গন্তব্যে যাবে ওই ফরম্যাট পয়েন্ট হয়ে| রেজাল্ট দেখাচ্ছে তাতে তুলনামূলক ভাবে অনেক কম এনার্জী কন্সাম্পশন হচ্ছে এবং ফল স্বরুপ নেটওয়র্কটার আয়ুষ্কাল বাড়ছে| যে নেটওয়র্কের আয়ুষ্কাল যত বেশি‚ সে ততই দড় নেটওয়র্ক| কিন্তু এই আয়ুষ্কাল ব্যাপারটা কি? ও‚ এই তো‚ স্যার নোট লিখেছেন একটা - রেফারেন্স নম্বর ২৩টা একবার দেখতে বলেছেন| ২৩‚ ২৩‚ ২৩... এই যে! পাঁচ নম্বর পাতা ".......lifetime of a network is defined as the time elapsed between the deployment of the network and the time when the first node in it is depleted out of energy"| বোঝা গেল| প্রথম নোডটার যেই ব্যাটারি শেষ হয়ে যাবে‚ অমনি বলা হবে নেটওয়র্কের আয়ুষ্কাল বা লাইফটাইম শেষ| নেটওয়র্কের আয়ুষ্কালের আরো অনেক ডেফিনিশন আছে দেখা যাচ্ছে এই রেফারেন্সটায়‚ কিন্তু স্যর নিজের সব কাজে এই ডেফিনিশানটা নিয়েই কাজ করেছেন| আসলে এমন এমন ব্যবহারিক কাজে সেন্সর নেটওয়র্কের ব্যাবহার হচ্ছে যে সেখানে গিয়ে ব্যাটারি পাল্টানোর কোনো ব্যবস্থাই নেই| তাই যতক্ষণ ব্যাটারিতে শক্তি আছে‚ ততক্ষনই নেটওয়র্কের আয়ুষ্কাল| তাই খরচা বাঁচাতে যথা সম্ভব টিপে টিপে এনার্জী খরচ করো| স্যরের প্রোটোকলটা দুটো খুব নাম করা প্রোটোকলের তুলনায় বেশ ভালই পারফর্ম করেছে| তাদের মধ্যে একটা ২০০২ এ IEEE transaction-এ বেড়িয়েছিলো| LEACH| স্যর বললেন আজকের দিনে LEACH একটা বেঞ্চমার্ক প্রোটোকল অবশ্যই‚ কিন্তু তামাদি |

    রেজাল্ট গুলো একটু দেখা যাক| এক্স এক্সিসে নোড গুলোর ট্র্যান্সমিশন রেঞ্জ বেড়েছে| ৩৫ মিটার থেকে পনের-পনের করে বেড়ে ১০৫ মিটার অবধি| ওয়াই এক্সিসে নেটওয়র্কের আয়ুষ্কাল বেড়েছে| স্যরের প্রোটোকলটা LEACH বা গ্রীডী ফরওয়র্ডিঙ এর চাইতে বেশি লাইফটাইম দিচ্ছে| অবশ্য স্যর আজকে বলেছেন - Its "our" protocol from now on...try improving it - তবু এই মূহুর্তে প্রোটোকলটাকে নিজের ভাবতে ইচ্ছে করছে না| নিজের ভাবতে ইচ্ছে তখনি করবে‚ যখন প্রোটোকলটায় আরেকটু ভ্যালু অডিশন করতে পারবো| রেজাল্টের গ্রাফটা অদ্ভূত! প্যারাবোলিক কার্ভ এসেছে একটা -প্রথমে লাইফটাইম বেড়েছে‚ তারপর ট্রান্সমিশন রেঞ্জ ৬৫ মিটার পেরোনোর পর থেকে কমতে শুরু করেছে| কারনটা কি? এই পেপারে নেই| পরেরটাতেও নেই| অস্থির লাগছে| তার পরেরটায়..... এ কি রে বাবা! এই তো‚ পাওয়া গেছে! "....the positive effect of having more number of neighbors is nullified beyond a certain point while transmission range of a node is increased. This is because, beyond that range the probability of selecting a faraway neighbor for data forwarding is more as compared to selecting a neighbor located nearby." ঠিক কথাই‚ যত দুরে ডেটা পাঠাবে‚ ততই ব্যাটারির ওপর চাপ বাড়বে| বাহ! বেশ লাগছে এক্সপ্ল্যানেশনটা!

    একবার কোডটা দেখাই যাক| মোট এগারোশো তিন লাইনের কোড| GCC কম্পাইলরে চালিয়েছেন স্যর| প্রথমে নেটওয়র্ক প্যারামিটার গুলো ডিফাইন করা হয়েছে| মানে‚ নোড গুলোর ব্যাটারিতে কত শক্তি থাকবে‚ তাদের ট্র্যান্সমিশন রেঞ্জ‚ কো-অর্ডিনেট ইত্যাদি সব কিছু| তার পর নোড ডিপলয়মেন্ট‚ মানে নোড গুলোকে একটা টু ডাইমেন্শনাল কার্টেশিয়ান প্লেনে রাখা হয়েছে| এর পরে ট্রান্সমিশন| দুটো ভাগে ভাগ করা হয়েছে ট্রান্সমিশন কে - নোড থেকে ফরম্যাট পয়েন্ট আর ফরম্যাট পয়েন্ট থেকে সিঙ্ক| মন্দ নয় ব্যাপারটা| এবার ভাবতে হবে আরো বেশি এনার্জী কি করে বাঁচানো যায়| এই মূহুর্তে বিশেষ কিছু মাথায় আসছে না‚ কিন্তু হয়ে যাবে| তবে কোডটায় একটা ফাংশনের ভেতরে স্যর কমেন্ট করেছেন - looping| ৬১৯ নম্বর লাইন| এই ফাংশনটাই একটা নোডের সকল পড়শির মধ্যে যে কোনো একজন কে বেছে নিচ্ছে ডেটা ফরওয়র্ড করার জন্য| আসলে একটা নোড থেকে ডেটা সিঙ্কে পাঠাতে অনেকগুলো ধাপে পাঠাতে হয়; খানিকটা রিলে রেসের মতন| আমার থেকে ডেটা গেল আমার এক পড়শির কাছে‚ সেখান থেকে তার পড়শি‚ সেখান থেকে তার .... যতক্ষন না সিঙ্কে ডেটা পৌঁছোচ্ছে|

    লুপিঙ মানে কি? ঠিক বোঝা যাচ্ছে না ব্যাপারটা কি| একবার চালিয়ে দেখবো কোডটা? স্যর বলছিলেন দুটো ডেটা ট্রান্সফারের মাঝে এক সেকেন্ডের ডিলে নিয়ে কোডটাকে চালালে এক্সিকিউট হয়ে রেজাল্ট দিতে দিতে প্রায় ঘন্টা খানেক সময় লাগবে| তা ছাড়া প্রায় আট-দশ পাতার মতন রেজাল্ট জেনারেট হবে| ভালোই হল| ততক্ষণে ডিনারটা সেরে আসা যাবে| একটা আউটপুট ফাইলে রেজাল্টটা কপি করে রাখার কম্যান্ডটা দিয়ে যাই‚ ফিরে এসে খুঁটিয়ে দেখতে হবে রেজাল্টটা|

    কোড।

    প্রথমে কিছু প্যারামিটারের মান ডীফাইন করা হয়েছে। যেমন - ট্রান্সমিশন রেজ্ঞ, কতগুলো নোড, কতগুলো সিঙ্ক, ডেটা রেট কত, প্যাকেট সাইজ - ইত্যাদি।

    তারপর নোড ডীপলয়মেন্ট। মানে, নোড গুলোকে একটা সেন্সর ফীল্ডে ছড়িয়ে দেওয়া। তারপর প্রত্যেকটা নোডের সাপেক্ষে Fermat পয়েন্ট ও Fermat নোড বের করা। এরপরে শুরু হবে ট্রান্সমিশন - প্রথমে নোদ থেকে Fermat নোড, তারপর Fermat নোড থেকে বিভিন্ন সিঙ্ক-এ। একটা নোডের কাছে যখন প্যাকেট রয়েছে, তখন তাকে ঠিক করতে হবে তার বিভিন্ন নেবার বা পড়োশির মধ্যে কাকে প্যাকেটটা পাঠানো যায়। কাকে পাঠানো যায়? তাকেই, যার ফরওয়র্ডিঙ পোটেনশিয়াল সব চাইতে বেশি।

    প্রত্যেকটা ট্রান্সমিশনের জন্য কিছু শক্তি ক্ষয় হবে সেই ট্রান্সমিশনের সাথে যুক্ত নোড গুলোর - কিছুটা প্যাকেট রিসিভ করার জন্য, কিছুটা সেন্সিঙের জন্য, কিছুটা গণনার জন্য। তবে নোডের সঞ্চিত শক্তির বেশির ভাগটাই খরচ হবে ট্রান্স্মিশনের জন্য।

    এই করতে করতে যখন কোনো একটা নোডের সঞ্চিত শক্তি কমতে কমতে শূণ্য হয়ে যাবে, তখন সেইঅ নোডটাকে বলা হবে ডেড নোড আর প্রোগ্র্যামটাও থ্মকে যাবে সেখানেই।

    অধ্যাপক ও কোড.....

    একটা সিগ্রেট খেতে হবে| মাথাটা ছাড়ানো দরকার| পরের ক্লাসটা আধঘন্টা পরে| ততক্ষণে সিগ্রেট খেয়ে চলে আসা যাবে| এই এক আপদ! সিগ্রেট খেতে গেলে ইউনিভার্সিটির গেটের বাইরে গিয়ে খেতে হবে! নিকোটিন ফ্রী জোন| যত্তসব! গাড়ির চাবিটাই বা কোথায় গেলো? এই যে!
    -মহেশ জী‚ এক চায় দেনা|
    কোডটার এই বাগটা জানাই ছিলো| একটা নোড তার পড়শিদের মধ্যে তাকেই ডেটা পাঠাবে যার ফরওয়র্ডিঙ পোটেনশিয়াল সব চাইতে বেশি| একটা নোডের ফরওয়র্ডিঙ পোটেনশিয়াল হলো তার এনার্জী আর সিঙ্ক থেকে দূরত্বের রেশিও| এবার এই ফরওয়র্ডিঙ পোটেনশিয়ালের মান যদি দুটো পড়শির সমান হয়‚ এবং বাকি পড়শিদের মধ্যে সব থেকে বেশি হয়‚ তবেই লুপিঙ দেখা দেবে| এরকমটা হওয়ার সম্ভাবনা যদিও কম‚ তবু ব্যাপারটাকে ঠিক ফেলে দেওয়ার মতন নয়| যে কোনো এক্সিকিউশন সাইকেলেই ব্যাপারটা দেখেছি| এর থেকে বেরোনোর কোনো উপায় সেই সময় ভেবে রাখা হয়নি, তাই লুপিঙের জায়গাটায় ব্রেক স্টেটমেন্ট রেখেছিলাম - লুপিঙ দেখলেই ওই ট্রান্সমিশন সাইকেলকে অসম্পূর্ণ রেখে সাইকেল থেকে বেড়িয়ে এসো আর পরের নোডকে ট্রান্সমিট করার সুযোগ দাও| দিব্বি চলেছে তাতে| ছাত্র-ছাত্রীরা তেমন আপত্তিও করেনি কখনো| কিন্তু এ মেয়ে তো এখন দেখছি প্রোটোকলটার কোয়ালিটি নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে! বলছে‚ এক একটা অসম্পূর্ণ সাইকেল মানে এক একটা প্যাকেট ড্রপ আর তাই লুপিঙ হলে তার থেকে বেরোনোর উপায় হিসেবে ফরওয়র্ডিং পোটেনশিয়াল না থাকলে গ্রীডী ফরওয়র্ডিং মেথডে ডেটা পাঠানো যেতে পারে‚ তাতে কোয়ালিটি অফ সার্ভিস বেটার হবে| আবার সেই কোয়ালিটি অফ সার্ভিস!

    তবে লুপিঙ ব্রেক করার জন্য গ্রীডী ফরওয়র্ডিঙের কথাটা আমার মাথাতেও যে আসেনি তা নয়‚ কিন্তু তাতে প্রোটোকলটার চরিত্রই তো পাল্টে যাবে! ফরম্যাট পয়েন্ট আর ফরওয়র্ডিঙ পোটেনশিয়াল - এ দুটোই তো প্রোটোকলটার বিশেষত্ব‚ ওটার নভেলটি! না‚ না‚ ও ছাড়া যাবে না| তা ছাড়া ওই বস্তাপচা গ্রীডী ফরওয়র্ডিঙের রেজাল্ট তো দেখাই যাচ্ছে! অবশ্য ওর যুক্তিটাও ফেলে দেওয়ার মতন নয় - বলছে‚ যে হেতু লুপিঙের সম্ভাবনা অপেক্ষাকৃত ভাবে অনেক কম‚ তাই ওই অল্প কিছু ট্রান্সমিশনের জন্য রেজাল্টে তেমন প্রভাব পড়বে না| তা না হয় হলো‚ কিন্তু প্রোটোকলটার মূল চরিত্রের কি হবে?

    এর ওপরে আবার বলছে C থেকে নাকি কোডটাকে MATLAB-এ কনভার্ট করবে‚ তাতে আরেকটু ছোটো হবে নাকি কোডটা| ফালতু সময় নষ্ট যত! অবশ্য MATLAB এ করলে সুবিধে আছে| গ্রাফ গুলো আলাদা করে প্লট করতে হবে না| তা ছাড়া গ্রাফটার ডিগ্রী নিয়েও একটু খটকা আছে| প্যারাবোলিক দেখতে লাগলেও থার্ড ডিগ্রী পলিনমিয়াল হওয়ার একটা সম্ভাবনা রয়েই যায়| এক্সপেরিমেন্টাল কোনো এরর হলো না তো!
    -মহেশ জী‚ পয়সা লিজিয়ে জলদি!

    দেবদূতী ও কোড....

    রাতের এই সময়টা হস্টেলের ছাদে বেশ লাগে! গত দু মাস ছাদে আসা হয়নি‚ যা শীত পড়ে! বসন্তের এই হাওয়াটা গায়ে লাগাতে মা বারন করে| আমার কিন্তু বেশ লাগে! ছাদে এসে মাথাটা একটু ঠান্ডা লাগছে| দিন দশেক যা গেল! পুরো কোডটাকে C থেকে MATLAB এ পাল্টানো - কম কথা! তার মধ্যে স্যরের ধমক তো রয়েইছে| সেটাকে অবশ্য গায়ে মাখিনা| স্যর ওরকমই| প্রথমে চেঁচামেচি করবে একটু‚ তারপর নিজেই বলবে - চিল ডাউন!

    প্রথমে তো স্যর বলেছিলেন ফালতু সময় নষ্ট করতে হবে না‚ কি লাভ MATLAB এ কনভার্ট করে কোডটা! তারপর নিজেই বললেন‚ গো অহেড বাট উই ওয়্ন্ট বি টকিঙ বাউট দ্যট গড ড্যামড গ্রীডী ফরওয়র্ডিং| অবশেষে তিনদিন বোঝানোর পর আজ মানলেন যে গ্রীডী ফরওয়র্ডিং লাগিয়েই লুপিং হটাতে হবে! বললেন‚ গ্রীডী লগাও‚ লেকিন রেজাল্ট অগর বেহতর ন আই তো মুঝসে বুরা কোই না হোগা! পরের সাতদিন আমি শুধু নাওয়া খাওয়া ভুলে কোডটাকে নিয়ে পড়েছিলাম|

    রেজাল্ট বেহতর আসবেই| আমি জানি! লুপিঙে কিছু এনার্জী ফালতুই নষ্ট হচ্ছিলো| লুপিং সরে গেলে সেটা বাঁচবে| তা ছাড়া প্যাকেট ড্রপও তো কমবে! আমার কাজটা অবশ্য খালি এনার্জী এফিসিয়েন্সি নিয়ে| কোয়ালিটি অফ সার্ভিসের ব্যাপারটা পরে ঢুকিয়ে দেওয়া যাবে না হয়| তবে কোডটা মোটের ওপরে বেশ ভালোই| আমাকে এবার দেখতে হবে নতুন কিছু ফাংশন ইন্ট্রোডিউস করা যায় কিনা|
    গত তিনটে সেমিস্টারে স্যর তিনটে পেপার পড়িয়েছেন| এই সেমিস্টারে আমাদের কিছু পড়াচ্ছেন না‚ কিন্তু এই কাজটার সূত্রে ঘনঘনই যেতে হচ্ছে স্যরের কাছে| তিনটে পেপারই স্যর বেশ ভালো পড়িয়েছিলেন| পড়ানোর ফাঁকে ফাঁকে বেশ হাসি-মজাকও করতেন‚ কিন্তু প্রজেক্ট করতে এসে দেখলাম স্যর ব্যাপারটা নিয়ে বেশ সিরিয়াস| একটু অবসেসডও কি? হতে পারে! প্রজেক্ট নিয়ে আলোচনার সময় চশমার কাঁচের পেছনে স্যরের চোখ দুটো বড় বড় হয়ে যায়| একটু উজ্জ্বলও| বডি ল্যাঙগুয়েজেও একটা উত্তেজনা ধরা পরে| খানিকটা অধৈর্যও হয়ে পড়েন মনে হয়| আর চ্যাঁচামেচি তো রয়েইছে!

    কাজটার সুত্রপাত ওনার পিএইচডি থেকে; উনিই বলেছেন| শুরুতেই জিজ্ঞেস করেছিলাম‚ আমি পারবো তো‚ স্যর! বলেছিলেন‚ পারতেই হবে! আসলে স্যরের আমার ওপর আস্থা আছে| উনি মুখে সেটা কখনো বলেননা‚ কিন্তু আমি জানি! গত সেমিস্টারে মাইনর প্রজেক্টের সময়েও খানিকটা এই একই লাইনেই কাজ করিয়েছিলেন বটে স্যর‚ কিন্তু সে টিপ অফ দ্য আইস ব্যর্গ এর মতন ব্যাপার| আর হবেই বা না কেন‚ মাইনরে ক্রেডিট ছিলো মোটে দুই আর মেজরে পুরো দ-শ! গত সেমিস্টারেই ঠিক করে রেখেছিলাম স্যরের কাছেই প্রজেক্ট করবো, কিন্তু ঠিক করলেই তো আর হলো না‚ এক একজন গাইডের কাছে তিনজনের বেশি স্টুডেন্ট থাকতে পারবে না - এইচ ও ডি আগেই বলে রেখেছিলেন| যাই হোক‚ সে সব ঝামেলা মিটেছে একরকম‚ এখন কাজ হচ্ছে কোডটাকে ভালো করে স্টাডি করা‚ তবেই কিছু ভ্যালু এডিশন সম্ভব হবে| লুপিঙটা কমে গেলেই অনেকটা লাইফটাইম বাড়বে নেটওয়র্কটার| প্রোগ্রামটা তো চালিয়ে এলাম‚ দেখি কি রেজাল্ট দেয়!

    এক ঘন্টা হতে চললো ছাদে এসেছি| এতক্ষণে এক্সিকিউশন শেষ হওয়ার মুখে হয়ত| দেখি একবার নিচে গিয়ে|

    অধ্যাপক ও দেবদূতী....

    -মে আই...
    -কাম ইন| ব্যায়ঠো|
    - স্যর‚ আই... উই আর দেয়ার ! গ্রীডী ফরওয়র্ডিং সে কাম হো গয়া - লুপিং ইজ নো মোর| লাইফফটাইম ইনক্রিজেজ এটলিস্ট বাই ১০ পার্সেন্ট| কুছ রেসাল্টস অভি অওর লেনে বাকি হ্যায়| কল তক লে লুঙ্গী|
    -হুম| দ্যাটস গুড| টেক ইট ফর ডিফারেন্ট ট্রান্সমিশন রেঞ্জেস| ফির দেখনা পার্সেন্টেজ মে কোই চেঞ্জ আতা হ্যায় কি নহি| কম্পেয়ার ইট উইথ LEACH এন্ড TEEN এজ ওয়েল|
    -জী স্যর|
    -অওর কুছ ভ্যালু এডিশন কে বারে মে সোচা?
    -স্যার‚ রাইট নাও নাথিং স্পেসিফিক‚ বাট আই থিঙ্ক দ্য টার্ম ফরওয়র্ডিং পোটেনশিয়াল শুড হ্যাভ সামথিং মোর আদার দ্যান রেসিডুয়াল এনার্জী এন্ড ডিসট্যান্স!
    -ওকে! ক্যান ইউ থিঙ্ক অ্যালাউড সামথিঙ?
    - মমম..অভি তো..মে বি এনার্জী হেল্থ অফ দ্য নেবার্স এজ ওয়েল..আই ডোন্ট নো!
    -ঠিক হ্যায়‚ টেক ইওর টাইম| বাট রাইট নাও উই মে থিঙ্ক অফ পাবলিশিং দি কারেন্ট ফাইন্ডিংস|
    -ইন রেজাল্টস সে তো..স্যর ইফ ইউ কুড প্লীজ গিভ মি অ্যান আউটলাইন ফর দ্য পেপার ইউ আর থিঙ্কিং অফ!
    -এজ টাইটেল অফ দ্য পেপার..ইউ মে কীপ ইট লাইক - Effect of Looping on the Lifetime of An Energy Efficient Routing Protocol for Wireless Sensor Network
    -ওকে স্যর|
    - তিন চার রেজাল্ট লো‚ এক কনফারেন্স পেপার হো যায়গা| ফর দ্য টাইম বিইঙ্গ‚ চলেগা| লেট অল দ্য রেজাল্টস কাম‚ উই উইল গো ফর সামথিং বিগ!
    - শিওর স্যর!
    -অওর বাতাও কিয়া চল রহা হ্যায়| সব বঢ়িয়া?
    -বঢ়িয়া স্যর| জি আর ই কি প্রিপারেশন চল রহি হ্যায়|
    -হুমম| ঠিক হ্যায় ফির‚ রেজাল্টস লো এন্ড থিঙ্ক বাউট ইম্প্রুভিঙ দি ফরওয়র্ডিঙ পোটেনশিয়াল| সী ইফ ডুয়িং দ্যাট ইনক্রিজেজ লাইফটাইম এনি ফারদার|
    -জী স্যর|
    -পেপার কা আউটলাইন ম্যায় আজ রাত তক মেইল কর দুঙ্গা| কমপ্লিট ইট এন্ড মেইল মি ব্যাক হোয়েন ইউ আর ডান| আই থিঙ্ক ইট উড বি ওভার উইদিন আ উইক| হাউ মাচ টাইম ইউ থিঙ্ক ইট উড টেক ফর দ্য ফরওয়র্ডিঙ পোটেনশিয়াল থিঙ্গ ইউ আর টকিং অবাউট?
    -দেখতি হুঁ স্যর! নট মোর দ্যান আ মান্থ আই গেস!
    -হুমম| ঠিক হ্যায় ফির| সি ইউ দেন| রাত তক মেইল করতা হুঁ|
    -বাই স্যার|
    -বাই|

    দেবদূতী ও অধ্যাপক....

    লাইব্রেরির এই কোনটা বেশ কোজি| একটা কানা গলির মতন তৈরি হয়েছে দুটো বইয়ের র‌্যাকের মাঝে| তাতে সুন্দর ভাবে এঁটে গেছে একটা সিঙ্গল টেবিল| পেছনে দেওয়াল| সর্বদা খালি পাওয়া যায়না এই কোনটা| শান্তিতে পড়া যায়| আট দিন পর সেমিস্টার পরীক্ষা শুরু| এই কলেজে আমার শেষ সেমিস্টার| তারপর মাস ছয়েক বম্বেতে থাকবো জি আর ই-র প্রিপারেশন নিতে - এখনো অবধি তো এই ঠিক আছে| ফ্রান্সে ইন্টার্নশিপ করতে গিয়ে Nantes-এর ইনস্টিটিউটটা বেশ মনে ধরেছিলো| হয় ফ্রান্স‚ নয়তো বড়ি বুয়ার কাছে টেক্সাস| ফালতু চাকরি করে লাভ নেই| তিনটে অফার আছে‚ কিন্তু আমি হায়ার স্টাডিজেই যাবো| এম এস-এর পর পিএইচডি‚ তারপর অধ্যাপনায়| হ্যাঁ‚ অধ্যাপনা|
    বন্ধুরা জিজ্ঞেস করেছিলো‚ কেন? বলেছিলো - দিমাগ খরাব হো গয়া হ্যায় কিয়া? দো সাল ব্যাঙ্গালোর‚ ফির ওভারসিজ - মজে করেঙ্গে! ও সব ছোড়কে তু টিচিঙ করেগী? How can you afford to think of such a middle class thought?

    অনুরাগও বুঝতে চাইলো না| অনেক কথার শেষে বললো‚ It's your life. Screw it up the way you want.

    ওদের সাথে তর্ক করে লাভ নেই|আমি জানি আমি কি চাই| স্যরের চেয়েও ভালো পড়াতে চাই| রিসার্চ ও ভালো করে করতে হবে| ভালো পড়ানোর একটা আনন্দ আছে; বোঝা যায়| ডায়াসে প্রফেসরদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখে বোঝা যায়| You can actually feel the adrenaline pumping inside them. Don't deprive me of that feeling, Anurag!

    সত্যি‚ ভাবলে অবাক লাগে| চারটে বছর কেটে গেল| এই সেদিন পাপার সাথে এসেছিলাম এডমিশন নিতে| অনেক স্মৃতি| বেশির ভাগই ভালো| বন্ধুরা| অনুরাগ| সুন্দর ক্যাম্পাসটা| ফ্রান্সের ইন্টার্নশিপ|
    ফ্রান্সে যাওয়াটা দরকার ছিলো| একটা দরজা খুলে গেল যেন! মনের দরজা| কত নতুন মানুষের সাথে আলাপ হলো| পড়াশুনোর ধরনটা ওদের দেশে আলাদা| ভালোও| ইঞ্জিনিয়ারিঙ পড়তে আসার সময় মনে একটাই ইচ্ছে ছিলো - একটা ভালো চাকরি পাওয়া| ফ্রান্সে যাওয়ার পরে রিসার্চের স্বাদটা পেলাম| স্যরের কাছে প্রজেক্ট করতে এসে ভালোবাসতে শিখলাম রিসার্চকে| এই চারটে বছর আমাকে একটা নতুন মানুষ করে দিয়েছে - বুঝতে পারি| বিশেষত‚ শেষ দুটো সেমিস্টার| এই দুটো সেমিস্টারে স্যরের কাছে প্রজেক্ট করতে এসে দেখলাম - একটা প্রোগ্রাম এক্সিকিউশন হতে লাগছে এক ঘন্টা| এক ঘন্টা! এর আগে যত প্রোগ্রাম করেছি তাতে ইনপুট দেওয়া মাত্র আউটপুট এসেছে| কিন্তু এই কোডটা রান করিয়ে দুরু দুরু বুকে রেজাল্টের অপেক্ষা করা‚ উইথ ইওর ফিঙ্গারস ক্রসড - এ অনুভূতিটা আগে কখনো পাইনি!
    স্যর বলেন‚ যাদবপুর ইউনিভার্সিটিতে স্কুল অফ ওসেনিওগ্র্যাফির ছাত্ররা যে কোড গুলো লেখে‚ তার আউটপুট আসতে দিন তিনেক লেগে যায়| খুব জটিল অঙ্ক থাকে| আনবিলিভেবল!

    কোডটা খুব জ্বালিয়েছে গত এক বছরে| স্যরও কম জ্বালাননি! কিন্তু আমি জানি এই কলেজ‚ বন্ধুদের‚ ক্যাম্পাসটার মতই মিস করবো, খুব মিস করবো …….স্যরকেও……

    অধ্যাপক....

    নোট গুলো সব নিচের ড্রয়ারটায় রাখি| আসছে সেমিস্টারে এই পেপারটা নেই| আরেকটা সেমিস্টার কাটলো| অফিসিয়ালি এখনো দিন সাতেক বাকি‚ তবে স্টুডেন্টরা বলেছে এ কটা দিন নিজেরা একটু পড়বে| ঠিকই আছে| যুগ যুগ ধরে ইঞ্জিনিয়ারিঙে এভাবেই পড়ে এসেছে লোকে - পরীক্ষার আগের সাত দিন| সারা সেমিস্টারের মাল মশলা জোগাড় করে রাত জেগে পড়া| আমরা বলতাম নাইট আউট| এখনো কি তাই বলে?

    এই সেমিস্টারটা মনে থাকবে কিছুদিন| ভাবি নি একটা বিটেকের স্টুডেন্ট এভাবে কোডটাকে বদলে দেবে - ফর বেটার! দুটো পাবলিকেশন করেছে মেয়েটা| কোডটা কমিয়ে এনেছে প্রায় আটশো লাইনে| কিছু ভ্যালু অ্যাডিশান করতে বলেছিলাম| ভেবেছিলাম বড়জোর হয়ত একটা বাড়তি ফাংশন যোগ করবে| তা তো করেইছে‚ সাথে কোডটাকে এতটা নির্মেদ করে তুলবে‚ ভাবি নি| MATLAB-এ না করলে এটা সম্ভব হত না| আর যা ধরেছিলাম ঠিক তাই! রেজাল্টের কার্ভটা থার্ড ডিগ্রী পলিনমিয়ালই| যদিও x^3-র কো-এফিসিয়েন্টের মান ভীষণই কম, তবু থিওরিটিক্যালি থার্ড ডিগ্রীই তো! আর এটা বোঝা সম্ভব হয়েছে MATLAB-এ কার্ভটাকে ফিট করার জন্যই| তা না হলে কো-এফিসিয়েন্টটার মান যে 0.00011‚ এক্সেলে প্লট করলে বোঝাই যেত না!

    লুপিঙটাও দুর হয়েছে| গ্রীডী ফরওর্ডিঙ লাগানোর ফলে লুপিঙ যাওয়ার সাথে সাথে এনার্জী কন্সাম্পশনও কমেছে| ফরওয়র্ডিঙ পোটেনশিয়ালটায় একটা কন্সট্যান্ট ফ্যাক্টর জুড়ে দিয়েছে আর তাতে দেখা যাচ্ছে রেজাল্ট অন্তত পনের শতাংশ বেটার আসছে! খুব খাটিয়েছি বেচারিকে! গতকাল এসেছিলো| বললো‚ "স্যর‚ ইয়োর কোড ইজ এন অপ্টিমাইজড ওয়ান নাও|" বলেছিলাম‚ "ইটস নো লঙগার মাই কোড| মাই কোড ওয়জ রিটেন ইন C; ইটস ইওরস|" বলে কিনা‚ "তো কিয়া হুয়া! ইউ কীপ চেঞ্জিঙ ইওর ক্লোদস..ইট ডাজন্ট ম্যাটার| দ্য সোল অফ দ্য কোড স্টিল রিমেইনস দ্য সেম|" ডেঁপো মেয়ে! বুঝতে পেরেছে C-তে লেখা কোডটা নিয়ে আমি একটু অবসেসডই ছিলাম| ইস‚ লজ্জা লাগছে! এ ভাবে ধরা পড়ে যাওয়ার কোনো মানে হয়!

    তবে সত্যি কথাই‚ C-তে লেখা কোডটাও কি ঠিক "সেই" কোডটাই ছিলো? পাল্টায় নি? সর্বাণীদি যে কোডটার আউটলাইন করেছিলো তাতে ফরম্যাট পয়েন্টের কনসেপ্টটা থাকলেও ফরওয়র্ডিঙ পোটেনশিয়ালের কোনো চিহ্নই ছিলো না| কি করে থাকবে? ফরওয়র্ডিঙ পোটেনশিয়াল তো সবে বছর তিনেক আগে ঢুকিয়েছি প্রোটোকলটায়| ফাংশনগুলোও তো কত পাল্টেছি| পাল্টাতে হয়েছে| পাল্টাতে হয়| ওটাই নিয়ম|

    ল্যাপটপে C-তে লেখা কোডটা এখনো আছে| ওটা আর কোনো কাজে লাগবে না| ডিলিট করে দিই| পরের বার যে স্টুডেন্ট আসবে‚ তাকে MATLAB-এর কোডটাই দেবো ভ্যালু অ্যাডিশান করার জন্য|

    সমাপ্ত।
  • | বিভাগ : ব্লগ | ০৮ মে ২০১৬ | ১৮৭৯ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    চিঠি - Shomita Banerjee
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • sosen | 184.64.4.97 (*) | ০৮ মে ২০১৬ ০১:৪২54046
  • এট্টু কোড বেশি হয়ে গেছে-বুইতে পাচ্ছিনা
  • T | 190.255.241.115 (*) | ০৮ মে ২০১৬ ০২:৪২54047
  • মানে, এগজ্যাক্টলি গল্পটা কোথায়? লোকাল মিনিমায় কনফাইনমেন্ট এড়াতে আইদার লোকে র‍্যান্ডমাইজড এপ্রোচ লাগায় অথবা লোকালি গ্রীডি অ্যাপ্রোচ মেরে বেরিয়ে যায়। এতো ট্রিভিয়াল জিনিসপত্তর। একটা অধ্যাপক এগুলো জানবে না এটা হতে পারে! হ্যাঃ!
    আর শেষ অবধি সি থেকে ম্যাটল্যাবে কোড কনভার্ট এবং অপ্টিমাইজএর গল্প জমল না। আল্টিমেটলি সেন্সর নেটওয়ার্কের মাইক্রোকন্ট্রোলারে তো সি কোডই যাবে।
    এছাড়া এমনিতে আমি কিছু গল্প ইত্যাদি খুঁজে পেলাম না।
  • ;) | 34.96.82.109 (*) | ০৮ মে ২০১৬ ০৩:১৪54048
  • পুরো সি কোড আর ম্যাট্ল্যাব কোড দুটো না দিয়ে দিলে গল্পটা পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে না।

    বাং লিশে এতো কোটি কোটি লাইন না লিখে বরম কোডদুটো দিয়ে প্রোফেসরের কোড, ছাত্রীর কোড ক্যাপশন দিয়ে, নিচে এপিলোগ হিসেবে এক লাইন লিখে দিলেই হত যে মেয়েটির দুটো পাবলিকেশন হয়েছিল, তারপরে পিএইচডি হল ইত্যাদি। তাহলে গল্পটি বোঝা সহজ হইতো।
  • | 24.96.164.26 (*) | ০৮ মে ২০১৬ ০৩:৩৫54049
  • ও এটা গল্প বুঝি?
  • cm | 127.247.100.116 (*) | ০৮ মে ২০১৬ ০৩:৪৯54050
  • বেশ লাগল।
  • 0 | 120.227.65.250 (*) | ০৮ মে ২০১৬ ১২:৩৫54045
  • অনবদ্য :-) আরেট্টুখানি আশা করেছিলাম। একটা সিক্যুয়েল কি হয়না? কত কিছুই তো হতে পারে! এই যেমন ধরুন, বছর দু/তিন পর প্যারিসে পারি দিলেন অধ্যাপক, ধরা যাক একটা সেমিনার অ্যাটেন্ড করতে... ফের দেখা হলো দেবদুতীর সাথে। মাঝখানে থাকুক নিরবিচ্ছিন্ন আন্তর্জালিক যোগাযোগ।
  • Kaushik Ghosh | 190.215.130.221 (*) | ০৯ মে ২০১৬ ০২:৫২54051
  • ফীডব্যাকের জন্য সকলকে ধন্যবাদ।

    T,

    ১। "লোকাল মিনিমায় কনফাইনমেন্ট এড়াতে আইদার লোকে র‍্যান্ডমাইজড এপ্রোচ লাগায় অথবা লোকালি গ্রীডি অ্যাপ্রোচ মেরে বেরিয়ে যায়। এতো ট্রিভিয়াল জিনিসপত্তর। একটা অধ্যাপক এগুলো জানবে না এটা হতে পারে! হ্যাঃ!"

    - এখানে লুপিঙটা কিন্তু লোকাল মিনিমার জন্য নয়। দুটো বা তার বেশি কাছাকাছি নোডের ফরওয়র্ডিঙ পোটেনশিয়াল যদি সমান হয়, তবে হয়েছে লুপিঙ। এটা অধ্যাপক জানতো (গল্পতেই আছে) তবে লুপিঙ ব্রেক করার জন্য গ্রীডী অ্যাপ্রোচ নেয়নি, তার কারন তার মনে হয়েছে এতে এনার্জী কন্সাম্পশন বাড়বে। তার ভাবনায় ভুল ছিলো।

    ২। "সি থেকে ম্যাটল্যাবে কোড কনভার্ট এবং অপ্টিমাইজএর গল্প জমল না। আল্টিমেটলি সেন্সর নেটওয়ার্কের মাইক্রোকন্ট্রোলারে তো সি কোডই যাবে।"

    - ভারতের ইউনিভার্সিটি গুলোতে সেন্সর নেটওয়র্ক নিয়ে যা কাজ হয় তাতে মূলত দু ধরনের approach থাকে। প্রথম দল nesC তে কোড লিখে চালায় (C নয়)। বড় জোর গোটা দশেক নোড নিয়ে কাজ করে। IIT Madras-এ অবশ্য ওরা একটা সেন্সর ফীল্ড মতন বানিয়েছে সত্যিকারের নোড নিয়ে, কিন্তু সেটা এক্সেপশন। আর ওটা IIT, ফান্ডের অসুবিধে হয়না।

    আরেক দল আছে সিমুলেশন পন্থী; এরাই দলে ভারি। সিমুলেশনের জন্য MATLAB, C, Omnet, NS-2/NS-3 ইত্যাদি তে কোড লিখে চালায়। নোডের মাইক্রোকন্ট্রোলারে কিসের কোড যাবে, তা নিয়ে কেউ মাথা ঘামায় না। কারন ঘামিয়ে লাভ নেই। একটা সিমুলেশন এনভায়রনমেন্টে একশো-দুশোর মতন নোড নেওয়া হয়। সত্যিকারের এতগুলো নোডের দাম প্রায় বিশ লাখ - কে দেবে অত টাকা? তাই সিমুলেশনই ভরসা।

    আর তাছাড়া LEACH, TEEN বা আরো অনেক স্ট্যানডার্ড প্রোটোকলের আকর কোড গুলো লেখা হয়েছিলো MATLAB-এই।

    ভালো থাকবেন।
  • cm | 127.247.98.44 (*) | ০৯ মে ২০১৬ ০৩:০৭54052
  • এই গল্পে বিবর্তন হচ্ছে কোডটার। তাই ওটাকে ইন্টারপ্রেট করতেই হবে। কোডটা বাদ দিলে হবেনা।
  • potke | 127.202.99.107 (*) | ০৯ মে ২০১৬ ০৮:১৭54053
  • কার্ভ ফিট করার জন্য ম্যাটল্যাবের দরকার পড়ল কেন? একটা ফাংশন লিখে তো সি তেই করা যায়!
  • i | 147.157.8.253 (*) | ০৯ মে ২০১৬ ১১:৩৮54054
  • এ ব্যাপারে আমার টেকনিকাল জ্ঞান শূন্য বা নেগেটিভ তাই গল্পটা শুরু করে গল্পের থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলাম ; তারপর আর পড়তে পারি নি নি। আমারই অপারগতা /অজ্ঞতা মানি -লেখক সম্ভবতঃ এক নির্দিষ্ট পাঠককুলের জন্যই গল্পটি লিখেছেন।
  • gabeshak | 85.140.138.194 (*) | ০৯ মে ২০১৬ ১১:৫৬54055
  • এটা কি গল্প নাকি সত্যি ঘটনা? সত্যি ঘটনা হলে পেপারের লিন্ক চাই।
  • cm | 127.247.98.44 (*) | ১০ মে ২০১৬ ০২:২৮54056
  • কী কান্ড, ধরতাই দেওয়ার এর চেষ্টা করি, “ বলেছিলাম‚ "ইটস নো লঙগার মাই কোড় মাই কোড ওয়জ রিটেন ইন ; ইটস ইওরস়" বলে কিনা‚ "তো কিয়া হুয়া! ইউ কীপ চেঞ্জিঙ ইওর ক্লোদস।।ইট ডাজন্ট ম্যাটার় দ্য সোল অফ দ্য কোড স্টিল রিমেইনস দ্য সেম়" ডেঁপো মেয়ে! বুঝতে পেরেছে -তে লেখা কোডটা নিয়ে আমি একটু অবসেসডই ছিলাম় ইস‚ লজ্জা লাগছে! এ ভাবে ধরা পড়ে যাওয়ার কোনো মানে হয়!”
  • sch | 132.160.114.140 (*) | ১০ মে ২০১৬ ০৫:০৭54057
  • এটা শুধু মাত্র কন্ট্রোল সিস্টেমের লোকেদের জন্য আবছা প্রেমের উপন্যাস। "বিধিসম্মত সতর্কীকরণ" হিসেবে এটা লিখে দিলে পড়ে সময় নষ্ট করতাম না
  • Kaushik Ghosh | 125.113.187.3 (*) | ১০ মে ২০১৬ ০৫:৩৭54058
  • cm

    স্যর, আমার হয়ে ব্যাট করে যাওয়ার জন্য অশেষ ধন্যবাদ। কোডের বিবর্তন ব্যাপারটাকেই ধরতে চেয়েছিলাম।

    i, sch

    একদমই না। বরং চেয়েছিলাম লেখাটা যেন নন-টেকনিক্যাল বা বিষয়ের সাথে যুক্ত নন এমন মানুষরাও বুঝতে পারেন। পারিনি। কি আর করা যাবে!
    মাঝখান থেকে লেখনীর এমনি গুণ যে "আবছা প্রেমের উপন্যাস" মনে হচ্ছে। :-D
    শিব গড়তে বাঁদরের লাইভ এক্সাম্পল ! :-)

    গবেষক,

    "পেপারের লিন্ক চাই।"
    রক্ষে করুন!
  • dc | 132.174.112.124 (*) | ১০ মে ২০১৬ ০৫:৪৭54059
  • আমি কোডিং প্রায় কিছুই জানিনা, তবে আমার লেখাটা বেশ ভাল্লেগেছে। বারবার পার্স্পেকটিভ বদল ভাল্লেগেছে। তবে একটা এপিলোগ থাকলে আরো জমতো। বেশী না, বছর তিনেক বাদে।
  • Kaushik Ghosh | 125.113.187.3 (*) | ১০ মে ২০১৬ ০৫:৪৯54060
  • @potke

    "কার্ভ ফিট করার জন্য ম্যাটল্যাবের দরকার পড়ল কেন? একটা ফাংশন লিখে তো সি তেই করা যায়!"

    ঠিকই বলছেন, কিন্তু কত সুবিধে MATLAB-এ! এক সাথে quadratic, থার্ড, ফোর্থ ডীগ্রীর পলিনমিয়ালের গ্রাফ গুলো দেখা যাচ্ছে ইকুএশন ও লিডিঙ কোয়েফিশিয়েন্টের মান সমেত.....তাই আর কি!
  • Kaushik Ghosh | 125.113.187.3 (*) | ১১ মে ২০১৬ ০৩:২৫54061
  • dc
    অনেক ধন্যবাদ!
    এপিলোগ থাকলে জমতো বলছেন? হুম।

    ফীডব্যাকের জন্য আবারো ধন্যবাদ।
  • Tim | 140.126.225.237 (*) | ১২ মে ২০১৬ ০৬:০২54063
  • এই প্রথম 0.05% এর জন্য এক্সক্লুসিভ গল্প লেখা হলো। মাইরি দুটো প্যারার পরে থেকে সব জার্গন। যদি ওয়াইডার অডিয়েন্সের জন্য লিখতে হয় তো আরো অনেক অনেক সহজ ভাষায় লেখা দরকার তো। তবে লেখা এমনিতে কিন্তু ভালো। মানে আমার একটু আপশোষ হলো কোডের ব্যাপারটা বুঝতে না পারার জন্যে।
  • sosen | 177.96.49.239 (*) | ১২ মে ২০১৬ ০৯:১১54064
  • আমি পুরো ই পড়লাম, কোড না বুঝেও গল্প পার্টটা বুঝতে অসুবিধে হয়নি, কিন্তু সেটা তো আদৌ গল্প পদবাচ্য নয়, তাই আমার সিদ্ধান্ত হল লেখক কোডের সম্পর্কেই কিছু লিখতে চেয়েছেন। নিশ্চয় ঐ গল্পটা লিখতে চাননি।
  • :) | 85.140.138.194 (*) | ১২ মে ২০১৬ ০৯:৪২54065
  • কোড বাদ দিলে গল্প তো কেবল এক লাইন।
  • potke | 127.202.98.84 (*) | ১২ মে ২০১৬ ১২:০১54062
  • তবে, আপনার লেখা আমাকে বরাবর ই টানে।

    লিখতে থাকুন ঃ)
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভেবেচিন্তে মতামত দিন