• হরিদাস পাল  ব্লগ

  • কল্প

    ইন্দ্রাণী লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | ৪২৯ বার পঠিত
  • জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
  • ফুলশয্যার রাত অবধি অহনার ধারণা ছিল, সব বাড়িরই নিজস্ব কিছু পুরোনো গল্প আছে। প্রাচীন বালাপোষ আর জরিপাড় শাড়ির সঙ্গে সেইসব কাহিনী মথবল দিয়ে তুলে রাখা থাকে। তারপর যেদিন আত্মীয় বন্ধু বহু বৎসর পরে একত্রিত- হয়ত বিবাহ, কিম্বা অন্নপ্রাশন, অথবা শ্রাদ্ধবাসর- সেই সব গল্পকথা আলমারির অগম সব কোণ থেকে আলগোছে বের করে এনে রোদে দেওয়া হয়। এমনি করে, প্রপিতামহর খুল্লতাত অথবা অতিবৃদ্ধ মাতামহীর পিতৃশ্বসাপতির একটি দুটি আখ্যান , ব্রোকেন টেলিফোন খেলায় যেমন হয় আর কি- মুখে মুখে ফেরে আর একটু একটু করে বদলে যেতে থাকে। আসলে, অহনা এরকম কিছু গল্প শুনে বড় হয়েছে; প্রপিতামহ , অতিবৃদ্ধ মাতামহী অথবা পিতৃশ্বসাপতি শব্দগুলি এবং পুরোনো ভারি অলঙ্কারের মত সরোজিনী, বা নীলাম্বর অথবা সরসীবালা নামের প্রতি প্রগাঢ় মায়াও তার আশৈশব। বস্তুত, অহনার নিতান্ত বাল্যকালে, পিতৃপক্ষে,তার জ্যেষ্ঠতাত বাড়িতেই তর্পণের আয়োজন করলে, অহনা ঘুম ঘুম চোখে, সেইখানে গিয়ে বসত। আশ্বিনের সেই সব ভোর-তাদের বড় ঘরের লাল মেঝে- কোশাকুশি তাম্রপত্র-জ্যেষ্ঠতাতর গরদের ধুতি চাদর কপালে চন্দন আঙুলে কুশের আংটি- এতৎ সতিল-গঙ্গোদকং , তৃপ্তিমখিলাং যাস্তু ,অগ্নিদগ্ধাশ্চ যে জীবা - রহস্যময় সে সকল শব্দ…প্রতিটি কথা , সমস্ত পুরাতন নাম, প্রাচীন সম্পর্ক নিজের মনে, নিজের স্বপ্নে ঢুকিয়ে নিত বালিকা; অবসরে , ঘুমে, শব্দগুলির সর্বাঙ্গে হাত বোলাত পরম মমতায়-

    অহনাদের বাড়িতে, যে দু তিনটি গল্পকথা ঘুরে ফিরে বেড়াত- নবীন জামাতা , নববধূ বা নবলব্ধ কুটুম্বকে শোনানো হ'ত, তার মধ্যে দুটি কাহিনী তার প্রিয় ছিলঃ অহনার প্রপিতামহীর কোনো খুল্লতাত সংসার ত্যাগ করে সন্ন্যাসী হয়ে গিয়েছিলেন -গল্পে তিনি সন্ন্যাসীদাদু। বলা হ'ত, সন্ন্যাসীদাদু নাকি এখনও তাঁর বংশধরদের দেখা দেন - গৃহস্থের দরজায় দাঁড়িয়ে হাঁক দেন সন্ন্যাসী-হাতে দন্ড, কমন্ডলু, মাথায় পাগড়ি, শরীরে দিব্যাভা- দু দন্ড বসেন , তারপর আশীর্বচন আউড়ে স্রেফ হাওয়ায় মিলিয়ে যান। বস্তুত অহনার ঠাকুমার পুজোর ঘরে সেই সন্ন্যাসীর একটি ছবি ছিল-ফ্রেমে বাঁধানো হলদেটে ছবিতে পাহাড়ি নদী গাছ ঘরবাড়ি দেখা যেত - সামনে তিনি হাতে লাঠি নিয়ে দাঁড়িয়ে। ছবিটি অহনার খুব প্রাচীন মনে হত না। সে কথা বললে, ঠাকুমা দুই হাত জোড় ক'রে মাথায় ঠেকিয়ে বলত -'হ্যার বয়স বাড়ে না'। অহনা বিশ্বাস করত না কিন্তু গল্পটা ওর ভালো লাগত; ছবির সঙ্গে গল্প বা গল্পের সঙ্গে ছবি মেলাতে চাইত। ছবিখানি কবে কে কোথায় তুলেছিল, সে ছবি ঠাকুমার কাছে কি করে এল তা নিয়েও এযাবৎ অচরিতার্থ কৌতূহল অহনার।
    সন্ন্যাসী দাদুর গল্প ব্যতীত বৃদ্ধপ্রপিতামহী হিরণ্যপ্রভার কাহিনী অহনার অতীব প্রিয় ছিল। শোনা যায়, হিরণ্যপ্রভা চিত্র রচনায় সবিশেষ পটু ছিলেন- গৃহস্থালির সমস্ত কাজের মধ্যেও উঠান, তুলসী মঞ্চ, গৃহের মৃৎপাত্রগুলিতে তিনি নিরন্তর ছবি এঁকে চলতেন- অঙ্কনকালে শত ডাকেও সাড়া দিতেন না। একদা দ্বিপ্রহরে পুরুষেরা ভোজনে রত, মেয়েরা সন্তানের পরিচর্যায় অথবা রন্ধনে কিম্বা পরিবেশনে ব্যস্ত - বেলা অনেক, অথচ সেদিন তখনও তাদের স্নানও সারা হয় নি-সেই সময় উঠোনে এক বিশাল হাতি এসে দাঁড়িয়েছিল। হাতির সর্বাঙ্গে অলংকরণ, হাওদাটি সুসজ্জিত। উঠোনে দাঁড়িয়ে মাহুতবিহীন সুবৃহৎ সে হাতি বৃংহণ করেছিল। সেই ধ্বনিতে, রন্ধনকক্ষ থেকে হিরণ্যপ্রভা বেরিয়ে এলে, হাতিটি হাঁটু মুড়ে বসে এবং হিরণ্যপ্রভা কোনোদিকে না তাকিয়ে হস্তীপৃষ্ঠের সুসজ্জিত হাওদায় অধিষ্ঠিতা হ'ন। কথিত আছে, সে সময় তাঁর ঘোমটা খসে পড়েছিল- রুক্ষ কেশদাম মধ্যাহ্ন সূর্যের আলোয় মুকুটের মত দেখাচ্ছিল।সেই প্রখর রৌদ্রের মধ্যে, হাতিটি তাঁকে পিঠে নিয়ে মিলিয়ে যায়। হিরণ্যপ্রভা আর ফিরে আসেন নি।
    এই গল্পদুটি, কলেজজীবনে অহনা ওর প্রাণের বন্ধু শাল্মলীকে বললে, শাল্মলীও অনুরূপ কিছু ঘটনা শোনায়- যেমন, কোনো কালে, শাল্মলীর মামার বাড়ির দিকের এক বাল্যবিধবা গভীর রাতে নির্জন ছাদে , দু হাত আকাশে তুলে আপন মনে ঘুরে ঘুরে নেচে চলত; তারপর এক জ্যোৎস্নারাতে সে ডানা মেলে উড়ে গিয়েছিল। শাল্মলী তার নাম বলতে পারে নি।
    অহনা বলেছিল, 'নাম না থাকলে, গল্প ভালো লাগে না। ওর নাম আমার সঙ্গে মিলিয়ে রাখি ? অঙ্গনা ?'
    -'ঠিক। অনাম্নী অঙ্গনা'। শাল্মলী হেসেছিল।
    বস্তুতঃ এই সব প্রাচীন কাহিনীর আদানপ্রদান অহনার প্রিয় ছিল। নতুন আত্মীয় পরিজন, নবলব্ধ বন্ধুদের এই গল্প শোনানো সে বাধ্যতামূলক মনে করত-যেন এ গল্প না শোনালে তার পরিচয় দেওয়া অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।
    অতএব, অহনা যে ফুলশয্যায় তার নবীন স্বামীটিকে সন্ন্যাসীদাদু অথবা হিরণ্যপ্রভার কাহিনী বলবে এতে আশ্চর্যের কিছু ছিল না। গল্প শেষ করে সমরের পরিবারের অনুরূপ প্রাচীন কোনো গল্প শুনতে চেয়েছিল অহনা। সমর বলেছিল, 'তোমার মত গল্প শোনার টাইম আমার ছিল না। গল্প ঠল্প কিছু নেই আমাদের। ' তারপর মিলনে প্রবৃত্ত হয়েছিল।
    অহনার শ্বশুরমশাই বহুদিন গত, শাশুড়ী পক্ষাঘাতগ্রস্ত- প্রাচীন কোনো কাহিনী জানা থাকলেও তা বলার ক্ষমতা তাঁর ছিল না। সমরের বাড়ির চিলেকোঠায়, খাটের তলার প্রাচীন তোরঙ্গে কোনো প্রাচীন অক্ষর সে খুঁজে পায় নি গত এক বছরে। কেবল, সমরের মামাবাড়িতে প্রণাম করতে গিয়ে , ঠাকুরঘরে আলমারির মাথার ওপরে নীল মার্কিন কাপড়ের ঢাকনা দেওয়া এক বাদ্যযন্ত্র দেখেছিল।
    অহনা বলেছিল, 'এস্রাজ? কে বাজায়?'
    সমর আশ্চর্যরকম কঠিন মুখ করে বলেছিল, 'বাজাতো। আমার ছোটোমাসি। ' তার যে কোনো মাসিশাশুড়ি আছেন তাই জানতনা অহনা-সে অবাক হয়ে তাকালে, সমর বলেছিল-'হারিয়ে গেছে'।
    -'কেমন করে? ' অহনা জিগ্যেস করেছিল। এই প্রথম সমরের পরিবারে সে একটি গল্পের খোঁজ পাচ্ছিল।
    সমর বলেছিল-'জানি না। হারিয়ে গেছে, ব্যাস।তোমাদের মত হাতী ঘোড়ার গল্প আমাদের নেই।'
    -'কি নাম ছিল ছোটোমাসির?'
    সমর মুখ শক্ত করে বলেছিল-'অনু'।
    অনু কি অনুরাধা না অনুশ্রী না অনুমিতা , অনন্যা অথবা অঙ্গনা-এই সব জিজ্ঞেস করার ইচ্ছে হয়েছিল অহনার। সমরের মুখের ভাব দেখে সে আর কথা বাড়ায় নি।

    ডিসেম্বরের শেষে , সমরের কিছু কাজ পড়ল সিউড়িতে। অহনা শান্তিনিকেতন যাবে কি না জানতে চাইলে , সে এক কথায় রাজি হল। ছোটোবেলায় একবার শান্তিনিকেতন যাওয়া ঠিক হয়েও ওর চিকেন পক্স হওয়ায় সব পন্ড হয়েছিল। পরবর্তীকালেও , সঙ্গীতবিদ্যা শিক্ষা ও চর্চার জন্য অহনা সেখানে যেতে চেয়েছিল। অহনার গলায় সুর ছিল-সে ভালো গাইত। কিন্তু ততদিনে সমরের সঙ্গে অহনার বিবাহ স্থির- পিতৃদেব এক কথায় অহনার ইচ্ছেয় না বলেছিলেন। এত বছর পরে, ডিসেম্বরের রাতে, আবার শান্তিনিকেতনের কথা উঠল। অফিস থেকে ফেরত সমর সবিশেষ উত্তেজিত ছিল সেদিন। বলছিল, শান্তিনিকেতনে ওর বন্ধুর বাড়ি, সেখানে থাকা যাবে, হোটেল ফোটেলের বুকিং এর দরকার হবে না।

    সিউড়ির কাজ শেষ করে সমর যখন অহনাকে নিয়ে বোলপুর এলো, তখন ভাঙামেলা। মেলার মাঠে তবুও ভীড়, নাগরদোলা, টুরিস্ট বাস, শালপাতা । ওরা দুপুরে খানিক ঘুরল। বাটিকের ব্লাউজপিস, পোড়ামাটির গয়না, আপেলবীচির মালা -এইসব টুকটাক দরাদরি করছিল অহনা।
    সেদিন সন্ধ্যায় খ্রীষ্টোৎসব। বিকেল বিকেল কাচঘরের বারান্দায় বসতে না পারলে, হিমে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে বাইরে-সমরের বন্ধুর বাড়ি থেকে জানা গিয়েছিল। সেইমত, বিকেল পড়তেই, ওরা কাচঘরের দরজার গোড়ায় শতরঞ্জিতে বসে পড়ে। ভেতরে তখনও সাজসজ্জা ও বৈদ্যুতিক সংযোগের কিছু কাজ চলছিল। ভীড় ক্রমে বাড়ছিল। ঘর ছাপিয়ে সিঁড়ি, সিঁড়ি ছাপিয়ে রাস্তা অবধিও মানুষজন। চাদর, জহর কোট, সোয়েটার, জ্যাকেট। আলো কমে আসছিল, হিমভাব বাড়ছিল। কাচঘরের ভেতরে গায়ক গায়িকারা সমবেত-একাধিক তানপুরার শীর্ষদন্ড দেখা যাচ্ছিল। সমর উসখুস করছিল-একবার বলছিল-বাথরুমে যেতে হবে, একবার বলছিল, ঠান্ডা লাগছে, টুপি আনতে হবে, আবার সিগারেট খাওয়ার জন্য ছটফট করছিল-ভিতরে উঁকি দিচ্ছিল-বাইরে তাকাচ্ছিল-তার মুখে রাগ আর অসহায়তা দেখছিল অহনা।
    -'কী শালা ফেঁসে গেলাম এখানে। এই ঠান্ডায় এই সব কাঁদুনি শুনতে হবে এতক্ষণ। শুরু হবে কখন তাও তো বুঝছি না।'
    অহনার অস্বস্তি হচ্ছিল। বলল-'এক্ষুণি হবে, দেখো না , সবাই এসে গেছে।'
    সমর ওর কনুই টেনে বলল-'চলো ফিরে যাই। লেপের তলায় ঢুকে যাবো সোজা'। বলে সামান্য চোখ মারল অহনাকে।
    অহনা বলল, 'এক্ষুণি শুরু হবে। একটু বসো। আর হয়তো কোনদিন আসাও হবে না'।
    -'যাবে না কি ক্রন্দনসঙ্গীত শুনবে? আমি চললাম।' সমর ওর হাত ধরে হ্যাঁচকা টান দেয়। তারপর বেরিয়ে যায়। অহনাও সমরের অনুগামী হয়ে উঠে দাঁড়ায়, হাতের ব্যাগ তুলে নিয়ে, শাড়ি, শাল গুছিয়ে , বেরিয়ে আসার পথ খোঁজে। ঠিক তখন কাচঘরে সমস্ত তানপুরার একসঙ্গে সুর মেলানো শুরু হয়। শীত না কি আকস্মিকতা- অহনা আমূল কেঁপে উঠে আবার বসে পড়ে। সে যেখানে বসেছিল, সেখান থেকে কাচঘরের ঝাড়লন্ঠন দেখা যাচ্ছিল আর তানপুরার শীর্ষগুলি- কখনও হাতের আঙুল-সুর বাঁধছে। অহনার মনে হ'ল, সে যেন এক অলীক কক্ষের দোরগোড়ায় -যেখানে কেবল সুর ভেসে বেড়াচ্ছে - একটি তানপুরার সুর যেন অন্য তানপুরা তুলে নিচ্ছে, তারপর আর একটি তানপুরা , সেখান থেকে আর একটি। শেষ তানপুরাটি থেকে বেরিয়ে একলা সুর অতঃপর যেন ওপরে উঠছে, ঝাড়লন্ঠন ছুঁয়ে ভেসে ভেসে অহনার কাছে আসছে, এরপর সুরে সুরে জড়িয়ে ঈষৎ ভারি হয়ে নিচে নামছে, আবার উঠছে।
    ধুপের ধোঁয়ার মত সুরের এই চলাচল অহনাকে ঘিরে ফেলছিল। এক মায়াবরণ যেন অহনার শ্রুতি দৃষ্টি আর মননে জড়িয়ে যাচ্ছিল- আবরণ সরালেই যেন এক অভূতপূর্ব মুহূর্তের সম্মুখীন হবে সে -এরকম তার মনে হচ্ছিল। সমর এসে আবার ওর পাশে বসতে পারে, নাও পারে-অহনার তা নিয়ে আর কোনো দুশ্চিন্তা ছিল না-সমরের কথা অমান্য করার জন্য কোনো ভয় কাজ করছিল না আর- বরং ওর মন সমর, তাদের মিল, তাদের অমিলগুলি পেরিয়ে যাচ্ছিল দ্রুত- ঘর দোর সংসার অস্পষ্ট হচ্ছিল। ওর মনে হচ্ছিল, সম্ভবতঃ এই সেই মুহূর্ত-যখন মানুষ হারিয়ে যায় , হয়ত ডানা মেলে উড়ে যায় ভরা জ্যোৎস্নায়। সে ভাবছিল এবং ক্রমশঃ বিশ্বাস করছিল। অহনার মনে হচ্ছিল, কিছু একটা ঘটবে, খুব বড় কিছু, ঠিক কী ঘটবে সে জানে না, কিন্তু তার জন্য আনন্দিতচিত্তে অপেক্ষা করতে পারবে। অহনা কাঁপছিল, ওর চোখে জল আসছিল, দু হাত জড়ো করে এই মুহূর্তটিকে সে আগলে রাখতে চাইছিল আর সমস্ত শরীর দিয়ে এই অপরূপ সুর মেলানো অনুভব করছিল, শুষে নিচ্ছিল।
    গান শুরু হয়ে গিয়েছিল। আচার্য কিছু বলছিলেন। হিম মাথায় নিয়ে অজস্র মানুষ বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল। মোমবাতি জ্বলছিল। মেলার মাঠে সম্ভবতঃ বাজি পোড়ানো চলছিল। আকাশে একটি আলোক বিন্দু সহস্র আলোক বিন্দু হয়ে ছড়িয়ে পড়ছিল- গাঢ় বেগুণী আকাশে আলোর কণাগুলি কখনও সিংহের কেশর , কখনও সুবৃহৎ অগ্নিপুষ্পর পরাগরেণু তৈরি করছিল, তারপর ছাই হয়ে ঝরে পড়ছিল হিমভেজা মাঠে।

    সেই সময়, বল্লভপুরের হরিণের বন পেরিয়ে এক বিশাল গজরাজ আম্রকুঞ্জের দিকে ধাবিত । সে ঐরাবতের সর্বাঙ্গে অলংকরণ, পৃষ্ঠে সুসজ্জিত হাওদা।
  • বিভাগ : ব্লগ | ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | ৪২৯ বার পঠিত
আরও পড়ুন
মৃগদাব - Indrani
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • পাতা :
  • dd | 59.207.62.72 (*) | ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ০২:২৫59337
  • খুবি ভাল্লগ্লো।
  • . | 222.247.124.209 (*) | ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ০৫:২৬59338
  • দারুণ
  • Binary | 226.126.202.98 (*) | ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ০৬:০৭59339
  • খুব ভালো লাগলো
  • pi | 24.139.221.129 (*) | ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ০৬:১৯59340
  • এই ক'টা লাইনই যে কতবার পড়ে গেলাম!

    'ফুলশয্যার রাত অবধি অহনার ধারণা ছিল, সব বাড়িরই নিজস্ব কিছু পুরোনো গল্প আছে। প্রাচীন বালাপোষ আর জরিপাড় শাড়ির সঙ্গে সেইসব কাহিনী মথবল দিয়ে তুলে রাখা থাকে। তারপর যেদিন আত্মীয় বন্ধু বহু বৎসর পরে একত্রিত- হয়ত বিবাহ, কিম্বা অন্নপ্রাশন, অথবা শ্রাদ্ধবাসর- সেই সব গল্পকথা আলমারির অগম সব কোণ থেকে আলগোছে বের করে এনে রোদে দেওয়া হয়। '
  • pi | 24.139.221.129 (*) | ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ০৭:১৮59341
  • কী লিখেছ!!
  • aranya | 172.118.16.5 (*) | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ০২:১০59342
  • সুন্দর
  • de | 24.139.123.36 (*) | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ০৪:০০59343
  • কি লেখা! আহা, কি যত্ন!

    খুব ভালো লাগলো -
  • রৌহিন | 113.214.139.253 (*) | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ০৪:৪১59347
  • ইন্দ্রানী নিজের সমালোচনা করতে গিয়ে একটু বিনয় করেছেন। এই গল্পে এপিফ্যানি নয় - আমি পেলাম পরাবাস্তবের এক অন্যরকম স্বাদ। গজরাজের পিঠে চড়ে হিরণ্যপ্রভার হারিয়ে যাওয়ার দৃশ্যকল্প বহু বহুদিন মনে রাখব। সম্ভবতঃ একটা স্থায়ী ছবি হয়ে গেল মনের মধ্যে।
  • i | 212.159.161.169 (*) | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ০৬:৩৬59344
  • আপনাদের এত ভালো লাগবে ভাবি নাই। আসলে কি হয়েছে, বলি শুনুন।গতকাল আমাদের এখানে শ্রীজাতর একটি অনুষ্ঠান ছিল। শ্রীজাতর সম্মানে অনুষ্ঠানের আয়োজকরা একটি পত্রিকা প্রকাশের কথা ভাবে- 'স্থানীয় প্রতিভা'দের লেখাপত্তর নিয়ে পত্রিকা-তো আমিও ডাক পাই- এ প্রায় মাস তিন কি তারও কিছু আগের কথা। সেই সময় এত ব্যস্ত ছিলাম যে ডেড লাইনে লেখা শুরু করে পরদিন জমা দি। শব্দসংখ্যা বেঁধে দেওয়া ছিল। সব মিলিয়ে লেখাটা নিয়ে মন খুঁত খুঁত করছিল। তাই আবার লেখাটা নিয়ে বসি- গ্রহণ বর্জন করে এই ভারসনটা দাঁড়ায়। এখনও কিছু ত্রুটি রয়েছে। পরে ঠিক করব কোনো সময়।

    আর কি বলে, মানুষ আর পশু নিয়ে একটা সিরিজ করার চেষ্টা করছি 'রোব্বারের পরদিন ' থেকে। এটা সেই সিরিজেরই গল্প। আরো দু একটা লিখে এ সিরিজ শেষ করব।

    আপনাদের ছোটাই
  • i | 212.159.161.169 (*) | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ০৭:৪৮59345
  • আর একটু বলে যাই। নিজের লেখার সমালোচনা নিজেই করে যাই। কাল থেকে আর হয়ত সময় পাবো না-

    লেখার মূল দুর্বলতা ঃ
    এক, হয়ত কিছুটা স্টিরিওটাইপিং আর দুই ইপিফ্যানি। যদিও মানছি, গল্পের ফোকাস অন্যত্র।
    সবশেষে সেই টল্প হয়েই রইল।
    কিছুতেই আর হয় না। দেখি কবে পারি। আদৌ পারি কী না।

    ছোটাই
  • সুহাসিনী | 193.83.215.161 (*) | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ১২:৫৩59346
  • আহা!
  • শিবাংশু | 55.249.72.215 (*) | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ০১:১০59363
  • বাহ,
    লেখাটি ভালো লাগার একটি কারণ i ভাষার বিন্যাসটি বদলেছেন। অবশ্য 'রূপ'কথার ভাষা অন্যরকমই হবে। 'পুরোনো গল্প' আর সমরের কন্ট্রাস্টের মাঝখানে সিমেট্রি'র ভরকেন্দ্র । সীবনচিহ্নহীনছবি তৈরি হয়ে যাচ্ছে পর পর। হয়তো প্রেডিক্টেবল। যদিও মহাভারত আর জাতকের গল্পের পর ওপনএন্ড আনপ্রেডিক্টেবল আখ্যানকে 'মৌলিক' রাখা বিশেষ চাপ। অহনাদের গল্প i'র থেকে আগেও পেয়েছি। 'বাস্তবতা'র খাঁচা ভেঙে যাওয়ার পরেও বিশ্বাস্য থেকে যায়। এটাই পাওনা....
  • aranya | 172.118.16.5 (*) | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ০২:১৪59350
  • ইন্টারেস্টিং, এভাবে ভাবিনি
  • Rabaahuta | 233.186.101.226 (*) | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ০২:১৬59364
  • "ছোটোমাসির হারিয়ে যাওয়ার কথায় সে অমন ভাবে রিঅ্যাক্ট করে কেন? কেমন করে হারিয়ে গেল জানতে চাইলে সে কেন বলে ওঠে-আমাদের হাতি ঘোড়ার গল্প নেই?"

    এই প্রশ্নটা ছিলো, আমারও।
  • pi | 24.139.221.129 (*) | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ০২:১৮59351
  • এই লাইনটা থাকলে পাঠক হিসেবে এই 'গপ্প' আমার এত ভাল লাগত না। লেখিকার এই দাবি ফুৎকারে উড়িয়ে দেওয়া বিশেষভাবে পছন্দ হয়েছে। এই লাইনটা তো গপ্প পড়ে পাঠকের যোগ করার, মনে মনে।
  • i | 147.157.8.253 (*) | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ০২:২৫59352
  • ঈশান,
    প্রীত হলেম।
    আগের পোস্টে এই টেখার অন্য একটা ভারসানের কথা লিখেছিলাম-সেই পুরোনো ভারসানে একটা ইঙ্গিত ছিল-যদিও সেটাও হিরণ্যপ্রভার কাছ্হে ফিরে যাওয়াই -সেখানে শেষটা এরকম ছিল- 'সেই সময়, বল্লভপুরের হরিণের বন পেরিয়ে এক বিশাল গজরাজ আম্রকুঞ্জের দিকে ধাবিত । তার সর্বাঙ্গে অলংকরণ, পৃষ্ঠে সুসজ্জিত হাওদা। এই ভীড়, এই আলোর মাঝে একজনের সামনে সে আজ হাঁটু মুড়ে বসবে। হিরণ্যপ্রভার ঐরাবত। অনুরও। অনু মানে অনুরাধা, অনুশ্রী, অনন্যা, অহনা, অঙ্গনা অনাম্নী…।'
    শেষটা পছন্দ হয় নি, ভাবলাম-বড্ড বেশিই বললাম-সমরের ছোটোমাসি, শাল্মলীর মামার বাড়ির দিকের মেয়েটি আর আমাদের অহনাকে এই ভাবে গেঁথে ফেলা এক সুতোয় আমার তরফে-ঠিক হ'ল না। পাঠক ভেবে নিক।

    বর্তমান ভারসানে জাস্ট একটা লাইন আছে-সমরের ছোটোমাসির হারিয়ে যাওয়া ইঙ্গিত করে -সেটাও উড়িয়ে দেব ভেবেছিলাম-'ওর মনে হচ্ছিল, সম্ভবতঃ এই সেই মুহূর্ত-যখন মানুষ হারিয়ে যায় , হয়ত ডানা মেলে উড়ে যায় ভরা জ্যোৎস্নায়।'

    সিমেট্রির ডিজাইনের কথা ঠিক বলেছ-এটা আমার খুব দুর্বল দিক-অঙ্ক না মিলিয়ে আমি বেরোতে পারি না -

    ছোটাই
  • dd | 59.207.59.176 (*) | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ০২:৪০59353
  • ""সমরের বাড়িতেও এবার নিশ্চয়ই নিজস্ব গল্প হবে। --গপ্পোটি অমোঘভাবে চাইছিল, এই ধরণের এক বাক্যের এক উপসংহার।

    ঈশেনকে। ন্যাঃ।
  • শান্তনু | 57.15.5.198 (*) | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ০৪:০০59354
  • একটি কমেন্টে দেখলাম লেখিকা নিজের গল্পের সমালোচনা করেছেন । লেখিকাকে এটুকু জানাই যে, গল্প কদাপি সমালোচকদের পরীক্ষার উদ্দেশ্যে কোনও পেপার সাবমিশন নয় । গল্পের উদ্দেশ্য গল্প বলা । যেমনটি ঠাকুমারা বলে থাকেন । চশার বলেছেন । জীবনের একের পর এক ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলির মধ্যে রোমান্স সঞ্চার করতে পারলে গল্প সফল । কারণ তখনই আমি সংগীতের ঝংকার শুনে অহনার পাশেই সতরঞ্জিতে স্থানু । এবং অহনার স্বামীর আকাটপনায় অসম্ভব বিরক্ত । তাছাড়া শীতের রাতে নিভৃতচারী রহস্যময় হস্তীটির হাঁটার আওয়াজ পাচ্ছি, কেমন যেন গুলিয়ে যাচ্ছে ।
  • শান্তনু | 57.15.5.198 (*) | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ০৪:১৩59355
  • আর কিছু প্রয়োজন নেই । জানেনতো, বোধহয় মুলতানের বাজারে গল্প বিক্রি হত? এক বুড়ো বাজারের একপাশে বসে একটি করে পয়সা নিয়ে গল্প শোনাত। বাজারফিরতি লোকজন তাকে ঘিরে থাকত । এ তো অহনার গল্প নয় । এক চিরন্তন হাতির গল্প । এ কোনও 'বাদ'এর গল্প নয় । সম্বাদের গল্প । মুক্তি যেভাবে শিশুর মত রাস্তার ওপার থেকে তাকিয়ে থাকে ।রাস্তা পেরিয়ে যাওয়ার গল্প । একটা উপকথা তৈরি হল । সেই অমর সন্যাসীর, সেই রহস্যময় হস্তীর , সেই ছায়াচ্ছন্ন অতীতের- যখন আমরা কেউ ছিলাম না । আমার কাছে এগুলোই গল্পের নিঃসৃত মধু ।
  • aranya | 172.118.16.5 (*) | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ০৪:১৯59356
  • বাঃ @শান্তনু
  • T | 165.69.191.250 (*) | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ০৪:৩১59357
  • গল্পটা খুবই ভালো লেগেছে। ঈশানদার পয়েন্টের এক্সটেনশন হচ্ছে যে, যদি সমর হাতিটাকে দেখত।
  • aranya | 83.197.98.233 (*) | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ০৪:৪৮59358
  • সমরের তো দেখার চোখ নেই
  • kumu | 192.69.66.64 (*) | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ০৫:০৩59359
  • এই গল্প পড়ে তার বর্ণনা দিতে যে উপযুক্ত বিশেষণ লাগে,তা আমার জানা নেই।
    অসাধারণ,অনির্বচনীয় ইত্যাদি সব কথামালাই কম,খুবি কম।
    আশ্চর্য-এইটুকুই বলার।
    "বল্লভপুরের হরিণের বন পেরিয়ে এক বিশাল গজরাজ আম্রকুঞ্জের দিকে ধাবিত । সে ঐরাবতের সর্বাঙ্গে অলংকরণ, পৃষ্ঠে সুসজ্জিত হাওদা।"-এর চেয়ে সুন্দর সমাপন ভাবতে পারছি না।
  • ঋক আর কিছুনা | 113.77.47.35 (*) | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ০৭:২১59365
  • বেশ লাগলো , হারিয়ে যাওয়া না যাওয়ার সাসপেন্স।
  • T | 165.69.191.250 (*) | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ০৯:১৬59360
  • অরণ্যদা, ঠিকই সমরের দেখার চোখ নেই। কিন্তু হোয়াট ইফ বাস্তবতা থেকেই যদি শুরুয়াদটা হয়। গল্পটা নিজস্ব ভাবে তৈরী হতেই তো পারে, নিজের খেয়ালে। লক্ষ্য করুন অহনাও কিন্তু সন্ন্যাসী দাদুর গল্প বিশ্বাস করত না। যদিও গল্পের ছবিটি সে ভালবাসত। গল্পটা কি করে গল্প হয়ে উঠল সে সম্পর্কে তার কৌতুহলও ছিল।

    জ্যোৎস্না রাতে ঐ ভাবে ঐরাবতের মন্থর আমি পেলে সটান সমরের চোখে দেখিয়ে দিতাম। সে নিছক একজন সাক্ষী বড়িলাল হিসেবেই না হয় দেখত। যা ত্তারা, হাতিটা এলো কোত্থেকে, আশেপাশের সার্কাস থেকে নাকি। আশ্চর্য! সারাগায়ে অলংকার, সুসজ্জিত হাওদা। কার অপেক্ষায় রয়েচে, এসব ভেবে ওর গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠত না বলছেন। এইরম আর কি। সমর যখন থেকে শুরু করবে, অহনা তখন মাইলযোজন এগিয়ে গেছে সেই পথে।

    একক হলে, হাতিটাকে তৈরী করত হিমের রাতে। গজেন্দ্র গমন এবং স্বগতোক্তি। সমরের দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছে। পেছু পেছু। প্রত্যেকের জীবনে থাকতেই হবে একটি না একটি হাতি ঘোড়ার গল্প। নিস্তার নেই কারও। ঃ)

    এইটা আমার পড়া ছোটাইদির সবথেকে সেরা গল্প।
  • i | 212.159.161.169 (*) | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ১১:১৩59361
  • বেশ লাগছে সবার কথাবার্তা শুনতে। এবারে অনেক নতুন পাঠক পেলাম। পাঠপ্রতিক্রিয়াও অনেকেই বিশদে লিখলেন-এটা বিরাআআআআট প্রাপ্তি।

    নিজের লেখা নিয়ে মানে লেখার সময় কী ভেবে কী লিখেছি সেই নিয়ে বিশেষ কিছু বলার মানে হয় না। এলেখা এখন আপনাদের।
    পরে কখনও দু চার কথা অন্যত্র বলব।

    তবে যদি মনে করি আমি লিখি নি এ লেখা, একটু দূরে দাঁড়িয়ে পাঠক হিসেবেই যদি দেখি-তবে সমরকে নিয়ে দুকথা বলি?
    সমরের দেখার চোখ যে নেই সেটা কি নিশ্চিত করে বলা যায়? সে সব দেখে, সব বোঝে, চোয়াল চেপে থাকে, চোরা ভয় আছে হারিয়ে ফেলার-এমনও হতে পারে তো? ছোটোমাসির হারিয়ে যাওয়ার কথায় সে অমন ভাবে রিঅ্যাক্ট করে কেন? কেমন করে হারিয়ে গেল জানতে চাইলে সে কেন বলে ওঠে-আমাদের হাতি ঘোড়ার গল্প নেই?
    এসবই পাঠকের স্পেস।
    একটা গল্প থেকে অজস্র গল্পের সম্ভাবনা...পাঠক লিখবেন এবার।

    ছোটাই।
  • Arpan | 212.172.247.110 (*) | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ১১:৫৪59362
  • ছোটাইদির লেখা সেরা টল্প। নিঃসন্দেহে। অভিনন্দন।

    খালি লাস্ট প্যারাটার লোভ কাটাতে পারলে অমরত্ব লাভ হত।

    অথবা যদি একটু অন্যভাবে, যেমন সমর সিগারেট কিনে বাড়ি ফেরার পথে সেই অলঙ্কৃত ঐরাবতকে দেখতে পেল।
  • Ishan | 180.202.222.2 (*) | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ১২:২১59348
  • খুবই ভাল্লাগলো। খুবই। তবে গপ্পো একটা অন্যরকম শেষ চাইছিল। সে দাবী লেখিকা মানেন নাই। :-)
  • Ishan | 180.202.222.2 (*) | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ১২:৫৩59349
  • ওহো কী বললাম, ব্যাখ্যা করে দেওয়া দরকার। গপ্পোটা শুরু হয়েছে "ফুলশয্যার রাত অবধি অহনার ধারণা ছিল, সব বাড়িরই নিজস্ব কিছু পুরোনো গল্প আছে", এই দিয়ে। তারপর নানা হারিয়ে যাবার গপ্পো। সমরের বাড়ির গল্পের অভাবের গল্প। গল্পের অভাব? নাকি ট্রাঙ্কে লুকোনো গোপন লাশ? মানুষের বা গপ্পের?

    গপ্পের ভিতরে সাসপেন্স তৈরি হয়, এই জায়গা থেকেই। গপ্পের অভাব কীভাবে মিটবে, এই নিয়ে সাসপেন্স। কম্পোজিশনের জন্য গপ্পের অভাব এখানে মিটতে বাধ্য। অহনাকে গপ্পো হতেই হবে। গপ্পোকে ফিরে যেতেই হবে হিরণ্যপ্রভা আর সন্নাসীদাদুর কাছে।

    অর্থাৎ কাহিনীর দাবী, তা সিমেট্রিক হবে। পাঠক সাসপেন্সে টইটুম্বুর হয়ে অপেক্ষা করতে থাকে সিমেট্রির ডিজাইনের জন্য। অহনা কি আকাশে উড়ে যাবে? ধূপের ধোঁয়ায় মিশে যাবে? ওই ব্রাহ্ম নাটমন্দিরে প্রদীপের আগুন তার আঁচলে ধরে যাবে? (একক হলে এইটা শিওর লিখত)। নাকি সমরের থোঁতা মুখ ভোঁতা করে স্রেফ নিখোঁজ হয়ে যাবে?

    কী হয় ঠিকঠাক জানা যায়না। লেখিকা ওটা বলতে চাননা। কিন্তু শেষমেশ নিখোঁজই হয় অহনা। তারও জন্য আসে গজরাজ। সে ঐরাবতের সর্বাঙ্গে অলংকরণ, পৃষ্ঠে সুসজ্জিত হাওদা। গপ্পো ফিরে যায় আবার শুরুতে।

    এ হল ভবিতব্য। অহনার নয়, গপ্পের। সুসমঞ্জস গপ্পে যেমন হয়। সমরের উপর প্রতিশোধ নেওয়া হয়ে যায়। গপ্পো দিয়ে শুরু হয়েছিল এ গপ্পো, আরও একটি মিথের জন্ম দিয়ে তার শেষও হয়। এসবই একদম যথাযথ, মাপেমাপ। কেবল, একটা খোলা সুতো কোথাও পৌঁছয়না। সমরের বাড়ির গপ্পের অভাব, যেখান থেকে সাসপেন্সের শুরু, সেটাকে অ্যাড্রেস করা হয়না। যদিও সেটাই ছিল গপ্পের দাবী। কাহিনীর ইনকিলাব জিন্দাবাদ। "সমরের বাড়িতেও এবার নিশ্চয়ই নিজস্ব গল্প হবে। --গপ্পোটি অমোঘভাবে চাইছিল, এই ধরণের এক বাক্যের এক উপসংহার। লেখিকা সেই দাবী ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাতে ভালো হল না মন্দ, সে বলা মুশকিল। কিন্তু গপ্পো চাইছিল, এরকম বলা যেতে পারে।
  • Titir | 138.210.106.129 (*) | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ০২:০৯59368
  • বড় ভালো লাগল।
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • পাতা :
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খেলতে খেলতে মতামত দিন