এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • দোলজ‍্যোৎস্নায় শুশুনিয়া‌য় - ১

    সমরেশ মুখার্জী লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ০৭ এপ্রিল ২০২৪ | ১৪১৭ বার পঠিত
  • প্রাককথন:

    ৮৪ সালে দোলের সময় যাদবপুরের কয়েকটি ছাত্রছাত্রী গেছিল শুশুনিয়া পাহাড়ে শৈলারোহণ অভ‍্যাস করতে। সেই তিনদিনের অভিজ্ঞতা‌র অনুরণন এই কাহিনীর জনক। তবে সমস্ত কথোপকথন নির্মিত। কারণ ঘটনা‌প্রবাহ স্মৃতি‌তে আজ‌ও অম্লান - তবে চারদশক আগের কথাবার্তা মনে থাকার কথা নয়। চরিত্র‌গুলি‌‌ এখানে চিত্রিত হয়েছে বাস্তবে‌র আদলে কিন্তু কল্পনার মিশেলে। তাই নামগুলি‌ও বদলে দেওয়া হয়েছে। ফলে তাদের কেউ এ লেখা পড়লে মনে হবে চরিত্রগুলি অন‍্য এবং অচেনা। কিছু পরিস্থিতি চিত্রিত হয়েছে দুধে-জলে। কিছু পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নির্মিত। যেমন সুমন, ঈশিতা, তিলোত্তমা ও চন্দ্রিমা‌র মধ‍্যে প্রথম ও দ্বিতীয় রাতের দীর্ঘ আলোচনা। দ্বিতীয়‌দিন সকালে শুশুনিয়ার ওপরে রকসাইটে গিয়ে রক ক্লাইম্বিং প্র‍্যাকটিস শুরুর আগে ভূমিকা হিসেবে অমিয়দা‌র বক্তব্য, ডেমো - তাও কাল্পনিক। এসব রেখেছি আমার প্রিয় এই আউটডোর আ্যাক্টিভিটি‌কে শব্দের কায়ায় ধরে রাখতে। প্রাককথন সমাপ্ত। এবার পাঠক চাইলে যেতে পারে‌ন বাস্তব প্রেক্ষাপটে একটি কল্প-ভ্রমণে।


    সুমনের প্রেক্ষাপট

    সুমনের ইচ্ছে ছিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার। তাই ৭৮এ উচ্চমাধ্যমিক দিয়ে‌ কিছুদিন পর জয়েন্ট দিয়েছিল। কিন্তু জয়েন্ট ক্লিয়ার করতে যে বিশেষ প্রস্তুতি প্রয়োজন, বোর্ডের পড়াশোনা‌র ভিত্তি‌তে যে তা সম্ভব নয়, এ ধারণা‌ ওর ছিল না। প্রাইভেট টিউটর নেই, কোনো কোচিং ক্লাসেও ভর্তি হয়নি, স্কুলে‌ও নিয়মিত যেতো না। ফলে যা হ‌ওয়া‌র তাই হোলো - নিজে পড়ে জয়েন্ট ক্লিয়ার করার মতো মেধাবী ও নয়। কানের পাশ দিয়ে‌ বেরিয়ে গেল জয়েন্টের তীর।

    যাদবপুর চত্বরে‌‌ আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় পলিটেকনিক। তিনটি বিভাগের প্রতিটি‌তে ৬০টি সীট। তাতে‌ও ছিল প্রবেশিকা পরীক্ষা। কিন্তু সে পরীক্ষায় পাশের তালিকায় সুমনের নাম দেখা গেল সাতাশ নম্বরে। সেখানে‌ই ভর্তি হয়ে গেলো সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে ডিপ্লোমা কোর্সে। তখন সেটাও ছিল চার বছরের। ৮২তে পাশ করে একটি নামী ইঞ্জিনিয়ারিং সংস্থা‌য় চাকরি নিয়ে চলে গেল ভাইজ‍্যাগ স্টিল প্ল‍্যান্ট নির্মাণ প্রকল্পে‌। কিছু কারণবশত সাতমাস বাদে ও সে চাকরি ছেড়ে কলকাতা‌য় চলে এলো। কোনো চাকরি না নিয়েই। ইচ্ছা যাদবপুরে সান্ধ‍্য বিভাগে পাঁচ বছরের ডিগ্ৰি কোর্সে পড়বে। তার জন‍্য‌ও প্রবেশিকা পরীক্ষা দিতে হবে।

    তখন পশ্চিমবঙ্গে ২৪টি সরকারি পলিটেকনিকে সিভিল, ইলেকট্রিকাল, মেকানিক্যাল এই তিনটি বিভাগের প্রতিটিতে বছরে প্রায় (২৪x৬০) ১৪০০ ছাত্র ভর্তি হোতো। কিন্তু যাদবপুরে সান্ধ‍্যবিভাগে ঐ তিনটি শাখার প্রতিটি‌তে সীট ছিল মাত্র ৩০টি। কোনো এজ লিমিট নেই। চাইলে দশ বছর আগে ডিপ্লোমা পাশ করে কর্মরত ইঞ্জিনিয়ার‌ও প্রবেশিকা পরীক্ষায় বসতে পারে। সুমনদের ব‍্যাচেই ছিল তেমন দুজন - দশ ও পনের বছর আগে পাশ‌আ‌উট। এতোদিন পরে এন্ট্রান্স টেস্ট দিয়ে সান্ধ‍্যবিভাগে পাঁচ বছরের জন‍্য ডিগ্ৰি পড়তে আসা - সহজ কাজ নয়।

    সাড়ে বাইশে সাতমাস বাদে ভাইজ‍্যাগ থেকে হাওড়ায় ফিরতে পাড়া‌য় বন্ধুদের আড্ডা সুমনকে নিশির মতো ডাকে। কিন্তু পরীক্ষার বাকি মোটে একমাস। সুমন এসেছে একটা সংকল্প নিয়ে। তাই আড্ডা‌র আকর্ষণ ছেড়ে সুমন সেই একমাস স্বেচ্ছায় ঘরবন্দি হয়ে আদাজল খেয়ে লাগলো। ফল‌ও পেলো হাতে নাতে। সেবার উত্তীর্ণদের তালিকায় সুমনের নাম ছিল চতুর্থ স্থানে।

    যাদবপুরে সান্ধ‍্য‌বিভাগে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার প্রাথমিক শর্ত ছিল দিনে কোথাও চাকরি করতে হবে। অর্থাৎ কোর্সটি ছিল কেবলমাত্র কর্মরত ডিপ্লোমা ইঞ্জিয়ারদের জন‍্য। নটা পাঁচটা সাইটে কাজ করে সপ্তাহে পাঁচ দিন সন্ধ‍্যা ছটা থেকে নটা ক্লাস করতে হোতো। তাই জয়েন্ট দিয়ে সরাসরি দিনের বেলায় পড়তে আসা ছাত্রছাত্রীদের সাথে কর্মরত ছাত্র সুমনের জীবন‌যাত্রায় তফাৎ ছিল। পড়াশোনা‌র সাথে বা ক্লাস কেটে ক‍্যান্টিনে, লেকের ধারে আড্ডা মারার ইচ্ছা বা অবকাশ ওর ছিল না। তাছাড়া সুমন খুব সিলেক্টিভ। ওর পছন্দের বন্ধুসংখ‍্যা তিন আঙ্গুলের রেখা‌তেই শেষ। সপ্তাহে পাঁচ দিন কাজ ও ক্লাসের চাপে ক্লান্ত সুমন মন চাঙ্গা করতে শনি, রবিবার পাড়ার কয়েকজন বন্ধুদের সাথে জমি‌য়ে আড্ডা দিতো। কখনো চলে যেতো এক প্রিয় বান্ধবী‌র সান্নিধ্যে - কেতকী।

    মাঠায় রকেখড়ি

    যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক‍্যাম্পাসে একটি পর্বতারোহণ ক্লাব ছিল JUMAHC (Jadavpur University Mountaineering And Hiking Club). সেখানে কয়েকবার গিয়ে সুমনের ভালো লাগলো। ট্রেকিং, শৈলারোহন এসব তখন ওর কাছে অজানা বিষয়। শুনলো জানুয়ারিতে ১১ থেকে ১৪ পুরুলিয়ার মাঠা পাহাড়ে হবে শৈলারোহন শিবির। দলনেতা যাদবপুরে‌র‌‌ই সিনিয়র মৈনাক বসু। শৈলারোহন বা পর্বতারোহণ নিয়ে বেশীদুর এগোতে না পারলেও সেই কোর্সের অভিজ্ঞতা ছিল সুমনের পরবর্তীকালে পাহাড় প্রকৃতির মেদুর মোহে জড়িয়ে পড়ার আঁতুড়ঘর।

    মাঠা টপে নাইট আউটে কাঠের আগুন ঘিরে ওরা গোল হয়ে বসেছে। মৈনাকদা Mountain Manners ওপর বলতে গিয়ে একটা কথা বললেন - "while at nature's lap, leave nothing but footprints, take nothing but photographs, bring nothing but memories."

    ওটা প্রকৃতিপ্রেমী মহলে একটি বেদবাক‍্য। কে, কবে, কোথায় বলেছিলেন জানা যায় না। লোকগাথার মতো চলে আসছে। সেই বাক‍্যের সারাৎসার সুমনের মনে গেঁথে যায়। সেই থেকে প্লাস্টিক, জঞ্জাল ও আর যত্রতত্র ফেলতে পারেনা। পাহাড়, প্রকৃতি‌তে তো নয়‌ই, শহরেও নয়।


    জেঠু‌র উদ্ভব

    সেই কোর্সের গোটা তিরিশেক ছেলেমেয়েদের সবাই ছিল সরাসরি জয়েন্ট দিয়ে চান্স পাওয়া মেধাবী ছাত্র ছাত্রী। একমাত্র সুমন‌ই ডিপ্লোমা করে সান্ধ‍্য‌বিভাগে ডিগ্ৰি পড়তে এসেছে। তবে মেধার সাথে সংবেদনশীল‌তা, সামাজিক দায়িত্ব‌বোধ (civic sense) এসবের সম্পর্ক সমানুপাতিক নয়। তাই দলনেতা‌র সেই কথাটি সবার মনে সমান রেখাপাত করেনি।

    পরদিন‌ই নীচে পথের ধারে কাউকে চুয়িং গাম বা লজেন্সের র‍্যাপার, সিগারেটের প‍্যাকেট ফেলতে দেখে সুমন তা কুড়িয়ে ক‍্যাম্পে এনে আগুনে ফ‍্যালে। একে তো ওদের থেকে বয়সে তিন চার বছরের বড় তায় ঐ নির্দেশ‌টি অত‍্যন্ত সিরিয়াসলি নেওয়ার ফলে ওরা সুমনের নাম দিল জেঠু। ওর জ‍্যাঠামির জন‍্য। তবে সেই নামকরণের পিছনে কোনো শ্লেষ ছিল না। ছিল নিজেদের বহুদিনের স্বভাব‌জাত অক্ষমতা‌র প্রেক্ষিতে সুমনের দলনেতা‌র নির্দেশ পালনের নিষ্ঠার প্রতি সমীহ। সাথে অবশ‍্য‌ই ভালো লাগা‌‌।

    জানুয়ারিতে সেই কোর্সের পরে সুমন ওদের কয়েকজনের সাথে মাঠাতে একটা প্র‍্যাক্টিসে যায়। দ্বিতীয় প্র‍্যাক্টিসটা ঠিক হয় দোলের সময় শুশুনিয়াতে। দিনের বেলা‌য় ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া ছেলেমেয়েরা‌ই সেটা ঠিক করে সুমনকে বলে, "জেঠু তুই যাবি তো?" বেড়ানোর নামে সুমন চিরকাল এক পায়ে খাড়া। তাছাড়া দুবার দেখে ওদের সঙ্গ‌ও ভালো লেগেছে। ওদের‌ও সুমনের খোলামেলা স্বভাব, প্রাণোচ্ছল‌তা, হাজির জবাব চুটকি এসব ভালো লাগতো। তাই একসাথে না পড়লেও ওরা সুমনকে প্র‍্যাক্টিসে ডাকতো।

    আ মরি আ-চক্র প‍্যাসেঞ্জার

    তখন নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি‌র মধ‍্যে কলকাতা ও শহরতলীর অনেক রক ক্লাইম্বিং ক্লাব তাদের বার্ষিক শৈলারোহণ শিবির আয়োজন ক‍রতো শুশুনিয়া, মাঠা, জয়চন্ডী পাহাড়ে। মাঝে মাঝে ছেলেমেয়েরা নিজেদের মধ‍্যে ছোট ছোট দলে প্র‍্যাক্টিসে‌ যেতো। হাওড়া-আদ্রা-চক্রধরপুর প‍্যাসেঞ্জার ট্রেনটা রাতে হাওড়া থেকে ছেড়ে পরদিন সকালে পৌঁছতো ছাতনা (শুশুনিয়া), আদ্রা (জয়চন্ডী) বা বরাভূম (মাঠা)। ফলে অনেকে‌র পছন্দের ট্রেন ছিল এটি। তখন ঐ ট্রেনে কোনো স্লীপার বা এসি কোচ‌ থাকতো না। তাই হাওড়ায় ট্রেন লাগলে ওরা জেনারেল ডাব্বায় হুড়োহুড়ি করে উঠে পড়তো। সীট পেলে ভালো নয়তো মেঝেতে বসে গজালি করতে করতে‌ই চলে যেতো।

    ঐ বয়েসে সামান্য কারণে হাসি পায়। দলে থাকলে তা দ্রুত বিস্তারিত হয়। পাহাড়ে যাওয়া মেয়েরা‌ও লবঙ্গ‌লতিকা গোছের নয়। কেউ কেউ রীতিমতো গেছো টাইপের। ফলে ছেলেদের মোটা গলায় হ‍্যা-হ‍্যা ও মেয়েদের তীক্ষ্ণ গলায় খিঁ-খিঁ হাসির সম্মিলিত শব্দতরঙ্গ কখনো ট্রেনের আওয়াজের সাথে পাল্লা দিতো। তবু নিত‍্যযাত্রীরা ঐ হৈ-হুল্লোরে খুব যে বিরক্ত হোতো তা মনে হোতো না। একদল দামাল ছেলেমেয়েদের যৌবনোচ্ছল উচ্ছাসে রেল কামরায় রাতের শান্তি বিঘ্নিত হলেও হয়তো ফেলে আসা দিনগুলো‌র কথা মনে করে‌ই তারা ওটুকু উৎপাত মেনে নিতো। ঐ তো শীতের কটা মাস ওরা যায় পরিযায়ী পাখিদের মতো। তারপর তো যে কে সেই।


    শয়নং যত্রতত্র

    সেবার যাওয়ার দিন চাকরিসূত্রে সুমনকে বেশ ঘোরাঘুরি করতে হয়েছে। তাই ট্রেনে উঠে একটু গল্পগুজবের পর ও বলে, "কিছু মনে করিস না তোরা, আমার খুব টায়ার্ড লাগছে, এবার আমি একটু বডি ফেলবো। ছাতনা তো সাতসকালে‌ই এসে যাবে, একটু রেস্ট দরকার।"

    তুলি অবাক হয়ে বলে, "এখানে তুই কোথায় শুবি?"

    তুলির দোষ নেই। ওপরে মাল রাখার বাঙ্কে দুজন করে চারজন নিত‍্যযাত্রী শুয়ে আছে। নীচের সীটে সবাই ঠেসাঠেসি করে বসে। শোবার প্রশ্ন‌ই আসে না। তিনজন ইন্সট্রাক্টর পাশের খোপে।

    "শুধু দেখে যা‌ও মামণি", বলে সুমন প্রথমে ভালো করে দুই কানে তুলো গোঁজে। সবাই আড্ডা থামিয়ে ওকে দেখতে থাকে। দুদিকের টানা সীটে মুখোমুখি বসা তুলি, চুনি ও ঈশু‌কে বলে, "তোমাদের চরণকমল‌গুলো একটু তোলো তো মহারাণী‌রা।" পা তুলে সীটে বাবু হয়ে বসার জায়গা নেই। ওরা পাগুলো সেতুর মতো এদিক থেকে ওদিকে‌র সীটে লম্বা করে রাখে। স‍্যাক থেকে প্লাস্টিক শীট বার করে তার দুটো প্রান্ত দুদিকের সীটের তলায় আড়াআড়ি মেঝেতে পেতে তার ওপর পাতলা ফোম ম‍্যাট পেতে তাতে বডি ফ‍্যালে সুমন।

    সুমন পাঁচ দশ। ওর মাথা ও বুকের কিছুটা একদিকের সীটের তলায় আর পা থেকে হাঁটুর ওপর অবধি উল্টোদিকের সীটের তলায় ঢুকে যায়। কিছুটা বুক ও পুরোটা পেটের অংশ দুটো সীটের মাঝে বেরিয়ে থাকে। কানে তুলো গুঁজেছে যাতে আরশোলা বা পিঁপড়ে না ঢুকে যায়। চোখে রুমাল বাঁধে আলো আটকাতে। হাওয়া ভরে আয়েশ করে সীটের তলায় বালিশে মাথা রেখে সুমন বলে "এবার মা লক্ষ্মী‌রা আপনাদের শ্রীচরণগুলো নামাতে পারেন, তবে একটু সাবধানে। মাকালীর মতো বুকে তুলে দিয়েন না যেন। এবার তোরা গ‍্যাঁজা, আমি একটু ঝপকি নেওয়ার চেষ্টা করি"।

    তুলি বলে ওঠে, "আরে বাঃ, দারুণ আইডিয়া লাগালি তো! সাধে কী আর তোকে আমরা জেঠু বলি।"
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ব্লগ | ০৭ এপ্রিল ২০২৪ | ১৪১৭ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Arindam Basu | ০৮ এপ্রিল ২০২৪ ০৩:৪৩530363
  • এই লেখাটা পড়তে গিয়ে একটা কথা মনে হল।
    এই ধরণের যাত্রার একটা বিশাল সদর্থক দিক হচ্ছে মানুষকে প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে তোলে।
    এই যে "take only photographs, leave only footprints" এর যে মন্ত্র, এইটা খুব ছোট বয়স থেকে যদি শিশুদের মনের মধ্যে শেখানো যায়, তাহলে শুধু ট্রেক নয়, জীবনের চলার পথে এ এক পাথেয়।
    খুব অল্প বয়স থেকে যদি এই ধরণের পর্বতারোহণেতর ক্যাম্প ইত্যাদির একটা সংস্কৃতি গড়ে তোলা যায়, তাহলে আর কিছু না হোক, প্রাকৃতিক এবং সামাজিক পরিবেশ সুস্থ থাকতে পারে, এক ধরণের সামাজিক সচেতনতার উন্মেষ হয়।
    পৃথিবীতে আরো অনেক "সুমনের" প্রয়োজন আছে।
  • মন্তব্যকারী | 2601:*:*:*:*:*:*:* | ০৮ এপ্রিল ২০২৪ ০৪:২২530364
  • চেনা স্লোগান, তবে আমাদের ক্যাম্পে একটা এক্সট্রা ফ্রেজ় ছিলো। তার অবশ্য কারণ-ও ছিলো।
     
    "Leave nothing but footprints; take nothing but photographs; kill nothing but time"
     
    আচ্ছা, কুতূহল, লেখক-ই কি সুমন ওরফে জেঠু?
  • সমরেশ মুখার্জী | ০৮ এপ্রিল ২০২৪ ১১:৪৪530374
  • @ অরিনবাবু,

    আপনার উল্লেখিত বিষয়টি আমার হৃদয়ের খুব কাছাকাছি। গুরেতে তা নিয়ে পোষ্ট করেছি “আশা জাগালো গৃহবধূ এবং সাপ” এবং তার একটি উপসংহার।
    আমার মনে হয় ছেলেমেয়েদের কিছু সিভিক সেন্সের শিক্ষা, প্রকৃতি প্রেমের দীক্ষা বাবামায়েরাই তাদের ছোট থেকে দিতে পারেন যখন তারা থাকে কাদার তাল। বড় হয়ে মল, ব্র‍্যান্ড, ট্রেন্ড কালচারে অভ‍্যস্ত হয়ে গেলে তখন সদুপদেশ কাজ করে না।

    আমাদের একটি‌ই ছেলে। সৌভাগ্য‌বশত সে অনেকটা মায়ের ধাত পেয়েছে - শান্ত, সমাহিত স্বভাব। ছোট থেকে তাকে অনেকবার প্রকৃতির কাছাকাছি নিয়ে গেছি। শিখিয়েছি কিছু উচিত অনুচিত বোধ। তাই কোনোদিন সে দোল খেলে রঙিন পাঞ্জা‌র ছাপ মারেনি লিফটের দেওয়ালে, রাত দশটায় আচমকা চকোলেট বোম ফাটায়নি, যেখানে সেখানে জঞ্জাল ফেলে নি, বাড়িতে এবং পাবলিক প্লেসে ফোনে নীচু গলায় কথা বলে, কখনো পূরাতাত্বিক সৌধের গায়ে আঁচড় কাটেনি বা গাছের ফুল তোলে নি। ভবিষ্যতে‌‌ও করবে বলে মনে হয় না।

    ওর শিক্ষা ও পেশাগত পথ আমার থেকে আলাদা। তবে পিতা হিসেবে কিছু বেসিক ব‍্যাপার ছোট থেকে ওর মনে গেঁথে দিতে পেরেছি বলে আমার স্থির বিশ্বাস।
     
  • সমরেশ মুখার্জী | ০৮ এপ্রিল ২০২৪ ২০:১৬530383
  • “লেখক-ই কি সুমন ওরফে জেঠু?”

    এ লেখার সব চরিত্র বাস্তব তাই সব নাম‌ কাল্পনিক। বিখ‍্যাত পাবলিক ফিগারের উল্লেখ ছাড়া আমি স্মৃতি‌চারণমূলক রচনায় বাস্তব চরিত্রে‌র প্রকৃত নাম বদলে দিই - তাদের প্রাইভেসিকে সম্মান জানাতে। মনের মাধুরী মিশিয়ে কিছু চরিত্রে যোগ করেছি কিছু বৈশিষ্ট্য, বদলে দিয়েছি কিছু প্রেক্ষাপট। তাই এ লেখা Crafted Reality - কথাসাহিত্যধর্মী। লিখেছি চল্লিশ বছর আগের ঘটনা। জীবনের নানা ব‍্যস্ততায় চল্লিশ বছর আগে তিনদিনের একটি আউটিংয়ের স্মৃতি অনেকের মনেই ধূসর পাণ্ডুলিপি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা।

    স্মৃতি‌চারণমূলক রচনায় লেখক‌ প্রোটাগনিস্ট হয়ে পড়েন - সজ্ঞানে বা অজান্তেই। তবে প্রথম পুরুষে স্বনাম ব‍্যবহার করে এবং উত্তম পুরুষে 'আমি, আমার' করে লিখতে স্বচ্ছন্দ লাগে না। তাই নিজেকে‌ও উল্লেখ করেছি সুমন হিসেবে। তাতে সত‍্যবদ্ধার দায় থাকে না। যোগ করা যায় কিছু অভিলাষ। অত‌এব এখানে লেখক = সুমন = জেঠু।
     
    @অমিতাভ,
     
    সঙ্গে থাকতে পারলে ভেসে যেতে পারে‌ন শুশুনিয়া‌র পটভূমিতে এক বিস্তৃত কল্প ভ্রমণে।
     
    @ অরিনবাবু
     
    "খুব অল্প বয়স থেকে যদি এই ধরণের পর্বতারোহণেতর ক্যাম্প ইত্যাদির একটা সংস্কৃতি গড়ে তোলা যায়, ..." - সঙ্গে থাকলে বসুদম্পতির সাথে পরিচয় হয়ে ভালো লাগবে।
  • অরিন | 119.*.*.* | ০৯ এপ্রিল ২০২৪ ০০:২৮530390
  • সমরেশ বাবু, আমরা এমন একটি দেশে ও অঞ্চলে বসবাস করি যেখানে লোকসংখ্যা কম, তুলনায় প্রাকৃতিক সম্পদ অধিক, এবং কায়িক পরিশ্রম, পাহাড় নদী জঙ্গল সমুদ্রে ঘুরে বেড়ানো ক্যাম্পিং জনজীবনের অঙ্গ। এগুলো হলে যা হয়, স্বাভাবিকভাবেই মানুষে মানুষের মধ্যে একটা টিম স্পিরিট তৈরী হয়। স্কুল কলেজগুলোও সেভাবেই ওরিয়েনটেড।
  • Nupur Raychaudhuri | ১৩ এপ্রিল ২০২৪ ০১:০৫530528
  • ভালো লাগছে
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যুদ্ধ চেয়ে মতামত দিন