• হরিদাস পাল  ব্লগ

  • বসন্ত বিলাস

    অনিকেত পথিক লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ০১ মার্চ ২০১৬ | ৪৩৫ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • একপশলা বর্ষণের পর বসন্ত পূর্ণোদ্যমে রঙিন বেশে অবতীর্ণ হইয়াছে। পর্ণমোচী বৃক্ষগুলিতে যে কয়টি পত্র অবশিষ্ট ছিল তাহারা শাখাচ্যুত হইয়াছে; নিস্পত্র শাখাসমূহ আকাশের দিকে হাত তুলিয়া যেন নবযৌবনের প্রার্থনা জানাইতেছে। উহাদের প্রার্থনা পূর্ণ হইবার আয়োজনও প্রায় সম্পন্ন; কিছু কিছু শাখায় ইতোমধ্যেই নবীন পত্রসম্ভার। চিরহরিৎ বৃক্ষগুলির পত্ররাজিও এই অকালবর্ষণে ধুইয়া উজ্জ্বল বর্ণ ধারণ করিয়াছে। কৃষিক্ষেত্রে নবীন ধান্যচারা অতি মনোরম শ্যামল মখমলের ন্যায় বিস্তৃত, সজিনা শাখায় ফুল ও দন্ডবৎ ডাঁটার সমাবেশ, আম্রশাখাসমূহে তাম্রবর্ণের নবীন পল্লবসম্ভার ও হরিদ্রাভ মুকুলের সজ্জা মিলিয়া যে অপূর্ব দৃশ্যের সৃষ্টি করিয়াছে, বৎসরে এই একবারই তাহার দর্শন মিলে। সেই সঙ্গে লেবুগাছে শ্বেত পুস্পের উদ্ভাস, যাহারা রূপে তেমন না ভুলাইলেও ঘ্রাণে নিশ্চিৎ ভুলাইতে পারে।
    বায়স দম্পতি এই বৎসর তাহাদের গৃহনির্মাণ প্রকল্প কিঞ্চিৎ দ্রুতই শুরু করিয়াছে। ইতোমধ্যেই নিস্পত্র বৃক্ষশাখায় তাহাদের অবিন্যস্ত পক্ষীবাস দৃশ্যমান হয়, এবং তাহাদের বসিয়া থাকতেও দেখা যায়। তবে কোকিলের ন্যায় শিল্পী পক্ষী কি রূপে এই শিল্পবোধহীন, স্বাস্থ্যবিধি উদাসীন পক্ষীর উপর আপন ডিম্ব ও শিশু সন্তানদের ভার অর্পণ করিয়া নিশ্চিন্ত থাকিতে পারে, তাহা ভাবিলে আবাক হইতে হয়।
    এই বৎসর শ্রীমান পলাশের দর্শন পাওয়া গেল না, হঠাৎ মাত্রাতিরিক্ত উষ্ণতায় আশঙ্কিত ও বিভ্রান্ত হইয়া সে যে পলায়ন করিয়াছে আর প্রত্যাবর্তন করিবে বলিয়া মনে হয় না। কিছু দেরী তে হইলেও শিমূল ও কাঞ্চন তাহাদের স্ব স্ব বর্ণে ও মহিমায় আবির্ভূত হইয়াছে। কলকাতার লবণহ্রদ অঞ্চলে এক একটি গুল্ম শাখায় উজ্জ্বল স্বর্ণালী পুস্পরাজির দর্শন মিলিতেছে। উহাদের নাম না জানার দরুন আমি স্বয়ং উহাদের নামকরণ করিয়াছি কনকাঞ্জলি। ইহা ব্যতীত কুন্দ কামিনী করবী রঙ্গন, দুই চারিটি স্থলপদ্ম ও শিউলিকেও যথাস্থানে দেখিতে পাইয়াছি। দক্ষিণের বারান্দায় যে অপরাজিতার লতা উঠিয়াছিল তাহাতে নীল ফুল আসিয়াছে। বড় মনোরম। আর ফটকের উপরে যে বোগেনভেলিয়ার ঝাড় তাহাও সাদা-গোলাপী পুস্পে রঙের আলোড়ন তুলিয়াছে। বাতায়নের ঠিক নিম্নে উদ্যানের যে অংশ বিশেষ দৃশ্যমান হয় না, সেখানে অনাদরে যে হাসনুহানার চারা জন্মিয়াছিল, তাহা রাত্রে তীব্র সুবাসে আবিষ্ট করিয়া রাখে।
    রাত্রি থাকিতেই কোকিল দম্পতি তাহাদের সঙ্গীত সাধনা শুরু করিয়া দেয়। সম্মুখের পুস্করিনী সংলগ্ন জলা হইতে ডাহুকের বিচিত্র সঙ্গতে তাহা অন্যরকম মাত্রা পায়। অন্যন্য পক্ষীকূলও ধীরে ধীরে তাহাতে যোগদান করে, সমগ্র দিগন্তরেখা জুড়িয়া প্রাণের যে হিল্লোল বহিতে থাকে আমি আমার শয্যার ক্ষুদ্র পরিসরে অর্ধঘুমন্ত অবস্থায় তাহাকে অনুভব করিতে পারি। শয্যা ত্যাগ করিয়া দক্ষিণের বারান্দায় আসিয়া উষাকালীন প্রকৃতির সহিত সাক্ষাতের মধ্য দিয়া আমার বসন্ত বন্দনা শুরু হইয়া যায়।
  • বিভাগ : ব্লগ | ০১ মার্চ ২০১৬ | ৪৩৫ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন গ্রাহক পুনঃপ্রচার
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • utpal mitra | 212.191.212.178 (*) | ০১ মার্চ ২০১৬ ১২:২৭56621
  • খুব ভালো
  • kiki | 113.238.241.35 (*) | ০২ মার্চ ২০১৬ ০৪:৩৬56622
  • ঃ)

    আমার কেবল আকাশমনি আর রঙ্গন ফুটেছে। মাঝে মাঝে অপুষ্ট দু একটা গোলাপ দেখা যাচ্ছে। কাগজফুল গাছেও (সে আবার টবে বলেই কিনা কে জানে , বড় ও হয় না) কয়েকটা ফুল আছে। কিন্তু জেমসলঙ থেকে সবুজ ও উধাও। রঙ ও উধাও। ঃ(
  • avi | 113.252.164.239 (*) | ০৩ মার্চ ২০১৬ ০৬:৫০56623
  • জানুয়ারির শেষে জব্বলপুর থেকে কলকাতা ফিরছি, শক্তিপুঞ্জ এক্সপ্রেসে। সে এক দারুণ ট্রেন। রোববার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল অব্দি। সোমবার সারাদিন বসে আছি। টু এসি কম্পার্টমেন্ট পুরো ফাঁকা। ট্রেন একটু এগোয়, দাঁড়িয়ে যায়, আমরা চারপাশের পাহাড়, গাছ দেখি, আবার এগোয়। ওটাই স্কেজ্যুল্ড টাইম, লেট হয় না। ডাল্টনগঞ্জ আসার আগে থেকে দেখি আশেপাশে সব পাহাড়ে ৯০ ভাগ পলাশ গাছ। এবং সারাদিন শুধু পলাশ গাছ দেখে গেলাম বেশিরভাগ সময়। খুব, খুব ইচ্ছে করছিল বসন্তে একবার আসার জন্য। এবারের বসন্ত তো পেরিয়ে গেল। পরেরবার যাবোই, লালপাহাড়ীর দেশে। দেখব, চলমান পাহাড়ে কেমন আগুন লেগে যায়।
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লাজুক না হয়ে প্রতিক্রিয়া দিন