• হরিদাস পাল
  • খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে... (হরিদাস পাল কী?)
  • আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার চাই...

    Muhammad Sadequzzaman Sharif
    বিভাগ : ব্লগ | ০৭ অক্টোবর ২০১৯ | ৫৫ বার পঠিত
  • দেশের সবচেয়ে মেধাবীরা বুয়েটে পড়ার সুযোগ পায়। দেশের সবচেয়ে ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিঃসন্দেহে বুয়েট। সেই প্রতিষ্ঠানের একজন ছাত্রকে শিবির সন্দেহে পিটিয়ে মেরে ফেলল কিছু বরাহ নন্দন! কাওকে পিটিয়ে মেরে ফেলা কি খুব সহজ কাজ? কতটুকু জোরে মারতে হয়? একজন মানুষ পারে আরেকজন মানুষকে কিছু দিয়ে আঘাত দিয়ে দিয়ে মেরে ফেলতে? এত নীচ মানুষ হয় কীভাবে? মানুষ না সৃষ্টির সেরা জীব বলে গর্ব করে?

    আবরার ভারতের সাথে নতুন পানি চুক্তি নিয়ে ফেসবুকে কিছু লিখেছে, এই কারনে তাকে শিবির সন্দেহে মহান ছাত্রলীগের সুমহান ছাত্ররা তাকে জেরে করে, এবং জেরার জের হিসেবে আবরার মারা গেছে। কী দারুণ সংবাদ! কী দারুণ দায়িত্ব পালন করেছে ছাত্রলীগ। ঠিক কোন দিকে এগুচ্ছি আমরা? বা এখন কোথায় বাস করছি বোঝা যায়? কাওকে শিবির বলে পিটিয়ে মেরে ফেলা যায় এই দেশে। কেউ একটা কাজ করেই ফেলতে পারে, বুঝে না বুঝে। কিন্তু অশনিসংকেত হচ্ছে যারা এই কাজ করেছে তারা এবং তাদের আশেপাশের আরও এমন শত শত, হাজার হাজার মানুষ তৈরি হয়ে আছে যারা মনে করছে এই কাজ করা যায়, যারা সত্যই ভাবে কাওকে শিবির বলে, জামাত বলে পিটিয়ে মেরে ফেললে পার পাওয়া যাবে, এইটা এই দেশে জায়েজ। এরচেয়ে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি আর কী হতে পারে? আরে, শিবিরের যে বাপ মা, সেই নিজামি, কামরুজ্জামানকেও তো সরকার আইনে মাধ্যমে, আদালতে অপরাধ প্রমাণ করে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছিল! সরকারের হাতেই তো সব, শাহবাগে ছেড়ে দিলেই তো কারো কোন অস্তিত্ব থাকত না, এতদিন, এত খরচ করে জেল আদালতে দৌড় পেরে প্রমাণের কী ছিল? আর এদিকে এই কুলাঙ্গার গুলো ভাবতেছিল খুব একটা কাজ করা হল যা হোক, একজন শিবির কর্মীকে পিটিয়ে মেরে ফেললাম!

    ভারতের সাথে নতুন পানি চুক্তি নিয়ে সবার মনেই প্রশ্ন আছে। না থাকার কোন কারন নাই। দিনের পর দিন পানি দিবে বলে বলে আমাদের আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছে মোদী সরকার। আমরা আশ্বাসে বিশ্বাস করে দিন পার করছি। এতই বিশ্বাস আমাদের যে আমরা উল্টা পানি দেওয়ার জন্য এবার রাজি হয়ে এসেছি। পররাষ্ট্রনীতি সবার বুঝার বিষয় না। আমরা যা সাদা চোখে দেখি তার ভিতরে অনেক কিছুই থাকতে পারে। হয়ত তেমন কিছুর জন্যই এই চুক্তি, কিন্তু আমরা জানি না তা। আমাদের মনে তাই প্রশ্ন থাকবেই। আমরা প্রশ্ন করেই যাব। আমাদের শঙ্কা দূর করার দায়িত্বও সরকারেরই। অন্য যে কোন সরকার, এমনকি দ্বিতীয়বারের আওয়ামীলীগ সরকার মানে ২০০৮ সালের আওয়ামীলীগ সরকারও এই এমন একটা চুক্তি করতে দুইশ বার ভাবত। তিস্তা পানির খবর নাই ফেনী নদীর পানি ভারতকে দেওয়া হবে এইটা ভাবতেই অন্য সরকারের ঘাম ছুটে যেত। জনগণ কী ভাববে, জনগণের প্রতিক্রিয়া কী হবে এই সব ভেবেই অস্থির হয়ে যাওয়ার কথা এবং জীবনেও এই কাজ করত না অন্য কোন সরকার। কিন্তু এই সরকার তা করেছে। কারন জনগণের প্রতিক্রিয়াকে হিন্দি চুল দিয়াও দাম দেয় না সরকার। সরকারের একটা নিশ্চয়ই চিন্তা আছে, একটা পরিকল্পনা আছে এই চুক্তি নিয়ে, তাই তারা তা করে ফেলেছে ভিন্ন কিছু চিন্তাতেও আনে নাই, আনার প্রয়োজনও বোধ করেনি।

    দিনের পর দিন সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার নিয়ে মোদী এবং আগের বিভিন্ন সরকার আমাদের কাছে অঙ্গিকার করেছে, ভারতের সংবিধানেও সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আছে সম্ভবত। অথচ সুযোগ পেলেই গুলি চলে সীমান্তে, প্রাণ যায় ফেলানির। আর আমরা দিয়ে যাচ্ছি শুধু। পানি দিচ্ছি, গ্যাস দিব, বন্দর দিব, ট্রানজিট দিচ্ছি নিজের ক্ষতি স্বীকার করেও। কিন্তু উল্টো দিক থেকে প্রচুর আশ্বাস পাচ্ছি, আশ্বাসে আশ্বাসে আমাদের নাভিশ্বাস উঠছে এখন। বড় লোক বন্ধু চাহিদা মেটাতে মেটাতে আমরা দিশেহারা এখন। এমন অবস্থায় এবারও আমাদের প্রধানমন্ত্রী আবারও কিছু আশ্বাস নিয়ে ফিরে এলেন। ভুল বললাম, কিছু পেয়াজ নিয়ে এসেছেন এমন খবর কোথায় জানি পড়ছিলাম!

    এমন পরিস্থিতিতে সবাই তো এই নিয়ে ভাবছে। সেই ভাবনা ভাল না লাগলে তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলবে কেউ? শিক্ষা মানুষকে শিক্ষিত করার কথা। এরা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পড়ে এমন অমানুষ কীভাবে হয়ে যাচ্ছে? ভিন্ন মত শোনার মত সাহস কেন থাকবে না? একজন আবর্জনাও লিখতে পারে, আমি কোনমতেই সেই আবর্জনার সাথে একমত না কিন্তু আমি তার নিয়মিত আবর্জনা লিখার অধিকারের বিপক্ষে তো যেতে পারি না। আর আবরার তো আবর্জনাও লেখেনি। ওই কথা গুলো তো এখন সবারই মাথায়, আমিও তো লিখব বলে গুছিয়ে বসার কথা ভাবছিলাম। এই জন্য শিবির বলে মেরে ফেলবে কেউ? শিবির করা অপরাধ আজ পর্যন্ত তো এই স্বীকৃতিও এনে দিতে পারল না কেউ। জামাত শিবির জঙ্গি এই কথাটা তো আজও মুখে মুখেই, নিষিদ্ধ তো করতে পারেন নাই এখনো। আর জঙ্গি কী? স্বয়ং বাংলা ভাই হলেও কী তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলার অধিকার আছে কারো? না কেউ এই অধিকার দিয়েছে ছাত্রলীগকে? দিলে তারও বিচার করতে হবে, যারা সরাসরি অংশ নিয়েছে তাদের তো বিচার করতে হবেই। কত বড় ছাত্রলীগ কর্মী এবার তা দেখা উচিত। একজন মানুষকে পিটিয়ে মেরে ফেলার মত দুঃসাহস কোথা থেকে আসে খুঁজে দেখা দরকার এবার।

    আবরার হত্যার বিচার চাই বিচার চাই বিচার…
  • বিভাগ : ব্লগ | ০৭ অক্টোবর ২০১৯ | ৫৫ বার পঠিত
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • বিপ্লব রহমান | 237812.68.454512.126 (*) | ০৮ অক্টোবর ২০১৯ ০৭:১৮51252
  • বিনা ভোটে টানা তিনবার ক্ষমতাসীন হাসিনা সরকারের বাই প্রডাক্ট এই ছাত্রলীগ, হাতুড়ি লীগ, হেলমেটলীগ নামক ফ্রাংকেস্যাইন!

    আবরার হত্যার একটা পরিষ্কার মতাদশিিক অবস্থান আছে। ভারতের সাথে চুক্তিতে জাতীয় স্বার্থ লঙ্ঘন হলেও তা বলা যাবে না, শিবির সন্দেহ হলেই তাকে মেরে ফেলা যাবে। একে সাধারণ গেস্টরুম কালচারের সাথে গোলানো ঠিক হবে না।

    ফ্যাসিবাদ আর সাধারণ সন্ত্রাসের মধ্যে পার্থক্য হলো ফ্যাসিবাদে আদর্শের মোড়ক লাগিয়ে হত্যাকে বৈধতা দেয়া হয়।
  • ষষ্ঠ পাণ্ডব | 236712.158.676712.22 (*) | ০৯ অক্টোবর ২০১৯ ১১:৩১51253
  • দুনিয়ার অনেক দেশের সরকার দাবি করে তাদের দেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে। হ্যাঁ, সেখানে যে কেউ যা খুশি বলতে পারেন, কিন্তু সেটা বলার পর তিনি জীবিত বা অক্ষত থাকতে পারবেন কিনা সেটা প্রশ্নসাপেক্ষ। মত প্রকাশের পরে মতদাতার নিরাপত্তা যদি সমাজ বা রাষ্ট্র দিতে না পারে তাহলে মত প্রকাশের স্বাধীনতার দাবিটিই ভুয়া, ভিত্তিহীন।

    ভিন্ন এক বা একাধিক দেশের সাথে চুক্তি তো বটেই দেশের ভেতরে বড় আকারের জনগুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেবার আগে জনমত যাচাইয়ের প্রয়োজন। সরকার যদি মনে করে, জনগণ তো ভোট দিয়ে আমাদের হাতে ক্ষমতা দিয়েই ফেলেছে তাহলে সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষেত্রে জনমত যাচাইয়ের দরকারটা কী? তাহলে বুঝতে হবে ঐ দেশে আর যা কিছু থাকুক গণতন্ত্র নেই।

    কোথাও কোথাও এমন ক্ষেত্রে গণশুনানীর ব্যবস্থা করা হয় বটে, তবে যারা এই ব্যাপারে খোঁজ রাখেন তারা জানেন যে গণশুনানীর ফলাফল কর্তাদের ইচ্ছার বাইরে গেলে সেটা ফাইলেই আটকে থাকে।

    যে রাষ্ট্রে ব্যক্তির ইমেজ রাষ্ট্র, সরকার, জাতি বা সংস্কৃতিকে ছাপিয়ে ওঠে, যেখানে ব্যক্তির প্রবল ছায়ায় ঢেকে যায় কোটি মানুষের অবদান বা আত্মত্যাগ সে রাষ্ট্র ঘোরতর একনায়কতান্ত্রিক - তা হিতৈষী হোক অথবা দানবীয়।
  • করোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • গুরুর মোবাইল অ্যাপ চান? খুব সহজ, অ্যাপ ডাউনলোড/ইনস্টল কিস্যু করার দরকার নেই । ফোনের ব্রাউজারে সাইট খুলুন, Add to Home Screen করুন, ইন্সট্রাকশন ফলো করুন, অ্যাপ-এর আইকন তৈরী হবে । খেয়াল রাখবেন, গুরুর মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করতে হলে গুরুতে লগইন করা বাঞ্ছনীয়।
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত