• হরিদাস পাল
  • খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে... (হরিদাস পাল কী?)
  • দ্বিষো জহি

    Tapas Kumar Das
    বিভাগ : ব্লগ | ০৪ অক্টোবর ২০১৯ | ৬৬ বার পঠিত
  • বোধন হয়ে গেছে গতকাল। আজ ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ, সন্ধ্যাবেলায় আমন্ত্রণ ও অধিবাস। তবে আমবাঙালির মতো, আমারও এসব স্পেশিয়ালাইজড শিডিউল নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই তেমন - ছেলেবেলা থেকে আমি বুঝি দুগ্গা এসে গেছে, খুব আনন্দ হবে - এটুকুই।

    তা এখানে সেই আকাশ আজ। গভীর নীল - পেঁজা তুলোর মতো মেঘ - সোনা রোদে ধুয়ে যাচ্ছে চরাচর। শুধু আনন্দ টাই নেই। মস্তিষ্কের ভিতরে শিরা ও ধমনীতে মহাকালের অশনি সংকেতের মতো অমোঘ ঢাক গুড়গুড় করে ওঠে যেন প্রলয়ের গর্জন - বোধনের আগেই এবারে বিসর্জন হয়ে গেছে আমার, যেতে পারিনি সেই শহরে। সিস্টিন চ্যাপেলের ছাদের আদমের মতো বাড়িয়ে দিয়েছি হাত - শুধু ওপক্ষেই সেই আঙ্গুল ধরবার কেউ নেই, আমি এবং শহরের মাঝে হাজার কিলোমিটারের গ্যাপ। আনসারমাউন্টেবল।

    ধার্মিক নই। কাঠ নাস্তিক। শাস্ত্রমতে বিবাহ করিনি, মলমাসে বিয়ে। সন্তানের অন্নপ্রাশন হাতেখড়ি কিছুই করিনি, পিতা মাতার পারলৌকিক কার্যও না (যে পাপে আমি আর আমার সমমনস্ক সহোদর এককালে সমাজচ্যুত হয়েছিলাম ভার্চুয়ালি)। তাই মহামায়ার সাথে আমার নাড়ির যোগে ধর্মের কোনো ভূমিকা নেই। এ আমার শিকড়ে ফেরার গান শুধু। আনন্দের অভিসার।

    ধর্মব্যাবসায়ীকে ঘৃনা করি। দশ কোটি টাকার প্রতিমা বানানোর নির্লজ্জ্তাকেও। আমজনতাকে ঘৃণা করতে পারি কই? পঞ্চমীর রাত্রে বাবা একপাতা টিপ্ নিয়ে ফিরলে ভিখারির মেয়ের মুখে যে হাসি, ষষ্ঠীর দিন ভিড়ের একপাশে কুঁকড়ে দাঁড়িয়ে থেকে শেষে একটু ফাঁকা পেয়ে টিনের পিস্তল কিনে তাতে ক্যাপ ভরে ঝুলে নেমে যাওয়া প্যান্টুল সামলাতে সামলাতে শিকনি নাকে রিক্সাওয়ালার ছেলের যে হাসিমুখ মন্ডপে দাঁড়িয়ে - এলিট নাস্তিক সাজার উন্নাসিকতায় সেই গভীর অন্তস্পর্শী আনন্দকে অবজ্ঞা করবো - এতবড়ো আস্পর্ধা আমার নেই, সেই বৌদ্ধিক অবনমন ও যেন কখনো না হয়।

    ধর্ম নিপীড়িত জনগনের আফিম - বলেছিলেন দাড়িওয়ালা এক মানুষ। শিক্ষার শুরু থেকেই, কৈশোরের শুরু থেকেই যে মানুষকে শ্রদ্ধার আসনে বসিয়েছি। কিন্তু আফিম উৎপাদকদের ঘৃণা করতে গিয়ে নিপীড়িত জনতাকেই দেগে দিতে হবে অশিক্ষিত ধার্মিক বলে, এমত অমার্জিত ঔদ্ধত্য এমনকি সেই ভদ্রলোকও কখনো দেখাননি বলেই আমার বিশ্বাস। আমি তো চুনোপুঁটি মাত্র। তাই আনন্দে ভরসা হারাইনি। শিকড়ে ফিরে যাওয়ার আনন্দ, সারা বছরের একঘেয়ে জীবন থেকে কটাদিনের মুক্তির আনন্দ, সম্বত্সরের শোষণ নিপীড়নে জর্জরিত নিরীহ গরিবের এই কটা দিন একটু হাসিমুখে থাকার প্রয়াস, শিকনি নাকে বাচ্ছাগুলোর উজ্জ্বল মুখ নাহোক খুশিতেই শুধু।

    আনন্দম! আনন্দম! আনন্দম!

    এবং উত্তরণের আনন্দ ও বটে। দুগ্গা ঠাকুর ও অসুর বাবাজির সংঘাতকে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন জ্ঞানগর্ভ পোষ্টে আজকাল বিভিন্নভাবে বিনির্মাণ করা হয় - প্রগতিবাদ, ব্রাহ্মণ্যবাদ, নারীবাদ ইত্যাদি প্রভৃতির প্রস্তাবিত আলোকে। (ক্বচিৎ) তাতে (সামান্য) জ্ঞানের দ্যুতি থাকে হয়তো , কিন্তু সাধারণ মানুষের জীবনে (বাকি সব দরকচা মারা তত্ত্বালোচনার মতোই) তাতে কি হেলদোল হয় সে ব্যাপারে এই অধম যথেষ্ট সন্দিহান। আমি তাই সরল আনন্দকে জ্ঞানের চাপে পিষে ফেলার চেষ্টা থেকে শতহস্ত দূরে থাকি। আমি অকৃতি অধম।

    দূর্গা অসুরের এই দ্বন্ধ কে বহিরঙ্গে বিনির্মাণ না করে অন্তর্জগতের দ্বন্ধ হিসেবে দেখি। সেখানে নিজেই নিজের শত্রুপক্ষ। এই যে রূপ পাল্টে পাল্টে মহিষাসুরের নব নব আক্রমণ, আর এক এক অস্ত্রের ব্যবহারে মহামায়ার তাকে নিধন - এর মধ্যে আমি আমার অন্তর্দ্বন্ধকেই দেখতে পাই। শুভ ও অশুভ এই দুই পক্ষের বাহ্যিক লড়াই নয়, এ আমার ই অন্তরের সীমাবদ্ধতার সাথে আমার নিজেরই লড়াই বরং। উত্তরণের। প্রতিমুহূর্তে আত্মশুদ্ধির যে চেষ্টা, তার সামনে এসে শিং উঁচিয়ে দাঁড়ায় নিজের ই লোভ অসূয়া আত্মম্ভরিতা - প্রানপনে তাকে ঠেকিয়ে রাখি, অতিক্রম করি। আবার নতুন রূপ ধরে ঝাঁপিয়ে পড়ে তারা পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে, আবার প্রতিরোধে চোয়াল কঠিন করে রুখে দাঁড়াই। এভাবেই নিরন্তর সংগ্রামের আগুনে পুড়িয়ে পুড়িয়ে নিজেকেই খাঁটি সোনা বানানোর অন্তর্নিহিত প্রয়াস। আমরণ চালু থাকে।

    আমিই মহামায়া। মহিষাসুরও আমিই। আত্মরূপেণ সংস্থিতা। বাইরের কেউ নয়।

    রূপ চাই না - বহিরঙ্গের নির্মাণ। জয়? কার বিরুদ্ধে? কে প্রতিপক্ষ তাই তো জানি না, হয়তো নিজেই। যশে লোভ নেই , যশপ্রার্থী দের হাঘরেপণা দেখে দেখে ঘৃণা ধরে গেছে। মন্ত্রের শুধু একটা জিনিসই দিও হে মহামায়া আমায় :

    দ্বিষো জহি! দ্বিষো জহি! দ্বিষো জহি!
  • বিভাগ : ব্লগ | ০৪ অক্টোবর ২০১৯ | ৬৬ বার পঠিত
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা ভাইরাস

  • করোনা ভাইরাস

  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত