• হরিদাস পাল
  • খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে... (হরিদাস পাল কী?)
  • ইমন

    π
    বিভাগ : ব্লগ | ০৮ অক্টোবর ২০১৩ | ৩৫ বার পঠিত
  • অথচ বুড়বুড়ি ওঠে। ওঠে তো নিগঘাত, কিন্তু ঠিক কেমনটি ওঠে, কোথায় ওঠে ঠিক ঠাহর করতে পারিনে। ঠিকঠাক ঠাহর করার জিনিসও নয় বটে। বুড়ি চাঁদ বিড়বিড়িয়ে বলে যায়। সুর কি দেখা যায় ?
    অথচ দেখব বলেই কি বসে নেই সেই কবে থেকে? অপার ফপার হয়ে নয়। অপার হয়ে বসে থাকা কাকে বলে তাই বলে বুঝলুম না আজ অব্দি। না বুঝেই পার পেয়ে গেলে বোঝাবুঝির বোঝা আর কেই বা বয়। তবে পার দেখব বলে বসে থাকা, এটুকু বলা যেতেই পারে।গানের ওপারে যা কিছু দাঁড়িয়ে বা শুয়েবসে। রসেবশে।
    অথচ রসটাই বশ হলনা ঠিকঠাক। তো, সে ঠিকঠাক আর কোন কাজটাই বা ঠিক করতে পারলাম ? করার চেষ্টাটাও বা করলাম? বরম বেঠিক চেষ্টাগুলোই করে গেলাম দেখি। এই যেমন, ওই যে বললাম, সুরকে দেখার চেষ্টা।
    অথচ বিনা চেষ্টাতেও সে এসেছিল। একবারই নয়, এসেছিল একবারের বেশিই। নীরবে টিরবেও নয়। সুরের কথা হচ্ছে তো। তার আগে অ থেকে শুরু করে হারানো অব্দি সবই বসানো যেতে পারে, কিন্তু নীরব বসানোর ধৃষ্টতা করবনা। স্তব্ধতার গান শোন বললেই কি আর শোনা যায় নাকি সবাই শুনতে পায় ? আমি তো পাই না। কতকিছুই না পাওয়ার মত।
    অথচ তাকে দেখতে পেয়েছিলাম বললে ভুল বলা হবে কি ? কিম্বা দেখেছি বলে ভুল করেছিলাম ? নাকি ভুল করে দেখেছিলাম ? ভুল করেই সই, আজো তাকে ভুলতে পারলাম কই ? সেই ছায়াকে। জাফরির ফাঁকে ফাঁকে চুঁইয়ে পড়া কনে দেখা আলো। পশ্চিমের আলো। জাফরি কাটা আলোকে আরো কেটে কেটে দেওয়া সেই ছায়া। চাঁদ তখন পুবে। চাঁদ তখনও ছোকরা। চাঁদ তখনো আলো দিতে শেখেনি।

    আর সেই ছায়া বাদে বাকি সব আবছায়া। ভাল লাগছিল, আবছায়াটা। ভাল লেগেছিল, ছায়াটাও। নিখাদ ভালো লাগা। নিখাদ থেকে ঋষভ হয়ে গান্ধারে আবেদিত আন্দোলন ,আবার ঋষভ, আবার নিখাদ। নিখাদ থেকে ঋষভ হয়ে, না আর গান্ধার নয়। সা। আশ্রয়। আশ্রয় ?
    আর তখন যাবার তাড়া। গান্ধার থেকে তীব্র মধ্যমে যাবার তীব্র আকুতি। মোচড় পড়ে সারেঙ্গীতে। মোচড়,আর কোথাও ?
    আর ততক্ষণে গান্ধার থেকে মধ্যম হয়ে আবার গান্ধার হয়ে আলতো করে নিখাদ ছোঁওয়া হয়ে গেছে । সব শুদ্ধ। অথচ কি কোমল ছোঁওয়া। ছায়াকে ছুঁতে চাই ? অমনি করেই ?
    আর তারপর তো নিখাদ থেকে শুধুই নেমে আসা। সা। সা কে স্পর্শ করে কাঁপতে থাকে ছায়া।
    আর ছায়াকে স্পর্শ করতে চাওয়া একটা শরীর।
    এরি , এরি আলি ।
    গ রে গ গ। পিয়া বিন।
    আর আবারো তীব্র মধ্যমে যাবার সেই তীব্র আকুতি। মীড়ের আকুতি,পঞ্চম থেকে মধ্যম হয়ে ধৈবতকে পাবার জন্য। ছায়ার কাছে যাবার জন্য। সখি কাল না পড়ত মোহে ঘড়ি পল ছিন দিন।
    আর খুলতে থাকে রাগরূপ। পূর্বাঙ্গে। নি রে গ রে, নি রে স। নি রে গ হ্ম প হ্ম গ রে , নি রে স। পূর্বরাগ। খুলতে থাকে যা কিছু অপ্রয়োজনীয়। খোলাটা প্রয়োজনীয়।
    আর শুরু হয় খেলা। বিস্তারের শাখা প্রশাখা খেলানো। নি রে গ ,হ্ম ধ প । ধ নি ধ প। গ হ্ম ,গ প হ্ম, হ্ম ধ নি স। গ হ্ম ধ নি স। নি রে স। খেলা চলতে থাকে। শরীরের খেলা যেমন চলে থাকে। অশরীরীর সাথে শরীরী খেলা। যেমনটি হবার কথা কিম্বা কথা নয়।
    আর জ্যোৎস্না জাগতে থাকে। কেউ বিড়বিড়িয়ে ওঠে। সুরকে দেখা যায়। সুরকে দেখা যায়। যেমনটি বলার কথা কিম্বা কথা নয়।
    আর বুড়বুড়িয়ে ওঠে সুর। বুড়বুড়িটাকে ভাল করে ঠাহর করে দেখি। ছায়াটাকে। কাছ থেকে। যতটা কাছ থেকে দেখা সম্ভব। পিয়াকি নজরিয়া জাদু ভরি। মোহে লিও মন প্রেম ভরি।
    আর মধ্যম তার তীব্রতা নিয়ে ঝাপটে পড়ে গান্ধারে। ঝাপটে পড়ে অশরীরী।
    হ্ম ধ হ্ম ধ নি স। স গ রে স নি ধ প গ রে স।
    নি ধ প, গ রে স।
    সমে এসে ক্লাইম্যাক্স আছড়ায়।

    এরি আলি। নি ধ প, গ রে স
    এরি আলি। নি ধ, নি ধ প, হ্ম ধ প,গ রে স
    এরি আলি। স, স নি, নি ধ প, গ রে গ রে স
    এখন তেহাই বোলে খেলা ভাঙ্গার খেলা। নিস্তরংগ হবার পালা।
    এখন জ্যোৎস্না জোয়ান হবে। ছায়া গলতে থাকবে জ্যোৎস্নায়।

    জবসে পিয়া পরদেস গমন কিনু।
    রতিয়া কাটত মোহে তারে গিন গিন।
    গ রে গ গ। পিয়া বিন।
    এখনো, ইমন, অপেক্ষায়। অপার ফপার বুঝিনা।
    रंजिश ही सही दिल ही दुखाने के लिए आ
    आ फिर से मुझे छोड़ के जाने के लिए आ ।
  • বিভাগ : ব্লগ | ০৮ অক্টোবর ২০১৩ | ৩৫ বার পঠিত
আরও পড়ুন
সুর অ-সুর - π
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • কমলেন্দু চক্রবর্তী | 24.96.93.45 (*) | ০৮ অক্টোবর ২০১৩ ০৬:৪৮46905
  • সুন্দর লেখা। ঝকঝকে আর নতুন ধারায়। এত কাব্যিক অথছ বুড়বুড়ি কাটার মত সরল ভাষায় শব্দের মালা।
    ভাষার উপর মুনশিয়ানা একেই বলে। আরও পড়ার অপেক্ষায় রইলাম।
  • madhumita bhattacharya | 116.198.244.170 (*) | ০৮ অক্টোবর ২০১৩ ০৬:৫৫46906
  • সেই ইমনের সুর মনে পরে গেল।

    কওন যতন অব করিয়ে আলি,
    মোহলিও মন প্রেম এক ঘড়ি
  • শুদ্ধ | 126.193.140.115 (*) | ০৮ অক্টোবর ২০১৩ ০৭:১৮46907
  • আহা! আবার বলছি কেন যে কম লেখেন কে জানে! কেমন আসর সাজিয়ে বসেছে সব। এ ভাবে যদি রাগ সঙ্গীতের সঙ্গত চলে তাহলে বাংলাতে বোধহয় ধূর্জটিপ্রসাদ বা কুমারবাবুর পরে আরেকটা বলার মতন কলম উঠে দাঁড়াবে।
  • ঈশান | 202.43.65.245 (*) | ০৮ অক্টোবর ২০১৩ ০৭:২৭46908
  • এইটা গুড হয়েছে। কিন্তু গুরুর কলে হিন্দি লেখে ক্যামনে? :)
  • kk | 81.236.62.176 (*) | ০৮ অক্টোবর ২০১৩ ০৭:৩১46909
  • ভালো লাগলো এই লেখাটা। আমি ইমনের 'এরি আলি' গানটাই প্রথম শিখেছিলাম। মনে পড়ে গেলো।
  • i | 147.157.8.253 (*) | ০৮ অক্টোবর ২০১৩ ০৮:৩১46910
  • সুন্দর। খুব সুন্দর।
  • Tapas Das | 233.239.171.252 (*) | ০৯ অক্টোবর ২০১৩ ০২:২৩46915
  • কেত বলতে কী বোঝায়? একটা মানুষী/মানুষ হেব্বি ফান্টুস দিলে, তাকে নিয়ে বলি, কী কেত মাইরি! কিন্তু সব সময়ে এরকম না তো। খুব জৌলুসের কিছু দেখা শোনা হলে, যার রস আছে বুঝতে পারছি, কিন্তু পুরোটা বোধ করে উঠতে পারছি না, এরকম হলে, কী বলা যায়? অনির্বচনীয় ফিয় বলতে বলবেন না মাইরি, প্লিজ । এই যে এই লেখাটা, এইটার মধ্যে অনেকটা সুরসপ্তক ঢুকে আছে, আমি তার বিন্দু বিসর্গ জানিনে, কিন্তু ভীমসেন টেন ভাল্লাগে, তা বলে অজয় চক্কোত্তি লাগে না। এসব কথা জোরে বলিও না, কারণ একটা কোথাও অধিকারী হতে হয়। এ কথাটা মানি । তাই না-ই বা বলি। কিন্তু বলি না বলি না করেও বলতে ইচ্ছে করলো, এটা ভারী কেতের
    লেখা হয়েছে। একটা কী যেন আছে। আস্তিক্যবোধ বোধ হয় । কী জানি, আমি ঠিক জানি না ।
  • কল্লোল | 125.242.236.253 (*) | ০৯ অক্টোবর ২০১৩ ০৩:৫৪46911
  • তোর গান আর লেখা। কি আর বলবো। মুগ্ধতা প্রকাশের কি কোন ভঙ্গী আছে?

    ফুলবন সে যো সজাউঙ্গী ওয়াদিন
    প্রাণ পিয়া যব মোরে ঘর আইলা
    পর ডালুঙ্গী মোতিয়ন কে হারবা

    সে এলে প্রকৃতি সেজে ওঠে ফুলে ফুলে
    সে এলে মোতির হারে সেজে উঠি

    সে আসবে......আসবে...........আসবেই একদিন
  • Ishani Roychaudhuri Hazra | 233.239.255.112 (*) | ০৯ অক্টোবর ২০১৩ ০৬:০৯46912
  • বড্ড ভালো । অন্যরকম ভালো ।
  • শেখর | 233.29.206.14 (*) | ০৯ অক্টোবর ২০১৩ ০৯:৫৪46913
  • ভাষার মোচড়ে রাগের উন্মোচনে মুগ্ধ হয়ে গেলাম।
  • arka | 213.175.4.11 (*) | ০৯ অক্টোবর ২০১৩ ১২:৫৬46914
  • বাজিয়ে দেখার মতন লেখা। আগে কখনো পড়েছি বলে মনে পড়ছেনা।
  • Ranjan Roy | 24.99.117.243 (*) | ১০ অক্টোবর ২০১৩ ০১:৩৫46919
  • ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় এই লেখাটা মন ভরিয়ে দিল অন্যরকম ভালো লাগায়।
    কয়েকজন বন্ধুকে ডেকে পড়াচ্ছি।
    কেয়াবাৎ!
  • সিদ্ধার্থ | 233.223.154.125 (*) | ১০ অক্টোবর ২০১৩ ০২:৩৯46920
  • ভালো লাগলো. বেশ ভালো|
  • aranya | 154.160.226.53 (*) | ১০ অক্টোবর ২০১৩ ০৪:৪০46921
  • অধিকারী নই, রাগ বলতে ক্রোধ বুঝি, তাও ভাল লাগল, লেখার গুণে
  • | 24.97.139.173 (*) | ১০ অক্টোবর ২০১৩ ০৫:৩৬46916
  • বাঃ
  • siki | 132.177.253.115 (*) | ১০ অক্টোবর ২০১৩ ০৬:১১46917
  • আমার মেয়েও শিখেছে এই এরি আলি।

    তুখোড়।
  • nina | 22.149.39.84 (*) | ১০ অক্টোবর ২০১৩ ১২:৪৪46918
  • অপূর্ব্ব!
  • 4z | 152.176.84.188 (*) | ১১ অক্টোবর ২০১৩ ০১:২৩46923
  • বাঃ
  • π | 118.12.173.94 (*) | ১১ অক্টোবর ২০১৩ ১২:৫৭46922
  • সবাইকে অনেক ধন্যবাদ। তবে শুদ্ধদা খুব লজ্জায় ফেললেন, আমি সঙ্গীতবোদ্ধা নই বা সমালোচক হবার মত ক্যাপাও নাই। ভালোলাগে, নিজের মত করে ভালোবাসি, এই অব্দি।
  • নিরমাল্লো | 126.203.164.172 (*) | ১২ অক্টোবর ২০১৩ ০২:৩২46924
  • বাণী বসুর গান্ধর্বী মনে পড়ে গেল ... তুমি কি সত্যি সুর দেখতে পাও? আরো দেখাও ... খুব ভালো লাগলো।
  • Audity Falguni | 127.18.231.40 (*) | ১৭ অক্টোবর ২০১৩ ০৯:৪৫46925
  • নি রে গ ,হ্ম ধ প । ধ নি ধ প। গ হ্ম ,গ প হ্ম, হ্ম ধ নি স। গ হ্ম ধ নি স। নি রে স। খেলা চলতে থাকে। শরীরের খেলা যেমন চলে থাকে। অশরীরীর সাথে শরীরী খেলা। যেমনটি হবার কথা কিম্বা কথা নয়।
    আর জ্যোৎস্না জাগতে থাকে। কেউ বিড়বিড়িয়ে ওঠে। সুরকে দেখা যায়। সুরকে দেখা যায়। যেমনটি বলার কথা কিম্বা কথা নয়।
    আর বুড়বুড়িয়ে ওঠে সুর। বুড়বুড়িটাকে ভাল করে ঠাহর করে দেখি। ছায়াটাকে। কাছ থেকে। যতটা কাছ থেকে দেখা সম্ভব। পিয়াকি নজরিয়া জাদু ভরি। মোহে লিও মন প্রেম ভরি।
    আর মধ্যম তার তীব্রতা নিয়ে ঝাপটে পড়ে গান্ধারে। ঝাপটে পড়ে অশরীরী।
    হ্ম ধ হ্ম ধ নি স। স গ রে স নি ধ প গ রে স।
    নি ধ প, গ রে স।
    সমে এসে ক্লাইম্যাক্স আছড়ায়।

    : MESMERIZED...
  • sweta | 111.58.88.5 (*) | ১৯ অক্টোবর ২০১৩ ০৮:৫৫46926
  • সত্যি খুব ভালো লাগলো , বাজিয়ে একবার দেখব । লিকতে থাক ............
  • jhinku bibi | 126.203.218.203 (*) | ১৯ অক্টোবর ২০১৩ ০৯:১৪46927
  • আমরা যারা ভালবাসায় অবয়ব খুঁজি, আমরা যারা শরীর গড়ে নিই নিছক একটা, নিজেদের মতো করে, আমরা, গান্ধর্বীরা, খুঁজে বেড়াই নি-রে-গা-এর অশরীরী মীড়গুলো, স্পর্শ করতে চাই, পারি, অথবা পারি না, অথচ সুরগুলো কী অবলীলায় শরীর হয়ে ওঠে শোণিত মজ্জায়, আমাদের আঁকড়ে ধরে, আগলে ধরে, ধরে, নাকি ভ্রম হয়, তারা বিশ্বাস করি, সুর আমাদের ছেড়ে যাবে না কক্ষনো, ওই, সময়ের মতো। কিন্তু হাতের মুঠো খুলে দেখি, 'কাল রাত্রের বাসি ফুলগুলো শুকিয়ে কাঠ হয়ে আছে।' সে সময়টাও সন্ধ্যেই ছিল। হ্যাঁ সন্ধ্যেই তো! জানো গান্ধর্বী, অপার, তুমি যে শব্দটা এড়িয়ে আর মাড়িয়ে গেলে সন্তর্পনে, ঠিক সেইরকম অপার এক জ্যোত্স্না ছিল কদম গাছের মাথায়! 'সজন আয়ো,সাঁঝ সমায়ে, পিয়া অব মোরে মন, মোহে লিও রে।' আমাকে নাও, আমার হৃদয় নাও। 'জীবনলতা, অবনতা, তব চরণে।'
    'করো আনন্দ, আয়োজন করে পড়ো, লিপি চিত্রিত, লিপি আঁকাবাঁকা, পাহাড়ের সানুতলে, যে একা ঘুরছে তাকে খুঁজে বার করো।' এটুকুই বলবার
  • রাহুল দেব চক্রবর্তী | 233.176.189.100 (*) | ২০ অক্টোবর ২০১৩ ০৮:১৮46928
  • ভাবিয়া ছিলাম রসায়ন শাস্ত্রে আত্মনিয়োগ করিয়া জীবন নির্বাহ করিব -সেই গুড়ে যে এত সত্তর এবং এত বেশি পরিমানে বালি মিশিয়া যাইবে বুঝি নাই .মা এর কথা অমান্য করিয়া কারিগরী শিখ্খার সংযুক্ত প্রবেশিকা পরিখখা ও দেওয়া হয় নাই .গুরুজনদের বক্তব্য শুনিলে মনে হয় ,জন্ম মুহুর্তে যে আমার উক্ত প্রবেশিকা পরিখখার আবেদন পত্র পাঠানো হয় নাই ,ঐটেই আমার জীবন এর একমাত্র ভুল এবং কারিগরী শিখ্খায় এগোইলে আজ ‘campussing’ নামক জাহাজে চাপিয়া বিদেশ ভ্রমনে যাইতাম .যদিও আমার সমবয়সী কারিগর দের লেজে -গোবরে অবস্থা দেখিয়া গুরুজনরা যে ঠিক বলিতেছেন এ কথা বলা সাজে না .ইলেকট্রিকাল এর ছাত্র নির্মীয়মান বাড়ির জানালায় রং লাগাইতেছে .সিভিল এর ছাত্রী সফটওয়্যার কোম্পানির রিসেপশন এ বসিয়া ফোন এ ‘হ্যালো !হ্যালো! ’করিতেছে .
    মূল কথায় ফিরিয়া আসি .ছোটবেলায় সেই যে তামার কুচিতে অম্ল ঢালিলে ধুম্র বাহির হয় জানিয়াছিলাম ,তাহাতে যে কি রূপ দেখিয়াছিলাম তাহা আজ আর মনে নাই .দ্বাদশ শ্রেণীতে পৌছিয়া দেখিলাম "বেনজিন ” যৌগের দ্বিবন্ধন গুলি আমার ভাগ্যের মতো ক্রমাগত ঘুরিতেছে .কেকুলে সাহেব এর মতো স্বপ্নে সর্পভ্রম অবশ্য আমার হয় নাই .তবে ব্যাপারটি বেশ মনে ধরিয়াছিল .অনু পরমানুর তরন্গরুপ বিচিত্র ব্যবহার নিয়া অনেক কল্পনাই মাথায় আসিয়াছিল ;কখনো সোডিয়াম এর শেষ কখ্খের ইলেক্ট্রনটিকে এক লাথি মারিয়া ক্লোরিন এর ঘরে পাঠাইতাম ,কখনো বা হাইড্রোজেন এর নিউক্লিয়াসে বসিয়া পা দুলাইতে দুলাইতে ইলেক্ট্রন এর এক শক্তিস্তর থেকে আর এক শক্তিস্তরে বানর স্বরূপ লম্ফন দেখিতাম .আজ অবধি কতবার তো অম্লোরাজে হাত পুরিলো ;সে সব ‘ভালবাসার আচড় ’ ভাবিয়া লইতাম .দিনগুলি মন্দ কাটিত না .
    তবে যত দিন যাইতেছে ,রসায়ন শাস্ত্র পুরনো প্রেমিকার ন্যায় মালুম হইতেছে .ভালবাসায় আচড় খাইতেছি ,উপহার পাইতেছি না .অম্লে হাত পুরিতেছে ,পরিখ্খায় নম্বর পাইতেছি না .শ্রেণী কখ্খে বসিয়া নোট টুকিতেছি (কবে যে নোট গুনিব !!কানাঘুষায় শুনিয়াছি যার টোকা নোট এর ওজন বেশি তাহাকে পিএইচডিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হইবে ).সম্পর্কে ভাটা আসিয়াছে .’lunch box’ চলচিত্রে স্বামী -স্ত্রীর সম্পর্কে টান পড়িবার কারণে স্ত্রীটি যেইরূপ ইরফান খানের মধ্যে সঙ্গ খুজিয়াছিলেন ,আমার জীবনেও সেইরূপ ‘সঙ্গদানকারী’রা আসিয়া উপস্থিত হইয়াছে-রাসায়নিক কারখানা ,পাড়ায় পাড়ায় গজাইয়া ওঠা কারিগরী মহাবিদ্যালয় ইত্যাদিতে চাকুরীর সুযোগ .ইহাদের আমি কিছু বত্সর পূর্বে দুই চোখ্খে দেখিতে পারিতাম না .এখন মনে হইতেছে পুরাতন হিন্দি সিনেমায় যেইরূপ নায়ক গ্রাম এর কৃষ্ণবর্ণ ,অল্পশিখ্খিত মেয়েটির ভালবাসা উপেখ্খা করিয়া কোনো শহুরে মায়াবনবিহারীনি হরিনীর পিছনে ছুটিত এবং প্রেমে ‘frustu’ খাইয়া সেই গ্রাম এর মেয়েটিরই প্রনয় ভিখ্খা করিত ,আমার সেই রূপ অবস্থা হইবে .ভাবিয়াছিলাম গবেষণা করিয়া দেশের কাজে আসিব ,দশ জনের উপকারে লাগিব .দশজন তো চুলায় যাউক,এখনো অবধি পাশের বাড়ির শিশুটিকে ধুপকাঠি জ্বলিলে কেন শুধু ধুম্র হয় ,আগুন এর শিখা হয় না তাহাই বোঝাইতে পারিলাম না .নিজের মা যেই রূপ ‘অপদার্থ ’ বলিয়া তিরস্কার করিতেছেন ,তাহাতে বোঝাই যাইতেছে যে আমার মাথায় ইউরোপিউম ,সমারিউম ইত্যাদি মনুষ্যশরীর এর অপ্রয়োজনীয় মৌল ঠাসা এবং ইহাদেরই কোনো তেজস্ক্রিয় সমস্থানিক এর সক্রিয়তা মা এর মাথায় বসানো গেইগের -মুলার কাউন্টার এ ধরা পড়িয়াছে .জৈব রসায়ন তো আমার নিকট শাশুড়ি মা এর মতো …যথা সম্ভব এড়াইয়া চলি .এখন বাকি বই গুলির সাথেও মুখ দেখাদেখি প্রায় বন্ধ .আমার দুর্ভাগ্যের জল (NET) ছিড়িয়া GATE পার করিব,সে সম্ভাবনাও খুবই কম .এমতাবস্থায় আগামী মে মাস এ আশু বেকারত্বকে স্বাগত জানাবার জন্যে দিন গুনিতেছি .প্রস্তুতি হিসেবে ছবি আকার তুলি কিনিয়াছি .শুনিয়াছি আমাদের মাননীয়া মুখ্খমন্ত্রীর ছবি আকিলে সরকার থেকে স্কলারশিপ দেওয়া হইতেছে .
  • Su | 119.152.108.186 (*) | ২২ অক্টোবর ২০১৩ ০৬:৫৯46930
  • বাহ ইপ্সিতা,
    সত্যি ই তো সুর কে ছোঁয়া যায়না শোনা যায় তাও বা কতোটুকু হিউম্যান পারসেপশান এ ধরা পড়ে?
    অশরীরির সাথে শরীরের খেলা- শোনা না শোনার মাঝের সীমিত গন্ডিটুকুই সম্বল! ইনফ্রাসাউন্ডের উদার সপ্তক অথবা তার সপ্তকের আলট্রাসাউন্ডের মাঝখান দিয়ে এই ইমনের যাতায়াত!

    অসাধারন লেখা!
  • কল্লোল | 125.242.214.9 (*) | ২২ অক্টোবর ২০১৩ ০৯:৩২46929
  • রাহুল। এখানে উপরের লেখাটা নিয়ে মতামত দেওয়া যায়। আপনি অন্য একটা সুতোয় এটা লিখেছেন। আবার এখানে এটা পোস্ট করার মানে কি বুঝলাম না।
  • Beetlay Barujjey | 24.97.98.24 (*) | ০৪ নভেম্বর ২০১৩ ০৮:০২46931
  • "যাহা আছে তহ নাই আর নাই যাহা আছে"
    (কহিবরে শেষ-মেশ এতুকুই বাচে)
  • বিপ্লব রহমান | 9001212.30.8934.168 (*) | ০৯ জুলাই ২০১৮ ১০:২৫46932
  • "জবসে পিয়া পরদেস গমন কিনু।
    রতিয়া কাটত মোহে তারে গিন গিন।
    গ রে গ গ। পিয়া বিন।"

    মুগ্ধতা জানিয়ে গেলাম।
  • করোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • গুরুর মোবাইল অ্যাপ চান? খুব সহজ, অ্যাপ ডাউনলোড/ইনস্টল কিস্যু করার দরকার নেই । ফোনের ব্রাউজারে সাইট খুলুন, Add to Home Screen করুন, ইন্সট্রাকশন ফলো করুন, অ্যাপ-এর আইকন তৈরী হবে । খেয়াল রাখবেন, গুরুর মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করতে হলে গুরুতে লগইন করা বাঞ্ছনীয়।
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত