এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • জার্মানী ডায়েরী - ৩

    Farha Kazi লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | ৫৬২০ বার পঠিত
  • জুতোপর্ব:

    নতুন দেশ, ঝাঁ চকচকে রাস্তা... ছবির মতো শহর, সাজানো গুছানো এক্কেবারে সিনেমার মতো।
    আহা ইউরোপ শুনলেই DDLJ এর শাহরুখকে মনে পরে।
    “তুঝে দেখা তো এ জানা সনম”... আল্পস পর্বত, রাইন নদী, বরফ, টয়ট্রেন, নীল আকাশ, রাস্তাভর্তি টিউলিপ, ড্যাফোডিল! কি সুন্দর ভাবতে লাগে না?

    ক্লাস টেনে আমাদের ইংরাজী পাঠ্যবইয়ে কবি ওয়ার্ডস ওয়ার্থের একখান কবিতা ছিলো... ড্যাফোডিল!

    “When all at once I saw a crowd,
    A host, of golden daffodils;
    Beside the lake, beneath the trees,
    Fluttering and dancing in the breeze. “

    কবিতাখান পড়েই আমার ধারণা হয়েছিলো এই ফুল হলুদ রংয়ের না হয়ে যায়না... একে হলুদ হতেই হবে! নীল নদীর ধারে হলুদ ফুল, সবুজ ঘাস ছাড়া আর কিছু হতেই পারে না।

    গতবছর মার্চে জার্মানী এসেই রাস্তার ধারে ধারে একগাদা হলুদ ফুল দেখে দৌড়ে গিয়ে বলেছিলাম ড্যাফোডিল!
    অথচ ফুলটাকে আমি কখনো এর আগে দেখিনি।
    লোকজন হাঁ করে বোধহয় ভাবছে মেয়েটা ফুল দেখে অমন আশ্চর্য হয়ে গেছে কেন?
    এদেশের বনে জঙ্গলে ড্যাফোডিল জন্মায়!
    ওয়ার্ডসওয়ার্থের ড্যাফোডিল! এসব দেখার জন্যই তো জীবন সার্থক।

    হাইডিকে মনে আছে, আর ক্লারা? আমি হাইডির শহরের খুব কাছে থাকি.. আমার বাস ফ্র্যাঙ্কফুর্টের খুব কাছে!
    আমি জীবনে কখনোই ভাবিনি যে আমি সত্যি সত্যি হাইডির আল্পস দেখবো !!!
    আচ্ছা, এটাকে আমার শহর বলা যায়কি? থাকছি যখন আপন করে নিতেই তো হবে। আমার এই নতুন শহরের বুক চিরে বইছে রাইন নদী। রাইনকে বড্ডো কাব্যিক নদী মনে হয় আমার... নীল, শান্ত, কবিতার মতো নদী।

    এখানে এসেই প্রথম দরকারি কাজ হলো জুতো কেনা।
    আমাদের ভারতের জুতো এখানে কার্যকরী না। ঠান্ডায় জমে যাবে ও জুতো পরলে! এখানের জুতোগুলো বুটের মতো.. লম্বা এবং ফ্যাশনেবল! এখানের ফ্যাশন বলতে ঐ জুতো, জ্যাকেট আর টুপি!
    এইগুলোকেই কায়দা করে পরতে হবে!
    ভারতের মতো রঙীন প্রজাপতি সেজে ঘুরে বেড়ানো জাস্ট স্বপ্ন!
    আমার সব শর্ট ড্রেসগুলো কলকাতায় আলমারী বন্দী হয়ে, আম্মু একটাও আনতে দিলো না! বললো শীতের দেশে তুমি এসব ছোটো পোষাক নিয়ে করবে কি? এখানেই থাকুক। এখানে এলে বরং পরবে! তুমি ওখানে গিয়ে কিনে নেবে দরকারী জিনিষপত্র!
    অগত্যা... শপিং করতেই হবে!

    তৌসিফের সাথে বাজার যাওয়া মানে নাইটমেয়ার!
    উনি দুদিন ধরে উইন্ডোশপিং করবেন... তিনদিন ধরে দাম দেখবেন। তারপর কোনো জিনিষ কিনবেন!
    চারদিন দোকান ঘোরার পরে একটা সাদা খাতা কিনেছিলো ! তাও আমি যখন খেপে গেছি তখন! এমন পাবলিক আমি আমার জীবনে দুটো দেখিনি!
    সাদা খাতা কিনতেও যে কারোর উইন্ডো শপিং লাগে আমার সত্যিই জানা ছিলো না!
    জুতোর ক্ষেত্রে উনি যে ভালোই জ্বালাবেন তা বুঝে গেছি... কতদিন লাগাবে কে জানে!
    তাই আমি আগেভাগে বলেই দিলাম ওসব উইন্ডো শপিং টপিং
    আমি করিনা! আমি ডাইরেক্ট শপিং করি! কিনবো তো ভারি একটা জুতো, তারজন্য পঞ্চাশ দিন ধরে দোকান ঘুরতে পারবো না! আর ঐ পাঁচশো ইউরো দিয়ে একটা জ্যাকেট, দুশো ইউরো দিয়ে একটা জুতো কিনে চারবছর কাটাতেও পারবো না!
    পাঁচশো ইউরোতে আমার দশটা জ্যাকেট হয়ে যাবে!
    মেয়েদের জীবনে দাম ম্যাটার করে না! ফ্যাশন আর সৌন্দর্য ম্যাটার করে! সস্তা এবং টিকাও যাকে বলে!
    জুতোর দোকানে ঢুকে নানারকম জুতো দেখার পরে আমার দুইখান জুতো পছন্দ হলো! তৌসিফের হাবভাব বাপ টাইপ হয়ে গেছে... দুইখানা জুতো ও কিনে দেবে না মনে হচ্ছে! আমারও সম্মানে লাগছে বলতে যে দুটোই আমার চাই... জীবনে প্রথমবার এইরকম কারোর কাছে কিছু কেনার জন্য নির্ভরশীল! এইবার মনে হচ্ছে শালা বিয়েটা কেন করলাম! একটা জুতোর জন্য এই অবস্থা! দিব্যি ছিলুম দেশে... চাকরি বাকরি করছিলাম, দেদার ফূর্তি, শপিং,মস্তি! কি চক্করে পরলাম মাইরি!
    তা এ ছেলের বোঝা তো উচিত যে আমার দুটো জুতোই পছন্দ হয়েছে! আমাকে মুখে কেন বলতে হবে যে দুটো জুতোই কিনবো!
    আশা করে আছি উনি বলবেন তোমার দুটোই যখন পছন্দ, দুটোই নিয়ে নাও! কিন্তু ঐ যে বললাম ছেলের হাবভাব কেমন বাপ টাইপের হয়ে গেছে! আমার থেকে সাড়ে তিনমাসের ছোটো ছেলের হাবভাব দ্যাখো!
    কোথায় সকালে উঠে গুরুজনকে পেন্নাম করবে তা নয় জুতোর জন্য হাবভাব নিচ্ছে!
    হুহ! আমারও সময় আসবে!
    নতুন দেশ, তাই আবার অচেনা... অতএব চুপচাপ একখানা জুতো নিয়ে গোমড়া মুখে রওনা বাড়ির পথে!
    খুব হাবভাব নিচ্ছিলে না? এবার দ্যাখো মজা!
    জাস্ট কথা বন্ধ করে দিলাম। এতো বড়ো হাঁদা, বাড়ি আসার পাক্কা দুঘন্টা পরে উনি বুঝলেন কেস গোলমাল!
    আমার মতো বাচাল মেয়ে কথা বলছে না দেখে দশমিনিটে যেখানে বুঝে যাওয়ার কথা, সেখানে ওনার লাগলো দুঘন্টা!
    মাথায় কোন মান্ধাতার আমলের প্রসেসর লাগানো কে জানে!
    ব্যস আমি তো স্পিকটি নট যাকে বলে সাইলেন্ট মোডে চলে গেছি!
    একে তো বউকে রাগানো মানে বাঘের বাসায় হাত দেওয়া, তাই আবার নতুন বউ! কত রথী মহারথী বউয়ের কাছে জব্দ হয়ে গেলো, সেখানে ইনি তো চুনোপুঁটি! যাইহোক ওষুধের ডোজ পড়ে ছেলে এক্কেবারে ঠান্ডা, বাপ মোড থেকে ভিজে ইঁদুর মোডে চলে গেছে!
    পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি ঘর ফাঁকা, কেউ নেই! শনিবার ছুটির দিনে গেলো কোথারে বাবা!
    দরজা খোলার আওয়াজ... দেখি বাবুমশাই এক হাতে জুতোর প্যাকেট আর অন্য হাতে চকোলেট নিয়ে হাসি মুখে ঢুকছেন!!
    দেখেশুনে একটাই প্রবাদ মনে এলো “সেই যখন মল খসালি, তবে কেন লোক হাসালি?”
    অবশ্য এসব কান্ড না করলে লেখার রসদ পাবো কোত্থেকে... এটা ভেবে ক্ষমাসুন্দর চোখে চকোলেটটা খেয়ে ফেল্লুম!
    ও হ্যাঁ, বলতে ভুলে গেছি আমি সব শেয়ার করতে পারি, কিন্তু চকোলেটের শেয়ার দিইনা কাউকে।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ব্লগ | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | ৫৬২০ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • পাতা :
  • dc | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৪:৩১64391
  • শপিং এর থেকে বোরিং আর কিছু হয়না। আমাদের পরিবারের যা কিছু জামাকাপড় বা ফার্নিচার সব আমার স্ত্রীই কেনেন। তবে হ্যাঁ, আমার শপিং হ্যাবিট নিয়ে একটি অমর উক্তি করেছিল আমার শালাবাবু। শালাবাবু হলেন ফ্যশান ডিজাইনার, ব্যাঙ্গালোর-প্যারিস ছোটাছুটি করে ওনার সময় কাটে। বিয়ের সময়েও আমার জামাকাপড় কিনবে বলেছিল, সেটা তো কোনরকমে কাটিয়েছিলাম। বিয়ের পর একবার আমাকে চেপে ধরেছে, সঞ্জয়দা তোমার ঠিক কিরকম ধরনের জামা পছন্দ বলো তো? কিরকম রং, মেটিরিয়াল, কাট? তা আমি বলেছিলাম, ভাই আমি দোকানে ঢুকে প্রথম যেটা চোখে পরে সেটা নিয়ে ট্রায়াল রুমে ঢুকি, সেটা ফিট হলে নিয়ে চলে আসি। আর গ্রে রং হলে বিশেষ পছন্দ হয়, আর কোন রং চাইনা। তাতে খানিক চুপ করে থেকে শালাবাবু বলেছিল, তোমার মতো সবাই হলে তো আমাদের ডিজাইনারদের দলটাই উঠে যাবে! এটা নিয়ে এখনো সবাই আমাকে খ্যাপায় ঃ(
  • Mani | ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৫:০৩64394
  • এদিকে বলছেন চাকরী করতেন,কিন্তু মার ই্চ্ছে মতন পোষাক পরতে হয়, স্বামীর কাছে পুরোপুরি ভাবে আর্থিক ভাবে ব্শ্যতা স্বীকার।।।।এগুলো আহ্লাদীপনা হোলে ঠিক ই আছে,না হলে একটু পরেই খুব একপেশে শোনাতে লাগবে। লেখার স্টাইল টা ভালো বলেই বলা আরকী।
  • Munia | ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৬:২২64395
  • মুচমুচে খাস্তা!
  • বিপ্লব রহমান | ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৬:৪৮64392
  • বেশ কুড়মুড়ে, আহ্লাদী লেখা। দারুণ লাগছে পড়তে।

    তারপর?
  • Farha Kazi | ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১১:১৭64396
  • সমালোচনা করতে চাইলে করা যায় বইকি।
    যে মানুষ মতামত আর জোরের পার্থক্য বোঝেনা তার সাথে আলোচনা মানে সময় নষ্ট। তাও বলি, আমার মা বা অন্য কেউ আমার পোষাক বা অন্য ব্যাপারে নাক গলায়না। শীতের দেশ বলে গরমের পোষাক গুলো আনতে বারণ করে অপরাধ কিছু করেননি তিনি। আপনার বাড়িতে হয়তো এসবকে জবরদস্তি ধরা হয়, আমি এগুলোকে মতামত হিসাবেই নিই।
    দ্বিতীয়ত, বিয়ে করে চাকরি ছেড়ে আমি বরের সঙ্গে থাকবো নাকি চাকরি নিয়ে আলাদা থাকবো এটা আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। বাইরের লোকের পাকামো পছন্দ করিনা। আপনি লেখার সমালোচনা করতেই পারেন।।। কিন্তু আমি ব্যক্তিগত জীবনে কি করবো সেটা একান্তই আমার নিজের, আপনি সেখানে বহিরাগত।
  • AS | ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১২:৫৪64393
  • খুব ভালো লাগল। আরো পড়ার অপেক্ষায় থাকলাম
  • বিপ্লব রহমান | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০১:৩৩64399
  • পাকামোর পাটকেল ভাল হয়েছে। ব্রাভো!
  • dc | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০২:৪৬64401
  • আমার মনে হয় সামান্য একটা লেখা নিয়ে এতো সব বিশেষণ না ব্যবহার করলেই ভালো, যেখানে নিজের জীবন নিজের মতো করে বাঁচার স্বাধীনতা সবার আছে।
  • paps | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৩:৪১64402
  • জুতোপর্ব ভালই হয়েছে। বেশিরভাগ ড্য়াফোডিল শুধু হলুদ হলেও সাদা পেট্যাল ড্য়াফোডিলও হয়। এটিকে হিন্দি/উর্দু এবং পারসিক ভাষায় নার্গিস বলে। জার্মান, ডাচ ইত্য়াদি ইউরোপিয়ান ভাষাতেও নারজিস বা নারশিস বলে। বিদ্রোহী কবির অনেক গানেই এই ফুলের নাম এসেছে। Self-obsession-জনিত মানসিক অস্বাভাবিকতাকে narcissism কেন বলে তা অবশ্য় আমার বুদ্ধির অতীত।
  • paps | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৩:৫০64403
  • ডিসি কে ডিট্টো
  • Atoz | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৫:০৪64404
  • নার্সিসিজম এর ব্যাপারটা গ্রীক উপকথা বা মিথ থেকে এসেছে। নার্সিসাস বলে এক তরুণ রাখাল খুব টিপটপ ছিল, সেজেগুজে নিজের মতন থাকতো, কারুকে প্রেম ভালোবাসা ইত্যাদি নিজেও জানাতো না, অন্য কেউ জানালেও ইগনোর করতো বা প্রত্যাখ্যান করত। ইকো বলে এক সুন্দরী মেয়ে নার্সিসাসকে ভালোবেসে ফেলেছিল, প্রত্যাখ্যাত হয়ে মারা যায় মেয়েটি। মিথ অনুসারে সে প্রতিধ্বনি হয়ে যায়, গুহা গহ্বরে বাস করে। এ হেন নাকউঁচু নার্সিসাস একদিন মারাত্মক প্রেমে পড়ে গেল তার নিজের প্রতিবিম্বের, জলের ধারে ঝুঁকে পড়ে নিজের মুখখানির প্রতিবিম্ব দেখেছিল ও। কিন্তু ধরতে গেলেই মিলিয়ে যায় প্রতিবিম্ব। নার্সিসাস ঐখানে জলের ধারে বসে থেকে থেকেই মরে গেল। মিথ অনুযায়ী সে হয়ে গেল নার্সিসাস/ নার্গিস ফুল, আজও জলের ধারে ঝুঁকে পড়ে নিজের মুখ দেখছে। সেই কাহিনি থেকে মারাত্মক আত্মপ্রেমের মনোবিকারের নাম হয়েছে নার্সিসিজম।
  • রিভু | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৫:৩৫64405
  • ^^ এইটা সুকুমার রায়ের লেখায় পড়েছিলাম খুব ছোটবেলায় :)।
  • paps | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৭:০৯64406
  • আতোজ কে অনেক ধন্যবাদ। এই মিথটা অনেক আগে পড়েছিলাম কিন্ত্তু একেবারেই ভুলে গেছিলাম। ভাবছি আর্লি ডিমেনশিয়া হল নাকি।
  • Mani | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৯:০২64400
  • নিজেই নিজের জীবন নিয়ে লিখছেন, কিন্তু সমালোচনা হোলেই নার্ভাস ! প্রথমপুরুষে লেখার এই তো মুসকিল!আর "আমার চয়েস আমি বিয়ের পর কি করবো " এটা এই সব "বরে পোষা" মহিলারাই বলে থাকেন, কারন তাদের প্লেটের খাবার টা তারা নিজে আনার কাজটা করে উঠতে পারেন না।নিজের মত মতো নিজের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না সে টা তো নিজেই লিখছেন। লেখার স্টাইলের ভালো দিকের কথা টা দেখতে পেলেন না, এই আফসোস
  • modi | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১২:৩১64398
  • মিষ্টি লেখা।

    তবে আত্মজৈবনিক লেখা প্রকাশ করলে বহিরাগতদের কিছুটা অন্দরে আমন্ত্রণ করা হয় মনে হয়।
  • modi | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১২:৩১64397
  • মিষ্টি লেখা।

    তবে আত্মজৈবনিক লেখা প্রকাশ করলে বহিরাগতদের কিছুটা অন্দরে আমন্ত্রণ করা হয় মনে হয়।
  • ফারহা | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৪:৩৪64407
  • আমার জীবন নিয়ে সমালোচনা করার অধিকার বাইরের লোকের নেই। তারা আমাকে খাওয়ায় পরায় না। আমি অসুস্থ হলে তাদের কিচ্ছু ছেঁড়া যায় না। আপনি নিজের পাকামো এবং অসভ্যতা নিজের কাছেই রাখুন।
    ওসব বালবিচি আমাকে না দিলেও চলবে। একটা প্রবাদ আছে অয়েল ইওর ওন মেশিন বা নিজের চরকায় তেল দিন।
    আমার চরকায় তেলের অভাব নেই।
  • ফারহা | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৪:৩৬64408
  • সাদা ড্যাফোডিল দেখেছি। ঠিক সাদা নয়, পানসে পারা।
    আর নার্সিসিজমের গল্প শুনে খুব ভালো লাগলো। অজানা জিনিষ জানতে পারলাম। ধন্যবাদ।
  • Rabaahuta | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৬:০৮64409
  • পাবলিক ডোমেনের কন্টেন্ট নিয়ে আলোচনা সমালোচনা ভিন্নমত তো অপ্রত্যাশিত কিছু নয়।

    সে যাই হোক, শ্যামাপোকা টই মনে পড়লো মন্তব্য প্রসঙ্গে।
  • রুকু | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৭:৫৪64410
  • ভালো লাগছে পড়তে। :-)
  • ফারহা | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৯:১৯64411
  • অবশ্যই লেখার সমালোচনা হবে। কিন্তু যারা এখানে শুধুমাত্র আমি বরের টাকায় কি কিনেছি বা কেন কিনিনি সেই নিয়ে সমালোচনা করতে ব্যস্ত তাদের মুখে জুতোর বাড়ি ছাড়া আর কিছু দিতে ইচ্ছা করছে না।
    কোনো মেয়ে চাকরি করবে কি করবেনা অথবা প্রয়োজনে কিছুদিনের জন্য চাকরি থেকে অবসর নেবে কিনা সেটা তার নিজের ব্যক্তিগত সমস্যা। বাকিদের নাক না গলালেও চলবে।। এটুকুই বলার।
  • কমলাকান্ত | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৭:৪৩64412
  • কমলাকান্ত বলিয়াছিল তার জীবিকা ব্রাহ্মণভোজনের নিমন্ত্রণ গ্রহণ। তাহা হইলে পতিগৃহে মূল্যবান আসবাব হইয়া থাকা সমস্যার বিষয় হইবে কেন ? রুদ্র মহম্মদ শহীদুল্লাহ তাঁর একটি কবিতাতেও বলিয়াছিলেন যে সমকালীন সুন্দরীদের তিনি অভিজাত পুরুষদের ড্রয়িংরুমে উঠে যেতে দেখেছেন মূল্যবান আসবাবের মতো। কে কীভাবে ভালো থাকিতেছেন সেটিই গুরূত্বপূর্ণ বিষয়। এভাবে তাঁর ভালো থাকা নৈতিকতা প্রগতিশীলতা সম্মত নহে - একথা বলিবার কোনও প্রয়োজনই পড়ে না। ভালো থাকা আগে, নৈতিকতা প্রগতিশীলতা পড়ে।
  • কুন্তক | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৭:৪৫64413
  • ঝকঝকে দারুণ লেখা। সামান্য আদুরেপণা মিশে লেখাটাকে পরম রমণীয় করেছে। মিঠে খুনসুটির নরম রোদ ছড়ানো শীতকালের দুপুরের এই লেখায়।
  • k | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৭:৫৪64414
  • .
  • Mani | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৮:১৮64415
  • এই তো লেখিকার আসল চেহারা বেরিয়েছে। খিস্তি ছাডা আর কি ই বা করবেন। কর্মহীন অলস মস্তিষ্ক,এরা তো কিসের কারখানা তাই না? আপনার চরকায় তেল টা জোন্য কাজকর্মের ভার টা তো আবার তিন মাস ছোটো বেচারী স্বামী টির ওপর! ঘারে চেপে যে কদিন চলে, নিজের জোগ্যতা থাকলে তো আপনার অফিস আপনাকে বিদেশে পাঠাতো।অব্শ্য আপনাকে ভাষা আর অসিহিণ্ষুতা দেখে বোঝার অসুবিধা নেই পিপল স্কিল আপনার থাকার ক্থা নয়।অভিনন্দন !স্বামীর পোষা আসবাব হয়ে থাকুন।।।মানে জে কদিন ওনার ভালোলাগে আরকী।।।কারণ এই স্বভাব তো চাপা জাবে না।।।।এবার আমার বানান ভুল গুলো নিয়ে খিস্তি শুরু কোরুন।ওটা ভালো পারবেন!
  • পুপে | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৭:৫৯64418
  • এই মিষ্টি লেখাটা পড়তে গিয়ে মনে পড়ে গেল যখন লিখেই ফেলি ল্যাদ কাটিয়ে।

    পুনের নতুন সংসার- যখন পাতা হয়েছিল তখনো শীত পড়ে নি কো; নিজেদের নামের গ্যাস কানেকশন, নতুন ফ্রিজ, চকচকে বাসনকোসন, অনভ্যস্ত হাতের ডাল- ভাত - মাছ মেঝেতে বাবু হয়ে বসে খাওয়া, চলছিল সব ভালোই। গোল বাঁধল শীতকালে।
    প - এবার টেবিল চেয়ার কিনতে হবে, মেঝেতে ঠাণ্ডায় বসে খাওয়া যাচ্ছে না।
    অ - একটা চাদর পেতে বসলে হয় না?
    প - না
    অ - আচ্ছা, পরের মাসে কিনব।

    (পরের মাস)
    প - টেবিল চেয়ারটা এ মাসে কেনার কথা ছিল না?
    অ - শীত তো প্রায় কমেই এল ...

    (তার পরের মাস)
    প - আমি দেখে এসেছি। প্লাস্টিকের চেয়ার টেবিল, পা গুলো খুলে রাখা যায়। ১৫০০ টাকার মধ্যে দাম।
    অ - বাইরের ঘরটা কি সুন্দর খালি খালি। টেবিল কিনলেই ভর্তি হয়ে যাবে না কেমন ?

    (পরের পরের মাস)
    প - ৳@!!%ঁ&...
    অ - (নীরবতা)

    (পরের দিন)
    অ - দরদাম করে ১২০০ টাকায় দিয়ে দিল। ভালোই দর করেছি, বল?

    (এক বছর পর)
    অ - তুই টেবিলে খাবি না?
    প - সিনেমা টা কিছুটা মিস হয়ে যাবে না? চল না, থালা নিয়ে ও ঘরের মেঝেতে বসেই খাই...।

    (সমাপ্ত)
  • pi | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৮:১৮64419
  • এটা ব্যাপক মিষ্টি!!
  • dc | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৮:৫২64420
  • সব্বার উচিত বিয়ের পর কবছর দুজন মিলে আলাদা থাকা। হ্যান্ডস ডাউন জীবনের সেরা সময় ঐ কয়েকটা বছর।
  • avi | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৯:০৫64421
  • - দ্যাখ, এইখানে এই বোতলে যেটা আছে, সেটা কিন্তু টয়লেট পরিষ্কার করার অ্যাসিড। ওটা ভুল করে খেয়ে নিবি না।
    - মানে? ওটা কেন খাব?
    - খাবি না। সেটাই বলছি।
  • | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৯:৩০64422
  • কিই মিত্তি মিত্তি সব গপ্পো
  • পাতা :
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। বুদ্ধি করে মতামত দিন