আম আদমি, ডিজেল , খাদ্য ভর্তুকি ইত্যাদি : দেবর্ষি দাস
বুলবুলভাজা | আলোচনা : বিবিধ | ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ | ১২৪৯ বার পঠিত | মন্তব্য : ২
সম্প্রতি অমর্ত্য সেন আনন্দবাজারে ও এক বেসরকারি টিভি চ্যানেলে খাদ্য ও পেট্রোপণ্যে ভর্তুকি নিয়ে বক্তব্য রেখেছেন।দুটো সাক্ষাৎকারের ব্যাপ্তিই ভর্তুকির বাইরে গেছে। তবে আমরা এই আলোচনায় কেবল ভর্তুকিতে নজর রাখব। তার কারণ কেন্দ্রীয় সরকার ডিজেলে ভর্তুকি পুরোপুরি তুলে দেবে, মন্টেক সিং আলুওয়ালিয়া সেরকম ইঙ্গিত দিয়েছেন। দ্বিতীয়ত, সংসদে খাদ্য নিরাপত্তা আইন পেশ করা হবে, এরকম একটা গুজব শোনা যাচ্ছে। খাদ্য নিরাপত্তা আইনের ভর্তুকির চাপ নিয়ে জল্পনা কল্পনা চলছে।
কালো টাকার ওপর সার্জিকাল স্ট্রাইক ও তারপর : দেবর্ষি দাস
বুলবুলভাজা | আলোচনা : বিবিধ | ১৪ নভেম্বর ২০১৬ | ২৪১০ বার পঠিত | মন্তব্য : ২১
কারা নগদে কেনাবেচা করেন? একটা অংশ অবশ্যই অসাধু ব্যবসায়ীরা, কেননা বৈদ্যুতিন কেনাবেচাতে রেকর্ড থেকে যায়। তবে অনুমান করা শক্ত নয় দুর্বল আর্থিক সামর্থের ক্রেতা বিক্রেতাদের “ক্যাশলেস ইকনমিতে” উত্তরণ হয় নি। তাঁরা ওই ৮৬%-এ আছেন। কেন এতো লোক নগদে কেনাবেচা করেন? কারণ খুব কম লোক ব্যাঙ্ক এ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেন। মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫৪%-এর ব্যাঙ্ক এ্যাকাউন্ট আছে। আবার মোট এ্যাকাউন্টের ৪৩ % সুপ্ত (ডরম্যান্ট) অবস্থায় পড়ে আছে। অর্থাৎ, মাত্র ৩০% লোক ব্যাঙ্ক এ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেন। এদের মধ্যে একটা ছোট ভগ্নাংশের কাছে আছে প্লাস্টিক টাকা কিম্বা নেট ব্যাঙ্কিং। অর্থাৎ এক বিশাল সংখ্যাগুরু জনতা নগদ দিয়ে কাজকারবার চালাচ্ছে। যাদের কার্ড আছে তারাও অনেক কেনাবেচা নগদে করতে বাধ্য থাকেন। ক্রেডিট কার্ড থাকলেও খুব কম লোকই ক্রেডিট কার্ড দিয়ে পাড়ার বাজার থেকে তিন মুঠো পালং শাক কেনেন, বা রিক্সাওয়ালার ভাড়া চোকান।
নোটবন্দীর ন’মাস : দেবর্ষি দাস
বুলবুলভাজা | আলোচনা : বিবিধ | ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | ১৬৫২ বার পঠিত | মন্তব্য : ৮
ডিজিটাল ব্যবসার বহর বেড়েছে, জেটলিজি বলেছেন। প্রথমত, আদৌ বেড়েছে কিনা সন্দেহের ঊর্দ্ধে নয়। নভেম্বর ডিসেম্বরে ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড, চেক, ইত্যাদি অ-নগদী লেনদেন এক ঝটকায় বেড়ে গেছিল। তারপর কিন্তু ডিজিটাল বা অন্যান্য অ-নগদী কেনাবেচার পরিমাণ ক্রমাগত কমে আসছে। দীর্ঘকালীন প্রবণতায় যতখানি বাড়ার কথা ডিজিটাল কেনাবেচারপরিমাণ তার বেশি বাড়ে নি। কারণ সহজবোধ্য। লোকে ঠেকায় পড়ে ডিজিটালে গিয়েছিল, শখ করে যায় নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আগের অভ্যাসে ফিরে এসেছে, কারণ ডিজিটাল পেমেন্ট অনেক সময় খরচা বাড়িয়ে দেয়। দ্বিতীয়ত, ইতিমধ্যে সরকার এটিএম থেকে নগদ টাকা তোলার মাশুল বাড়িয়েছে। লোকজন নগদ খরচায় আরো হিসেবি হয়ে পড়েছে। ফলে ডিজিটাল ব্যবসা বেড়েছে। তৃতীয়ত, প্রাক-নোটবন্দীর তুলনায় আজকের বাজারে নগদের পরিমাণ কমেছে। এই কমাটা সরকারের সচেতন সিদ্ধান্ত। সরকার কম নগদ ছাড়ছে যাতে লোকে বাধ্য হয় কম নগদ ব্যবহার করতে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, ডিজিটাল ব্যবসা শুরুতে যত বেড়েছিল তার থেকে নেমে এসেছে। শেষ হিসেবে যত বেড়েছে তার পেছনে নোটবন্দীর কতখানি অবদান তা তর্কসাপেক্ষ।
কালো টাকার ওপর সার্জিকাল স্ট্রাইক না পাবলিকের স্ট্র্যাটেজিক হ্যামলেটিং? : দেবর্ষি দাস
বুলবুলভাজা | আলোচনা : বিবিধ | ০৯ জানুয়ারি ২০১৭ | ২৩৯৭ বার পঠিত | মন্তব্য : ১
৮ই নভেম্বর, ২০১৬ মোদিজি নোট বাতিলের ঘোষণা করেছিলেন। তারপর প্রায় ৪৫ দিন কেটে গেছে। খুব শিগগিরি ৩০ ডিসেম্বর আসতে চলেছে। দুটো কারণে ৩০ ডিসেম্বর তারিখ গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে সব বাতিল ৫০০ আর ১০০০ টাকার নোট ব্যাঙ্ক বা ডাকঘরে জমা করতে হবে। দ্বিতীয়ত, মোদিজি এক বিখ্যাত বক্তৃতায় দেশবাসীকে বলেছেন, আমাকে ৫০ দিন সময় দিন।1 ৫০ দিন পর যদি কোনো খামতি বা দুর্নীতি আমার কাজে পান, শাস্তি দেবেন আমায়। মাথা পেতে নেব। তো মোদিজির ৫০ দিনের মেয়াদ ৩০ ডিসেম্বরের আশেপাশে খতম হচ্ছে। এই ৪৫ দিন থেকে কী জানতে পারলাম? ৩০ ডিসেম্বরের পরই বা কপালে কী আছে?
আসামের জনসংখ্যায় বাঙালি ভাগ বাড়ার তাৎপর্য কী? : দেবর্ষি দাস
বুলবুলভাজা | আলোচনা : বিবিধ | ২০ আগস্ট ২০১৮ | ১৬৯১ বার পঠিত | মন্তব্য : ৩
স্থানীয় মানুষের সংস্কৃতি-ভাষা বাঁচানো দরকার এই নিয়ে দ্বিমত থাকতে পারে না। কিন্তু এন আর সি মহাযজ্ঞে অসমিয়া জাতীয়তাবাদীরা আখেরে হিন্দুত্ববাদীদের খেলার বোড়ে না বনে যান। আর, “জাতি খতরে মেঁ হ্যায়” জাতীয় হুলুস্থুলু করার আগে খতরাখানা কী, অনুপ্রবেশের তথ্য কী, প্রশ্নগুলোর নির্দিষ্ট জবাব দরকার।
বামেরা এন আর সি নিয়ে চুপ কেন? : দেবর্ষি দাস
বুলবুলভাজা | অপার বাংলা | ০২ আগস্ট ২০১৮ | ৬৬১৭ বার পঠিত | মন্তব্য : ৩৩
পুরো রাজনীতি আজকে দক্ষিণ দিকে ঝুঁকে পড়েছে। দেশে বলুন বা আন্তর্জাতিক স্তরে, দক্ষিণপন্থী প্রবণতা হাঁ করে দাঁড়িয়ে আছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প সাহেব থেকে বৃটেনের ব্রেক্সিটওয়ালারা থেকে আমাদের খাঁটি স্বদেশি মোদি সরকার – হক্কলে ভূমিপুত্র রাজনীতির ডালে দক্ষিণমুখী বাসা বেঁধেছেন। আসাম ব্যতিক্রম নয়। আসাম আন্দোলনের সময়ে কিন্তু ছবিটা এরকম ছিল না। বামপন্থীরা হিংস্র জাতীয়তাবাদীর স্রোতের প্রতিকূলে গিয়েছিলেন, নিজের রাজনীতি রাখার ধক দেখিয়েছিলেন। বিনিময়ে পার্টি (সি পি আই, সি পি এম – দুই পার্টিই) বহু কমরেডের শাহাদত স্বীকার করেছিল। আজ বছর চল্লিশ পরে দলগুলোর সেই তাত্বিক বা ব্যবহারিক ক্ষমতা দেখা যাচ্ছে না যে একটা ঠিকঠাক রাজনৈতিক লাইন নিতে পারে।
আসামে এন আর সি নবীকরণঃ কী হচ্ছে, ভবিষ্যতে কী হতে পারে : দেবর্ষি দাস
বুলবুলভাজা | আলোচনা : বিবিধ | ২১ জানুয়ারি ২০১৮ | ৫৮৩৫ বার পঠিত | মন্তব্য : ৩৭
বিদেশিদের শনাক্তকরণের অভিযান আসামে অনেকদিন ধরে চলছে। ইলিগাল মাইগ্র্যান্টস (ডিটেকশন বাই ট্রাইব্যুনাল) ও ফরেনারস ট্রাইব্যুনাল – এই দুই আইনি হাতিয়ার দিয়ে বিদেশিদের পাকড়াও করে বহিষ্কার করা হচ্ছিল। এন আর সি নবীকরণ একই উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে, তবে এটা আগেরগুলোর তুলনায় আরও ব্যাপক আর উচ্চাকাঙ্খী প্রকল্প। এন আর সি’র অর্থ ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ সিটিজেনস, ভারতের জাতীয় নাগরিকপঞ্জী। ১৯৫১ সালে স্বাধীন ভারতে প্রথম জনগণনা করা হয়। তখন সমস্ত ভারতীয় নাগরিকের হিসেব নেওয়া হয়েছিল, এন আর সি’তে সে তথ্য ঢোকানো হয়েছিল। আসামে এন আর সি নবীকরণ করা হচ্ছে প্রকৃত নাগরিকদের থেকে বিদেশিদের ছাঁকনি দিয়ে বের করার উদ্দেশ্যে। বিদেশি অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে আসামে একাধিক আন্দোলন দানা বেধেঁছে। আশির দশকের শুরুতে চলা আসাম আন্দোলনে তার সবথেকে বড় রূপ দেখা যায়। আন্দোলন শেষ হয় আসাম চুক্তিতে। ধার্য হয় ২৪ মার্চ ১৯৭১-এর পর আসামে আসা বিদেশিদের সনাক্ত করে বহিষ্কার করা হবে। বাস্তবে বহিষ্কারের কাজ বড় একটা এগোয়নি। একটা হিসেব অনুযায়ী ২০১২ পর্যন্ত ২৪৪২ জনকে বহিষ্কার করা হয়, আর প্রায় ৫৪ হাজার লোককে আদালত বিদেশি সাব্যস্ত করে। অন্য দিকে কেন্দ্র সরকারের গৃহ মন্ত্রকের বিবৃতি বলছে ২০০১ সালে আসামে নাকি ৫০ লক্ষ অবৈধ বাংলাদেশি বসবাস করতেন (সারা দেশে ১ কোটি ২০ লক্ষ)। গৃহ মন্ত্রক কোত্থেকে এই তথ্য জোগাড় করেছে জানা যায় নি।
দারিদ্র্য কমছে ভাল কথা; অপুষ্টি বাড়ছে কেন? : দীপঙ্কর বসু ও দেবর্ষি দাস
বুলবুলভাজা | আলোচনা : বিবিধ | ২৩ জানুয়ারি ২০১৪ | ২০৯১ বার পঠিত | মন্তব্য : ১৭
গত দু’দশকে ভারতের HCR দ্রুত কমে এসেছে। আর্থিক সংস্কার (মানে ১৯৯১-এর পর থেকে নয়াউদারনীতির প্রয়োগ) যে সফল হয়েছে তার প্রমাণ হিসেবে প্রায়শ এই HCR কমে আসার কথা বলা হয়। কী রকম কমেছে একটা ধারণা করে নেওয়া যাক। শহর অঞ্চলগুলোতে HCR কমেছে ৩২% (১৯৯৩-৯৪) থেকে ২১%-এ (২০০৯-১০)। গ্রামীণ এলাকায় কমেছে আরো দ্রুত হারেঃ ৫০% থেকে ৩৪%, একই সময়সীমায়। প্ল্যানিং কমিশনের তথ্য অনুযায়ী ২০০৯-১০-এর পরের দু’বছরে সারা দেশের HCR আরো ৮% কমেছে। ফলে ২০১১-১২-তে দারিদ্র্যের হার ২২%-এ নেমে এসেছে। সরকারি নীতি যারা ঠিক করেন তাঁরা, এবং তাঁদের সেনাপতি কাগজ-টিভিওয়ালারা, গরীবির ওপর জোরদার ধাক্কা নিয়ে প্রভূত আপ্লুত। অর্থাৎ, খুব তো শাইনিং ইন্ডিয়া শাইনিং ইন্ডিয়া করে গালমন্দ দিলে। এই দেখ প্রমাণ, আর্থিক সংস্কার সত্যি সত্যি ভাল কাজ করছে। না না, জনপ্রতি আয়-ফায় বাড়ার কথা বলছি না। সে তো মুকেশদা, রতনকাকুরা বেশি কামালে দেশের জনপ্রতি আয় বেড়ে যাবে, তাতে রামা কৈবর্তের কী এল গেল। ওসব ছেঁদো তর্ক থাক। সংস্কারের সুফল এক্কেবার নিচুতলায় পৌঁছোচ্ছে, বুঝেছ?
জানুয়ারি থেকে আসামে চা শ্রমিকদের রেশন বন্ধ হবে : দেবর্ষি দাস
বুলবুলভাজা | আলোচনা : বিবিধ | ১৯ ডিসেম্বর ২০১৪ | ১৫০৭ বার পঠিত | মন্তব্য : ৪
এ তো গেল রাজ্য সরকার। কেন্দ্র সরকার কেন FCI যোগান বন্ধ করতে গোঁ ধরে বসে আছে সে আরেক রহস্য। দ্বিমত নেই শ্রমিকদের রেশন দেওয়ার দায়িত্ব মালিকের। কিন্তু মালিককে তার দায়িত্ব স্মরণ করানোর কাজে কংগ্রেসের রাজ্য সরকার বা ভাজপার কেন্দ্র সরকার, কারোই কষ্মিণকালে আগ্রহ দেখা যায় নি। হরেদরে শস্তা খাদ্য আসছে FCI-এর গুদাম থেকে, অর্থাৎ সরকারি পয়সাতে। যখন সেই যোগান বন্ধ হতে যাচ্ছে মজুরের রেশন মার খাবে, মালিকের কেশাগ্র বঙ্কিম হবে না। হুট করে বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, আর মালিকের কী করা উচিত উপদেশ বিতরণ করার বদলে, কেন্দ্র সরকার বিভিন্ন পক্ষের (অবশ্যই মালিক ও মজুরপক্ষ) সাথে আলোচনায় বসে সমাধান সূত্র বার করার চেষ্টা করতে পারত। আসলে শ্রমিকের অধিকার কর্তন করাতে কংগ্রেসে ভাজপায় বিশেষ মতভেদ নেই।
এই মুহূর্তে ওপরের ঘটনাবলী কংগ্রেসকে ঘ্যানঘ্যান করার সুযোগ দিয়ে দিয়েছেঃ NFSA লাগু করার জন্য প্রয়োজনীয় টাকা কেন্দ্র সরকার এখনো দেয় নি। মানে, জানুয়ারি থেকে ECA বাদ দিন, NFSA-এর রেশনও পাওয়া যাবে না।
বেসিমারি ও ৫২ নং জাতীয় সড়ক : দেবর্ষি দাস
বুলবুলভাজা | অপার বাংলা | ১২ অক্টোবর ২০১১ | ১১৫৯ বার পঠিত
মিঞাদের আরো নাম আছে। পুরাতন অসমিয়াদের কাছে তারা 'ময়মনসিংগিয়া'। সম্বোধনটি তাচ্ছিল্যমিশ্রিত। তবে এর খানিক ইতিহাসভিত্তি আছে। বৃটিশদের ভূমিরাজস্বের খাঁই ছিল ভরপেট। আসামদেশ দখল করার পর সায়েবদের খেয়াল হল এখানে জমির অভাব নেই। অথচ জনসংখ্যা অপ্রতুল। রাজস্ব বাড়ানোর জন্য জমি চাষে লাগানো দরকার। ব্রহ্মপুত্রের চর, পলিজমি পাট চাষের জন্য উপযুক্ত। কিন্তু চাষ করবেটা কে? বাংলার জনঘনত্ব সেই সময় আসামের কয়েকগুণ। অতএব প্রশাসন পূর্ববঙ্গ থেকে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় চাষিদের আনার উদ্যোগ নিল। এদের প্রায় সবাই মুসলমান ছিলেন, এবং বেশিরভাগ ময়মনসিংহের। কালে পূর্ববঙ্গের মুসলমান মাইগ্রান্ট চাষি মানেই ময়মনসিংগিয়া নাম হল। বর্তমানে তাদের 'ন-অসমিয়া' নাম দিয়ে অসমিয়া সমাজে একাত্ম করার চেষ্টা চলছে। সরকারি প্রচেষ্টা আর কী। মধ্যবিত্ত মানসের অবস্থা বাসের মত।
পাট চাষ নিয়ে এই লেখা,মাঝখানে শিবের গীত এসে গেছে। পরশু, ১০ অক্টোবর বেসিমারি গঞ্জে পুলিশের গুলিতে ৪ জন পাট চাষি মারা গেছেন, অনেকে আহত। দাবি ছিল পাটের জন্য ন্যায্য দামের, পাটের স্তুপ বানিয়ে ৫২ নং সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পুলিশের মাথায় ঢিল পড়লে পুলিশ কয়েন, মানে গুলি, ছোঁড়ে।
তেলের দামের আর্থ-রাজনীতি : দেবর্ষি দাস, দীপঙ্কর বসু, পানাইয়োটিস টাকি ও শিব শেঠী
বুলবুলভাজা | আলোচনা : বিবিধ | ০২ আগস্ট ২০১০ | ১৮৩৮ বার পঠিত
মোটামুটি তিন ধরনের প্রতিক্রিয়া ইংরিজি খবর মাধ্যমগুলোতে দেখা গেল। প্রথমত, বাজার পেট্রল ও ডিজেলের দামের বিনিয়ন্ত্রণকে উল্লাসের সাথে গ্রহণ করল, প্রতিফলন দেখা গেল তেলের শেয়ারের চড়া দামে । দ্বিতীয়ত, জোরালো অভিযোগ উঠতে থাকল যে এই নীতিপরিবর্তন যথেষ্ট নয়। কেরোসিন ও এলপিজির দামের ওপর ন্যূনতম সরকারি নিয়ন্ত্রণ আছে। তেল ও ডিজেলের বিনিয়ন্ত্রণের পরও তাই
OMC
গুলোর লোকসান এই আর্থবছর ২০১১-তে ৫৩০০০ কোটি টাকা হতে চলেছে। তৃতীয়ত, বিভিন্ন বিরোধী দল নিয়মমাফিক রীতিতে একটি "ভারত বনধ' পালন করে।
ভারতবর্ষের তেলের দামের আর্থ-রাজনীতিকে খুঁটিয়ে দেখার আগে তিনটি প্রশ্নের জবাব খুঁজে নেওয়া যাক। ......
তৃতীয় প্রশ্নটি ভারতবর্ষের তেলের দাম নিয়ে সযত্নে তৈরি করা রূপকথা সম্পর্কিত। এই রূপকথাটির একটি জরুরি উপাদান হল তেলের (মানে পেট্রল, ডিজেল, কেরোসিন, এলপিজি) দামে সরকার বাহাদুর আমাদের বিপুল পরিমানে ভর্তুকি দিয়ে থাকেন। সরকারি ঘোষণা, সরকারি নীতি চর্চা বা সংবাদ মাধ্যমে প্রচার করা হয় যে এই ভর্তুকি সরকারি
OMC
গুলোর '
under recovery
' হিসেবে দেখা দেয় ও সরকারি বাজেট ঘাটতিকে (আয় ও ব্যয়ের পার্থক্যকে) বাড়িয়ে তোলে। এই তর্কের পরের ধাপ হল, তেল ভর্তুকি দেশের মূল্যবান সম্পদের অপচয়। সরকারি আয় ব্যয়ের দিক থেকে দেখতে গেলে দীর্ঘকালীন পরিপ্রেক্ষিতে একে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। ভর্তুকির কাট ছাঁট তাই দরকার। কীভাবে করা হবে? পেট্রোÌপণ্যের দামের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ সরিয়ে দিয়ে, যাতে মূল্য বাজারের চাহিদা-যোগান দিয়ে নির্ধারিত হয়।
তেলের দাম নিয়ে মেইনস্ট্রিম মিডিয়ার খবরের ওপর শুধু চোখ বোলালেই এই রূপকথাটি কত জনপ্রিয় মালুম হয়।
মধ্যভারত কথা : দেবর্ষি দাস
বুলবুলভাজা | আলোচনা : বিবিধ | ২৬ জুলাই ২০০৯ | ১১৯৯ বার পঠিত
শুভ্রাংশু চৌধরি ছত্তিসগড়ে Citizens Journalism Initiative ও CGnet-এর প্রতিষ্ঠাতা-সদস্য। ছত্তিসগড়ের একটি সংবাদপত্রে এক সময় নিয়মিত কলাম লিখতেন। একবার রাজ্যের চাষিদের আত্মহত্যার খবর নিয়ে লেখেন। চাপ দিয়ে, মিথ্যেপ্রচারের অভিযোগে তাঁর কলাম বন্ধ করে দেওয়া হয়(১)। শুভ্রাংশু দন্ডকারণ্যের কাছের বালিমেলা জলাশয় ও নিয়ামগিরি পাহাড় অঞ্চলে সাংবাদিকতার সূত্রে গেছিলেন(২)। বালিমেলা জলাশয় নেহরুর আমলের বৃহ্ৎ বাঁধ প্রকল্পের একটি নিদর্শন। অঞ্চলের আদিবাসীদের বহু গ্রাম এর ফলে ডুবে যায়, উচ্ছিন্ন লোকেরা যেখানে গিয়ে নতুন ঘর বাঁধেন সেগুলূ জলস্তর বাড়ার পর বাকি দুনিয়ার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সব থেকে কাছের হাসপাতালে যেতে হলে তিন ঘন্টা লঞ্চ, যা দিনে একটা চলে, ও তারপর দুঞ্চঘন্টা হন্টন। অর্থাৎ মোট ৫ ঘন্টা। স্কুল ৩+৪ = ৭ ঘন্টা। বাঁধের উৎপাদিত বিদ্যুৎ এই গ্রামগুলোতে চার দশক পরেও পৌঁছোয় নি, ওড়িসার বড় শহরগুলোতে চলে যাচ্ছে তারে তারে। জল বয়ে চলেছে হিন্দু উঁচু জাতের চাষিদের জমিসেচের জন্য। উচ্ছিন্ন আদিবাসীদের হাতে যে অনুর্বর জমি আছে তাতে এত কম খাদ্যশস্য হয় যে অধিক অরতথকরী কিন্তু বেআইনি গাঁজার চাষ করে পেট চালাতে হয়। অথচ যে জমিতে তারা মাথা গুঁজেছে বা ফসল ফলাচ্ছে তার কাগজও কিন্তু সরকার তাদের দেয়নি, ক্ষতিপূরণ তো দূর অস্ত।
তিরিশ বছর পর নেলী : দেবর্ষি দাস
বুলবুলভাজা | অপার বাংলা | ৩১ জুলাই ২০১২ | ৩১০৮ বার পঠিত | মন্তব্য : ১০
তো, নেলী আমাদের সাথেই আছে, অনেক দিন ধরে আছে। নেলী, মানে নেলী নামের অঞ্চলটি, আসামের আর পাঁচটা ছোট মফস্বলের মতই। ঘন সবুজ ধানখেত, দিগন্তে মেঘালয়ের কালো পাহাড় দেখা যাচ্ছে, দুএকটা জায়গায় সেগুনগাছ-ঝোপঝাড়, ব্যস্ত বাজার, দূর্গাপূজার মন্ডপ, আর জামাকাপড় থেকে বড়সড় মুসলমানদের জনসংখ্যা অনুমান করা গেল। ১৯৮৩-র দিনটিতে কী হয়েছিল তার কোনো স্মারকচিহ্ন খুঁজে পাওয়া গেল না। তবে এরকমই তো হওয়ার কথা ছিল। দিল্লী ১৯৮৪ বা গুজরাট ২০০২-হত্যাকান্ডকে রাষ্ট্র ন্যূনতম বিচারের মাধ্যমে জবাব দিয়েছে, তার কারণ তাদের প্রেতাত্মারা ফিরে ফিরে আসে। আর নেলী দেশের দূরের কথা, রাজ্যের রাজনীতিতেও এক বিস্মৃত অধ্যায়। গরিব, পাড়াগেঁয়ে মুসলমানরা মরেছে এরকম এক গণহত্যা কে মনে রাখে। দ্বিতীয়ত, যারা মরেছে মরেছিল অবৈধ বিদেশীদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময়। ফলে তাদের সুবিচারের দাবি আরেকটু নড়বড়ে হয়ে যায় বইকি। দিল্লী বা গুজরাটের মৃতদের ঠিকঠাক ধর্ম ছিল না, কিন্তু তারা যে ভারতীয় নাগরিক, অনুপ্রবেশকারী নয় এই নিয়ে সন্দেহের বিশেষ অবকাশ নেই। তৃতীয়ত, হত্যাকান্ড ঘটেছে এক প্রান্তিক প্রদেশে, ভারতীয় মূলভূমি থেকে অনেক দূরে। তাই আমাদের জাতীয় যৌথ বিস্মৃতি ঘণ হয়ে ওঠে। সংক্ষেপে, নেলীর কথা কেউ শোনে না। একটি হত্যাকান্ডের পরোক্ষ বৈধতার জন্য যখন আগের একটিকে খাড়া করা হয়, নেলীর নাম তখনো আসে না। কেননা নেলীর মধ্যে পরবর্তী কোনো হত্যাকান্ডকে বৈধতা দেওয়ার মূল্যটুকু নেই। দেশের যৌথ স্মৃতির কাছে নেলী ঘটেইনি।
একশো দিনের কাজ ও বিশ্বব্যাঙ্ক : দেবর্ষি দাস
বুলবুলভাজা | আলোচনা : বিবিধ | ২৩ মার্চ ২০০৯ | ১১৩৬ বার পঠিত
একশো দিন কাজ প্রকল্প, যার পোষাকি নাম জাতীয় গ্রামীণ রোজগার নিশ্চয়তা প্রকল্প, প্রথম আত্মপ্রকাশ করে কংগ্রেসের ২০০৪-এর নির্বাচনী ইস্তেহারের প্রস্তাব হিসেবে। কংগ্রেস সরকার গঠন করলে আরম্ভ হয় গড়িমসির পালা। শেষে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও বামদলগুলোর চাপে ছুঁচো গিলতে হয়। ২০০৫ সালে কেন্দ্রীয় সরকার এর আইন পাস করে। সব নয়, ২০০টি পিছিয়ে পড়া জেলাতে প্রকল্পের কাজ আরম্ভ হয় ২০০৬ সালে