ক্লান্ত লাগে। ভিডিওটা খুলেছিলাম অনবধানে। আর পাঁচটা যেমন খুলি। খুলে দেখলাম পুলিশ কাদের যেন গুলি করতে করতে তেড়ে যাচ্ছে। একটা লোক হাত তুলে দৌড়ে এল। মারধোর করতে নয়, আত্মসমর্পণের ভঙ্গীতে। পুলিশ তার দিকেও তেড়ে গেল। পুলিশের যা স্বভাব। তারপর লাঠি দিয়ে ধড়াদ্ধম পিটুনি। সঙ্গে কয়েকটা গুলির শব্দ। গুলিটা কোথায় লাগল ঠিক বুঝতে পারিনি। পয়েন্ট ব্ল্যাংকে ওইভাবে কাউকে গুলি করে নাকি? লোকটা পড়ে আছে দেখা গেল। ভাবলাম, এমন করে মারল, যে অজ্ঞান হয়ে গেল? তারপর দেখলাম, ক্যামেরা হাতে একজন, পুলিশের ফটোগ্রাফারই হবে, দৌড়ে গেল পড়ে থাকা শরীরের দিকে। তারপর শরীরের উপরে উঠে জান্তব উল্লাসে নাচ। দেখে আঁতকে উঠে ভাবলাম, মরে যাবে ... ...
জানি তো ফিরবেনাকুলে তো ভিড়বেনাভেঙেছে মাস্তুল, ডুবেছে শিপ। তবুও সন্ধ্যায়বন্ধ জানালায়হঠাৎ ছায়া, বুক কী ঢিপঢিপ। এখনও পড়ে মনেরামনবমী দিনেতোমার জামা আর সিঁদুরে টিপ। তোমার বাণী যত কীভাবে অবিরতছড়িয়ে দিত ওই দুইটি লিপ। সত্যি ফিরবেনা?শিকে কি ছিঁড়বেনা?কখনও কোনোদিন, আর দিলীপ? পু: জীবনানন্দের পরে এমন মরমী কবিতা আর হয়নি। কেউ যদি বুঝতে না পারেন, তো মানেবইএর অংশ হিসেবে বলে দিলাম। ... ...
এবার নাকি রুনু গুহনিয়োগির 'সাদা আমি কালো আমি' অবলম্বনে হিন্দিতে রাজনৈতিক ওয়েবসিরিজ। চারু মজুমদার চরিত্রে নওয়াজ সিদ্দিকি। জ্যোতি বসু চরিত্রে, পরেশ রাওয়াল কিংবা বোমান ইরানি। একটা বাংলা ভারসানও নাকি হবে। নির্ঘাত ডাব-টাব। সত্যি-মিথ্যে জানিনা, ডিজিটাল আনন্দবাজারে পড়লাম। প্রথম রিঅ্যাকশনে আত্মহত্যা করতে ইচ্ছে হয়েছিল। কিন্তু হিন্দি সিনেমার উপর রাগ করে আত্মহত্যা করতে হলে অনেক আগেই করা উচিত ছিল। তা যখন করিনি, এবারও ক্ষান্ত দিলাম। পরের চিন্তাই মাথায় এল, এবার একখানা ফিলিম বানিয়ে ফেলি। কত আর খারাপ হবে। খারাপ হলেই বা কী। যত খিস্তি, তত ভিউ। একদম ইংরিজিতে বানাব। ভারতের ইংলিস মিডিয়াম বিপ্লবী থেকে আমেরিকান আঁতেল, সব্বাই দেখবে। ... ...
এই নিউ নর্মাল আর নেওয়া যাচ্ছেনা। কিন্তু কথা হল, দুঃখের মধ্যে লোকে কী করবে? গান-টান গাইবে। নইলে তো মরে যাবে। জেলখানায় বসে জেলখানার গান গাইবে। অন্ধকারে বসে অন্ধকারের গান গাইবে। এ সব অন্ধকারের গান। তার মানে এই নয়, যে, হেবি সিরিয়াস, গম্ভীর গলায় বসে দরবারী কানাড়া সাধা হচ্ছে। বরং উল্টো। হাল্কা করে টাইম-পাস। অল্প ফুর্তি। সময়টাই তো এরকম। কে জানে আর কদ্দিন। ... ...
ইন্দ্রাণীদি ফেসবুকে নেই। অর্থাৎ, এই নশ্বর পৃথিবীতেই নেই। যেখানে মানুষে-মানুষে যোগাযোগের পোশাকি নাম নেট-ওয়ার্কিং। যেখানে আলোয় ভেসে থাকার জন্য সর্বদা আকুলি-বিকুলির নাম আলোকপ্রাপ্তি। ইন্দ্রাণীদি এসবের বাইরে। তাঁর সাধনা নৈঃশব্দের। বাক্য নিক্তি মেপে। আখ্যান ছেনি হাতুড়ি দিয়ে কোঁদা। সেও এক ম্যাজিক, তবে অন্ধকারের। যেখানে পৃথিবীর কিমাকার ডায়নামোর পরে মহীনের ঘোড়ারা ঘাস খেতে আসে, এ সেসব এলাকার কাহিনী। হুড়োহুড়ি, গুঁতোগুঁতিতে ইন্দ্রাণীদি নেই। তার বাইরের যে অন্ধকার ইন্দ্রাণীদির ম্যাজিক সেই অঞ্চলের। ইন্দ্রাণীদির প্রথম গল্পের বইয়ের নাম ছিল 'পাড়াতুতো চাঁদ'। যা দেখিয়ে দিয়েছে, নিঃস্তব্ধতারও কিছু অনুসারী আছেন। হয়তো সংখ্যায় বেশিই আছেন, দেখা যায়না, কারণ তাঁরাও নিঃস্তব্ধ। "আমি নিজেকে পড়ুয়া বলে মনে করি, কিন্তু ইন্দ্রাণীর খোঁজ ... ...
বেনেগাল লিখেছেন, "বোম্বের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি সবসময়েই ভেবেছে, সত্যজিৎ রায় ভারতের জন্য ঠিক কাজ করছেননা। রাজকাপুরের সঙ্গে তাঁর একবার বিরাট ঝামেলা হয়েছিল। রাজ কাপুরের সিনেমা 'জাগতে রহো' পরিচালনা করেছিলেন বাংলার বিখ্যাত নাট্যপরিচালক শম্ভূ মিত্র। সিনেমায় সত্যজিৎ রায়ের যা উচ্চতা, নাটকে তিনি তার সমানই ছিলেন। শম্ভূ সিনেমাটা বানিয়েছিলেন, এবং ১৯৬৪তে কারলভি ভেরি উৎসবে সেটা রাজকাপুরকে সেটা একটা পুরষ্কারও জিতিয়ে দেয়। ওই একই বছর ভেনিসে অপরাজিত জেতে স্বর্ণ সিংহ। তারপর রাজকাপুর এবং সত্যজিৎ রায়ের কোনো একটা অনুষ্ঠানে দেখা হয়। সত্যজিৎ বলেন, বাংলা সিনেমার জন্য এটা একটা বিরাট সম্মান। রাজ কাপুর বলেন, 'বাংলা কেন, আপনি ভারতীয় না? আপনি কেন বলেন, আপনি একজন বাঙালি চিত্রপরিচালক?' সত্যজিৎ বলেন, ... ...
আজকে সোশাল মিডিয়ায় একটা কান্ড দেখে চমকে গেলাম। একটি ছেলে, বৃত্তে মোটামুটিভাবে পরিচিত, একটি রাজনৈতিক প্রচারাভিযানেও যার সক্রিয় অংশগ্রহণ দেখেছি, তার বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ এসেছে। এক নয়, একাধিক। এবং রীতিমতো হিংসাত্মক নিগ্রহ। ছেলেটির নাম করছিনা, কারণ, এসব ব্যাপারে আমার অবস্থান খুব স্পষ্ট। একদিকে যেমন অভিযোগ আসা মাত্রই কেউই অপরাধী হয়ে যায়না, ফলত সে নিয়ে খাপ বসানো আমি অনুচিত বোধ করি। কিন্তু একই সঙ্গে, আমার ব্যক্তিগত কিছু বিচারবুদ্ধিও কাজ করে। অভিযোগের ধরণ, এবং গুরুত্ব অনুযায়ী, আমি সিদ্ধান্ত নিই, অভিযুক্তের সঙ্গে আমি ব্যক্তিগতভাবে কাজ করব কিনা। একাধিক নিগ্রহের অভিযোগের ক্ষেত্রে অভিযুক্তটি জালি জানা থাকায়, বা মনে হবার যথেষ্ট কারণ থাকায়, তাদের সঙ্গে ... ...
কাশী থেকে কলকাতা। বৈষ্ণবের খঞ্জনি থেকে জিমি হেনড্রিক্স। কেকাবউদি থেকে স্বর্ণকেশী ম্যাডলিন। মলয় রায়চৌধুরির এই লেখা, এক অন্য পৃথিবীর উড়ান, যা চেনা হলেও দূরবর্তী। মানুষের হাতে ধরা থাকে লাটাই, কিন্তু ঘুড়ি ওড়ে অন্য কোনো আকাশে। যা কিছুটা চেনা, কিছুটা মেঘের কাছাকাছি। মলয় রায়চৌধুরির লেখালিখি তো এরকমই। গত পঞ্চাশ-টঞ্চাশ বছর ধরে। পদ্যের কথা আপাতত বাদই থাক। কিন্তু বাংলা গদ্য যখন পুজাবার্ষিকী থেকে পুজাবার্ষিকীতে সরল থেকে সরলতর হয়ে ক্রমে টিভি-সিরিয়ালে পরিণত হচ্ছে, প্যান্ডেল হপিং আর উপন্যাসপাঠের মধ্যে তফাত ক্রমশ মুছে আসছে, তখন চিরতরুণ মলয় রায়চৌধুরি হাঁটছেন উল্টোদিকে। উল্টে দিচ্ছেন চেনা ছক, বাঁকিয়ে দিচ্ছেন সরলরেখা। অমৃতের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে অমলেট। সে এক বিচ্ছিরি ব্যাপার ... ...
বল বল বল সবেঘেউ ঘেউ ঘেউ রবেবনলতা সেনপ্লিজ জানাবেনআবার ফিরছ কবে? যত গালি দিক গুরু ও চাঁড়ালেফিরে এসে শুধু দুহাত বাড়ালেতোমাকে ভীষণ বকব আড়ালেযখন সন্ধ্যা হবে। আবার কখনও কবেতেমনই সন্ধ্যা হবেবনলতা সেনপ্লিজ জানাবেনফিরে আসছেন কবে? ** রাজনৈতিক কারণ ছাড়া আমি প্যারডি করিনা। এটাও করবনা। কিন্তু মাথায় ঘুরঘুর করলে কী করব। লিখে ফেললাম। :-( ... ...
কাবুল থেকে ফিরেছেন এক বাঙালি ভদ্রলোক। ইশকুলে পড়াতেন। ফিরে আসার পর টিভিতে অনেক কিছু বলেছেন। এক কথায় যার মর্মার্থ হল তালিবান জমানা যতটা ভয়াবহ ভাবা হচ্ছে তা নয়। এ নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। হবারই কথা। কারণ আমরা কেউই কদাচ কাবুল যাইনি। আমাদের ভাই-বেরাদর-ছোটোমেসো-বড়পিসি কেউ আফগানিস্তানে থাকেনা। আমরা মূলত পরের মুখে ঝাল খাচ্ছি, আর দূর থেকে লিংক ছোঁড়াছুঁড়ি করে বিপ্লব কিংবা সলিডারিটি দেখাচ্ছি। আমি তো ব্যক্তিগতভাবে মুজতবা আলি বা সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর এই প্রথম একজন বঙ্গসন্তানের নাম শুনলাম যিনি আফগানিস্তান গেছেন। ফলে উত্তেজনা স্বাভাবিক। সমস্যা হচ্ছে, ভদ্রলোকের যে ভঙ্গীতে সমালোচনা হচ্ছে, সেটা নিয়ে। ওঁর বক্তব্যে কী আছে? উনি বলেছেন, উনি কাবুলে বিশেষ ... ...