ব্যথাগুলো ফেরত চাই... পিটিয়ে পিঠের ছাল তুলে নিলেও ঘরের লোকগুলো যারা বলতেন বেশ করেছেন, আরো দু চার ঘা দেবেন, বড্ড বাঁদর হচ্ছে দিন দিন, আর আমরা ব্যথার চোটে বড় হবার অপেক্ষা করতাম, সেই ব্যথা গুলো ফেরত চাই..
বাংলা এবার নদীকে চায় অখিল রঞ্জন দে এক-শত বিশ মাইল জুড়েদিচ্ছি সেবা দু-পার জুড়ে। লক্ষ জেলে মাছ ধরে খায়লক্ষ চারেক চাষ করে খায়আরো আছে লক্ষ খানেক জলজ প্রাজাতি ভাই।চিনতে পারো ?আমি যে তোমার জলঙ্গী নদী ভাই।বর্তমানে স্বজন-হারা,ছিন্ন-নাড়িগতি-হারা মৃতপ্রায় ভাই। রক্তে মোর দূষণ ঘটেফি-বছর আষাঢ় মাসে।মড়ক লাগে ঘরের ভেতরআছে যতো জলজ জীবনবাসর কালে হারায় জীবনরুই-কাতলা সিঙি-মাগুর, মিলন কালে মরন পায় 'কই'!কেমন করে সয়বো আমিবলতে পারো সই ? অনেক তো হলো তোমার বিচার সভাপেলাম কী মোরা কোন ভরসা ?তাইতো মোরা গড়বো এবারনদী সমাজ ভাই। মোদের সামাজে স্থান পেয়েছেমানুষ বাদে সকল প্রাণী ভাই। সদস্য পদে নাম লিখিয়েছেএই জলঙ্গী-নদী ও ভাই। যুগ যুগ ধরে নিচ্ছো কেবলদিচ্ছো মোদের বিষের ... ...
লৌকিক দেবদেবী নিয়ে গবেষণায় তিনিই পথিকৃৎ। ১৯৬৯ সালে "বাংলার লৌকিক দেবতা" বইয়ের লেখক গোপেন্দ্রকৃষ্ণ বসু রবীন্দ্র স্মৃতি পুরস্কারে পুরস্কৃত হয়েছিলেন এই বইয়ের জন্য।তাঁর লোকদেবতা, আঞ্চলিক ইতিহাস বিষয়ক লেখাপত্র এককালে বসুমতী, যুগান্তর, পুষ্পপত্র, অমৃত, অমৃতবাজার, আনন্দবাজার ইত্যাদি পত্রিকায় প্রকাশিত হত। এছাড়াও বহু আঞ্চলিক পত্রিকা, সংবাদপত্র কিংবা বিশেষ স্মরণিকা-সুভেনিয়রে নিয়মিত লিখেছেন। সেসব ছড়ানো ছেটানো লেখা একত্র করে আর তার সাথে গোপেনবাবুকে নিয়ে সমসাময়িক ও বর্তমানের বিশিষ্ট লোকসংস্কৃতিবিদদের কলমে মূল্যবান লেখা যুক্ত করে "গোপেন্দ্রকৃষ্ণ বসু বিশেষ সংখ্যা" প্রকাশ করা হচ্ছে প্যারালাল পত্রিকার তরফে। ... ...
আকাশের দিকে তাকালে মিটমিটে তারারা কি বলে? কথা বলে? গল্প করে? কি নাম তাদের? মা বলে ওই যে তোমার দাদামণি, তোমার পিসেমশাই,দাদু। সেই ছোটোবেলার মত। আমি কিন্তু জানি ওই ওই তারাদের ভীড়ে আছে আমার মেয়েবেলার আর কিশোরীবেলার দুই বন্ধু। বড় আদরের। হঠাৎ করে না বলে কয়ে হারিয়ে ওই অত্তদূরে চলে গেল। ... ...
কলিয়ারির কালো ইয়ারি ওয়ার্ধা নদীর ধারে ওয়ার্ধা ভ্যালি কোলফিল্ড প্রধানত ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের বিদর্ভ অঞ্চলের চন্দ্রপুর জেলায় অবস্থিত। এখানে অনেকগুলি ওপেন কাষ্ট কোল মাইনস (খুলি খাদান) গড়ে উঠেছে। এমন একটি খুলি খাদানে পরিচয় হয়েছিল কালু কাওয়ালের সঙ্গে এক রৌদ্রোজ্জ্বল সকালে। ও মাইনসে তখন লোডিং মেসিন ওপারেটরের কাজ করত।প্রায় ছয় ফুট উচ্চতার এবং কৃষ্ণবর্ণ। হেভি ওয়েট। শৌখিন। পোষাক জিনসের প্যান্ট, লাল টি সার্ট। মাথায় ঝাঁকড়া চুল। পিছনে চুল বাঁধা। হেলমেটের তলা দিয়ে চুল চার পাশে বেরিয়ে এসেছিল। হাতে স্টিলের বালা। চোখে সান গ্লাস। ... ...
"হুজুর কখনো পানশির গিয়েছেন" 'সে আবার কোথায়?' .উত্তর আফগানিস্থান - আমার দেশ। সে কি জায়গা। একটা আস্ত দুম্বা খেয়ে এক ঢোক পানি খান, আবার খিদে পাবে। আকাশের দিকে মুখ করে একটা লম্বা দম নিন, মনে হবে তাজি ঘোড়ার সাথে বাজি রেখে ছুটতে পারি। পানশিরের মানুষ তো পায়ে হেঁটে চলে না, বাতাসের উপর ভর করে যেন উড়ে চলে যায়।.শীতকালে সেকি বরফ পড়ে। মাঠ পথ পাহাড় নদী গাছপালা সব ঢাকা পড়ে যায়, ক্ষেত-খামারের কাজ বন্ধ, বরফের তলায় রাস্তা চাপা পড়ে গেছে। কোন কাজকর্ম নেই, বাড়ি থেকে বেরোনোর কথাই উঠে না। আহা সে কি আরাম। ... ...
ঠাকুমা কাক ভোরে উঠতেন। তারপর চান করে, সূর্য প্রণাম করে রোজকার পূজা করতেন। বাতাসা প্রসাদে আমাদের দিন শুরু হত। আমরা ভাইবোনেরা ছিলাম একে অপরের বন্ধু, সবচেয়ে স্নেহময়ী বন্ধু - ঠাকুমা কখনো ঝুলি থেকে গল্পের মণিমাণিক্য উপহার, কখনো নাটুকে ছড়া বলতেন যেমন - 'নাকচাবি গহনা কবে দেবে বলো না? যদি বল কাল দেবো ভোরে উঠে চলে যাবো, বলে যাবো না। ' ... ...
এক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী একবার বলেছিলেন বেতন কম দেখে তিনি বাড়িতে সাহায্যকারী বেতন দিয়ে রাখতে পারেন না। গৃহের সব কাজকর্ম নিজেদেরই করতে হয়।.এক মার্কিন কংগ্রেস সদস্য বলেছিলেন বাসা ভাড়া করার আলাদা অর্থ না থাকায় সংসদ চলাকালে তিনি অফিসে ঘুমাতে বাধ্য হন।.ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় কাজ করার সময় এক আত্মীয় ব্যক্তিগত আলাপ করতে এলে তাড়াতাড়ি রাষ্ট্রীয় অর্থে কেনা মোমবাতিটি নিভিয়ে দিয়ে নিজের অর্থে কেনা মোমবাতি জ্বালিয়ে ছিলেন। ... ...
ছোঁয়াছুঁয়ির খেলা শুরু হলেপ্রেম, পূর্ব থেকে গেল অস্তাচলেপরিধান সব গেল ছেড়েছুড়েসুখ এল 'আদর' নামে শরীর জুড়ে! #অমাদীপ_প্রদীপদে
প্রায় ১০৮ বছর পূর্বে, ভারতের তখনকার ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ, তার লেখা একটি চিঠিতে ব্যাখ্যা করেছিলেন কেন গ্রেট ব্রিটেনের ভারতীয় ঔপনিবেশিক রাজধানী কলকাতা থেকে সরিয়ে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া উচিৎ। ভারতের রাজধানী হিসেবে কলকাতার অনুপযুক্ত হয়ে পড়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গেলে স্বভাবতই চলে আসবে বঙ্গভঙ্গের বিষয়টি।
বেনেগাল লিখেছেন, "বোম্বের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি সবসময়েই ভেবেছে, সত্যজিৎ রায় ভারতের জন্য ঠিক কাজ করছেননা। রাজকাপুরের সঙ্গে তাঁর একবার বিরাট ঝামেলা হয়েছিল। রাজ কাপুরের সিনেমা 'জাগতে রহো' পরিচালনা করেছিলেন বাংলার বিখ্যাত নাট্যপরিচালক শম্ভূ মিত্র। সিনেমায় সত্যজিৎ রায়ের যা উচ্চতা, নাটকে তিনি তার সমানই ছিলেন। শম্ভূ সিনেমাটা বানিয়েছিলেন, এবং ১৯৬৪তে কারলভি ভেরি উৎসবে সেটা রাজকাপুরকে সেটা একটা পুরষ্কারও জিতিয়ে দেয়। ওই একই বছর ভেনিসে অপরাজিত জেতে স্বর্ণ সিংহ। তারপর রাজকাপুর এবং সত্যজিৎ রায়ের কোনো একটা অনুষ্ঠানে দেখা হয়। সত্যজিৎ বলেন, বাংলা সিনেমার জন্য এটা একটা বিরাট সম্মান। রাজ কাপুর বলেন, 'বাংলা কেন, আপনি ভারতীয় না? আপনি কেন বলেন, আপনি একজন বাঙালি চিত্রপরিচালক?' সত্যজিৎ বলেন, ... ...
আজ ৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, এই সময় পত্রিকায় বিশ্বভারতীর অচলাবস্থা বিষয়ে আমার একটি প্রবন্ধ প্রকাশ হয়েছে, এখানে লিঙ্ক ও ছবি দেওয়া হল। খুব স্বাভাবিক ভাবেই আজকের হাইকোর্টের রায়ের আগে এটি লেখা হয়েছে এবং প্রকাশিত হয়েছে। মোদ্দা বক্তব্য ছিল এই: কতিপয় ছাত্র-ছাত্রীর উপরে যে আক্রমণ নেমে এসেছে তার মূল কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে ক্ষমতার বিন্যাসে এবং সামাজিক ভাবে তারাই দুর্বলতম। ... ...
মালালা ইউসুফযাইয়ের মতাে এত ভাগ্যবতী নয় পাকিস্তানের আহত শিশু নাবিলা রহমান। ২০১২ সালের ২৪ অক্টোবর ঈদের পুর্ব মুহুর্তে পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে গ্রামের ক্ষেতে সজি তুলতে গিয়ে মার্কিন ড্রোন হামলার শিকার হয় নাবিলার পরিবার।.আহত হয় আট বছরের শিশু নাবিলা রহমান ও তার ভাই। অসহনীয় ব্যাথা আর যন্ত্রণায় আর্তনাদ করে ওঠে অসহায় শিশু দুটি। ওই হামলায় সব মিলিয়ে সাতটি শিশু আহত হয়, নিহত হয় নাবিলার বৃদ্ধা দাদি।.এই ঘটনার কোনাে বিচার, ব্যাখ্যা বা ক্ষমা প্রার্থনা কিছুই করেনি মার্কিন প্রশাসন। মার্কিন কংগ্রেসের এক শুনানিতে নাবিলার বাৰা পাহাড়সম কষ্টের কথা জানাতে যান।. ... ...
আজ মহামান্য এলাহাবাদ হাইকোর্ট তার রায়ে বলেছেন - গরুর মাংসখাওয়ার অধিকার মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে না এবং তার বিভিন্ন যুক্তির মধ্যে একটা হল - বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন গরু একমাত্র প্রাণী যে প্রশ্বাসে অক্সিজেন ছড়ায়; আমি আইনজ্ঞ নই তাই রায়টির আইনগত ভিত্তি নিয়ে বেশি কিছু বলব না।
দুই দিকে পাহাড় পর্বতে ঘেরা আফগানিস্থানের প্রাকৃতিক পরিবেশ খুবই রুক্ষ। এই রুক্ষ প্রাকৃতিক পরিবেশের ভেতর দিয়ে তারাও ছোটবেলা থেকেই কঠোর প্রকৃতির হিসাবে বড় হয়ে থাকে। এই কঠোর পরিবেশে টিকে থাকার প্রয়োজনে ছোটবেলা থেকেই তারা অস্ত্র চালনা করতে শেখে।.সীমান্তের উপজাতিগুলোতে সাথে অস্ত্র রাখাটা সাবালকত্বের পরিচয় বহন করে। বিয়ে, জন্মদিন বা যে কোন অনুষ্ঠানে এরা গুলি ছুঁড়ে আনন্দ প্রকাশ করে থাকে। পাশ্চাত্য মিডিয়া এদেরকে বর্বর ও জঙ্গি হিসেবে তুলে ধরতে এই যুক্তিটা খুব ব্যবহার করে।.অথচ এই অভ্যাসটা ছিল বলে তারা পরপর তিন আধুনিক পরাশক্তিকে আফগানিস্তান থেকে তাড়িয়ে দিতে পেরেছিল। ... ...
আজকে সোশাল মিডিয়ায় একটা কান্ড দেখে চমকে গেলাম। একটি ছেলে, বৃত্তে মোটামুটিভাবে পরিচিত, একটি রাজনৈতিক প্রচারাভিযানেও যার সক্রিয় অংশগ্রহণ দেখেছি, তার বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ এসেছে। এক নয়, একাধিক। এবং রীতিমতো হিংসাত্মক নিগ্রহ। ছেলেটির নাম করছিনা, কারণ, এসব ব্যাপারে আমার অবস্থান খুব স্পষ্ট। একদিকে যেমন অভিযোগ আসা মাত্রই কেউই অপরাধী হয়ে যায়না, ফলত সে নিয়ে খাপ বসানো আমি অনুচিত বোধ করি। কিন্তু একই সঙ্গে, আমার ব্যক্তিগত কিছু বিচারবুদ্ধিও কাজ করে। অভিযোগের ধরণ, এবং গুরুত্ব অনুযায়ী, আমি সিদ্ধান্ত নিই, অভিযুক্তের সঙ্গে আমি ব্যক্তিগতভাবে কাজ করব কিনা। একাধিক নিগ্রহের অভিযোগের ক্ষেত্রে অভিযুক্তটি জালি জানা থাকায়, বা মনে হবার যথেষ্ট কারণ থাকায়, তাদের সঙ্গে ... ...
ছেলেমেয়েরা কঠিন পরীক্ষা দিচ্ছে। ক্যাম্পাসের পূর্ব কোণে অন্ধকারের রাজার সরকারি আবাসন ঘেরা দুর্গের মত করে। বিশাল উঁচু গেট আর বেড়া, সিকিউরিটি গার্ড সিসি টিভি ইত্যাদি। স্বাভাবিক ভাবেই পোস্টার ফেস্টুন পড়ছে, গৃহযুদ্ধের ভাষায়, 'নো পাসারান'। সমস্যাটা কি, ছেলেমেয়েরা রবীন্দ্রনাথ প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ে অকারণে কর্তৃত্ববাদী ক্ষমতা প্রদর্শনে আপত্তি করেছে, সরকারি হিন্দুত্ব রাজনীতির সক্রিয় চর্চায় আপত্তি করেছে। পেশার জীবনের দোরগোড়ায় দাঁড়ানো ছেলেমেয়েদের জীবনের ক্ষতি করার চেষ্টা চলছে সে অপরাধে। কারণ তারাই ক্যাম্পাসের ক্ষমতার বিন্যাসে সামাজিক অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বলতম। ... ...