রবীন্দ্রজয়ন্তী আর ২১শে ফেব্রুয়ারি উদযাপন করাটা বোধহয় এক নয়। হ্যাঁ দুটোই পাড়ায় পাড়ায় হতে পারে। কিন্তু মনে রাখতে হবে ২১শে ফেব্রুয়ারি আমরা ভাষা শহীদদের স্মরণে তাদের সম্মান দিয়ে থাকি। সেই জন্য বোধহয় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের অভিভাবকত্বে ভাষাপ্রেমী লোকজনেরা প্রায় তিন দশক আগে, ভাষা উদ্যান যেটি আপানাদের কাছে কার্জন পার্ক নামে খ্যাত, সেইখানে একটি ভাষা শহীদ স্মারক তৈরি করেছিলেন। ... ...
একুশ এসেছে অথচ শহীদ মিনার যাইনি - এমন কখনও ভাবতেও পারতাম না। কিন্তু এখন তাই হয় - যাই না।
২১শে ফেব্রুয়ারী, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ফেসবুকে বড়সড় হ্যাজ নামাব... এঃ! দেখেছ? ফের 'হ্যাজ নামাব'!! আজকের দিনেও? ছিঃ! শেম অন মি... হ্যাঁ, যতই চেষ্টা করি, আমাদের আবেগ-টাবেগ সব এখন হিন্দি কিম্বা ইংরেজিতেই প্রথমে আসে। দরকারে- অদরকারে বাঙালী এখন হিন্দি কিম্বা ইংরেজীতেই গ্ল্যামার খোঁজে। কিন্তু, তাতে দোষের কী? ছেলেপুলেরা হিন্দিতে কথা বলুক, ইংরেজিতে ভাবনাচিন্তা করুক, ফরাসী কায়দায় হাঁচুক-কাশুক, অসুবিধে কী? ভাষাই তো। একটার জায়গায় পাঁচটা শিখলেই-বা ক্ষতি কী? ক্ষতি নেই। কিন্তু, বাংলাটা পড়তে পারাটা যে বড্ড জরুরী। বাংলা সাহিত্যের মত ধনী সাহিত্য খুব কম ভাষায় আছে। আমি নিজে চেষ্টা করে চলি, বাচ্চাদের বাংলা গল্প-উপন্যাস-নাটক পড়ে শোনাতে। সপ্তাহে একটা ক্লাস অফ করেও ওদের দিয়ে কবিতা পড়াতে, নাটক করাতে। ... ...
আজকে যাকে আমরা সচরাচর ভাষা দিবস বলে অভিহিত করি আসলে তার নাম আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ---- ১৯৯৯ সালে ইউনাইটেড নেশন এই দিনটাকে এই নামে চিহ্নিত করেছেন। এখানে একটু বলে নেওয়া দরকার, ভাষা আন্দোলন বলতে আমরা সাধারণত বাংলা দেশের ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকেই বুঝি। কিন্তু ভাষা নিয়ে আরো আন্দোলন হয়েছে আমাদের দেশেই। আসামের বরাক উপত্যকায় আসামিয়া কে সরকারি ভাষা হিসেবে চালু করার বিরুদ্ধে বাংলা ভাষীদের আন্দোলন হয়েছে। ১৯৬১ সালের ১৯মে সেখানে পুলিশের গুলিতে ১১জন শহিদ হন। ত্রিপুরায় সেখানকার ভূমিপুত্রদের মাতৃভাষা ককবরক কে স্বীকৃতির দাবিতে ১৯৭৫ সালে ভাষা আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ধনঞ্জয় ত্রিপুরা নামের এক ত্রিপুরার নাগরিক। পুরুলিয়া জেলাকে বিহারের ... ...
কম্যুনিটি ইন্টারপ্রেটিং --- এক অন্য ধরণের ভাষাচর্চার অভিজ্ঞতা কোনো ভাষা ভালো ভাবে ব্যবহার করতে পারা মানে কি কেবলই সেই ভাষায় সুললিত ভাবে মনের ভাব প্রকাশ করতে পারা? অনেকের তেমনই ধারণা। কিন্তু ভাষার পরিচয় শুধু মাত্র সাহিত্যে নয়; তার পরিচয় সাধারণ জীবন যাপনের অংশ হিসেবে দৈনন্দিন ব্যবহারে। শহুরে বাংলা অল্পবিস্তর ইংরেজী মিশ্রিত এবং বিশুদ্ধতাবাদীদের ভ্রূকুটি ও বিদ্রূপ সত্বেও এটাই এখন বাস্তব। মজাটা হয় তখন যখন আপনি পুন্ডরীকাক্ষ পুরকায়স্থ ওরফে গৌরহরির মতো পুরোপুরি বাংলায় কথা বলতে বাধ্য। ধন্যবাদের প্রত্যুত্তরে আমরা বাংলায় কি বলি? ... ...
খেলার জগতে এক এক দেশের আপন জাতীয় দল হয় বলে জেনে এসেছি। দেশের মধ্যে আবার প্রতি রাজ্যের ফুটবল বা ক্রিকেট দল সন্তোষ ট্রফি অথবা রনজি ট্রফিতে খেলে। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় জিতলে জাতীয় পতাকা উত্তোলিত হয় জাতীয় সঙ্গীত বাজে। রনজি ট্রফি জিতলে ইডেনে বাংলার পতাকা উঠবে না কারণ আমাদের রাজ্যের কোন পতাকা নেই।কোন রাজ্য সঙ্গীত নেই। ... ...
ফিরে এসেছি, না না গুরুচন্ডা৯তে নয়, দেশে। এসে দেখি শহরটাই শুধুমাত্র নয়, বন্ধুবান্ধব এর চিন্তাভাবনা বদলে গেছে। প্রিয় বন্ধুরা আমাকে বয়কট করেছে, প্রচার চালাচ্ছে, আমি নাকি একটা রাজনৈতিক দলে নাম লিখিয়েছি। মানে জার্সি বদলেছি। কারণ আমি এখন দেবদেবী নিয়ে বেশি লেখালেখি করি তাই, আচ্ছা কোন দেবদেবী কিভাবে কোন রাজনৈতিক দলের বাপের সম্পত্তি হয়ে গেল? দেবদেবীর কথা লিখি কারণ লোকাল দেবদেবীর সাথে জড়িয়ে আছে আমাদের অনেক ইতিহাস। ... ...
আঠারো বছর বাদে রাজনীতি থেকে বিদায় নিচ্ছেন জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মেরকেল। বিতর্কের মুখোমুখি হতে হবে জেনেও বলি, আঙ্গেলিকা মেরকেল একজন সৎ কমিউনিস্ট! হামবুর্গে জন্ম। বাবা-মা পূর্ব জার্মানি চলে যান। দীক্ষা কমিউনিজমে। সেই সাধাসিধে জীবন যাত্রা বজায় রেখেছেন। পূর্ব জার্মানির অবস্থা খুব ভালো ছিল না। বার্লিন দেয়াল পতনের পরে তাঁর প্রথম মন্তব্য ছিল আশা করছি এবার বাড়ির কাঁচের জানলা গুলো ঠিক হবে। বড়ো ঠাণ্ডা হাওয়া ঢোকে এই প্রাচীন জানলা দিয়ে। ... ...
১পুরাকালে ডাকাতে কালীপুজো করত। "মাদক ন্যালাক্ষ্যাপা" সিরিয়ালে লরিন্দমের দর্দ-মূলক "যে তারা, যেএএ তারা, যেএএহঃ তারা" এবং রোঘোডাকাতের কালীপুজো - এই দু'টো দর্শনীয় বিষয়।পুলিশ-প্রশাসনের বাড়বাড়ন্ত হওয়ায় আজকাল ডাকাতের বাড়বাড়ন্ত কমেছে।আমাদের মাদারপুর থানায় একটা কালীমন্দির হয়েছে।থানার ওসি গাঙ্গুলীবাবু শিল্পী মানুষ। কয়লাচোরদের বাজেয়াপ্ত সাইকেলের রড দিয়ে কালীমন্দিরের পেছনে ডোবার ধারে একটা ঘোড়া বানিয়েছেন। ভাস্কর্যের নাম দিয়েছেন - সিন্ধুঘোটক।থানায় সরস্বতী পুজো। বসন্তকাল, শাঁকালু-কুল-কদমা-গেন্দাফুল। হলুদ পাঞ্জাবিতে খিচুড়ির দাগ।ফ্ল্যাটবাবুর আজ থানায় খিচুড়ি খাওয়ার নেমন্তন্ন।২মাস তিনেক হল, ফ্ল্যাটে লিফ্ট বসেছে। পয়সা দিয়েছে শুধু তিনতলা আর চারতলার লোকেরা। একতলা-দোতলার লোকেরা পয়সা দেয়নি, তাই তাদের লিফটে চড়া বারণ। ডগ্স অ্যান্ড নিচুতলার লোকজন আর নট্ অ্যালাওড্।নিয়ম মানা হচ্ছে কিনা, এই নিয়ে ফ্ল্যাটবাবু বিশেষ ... ...
- সরস্বতী পুজো কেমন কাটল? - ভালোই। - ছোটবেলায় আমরা কত মজা করতাম, মনে পড়ে? - সে আর বলতে! - গ্রামে বাড়ি বাড়ি ঘুরে চিড়ে-নাড়ু-শশা-কলা খাওয়ার কথা মনে পড়ে? সব শেষে দুপুর গড়িয়ে গ্রামের প্রাইমারি স্কুলে গিয়ে খিঁচুড়ি খাওয়া। - বেশ মনে পড়ে, তবে সে তো মান্ধাতার আমলের কথা। - তারপর একটু বড় হলে স্কুলের পুজোর আয়োজন করার কথা? রাত জেগে কাগজের রঙিন শিকলি বানিয়ে ঝোলানো? - হ্যাঁ, তখন গঞ্জের স্কুলে পড়তাম। - তারপর কলেজে উঠে কোনোমতে অঞ্জলি সেরে সাইকেল নিয়ে ঘুরে বেড়ানো? - সে আবার মনে নেই! আমাদের মফঃস্বলের গার্লস স্কুলগুলোর গেট সেদিন খোলা থাকত। - তারপর বড় শহরে ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময়ের কথা? সেই সময়েই তো বাঙালিদের ভ্যালেন্টাইনস ডে ... ...
১সেন্ট প্যাট্রিক স্টেশনে নেমে আমি কতবার ওভারকোটের পকেটে হাত রেখে হেঁটে গেছি কুইনস পার্কের ভেতর দিয়ে;দেখেছি জমে-যাওয়া ফোয়ারাগুলো, বরফে বিপর্যস্ত পাখিদের শরীর। সিনেপ্লেক্সের সামনে অপ্রস্তুত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে যুবক-যুবতীরা, গাড়ীর উইন্ডস্ক্রিন থেকে ঝরে পড়ছে তুষার,এসময় অন্ততঃ দুটো ফটোগ্রাফ আমার স্মৃতিতে ধরা থাকে: দুটোই বোলানিওর —নিকানোর পারার সঙ্গে।শীতের দুর্ঘটনাময় সন্ধ্যেগুলোয় যখন ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার লার্নিং মডেল ট্রেন করাতে ব্যস্ত,জানতে ইচ্ছা করে ফটোগ্রাফগুলোর কথা তোমার কখনো মনে পড়েছে কিনা।তোমার অ্যাপার্টমেন্টে কতদিন যাইনি আর দেখিনি তামাটে রঙের বৃষ্টি, যা শুধু আমাদের যন্ত্রণা দেয়;আমাদের মাঝখানে একটি নিশ্চুপ অ্যান্টেনা মুখ তুলেদাঁড়িয়ে থাকে। ২ আমার মনে আছে একদিন আশ্চর্য নিরর্থক গলায় তুমি বলেছিলে: মহাবিশ্ব একটা হলোগ্রাম,এবং সমস্ত রাত আমরা তর্ক করেছিলাম কৃষ্ণগহ্বর আর তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় সূত্র নিয়ে;এখন আমার শহর ... ...
মা ভাবেন লোকে মেয়েকে তাঁর আদর করে লক্ষী বলে, সরস্বতী বলে না কেন? লক্ষীর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ধন, শ্রী, সম্পদ এবং সবার ওপর ঘরকন্নার চাবিকাঠিটি। সুগৃহিণী হওয়ার আশীর্বাদ। লক্ষীর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সঞ্চয়, ধানের ছড়া, খড়ের আঁটি, ঝাঁপিতে এক মুঠো চাল, সিঁদূর মাখানো একটি দুটি টাকা – অসময়ের ভরসা। লক্ষী হলেন নারায়ণের সহধর্মিণী, তাঁকে নিয়ে কত ব্রতকথা, কত পুরাণ, কত গল্প। মেয়েকে তো মানুষ করা হয় পরের ঘরে যাবার জন্য, অভাবের সংসারে উপবাসে থেকে পানের রসে ঠোঁট লাল করে অতিথি অভ্যর্থনা, ... ...
প্রয়াত শিক্ষকের সমাধির সামনে হাঁটু গেড়ে বসে আছেন একজন হাতজোড় করে। দু চোখে বইছে অশ্রুধারা । ভিয়েনার এই বিশাল সমাধি ক্ষেত্রে একা বসে যিনি কাঁদছেন তাঁর নাম ইউসেবিও , ফুটবলের প্রবাদ পুরুষ । ১৯৬৬ সালে পরতুগালকে বিশ্ব কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নিয়ে যাবেন । ইউসেবিও আজ কেবলমাত্র প্রণাম জানাতে আসেন নি। তিনি এসেছেন তাঁর প্রয়াত শিক্ষকের কাছে করুণা ভিক্ষা করতে । ভগ্ন কণ্ঠে তিনি অনুরোধ করছেন আমার প্রনম্য ফুটবল গুরু , ফিরিয়ে নাও তোমার অভিশাপ। আগামী কাল তোমার পুরনো দল বেনফিকা ইউরোপিয়ান কাপ ফাইনাল খেলবে মিলানের বিরুদ্ধে । শাপ নয়, আশীর্বাদ কর যেন বেনফিকা এ খেলায় জেতে ।পরের দিন ইউরোপিয়ান কাপ ফাইনালে বেনফিকা ১-০ গোলে হেরে গেল মিলানের কাছে । ১৯৬৫। বেলা গুটমান ক্ষমা করেন নি। তাঁর শাপে বেনফিকা কখনো ইউরোপিয়ান কাপ জিতবে না । ... ...