
ফলাফল চোখের সামনে। যে শাহবাগ উত্তাল হত তুমি কে আমি কে বাঙালি বাঙালি বলে সেখানেই স্লোগান উঠল তুমি কে আমি কে রাজাকার রাজাকার! এই কষ্টের কোন মাপজোক আছে? এমন ভয়ংকর একটা প্রজন্ম তৈরি হয়ে গেল চোখের সামনে অথচ কেউ কিছুই বুঝল না! মেটিকুলাস ডিজাইন বলে আর যাই বলি না কেন, এমন একটা প্রজন্ম তৈরির সমস্ত দায় আওয়ামীলীগের, এতে কোন সন্দেহ নাই। আমরা, আমি জেন জি নিয়ে মশকরা করছি, এরা কিছুই শোনে না, পড়ে না, জানে না, জানতে চায়ও না এগুলা বলে গেছি সব সময়। অথচ বিরোধী শক্তি তা বলে বসে থাকেনি, ওরা যেভাবে শুনতে চায়, যেভাবে জানতে চায় সেভাবেই শুনিয়েছে, জানিয়েছে! আমি জানি খুব স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে লিখছি আমি। সমাজ বিজ্ঞানীরা, নৃ তাত্ত্বিকেরা এই সব নিয়ে ভালো বলতে পারবে যে কেন একটা প্রজন্ম সম্পূর্ণ ভুল দিকে চলে গেল! ... ...

"ছাত্র-উপদেষ্টারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ নিচ্ছে, এটা তো খুশি হওয়ার মতো সংবাদ ছিলো, কিন্তু জনগণ খুশি না হয়ে সন্দেহের চোখে দেখছে কেন? কারণ আপনার বিহ্যাভিয়োরাল প্যাটার্ন ভালো নয়। সারা জুলাই শেখ মুজিবের ভাষণ বাজিয়েছেন, মুজিবের বই থেকে মুক্তিবাক্য উদ্ধৃত করে মানুষকে শুনিয়েছেন, মুজিব দিয়ে কার্যোদ্ধার করেছেন, কিন্তু বিজয়ের প্রথম মুহুর্তেই মুজিবের শেষ স্মৃতিচিহ্ন ৩২ নম্বর পুড়িয়ে দিয়েছেন। ৩২ নম্বর তো শুধু মুজিবের বাড়ি নয়। এটা বাংলাদেশেরও বাড়ি। আপনি বাংলাদেশের বাড়ি পুড়িয়ে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ নিচ্ছেন, মুজিবকে পচাত্তর-পূর্ব গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছেন, এটা হাইলি সাসপিসিয়াস মুভ। এবং এটা কখন করছেন? যখন বুঝতে পেরেছেন যে আপনার অবস্থা লেজেগোবরে, জনগণের সাথে আপনার দূরত্ব প্রকট, জনগণ আপনাকে শত্রু ভাবছে, তখন। ৫ আগস্টের পর থেকেই দেখা গেলো বাংলাদেশের জন্মশত্রু জামাতের জরায়ুতে আপনাদের মাতৃঋণ। সবাই জামাতের সাথে হ্যান্ডশেক করছেন। আস্কারা দিচ্ছেন তৌহিদী জনতা নামক ইবলিশী জনতাকে। ২৪ দিয়ে ৭১-কে মোছার প্রাণপণ চেষ্টা করছেন। মুক্তিযুদ্ধ ও মুজিবকে মোছার সর্বোচ্চ আয়োজন চোখে পড়েছে। বেগম রোকেয়ার ছবিতে ‘মাগী’ লেখা হয়েছে। কালি লেপ্টানো হয়েছে।" - মহিউদ্দিন মোহাম্মদ। ... ...

আবার কালো এক রাত হাজির হইছে। রাত দেড়টার সময় যখন লিখতে বসেছি তখনও তুমুল অ্যাকশন চলছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়। দেশের সব খবরের চ্যানেল গুলো লাইভ দেখাচ্ছে। রীতিমত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে ঢাবির ক্যাম্পাস, নীলক্ষেত এলাকা। কয়েকটা চ্যানেলের সরাসরি দেখেও আমি এখন পর্যন্ত নিশ্চিত না পুলিশ কোন পক্ষের সাথে আছে! পুলিশ সাত কলেজের ছাত্ররদের দিকেও টিয়ার শেল মারছে আবার ঢাবির ছাত্রদের দিকেও মারছে। তাই বুঝা মুশকিল যে হচ্ছে কী! ... ...

আদিবাসী শব্দটায় সমস্যা কোথায় জানেন? সমস্যা হচ্ছে আদিবাসী সংজ্ঞা অনুযায়ী আদিবাসীদের অস্তিত্ব যদি মেনে নেওয়া হয় তাহলে জাতিসংঘের ঘোষণাপত্র অনুযায়ী আদিবাসীদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে! এইখানেই আপত্তি। অধিকার দেওয়া যাবে না! জাতিসংঘ বলেছে আদিবাসীদের ভূমি রক্ষার অধিকার, নিজেদের সংস্কৃতি রক্ষার অধিকার ইত্যাদি দিতেই হবে। এগুলা কেউই, কোন সরকারি দিতে রাজি না। রাষ্ট্র, আমাদের এই প্রাণের রাষ্ট্র মনে করে এই অধিকারের প্রতিষ্ঠা করতে দিলে এক সময় এরা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে! এইটার থেকে বাঁচার জন্য সবচেয়ে সহজ সরল সমাধানের পথে হেঁটেছে রাষ্ট্র, কী? দেশে আদিবাসীই নাই! যেহেতু আদিবাসীই নাই তাই তাদের অধিকারেরও প্রশ্ন নাই। খেল খতম পয়সা হজম! যেটা কেউই বুঝে না তা হচ্ছে আপনি না করলেই সত্য মিথ্যা হয়ে যাবে না। আপনি মুখ দিয়ে বলে দিলেই তা সত্য হবে না। যার যা প্রাপ্য অধিকার তা দিলে বিচ্ছিন্নতার কোন প্রশ্নই উঠবে না বরং ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করলেই বিচ্ছিনতার প্রশ্ন আসবে, ক্ষেত্র তৈরি হবে। আমরা গায়ের জোরে আদিবাসীদের অস্তিত্ব অস্বীকার করছি, এরপরে তাদের অধিকারকে বন্দুকের নল দিয়ে আটকে দিতে চাচ্ছি। তারপরে কেউ টুঁ শব্দ করলে বলছি এই দেখো এরা বিচ্ছিন্ন হওয়ার জন্য এমন করছে, এরা দেশের শত্রু! ... ...

কলকাতায় আসার পরে অনেকেই জিজ্ঞেস করছে বাংলাদেশের অবস্থা কী? এই প্রশ্নটা শুনলেই আমার মান্টোর উত্তরের কথা মনে হয়। তাঁকেও একজন জিজ্ঞাসা করেছিলেন, মান্টো, আপনার দেশের খবর কি? মান্টো বলেছিল 'কারাগারে জুমার নামাজ যেমন হয়, অবস্থা ঠিক তেমনি।' এইটা আবার কেমন? আবার প্রশ্ন! মান্টোর উত্তর- 'আজান দেয় বাটপার, ইমামতি করে খুনি, পেছনে নামাজ পড়ে সব চোরের দল। ... ...

সেসময় কলকাতা থেকে নদীপথে কাশী যেতে লাগত ~৭৫ দিন। ঢাকা ৩৭ দিন। মুর্শিদাবাদ প্রায় এক মাস। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরে ক্লাইভ তখন ক্যালক্যাটা ঘুরে মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সিতে। যুবক রবার্ট ক্লাইভ বাবাকে চিঠিতে অভিযোগ করছেন, কোম্পানির মাসিক ৩ পাউন্ড স্টাইপেন্ডে টানাটানির সংসার। সেজন্য ক্লাইভ দুবার পিস্তল দিয়ে আত্মহত্যা করারও চেষ্টা করেছিলেন। ক্যালকাটা পুনরুদ্ধারে তাকেই ফের মাদ্রাজ থেকে পাঠানো হল। কোম্পানীর আরেক নতুন কর্মচারী ওয়ারেন হেস্টিংস, তিনিও মাসে ৫ পাউন্ড বেতনে মহাকরণে টানাটানির সংসার। সিরাজের পতন এবং ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের দু বছর বাদে হেস্টিংসেরও বাংলায় ফেরা। চাঁদপাল ঘাটের দক্ষিণে তখন ঘন জঙ্গল। উইলিয়াম দুর্গর কড়ি বর্গা খসে পড়ছে। সেখানে কামানের গোলার দাগ। ... ...

শেরপুরে ফিরে আসার পরে শেরপুর জিমে একটা ছেলের সাথে পরিচয় হল। ওই ছেলে শাবিপ্রবিতে পড়েছে। যথারীতি জাফির ইকবালকে দেখতে পারে না। তখন আমিও দিন দুনিয়া চিনি। কথাবার্তায় বুঝলাম শিবিরের ছেলে। যেহেতু নিজের শহর আর জিম হচ্ছে আমার স্টেডিয়ামে, যা আমার বাড়িঘরের মতো ছিল এক সময় তাই একদিন কথার ফাঁকে ধরলাম, কেন পছন্দ না। কোন কারণ নাই, ভালো লাগে না ভাই! এর তো কোন জবাব নাই! তবে এই ছেলে সৎ ছিল। বলছে ভাই পছন্দ না কিন্তু এইটাও ঠিক উনার মতো শিক্ষক আমি কোনদিন দেখি নাই। বলল ভাই যত সমালোচনা দেখবেন অন্য নানা জিনিস নিয়ে। কেউ কোনদিন জাফর ইকবাল সম্পর্কে উনার পড়ান বা উনার শিক্ষকতার কোন গাফেলতি নিয়ে একটা শব্দও বলতে পারবে না। বলে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে কত জ্ঞানী গুণী মানুষ আছে, শিক্ষক আছে। দেখবেন এরা ক্লাস নিতে গিয়ে ব্যারাছ্যারা লাগায় দেয়। সময় মতো পরীক্ষা নিতে পারে না। কোর্স শেষ করতে পারে না। আজ পর্যন্ত জাফর ইকবালের ক্ষেত্রে এমন একবারও হয় নাই! উনি যখন শিক্ষকতা করেছে তখন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় ছিল। সকাল বিকাল তারে মারতে যায় কেউ না কেউ। তখন সমানে হরতাল হত দেশে। অথচ উনি ঠিকই কোর্স সময়মত শেষ করেছেন, প্রতিবার। জাফর ইকবাল ঘড়ি ধরে ক্লাসের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকত। ঠিক সময়মত তিনি ক্লাসে ঢুকে যেতেন! ... ...

জাকির নায়েকের আগমনের পরে একটা ধারা তৈরি হইছে তা হচ্ছে ইংরেজি বলা! বক্তারা স্মার্ট ভাব আনার জন্য মাঝে মধ্যেই ভুলভাল ইংরেজি বলে। ইংরেজি বলে একটা শব্দ পরে ওইটাকে আবার বাংলা বলে! এই চলতে থাকে, মানুষ ভাবে, বাপরে, কত্ত জানে হুজুর! এদিকে হুজুর গল্প বলে যাচ্ছে নীল আমস্ট্রং চাঁদে গিয়ে আজান শুনে আসছে! পৃথিবীতে এসে এক মসজিদে এই আজান শুনে মসজিদের ইমামকে জিজ্ঞাস করছে এইটা কোন গান? ইমাম কইছে এইটা গান না, এইটা আজান! নীল বেচারা এমন কাণ্ড দেখে আর থাকতে পারে নাই, তখনই কলেমা পরে মুসলমান হয়ে গেছে! আরেক বাটপার আছে, চোখ বন্ধও করে না মিথ্যা কথা বলতে, হাসতে হাসতে বলে যায় সে অক্সফোর্ডের সেরা শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন কয়েকবার, ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে খেলেছেন! কেন বলেন? আল্লাই জানে আর ওই জানে। এমন করে মিথ্যা বলে আবার একেই ভাড়া করে নিয়ে যায় মানুষ। ... ...

সহজেই মানুষকে এই সব দিয়ে ভুলিয়ে রাখা গেছে, যাচ্ছে। ভারত বিরোধী বাতাস প্রবল ভাবে চালানো হচ্ছে, হিন্দুরাই সব ঝামেলার উৎস, আওয়ামীলীগের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছে এমন সব কথা দিয়ে ভুলিয়ে রাখা যাচ্ছে সব ব্যর্থতা। এদিকে আরাকান আর্মি মায়ানমার বাংলাদেশ সীমান্ত অঞ্চলের দখল নিয়ে নিয়েছে, নাফ নদীতে নৌকা চলতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আরাকান আর্মি! কেউ এইটা নিয়ে লং মার্চও করে না, কেউ গরম গরম বক্তব্যও দেয় না, কোন সাবেক আর্মি অফিসারকেও দেখলাম না রাস্তায় মিছিল করতে যে চার দিনেই আরাকান আর্মির ঘর দখল করে ফেলবে! কোন সারা শব্দই নাই। অথচ এইটা বাস্তব সমস্যা, ভয়ংকর সমস্যা। আরাকান আর্মির সাথে আমাদের কোন যোগাযোগ নাই। এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সাথে আমাদের পার্বত্য অঞ্চলের বিদ্রোহী গোষ্ঠী কুকি চিনের সাথে দহরম মহরম। এমনেই মায়ানমারের সাথে আমাদের সম্পর্ক যতখানি খারাপ হওয়া সম্ভব তারচেয়ে ঢের বেশি খারাপ। তার মধ্যে এই যন্ত্রণা। অথচ এইটা নিয়ে ভাবার সময় নাই কারো। এদিকে কলকাতা চারদিনে দখল করে ফেলতে পারলে আজকেই রউনা দিয়ে দেয়! ... ...

বুয়েটের পরে আরও কয়েকটা জায়গায় ভারতের পতাকা ফুটপাথে আঁকা হল। ( এখন পর্যন্ত আঁকা আছে এই পতাকা) ভারত থেকে যথারীতি প্রবল বিক্ষোভে ফেটে পড়ল মানুষ। বাড়াবাড়িও হল। আগরতলায় বাংলাদেশের উপ হাইকমিশনারে হামলা করে বসল। এর আগ পর্যন্ত খেলা এক রকম ছিল। কিন্তু এইটা পট পরিবর্তন করে দিল। আমাদের দূতাবাসে হামলা হবে এইটা আমি সমর্থন করব না। এইটা সমর্থন না করার জন্য ইউনুসকে সমর্থন করার দরকার নাই। এরপরেই ডাক আসল সরকার প্রধানের কাছ থেকে, জাতীয় ঐক্য! প্রথমে ছাত্ররা দেখা করে জাতীয় ঐক্যের প্রতি সমর্থন জানাল, এরপরে গেল রাজনৈতিক দলের নেতারা, গেল ধর্মীয় মহাজনেরা! ভারত আমাদের সার্বভৌমত্বের ওপরে আক্রমণ করবে আর আমরা এক হতে পারব না? বাহ! কী উচ্চ চিন্তা ধারা! সবাই জাতীয় ঐক্যকে সাধুবাদ জানাল! দেশে এমন কাণ্ড জীবনে হয় নাই, এমন পুরুষ এই ভূখণ্ডে আসে নাই, বাহ বাহ বাহ হা হা হা! ... ...

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কেমন হবে বুঝা যায়? এই ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনাসহ সবার বিচার করা হবে। যে ট্রাইব্যুনালের প্রধান কসুলি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এই ট্রাইব্যুনালেই যিনি জামাত নেতাদের পক্ষে আইনই লড়াই করেছে, যিনি যুদ্ধাপরাধীদেরকে এই ট্রাইব্যুনালেই বাঁচানোর জন্য আইনই লড়াই চালিয়ে গেছেন, এই নিয়োগ পাওয়ার সময়ও যার কাছে জামাত নেতাদের কেস ছিল তিনি এখন রাষ্ট্র পক্ষের প্রধান আইনজীবী! শুধু তিনিই না, টবি ক্যাডম্যানকে এই ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পরামর্শক নিয়োগ দেওয়া হইছে। টবি ক্যাডম্যান কে? ওই, একই রসুনের… তিনিও এর আগে জামাতের পক্ষে কাজ করে গেছেন এই আদালতেই! এই জন্যই বলছি যে আশা করাটাই ভুল এখানে। এরা বসেই আছে এমন কাজ করার জন্য। কিচ্ছু করার নাই! আমি-যে দেখেছি প্রতিকারহীন শক্তের অপরাধে বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে! বিচারের বানী আরও কতদিন নিভৃতে কাঁদবে এইটাই এখন এখন দেখার বিষয়। এরা এখন আইন নিয়ে ফুটবল খেলবে, ইতিহাস নিয়ে ফুটবল খেলবে। সলিল চৌধুরীর একটা গান আছে, বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা… না আজ জাগে নাই সেই জনতা। জনতা নিরেট মাথা নিয়ে বসে ভাবছে কী চাইলাম কী হইল এইটা! মাথা চুলকাচ্ছে আর ভাবছে এমন হইল কেন! ... ...

"বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য দীর্ঘ ১৫ বছর লড়াই করেছে, প্রাণ দিয়েছে, কারাগারে গেছে, নির্যাতিত হয়েছে। সেই মানুষগুলো ২০২৪-এর ৫ আগস্ট আরেকটি বিজয় অর্জন করেছে। সেই বিজয় অর্জন হয়েছে রাজপথে অনেক রক্তের মধ্য দিয়ে, অনেক প্রাণের ভেতর দিয়ে। কিন্তু তার ফল কি এই বাংলাদেশ? তিন মাস হয়নি, এখনই রাস্তায় রাস্তায় লড়াই শুরু হয়েছে। একজন আরেকজনের বুকের রক্ত ঝরাচ্ছি। এখন পত্রিকা অফিস পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, আক্রমণ করছে।’ এ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘এই কয়টা দিনে আমরা খুব চিন্তিত, উদ্বিগ্ন, ভয়াবহভাবে উদ্বিগ্ন। আপনি চিন্তা করতে পারেন, ধর্মকে কেন্দ্র করে কী উন্মাদনা শুরু হয়েছে বাংলাদেশে! আপনি চিন্তা করতে পারেন, যে মুক্ত স্বাধীন মিডিয়ার জন্য আমরা এত দিন লড়াই করলাম, তার অফিস পুড়িয়ে দিচ্ছে! এই বাংলাদেশ তো আমরা দেখতে চাই না, আমি অন্তত চাই না।’' মির্জা ফখরুল ইসলামের ভদ্রলোক বলে সুনাম আছে। তিনি তার মতো করেই বলেছেন। বাকিদের হুশ হবে? হুশ ফিরবে এইটা আশা করাও দুরাশা না? রন্ধ্রে রন্ধ্রে জামাতের বিষ ঢুকিয়ে যদি কেউ আশা করে এইখান থেকে ভালো কিছু বের হবে তাহলে গালি দিয়ে চুপ করে যাওয়া ছাড়া আর কিছু করার নাই। ... ...

পুরান ঢাকায় একটা কলেজ আছে নাম ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজ (ডিএমআরসি)। এই প্রতিষ্ঠানের এক ছাত্র ভুল চিকিৎসায় মারা গেছে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালে। ভুল শুদ্ধ কে জানে, এইটা ছাত্ররা দাবি করছে। তো এর জন্য কী করতে হবে? বাহ! এইটাও বলে দিতে হবে? এই বাংলাদেশে? ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালে আক্রমণ করতে হবে! ডিএমআরসি একা একা আক্রমণ করবে? এতদিনের আন্দোলনের সাথিরা কই? আশেপাশের আরও কলেজের ছাত্ররা মিলে হাসপাতালে ঝাঁপিয়ে পড়ে ছাত্ররা। মুশকিল হচ্ছে এই আক্রমণ পরিচালনায় সম্ভবত কোন গলদ ছিল, হাসপাতালের কাছাকাছি দুই কলেজ কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী কলেজের ছাত্রদের সাথে ডিএমআরসির মারামারি লেগে যায়। পরেরদিন ডিএমআরসির সোনার টুকরো ছেলেরা সবাই মিলে সোহরাওয়ার্দী কলেজে ঢুকে গণভবন লুটের সময় যে প্রশিক্ষণ নিয়ে ছিল তারা তেমন করে জাস্ট লুটপাট চালায়। ছাত্রদের ধরে পিটুনি তো আছে। অনার্স প্রথম বর্ষের পরীক্ষা চলছিল। ছাত্রছাত্রীরা কাঁদতে কাঁদতে জীবন নিয়ে কোনমতে পালিয়ে বেঁচেছে। দুপুরে সোহরাওয়ার্দী কলেজে ভাংচুরের পড়ে কে জানে কেন, বিকাল বা সন্ধ্যার দিকে সেন্ট গ্রেগরিতে ভাংচুর চালায়। আগুনও দেয় এখানে। অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে সেন্ট গ্রেগ্ররি ... ...

২১ নভেম্বর, বাংলাদেশের জাতীয় সশস্ত্র বাহিনী দিবস। আগে পত্রিকায় দেখতাম রঙ্গিন ক্রোড়পত্র বের করত দৈনিক পত্রিকা গুলো। বিমান, ট্যাংক, সৈন্যদের ছবি, সবার উপরে থাকত সাত বীর শ্রেষ্ঠের ছবি। এইটা কেন জানি দেখি নাই। হয়ত বের করে কিন্তু আমি দেখি নাই। সশস্ত্র বাহিনী দিবস সম্পর্কে এই ধারণা ছিল আমার। আর দেখতাম পরেরদিন পত্রিকায় সেনাকুঞ্জের অনুষ্ঠানের ছবি, বর্ণনা। এই একদিনে দেখা যেত বিএনপি আওয়ামীলীগ, জাতীয় পার্টির নেতারা সবাই এক সাথে হচ্ছে। দুই নেত্রী বা দুই দলের বড় কোন নেতা কথা বলছে এমন ছবি খুব আগ্রহের বস্তু ছিল তখন। সেই দিন বহু আগেই বাসি হয়েছে বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে। তবে নোবেল ম্যান এবার তার কিছুটা হলেও ফিরিয়ে এনেছে। এবার সশস্ত্র বাহিনী দিবসে সব দলের মানে আওয়ামীলীগ ছাড়া সব দলের নেতারা সেনানিবাসে হাজির হয়েছিল। আমরা আবার দেখতে পেলাম বিএনপি, জামাতের নেতারা হাসিমুখে সেনানিবাসে। আমরা দেখলাম সমন্বয়কেরা নতজানু হয়ে খালেদা জিয়ার সাথে কথাবার্তা বলছে। হাস্যজ্জল মুখে জামাতের আমির সমন্বয়কদের সাথে কুশল বিনিময় করছে। এমন সৌহার্দপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশই তো আমরা চেয়েছিলাম, তাই না? তো, হয়েই গেল! অবশেষে সবাই সুখে শান্তিতে বসবাস করতে থাকিল! ... ...

যে বন্যা নিয়ে লেজেগোবরে করে ফেলেছে ইউনুস প্রশাসন সেই বন্যা নিয়েই কৃতিত্ব নিয়ে নিলেন তিনি! আরে ভাই আমাদের এলাকায় মানুষের ঘর বাড়ি আমরা তুলে দিচ্ছি, আমাদের বন্ধুদের একটা ফাউন্ডেশন আছে তার মাধ্যমে। আমি একেবারে মাঠের খবর জানি যে কিছু করেন নাই আপনেরা! একের পর এক বাড়ি নাই হয়ে গেছে। তীব্র স্রোতে এমন ভাবে বাড়িঘর নিয়ে চলে গেছে যে দেখলে মনে হয় টর্নেডো হয়ে গেছে! আমরা আমাদের সাধ্যমত করছি। সরকারের তরফ থেকে আশ্বাস ছাড়া আর কিছুই পাই নাই। কিছু বাড়ি আছে দ্রুত দাঁড়া করানো দরকার, বাড়িতে মেয়ে আছে, কলেজে পড়ে, অনার্সে পড়ে এমন মেয়ে আছে বাড়িতে। এরা এখন কই যায়? সচ্ছল পরিবার না, এদের আত্মীয় স্বজনও সব গরিবই, কে জায়গা দিবে? এরা থাকেই কই, বাথরুম করে কই? আমি চোখের সামনে দেখে হতবাক হয়ে গেছি। কিচ্ছু করার নাই যেন! মানুষ কত অসহায় যে হয়ে পড়ে প্রকৃতির হাতে তার এক অন্য রকম নজরানা দেখলাম আমরা। আর তিনি বলছেন বন্যা পরিস্থিতি দারুণ ভাবে সামলিয়েছেন! মিথ্যুক। ... ...

আওয়ামীলীগ এবার সবাইকে নুর হোসেন দিবসে নুর হোসেন চত্বরে জড়ো হওয়ার জন্য ডাক দিয়েছে। এই ডাকের রহস্য আমি বুঝিনি। এইটা শুধুই ডাক দিয়ে দেখা? সরকার কেমন আচারন করে? ভেরিফাইড পেজ থেকে যে প্রতি নিয়ত বলা হচ্ছে বিকাল তিনটায় সবাই যেন জিরো পয়েন্টে চলে যায় এইটা কেন? কতজন যাবে? অল্প কয়েকজন গেলে হাস্যকর হয়ে যাবে না? এবং ওই অল্প কয়েকজনকে ধরে বেদুম মাইর দেওয়া হবে, পুলিশ ধরে নিয়ে যাবে। এখন যখন তুমুল ধর পাকড় শুরু হয়ে গেছে তখন কর্মীদের এমন বিপদে ফেলার যুক্তি কী? এতদিন শুধু মামলা হয়েছে। এখন ধরা চলছে সমস্ত শক্তি দিয়ে। যে যেখানে আছে সেখানেই খুঁজে বের করছে পুলিশ। দৈনিক খবর পাচ্ছি হয় ধরা পড়ছে কেউ না হয় কত টাকায় রফা হয়েছে সেই খবর! এমন পরিস্থিতিতে সবাইকে গুলিস্তান যাওয়ার আহবানের মানে কী? এখনই দেখলাম বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে যে ছাত্র জনতা নুর হোসেন চত্বর দখল করে বসে আছে! রাতেই তারা অবস্থান নিয়ে নিয়েছে। কিছু ফেসবুক পোস্ট দেখলাম প্রকাশে বলছে রাম দা নিয়ে আসতে, যারা আসবে সবাইকে কুপিয়ে মনের ঝাল মেটাবে! একজন লিখেছে পুলিশের হাতে দেওয়া যাবে না, পুলিশ কিছু করার আগেই কুপাইতে হবে! যিনি এই পোস্ট দিয়েছেন তার সাথে আমাদের মাহফুজ আলমের গলাগলির ছবিও বের হয়ে আসচ্ছে! তো এই পরিস্থিতিই তো স্বাভাবিক, তাই না? এর মধ্যে কেন ঠেলে দেওয়া হচ্ছে কর্মীদের? আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা সব আছে দৌড়ের ওপরে, কাদেরকে বলি দেওয়ার জন্য পাঠানো হচ্ছে এখানে? সরকারের তরফ থেকে বলেছে আওয়ামীলীগের এমন কর্মসূচি দেওয়ার কোন সুযোগ নাই! তার মানে তাদের অবস্থানও পরিষ্কার। এমন হওয়ার তো কোন সম্ভাবনা নাই যে আওয়ামীলীগ বিকাল তিনটায় কয়েক লাখ কর্মী জমা করবে গুলিস্তানে? সেই দিন আছে? সেই সুযোগ ছিল যখন এই ছাতার আন্দোলন হাত থেকে চলে যাচ্ছিল তখন। তখন যদি আওয়ামীলীগ ঘোষণা দিত তাহলে দশ লাখ মানুষ ঢাকায় আনা কোন ঘটনাই ছিল না। প্রশাসন ছিল, কর্মীরা ছিল। এই আন্দোলন কোনদিনই এই পর্যন্ত আসতে পারত না। ওই দিন হয়েছে বাসি, এইটা আওয়ামীলীগ ভুলে গেছে? ... ...


ঢাকা শহরে হাঁটলেই নানান তামশা দেখা যায়। আজকে এজতেমা নিয়ে তাবলীগ জামাতের দুই গ্রুপের যে ঝগড়া তার অন্য একটা রূপ দেখছে ঢাকাবাসী। সাদ পন্থিদেরকে কঠোর বার্তা দেওয়ার জন্য হাজার হাজার মোল্লারা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জমায়েত হয়েছিল। কড়া হুশিয়ারি দিয়েছে এরা। বলেছে মাওলানা সাদ যদি দেশে আসে তাহলে সরকার পতন আন্দোলন শুরু করবে তারা! এগুলা তো হচ্ছে আজকের এই সভার একটা দিক। দ্বিতীয় দিকটা হচ্ছে কুৎসিত। সারাদেশ থেকে এই যে হুজুরেরা আসল। এরা এসে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আর কতক্ষণ? ঢুকে গেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গিজগিজ করছে টুপিওয়ালাদের দিয়ে। বুঝে না বুঝে কে জানে, কেউ কেউ রোকেয়া হলেও ঢুকে গেছে, সামসুন্নাহার হলেও ঢুকেছে শুনছি। কলা বিভাগের কোন এক মেয়েদের বাথরুমে ঢুকে বসে আছে! মূত্র বিসর্জন নিয়ে বেকায়দায় পরা হুজুরেরা লাইন দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির দেওয়াল ভিজাচ্ছে এমন ছবি সামনে আসছে! হুজুর মানুষ, ঢাকায় আসছে, ঢাকা সম্পর্কে কী শুনে আসছে কে জানে, ছাত্রী যাদের পাইছে তাদেরই নানান জ্ঞান বিতরণ করেছে! এক বোরকা পরা নারীকে প্রশ্ন করেছে আপনের এইখানে কী কাজ? একজন নারীর পোস্ট দেখছি গায়ে হাত দেওয়ার চেষ্টাও করছে আল্লার এই বান্দারা! ... ...

গতকাল ( ৩০/১০/২০২৪) রাতে ঢাকা আসছি। মহান (!) বিপ্লব ( না গণ অভ্যুত্থান?) সংগঠিত হওয়ার পরে প্রথম আসলাম। রাতে তেমন আলামত না পেলে সকাল থেকে বেশ ভালো ভাবেই বুঝলাম আমি ঢাকা আসছি! রাতে যখন গন্তব্যের দিকে যাচ্ছি তখন দেখলাম নানান দেওয়াল লিখন। ইউনুস সাহেব এই সব দেওয়াল লিখনকে বাধাই করে নিয়ে গিয়েছিলেন জাতিসংঘে। আমি যেগুলা দেখছি সেগুলাও নিয়ে গেছে কি? আমি দেখলাম বাঁচার পথ খেলাফত খেলাফত লেখা। মূর্খ আমি দেখলাম আরবিতে কী জানি লেখা! তো এগুলা নিয়ে গেছেন তিনি? ... ...

যারা জানে না সেই সব পাঠকদের জন্য বলি একটু। প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ পত্র রাষ্ট্রপতির কাছে নাই এমন খবর প্রকাশের পরে খুব গরম হয়ে গেল সমন্বয়কসহ উপদেষ্টারা। পারলে সেদিনই নামিয়ে ফেলেন রাষ্ট্রপতিকে তার পদ থেকে। এমন কুৎসিত ভাষায় আক্রমণ করা হল তাকে যে বলার মতো না। যে এই রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নিয়ে উপদেষ্টা হয়েছে সেও বলতে লাগল চুপ্পুকে টেনে নামানো হবে। তার পদে থেকে যে তিনি রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারেন না, বললে তা আইন লঙ্ঘন হবে এইটা বুঝার বা চিন্তা করার প্রয়োজনও বোধ করে নাই এরা। দেড় দুইশজন মিলে বঙ্গভবনের সামনে খুব আন্দোলন করল। সাধারণ মানুষ পাত্তাও দিল না এই সবে। সেনাপ্রধান দেশের বাহিরে, এই ফাঁকে কিছু করে ফেলবে এমন একটা শঙ্কার কথা আমি গত লেখায় লিখেছিলাম। এরপরে কী হল? এরপরে ম্যালা দোষে দোষী, এতদিন ধরে যারে ইচ্ছামতো গালিগালাজ করছি, সেই বিএনপি একটা ঐতিহাসিক কাজ করল। তারা সোজা জানিয়ে দিল রাষ্ট্রপতিকে এই মুহূর্তে সরিয়ে সাংবিধানিক যে জটিলতা তৈরি করার চেষ্টা হচ্ছে এতে তারা সায় দিচ্ছে না, এটা তারা চায় না! বিএনপির এই একটা ঘোষণা সব এক ফুঁৎকারে উড়িয়ে দিল। কই গেল আল্টিমেটাম, কই গেলে আজকেই, ত্রিশ মিনিটের মধ্যে পদত্যাগ করতে হবে বলে আস্ফালন! সব দিঘির জলের মতো শান্ত নিটোল! ... ...