এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  উপন্যাস

  • ময়ূরঝর্ণ - পর্ব ১২ 

    বিতনু চট্টোপাধ্যায় লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | উপন্যাস | ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ৩৫১ বার পঠিত | রেটিং ৪ (১ জন)
  • বনমালী বুঝতে পারে সিংরাই মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়েই আছে। কয়েক মাস অপেক্ষা করে বরং ভালোই হয়েছে, ধজুড়ি গ্রামের মহুল পাহাড়ে যেখানে কথা শেষ হয়েছিল, আজ জুজারধরায় সেখান থেকেই শুরু করে বনমালী দেশোয়ালি। ঘরের ভেতর থেকে একটা ছেলে তিন কাপ চা নিয়ে এসে দাঁড়ায় সামনে। সামান্য একটু থেমে চায়ের কাপটা হাতে নিয়ে ফের বলতে শুরু করে বনমালী, ‘এখন প্রশ্ন আসে এই দশ শতাংশ মানুষ কীভাবে বাকি নব্বই শতাংশ মানুষকে কন্ট্রোল করছে? গরিব মানুষকে এভাবে শাসন করার বা শোষণ চালানোর মূল যন্ত্র কী? নব্বই শতাংশ মানুষকে শাসন করার সবচেয়ে বড় যন্ত্র হচ্ছে বন্দুক, যা রয়েছে এদের হাতে। বন্দুক মানে রাষ্ট্র-ক্ষমতা। এই রাষ্ট্র-ক্ষমতা রয়েছে এই সামান্য অংশের মানুষের হাতে। রাষ্ট্রের হাতে মূলত তিনটে জিনিস আছে, এক হচ্ছে বাহিনী। মানে পুলিশ বা সেনা। দুই হচ্ছে বিচার ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে রাষ্ট্র যা চায় তা কেউ না মানলে তাকে বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে জেলে ঢুকিয়ে দিতে পারে। আর তিন নম্বর হচ্ছে প্রচার মাধ্যম। রাষ্ট্র যা চায়, এই প্রচার মাধ্যম তাই প্রচার করে। গরিব মানুষের কষ্টের কথা, সেই কষ্টের কারণ প্রচার মাধ্যম কখনই বলে না। প্রকৃত অর্থে এই দশ শতাংশ মানুষই নিয়ন্ত্রণ করছে রাষ্ট্রকে। ওপর থেকে মনে হবে রাজনৈতিক দলগুলো সব কিছু চালাচ্ছে। আসলে কিন্তু একটা দলের সঙ্গে অন্য দলের ফারাক খুব কম। রাজনৈতিক দলগুলোর মোড়কে সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করছে ওই দশ শতাংশ মানুষ যারা মূলত ধনী, ব্যবসায়ী এবং শোষক শ্রেণি।
     
    এই যে ব্যবস্থা বছরের পর বছর চলছে তার ফলে গরিব সারা জীবন গরিবই থেকে যায়। বড়লোক আরও বড়লোক হতে থাকে। আর গরিব কেন গরিব আছে, কেন সারা জীবন ধরে অক্লান্ত শ্রম করেও তার অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে না তা বোঝানোর জন্য যারা সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করছে তারা জন্মান্তরবাদ সিস্টেম চালু করেছে। তারা বলছে, তুমি আগের জন্মে কিছু খারাপ কাজ করেছ বা অন্যায় করেছ, যার ফল এই জন্মে ভোগ করছ। তোমার অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে না তার কারণ  তোমার আগের জন্মের পাপ। এই জন্মে তোমাকে তার প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে। গরিব মানুষকে এটা বুঝতে দেওয়া হচ্ছে না যে, তার খারাপ অবস্থার একমাত্র কারণ সমাজের শোষণ ব্যবস্থা, তার আগের জন্মের কাজ নয়। শ্রমিক, কৃষকের দারিদ্রের আসল কারণ তার আগের জন্মের অপরাধ নয়, এর মূল কারণ সমাজের ওই দশ শতাংশ মানুষের শোষণ।’
    টানা বলে ফের একটু থামে বনমালী। সামনের চেয়ারে বসা লোকটার দিকে তাকায়। লোকটার নাম দুর্গা হেমব্রম, যদিও সংগঠনে বা বিভিন্ন গ্রামের মানুষ তাকে দ্বিজেন নামে চেনে। যেভাবে বনমালীকে চেনে সুকান্ত নামে। ‘তোমরা কথা বল, আমি চানটা সেরে নিই বরং,’ বলে চেয়ার থেকে উঠে পড়ে দুর্গা। এতক্ষণ ধরে ধৈর্য ধরে বনমালী আর সিংরাইয়ের কথাবার্তা শুনছিল সে। শুনছিল বললে ভুল হবে, বেশিরভাগ সময়ই টানা তাকিয়েছিল সদ্য কৈশোরে পা রাখা ছেলেটার দিকে। হঠাৎ দেখলে মনে হবে পুরো কথোপকথনটাই হচ্ছে একতরফা, মানে বনমালী বলে চলেছে, সিংরাই শুনছে। কিন্তু দ্বিজেনের অভিজ্ঞ চোখ বুঝতে পারে, ব্যাপারটা মোটেও একতরফা নয়। এটা ঠিকই বনমালী বলছে, ছেলেটা শুনছে। কিন্তু সেটা দেখা যাচ্ছে খালি চোখে, আসলে যেটা ঘটছে তা হল এক রাসায়নিক বিক্রিয়া। যা খালি চোখে দেখা যাচ্ছে না। দ্বিজেন দেখতে পায়, বনমালীর প্রতিটা কথা ছেলেটার কান দিয়ে নয়, হৃদয় দিয়ে মাথায় প্রবেশ করতে থাকে। তারপর তা প্রতিটা শিরা-উপশিরা দিয়ে ছড়িয়ে পড়তে থাকে গোটা শরীরে। মুহূর্তে মুহূর্তে পাল্টে যেতে থাকে ছেলেটার মুখ, চোখ, হাত, পায়ের অভিব্যক্তি। এই রাসায়নিক বিক্রিয়া হতে থাকলে একটা মানুষের চিন্তাভাবনা, বিশ্বাসর খোলনলচে পাল্টে যায়। তখন সে আর আগের মানুষটা থাকে না। সে তখন জীবনের অন্য কিছু মানে খুঁজে পায়। কী করছি, কেন করছি তা তখন তার মধ্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তা যত স্পষ্ট হতে থাকে, ততই সেই ছাপ পড়ে তার চোখে-মুখে। একজন মানুষের মধ্যে এই পরিবর্তনটা চোখের সামনে দেখাও এক অনন্য অভিজ্ঞতা, যা দ্বিজেনকে উৎসাহিত করে আগামীর দিনগুলো সম্পর্কে। একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে থাকে সে, তারপর বনমালী একটু দম নিতে থামলে উঠে পড়ে চেয়ার থেকে।
    আরও একটু অপেক্ষা করে বনমালী। তারপর আবার বলতে শুরু করে, ‘এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই যে গরিব মানুষের ওপর তীব্র শোষণ, নিপীড়ন, তা থেকে মুক্তির উপায় কী? গরিব মানুষের অধিকার কীভাবে আদায় হবে? প্রথম এবং শেষ কথা হচ্ছে, গরিব মানুষকে সংগঠিত হতে হবে এবং এমন এক ছাতার তলায় আসতে হবে যারা সত্যিই গরিব মানুষের পাশে থাকবে, প্রকৃত অর্থেই গরিব মানুষের প্রতিনিধিত্ব করবে। কেন্দিশোলের জোতদার যদু মন্ডলের জমির ধান যেদিন গরিব মানুষ বাজেয়াপ্ত করল তুমি দেখেছ। সেদিন আমাদের বাহিনী অস্ত্র হাতে গরিব মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিল বলে সেদিন তাদের অধিকার আদায় হয়েছিল। বর্তমান ব্যবস্থার পরিবর্তনের জন্য একমাত্র রাস্তা হচ্ছে কৃষি বিপ্লব। এখন অধিকাংশ কৃষকের হাতে জমি নেই। জমির মালিকানা সব বড় জোতদার, জমিদার এবং মুষ্টিমেয় কিছু ধনী লোকের হাতে। আমাদের দাবি হচ্ছে, প্রকৃত কৃষকের হাতে জমি চাই, কৃষকের হাতে রাজনৈতিক ক্ষমতা চাই। কৃষকের হাতে রাজনৈতিক ক্ষমতা গেলেই প্রকৃত কৃষকের উপকার হবে। আর প্রকৃত কৃষকের হাতে রাজনৈতিক ক্ষমতা এমনি এমনি যাবে না। কেউ ক্ষমতা নিজে থেকে ছেড়ে দেবে না, তা কেড়ে নিতে হবে।
     
    এই যে ধর, তোমাদের পূর্বপুরুষরা সারা জীবন জঙ্গলে থেকেছে। গত কয়েক বছরে অসাধু ব্যবসায়ীরা নির্বিচারে জঙ্গল কেটে সাফ করছে, কাঠ পাচার করছে। তখন ফরেস্ট ডিপার্টমেন্ট কিছু তো করেইনি, বরং এই ব্যবসায়ীদের মদত দিয়েছে, বিনিময়ে তাদের থেকে নানা সুবিধে নিয়েছে। কিন্তু তোমরা কয়েকটা মাত্র গরিব পরিবার যখন সেই জঙ্গলের কোনও ক্ষতি না করে সামান্য একটা বাড়ি বানিয়ে থাকলে, তোমাদের বাড়ি ভেঙে দিল, একজনকে গ্রেফতার করল। এই হচ্ছে রাষ্ট্রের বাহিনী আর বিচার ব্যবস্থার জোর। তাই আমরা বলি, রাষ্ট্র ধনীকে নিরাপত্তা দেয়, গরিবকে দমন করে। রাষ্ট্র তার বাহিনীকে ব্যবহার করে যা খুশি করতে পারে, বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে যাকে তাকে জেলে দিতে পারে।’
    বনমালীর কথা শুনতে শুনতে সিংরাইয়ের মনে হতে থাকে আজকের দিনটা যেন সেই মহুল পাহাড়ের সকালের মতো হঠাৎ থেমে না যায়। তার মনে হয় এই আলোচনা যেন শেষ না হয় কোনও দিন। কিন্তু তা তো হওয়ার নয়। কথা থামিয়ে ঘড়ি দেখে বনমালী। দেখতে দেখতে কখন দু’ঘণ্টা পেরিয়ে গিয়েছে, প্রায় সাড়ে এগারোটা বাজে। স্নানে যেতে হবে, তারপর খেয়েই বেরিয়ে পড়তে হবে।
    ‘আমাদের এবার যাওয়ার সময় হয়ে এল,’ কথাটা বলে থেমে যায় বনমালী। দেখে কী বলে ছেলেটা।
    এক মুহূর্ত চুপ করে বসে থাকে সিংরাই। বলতে চায় যে, সেও যাবে বনমালীদের সঙ্গে। ওদের সঙ্গে কাজ করবে গরিব মানুষের মধ্যে। সিংরাই মনে মনে ভাবে সে কাঁধে বন্দুক নিয়ে পাহারা দিচ্ছে কোনও এক জোতদারের ধান বাজেয়াপ্ত করার কর্মসূচিতে। সবচেয়ে ভালো হয় যদি চাকাডোবার জোতদার অমিয় মন্ডলের জমির ধান কাটতে পারে। ওই জমিতেই মজুরের কাজ করে বাবা। কিন্তু এত কথা বলতে পারে না। শুধু অস্ফুট স্বরে বলে, ‘আমি স্কুলে যাওয়া ছেড়ে দিয়েছি।’
    ‘কেন ছাড়লে স্কুল?’
    ‘স্কুলে যেতে আমার ভালো লাগত না। বই, খাতা নেই, পড়ার কিছু নেই। একদিন স্কুলে ঝামেলা হল, তারপর থেকে আর যাই না।’
    ‘ঝামেলা হল কেন?’
    ‘সরস্বতী পুজোর চাঁদা তোলা হচ্ছিল স্কুলে। আমি বললাম, চাঁদা দেব না। বই কেনার পয়সা নেই, চাঁদা দিয়ে কী হবে? এই নিয়ে বড় ক্লাসের একজনের সঙ্গে ঝামেলা হল। টিচাররা ডেকে বকা দিল। তারপর থেকে আমি আর স্কুলে যাইনি।’ সিংরাই যে দু’মাস আগে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করেছে তা সহদেবের কাছে জেনেছিল বনমালী, কিন্তু কারণ জানত না।
    ‘আমি তোমাদের সঙ্গে যাব,’ মনের সমস্ত জোর এক করে নীচু গলায় বলল সিংরাই।
    সিংরাইকে সংগঠনে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছিল বনমালী। যদিও নিজে থেকে বলছিল না সেকথা, দেখতে চাইছিল সিংরাই কী বলে। ‘তুমি এখন বাড়ি যাও। আমি তোমাকে খুব তাড়াতাড়ি খবর দেব। কিন্তু আমাদের সঙ্গে কাজ করতে চাইলে তোমাকে তো পাকাপাকি বাড়ি ছাড়তে হবে। তুমি কি রাজি?’
    ‘রাজি। আমি যাব তোমার সঙ্গে,’ দৃঢ়তার সঙ্গে জানায় সিংরাই।
    ‘ঠিক আছে, তুমি রেডি থেকো। আমি খবর দেব তোমাকে।’ একথা বলে বনমালী ওঠার প্রস্তুতি নেয়। তারপর সিংরাইকে এক মিনিট দাঁড়াতে বলে চলে যায় ঘরের ভেতর। দুটো বই নিয়ে এসে দেয় সিংরাইয়ের হাতে। ‘বই দুটো পড়, আমি খুব তাড়াতাড়ি আবার আসব।’
    বাড়ির রাস্তা ধরে সিংরাই। আনন্দে লাফাতে লাফাতে বাড়ি ফেরে সে। বনমালীর সঙ্গে সে যাবে তা অনেক দিন ধরেই ভাবছে, আজ তার সম্মতি মিলেছে। ভাবতে থাকে কবে আসবে সেই দিন!

    ২৩-০১-২০১৬, ঝাড়গ্রামে অরিন্দম

    গতকাল দুপুরে পৌঁছে সন্ধেবেলা ঝাড়গ্রাম শহরের রাস্তায় কিছুক্ষণ ঘুরে বেড়াচ্ছিল অরিন্দম, মনে পড়ছিল ২০০৮-০৯ সালের কথা। মাওবাদীদের ডাকা বনধ, শুনশান শহর। বনধের দিনগুলোতে এক অজানা ভয়ে শহরের দোকানওপাটও খুলত না খুব একটা। সন্ধের পর চায়ের দোকানে ভিড় জমত, জটলা হত মোড়ে-মোড়ে। এখন শহরের চেহারা একদম অন্যরকম। ঝাড়গ্রাম কোর্টের পাশে চায়ের দোকানে অরিন্দম বসেছিল কিছুক্ষণ। তারপর তাড়াতাড়ি হোটেলে ফিরে যায়, রাতে তাড়াতাড়ি শুয়েও পড়ে।  
    আজ সক্কাল সক্কাল ঘুম থেকে উঠে হোটেলের বাথরুমে ঢুকেই আয়নায় লাগানো লাল বড় টিপটা আবার চোখে পড়ল অরিন্দমের। গতকাল হোটেলের ঘরে পা রাখার পর থেকে বাথরুমের আয়নায় আটকানো টিপটা যেন তাড়া করছে অরিন্দমকে। টিপটার সঙ্গে মাননসই কোনও মহিলার চেহারা কেমন হতে পারে তা মাথায় ঘুরতে থাকে কিছুক্ষণ। এই সমস্যাটা অরিন্দমের কয়েক বছর ধরে হচ্ছে। কোনও কিছু দেখে তা নিয়ে ভাবতে শুরু করলে চিন্তাটা লাগামছাড়া ছুটছে এদিক-ওদিক। অরিন্দম ভাবল স্নানের আগে টিপটা খুলে কমোডে ফেলে দেবে। কিন্তু যথারীতি ভুলে গেল।
     
    ঝাড়গ্রাম শহরের রাস্তায় এখনও লোকের ভিড় বাড়েনি। খুব সকালে ঘুম ভাঙে না এই শহরের, অরিন্দম এটা আগেও দেখেছে। এক কাপ চা, দুটো বিস্কুট খেয়ে হোটেল থেকে বেরিয়েছে। কাল রাতেই অরিন্দম ঠিক করে রেখেছিল যত তাড়াতাড়ি পারে রওনা দেবে বেলপাহাড়ির উদ্দেশে। ময়ূরঝর্ণা গ্রামে গিয়ে ধর্মা নামক ছেলেটাকে খুঁজে বের করতে হবে। তাও বেরোতে বেরোতে পৌনে সাতটা বেজে গেল। ঝাড়গ্রাম শহর পেরিয়ে জোরে ছুটছে গাড়ি, ড্রাইভারকে একটু আস্তে চালাতে বলল অরিন্দম। এত জোরে গাড়ি চললে আশপাশে কিছু ভালো করে দেখা যায় না। অরিন্দম মনে মনে হিসেব করল, দহিজুড়ি যেতে ম্যাক্সিমাম আট-দশ মিনিট, সেখান থেকে শিলদা মিনিট কুড়ি। সব মিলিয়ে চল্লিশ-পঁয়তাল্লিশ মিনিটের মধ্যে বেলপাহাড়ি পৌঁছে যাওয়া উচিত। ময়ূরঝর্ণা পৌঁছতে ম্যাক্সিমাম সাড়ে আটটা। রাস্তার দু’দিকে ফাঁকা মাঠ। নভেম্বরে ধান কাটার পর এখানে প্রায় সব জমিই ফাঁকা পড়ে থাকে। শীতে বিশেষ চাষ হয় না এই এলাকায়। এই সময়টা বিনপুর, বেলপাহাড়ির গরিব মানুষ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে বিভিন্ন পেশায়। সকাল সকাল কাজে বেরিয়ে যায় মানুষগুলো। কেউ খেজুর গাছে উঠছে রসের সন্ধানে, কেউ হাঁড়ি, কলসি বানাবে, সাইকেল নিয়ে রওনা দিচ্ছে মাটি  খাদানের দিকে, কেউ পাথর কাটতে চলেছে সামনের কোনও টিলায়, কেউ বেরিয়ে পড়েছে খানকয়েক গরু নিয়ে, শীতের সকালে আস্তে আস্তে জেগে উঠছে গ্রামগুলো। এক এক মরশুমে গ্রামগুলো এখানে জেগে ওঠে এক এক রকমভাবে। কারোরই তো সারা বছরের ধরাবাঁধা কাজ নেই কোনও। এখানে গ্রামের ঘুম ভাঙে মানুষের পেশার সঙ্গে তাল মিলিয়ে। এখনও রোদ ওঠেনি ভালো করে। একটা রিসর্ট তৈরি হয়েছিল ঝাড়গ্রাম আর দহিজুড়ির মাঝে। রিসর্টটার উল্টোদিকে সবে খোলা চায়ের দোকানের উনোন থেকে ধোঁয়া বেরচ্ছে। উল্টোদিক থেকে চার-পাঁচটা ছেলে সাইকেল চালিয়ে আসছে। শীতের সকালে ঝাড়গ্রামের নানান দৃশ্য দেখতে দেখতে এগোয় অরিন্দম।
     
    ওর চোখ পড়ে রাস্তার ধারে একটা মাটির বাড়ির দিকে। উঠোন ঝাঁড় দিচ্ছে এক মাঝবয়সী মহিলা। ফুল সোয়েটার, মাফলার দিয়ে মাথা পেঁচিয়ে বসে এক পুরুষ। মহিলাদের কি পুরুষদের থেকে কম শীত লাগে? হঠাৎ প্রশ্নটা মাথায় এল অরিন্দমের। দহিজুড়ি, বিনপুর ছাড়িয়ে অরিন্দম প্রায় শিলদার কাছাকাছি চলে এসেছে। এতক্ষণ রাস্তায় এত মানুষ দেখল, একজন মহিলাকেও কি দেখল ফুল সোয়েটার পরা বা মাথায় মাফলার জড়ানো? মনে পড়ে না। দশজনের মধ্যে দু-চার’জন মহিলার গায়ে চাদর থাকতেও পারে, সোয়েটার পরা কাউকে দেখেনি। টুপি, মাফলারের তো প্রশ্নই ওঠে না। অথচ সমস্ত পুরুষই সোয়েটার পরা, বেশিরভাগেরই মাথা, কান মাফলারে ঢাকা। আনমনে জানলা দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে থাকে অরিন্দম, মাথায় ঘুরতে থাকে প্রশ্নটা, মহিলাদের কি শীত কম লাগে? কিন্তু তা কী করে হতে পারে, দু-এক’জন ব্যতিক্রম হতে পারে, কিন্তু পুরুষ-মহিলদের ক্ষেত্রে শীত কম বা বেশি তো নিয়ম হতে পারে না! শহরে তো পুরুষ-মহিলাদের মধ্যে শীত কম বা বেশির কোনও ফারাক দেখেনি অরিন্দম। বরং শীতের সন্ধ্যায় অনেক সময় পার্ক স্ট্রিটে দেখেছে কোনও কোনও মহিলা ছেলেদের থেকেও বেশি ঠান্ডার পোশাক পরা। তবে গ্রামে এমন কেন? সঠিক উত্তর খুঁজে পায় না। অরিন্দমের মনে পড়ে, অনেক বছর আগে একটা রিপোর্ট পড়েছিল, যে দেশ যত গরিব সেখানে পুরুষ এবং মহিলাদের মধ্যে ফারাক তত বেশি। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছিল, সবচেয়ে গরিব দেশে একজন মহিলা একজন পুরুষের তিন ভাগের এক ভাগ খাবার খায়, অথচ পুরুষের তুলনায় তিন গুণ বেশি পরিশ্রম করে। অরিন্দমের মনে হল, এই যে মহিলারা বেশি পরিশ্রম করে, তার জন্য কি তাদের শীত কম লাগতে পারে? নাকি ব্যাপারটার মধ্যে পুরুষতান্ত্রিকতা আর অর্থনীতি মিলেমিশে এমন ককটেল তৈরি হয়েছে যে, বাড়িতে একটা শীতের পোশাক কেনার টাকা থাকলে তা পুরুষের জন্যই বরাদ্দ হবে, মহিলাদের টার্ন আসতে আসতে হয়তো শীতকালটাই চলে গেল!
     
    বেলপাহাড়ির মোড়ে সকাল সকালই যথেষ্ট ভিড়। বাজার বসে গিয়েছে পুরোদমে। প্রথমবার বেলপাহাড়ি আসার কথা মনে পড়ে অরিন্দমের। সেটা ২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারি, দেখতে দেখতে দশ বছর হয়ে গেল। অথচ প্রথম দিন বেলপাহাড়ি আসার ঘটনাগুলো পরপর ছবির মতো মনে পড়তে থাকে অরিন্দমের। এই দশ বছরে রাজ্যের পশ্চিম প্রান্তের এই প্রান্তিকতম ব্লকের কী কী বাহ্যিক পরিবর্তন হয়েছে ভাবার চেষ্টা করে অরিন্দম। মাটির বাড়ির দেওয়ালগুলোতে এখন আর সিপিএমের কাস্তে-হাতুড়ি আঁকা ছবি নেই বিশেষ, তবে এটা শুধু এখানেই নয়, গোটা রাজ্যেই একটা বড় বদল।
    বেলপাহাড়ি মোড় থেকে বাঁশপাহাড়ির দিকে এগোয় গাড়ি। অবিন্যস্ত চিন্তাভাবনা ছেড়ে দৃষ্টিটাকে রাস্তার ওপর ফেরায় অরিন্দম। চাকাডোবার মোড়টা ভুল করে পেরিয়ে গেলে মুশকিল, ভূলাভেদা পেরিয়ে ড্রাইভারকে বলে গাড়ি আস্তে চালাতে। চাকাডোবা থেকে বাঁদিকে ঘুরতে হবে। চাকোডোবা মোড় থেকে বাঁদিকে ঘুরে অরিন্দম প্রথমেই যেটা বুঝতে পারে, রাস্তার অবস্থা অনেক পাল্টেছে। ময়ূরঝর্ণা গ্রামে যখন অরিন্দম পৌঁছয়, তখন প্রায় পৌনে নটা বাজে।

    ১৭-০৭-২০০০, সিংরাই মান্ডির ঘরছাড়া

    আজকাল সারাদিন সময় যেন আর কাটতেই চায় না সিংরাইয়ের। ভালো লাগুক, না লাগুক আগে তাও স্কুলে যেত। স্কুল থেকে ফিরে ফুটবল খেলত। স্কুলে যাওয়া বন্ধ করার পর সকাল থেকে সিংরাইয়ের হাতে অঢেল সময়। আগে খেলার যে উৎসাহটা ছিল এখন সেটাও নেই বললেই চলে। কেন্দিশোলের সেই রাত, মহুল পাহাড়ের সেই সকাল আর সব শেষে মাস তিনেক আগে জুজারধরায় বনমালীর মুখোমুখি হওয়া, সব মিলিয়ে পাল্টে গিয়েছে সিংরাইয়ের জীবন।
    সকাল ন’টা-সওয়া ন’টা বাজে। এখন ধান বসানোর সময়, সকাল সকাল বাবা-মা দু’জনেই চাষের কাজে মাঠে গিয়েছে। বনমালী কাকার দেওয়া বই দুটো চার-পাঁচ’বার করে পড়ে ফেলেছে সিংরাই। ভাই ধর্মা, বোন মালতী এদিক-ওদিক ঘুরছে, চুপচাপ ঘরের সামনে উঠোনে বসে থাকে সিংরাই। হঠাৎ গ্রামে ঢোকার রাস্তার দিকে চোখে পড়ে তার, অচেনা একজন এগিয়ে আসছে তাদের বাড়ির দিকে। সিংরাই সোজা হয়ে বসে। লোকটা কিছুটা কাছাকাছি আসতেই সিংরাই উত্তেজনায় উঠে দাঁড়ায়। এ তো ছিল কেন্দিশোলে যদু মন্ডলের জমিতে ধান কাটার রাতে ছিল বনমালী কাকার সঙ্গে। পরদিন সকালে মহুল পাহাড়েও তাকে দেখেছে সিংরাই। কিন্তু লোকটার নাম জানে না সে। উত্তেজনায়, আনন্দে এক অদ্ভুত অনুভূতি হয় সিংরাইয়ের, তবে কি বনমালী কাকা খবর পাঠিয়েছে? শেষবার জুজারধরায় বলেছিল, খুব তাড়াতাড়ি খবর পাঠাবে। তাকে নিয়ে যাবে ওদের সঙ্গে। বনমালী কাকা কি এসেছে কাছাকাছি কোনও গ্রামে? সিংরাইয়ের মাথায় যেন ঝড় বইতে থাকে, ততক্ষণে লোকটা সামনে এসে দাঁড়িয়েছে।
    ‘দাদা এসেছে, তোমাকে ডাকছে।’
    অজানা উত্তেজনায় মনটা নেচে ওঠে আনন্দে, সিংরাই দৌড়ে একবার ঘরের পিছনে যায়, দেখে ধর্মা আর মালতী খেলছে। তারপর দৌড়ে ফিরে আসে। আবার দৌড়ে ঘরের ভেতরে যায়, ফুল প্যান্টটা পরে নেয়। সিংরাইদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে একটু এগিয়েই ডানদিকে ঘুরে কাঁকড়াঝোড়ের রাস্তা ধরে লোকটা, লোকটার পাশে হাঁটতে থেকে সবে চোদ্দ পেরনো সিংরাই মান্ডি। ময়ূরঝর্ণা থেকে যে রাস্তাটা কাঁকড়াঝোড়ের দিকে যাচ্ছে, সেদিকে কিছুটা এগিয়ে তেলিখানা। তেলিখানা মোড়ে পৌঁছে লোকটা ডানদিকে টার্ন নেয়, জঙ্গলে কিছুটা এগিয়ে দুটো ঘর। একটা ঘরের সামনে সিংরাইকে নিয়ে গিয়ে দাঁড়ায় লোকটা। সঙ্গে সঙ্গে ঘর থেকে বেরিয়ে আসে বনমালী। লুঙ্গি, গেঞ্জি পরা বনমালীর পিছনে এসে দাঁড়ায় ধ্রুব। যে তাকে বাড়ি থেকে নিয়ে এল তাকে উদ্দেশ্য করে বনমালী বলে, ‘অর্জুন তুই একবার বাজারটা ঘুরে আয়।’ সিংরাইয়ের মনে পড়ে যায় কেন্দিশোলের ধান কাটার রাতে বনমালী কাকা বলেছিল, ধ্রুব আর অর্জুন বন্দুক হাতে পাহারায় থাকবে লাইনের একদম শেষে।
     
    ‘কাল অনেক রাতে আমরা এসেছি, আজ দুপুরের মধ্যে বেরিয়ে যাব। তুমি কি যাবে?’ সিংরাইয়ের দিকে ফিরে জানতে চায় বনমালী।
    ‘যাব,’ এই প্রশ্নের জন্যই অপেক্ষা করছিল সে।
    ‘বাবা-মা জানে কিছু?’
    ‘না। বাবাকে মনে হয় সহদেব কাকা বলেছে আমি তোমার সঙ্গে দেখা করেছি। বাবা একদিন বলছিল, তোমাদের সঙ্গে বেশি মেলামেশা না করতে।’
    ‘তুমি কী বললে?’
    ‘কিছু বলিনি। কিন্তু আমি তোমার সঙ্গে যাব। তোমাদের মতো হতে চাই আমি।’
    বনমালী কিছু বলে না, আট মাস আগে প্রথম যখন ছেলেটাকে দেখেছিল আর আজ যে ছেলেটাকে দেখছে, দু’জনের স্বভাব, ব্যবহার, কথা বলায় কোনও ফারাক নেই, ফারাক শুধু আত্মবিশ্বাসে। ছেলেটা আগের মতোই নীচু স্বরে কথা বলে, এখনও মাথা তোলে না কারও সঙ্গে কথার সময়, কিন্তু কথার মধ্যে একটা দৃঢ়তা এসেছে। বনমালীর মনে হয় এখন অনেকটাই তৈরি হয়ে গিয়েছে সিংরাই। সংগঠনে যুক্ত হওয়ার এটাই সবচেয়ে ভালো সময়! ‘ঠিক আছে, আমরা এখান থেকে দুপুরে বেরব। তুমি এখন বাড়ি চলে যাও। দুপুর একটা-দেড়টার মধ্যে চলে এসো।’
    ‘কী নিতে হবে?’
    ‘বেশি কিছু না। জামা, প্যান্ট, গামছা, লুঙ্গি, যা যা রোজ লাগে।’
    বাড়ি ফেরার রাস্তা ধরে সিংরাই। এতদিন ধরে যে দিনের জন্য অপেক্ষা করছিল, তা যখন সত্যিই এসে হাজির হয়েছে তখন এক অদ্ভুত অনুভূতি হয় সিংরাইয়ের। বাবা-মা’র মাঠ থেকে ফিরতে প্রায় তিনটে বেজে যাবে। বাড়ি ছাড়ার সময় ওদের সঙ্গে দেখা হবে না, প্রথম যখন ভাবনাটা মাথায় আসে মুহূর্তের জন্য একটু খারাপ লাগে সদ্য কৈশোরে পা রাখা ছেলেটার। কিন্তু তারপরই ওর মনে হয়, এর জন্য তো মানসিক প্রস্তুতি সে অনেকদিন ধরেই নিচ্ছে। আজ না হয় কাল তো চলেই যেত বনমালীর সঙ্গে। আজ যে বাড়ি ছাড়ার সময় দেখা হচ্ছে না বাবা-মা’র সঙ্গে তাতে কীই বা এসে যায়! বাড়ি ছাড়ার সময় দেখা হলেই বা কী এসে যেত! সে তো সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছে কী করবে জীবনে। নিজের সিদ্ধান্তকে আরও আঁকড়ে ধরতে মনে মনে নানা যুক্তি সাজায় সিংরাই। নিজেকে বোঝায়, মানুষের জন্য কিছু করতে গেলে বনমালীদের রাস্তাই নিতে হবে তাকে। তাছাড়া সে তো বাড়ি ফিরতে পারবে নিশ্চয় কোনও দিন, তখন দেখা হবে বাবা-মা’র সঙ্গে। নানা কথা ভাবতে ভাবতে বাড়ি ফেরে ছেলেটা। বুঝতে পারে না ভবিষ্যতে কোনও একদিন তার মনে হবে, এভাবে বাড়ি না ছেড়ে বাবা-মা’কে বলে এলেই ভালো হত। কিন্তু ভবিষ্যতে কী মনে হতে পারে তা আজ বোঝার মতো বয়স হয়নি তার। আজ তার মাথায় শুধুই ভবিষ্যতে দিন বদলের স্বপ্ন।
     
    বাড়ি ফিরে তাড়াতাড়ি পুকুরে গিয়ে স্নান সেরে নেয় সিংরাই। কাল রাতের জলঢালা ভাত আছে। ধর্মা আর মালতীকে ডেকে খেতে বসিয়ে দেয় সে, তারপর নিজেও খেয়ে নেয়। মনে মনে রেডি হতে থাকে বাড়ি ছাড়ার, সিংরাই বুঝতে পারে নাড়ির গতি বেড়ে গেছে তার। সে যে বাড়ি ছেড়ে যাবে তা বলে না ধর্মাকে। ধর্মার এখন দশ বছর বয়স, তার থেকে চার বছরের ছোট। খাওয়ার পর নিজের আর ভাই, বোনের থালা, ভাতের হাঁড়ি ধুয়ে রাখে সিংরাই। স্কুল ব্যাগটা গুছিয়ে নেয়। তার একটাই ফুল প্যান্ট, গত বছর পুজোর আগে কিনে দিয়েছিল বাবা। তাড়াতাড়ি যেন ছোট না হয়ে যায় তাই প্যান্টটা একটু বড়ই কিনেছিল। প্যান্টটা ঢলঢল করে সিংরাইয়ের সরু কোমরে। প্যান্টের বকলসে একটা দড়ি লাগানো, কোমরে বাঁধার জন্য। প্যান্ট পরে তিনটে গেঞ্জি, একটা গামছা, একটা লুঙ্গি ভরে নেয় স্কুল ব্যাগে। বনমালী কাকা যে বই দুটো দিয়েছিল তা ব্যাগেই ছিল। ব্যাগে ভরে নেয় একটা খাতা, একটা পেন। তারপর কী মনে করে ভাত খাওয়ার থালাটা ভরে ব্যাগে। ভাবে আর কিছু নেওয়ার দরকার আছে কিনা। অবশ্য আর কিছু নেইও ওর, তাই মিনিট খানেকেই ভাবা শেষ হয়ে যায়। ব্যাগ গুছিয়ে ঘরের বাইরে এসে বসে সিংরাই। আবার ঘরে ঢোকে, ব্যাগের চেন খুলে খাওয়ার থালাটা বের করে রেখে দেয়। তার মনে হয়, কেউ যদি ভাবে ছেলেটা ঘরছাড়ার সময়ও নিজের খাওয়ার কথা মনে রেখে থালা নিয়ে বেরিয়েছে! খাওয়ার একটা ব্যবস্থা ঠিক হয়ে যাবে, মনে মনে নিজেকে বলে সিংরাই। তারপর অপেক্ষা করতে থাকে, বাড়ি থেকে তেলিখানা যেতে মিনিট কুড়ি লাগবে বড়জোর।

    ক্রমশ... 

     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ধারাবাহিক | ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ৩৫১ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    রাজপথ - Jhanku Sengupta
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • | ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৮:২৯528107
  • মেয়েদের বেশিরভাগই অ্যানিমিয়ায় ভোগে বলে শীত বেশিই লাগে। ওই পুরুষদের হয়ে পয়সাকড়ি থাকলে তবে মেয়েদের হয় আর কি। 
     
    পড়ছি। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা খুশি মতামত দিন