এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  উপন্যাস

  • ময়ূরঝর্ণা - পর্ব ৮ 

    বিতনু চট্টোপাধ্যায় লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | উপন্যাস | ০৫ জানুয়ারি ২০২৪ | ৪৮৩ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • এই ময়ূরঝর্ণা গ্রামে সুবল মান্ডির বাড়ি, আজ সকাল থেকে শুরু হওয়া ঝামেলাটা শেষ পর্যন্ত মিটল। বাবার জেদের কাছে হার মানল সিংরাই। এক বাটি মুড়ি জল দিয়ে খেয়ে বাবার সঙ্গে হাঁটা দিল ছ’বছরের ছেলেটা। স্কুল কেমন কোনও ধারণাই নেই ওর। কিন্তু সিংরাই বুঝতে পারে, যেভাবে চলছিল সেভাবে আর চলবে না। পাশের পাড়ার আনন্দর কথা মনে পড়ে সিংরাইয়ের। আনন্দ ওর থেকে এক বছরের বড়। কিছুদিন আগে খেলার মাঠে আনন্দ ওকে বলেছিল, পড়া পারেনি বলে স্কুলে টিচার হাতে বেত দিয়ে মেরেছে। স্কুলে গেলে পড়তে হবে আর পড়া না পারলে মার খেতে হবে, এই ভয়ে ক’দিন ধরে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল সিংরাই। স্কুলে যাওয়ার থেকে বাবার সঙ্গে মাটি আনতে যাওয়া অনেক ভালো ছিল। নানান কথা ভাবতে ভাবতে চুপচাপ হাঁটতে থাকে সিংরাই, স্কুলের কাছাকাছি পৌঁছে বাবাকে জিজ্ঞেস করে, ‘তবে এখন থেকে মাটি কে আনবে?’
    ‘মাটি আমিই আনব। স্কুল না থাকলে তুমি যাবে। লেখাপড়া তো শিখতে হবে কিছু।’
     
    সুবল মান্ডির পার্মানেন্ট পেশা মাটির হাঁড়ি, কলসি বানানো, যাকে বলে কুমোর। বছরের বেশিরভাগ সময়ই মাটির হাঁড়ি, কলসি, তাওয়া বানায় সে। সুবল মান্ডিদের এক ছটাকও জমি নেই, যতটুকু আছে শুধু বাস্তু ভিটেটুকু। মাটির বাড়িতে একটাই ঘর, ওপরে টালি। এই এলাকায় কারোরই কোনও কাজ নেই সেভাবে। যাদের কিছু জমি আছে তাদের তাও কোনও ভাবে চলে বছরে একবার চাষ করে। কিন্তু যাদের জমি নেই, যেমন সিংরাইদের, তাদের চলে না। বর্ষায় চাষের সময় এর-ওর জমিতে সুবল মান্ডি কিছুদিন কাজ পায়। বছরের কিছু সময় পাথর ভাঙার কাজ করে। আর বেশিরভাগ সময় মাটির হাঁড়ি, কলসি বানায়। সিংরাইদের বাড়ি থেকে কিলোমিটার দশেক দূরে খাদান। সকাল সকাল সিংরাই বাবার সঙ্গে সাইকেলে চেপে চলে যায় খাদানে। বাবা মাটি কাটে, তা বস্তায় ভরে সিংরাই। চারটে বস্তা মাটি ভরতে কয়েক ঘণ্টা লেগে যায়। এক এক বস্তায় প্রায় পঞ্চাশ কিলো মাটি। তারপর সাইকেলের দু’দিকে দুটো করে বস্তা ঝুলিয়ে বাবা-ছেলের ঘরে ফিরতে ফিরতে দুপুর হয়ে যায়। মাটির ওজনের জন্য সাইকেল চালিয়ে ফিরতে পারে না সুবল। হ্যান্ডেল ধরে সাইকেলটাকে হাঁটিয়ে নিয়ে যায় সুবল, পিছন থেকে ঠেলে সিংরাই। দুপুর আড়াইটে-তিনটে নাগাদ ফিরে খাওয়া। সুবল মান্ডির বাড়িতে বছরের সাত-আট মাস দিনে একবেলাই রান্না হয়। রান্না হয় মানে শুধু ভাত, অন্য বেলা কী খাওয়া হবে তার কোনও ঠিক নেই। কোনও দিন হয়, কোনও দিন হয় না। তবে বছরের তিন-চারটে মাস ভালো যায় ওদের। কার্তিক, অঘ্রাণ মাসে ধান কাটার পর থেকে প্রায় মাঘের শেষ পর্যন্ত। এই তিন-চার মাস দু’বেলা ভাত হয় সুবল মান্ডির বাড়িতে। চাকাডোবার জোতদার অমিয় মন্ডলদের জমিতে ধান কাটার বরাত পায় সুবল। টানা পনেরো-বিশ দিন চলে ধান কাটার কাজ। ধান কেটে কিছু চাল, সামান্য টাকা হাতে পায় সুবল মান্ডি।
    ধান কাটা শেষ হলেই সুবল লেগে পড়ে হাঁড়ি, কলসি, সরা তৈরির কাজে। সকাল সকাল বাবা-ছেলে সাইকেল নিয়ে চলে যায় খাদান থেকে মাটি আনতে। পরদিন সকালে শুরু হয় জল দিয়ে মাটি মাখার কাজ। সুবলের বউ যমুনা যায় জঙ্গলে কাঠ কুড়োতে। সকাল থেকে টানা বসে একের পর এক মাটির হাঁড়ি বানিয়ে চলে সুবল। সদ্য বানানো হাঁড়ি, কলসি কচি হাতে রোদে শুকোতে দেয় সিংরাই। শ’দেড়েক হাঁড়ি, সরা বানানো হলে শুরু হয় কাঠ জ্বালিয়ে তা পোড়ানোর কাজ। টানা চার-পাঁচদিন ধরে বানানো হাঁড়ি, কলসি, সরা নিয়ে তারপর বেরিয়ে পড়ে সিংরাই আর তার মা যমুনা মান্ডি। নানান মাপের পঁচিশ-তিরিশটা হাঁড়ি, কলসি, সরা, তাওয়া সাইকেলের দু’দিকে বেঁধে দেয় সুবল। পায়ে হেঁটে সেই সাইকেল টেনে নিয়ে যায় যমুনা, পিছন থেকে সাইকেল ঠেলতে ঠেলতে এগোয় সিংরাই, ঠিক যেভাবে বাবার সঙ্গে মাটি নিয়ে আসে সে। ছ’বছরের সিংরাইয়ের এখনও এত শক্তি হয়নি যে, সাইকেলের দু’দিকে হাঁড়ি, কলসি বেঁধে মা’কে পিছনে বসিয়ে তা চালিয়ে নিয়ে যাবে। যমুনার শরীরেও জোর নেই তত। সকাল সাতটার মধ্যে মা-ছেলে বেরিয়ে পড়ে ময়ূরঝর্ণা থেকে, কোনও দিন চলে যায় কাঁকড়াঝোড়, আমলাশোলের দিকে, কোনও দিন ভূলাভেদা, শিয়ারবিন্দা, গিরুলিয়া বা চাকাডোবারই কোনও আদিবাসী গ্রামে। পৌষ মাস আর সংক্রান্তিতে আদিবাসী বাড়িগুলোতে মাটির হাঁড়ি, তাওয়া, সরার চাহিদা খুব। বছরে আট মাস বাড়িতে চাল থাক আর না থাক, আদিবাসী বাড়িগুলোতে সংক্রান্তির সময় পিঠে হবেই। আর পিঠে করতে লাগবে মাটির সরা, তাওয়া। ধান ওঠার জন্য সব ঘরেই তখন কাঁচা দু’পাঁচ টাকা থাকে। কোনও আদিবাসী পাড়ায় গিয়ে এক সঙ্গে দশ-বারোটা মালসা, সরা, তাওয়াও বিক্রি হয়ে যায় এক এক দিন। কেউ এক টাকা দেয়, কেউ দু’টাকা দেয়, ভালো বড় তাওয়া অনেক সময় দশ টাকাতেও বিক্রি হয়। তবে সবাই টাকা দিতে পারে না। কেউ হয়তো সরা নিয়ে দু’টাকার একটা নোট দিল, সঙ্গে দিল এক বস্তা ধান। এখন আর ধানের দাম কত? এক বস্তা বড়জোর চার-পাঁচ টাকা। এভাবে মা-ছেলে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আদিবাসী পাড়ায় ঘুরে ঘুরে বিক্রি করে মাটির বাসন। কোনও কোনও আদিবাসী বাড়িতে কিছু খেতেও দেয় তাদের। তারপর কোনও দিন দুই বা তিন বস্তা ধান আর কিছু টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরে দু’জনে।
     
    অমিয় মন্ডলের জমিতে ধান কাটার বিনিময়ে পাওয়া কিছু ধান, সামান্য টাকা আর সরা, মালসা, তাওয়া বেচার টাকা, সব মিলে কার্তিক, অঘ্রাণ থেকে মাঘ পর্যন্ত তিন-চারটে মাস সুবল মান্ডির বাড়িতে সত্যিই পৌষ মাস, তখন দু’বেলা ভাত হয়। স্কুলে ঢোকার ঠিক আগে আবার সিংরাই বাবাকে প্রশ্ন করে, এখন থেকে তবে কে যাবে মাটি আনতে? বাবাকে বোঝানোর চেষ্টা করে, সে স্কুলে গেলে মায়ের সঙ্গে হাঁড়ি, কলসি বিক্রি করতে যাবে কী করে? কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে বুঝতে পারে, এসব বলে কোনও লাভ নেই, স্কুলে তাকে যেতেই হবে। অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে পা বাড়ায় ছ’বছরের সিংরাই মান্ডি।

    ০২-১১-১৯৯৯, বাজেয়াপ্ত শব্দের মানে

    ‘তুমি বাজেয়াপ্ত শব্দের মানে জান?’
    প্রশ্নটা করে লোকটা সোজা তাকিয়ে আছে তার দিকে, চোখ নামাতে পারল না সিংরাই। আশপাশে বসে থাকা সাত-আটজন পুরো চুপ, কারও মুখে কোনও কথা নেই। কিন্তু সিংরাই কী জবাব দেবে এই প্রশ্নের, শব্দটাই শোনেনি সে কোনও দিন। কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে আস্তে আস্তে দু’দিকে ঘাড় নাড়ল সে। লোকটা বসেছে তার থেকে ফুট দশেক দূরে। গতকাল রাতে লোকটাকে প্রথম দেখল সিংরাই। আর প্রথম দেখার পর থেকে সে শুধু লোকটাকেই ফলো করে চলেছে। দেখছে তার প্রতিটা পদক্ষেপ। সিংরাইয়ের প্রায় চোদ্দ বছর বয়স হতে চলেছে, কম তো মানুষ দেখল না সে। কিন্তু এমন মানুষ দেখেনি কোনও দিন। কাল রাতে লোকটাকে দেখার পর থেকে শুধু তাকে নিয়েই ভেবে চলেছে বেলপাহাড়ির ময়ূরঝর্ণা গ্রামের ছেলেটা। প্রথম দেখাতেই লোকটাকে ভালো লেগে গিয়েছে সিংরাইয়ের। ভাবছে কীভাবে এমন হওয়া যায়! সে কি এমন মানুষ হতে পারবে কোনও দিন?
    কিছুক্ষণ আগেই ঘুম ভেঙেছে সিংরাইয়ের। যদিও বেশিক্ষণ ঘুম হয়নি,  শুতে শুতেই প্রায় ভোর চারটে হয়ে গিয়েছিল, হয়তো আড়াই-তিন’ঘণ্টা ঘুমিয়েছে। ভোরে ঠান্ডায় ঘুম ভেঙে গিয়েছে তার। তারপর খড়ের গাদা থেকে উঠে বাইরে বেরিয়ে দেখে বাকিরা সব ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসে আছে মাঠে। তার আগেই ঘুম থেকে উঠে গিয়েছে সবাই। রোদের তাপ নেই তেমন, সিংরাইয়ের মনে হল সাড়ে ছ’টা-সাতটা বাজে। সহদেব কাকার পাশে গিয়ে বসল সে। তখনই দেখল লোকটাকে। কালো ফুল প্যান্ট, বাদামি রঙের একটা ফুল হাতা গেঞ্জি, তার ওপরে কালো ফুল সোয়েটার। সিংরাই যখন বাইরে এসে দাঁড়াল, তখনই একটা বিড়ি ধরাল লোকটা। এখনও শীত শীত করছে তার। ঠিক শীত নয়, একটা শিরশিরানি ভাব। সিংরাইয়ের মনে হল, ফুল সোয়েটার পরে এলেই ভালো হত, কিন্তু কাল কি জানত কী ঘটতে চলেছে। কাল রাতে যাদের দেখেছে তাদের কয়েকজন গোল হয়ে বসেছে উঁচু মতো ঢিবিটার চারদিকে। সিংরাই ঘাড় ঘুরিয়ে সবাইকে দেখতে থাকে, কিন্তু বুঝতে পারে লোকটা তার দিকেই তাকিয়ে আছে। এমনই সময় সিংরাই দেখল দু’জন লোক আসছে গ্রামের দিক থেকে। মিনিট খানেকের মধ্যেই তারা চলে এল কাছাকাছি, চা নিয়ে এসেছে তারা। উঁচু ঢিবিটার কাছে এসে বসে থাকা সবার হাতে একটা করে গ্লাস ধরিয়ে দিল, তাতে ঢেলে দিল চা। সঙ্গে একটা করে বিস্কুট। এক হাতে ধোঁয়া ওঠা চা, এক হাতে বিস্কুট নিয়ে সিংরাইয়ের মনে হল, এখানে সাত-আটজনের মধ্যে তার বয়স সবচেয়ে কম বলেই কি সবাই তাকে দেখছে এমন করে? চায়ের গ্লাসটা দু’হাতে ধরে আছে লোকটা। হঠাৎই খুব খিধে পেল সিংরাইয়ের। বিস্কুটটা সবে মুখে দিতে যাবে, সোজা সিংরাইয়ের দিকে তাকিয়ে লোকটা জিজ্ঞেস করল, ‘তোমার নাম কী?’
    ‘সিংরাই মান্ডি’।
    ‘পড়াশোনা করছ? স্কুলে যাও?’
    ‘হ্যাঁ’, নীচু স্বরে জবাব দেয় সে।
    যতটুকু প্রশ্ন, ঠিক ততটাই উত্তর দিয়ে থেমে গেল সিংরাই। আড়ষ্টতা কাটছে না তার।
    ‘কোন ক্লাসে পড়ো?’
    ‘সেভেন।’ সিংরাইয়ের মনে হল তার জবাব লোকটার কাছে গিয়ে পৌঁছয়নি, আবার একটু জোরে বলল কোন ক্লাসে পড়ে। লোকটা কিন্তু ঠিকই শুনেছিল, হালকা করে একটু হাসল সিংরাইয়ের দিকে তাকিয়ে। যতজন বসে আছে সবার নেতা এই লোকটা, আর সিংরাইয়ের বয়স এখানে সবচেয়ে কম। কিন্তু লোকটার কথা বলা, সবার সামনে সিংরাইকে গুরুত্ব দেওয়া, লোকটার হাসি, ব্যবহার, সব যেন এই হালকা শীতের সকালে উষ্ণ চাদরের মতো জড়িয়ে ধরল ছেলেটাকে। সিংরাই বুঝতে পারল না, এই জড়িয়ে ধরা এমনই জড়িয়ে ধরা যা থেকে সে কোনও দিনই ছাড়া পাবে না। কাল রাত থেকে যে কী হচ্ছে সব পরপর, এখনও কেমন একটা ঘোরের মতো লাগছে তার। কিন্তু যা ঘটছে তা কি সত্যি, নাকি সত্যিই স্বপ্ন? সত্যিই এমন হতে পারে তা কোনও ধারণাতেই ছিল না তার! কিন্তু কী ঘটছে আগের রাত থেকে, তা কি সত্যি না স্বপ্ন তা জানা প্রয়োজন পাঠকেরও। নয়তো তারা কী করে বুঝবেন, একুশ শতকের গোড়া থেকে জঙ্গলমহলে যে কর্মকাণ্ডগুলো ঘটতে থাকবে, তার সূচনা কীভাবে এবং কোন পরিপ্রেক্ষিতে হয়েছিল! আর সেই সূচনালগ্ন কীভাবেই বা পাল্টে দিল সাড়ে তেরো বছরের এক কিশোরের জীবন!

    ১-১১-১৯৯৯, আগের রাত                     
          
    অন্য দিনের মতোই বেলা আড়াইটে নাগাদ স্কুল থেকে ফিরেছে সিংরাই। আর ফিরেই বাবার সঙ্গে হাত লাগিয়েছে মাটি মাখার কাজে। ঘণ্টাখানেক কাজ করেই ফুটবল খেলতে যাবে আগে থেকেই ঠিক করা আছে। তাই স্কুল থেকে ফিরে তাড়াহুড়ো করে ভাত খেয়ে বাবাকে সাহায্য করতে লেগে পড়ে সে।
    এখন তাড়াতাড়ি সন্ধে নামছে, ফুটবল খেলে ছ’টার মধ্যে বাড়ি ফিরে বারান্দায় বসেছিল সিংরাই। বাড়িতে আলো নেই, তাছাড়া এই এলাকায় অকারণে কুপি জ্বালিয়ে তেল নষ্ট করে না কেউ। শুধু খাবারের সময় কুপি জ্বালানো হয় কিছুক্ষণের জন্য। অন্ধকারেই ঘরের সামনে মাটির ওপর বসেছিল সিংরাই, পাশে ছোট বোন। ভাই ধর্মা ঘুরছে এদিক-ওদিক। সামান্য দূরে ঘরের মাটির দেওয়ালে হেলান দিয়ে বসে সুবল মান্ডি। সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনির পর ক্লান্ত সুবল চোখটা বন্ধ করে বসেছিল। তবে সারাদিন খাটুনির পরও বিশ্রাম নেওয়ার সময় নেই যমুনা মান্ডির। উঠোনের অন্য দিকে মাটির উনোনের সামনে বসে প্লাস্টিকের একটা ফাঁপা নল দিয়ে অনবরত আগুনে ফুঁ দিতে থাকে যমুনা। ভাত বসিয়ে উনোনের নিভে আসা কাঠে সারাক্ষণ ফুঁ দিতে হয়। ধোঁয়ায় চোখ জ্বলে যায়, কিন্তু টানা ফুঁ না দিলে আগুন নিভে আসে। সিংরাই তাকিয়ে থাকে মায়ের দিকে। হঠাৎই সরে যায় চোখ, সিংরাই দেখে দূর থেকে একটা আলো এগিয়ে আসছে। যে রাস্তাটা চাকাডোবা যাচ্ছে সেদিক থেকে এগিয়ে আসছে আলোটা। এখানে তো শুধু তাদেরই ঘর, সোজা হয়ে বসে সিংরাই। এই রাতে কে আসছে পাড়ায়? একদম কাছাকাছি এসে লোকটা সুবল মান্ডির নাম ধরে হাঁক দেয়। গলা শুনে সিংরাই বুঝতে পারে সহদেব কাকা এসেছে। সহদেব সিংহ সর্দারের বাড়ি চাকাডোবার বাঁশলাটা গ্রামে। সহদেব কাকার ছেলে অনিল সিংরাইয়ের বন্ধু, ভূলাভেদা স্কুলে তারা একই ক্লাসে পড়ে। সুবলের সঙ্গেও সহদেব সিংহ সর্দারের পরিচয় অনেক বছরের। কিন্তু এই সন্ধেবেলা সহদেব কাকা কেন এসেছে ভেবে অবাক হল সিংরাই। তার মনে পড়ল আজ অনিল স্কুলে যায়নি। ততক্ষণে উঠে দাঁড়িয়েছে সুবল। সুবল আর সহদেব কাকা কথা বলতে বলতে একটু এগিয়ে গেল। কী কথা হচ্ছে দু’জনের শুনতে না পেলেও কান খাঁড়া করে তাদের দিকে তাকিয়ে থাকল সিংরাই। হঠাৎই বাবা তার নাম ধরে ডাকে, সিংরাই এগিয়ে যায়। ‘সহদেবকে এক জায়গায় যেতে হবে। তুমি কি সাইকেল চালিয়ে নিয়ে যেতে পারবে ওকে?’ সুবলের প্রশ্নে একটু অবাক হল সিংরাই।
    ‘পারব।’
    ‘আসলে আমি আর অনিলই যেতাম, আমাদের গ্রাম থেকে দু’জনের যাওয়ার কথা। কিন্তু কাল রাত থেকে অনিলের জ্বর, ও এতটা রাস্তা পারবে না। এখন হঠাৎ করে কাকে আর পাই? সুবলের কথা মনে এল, তাই ভাবলাম তুই যদি যেতে পারিস,’ সিংরাইয়ের দিকে তাকিয়ে বলল সহদেব।
    ‘হ্যাঁ হ্যাঁ কাকা, কোনও অসুবিধে নেই,’ সরু গলায় জবাব দিল সিংরাই।
    ‘আমার তো পায়ে চোট, এতটা রাস্তা তুই পারবি সাইকেল চালিয়ে আমাকে নিয়ে যেতে?’ কিছুটা সংশয় সহদেবের গলায়।
     
    কতদূর যেতে হবে জানে না সিংরাই। কিন্তু সহদেব কাকাকে জানিয়ে দেয় সে পারবে। কেউ কোনও কাজ বললে কীভাবে না বলবে তা জানা নেই সিংরাইয়ের।
    ‘চল তবে, তাড়াতাড়ি বেরিয়ে পড়ি। একেই দেরি হয়ে গেছে। এতটা রাস্তা, কতক্ষণে পৌঁছব কে জানে?’ সিংরাইয়ের দিকে তাকিয়ে বলল চাকাডোবার বাঁশলাটা গ্রামের সহদেব সিংহ সর্দার।
    কতটা রাস্তা সাইকেল চালিয়ে যেতে হবে না জেনেই সিংরাই যে কারণে সহদেবকে বলল সে পারবে, ঠিক সেই কারণেই সাড়ে তেরো পেরনো ছেলেটা বলতে পারল না তার খুব খিধে পেয়েছে। মায়ের রান্না করার দিকে তাকিয়ে বসেছিল, ভেবেছিল ভাত হলেই খেয়ে নেবে। কিন্তু তাড়াতাড়ি বেরতে হবে শুনে দৌড়ে ঘরের ভেতর চলে গেল সিংরাই। অন্ধকারে হাতড়ে বের করে নিল ফুল প্যান্টটা। হাফ প্যান্টের ওপর ফুল প্যান্ট পরে নিল, পরে নিল হাফ সোয়েটার। উঠোনের একদিকে দাঁড় করিয়ে রাখা সাইকেলটা হাঁটিয়ে নিয়ে এসে দাঁড়াল বাবা আর সহদেবের সামনে, ‘চল কাকা।’  
    ‘জঙ্গলের রাস্তাটা ধর। আমরা ভূলাভেদা হয়ে চড়কপাহাড়ির রাস্তা ধরে ধজুড়ি যাব।’ সিংরাইয়ের দিকে তাকিয়ে বলল সহদেব। তারপর জিজ্ঞেস করল চড়কপাহাড়ির রাস্তা তোর চেনা আছে?’
    ‘চড়কপাহাড়ি আমি চিনি, গেছি। কিন্তু ধজুড়ি...’
    ‘ওই রাস্তাই সোজা কেন্দিশোল হয়ে ধজুড়ি যাচ্ছে।’
     
    ঘাড় নেড়ে সাইকেলে উঠে বসল সিংরাই, পিছনে ক্যারিয়ারে বসল সহদেব। সিংরাই ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল কপালে হাত ঠেকাল বাবা। তারপর বলল, ‘সাবধানে যেও।’
    প্যাডেলে চাপ দিল সিংরাই। সাড়ে সাতটা বাজে। ঘুঁটঘুঁটে অন্ধকারে ছেয়ে আছে চারদিক। জঙ্গলের রাস্তা ধরে সিংরাই রোজই স্কুলে যায়। বেশিরভাগ দিনই যায় হেঁটে, কোনও কোনও দিন সাইকেলেও গেছে, কিন্তু রাতের অন্ধকারে এই রাস্তায় সাইকেল চালিয়ে যাওয়া সিংরাইয়ের আজই প্রথম। সাইকেলের ক্যারিয়ারে একটু বেঁকে নিজেকে সেট করে নিল সহদেব। হাতটা সামান্য কেঁপে গেল সিংরাইয়ের, শক্ত হাতে হ্যান্ডেল ধরল সে। তারপর সাইকেলের মুখ ঘোরাল জঙ্গলের দিকে। প্রথমেই ওর মনে হল, এই অন্ধকারে কীভাবে যাবে জঙ্গলের রাস্তা ধরে। এবড়ো-খেবড়ো মাটির, পাথরের সরু রাস্তা। কোথাও গর্ত, কোথাও উঁচু-নীচু, কিন্তু সেটা বড় কথা না, এই রাস্তা ওর চেনা। আসল কথা, অন্ধকার।
    সাইকেল চালিয়ে জঙ্গলের রাস্তায় খানিকটা এগিয়ে এক অদ্ভুত অনুভূতি হল সিংরাইয়ের। জীবনে এই প্রথম সে বুঝতে পারল, অন্ধকারেও দেখা যায়। অন্ধকারেও আলো আছে। এখন আর সাইকেল চালাতে কোনও অসুবিধে হচ্ছে না তার। এই অন্ধকারে চলার অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে তার জীবনে কবে কীভাবে কাজে লাগবে তা আজ জানে না সিংরাই। যেমন সে জানে না এই রাতে হঠাৎ করে কোন দরকারি কাজ পড়ল, যার জন্য তাকে নিয়ে সহদেব কাকাকে বাঁকুড়ার ধজুড়ি যেতে হচ্ছে।
    ‘অসুবিধে হচ্ছে সিংরাই?’ সহদেব কাকার প্রশ্নে চিন্তায় বাধা পড়ল তার।
    ‘না, কাকা।’
    ‘ভূলাভেদায় পিচ রাস্তা পেরিয়ে সোজা চড়কপাহাড়ির রাস্তা ধরবি।’
    হ্যাঁ কাকা। চড়কপাহাড়ি পর্যন্ত আমি চিনি, স্কুল থেকে গেছি কয়েকবার।’ সিংরাই জানে এখনও অনেকটা সময় লাগবে চড়কপাহাড়ি পৌঁছতে। ময়ূরঝর্ণা গ্রাম থেকে জঙ্গলের রাস্তা ধরে ভূলাভেদায় স্কুলে যেতে দিনেরবেলাই প্রায় আধা ঘণ্টা লেগে যায়, তারপর আবার গ্রামের রাস্তা ধরে চড়কপাহাড়ি আরও আধ ঘণ্টার রাস্তা। রাতে হয়তো একটু বেশিই সময় লাগবে, মনে মনে আন্দাজ করল সিংরাই। ঠিক করল, চড়কপাহাড়িতে পৌঁছে পাঁচ মিনিট একটু বিশ্রাম নিয়ে নেবে। পায়ের থেকেও হাত দুটো বেশি টনটন করে সিংরাইয়ের। কপালে, মুখে ঘাম জমছে, কিন্তু হ্যান্ডেল থেকে এক হাত ছেড়ে ঘাম মোছার সাহস পায় না সে। যদি হাত কেঁপে যায় তবে হয়তো সহদেব কাকা ভাববে সে আর পারছে না তাকে নিয়ে সাইকেল চালাতে। তাই একটা কথাও বলল না সিংরাই। দেখতে দেখতে ময়ূরঝর্ণা গ্রামের ক্লাস সেভেনের এক কিশোর আর চাকাডোবার বাঁশলাটার দিনমজুর সহদেব সিংহ সর্দার একে একে পেরিয়ে গেল জঙ্গলের রাস্তা, ভূলাভেদা মোড়, একের পর এক গ্রাম। কেউ জানতে পারল না কোথায় চলেছে তারা, পুলিশ-প্রশাসনের সামান্য ধারণাতেও নেই আজ রাতে কী হতে চলেছে ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ি আর বাঁকুড়া জেলার সীমানার ধজুড়ি গ্রামে।
     
    সিংরাই ভেবেছিল চড়কপাহাড়িতে পৌঁছে একবার পেচ্ছাব পেয়েছে বলে সাইকেল থামাবে। তাতে মিনিট দুয়েক বিশ্রাম হয়ে যাবে। কিন্তু বলতে পারল না সহদেব কাকাকে। কারণ, কিছুক্ষণ আগেই সহদেবের করা একটা প্রশ্ন।
    ‘হ্যাঁরে সিংরাই, ন’টার মধ্যে পৌঁছতে পারব? আমাদের ন’টার মধ্যে যেতে বলেছে ধজুড়িতে।’
    মনে মনে হিসেব করল সিংরাই। সাড়ে সাতটা নাগাদ বেরিয়েছে বাড়ি থেকে। যা স্পিডে সাইকেল চালিয়েছে এখনই হয়তো প্রায় সাড়ে আটটা বাজে, এখনও যা রাস্তা বাকি ন’টার মধ্যে কীভাবে পৌঁছবে তারা? আরও জোরে প্যাডেল ঘোরাল সিংরাই। যতই কষ্ট হোক, সহদেব কাকাকে তা বুঝতে দেওয়া যাবে না। শেষমেশ কেন্দিশোল ছাড়িয়ে তারা যখন ধজুড়ি পৌঁছল তখন প্রায় সাড়ে ন’টা। কিন্তু কারও হাতেই ঘড়ি নেই, তাই তারা জানতে পারল না কটা বাজে। ধজুড়ি পৌঁছেই কিছু লোকের ভিড়, জমায়েত দেখে সহদেব কাকার কথায় সাইকেল থামাল সিংরাই। সাইকেল থেকে নেমেই দৌড়ে ভিড়টার দিকে এগোল সহদেব। ‘তুই এখানেই দাঁড়া, আমি আসছি। এদিক-ওদিক যাস না, অন্ধকারে খুঁজে পাব না।’ এদিক-ওদিক কোথায় যাবে, সাইকেলটাকে কোনও ভাবে দাঁড় করিয়ে মাটিতে বসে পড়ল সিংরাই। অন্ধকারে বুঝতে পারল না কোনদিকে গেছে সহদেব কাকা। বসার সঙ্গে সঙ্গেই মাটিতে শুয়ে পড়ল টানটান হয়ে। হাত-পা টনটন করছে, মনে হচ্ছে আর উঠতে পারবে না, মুখ দিয়ে লম্বা শ্বাস নিতে থাকল। খিধেতে পেট জ্বলে যাচ্ছে, কিন্তু খালি পেটে থাকার অভ্যেস তার অনেক আছে।
     
    ক্রমশ...... 

     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ধারাবাহিক | ০৫ জানুয়ারি ২০২৪ | ৪৮৩ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • | ০৫ জানুয়ারি ২০২৪ ১৫:০৯527409
  • এই ধারাবাহিকটার জন্য একেবারে হাঁ করে বসে থাকি।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঠিক অথবা ভুল মতামত দিন