এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  উপন্যাস

  • ময়ূরঝর্ণা - পর্ব ৭ 

    বিতনু চট্টোপাধ্যায় লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | উপন্যাস | ২৯ ডিসেম্বর ২০২৩ | ৩৮৬ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • অনন্ত বলল, ‘এখন রাস্তা অবরোধ হয়েছে বলে আপনি বলছেন কাল কথা বলতে পারেন।’
    ‘দেখ স্বাস্থ্য কেন্দ্র কোথায় হবে তা ঠিক করা তো পুলিশের কাজ না, তবে এটা ঠিক অবরোধ হয়েছে বলেই আমরা এসেছি। তোমাদের বক্তব্য নিয়ে আমরা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে পারি। তোমাদের নেতা কে আছে বল, আমি তার সঙ্গে কথা বলব।’
    ‘আমাদের নেতা কেউ নেই, আমরা স্থানীয় সব মানুষই অবরোধ করেছি। প্রশাসনকে কথা দিতে হবে বাঁশপাহাড়ির বদলে চাকাডোবায় এই স্বাস্থ্য কেন্দ্র হবে।’
    ‘দেখ তা এই মুহূর্তে হতে পারে না। তুমি পড়াশোনা করা ছেলে, নিজেও জান এই মাঝরাতে সরকারি লোককে ডেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। আর পুলিশও চাকাডোবায় হাসপাতাল করার সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। আমরা কাল তোমাদের বক্তব্য ঝাড়গ্রামের সিনিয়র সরকারি অফিসারদের কাছে পৌঁছে দিতে পারি,’ অনিরুদ্ধ জানে যা করার কথা বলে শান্তিপূর্ণভাবে করতে হবে। এত মানুষকে এই রাতে যারা জড়ো করেছে, তা নিশ্চয় আজ বিকেলে হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত নিয়ে হয়নি। এর পিছনে কেউ অবশ্যই আছে, একটা নির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে, সেটা জানা দরকার। ‘যদি কারও সঙ্গে কথা বলতে কোথাও যেতে হয় বল, আমি রাজি আছি। আমি একা গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলব,’ বলতে বলতেই কোমর থেকে পুলিশের মোটা চামড়ার বেল্টটা খুলতে শুরু  করল অনিরুদ্ধ। কোমরের খাপ থেকে বের করল পার্সোনাল রিভলভার, দুটোই দিয়ে দিল নিজের সিকিউরিটির হাতে। তারপর আবার বলল, ‘আমি একা যাব। বন্দুক রেখে যাচ্ছি। চল কার সঙ্গে কথা বলতে হবে।’ নানা ধরনের অবরোধ দেখা এবং তা তোলার অভিজ্ঞতা আছে অনিরুদ্ধর। কোন পরিস্থিতিতে কীভাবে অবরোধকারীদের আস্থা অর্জন করতে হয় তা জানা আছে ওর। এই যে সে বেল্ট খুলে, বন্দুক রেখে সিকিউরিটি ছাড়া একা যাবে বলছে, এর কী প্রভাব পড়তে পারে ছেলেটার ওপর তার একটা আন্দাজ আছে ওর। অনিরুদ্ধ জানে, সে যে নিরাপত্তা ছাড়া একা, এমনকী খালি হাতে এই রাতে যে কোনও জায়গায় যেতে রাজি আছে, তা আন্দোলনকারীদের চিন্তায় ফেলবে। এই লোকটা যে নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে অজানা জায়গায় যেতেও রাজি এই বিষয়টা আন্দোলনকারীদের মনে তার প্রতি বিশ্বাস অর্জনে সাহায্য করবে। আর যে কোনও আলোচনা ফলপ্রসূ করতে একমাত্র উপদান হচ্ছে দু’পক্ষের মধ্যে বিশ্বাসের সম্পর্ক। এর আগে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা সমস্যায় একাধিকবার এই কৌশল নিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে অবরোধ তুলতে সফল হয়েছে সে। তার বেল্ট খোলা, রিভলভার বের করে সিকিউরিটির হাতে দেওয়া যে তিনজন অবাক চোখে দেখেছে তা খেয়াল করেছে অনিরুদ্ধ। তার কথায় দৃশ্যতই একটু বেকায়দায় পড়ে যায় অনন্ত। বলে, ‘ঠিক আছে, আপনি রাস্তায় গিয়ে একটু অপেক্ষা করুন, আমরা নিজেদের মধ্যে একটু কথা বলে নিই। তারপর আপনাকে জানাচ্ছি।’
    এটাই চাইছিল অনিরুদ্ধ। সে জানে ছেলেটা নিজে কোনও সিদ্ধান্ত নেবে না, নিশ্চয় কারও সঙ্গে কথা বলবে। তাই সময় নিচ্ছে। কিন্তু সে যে এটা বুঝতে পেরেছে তা ছেলেটাকে বুঝতে দেওয়া যাবে না। ‘ঠিক আছে, আমি বরং রাস্তায় গিয়ে একটা সিগারেট খেয়ে নিই। তোমরা ততক্ষণে কথা বলে নাও। আমি দশ মিনিট পর আসছি,’ একথা বলে প্রভাতকে নিয়ে একটু পিছিয়ে এল সে। গিয়ে দাঁড়াল গাড়ির সামনে।
     
    ‘প্রভাত, ব্যাপারটা কিন্তু সিরিয়াস। এর পেছনে কেউ তো আছেই, বাইরের কেউ মুভমেণ্টটা অর্গানাইজ করেছে কিনা ভালো করে দেখতে হবে। বাচ্চা কয়েকটা ছেলে-মেয়ে হঠাৎ চাকাডোবার সমস্ত মানুষকে অবরোধে বসিয়ে দিল, দেড়শো-দুশো’জনের রান্নার ব্যাবস্থা করল, ব্যাপারটা এত সোজা হতে পারে না।’
    গত দু’আড়াই ঘণ্টা ধরে যা ঘটছে তাতে নিজেরই খারাপ লাগছে প্রভাতের। বারবার তার মনে খোঁচা দিচ্ছে প্রশ্নটা, এতগুলো লোক অবরোধের পরিকল্পনা করছে তা একবারও জানতে পারল না সে! নাঃ এলাকায় সাদা পোশাকের পুলিশের মুভমেন্ট শুরু করতে হবে। কী ঘটবে তা আগে থেকে যদি আঁচই না করা যায় তবে থানা চালানোর মানে কী? অনিরুদ্ধরা যখন কথা বলছে তখনই খাওয়া শুরু হয়ে গেল রাস্তায় বসে থাকা লোকগুলোর। একদম পিকনিকের মতো পরিবেশ। সওয়া নটা বাজে, দুটো ছেলে আর দুটো মেয়ে ভাত, ডাল পরিবেশন করছে। রাস্তার দু’ধারে অন্তত চল্লিশ-পঞ্চাশ জন বসে। আরও কিছু লোক ছড়িয়ে ছিটিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, ঘুরছে এদিক ওদিক। ঘড়িতে সময় দেখে মিনিট কুড়ি পর আবার সেই রান্নার জায়গাটায় গেল অনিরুদ্ধ। সঙ্গে প্রভাত আর ওর সিকিউরিটি। কী করবে মনে মনে ঠিকই করে রেখেছে ও। গিয়ে দেখল যার সঙ্গে কথা বলেছে সেই ছেলেটা নেই। অন্য একজন বলল, ‘এক মিনিট দাঁড়ান, এখনই এসে যাবে।’ বলতে বলতেই মাঠের অন্য দিক থেকে জোরে পা চালিয়ে এল ওই ছেলেটা।
    ‘স্যর একদম একা এভাবে অন্ধকারে যাওয়া ঠিক হবে?’ উদ্বিগ্ন শোনাল প্রভাতের গলা।
    ‘কিচ্ছু হবে না, তোমরা এখানে থাক।’
    ‘আমি দাদার সঙ্গে কথা বলেছি, আপনি একা আসুন,’ সামনে এসে বলল ছেলেটা।
    অনিরুদ্ধ এগোল অনন্তর সঙ্গে। ওকে একা ছাড়তে একটু ইতস্তত করছিল প্রভাত আর ওর সিকিউরিটি বীরেন। ‘তোমরা ওয়েট কর, আমি আসছি,’ বলে পা চালাল অনিরুদ্ধ।
    প্রভাতের মাথায় এখনও ঢুকছে না হঠাৎ কীভাবে এসব হয়ে গেল। স্বাস্থ্য কেন্দ্রের দাবিতে সাধারণ মানুষ বিডিও অফিসে ডেপুটেশন দিয়েছে, মাসখানেক আগে খবর পেয়েছিল সে। চাকাডোবার কয়েকটা গ্রামের সাত-আটজন এসেছিল থানার প্রায় উল্টোদিকের বিনপুর দুই বিডিও অফিসে। ব্যাপারটাকে তেমন গুরুত্ব দেয়নি সে। বুঝতেও পারেনি এই ডিমান্ডে এতগুলো লোককে সংগঠিত করার কাজ চলছে তলায়-তলায়। তার বছর দেড়েক হল বেলপাহাড়ি থানায়। প্রথম দিকে পরিস্থিতি ভালোই ছিল, হঠাৎই যেন গত চার-পাঁচ মাস ধরে অদ্ভুত সব ঘটনা শুরু হয়েছে। বুঝতে পারছে কিছু একটা ঘটছে, কিন্তু তা যে ঠিক কী, কতটা তার ব্যাপ্তি বোঝা যাচ্ছে না। নিজেকেই দোষ দিল প্রভাত। মনে মনে বলল, কাল থেকেই সিরিয়াসলি নামতে হবে। সিনিয়ররা এখনও কিছু বলেনি ঠিকই, কিন্তু নিজেরই খারাপ লাগছে প্রভাতের। আজ সন্ধেবেলা যে এমন বড় আকারে রোড ব্লকেডের প্ল্যানিং হচ্ছে তা আগে থেকে খবর পাওয়া উচিত ছিল। পায়চারি করতে করতেই ঘড়ি দেখল প্রভাত। এখনও স্যর আসছে না, মিনিট দশেক হয়ে গেল। একটু চিন্তাই হল তার। ভাবল বীরেনকে সঙ্গে নিয়ে যাবে কিনা মাঠের অন্যদিকে, যেদিকে অনিরুদ্ধ গিয়েছে ছেলেটার সঙ্গে। কিন্তু স্যর এখানেই অপেক্ষা করতে বলে গিয়েছে। কী করবে বুঝে উঠতে পারল না প্রভাত। ‘বীরেন, আর দশ মিনিট দেখব। তার মধ্যে স্যর না এলে যাব আমরা।’
    ‘ঠিক আছে স্যর। ফোর্স নেব সঙ্গে?’
    ‘দরকার নেই, দুজনেই যাব।’
    আরও মিনিট কয়েক অস্থির পায়চারি করে কেটে গেল প্রভাতের। ওদিকে মেন রোডে পুরোদমে চলছে খাওয়াদাওয়া। আগের ব্যাচটা শেষ হয়েছে, নতুন লোক বসেছে খেতে। হঠাৎই প্রভাত দেখল দুটো ছায়ামূর্তি এগিয়ে আসছে অন্ধকার চিরে। অনিরুদ্ধর হাঁটা চিনতে পেরে কয়েক পা এগিয়ে গেল প্রভাত আর বীরেন।
     
    ‘আপনারা এবার চলে যান, সবার খাওয়া হয়ে গেলেই আমরা অবরোধ তুলে নেব। সবাই বাড়ি চলে যাবে,’ অনিরুদ্ধকে বলল অনন্ত।
    ‘কোনও অসুবিধে নেই, যতক্ষণ না খাওয়া শেষ হয় আমরা আছি। তোমরা বরং তাড়াতাড়ি কর,’ অনন্তকে বলে রাস্তার দিকে পা বাড়াল অনিরুদ্ধ। তারপর গিয়ে থামল একেবারে গাড়ির সামনে। পঞ্চাশ ফুট দূরে লোকগুলো মাটিতে বসে খাচ্ছে।
    ‘স্যর, কী দেখলেন? কার সঙ্গে কথা হল?’ উত্তেজনা চেপে রাখতে পারল না প্রভাত।
    ‘ব্যাপারটা কিন্তু খুব একটা সুবিধের নয় প্রভাত। গ্রামে আমাদের মুভমেন্ট আরও বাড়াতে হবে। মোট তিনজন বসেছিল, তাদের সঙ্গে কথা হল। অন্ধকারে কারও মুখ দেখতে পাইনি। কিন্তু যে লোকটার সঙ্গে কথা হল মনে হল সে এই গ্রামের নয়। পড়াশোনা করা লোক, বাংলা উচ্চারণও আদিবাসীদের মতো নয়। এমন নয় যে আদিবাসীদের মধ্যে পড়াশোনা করা লোক নেই, কিন্তু আমার মনে হল লোকটা স্থানীয় নয়। আজকের অবরোধটা ওরা দূর থেকে কন্ট্রোল করছে। বলেছি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ব্যাপারটা কাল প্রশাসনকে জানাব। তারপর লোকটা অবরোধ তোলার কথা বলল।’
    অনিরুদ্ধর কথা শুনে প্রভাতের নিজেরই খারাপ লাগল। একে তো রোড ব্লকেডের খবর আগে পায়নি। তাছাড়া বাইরের লোক এসে স্থানীয় মানুষকে মবিলাইজ করছে, এই ব্যাপারটাও থানার পক্ষে ভালো নয়। ‘স্যর, হিন্দি স্পিকিং মনে হল কি?’
    ‘মনে তো হল না, পরিষ্কার বাংলায় কথা বলল। তবে বলা মুশকিল, লাগোয়া বিহারের অনেকেই পরিষ্কার বাংলা বলে। কিন্তু যেখানকারই হোক, স্থানীয় মানুষের মধ্যে যথেষ্ট প্রভাব তৈরি করে ফেলেছে কোনও সন্দেহ নেই।’ রাত দশটা বাজে, খাওয়া শেষ, অবরোধ একপ্রকার উঠেই গিয়েছে বলা যায়। কিছু লোক চলেও যাচ্ছে। কয়েকজন এঁটো পাতা, খাবারের টুকরো সরিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করছে। কিছু বাদে অনিরুদ্ধরা দেখল পুরো এলাকাটা খালি হয়ে গেল। অন্ধকারে যেন মিশে গেল এতগুলো মানুষ।
    ‘চলো তবে, আমরাও রওনা দিই।’ গাড়ির দিকে পা বাড়াল অনিরুদ্ধ। একটা সিগারেট ধরাল গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে। ‘শোনও কাল সকাল থেকেই আর পাঁচটা কাজের সঙ্গে এদিকেও খোঁজখবর নাও। কিছু তো ঘটছে,’ প্রভাতকে বলে গাড়িতে উঠে পড়ল অনিরুদ্ধ। খিধেও পেয়েছে খুব, ফিরতে ফিরতে অন্তত এগারটা বাজবে। জানলার কাচটা একটু নামিয়ে দিল অনিরুদ্ধ, হু হু করে ছুটছে ওর গাড়ি। হেডলাইটের আলো অন্ধকার চিরে এগিয়ে চলেছে। আশপাশে দেখা যাচ্ছে না কিচ্ছু, ফিরে এসেছে সেই অন্ধকারটা। অনিরুদ্ধ বুঝতে পারে একে একে পেরিয়ে যাচ্ছে শিয়ারবিন্দা, জামতলগোড়া, তামাজুড়ি, ভূলাভেদা। সিগারেটের টুকরোটা বাইরে ফেলে অনিরুদ্ধ গাড়ির কাচ তুলে দিল। মাথায় চিন্তাটা ক্রমশ চেপে বসছে, অস্থির লাগছে ওর। চাকাডোবা মাঠ পেরিয়ে গিয়ে যার সঙ্গে ঘন অন্ধকারে কথা বলল, কে ছিল সেই লোকটা, প্রশ্নটা মাথায় ক্রমাগত হাতুড়ি পিটছে যেন। অনিরুদ্ধ বুঝতে পারে আরও গভীরে যেতে হবে, এভাবে ওপর ওপর গ্রাম ভিজিট করে কিছু হবে না।
    রাত এগারটারও বেশ কিছু পরে ঝাড়গ্রামে পৌঁছল অনিরুদ্ধ। কিন্তু যেমন ভাবতে ভাবতে এসেছে এতটা রাস্তা, তেমনভাবে কাজ শুরু করতে পারল না পরদিন থেকে। পরদিন থেকেই আসন্ন লোকসভা ভোট নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ল মেদিনীপুর জেলা পুলিশ। এটা অগাস্ট ১৯৯৯, আর সেপ্টেম্বর মাসে শুরু হয়ে গেল দেশে লোকসভা ভোট। পরদিনই জেলার পুলিশ সুপারের ইলেকশন মিটিংয়ে মেদিনীপুর শহরে গেল অনিরুদ্ধ। ভেবেছিল মিটিংয়ের পর চাকাডোবার ঘটনাটা এসপি’কে ডিটেইলসে ব্রিফ করবে। কিন্তু তা আর পারল না। অনিরুদ্ধ ঠিক করল, ইলেকশনটা মিটুক, তারপর বিষয়টা নিয়ে সিনিয়রদের সঙ্গে আলোচনা করা যাবে।
     
    ওদিকে দেশে আরও একটা লোকসভা নির্বাচন এসে গেল, পুলিশ-প্রশাসন তা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ল, তার জন্য তো আর জঙ্গলমহলের মৌলিক সমস্যাগুলোকে সামনে রেখে বনমালী দেশোয়ালিদের আন্দোলন থেমে থাকল না। কেন্দ্রে নতুন সরকার গঠন হবে বলে বেলপাহাড়ি থেকে রানিবাঁধ, বান্দোয়ান থেকে রাইপুর গরিব মানুষের সংগঠিত হওয়ার কাজ বন্ধ থাকল না। যে সংগঠিত হওয়ার প্রস্তুতি হয়তো ইদানীং শুরু হয়েছে, কিন্তু এই মানুষগুলোকে সংগঠিত করার মতো উপাদান এই মাটিতে মজুদ ছিল বহু বছর ধরেই। বনমালী দেশোয়ালিরা জানে, জল, হাওয়া পেলে পাথরেও গাছ জন্মায়, আর এখানে তো উর্বর জমি প্রস্তুত! জল, হাওয়াও আছে যথেষ্টই, শুধু সলতে পাকানোর কেউ ছিল না এতদিন। সেই শূন্যস্থানও পূরণ হয়ে যেতেই জঙ্গলমহলে গ্রামের পর গ্রামে মানুষ সাড়া দিতে শুরু করল। যদিও লোকসভা নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য সেদিকে আর বিশেষ নজর দেওয়ার সময় পেল না পুলিশ প্রশাসন।

    ১৮-০১-১৯৯২, ময়ূরঝর্ণা, বেলপাহাড়ি

    ময়ূরঝর্ণা গ্রামে সুবল মান্ডির বাড়িতে আজ সকাল থেকে ঝামেলা চলছে। ঝামেলার কারণ এই নয় যে, বাড়িতে দু’বেলা খাবারের মতো চাল নেই। ঝামেলার কারণ এই নয়, বাড়ির কেউ কিছু চেয়েছে আর সুবল মান্ডির হাতে টাকা নেই তা কেনার মতো। সুবল মান্ডির বাড়িতে বছরের আট-ন’মাসই দু’বেলা খাবারের মতো চাল থাকে না। এই বাড়ির কেউ কিছু চায় না, কারণ সবাই জানে ন্যূনতম দরকারি জিনিসই কেনার ক্ষমতা নেই তাদের। আজ সকালে সুবল মান্ডির বাড়িতে ঝামেলার কারণ, তার বড় ছেলে সিংরাই জেদ ধরেছে কিছুতেই স্কুলে ভর্তি হবে না। আর সুবলও ঠিক করেছে আজ যেভাবেই হোক সিংরাইকে স্কুলে ভর্তি করাবে। নিজে এক লাইনও পড়তে পারে না, কোনও দিন স্কুলে যায়নি, কিন্তু ছেলেকে স্কুলে পাঠাতে চায় সে।  গত দু’সপ্তাহে চার-পাঁচ’দিন সুবল বারবার চেষ্টা করেছে ছেলেকে স্কুলে নিয়ে যেতে, কিন্তু সকালে উঠেই ছ’বছরের সিংরাই পালিয়ে যাচ্ছে এদিক-ওদিক। আজ সিংরাই ঘুম থেকে উঠে দেখল বাবা ঘরের বাইরে বসে আছে। সিংরাই বুঝল আর পালানোর উপায় নেই। ‘তোমার থেকে ছোট ছেলেরা স্কুলে যাচ্ছে। তুমি যাবে না কেন?’ বাবার ধমকে চুপ করে ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে সিংরাই।
    ময়ূরঝর্ণার সুবল মান্ডির ছেলে সিংরাইয়ের জন্ম ১৯৮৬ সালে। সুবল মান্ডির নাম ইতিমধ্যেই পাঠক জেনেছেন চাকাডোবা ফুটবল মাঠে মিটিংয়ের দিন। বনমালী দেশোয়ালিদের ডাকা মিটিংয়ে সবার সামনে দাঁড়িয়ে বাঁশপাহাড়ির বদলে চাকাডোবাতেই স্বাস্থ্য কেন্দ্র তৈরির জন্য সুবল মান্ডির সওয়াল করার ঘটনাটা যদিও ঘটবে আজ থেকে বেশ কয়েক বছর বাদে। আজ যেটা ঘটছে তা হল, সুবল মান্ডির বাড়িতে সকাল থেকে ঝামেলা, অশান্তি। এই ঝামেলা, অশান্তি কীভাবে মিটল তা জানার আগে একবার চট করে ঘুরে আসা দরকার তার বাড়ি থেকে। কারণ, সুবল মান্ডির বাড়িতে সকাল থেকে অশান্তি চলছে বললে আসলে কিছুই বোঝা যায় না, তা জানার জন্য সেখানে, মানে যেখানে সুবল মান্ডির বাড়ি, সেই ময়ূরঝর্ণা গ্রামে যেতে হবে।
     
    ধরা যাক, ঝাড়গ্রাম শহর থেকে আপনি সোজা দহিজুড়ি, বিনপুর, শিলদা মোড় পেরিয়ে চলে এসেছেন বেলপাহাড়ি। স্থানীয় মানুষের কথায় প্রপার বেলপাহাড়ি। রাস্তার একদিকে থানা, অন্যদিকে বিডিও অফিস। সেই রাস্তা বরাবর একটু এগিয়ে যেভাবে রাস্তা ঘুরল, সেভাবে আপনি ডানদিকে ঘুরলেন। দু’দিকে ছোট্ট বাজার। মুদি দোকান, সার-কীটনাশকের দোকান, চা-বিস্কুটের দোকান। সস্তার শাড়ি, ব্লাউজ, গামছা, লুঙ্গির দোকানগুলোকে বাঁ হাতে রেখে ডানদিকে ঘুরে একটু এগোতেই মূল রাস্তাটা সোজা চলে গেল ভূলাভেদা, চাকাডোবা, বাঁশপাহাড়ি হয়ে একদম ঝিলিমিলি। কিন্তু বেলপাহাড়ির বাজার পেরিয়েই আপনি এই সোজা রাস্তাটা ধরবেন না। দেখবেন একটা রাস্তা বাঁদিকে ঘুরছে, আপনি ধরবেন সেই রাস্তা। এবার আপনি যদি এসডিপিও অনিরুদ্ধ রায়ের মতো সরকারি এবং সজাগ দৃষ্টি নিয়ে এগোতে থাকেন, দেখবেন এক অতি সাধারণ, উত্তেজনাহীন গ্রাম্য রাস্তা ধরে যাচ্ছেন। বেশ কিছু দূর দূর দু’চারটে দোকান। দোকানের সামনে দু’পাঁচজন মানুষ বসে আছে। তাদের বসে থাকা দেখে বুঝবেন, তাদের কোনও কাজ নেই। কোনও দিনই ছিল না। মনে হবে তারা সারা জীবনই এভাবে বসে আছে। গায়ের রং কালো, গর্তে ঢোকা চোখ, গালে খোঁচা খোঁচা দাড়ি, পরনে শুধু গামছা অথবা কারও গামছার ওপরে একটা সাধারণ গেঞ্জি। পাশে দাঁড় করিয়ে রাখা সাইকেল। কোনও দোকানের সাইনবোর্ডে লেখা জায়গার নাম নাটাচুঁয়া, কোথাও আবার বোর্ডে লেখা কটুচুঁয়া। ডানদিকে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখবেন কোথাও জঙ্গল, কোথাও বাড়ি। কোনও বাড়ির সামনে মাটিতে বসে রুগ্ন চেহারার বাচ্চা খেলছে। বাঁ দিকে দেখবেন টানা রুক্ষ মাঠ, কোথাও ছোট পাথরের টিলা। পাথর ভেঙে মাথায় করে নিয়ে যাচ্ছে কোনও ক্লান্ত শরীর। দূর থেকে হেঁটে আসছে এক মহিলা, মাথায় অনেক কাঠ কিংবা কেন্দু পাতার আঁটি। এভাবে এগোতে এগোতে ওদোলচুয়া পেরিয়ে আপনি অবশেষে পৌঁছবেন কাঁকড়াঝোড়। সেখান থেকে রাস্তাটা সোজা চলে গেল আমলাশোল, কিন্তু আপনি জঙ্গলের মাঝখান দিয়ে ডানদিকে ঘুরলেন, আরও কিছুটা এগোলেন। রাস্তাটা একটু উঁচু হয়ে গেল, দু’দিকে শাল-মহুয়া-অর্জুনের ঘন জঙ্গল। জঙ্গল চিরে কয়েক কিলোমিটার এগিয়ে আপনি পৌঁছবেন ময়ূরঝর্ণা গ্রামে।
     
    এবার ধরা যাক অনিরুদ্ধ রায়ের মতো সরকারি কাজে নয়, আপনি দু’রাত তিন দিনের প্যাকেজ ট্যুরে ঝাড়গ্রাম গিয়েছেন, ঠিক যেভাবে ঘুরতে যায় কোনও পর্যটক। তখন বেলপাহাড়ির বাজার থেকে বাঁ দিকে ঘুরে একটু এগোলেই আপনি দেখবেন এক অসাধারণ দৃশ্য। একদিকে জঙ্গল, তার মাঝে মাঝে বাড়ি। একদিকে দিগন্তবিস্তৃত মাঠ, কোথাও সমান, কোথাও উঁচু-নীচু। মাঠের পিছনে খাড়া দাঁড়িয়ে আছে ছোট্ট পাহাড়। মনে হবে পাহাড়টা এই তো সামনে, হাত বাড়িয়েই ধরা যাবে। গাড়ি থেকে নেমে কয়েক পা হেঁটেই উঠে পড়া যাবে সেই পাহাড়ের মাথায়! হয়তো পাহাড়ে উঠবেন ভেবে গাড়ি থেকে নামলেন, এবং দেখলেন ততটা কাছেও নয়। পাহাড়ে ওঠা হয়তো হল না, কিন্তু এক অদ্ভুত গন্ধ এসে লাগল নাকে। সেই অচেনা গন্ধ নাক থেকে মাথায়, মাথা থেকে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ল। হয়তো তখনই বুঝতে পারলেন, হয়তো বা কোনও দিন জানতে পারলেন না, জঙ্গলের সদ্য ওঠা পাতা, মহুয়া ফুল, কেটে রাখা কাঁচা কাঠ, ভেজা মাটি, ছোট্ট পাথরে জমে থাকা শ্যাওলা, গরিব মানুষের দীর্ঘশ্বাস, সব মিলে মিশে এক অদ্ভুত আতর তৈরি হয়েছে, যা আপনাকে কিছুক্ষণ দাঁড় করিয়ে রাখবে গাড়ির বাইরে। আপনি ভাববেন, এমন সুন্দর জায়গাও আছে আমার রাজ্যে! আর সময়টা যদি হয় দুপুর দেড়টা, দুটো বা আড়াইটে, তবে এই দৃশ্য, গন্ধ, মাঝে মাঝে পাখির সব বিচিত্র অচেনা ডাকের শব্দকে ছাপিয়ে আরও একটা গন্ধ ভেসে আসবে। সেই গন্ধকে অনুসরণ করে রাস্তা থেকে কিছুটা এগোলে দেখবেন, জরাজীর্ণ চেহারার একটা সামান্য মাটির বাড়ি। বর্ষায় ঘরে জল পড়া আটকাতে ভাঙা টালির ওপরে জায়গায় জায়গায় পলিথিন শিট আটকানো। বাড়ির সামনে মাটিতে হামাগুড়ি দিচ্ছে রুগ্ন এক বাচ্চা। আর তার আরও রুগ্ন মা হাত পাখা দিয়ে নিভতে বসা কাঠে হাওয়া দিচ্ছে উনুনটা জ্বালিয়ে রাখতে। সাদা ধোঁয়া কুণ্ডলী পাকিয়ে উঠছে উনুনের ওপর বসানো হাঁড়ি থেকে। এতক্ষণে আপনি বুঝবেন যা তাড়া করে এসেছেন তা আসলে ভাতের গন্ধ। তার সঙ্গেই মিশে আছে পোড়া কাঠের গন্ধও। দেখবেন, এই পরিবারের কোনও সদস্য হয়তো পুকুর থেকে স্নান করে ফিরছে, কেউ হয়তো গাছে হেলান দিয়ে বসে আছে কিছুটা মহুয়া খেয়ে। অপেক্ষা করছে ভাতের। এরপর যদি আরও একটু কৌতূহলী হয়ে খোঁজ নেন ভাতের সঙ্গে কী রান্না হয়েছে, দেখবেন কিছুই রান্না হয়নি। কোনও দিনই হয় না। এখানে অনেক বাড়িতে রোজ ভাতও হয় না। যেদিন ভাত হয়, তার বেশিরভাগ দিনই অন্য কিছু হয় না। কোনও কোনও দিন অবশ্য ব্যতিক্রম থাকে, ভাতের সঙ্গে একটু শাক হয়। ওই শাক আর কাঁচা লঙ্কা দিয়েই পেট ভরে ভাত খেয়ে নেয় সকলে।
     
    তবে আপনি অনিরুদ্ধ রায়ের মতোই হোন, অথবা সজাগ পর্যটক, এই রাস্তা ধরে কাঁকড়াঝোড় হয়ে ময়ূরঝর্ণা যাওয়ার পথে আপনার চোখে পড়তে বাধ্য অদ্ভুত চেহারার সব মানুষজন। অদ্ভুত চেহারা বলার কারণ, তাদের ওজন। আপনি যতজনকেই দেখলেন, সে পুরুষই হোক বা মহিলা, সবাইকে এক জায়গায় দাঁড় করিয়ে ওজন নিলে দেখা যাবে, এই এলাকায় মানুষের গড় ওজন মেরেকেটে পঞ্চাশ কিলোগ্রাম। কিছু কমও হতে পারে। এখানকার বাচ্চা ছেলে-মেয়েগুলোর চেহারাতেও একই রকম মিল। সবারই কম-বেশি হাড়গোড় বের করা চেহারা, ঝকঝকে দুটো করে চোখ, ভাঙা গাল, অমলিন সরল হাসি এবং হাঁটুতে, হাতে, পায়ের নানা জায়গায় কাটাছেড়ার দাগ। পাঁচ-ছ’বছর বয়স থেকেই বাড়ির কাজ করতে করতে বড় হওয়া ছেলে-মেয়েগুলো দশ-বারোতেই পুরোদস্তুর সাবালক। যদিও অপুষ্টির কারণে সতেরো পেরনো চেহারায় তেরো-চোদ্দর ছাপ। আর একটা ব্যাপার আছে এখানকার ছেলে-মেয়েদের। শহরের উচ্চ, উচ্চ-মধ্যবিত্ত বাচ্চাদের যা শেখানোর জন্য বাবা-মায়েরা নানান কোর্স করায়, যাকে একুশ শতকে অনেকে বলে লাইফ স্কিল, সেই ব্যাপারগুলো এখানকার ছেলে-মেয়েরা কর্ণের কবচ-কুণ্ডলের মতো সঙ্গে করে নিয়েই জন্মায়। যেমন, সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো, বাড়ির কাজ করা এবং বেঁচে থাকার জন্য যতরকম স্ট্রাগল প্রয়োজন।    
     
    ক্রমশ।..    
     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ধারাবাহিক | ২৯ ডিসেম্বর ২০২৩ | ৩৮৬ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • | ২৯ ডিসেম্বর ২০২৩ ২০:০৯527264
  • sad পড়ছি
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। দ্বিধা না করে প্রতিক্রিয়া দিন