এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  উপন্যাস

  • ময়ূরঝর্ণা - পর্ব ১৩ 

    বিতনু চট্টোপাধ্যায় লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | উপন্যাস | ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ৪৯৪ বার পঠিত | রেটিং ৪.৫ (২ জন)
  • বারবার ঘড়ি দেখে সিংরাই, তারপর সাড়ে বারোটা নাগাদ বেরিয়ে পড়ে বাড়ি থেকে। তেলিখানা পৌঁছে সিংরাই দেখল বনমালী কাকা এবং বাকিরা রেডি হয়ে বসে আছে। বাকিরা মানে অর্জুন, ধ্রুব আর দু’জন মেয়ে। চারজনেরই বয়স কুড়ি-বাইশের মধ্যে। মেয়ে দু’জনকে সিংরাই আগে দেখেনি। তাদের নাম শিবানী আর শকুন্তলা। সিংরাইয়ের জন্যই অপেক্ষা করছিল তারা। একটা নাগাদ তেলিখানা থেকে রওনা দিয়ে জঙ্গলের রাস্তা ধরল ছ’জনের দলটা। সিংরাই জানে না তারা কোথায় যাচ্ছে, কাউকে জিজ্ঞেসও করল না কিছু। জঙ্গল, জঙ্গলের রাস্তা ধরে টানা ঘণ্টা তিনেক হেঁটে বিকেলে তারা পৌঁছল তালপুকুরিয়া গ্রামে। তালপুকুরিয়া গ্রামে সিংরাই আগেও এসেছে, কিন্তু জঙ্গলের ভেতর দিয়ে এভাবে যে যাওয়া যায় তা জানা ছিল না তার। তালপুকুরিয়ায় এক আদিবাসী পরিবারে আগেই জানানো ছিল, বনমালীরা যখন পৌঁছল তখন সেই আদিবাসী বাড়িতে হাজির গ্রামের আরও কয়েকটা পরিবার। যে পরিবারগুলো এখনও তাদের সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়, কিন্তু তাদের সমর্থন আছে বনপার্টির আন্দোলনের প্রতি। গোটা রাস্তায় আগাগোড়াই বনমালীর পাশে পাশে ছিল সিংরাই। কয়েক’পা আগে ছিল অর্জুন দা আর শিবানী দিদি। ঠিক পিছনে ধ্রুব দা আর শকুন্তলা দিদি। রাস্তায় আসার সময় বনমালী কাকা বলেছে, আপাতত কয়েক দিন তার সঙ্গেই থাকবে সে। সে যা যা করছে, যা বলছে, মানুষের সঙ্গে কীভাবে কথা বলছে সব যেন সিংরাই মন দিয়ে দেখে। গোপন পার্টি চালানো এবং সংগঠন তৈরি করা, দুটো কাজই হাতেকলমে দ্রুত শিখে নিতে হবে।
     
    দিনের আলো থাকতে থাকতেই তালপুকুরিয়া পৌঁছে যায় তারা, বনমালী জানে এই এলাকায় সংগঠন এখনও তত মজবুত নয়। রাতে থাকা যাবে না এখানে। এখানে পাড়া বৈঠকের মতো করে তারা কথা বলবে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে। রাজনীতির কথা না, এমসিসি’র কথা না, তাদের সংগঠনের কথা না, বনমালীরা শুধু আলোচনা করবে তালপুকুরিয়া গ্রামের সাধারণ গরিব মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা নিয়ে। গত বছর যদু মন্ডলের জমির ধান কাটার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছিল এই এলাকায়। তালপুকুরিয়ার যে পরিবারগুলো সেই ধান কাটার কর্মসূচিতে ছিল আজ মূলত তাদেরই ডাকা হয়েছে। গত বছর ধান কাটার পর যদু মন্ডলের লেঠেল বাহিনী হামলা চালিয়েছিল তালপুকুরিয়ার কিছু ঘরে। এবছর ধান বসানো শুরু হয়েছে যদু মন্ডলের জমিতে, কিন্তু মাঠে কাজ পায়নি গ্রামের ওই সাতটা পরিবারের কেউ।  ঘণ্টাখানেক তাদের সঙ্গে কথা বলে বনমালীরা। অভিজ্ঞ সংগঠক বনমালী জানে, তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য কিছু গরিব পরিবারের ওপর জোতদার, পুলিশ, সিপিএমের নিপীড়ন নেমে আসবে। আর নিপীড়ন যত বাড়বে, ততই শক্তিশালী হবে তাদের সংগঠন। ঘণ্টাখানেক পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে মুড়ি, ছোলা খেয়ে সন্ধে নামলে তালপুকুরিয়া ছাড়ে বনমালীরা।
    ফের তারা ধরে জঙ্গলের রাস্তা, অন্ধকার একটু বাড়লে সময় বাঁচাতে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে গ্রামের রাস্তা ধরা যেতে পারে। এখন হাঁটতে হবে অনেকটা। দু-পাঁচ মিনিট বিশ্রাম নিতে বা খেতে থামলে অন্তত পাঁচ থেকে ছ’ঘণ্টা লাগবে নাচনা পৌঁছতে। বাঁকুড়া জেলার খাতরা মহকুমার রানিবাঁধের নাচনা গ্রামে আজ রাতে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বনমালী। এই মুহূর্তে ঝাড়গ্রাম নয়, বাঁকুড়ার খাতরা ব্লকেই তাদের সাংগঠনিক অবস্থা সবচেয়ে ভালো। এতটা রাস্তা টানা হাঁটা সিংরাইয়ের এই প্রথম। কিন্তু তার কোনও অসুবিধে হচ্ছে না। তালপুকুরিয়ার মিটিংয়ে গ্রামবাসীদের সঙ্গে বনমালী কাকার কথাবার্তা মাথায় গেঁথে নিয়েছে সে। রাত ন’টা নাগাদ রাস্তার ধারে এক জায়গায় থামে ওরা। কাল রাতে তেলিখানায় যে বাড়িতে ছিল, আজ দুপুরে বেরনোর আগে তারা কিছু রুটি বানিয়ে দিয়েছিল। নাচনা পৌঁছতে প্রায় সাড়ে এগারটা-বারোটা বাজবে। বনমালী ঠিক করে এখনই খেয়ে মিনিট দশেক বিশ্রাম নিয়ে ফের হাঁটা শুরু করবে। রাস্তার ধারে একটা গাছের গোড়ায় গোল হয়ে বসে ছ’জন। সবাই ব্যাগ থেকে বের করে রুটি, ভাগ করে নেয় নিজেদের মধ্যে। মাথার ওপরে খোলা আকাশ, কয়েকদিন বৃষ্টি নেই। আকাশজুড়ে ঝকঝক করছে তারা। ব্যাগ থেকে জলের বোতল বের করে হাত ধুয়ে নেয় সবাই।
     
    মাঝরাত পেরিয়ে নাচনা গ্রামে পৌঁছে ডোমপাড়ায় দুটো বাড়িতে ভাগাভাগি করে থাকার ব্যবস্থা হয় বনমালীদের। একটা বাড়িতে চলে যায় শকুন্তলা আর শিবানী। রাতে শোওয়ার সময় সিংরাই খেয়াল করে একটা ভুল হয়ে গিয়েছে, একটা চাদর আনলে ভালো হত। বাড়ি ছাড়ার প্রথম রাত, কোথায় উত্তেজনা শোওয়ার পরও তাকে জাগিয়ে রাখবে, কিন্তু মাটিতে মাদুর পেতে অর্জুনের পাশে শুয়ে পাঁচ মিনিটেই ঘুমিয়ে পড়ে সিংরাই। সারা দিনের হাঁটার ক্লান্তি তার চোখেমুখে। বনমালী আরও কিছুক্ষণ জেগে থাকে। উঠোনে বসে কথা বলে ধ্রুবর সঙ্গে। তিনটে ডোম পরিবারের জমি জবরদখল করে রেখেছে রাধামোহনপুর গ্রামের মহাপাত্র পরিবার। খাতরা মহকুমায় উৎকল ব্রাহ্মণ মহাপাত্রদের খুব প্রভাব। তিনটে রাইস মিল আছে উমাপতি মহাপাত্রদের। ‘বুঝলি ধ্রুব, বড়লোক শুধু গরিবকে শোষণ করে তাই নয়, এখানে শোষণের একটা বড় কারণ জাতিগতও। মহাপাত্ররা বেছে বেছে শুধু ডোমদের জমিগুলোই দখল করে রেখেছে। আইন, আদালত সব ওদের হাতে,’ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বনমালী। তারপর একটা বিড়ি ধরায়, ‘কাল ডোম পরিবারগুলোকে নিয়ে বসব। এই জমি উদ্ধার করতেই হবে। তার জন্য সমস্ত ডোম পরিবারকে সংঘবদ্ধ করতে হবে।’ রাত প্রায় দুটো পর্যন্ত কথা বলে দু’জনে। কীভাবে পশ্চিমবঙ্গে এগনো যাবে সংগঠনকে, তা নিয়ে কথা হয়। কিছুদিন আগেই ধ্রুব ঘুরে এসেছে বিহার থেকে, সামনে থেকে দেখে এসেছে এমসিসি সংগঠনের কাজকর্ম।
    পরদিন সাত সকালে ঘুম ভাঙে সিংরাইয়ের। নতুন জীবনের প্রথম সকাল। প্রাত্যহিক কাজকর্ম সেরে মাটির বাড়িটার উঠোনে এসে বসে সে। কাল অনেক রাতে এসে শুয়ে পড়েছিল, এখন এর-ওর কথা শুনে বুঝতে পারে বাড়িটা কানাই ডোমের, তার স্ত্রী সবাইকে মুড়ি, ছোলা এনে দেয়। সকাল নটা নাগাদ সাত-আটজন এসে হাজির হয় কানাইয়ের বাড়িতে। সবাই আশপাশের বাসিন্দা। তাদেরই জমি জবরদখল করে রেখেছে উমাপতি মহাপাত্র। ডোম পরিবারগুলোকে বনমালী জানায়, এই জমি দখলের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করবে বিপ্লবী কৃষক কমিটি। প্রথমে রানিবাঁধের বিডিওকে ডেপুটেশন দেওয়া হবে গ্রামবাসীদের পক্ষ থেকে। তার জন্য আগামী এক মাস গ্রামবাসীদের নিয়ে ছোট পাড়া বৈঠক করা হবে। সমস্ত ডোম পরিবারকে সংগঠিত করতে হবে। নাচনা গ্রামের বিপ্লবী কৃষক কমিটিতে কানাই ডোমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। প্রথমে এই কমিটির ব্যাপারটা বুঝতে পারেনি সিংরাই। পরে কথায় কথায় জানতে পারে, বিভিন্ন গ্রামে একটা করে বিপ্লবী কৃষক কমিটি গঠন করছে এমসিসি। এক একটা কমিটিতে আট-দশ জন করে গ্রামবাসী। তাদের কাজ মূলত কেন্দু পাতার দাম বৃদ্ধি, জঙ্গলের অধিকার, চিকিৎসা পরিষেবা, রাস্তা, শিক্ষাসহ সাধারণ মানুষের বিভিন্ন বিষয় বা সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা, আন্দোলন করা। সিংরাই সামনে থেকে দেখে কীভাবে বনমালী কাকা কথা বলছে মানুষগুলোর সঙ্গে। ডোম পরিবারগুলোর জমি কীভাবে উদ্ধার করা যাবে তা নিয়ে দীর্ঘ কথার পর চলে যায় লোকগুলো। বনমালীরাও খেয়েদেয়ে রেডি হয়ে নেয়। দুপুর দুপুর বেরিয়ে পড়ে নাচনা থেকে, আজ রাতে তাদের থাকার কথা রানিবাঁধেরই কমো আর বিঠুলা গ্রামে। বিঠুলা গ্রামে পৌঁছেও একইভাবে স্থানীয় কিছু মানুষের সঙ্গে তাদের সমস্যা, কীভাবে তা সমাধানে প্রশাসনের কাছে দাবি পেশ করতে হবে, কীভাবে সেই দাবি নিয়ে আন্দোলন হবে তা নিয়ে কথা বলে বনমালী এবং তার সঙ্গীরা। মনোযোগী ছাত্রের মতো সব দেখে, শোনে সিংরাই। বনমালী বলে, সংগঠনের কাজ শেখার একমাত্র রাস্তা হাতেকলমে অভিজ্ঞতা অর্জন। বই পড়ে যেমন সাঁতার শেখা যায় না, জলে নামতে হয়, তেমনই সংগঠনের কাজ শিখতে হলে মানুষের মধ্যে থাকতে হয়, থিওরির ক্লাস করে তা হয় না। মন দিয়ে শোনে সিংরাই।
     
    বিঠুলা গ্রামে রাতে খাওয়ার পর এক মাহাতো পরিবারে থাকার ব্যবস্থা হয় সিংরাইদের। অনেক রাত পর্যন্ত বসে নিজেদের মধ্যে কথা বলে বনমালী, ধ্রুব, শিবানী, অর্জুন, শকুন্তলা। মাঝে মাঝে তাতে যোগ দেয় সিংরাইও। বরাবরই কথা কম বলত সিংরাই। রাতে শোওয়ার পর সিংরাইয়ের হঠাৎই মনে হয়, এই যে বাড়ি ছাড়ার পর একটা রাত, একটা পুরো দিন পেরিয়ে গিয়েছে, কিন্তু সেভাবে তো বাবা-মা’র কথা, ভাই-বোনের কথা মনে পড়ছে না তার। বাড়ি ছাড়ার কথা আগে বললে বাবা-মা না করত, তাই ওদের না বলে আসার জন্য খারাপ লাগে না সিংরাইয়ের। কিন্তু তার এটা ভেবে খারাপ লাগে যে, একবারও কেন বাবা-মার কথা তার মনে পড়ছে না! তেমন কষ্টও তো হচ্ছে না বাড়ির কারও জন্য! তবে কি বাবা-মা’র প্রতি তার তেমন টান ছিল না কোনও দিন!
    বনবাস পর্বে দ্রুত দিন কাটতে থাকে সিংরাইয়ের। প্রথম মাসখানেক বনমালীর সঙ্গে বিভিন্ন গ্রামে ঘোরে সে। অধিকাংশ সময়ই পায়ে হেঁটে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যাওয়া। রাতে কারও বাড়িতে বা জঙ্গলে থাকা। যেভাবে ওর দিন কাটছে, মাঝে মাঝে নিজের জীবনটাকে রূপকথার মতো মনে হয় সিংরাইয়ের। গত বছর এই সময়ে কেমন ছিল ওর দিনগুলো, আর আজ কেমন, তা ভেবে যেন মেলাতেই পারে না সাড়ে চোদ্দ বছরের ছেলেটা। বনমালীও ব্যস্ত হয়ে পড়ে সংগঠনের কাজে। সিংরাই কখনও অর্জুন, কখনও অনন্ত, কখনও বা সাঁওতার সঙ্গে থাকে। প্রতিদিনই কোনও না কোনও গ্রামে পাড়া বৈঠক, মানুষের সঙ্গে কথা বলা। সিংরাই বুঝতে পারে, গরিব মানুষগুলো সংঘবদ্ধভাবে সাড়া দিচ্ছে তাদের কথায়। দেখতে দেখতে আর একটা ধান কাটার মরশুম এসে যায় রুক্ষ জঙ্গলমহলে। এখানে সব জমিই একফসলী, এই কার্তিক, অঘ্রাণ মাসের সময়টা মানুষের হাতে কিছু কাজ আছে তাও। আগের বছর এমনই এক অঘ্রাণের রাতে কেন্দিশোলের যদু মন্ডলের জমিতে ধান কাটার ঘটনা মনে পড়ে সিংরাইয়ের। চার মাস হয়ে গেল বাড়ি ছেড়েছে সে। মাঝে একবার চাকাডোবার গিরুলিয়া গ্রামে গিয়েছিল বনমালী কাকার সঙ্গে। রাতে ছিল ভীম মাহাতোর বাড়ি। রাত দশটা নাগাদ গিরুলিয়ায় মিটিং শেষ হলে সিংরাইয়ের বারবার মনে পড়ছিল বাড়ির কথা। বাবা-মা’র কথা, ধর্মা, মালতীর কথা। ময়ূরঝর্ণার এত কাছে এসেছে, একবার কি ঘুরে আসা যায় বাড়ি থেকে! যদিও তা বলতে পারেনি বনমালী কাকাকে। অনেক রাতে শোওয়ার তোড়জোড় করার সময় বনমালী এগিয়ে আসে তার দিকে, ‘কাল একবার বাড়ি যাবে নাকি? এত কাছে এসেছ।’ প্রশ্নটা শুনে সিংরাই প্রথমেই ভাবে, কীভাবে তার মনের কথা জানল বনমালী কাকা! চুপ করে থাকে সে।
     
    পরদিন সকালে সাঁওতা আর সিংরাই গ্রামের একজনের সাইকেল নিয়ে রওনা দেয় ময়ূরঝর্ণার দিকে। সাঁওতার বাড়ি বাঁকুড়ার রাইপুরে। সিংরাইয়ের থেকে চার-পাঁচ বছরের বড়। মাস দু’য়েক ধরে সাঁওতাই সব সময় সিংরাইয়ের সঙ্গে আছে। যেদিন সিংরাই আলাদা হয় বনমালী দেশোয়ালির থেকে সেদিন থেকেই দলে ওর দাদা, বন্ধু সবই সাঁওতা। আজ গিরুলিয়া থেকে ময়ূরঝর্ণা যাওয়ার যে জঙ্গলের রাস্তা, সেখানে গাইডের ভূমিকা নেয় সিংরাই। এই জঙ্গলের রাস্তা, রাস্তার বাঁক, রাস্তার ধারের প্রতিটা গাছ সিংরাইয়ের চেনা। যত বাড়ির দিকে এগোতে থাকে ততই যেন উত্তেজনায় হাত-পা অবশ হয়ে যেতে থাকে সিংরাইয়ের। তিনমাস আগে যেদিন বাড়ি ছেড়েছিল, আজও সেদিনের মতোই এক অদ্ভুত উত্তেজনা বোধ করে সিংরাই। বাড়ি ছাড়া আর এতদিন বাদে বাড়ি ফেরার অনুভূতি কেন একইরকম বুঝতে পারে না সে। নাড়ির গতি বেড়ে যায় তার। সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ বাড়ির সামনে এসে পৌঁছয় সিংরাই, বাবা-মা নিশ্চয় এত সকালে মাঠে চলে যায়নি!
    সিংরাইকে দেখে প্রথমেই দৌড়ে আসে ধর্মা। এক এক করে সামনে এসে দাঁড়ায় সুবল মান্ডি, যমুনা। কেউ কোনও কথা বলতে পারে না কিছুক্ষণ। বাবা-মা’র সঙ্গে কথা বলতেও এত জড়তা! যে বাড়িতে চোদ্দ বছর কাটিয়েছে, সেই বাড়ির সবকটা লোককেই যেন অচেনা মনে হয় তার। আস্তে আস্তে কিছুটা স্বাভাবিক হয় পরিস্থিতি। সিনেমার দৃশ্যের মতো মা বা বাবাকে জড়িয়ে ধরে না সিংরাই, কেঁদে ভাসায় না সুবল বা যমুনাও। তিন মাসের বিচ্ছেদ যে অনেকটা সময় বুঝতে পারে সকলেই। দাদা ফিরেছে, দাদা ফিরেছে বলে শুধু উত্তেজনায় খানিক দৌড়ে বেড়ায় সিংরাইয়ের বোন। দশ বছরের ধর্মার আচরণেও সাবালকত্বের ছাপ দেখে সিংরাই। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে সুবল, যমুনা বারকয়েক সিংরাইকে বলে বাড়িতে থাকতে, ওদের সঙ্গে আর না যেতে। কিন্তু সে কথা বলে নিজেরাও বুঝতে পারে, তাদের কথার তত জোর নেই আর। ছেলে কথা শুনবে না। কোনও উত্তর না দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে সিংরাই। বেলা একটু বাড়লে একসঙ্গে খেতে বসে তারা। ছেলে বাড়ি ফেরায় ভাত বসায় যমুনা, সঙ্গে শাক ভাজা। সবাই একসঙ্গে খেয়ে নেয়। আর বিশেষ কথা হয় না তাদের। মাঠে যাওয়ার কথা ছিল সুবল, যমুনার। কাজে যাওয়া বাতিল করে না তারা, একটু দেরি করে বেরোয় বাড়ি থেকে। ঘণ্টা তিনেক বাড়িতে কাটিয়ে ফের বনবাস পর্বের জন্য প্রস্তুত হয় সিংরাই মান্ডি।
    প্রথমে বনমালী তারপর সাঁওতার নেতৃত্বে টানা ছ’সাত মাস সংগঠনে কাটিয়ে ফেলে সিংরাই। বাঁকুড়ার রানিবাঁধ, রাইপুর, খাতরা, সারেঙ্গা থেকে ঝাড়গ্রামের বিনপুর, একের পর এক গ্রামে চষে ফেলে সে। জঙ্গলের রাস্তা এখন তার অনেকটাই চেনা। সিংরাই নিজেও বুঝতে পারে তার কাজের সব খবরই পৌঁছয় বনমালী কাকার কাছে। বাড়ি ছাড়ার সাত মাসের মাথায় দলের পক্ষ থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করার দায়িত্ব পায় সিংরাই। এখন সবসময় সাঁওতার সঙ্গেও দেখা হয় না। তিন দিন ধরে বারিকুলের খেজুরখেন্না গ্রামের কুমোর পাড়ায় ছিল সিংরাই, সঙ্গে মনোহর হেমব্রম। মনোহর ওর থেকে মাত্র দু’বছরের বড়। খেজুরখেন্না গ্রামের প্রায় একশো ঘর কুমোরের সঙ্গে এলাকার মোড়ল এবং পঞ্চায়েত প্রধানের ঝামেলা চলছিল খাদান থেকে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে। দলের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত হয়, কুমোর পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো হবে। সিংরাইরা জানত না, হঠাৎ রাত ন’টা নাগাদ বনমালী আর দুর্গা হেমব্রম বা দ্বিজেন এসে হাজির খেজুরখেন্না গ্রামে। বনমালী আর দ্বিজেন কাকাকে দেখে সিংরাই প্রথমে ভেবেছিল সে আর মনোহর বোধয় ঠিকঠাক কাজ করতে পারছে না, তাই ওরা এসেছে খেজুরখেন্না গ্রামে। কিন্তু তা নয়, সেদিন অনেক রাত পর্যন্ত সিংরাই, মনোহরের সঙ্গে কথা বলে বনমালী। জানায়, সে কয়েক মাসের জন্য দলের কাজে ঝাড়খন্ড যাচ্ছে। দলে সিদ্ধান্ত হয়েছে, রানিবাঁধের রুদড়া এবং পুরুলিয়ার মানবাজারের জামতোড়িয়া অঞ্চলের দায়িত্ব দেওয়া হবে সিংরাইকে। এখন থেকে একা কাজ করবে সিংরাই। যেদিন সিংরাই এই দুই অঞ্চলে কাজের স্বাধীন দায়িত্ব পেল, তার ঠিক চারদিন বাদে তার বয়স হবে পনেরো।  
     
    যে বয়সে অত্যন্ত নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্মানো কলকাতার কোনও ছেলে হয়তো গ্যারাজে হেল্পারের কাজ নেয়, যে বয়সে দার্জিলিংয়ের কোনও ছেলে ভোর চারটেয় ঘুম থেকে উঠে ঘন কুয়াশা আর প্রবল ঠান্ডায় আট-দশ কিলোমিটার হেঁটে সদ্য কাজে যোগ দেওয়া হোটেলে পৌঁছয় গেস্টের ঘরে চা পৌঁছতে হবে বলে, সেই বয়সে জঙ্গলমহলে জন্মানো একটা ছেলে পুরুলিয়া, বাঁকুড়ার দুটো অঞ্চলে এমসিসি সংগঠনের দায়িত্ব নেয় দু’চোখে একরাশ স্বপ্ন নিয়ে। সে নিজের জন্য নয়, সমষ্টির জীবন পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখে একুশ শতকের গোড়ায়। সে কি আর সেদিন বুঝতে পারে, এই স্বপ্নকে তাড়া করতে কঠিন, দুর্গম কত অজানা রাস্তায় হাঁটতে হবে তাকে! সে কি আর ভাবতে পারে কী অপেক্ষা করছে এই রাস্তার অন্য দিকে! পারে না। পনেরো বছরের কিশোর কীভাবেই বা আন্দাজ করবে, এই স্বপ্ন ধাওয়া করার কী মূল্য তাকে ভবিষ্যতে চোকাতে হবে! হয়তো বহু বছর পর একদিন তার মনে হবে, এই স্বপ্নপূরণের জন্য যা যা সে করেছে বা যে রাস্তা সে ধরেছিল, তাতে অনেক গলদ ছিল। অনেক অনেক বছর পর একদিন হয়তো নিজের কিছু ভুলও বুঝতে পারবে সে, কিন্তু কী আশ্চর্য সে জন্য সেদিন তার কোনও অনুশোচনা হবে না!            
     
    বাঁকুড়ার খেজুরখেন্না থেকে দু’দিন বাদে রুদ্র গ্রামে চলে যায় সিংরাই, গ্রামের পনেরো-ষোলজন লোককে নিয়ে বসে পাড়া বৈঠকে। তাদের কথাবার্তা এগোয় কোনও ব্যাকরণ না মেনে।
    ‘এই গ্রামে যে আপনারা বসবাস করছেন, আপনারা দেশের নাগরিক, দৈনন্দিন যে সুযোগ সুবিধা দরকার তা পাচ্ছেন?’
    ‘কী আর পাচ্ছি? আমরা কীই বা সুবিধা পেতে পারি?’
    ‘কেন? বাচ্চাদের পড়া, রোগ হলে চিকিৎসা, দু’বেলা খাবার মতো ভাত, পরার কাপড়, এই সব...’
    ‘না, পাই না। কোথা থেকে পাব?’
    ‘মানুষের বেঁচে থাকার জন্য সামান্য যা দরকার তা কেন পাচ্ছেন না?’
    ‘কী করে পাব? আমরা তো গরিব মানুষ, তাই পাচ্ছি না। গরিব মানুষের কোথা থেকে দু’বেলা খাবার জোগাড় হবে?’
    ‘আপনারা কেন গরিব?’
    এতক্ষণ একজন আর একজনের দিকে তাকিয়ে, বলা যায় চার-পাঁচজন সম্মিলিতভাবে উত্তর দিচ্ছিল পনেরো বছরের ছেলেটার সব প্রশ্নের। বাকিরা শুনছিল কথাবার্তা। কথা হচ্ছিল রুদ্র গ্রামের এক আদিবাসী ভূমিজ পাড়ায় মোড়ল কাঞ্চন সিংহ মুড়ার বাড়ির উঠোনে বসে। কিন্তু তারা কেন গরিব, এই সাধারণ প্রশ্নের মুখে হকচকিয়ে যায় মানুষগুলো। তারা যে গরিব তা জানে, কিন্তু কেন গরিব তা তো তারা ভাবেনি কোনও দিন। এই সহজ প্রশ্ন তাদের মাথায় আসেনি কোনও দিন, তাই তার কারণ নিয়েও মাথা ঘামায়নি। সবাই তাকায় মোড়ল কাঞ্চন সিংহ মুড়ার দিকে। কাঞ্চনও চিন্তায় পড়ে যায় বাচ্চা ছেলেটার প্রশ্নে। বাচ্চা ছেলেটা যখন কথা শুরু করেছিল, অনেকেই ব্যাপারটা হাল্কাভাবে নিয়েছিল। তাদের ধারণাতেও ছিল না, প্রায় গোটা জীবন কাটিয়ে ফেলার পর একটা বাচ্চা ছেলের কথার জবাব দিতে পারবে না তারা। ফ্যালফ্যালে চোখে একে অন্যের দিকে তাকায় মানুষগুলো। শেষমেশ একজন বলে, ‘আমাদের টাকা নেই, তেমন আয় নেই, তাই আমরা গরিব।’
    ‘কিন্তু আপনারা চাষ করছেন, শ্রমিকের কাজ করছেন। সকাল থেকে রাত পরিশ্রম করছেন। খাবার থেকে সব কিছু উৎপাদন করছেন, তাও আপনাদের হাতে টাকা নেই কেন? আপনারা যার হয়ে ধান উৎপাদন করছেন সে বড়লোক, আপনারা সারা দিন কেন্দু পাতা তুলছেন আর যে ব্যবসায়ী কেন্দু পাতা আপনাদের থেকে সংগ্রহ করে বিক্রি করছে সে বড়লোক। এটা কী করে হয়? যাকে তিন বছর আগে ভোট দিলেন সে কয়েক বছরে বড়লোক হয়ে গেল, আর আপনি গরিব থেকে গেলেন কেন? যারা আপনার পরিশ্রমের ধান, কেন্দু পাতা, ভোট, সব নিল তারা হল বড়লোক, আর দিনে বারো ঘণ্টা খেটে আপনার ঘরে ভাত নেই কেন? আপনার ছেলে-মেয়ে স্কুলে যেতে পারে না কেন? আপনার ঘরে কারও রোগ হলে হাসপাতালে যেতে পারে না কেন?’
     
    সিংরাইয়ের একের পর এক প্রশ্নে গভীর চিন্তায় পড়ে যায় মানুষগুলো। ভাবে, এসব তো ভাবেনি কোনও দিন।
    ফের শুরু করে সিংরাই, ‘আচ্ছা ধরুন, এই যে জঙ্গল, সেই জঙ্গল কার? আপনি কি জঙ্গলে যেতে পারেন যখন খুশি? আপনি কি জঙ্গল থেকে কাঠ এনে উনুন জ্বালাতে পারেন, বিক্রি করতে পারেন? পারেন না। কেন পারেন না? দেশের আইন বলছে, জঙ্গল সরকারের। সরকারি পুলিশ জঙ্গল পাহারা দেয়। আপনি সামান্য জ্বালানির জন্য কাঠ আনতে জঙ্গলে গেলে আপনাকে তাড়া করে, সাইকেল কেড়ে নেয়। তাই তো? কিন্তু বড় বড় ব্যবসায়ী এই সরকারি অফিসার আর পুলিশের পাহারায় জঙ্গলের কাঠ বাইরে বিক্রি করে। আপনার পূর্বপুরুষ একশো-দেড়শো বছর ধরে জঙ্গলে বাস করেছে। অথচ আজ জঙ্গলের ওপর আপনার অধিকার নেই। আপনাকে জঙ্গল থেকে উচ্ছেদ করে সরকার আইন বানিয়ে জঙ্গল দখল করেছে, তারপর কাঠ বাইরের ব্যবসায়ীকে বিক্রি করছে। সরকার বড়লোক হচ্ছে, ব্যবসায়ী বড়লোক হচ্ছে, আর আপনাদের মতো গরিব মানুষ গরিবই থেকে যাচ্ছে।’ সিংরাই বুঝতে পারে তার এক একটা কথা সোজা মানুষগুলোর মাথায়, হৃদয়ে প্রবেশ করছে, মানুষগুলো সাড়া দিচ্ছে। মানুষগুলোর চোখ দেখে সে বুঝতে পারে, প্রথম যখন বনমালী তার সঙ্গে কথা বলেছিল সেই সময় কেমন দেখতে লাগছিল তাকে। আর বাঁকুড়া রানিবাঁধের রুদ্র গ্রামে পনেরো-ষোলজন মানুষ, যাদের কারও বয়স চল্লিশ, কারও পঞ্চাশ, তারা বুঝতে পারে, কারও কথা বোঝার জন্য, তার কথা শোনার জন্য, তার কথা শুনে বিশ্বাস করার জন্য বয়স কোনও বাধা নয়। কথার জোর থাকলে, যুক্তি থাকলে পনেরো বছরের ছেলের কথাও পঞ্চাশ বছরের মানুষের ঠিক বলে মনে হয়!
    ‘তবে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে কীভাবে? জঙ্গলের পুলিশ, জোতদার, অসাধু ব্যবসায়ী, এদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে হবে। রাস্তায় নামতে হবে, নিজের অবস্থা পাল্টাতে গেলে যেভাবে সব কিছু চলছে প্রথমেই তাকে ভাঙতে হবে।’
    ‘কিন্তু আমরা গরিব মানুষ, আমাদের কী জোর যে এদের বিরুদ্ধে লড়ব?’ সিংরাইয়ের সব কথা ঠিক বলে মনে হলেও ভয় কাটে না মানুষগুলোর।
    ‘লড়াই আমরা করব, আপনারা শুধু আমাদের পাশে থাকবেন। যদি আপনারা আমাদের পাশে থাকেন, আপনারা ঐক্যদ্ধ থাকেন, তবে সরকার আপনাদের কথা মানতে বাধ্য হবে।’ রুদ্র গ্রামে আরও দুটো দিন থাকে সিংরাই। প্রথম দিন সকাল দশ’টা নাগাদ যখন রুদ্র গ্রামের ভূমিজ পাড়ায় ঢুকেছিল তখন সে ছিল অচেনা, সারা দিন মানুষগুলোর সঙ্গে কাটানোর পর রাতে গ্রামের মোড়ল কাঞ্চনের বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা হয় সিংরাইয়ের। আশপাশের পাড়ার লোক জানল, গ্রামের মোড়ল কাঞ্চন সিংহ মুড়ার দূর সম্পর্কের এক বোনের ছেলে এসেছে বিনপুরের সিঁদুরিয়া থেকে।

    ১৪-১২-২০০১, বনবাস পর্ব

    বেঠোলা গ্রামে ধনঞ্জয় সর্দারের বাড়িতে আগেও কয়েকবার থেকেছে সিংরাই। রুদ্র অঞ্চলে কাজের দায়িত্ব পাওয়ার পর বেঠোলা, বাগডিহা, পলাশবনি গ্রামগুলোতে গত কয়েক মাসে সংগঠনের কাজ অনেকটাই এগিয়েছে। তবে এখন কাজ করতে হচ্ছে অনেক সাবধানে। জঙ্গলমহলের পরিস্থিতি এখন আর আগের মতো নেই তা সিংরাই বুঝতে পারে। বনমালী, দ্বিজেন, সুধাংশুদের মুভমেন্টও এখন অনেক গোপনে। গ্রামে থাকা দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
    আজ ঠান্ডাটা একটু কম। সকালে ঘুম থেকে উঠে ধনঞ্জয় কাকার বাড়ির উঠোনে বসেছিল সিংরাই। কাল অনেক রাতে সিংরাই আর মনোহর এসেছে বেঠোলা গ্রামে। ধনঞ্জয়ের বাড়িতে সিংরাইয়ের আর চারটে বাড়ি পরে জলধর সিংহের ঘরে মনোহরের থাকার ব্যবস্থা হয়েছে। সিংরাই দেখে হাতে চায়ের কাপ নিয়ে মনোহর এগিয়ে আসছে তার দিকে।
    ‘দিনের বেলা ঘর থেকে বেশি বেরনোর দরকার নেই, এদিকে হাওয়া ভালো না।’ মনোহরের কথায় চুপ করে থাকে সিংরাই। কাল রাতে ঘরে ঢোকার পর ধনঞ্জয় কাকাও একই কথা বলেছে। মাঝে মাঝেই সিপিএমের লোকজন নানা অছিলায় গ্রামে ঘুরছে, খোঁজ নিচ্ছে কারও ঘরে বাইরের কেউ এসে থাকছে কিনা। কারও বাড়িতে আত্মীয়স্বজন এলে তারা কোথা থেকে এসেছে, কেমন আত্মীয়, নানা খোঁজ নিচ্ছে সিপিএমের লোকজন। মাস ছয়েক ধরে এই ব্যাপারটা শুরু হয়েছে। বিনপুর, রানিবাঁধ, খাতরায় এমসিসি’র আর গোয়ালতোড়, সারেঙ্গায় পিপলস ওয়্যার গ্রুপ বা জনযুদ্ধের গতিবিধি যত বাড়ছে, সংগঠন যত বাড়ছে ততই গ্রামে নজরদারি বৃদ্ধি করছে সিপিএম।
    কিন্তু রানিবাঁধের বেঠোলা গ্রামে আজ, মানে ২০০১ সালের ডিসেম্বরের এক সকালে যা ঘটতে চলেছে তার কারণ ঠিকঠাক জানতে গেলে আমাদের পিছিয়ে যেতে হবে কয়েকটা মাস। সিনেমায় যেমন ফ্ল্যাশব্যাক হয়, অনেকটা তেমনভাবে কিছু সময়ের জন্য একবার ঘুরে আসতে হবে সারেঙ্গা এবং বাঁশপাহাড়ি থেকে। রানিবাঁধ থেকে সারেঙ্গা এবং বাঁশপাহাড়ি, কোনও জায়গাই বেশি দূর নয়, তাই সময়ও লাগবে না বেশি। যতক্ষণ সিংরাই আর এমসিসিতে সদ্য যোগ দেওয়া মনোহর পাল এই নরম শীতের সকালে ধনঞ্জয়ের বাড়ির উঠোনে বসে গল্প করছে তার মধ্যেই ঘুরে আসা যাবে সারেঙ্গা এবং বাঁশপাহাড়ি থেকে।

    ক্রমশ... 
     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ধারাবাহিক | ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ৪৯৪ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা খুশি মতামত দিন