এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  স্মৃতিচারণ  নস্টালজিয়া

  • ঢেঁকি  

    Tanima Hazra লেখকের গ্রাহক হোন
    স্মৃতিচারণ | নস্টালজিয়া | ০৬ আগস্ট ২০২৩ | ৫৭৮ বার পঠিত
  • ছোট ছোট পটচিত্রে আমি নিজের মতন করে ঢেঁকিকে খুঁজেছি। এ আমার পুরনো কাপড় জুড়ে জুড়ে বানানো সাধের এক সাধারণ বালাপোষ। 

    দৃশ্যগুলি ফিরে ফিরে আসে, গায়ে ওম মাখিয়ে নিদ্রা যাই, স্মৃতির ভেতরে নড়া চড়া করে কতো কাহিনীর আলো ছায়া, মনে ভাবি, কী আশ্চর্য! কোথায় লুকিয়ে রাখা ছিল এতো পুরনো সব মুখ? 
    যেন থিয়েটারের দৃশ্য বয়ে চলে, পর্দা ওঠে, পর্দা নামে, নেপথ্যে ঢেঁকির পাড় ভাঙ্গে, 
    এই নাটক পুরুষ বর্জিত। কাঠের কাঠামো জুড়ে এক বিস্তারিত নারীকথা।। 

    ঢেঁকি বলতেই আমার চোখের সামনে আমাদের পাড়ার উন্তির মায়ের মুখখানি মনে পড়ে।  বাঁকুড়া জেলার অনুন্নত পাড়ায় আমাদের পাকাবাড়ির পাশে তাদের খোড়ো চাল।  
    উন্তির মা মুড়ি ভাজতো, ঢেঁকিতে কুটতো ধান ভেনে চাল, চাল চেপ্টা করে চিঁড়া। ছোলা ভেনে বুটের ডাল। 

    গ্রীষ্মের দুপুরে ঢেঁকির ঢকঢক  ঢকঢক করে সেই আওয়াজ, মনে হত যেন আমার হৃদপিণ্ডের সাইলেন্সারটাই বুঝি কেটে গেছে।

    আমি আমাদের বাড়ির পাঁচিলের ওপরে বসে দেখতাম, উন্তির বৌদি ঢেঁকিতে পাড় দিচ্ছে আর ওর মা ফোগলে হাত ঢুকিয়ে দানাশস্য কেমন সুচারু সময়ের মাপে দিচ্ছে আর বার করছে। 

    ঢেঁকি ছিল ওদের উপার্জনের অস্ত্র। ওদের উঠোনের পেয়ারাতলে গোয়াল ঘরের পাশে কাঁঠাল কাঠের বল্লা দিয়ে বানানো সেই ঢেঁকি। 

    একবার সেই ঢেঁকির গর্তে সাপ ঢুকে বসেছিল গোল পাকিয়ে।  ঢেঁকির দাঁত জড়িয়ে।  দাঁত নাকি নাক?  একটাই তো। সেই নাক যখন চলে তখন সে ঘোঁত ঘোঁত করে।

    নাক চাইতে নরুণ পেলেম তাই রে নাই রে না। 

    তা সেই নাক নরুণের মতো ধারে না কাটলে কী হবে, ভারে সে কাটে দিব্যু। ধানের খোলস কেটে বেরিয়ে আসে ধান, ছোলার খোলস কেটে বুটের ডাল। ধান চ্যাপ্টা করে চিঁড়া, চাল কুটে চালগুঁড়ো, ডাল কুটে বেসন।  

    পাঁচিলে বসে বসে দুই ঝুঁটি ছোট্ট খুকি চোখ গোল গোল করে দ্যাখে কাঠের নাকের জ্যান্ত ম্যাজিকখানা। দেখে মেয়ে বৌদের পায়ের দম,  সুরুৎ করে ঢুকিয়ে দেওয়া আর বার করে নেওয়া হাতের কী দারুণ ক্ষিপ্রতা। 

    ছোট ছিলাম তখন বুঝিনি ঢেঁকি আসলে ছিল সে সময়ের শ্রমজীবী মহিলাদের স্বনির্ভর রোজগারের একটা আশ্রয়। দারিদ্র্যকে পরাজিত করে গরম ভাত জোগাড় করার স্পর্ধা। 
    লক্ষ্মীর হাত, লক্ষ্মীর পা, ধানছড়া, গুঁড়ির আলপনা। কৃষিজ সভ্যতার সপ্রতিভ পতপত পতাকা। 

    তবুও উন্তির বাঁজা বৌদি খোঁটা খেত ওর শাশুড়ির কাছে, 
    অকম্মার ঢেঁকি, ঢেঁকি গতরী,  ঢেঁকিপেটকি দুখভাতারি, ঢেঁকি তোর পেটে পেটে এতো, এইসব  বলে।  

    লবান্নের দিনে ঢেঁকি আর ঢেঁকি নেই, সে যেন ঢেঁকুরখানি রাজরানী, 
     গায়ে সিন্দুর, জামদানি, 
    মুখে গুয়াপান, চিড়া কুটে, চাল কুটে ফলারটি সাজান। 

    যেমন পুকুরে চান সেরে ভিজে টুপ টুপ চুলে সিন্দুরের ফোঁটা পরে উন্তির আঁটকুড়ী বৌদি,  পেটে পেটে এতো চাল, ধান, ডাল, তবু সে হাতড়ে বার করে নেয় সবাই। কোটাকুটি সার। শূন্য বিষন্ন দীঘল মনখারাপি গহ্বর। সব শস্য অন্যের, শুধু শ্রমটুকুন জুড়ে ঢকঢক ঢকঢক হাহাকার । 

    হতো ঢেঁকি পুজো, গোয়াল ঘরের পাশে যেখানে ঢেঁকিরানীর অধিষ্ঠান সেইখেনে। গামলিভরা চিড়া খই,  গাছের ফলপাকুড়, গাভির দুধের সরেস দই সব মিলে আনন্দের উচ্ছব।
     আজ তার কাজ নেই, তার কাঁখে পাড় দিয়ে ধুড়ুপ ধুড়ুপ নেই, আজ তার বিশ্রাম, আজ তার ছুটি। 
    তাকে ঘিরে নতুন কাপড় পরে মেয়েরা গান গায়, 
    এক এক দেশে এক এক রকম সেই গানের হরফ, এক এক সুর, এক এক আবেগের বাখানি। 

    চিড়া কুটি বারা আনি 
    সতীনে করেইন কানাকানি 
    জামাই আইলে ধরেন বেশ 
    পাড়ের ঘায়ে পরাণ শেষ। 

    আমাদের পাড়ায় ছিল দুই সতীনের ঘর, আইনুল মিস্তিরি, তার দুই বউ, বড় বউ বাঁজা, সে ঢেঁকিতে পাড় কোটে, ছোট বউ হাড় গিলগিলে, বাচ্চা বিইয়ে বিইয়ে চোখের কোণে কালি, সে বসে বসে গর্ত'র ভিতরে ধান গোঁজে, চালের গুড়ি বার করে। এই কাজ করতে করতে সারাদিন দুই সতীনে ঝগড়া করে, এ ওর মরণ কামনা করে। তারপর মিস্তিরি খেটেখুটে এলে বড় বউ ভাত বেড়ে পাখা নেড়ে তাকে খেতে দেয়, ছোট বউ স্বামী নিয়ে দোর দেয়, ছোট বউয়ের একটু বড় ছানাগুলো বড় বউয়ের গা ঘেঁষে ঘুমায়, তার শুকনো মাই চোষে। 
    ঢেঁকি চুপচাপ সব দ্যাখে আর মিটিমিটি হাসে। 

    ও ধান ভানি, ভানি রে 
    ঢেঁকিতে পাড় দিয়া, 
    আমি নাচি, ঢেঁকি নাচে 
    হেলিয়া দুলিয়া। 
    ধান বেচিয়া কইতে পারি 
    টিয়া রঙের কিনব শাড়ি 
    কত মজা করব সখী 
    বাড়ি বাড়ি গিয়া, 
    নাকের নোলক, চুলের ফিতা 
    কিনব গলার মালা, 
    কানের পাশা, রেশমি রুমাল
    আরও হাতের বালা, 
    কিনব জলে ভাসা সাবান
    গায়ে মাখি করব সিনান 
    বেড়াইমু যে ঝামুর ঝুমুর 
    মল খাড়ু পায় দিয়া, 
    ও ধান ভানি, ভানি রে 
    ঢেঁকিতে পাড় দিয়া। 

    সেই ঢেঁকির পাড় দিতে দিতে মেয়েটি স্বপ্ন দ্যাখে স্বনির্ভরতার, দ্যাখে তার সাধপূরণের সব টুকু সে মেটাচ্ছে নিজেরই রোজগারের টাকায়, আহা!  কী অদ্ভুত আনন্দ সেই রেজকির ঝনাৎঝন শব্দে। 

    ঢেঁকি নাচে ধাপুর ধুপুর 
    নাচে নাচুক সই, 
    পায়ে নাচে সোনার নূপুর 
    আর কি নাচে সই, 
    আর আমার শরীর নাচে 
    মন তো নাচে না, 
    পোউষ পিঠার গুড়ি কোটা 
    সুখের যন্ত্রনা।
    নাকে আমার নোলক নাচে, 
    গালে আমার টোলক নাচে, 
    মন তো নাচে না। 
    দিন যায়, দিন আসে 
    তেরো পাবণ বারো মাসে, 
    পোউষ মাসে পিঠা পার্বণ 
    পিঠা খাওয়ার ধুম, 
    রাত্রি জেগে বানাই পিঠা, 
    নষ্ট করে ঘুম, 
    ওই শোনা যায় বাড়ি বাড়ি 
    ঢেঁকির ওই আওয়াজ, 
    মাথায় খোঁপার ফুল নাচে, 
    কানে আমার দুল নাচে 
    মন তো নাচে না, 
    পৌউষ পিঠার গুড়ি কোটা 
    সুখের যন্ত্রণা। 

    গতর ভেঙে ভেঙে পড়ে, যে মেয়েকে তুমি বলো লক্ষ্মী, তার ছাপ পড়ে তোমার ঘরে গেরস্থালির আনাচে কানাচে, সেই পা ঢেঁকির পাড় দিতে দিতে অবসন্ন, ঘরে গুঁড়ির আল্পনা, পোউষ পার্বণের পিঠের পুরের মতন মুখ বুজে অন্দরমহলবর্তিনী হয়ে থাকে তার না দেখা, না বোঝা, না গুরুত্ব পাওয়া মনটি।

    সিলেটের বাখানিতে পরিত্যক্ত এক ঢেঁকির উপাখ্যান যেন এক বিগত যৌবনা নারীর কথাই।  

    সাধের ঢেঁকি পড়িছে বড় 
    বেকায়দায়, 
    কত ধান ভাঙাইলে বেটি 
    তবুও কেউ তো খুশি নয়, 
    সাধের ঢেঁকির ঘরটি জুড়ে 
    কোনোমতে আছে পড়ে, 
    মেশিন কলের কপাল বড় 
    আর ঢেঁকিরে কে নাচায়, 
    জাঁতার সাথে কানে কানে 
    দুখের কথা সে শোনায়। 

    হালুই গানে ঢেঁকির কথা, ঢেঁকি যেন এখানে একজন প্রাণবন্ত অস্তিত্ব, সে তার মনের কথা বলে পাড়াপড়শিকে ডেকে ডেকে। 

    বর বর বাস্তের বর 
    হাল চাল দিয়ে গোলা ঘর, 
     ওরে ঢেঁকির ভাই কিস্যা কথা 
    করি নিবেদন, 
    ওরে ঢেঁকি রে কাঁদিয়া বলে 
    আমি সবার খাটি, 
    সকল কাজ বাগাইতে লোকে 
    আমায় মারে লাথি।

    লাথি মারলেও সে কাজ করে মুখ বুজে, যুগিয়ে চলে ঘরের ক্ষিদের অন্ন। তাই কি সে সত্যিকারের অন্নপূর্ণা? 

    কাতি যাইলো আগোন পইলো
    খেতত পাকে ধান 
    ধান ঘাটুম, বারা ভুকাম রে 
    ও ধান ভানিম রে, ভানিম রে 
    ঢেঁকিতে পাড় দিয়া, 

    সারাদিনের শ্রম আর এই প্রখর রোদে ঢেঁকিটাকে মনে হচ্ছে যেন কী সাংঘাতিক ভারি, তবু্ও কি অবসর আছে?  কাজ সারতে সারতে তাই গান বেঁধে দুক্ষু কথা কয় সে নিজের সাথেই। 

    ধান ধান আমন ধান 
    উলিয়া দে সখী, ঢেঁকিকল দিয়া। 
    ফাল্গুন মাস্যা কাড়াইল্যা রোদে, 
    বসিয়া তুলি রে বারা, 
    বাইশ মণ নোয়ান, বিশ মণ চুরু 

    যে মেয়ে ঢেঁকি পাড় দিতে বাবুঘরে কামিন খাটতে যায়, তার শরীর আর চলে না, পা ধরে আসে, ধরে আসে কোমর, টাকা টুকুন তাও নায্য মেলে না। 

    মূল্যের বাড়ি ধান ভানিতে পাও লাইগ্যা যায়,
    মূল্যের বাড়ি ধান ভানিতে কমর লাইগ্যা যায়, 
    দ্যান বাবু টাকা দ্যান, বাড়ি চইল্যা যাই। 

    সব ধান আবার নরম নয়, বড় শক্ত তার খোসা, এমন ধান ঢেঁকিতে কুটে চাল করতে মেয়েগুলির যেন জান বেরিয়ে যায়। পোয়াতি শরীরে ধান ভানতে আর ঢেঁকি পাড় দিতে দিতে শরীল যেন ধরে আসে, সেই দুক্ষ সে পদ্যে বেঁধে রাখে, সেই পদ্য চলে, ছড়ায় দুখি মেয়েদের মুখে মুখে, 

    দিম না তিম কী, 
    যোশুয়া ধানের আকাড়ি ঝাড়া 
    আচ্ছা পাহাড় খাঁই, 
    এক ছাম ধান ভুকাইতে মোর বেলা গড়ায়েঁ যায়, 
    ও মুই কাচুয়া ছাওয়া পেটত নিছু রে। 
    পোড়া পেটে ধান খাটিয়া দিনু টুর টুর করিয়া, তোরা ঢেঁকি পাড়ত রে 

    এই একসাথে দল বেঁধে ঢেঁকিতে ধান ভানা যেন এক শ্রম যাত্রা, এক নারী ঐক্য, নিজের শ্রমে নিজের জায়গাটুকু চিনে নেওয়া। 

    আমরা বারা বাঁধতে যাবো সাঁনঝা 
    একসাথে, চল ঠেরাই ওর হাটে, 
    সানঝা সুঁদরি ঢেঁকি পাড়ায়, 
    উঠছে ঢেঁকি, পড়ছে গাড়ায়, 
    উলিয়া দেছে বড়া বহিন হাতেতে, 
    তাই না দেখে ঢ্যামনা ছঁড়া লটর পটর করে রে, এই সুঁদরি আনবে সে তার ঘরে রে, 

    বেলা গেল কুটা সারা 
    তাড়া কর রে তুলহা পাড়া 
    রশিয়া মালিক কিপটা দেখ রে দরমাহা মিটাতে, 

    সারাদিন পরিশ্রম করে তার মজুরি টুকুন দিতেও নারাজ মালিক, গানে গানে ফুটেছে সেই বেদনা। 

    এতো উপকার করেও কিন্তু ঢেঁকির কপালে অপবাদের যে শেষ নেই তার প্রমাণ কিছু প্রবাদ। প্রবাদে বলে, ব্যাটা বুদ্ধির ঢেঁকি অর্থ্যাৎ অপদার্থ, আবার ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে, অর্থ্যাৎ যতই উন্নতি হোক, স্বভাব যায় না মলে। 
    তবুও ঢেঁকিকে জাতে উঠিয়েছেন কিন্তু আমাদের ব্রহ্মার মানসপুত্র নারদ মুনিই। 
    আমাদের লোকগাথায়  আছে, নারদের বাহন হলো ঢেঁকি। 

    আহা তিনি কিনা মা সরস্বতীর ছেলে, হাতে তাঁর বীণা আর বাহনে তাঁর ঢেঁকি।  তাঁকে যাকে বলে পুরাকালের সাংবাদিক, ত্রিলোক জুড়ে তিনি ঘুরে বেড়ান এখানকার বার্তা ওখানে ছড়িয়ে, লাগান বাজান করে। 

    ঢেঁকি ঘিরে মহিলাদের এই যে জোট, ধান শস্য চালাচালি, খবরের আদান-প্রদান, কানাকানি, কান ভাঙানি, সেই নারদীয় কলহ আর মিত্রতা রঙ্গের নিমিত্তে বুঝি ঢেঁকির এই স্বীকৃতি। 

    সুতরাং যুগে যুগে প্রযুক্তির উৎকর্ষ নতুন নতুন যন্ত্রসভ্যতার হাত ধরে যতই জায়গা করে নিক না কেন, প্রজাপতি ব্রহ্মা আর মা সরস্বতীর মানস পুত্রের হাতে ঢেঁকির অক্ষয় স্টিয়ারিংটা ঠিকই ধরা থাকবেই।।
    ©তনিমা।।  

    #গীতিঋণ-গীদালি
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • স্মৃতিচারণ | ০৬ আগস্ট ২০২৩ | ৫৭৮ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • চন্দ্রা মুখোপাধ্যায় | 2402:3a80:1cd7:fbe5:583b:96c1:9a7:ae9f | ০৮ আগস্ট ২০২৩ ১৫:০০522263
  • লেখিকা "গীদালি" চ্যানেল থেকে কয়েকটি গান শুনে ব্যবহার করেছেন স্বীকৃতিসহ..এজন্য ধন্যবাদ জানাই।তবে শুনে লেখার কারণে ২/১ সাধারণভাবে অপ্রচলিত উচ্চারণ একটু ঠিক করে দেবার প্রয়োজন আছে.. 
    ১. ধান ঘাটোং, বারা ভুকাওং রে
    ২.ফাল্গুন মাইস্যা...ওশেয়া তুলি রে বারা।( ওশানো  মানে সিদ্ধ করা)
    ৩.মুল্লের বাড়ি ধান
    ৪.আকাড়ি জারা
    ৫.কাচুয়া ছাওয়া পিটিত নিছু রে ( পিঠে বেঁধে নিয়ে) 
    ৬.বারা বানতে যাবো সানঝা...চলটে রাইহোর হাটে( রাইহো মান আইহো..মালদার একটা জায়গা)
    ৭.রসিয়া মালিক কিপটা দরমাহাতে।
    আশা করি পাঠকের বুঝতে কিছুটা সুবিধা হবে। 
    নমস্কার। 
  • kk | 2607:fb91:142e:498e:db20:b1ac:3ad6:757f | ০৮ আগস্ট ২০২৩ ১৮:৫২522272
  • এই লেখাটা আমার খুবই ভালো লেগেছে। ছোটবেলায় গ্রামের বাড়ি গেলে ঠাকুমা-দিদিমা স্থানীয় আত্মীয়াদের মুখে একটা কবিতা শুনতাম -- "ধান ভানি ঢেঁকুস-কুটুম"। সেই কবিতার বাকি লাইন গুলো আজ আর মনে নেই। কিন্তু পরিবেশটার কথা মনে পড়লো।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। পড়তে পড়তে প্রতিক্রিয়া দিন