ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ভ্রমণ  ঘুমক্কড়

  • নামদাফা এবং – ৫ 

    লেখকের গ্রাহক হোন
    ভ্রমণ | ঘুমক্কড় | ৩০ জানুয়ারি ২০২২ | ৭৩৬ বার পঠিত | রেটিং ৪ (১ জন)
  • | | | | ৫  | | | |
     
     
    শেষপর্যন্ত নোয়া ডিহিংকে বিদায় জানাবার সময় এসেই গেল। কালকে রাত্রের মেঘ টেঘ মুছে ফেলে আজকের সকাল একদম তকতকে পরিস্কার। আকাশের নীল রঙ আর রোদ্দুরের সোনারঙ বুকে ধরে ঝিকিমিকি বইছে নদী। তাহলে এখানে আর হুলক গিবনের সাথে দেখা হলই না। ক্যাপড লাঙ্গুরদের সাথেও না। চটপট তৈরী হয়ে কোনোমতে একটু খেয়েই  আবার যাই নদীর ধারে, সকলেই তৈরী হতে ব্যস্ত তাই বসার জায়গাগুলো ফাঁকা শুনশান। সারথী দুজন গাড়িতে মালপত্র তুলতে ব্যস্ত। নদীর পাশে দাঁড়িয়ে  গেস্ট হাউসের পিছনের পাহাড়ের দিকে চোখ তুললে চোখে ধাঁধা লেগে যায়, সবুজের কত্ত শেড রে! কোত্থেকে একটা বাঘের মত ডোরাকাটা প্রজাপতি এসে সামনে ওয়াউড়ি লাগিয়ে দেয়, একবার এখানে বসছে আরেকবার ওখানে। এদেরকেই বোধহয় টাইগার বাটারফ্লাই বলে,  বুনানকে জিগ্যেস করতে হবে। গতকাল বিকেলে আমরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসে যখন গল্প করছিলাম তখন এক দম্পতির সাথে আলাপ হয়েছিল, ওই ফরেস্ট বাংলোর একতলায় এসেছেন। লোনাভালার এক  বৃদ্ধাশ্রমে থাকেন, তিনসুকিয়াতে ওঁদের জমিবাড়ি সব দান করে  উত্তরপূর্ব ভারত ঘুরতে বেরিয়েছেন। 



    ওঁরাই বলছিলেন কাল বা আজ যদি দেবানে বৃষ্টি হয় তাহলে মায়োদিয়া পাসে বরফ পড়বে। তখন আমরা হ্যা হ্যা করে হেসে ফেলেছিলাম, ডিসেম্বরের শুরুতেই বরফ! এ কি তাওয়াং নাকি? মায়োদিয়া পাস নামটা মাথায় ঢুকে গেল অবশ্য। আলাপ আলোচনা চলতে থাকে মায়োদিয়া পাসটা ঘুরে আসা যায় কিনা। পরশুরাম কুন্ডও আলোচনায় আসে। তা  মাতৃহত্যার পাপে হাতে জমে যাওয়া কুঠার  খসাতে পরশুরাম তো বোধয় গোটা হিমালয় জুড়েই দৌড়ে বেরিয়েছিল, হিমাচল প্রদেশেও আছে পরশুরাম কুন্ড, উত্তরাখন্ডেও এক আধটা থাকতে পারে। কাজেই ওই আলোচনায় খুব একটা উৎসাহ দেখাই  নি। কিন্তু পরে জানতে পেরেছি পরশুরাম কুন্ডের উপরের পাহাড় থেকে ব্রহ্মপুত্রের বিনুনীর মত গঠনটা দেখা যায়। তিব্বতের ইয়ারলুং সাংপো নদ হিমালয়ের গহীনে অতি গভীর সাংপো গিরিখাতে ঝাঁপিয়ে নেমে  অরুণাচলে ঢুকে নাম নেয় সিয়াং খানিকটা এগোতেই  দিহাং বা দিবাং নদী  এসে যোগ দেয় সিয়াঙের সাথে, সামনেই ছিল লোহিত নদী, দৌড়ে এসে বলল মানুষ নেই জন নেই খালি ধু ধু মাঠ আর থোকা থোকা জঙ্গল, একা যেতে পথ হারাই যদি,  চল চল একসাথে যাই। তিনটেতে মিলে বিনুনী পাকিয়ে ছোঁয়াছুঁয়ি খেলতে খেলতে আসামের ডিব্রু শোহাকিয়ায় এসে এক হয়ে যায়, নাম নেয় ব্রহ্মপুত্র। 

    আমরা ডিব্রু শোহাকিয়াতেও যাব, কিন্তু সে কালকে, আজকের গন্তব্য রোয়িং। তার আগে রাস্তায় পিস প্যাগোডা দেখে যাওয়া। সেই ডিব্রুগড় এয়ারপোর্ট থেকেই আমি গাড়িতে ড্রাইভারের পাশের সিটে বসে আসছিলাম। সিটবেল্ট বাঁধতে না হলে এটাই আমার সবচেয়ে পছন্দের জায়গা যে কোন জার্নিতে।  দেবান থেকে  বেরোবার সময় মিস্টার পার্ফেক্ট  আমায় বললেন ‘যা তো পেছনে বোস।‘ অগত্যা মন দিয়ে পাশের গাছপালা দেখতে দেখতে এগোই, কালও রাত্তিরে ওই ২৫০ ডেসিবেলের নাসিকাগর্জন জাগিয়ে রেখেছিল   অর্ধেক রাত অবধি। স্লিপ অ্যাপনিয়া একটা সিরিয়াস সমস্যা, লোকে ঠিক করে চিকিৎসা করায় না কেন কে জানে! এইসব ভাবতে ভাবতে প্রায় চোখ বুজে আসে আর কি ...  নদীগর্ভে নেমে হেলেদুলে পার হয় গাড়ি, আজ জল কিছু বেশী আছে, জানলা দিয়ে কয়েকবিন্দু জল গাল নাক ছুঁয়ে বলে যায় ‘আবার এসো কিন্তু’। চুপিচুপি বলি আসবো আসবো,  তোমার ধার দিয়ে দিয়ে হেঁটে উজানে যাবো দাফা হিমবাহ অবধি। নোয়া ডিহিং মুচকি হাসে, জানে পারবো না অতদূর যেতে, বলে না কিচ্ছু,  ঝিকমিকিয়ে চলে যায়। দেখতে দেখতে  মিয়াও আসে, ফোনে টুঁই টুঁই করে নোটির বন্যা নামে।  ঢোকার সময় হয় নি, আজ  মিয়াও গেটের ছবি নেওয়া হবে। 


    এক অর্বাচীন প্যাগোডা - নামসাই অরুণাচল 

    ২০১০ এ উদ্বোধন হওয়া নামসাইয়ের গোল্ডেন প্যাগোডা বা পিস প্যাগোডা হল বার্মিজ স্টাইলের বৌদ্ধমন্দির, কোংমু খাম নামেও পরিচিত। ওয়ার্ল্ড ত্রিপিটক ফাউন্ডেশান  কোংমু খামকে  ভারতের প্রথম আন্তর্জাতিক ত্রিপিটক সেন্টার হিসাবে গড়ে তুলছে। ২০ হেক্টর জায়গা জুড়ে ছড়ানো এক মস্ত চত্বর, মূল প্যাগোডার চারপাশে বাগান, বসার জায়গা, ঠিক ঢোকার দরজার পাশেই স্যুভেনিরের দোকান।  আমি আর দেবাশীস ঢুকে এটা সেটা নেড়ে দেখি। দেবাশীস টুকটাক কেনাকাটি করে, একটা মুড়ির গুঁড়োর বিস্কুট, ভারী ভাল খেতে। বেচারা একটাই বড় প্যাকেট কিনেছিল  বাড়ির জন্য।  তা সে  ফেরার আগেরদিন রাতে  ‘তুমি কিনলে আমাদের কেনো দেখালে না? কেনোও? একটা পার্ট কেটে দাও আমার বাড়ির জন্য নেব’ শুনতে শুনতে শেষে  পুরো প্যাকেটটাই দিয়ে দিল বা বাধ্য হল বলা যায়।  বিস্কুটের প্যাকেট আবার অমনি কেটেকুটে  দেওয়া যায় নাকি! কিন্তু সেসব তো পরে। আপাতত  ২০১০ এ তৈরী হওয়া অর্বাচীন এই প্যাগোডার ভেতরে  কিইবা দেখব! আমি বরং ঘুরেফিরে বাগানটা দেখি। বাইরে এসে  দেবাশীসের সাথে বসে বসে আগামী বর্ষার পরে ১২০০ বছরের পুরানো গুম্ফা দেখতে যাবার প্ল্যান করি।  বাকীরাও আসে একে একে শুধু দুজন ছাড়া। 

    আমরা গাছের ছায়ায় বাঁধানো বেদীতে বসে বসে গল্প করি, দেবাশীস আর রূপম  এদিক ওদিক ইতিউতি দেখে , যদিই ওঁরা এসে যান। শেষে  ফোন করা হয় এবং  জানা যায় ওঁরা প্যাগোডার ভেতর দিয়ে গিয়ে সম্পূর্ণ উল্টোদিকের গেটের কাছের কোন একটা কফিশপের পাশে অপেক্ষা করছেন। কি আশ্চর্য! কেন?  নাকি নামার সময়ে জিগ্যেস করায় গাড়িচালক  ওইখানেই গাড়ি রাখার কথা বলেছিলেন। অতঃপর প্রায় মিনিট দশেক হেঁটে ওঁরা ফেরত আসেন,  চালকের উপরে  মৃদু   তর্জন গর্জনসহ গাড়িতে ওঠেন। রোয়িঙের সূর্যাস্ত দেখা নাকি  আজীবন স্মৃতি হয়ে থাকে, অতএব কোথাও একটা দুপুরের খাবার খেয়ে নিয়ে তাড়াতাড়ি চলি আমরা। চালকের পাশের সীটে বসার সুবিধে হল চলতে চলতে টুকটাক নানারকম গপ্প শোনা যায়। একটা বড়সড় ব্রীজে উঠি, দুদিকে নীল জলের বিস্তার। মাঝে মাঝে চরা, পাশ দিয়ে ঘুরে আবার অতল নীল। করিমভাই বলেন এইটা দিবাং নদী, সেএইই পরশুরাম কুন্ড থেকে এসেছে, সামনে গিয়ে ব্রহ্মপুত্রের সাথে মিশে গেছে। আমি একটু ধন্ধে পড়ে যাই, কারণ আজকেই গুগলে দেখছিলাম ১৯৫০ এর ভূমিকম্পে  লোহিত নদীর থেকে পরশুরাম কুন্ড সৃষ্টি হয়েছিল। পরে ফিরে এসে ভাল করে ঘেঁটে দেখছি  পরশুরাম কুন্ডের উপরের পাহাড় থেকে ব্রহ্মপুত্রের বিনুনী ফর্মেশান দেখা যায়। সেক্ষেত্রে লোহিত, দিবাং, সিয়াং তিনজনেই পরশুরামের আশেপাশে ঘোরাঘুরি করেছে বটে। 


    দিবাং নদী 
     

    গাড়ির ভেতরে তখনও যাকে বলে থমথমে আবহাওয়া, ফলে  ব্রীজের মাঝামাঝি একটু  ধার ঘেঁষে গাড়ি দাঁড় করাবার প্রস্তাবে কেউই পাত্তা দিল না, আমিও আর জোর না করে চলতি গাড়ি থেকেই কয়েকটা ছবি নিলাম। শুধু নদীগুলোকে ভাল করে দেখতেই অরুণাচলে আরো কয়েকবার আসতে হবে। রোয়িঙে আমরা থাকব দিবাং ভ্যালী জাঙ্গল ক্যাম্প, হেল্প ট্যুরিজমের মাধ্যমে এঁদের সাথে যোগাযোগ বুকিং ইত্যাদি করা যায়। জাঙ্গল ক্যাম্প  মালিক রূপমের ব্যক্তিগত বন্ধু, আমরা যে দুটো গাড়িতে ঘুরছি সেই দুটোও ওঁরই। শুনেছি উপরে নীচে ঘন কমলালেবু বাগান ও ব্যক্তিগত মালিকানার জঙ্গলের মধ্যে পাহাড়ের ধাপে গোটা চারেক বাংলো আর দরকারমত খাটানো হয় এমন কয়েকটা তাঁবু নিয়ে তৈরী এই ক্যাম্প, প্রতিটা বাংলোর সাথে দিবাংভ্যালী ফেসিং ব্যালকনি বেতের চেয়ার টেবিল দিয়ে সাজানো। বেলা পৌনে চারটে নাগাদ পৌঁছে যাই আমরা ক্যাম্পের চত্বরে। গাড়ি থামে, মালপত্র নামে ধীরেসুস্থে, আমরাও নামি।  বাঁদিকে কয়েক ধাপ সিঁড়ি উঠে মুখোমুখী দুটো বাংলো, মাঝের কাঠের মাচায় সামনের গাড়ির মালপত্র নামিয়ে রাখা হচ্ছে একটা দুটো,  পেছনে গাছের ফাঁক দিয়ে দেখছি কমলা রঙের সূর্য দিগন্তরেখার দিকে  ঢলেছে।  তাহলে আমরা থাকব  ৯০ডিগ্রি কোণে যে অন্য দুটো  বাংলো সেখানে। 

    এখানেও কাঠ বাঁশ কঞ্চি ইত্যাদি দিয়েই তৈরী বেশ বড় ঘর,  দুটো আলাদা খাট আর তাতে শুধু যে ছত্রী লাগানো তাই নয় আবার মশারী টাঙিয়ে গুটিয়ে তোলা আছে ওপরে। সেই যে আগেকার দিনে বড়সড় জমিদার বাড়ির ছবিটবিতে যেমন দেখা যায় সেইরকম। প্রথমেই ব্যাকপ্যাক আর আর কাঁধের ব্যাগ নামিয়ে ব্যালকনির দরজা খুলি, পেছনে  কমলালেবু গাছের বন কিন্তু তা পেরিয়ে নীচের উপত্যকা খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। আর ... আর এইটা উত্তর দিক তাই এখনই বেশ অন্ধকারমত হয়ে আছে। একটু নিরাশ লাগে, যাহ আমাদের গাড়িটা আগে এলে আমরা ব্যালকনিতে বসেই সূর্যাস্ত দেখতে পেতাম। ইতোমধ্যে দেবাশীস এসে আমার স্যুটকেসটা ঘরের সামনে বসিয়ে গেছে, ভেতরে ঢুকিয়ে বাথরুমের দরজা খুলে উঁকি দিই। আহা দেবানের পরে এ একবারে রাজকীয় বাথরুম, আবার বাড়ির মত মেঝের জল সরানোর  জন্য রাবার লাগানো ওয়াইপারও আছে দেখি। সকালে যদিও স্নান করেই বেরিয়েছি তবু পরিচ্ছন্ন বাথরুম দেখে আরেকবার স্নানের ইচ্ছে হয়, কিন্তু না আগে সূর্যাস্ত দেখা তারপর বাকীসব। খাবারঘর সংলগ্ন বারান্দা থেকে নদী ও সূর্যাস্ত সবচেয়ে ভাল দেখা যায় রূপম বলেছিলেন। 

    বাইরে যেন কিসের একটা গোলমাল শোনা যাচ্ছে, চাপা গলায় কেউ যেন কাউকে খুব বকছে! খানিকটা অবাক হয়েই কাঁধের ব্যাগটা ঝুলিয়ে বেরোই। ওরে বাবারে ... বাইরে  পুরো  বজ্রবিদ্যুতসহ ঝঞ্ঝাবাত্যা,  অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি। আমাকে  দেখেই মিস্টার পার্ফেক্ট চাপাগলায় গর্জে ওঠেন ‘এই তোমরা। তোমরা কেন আগে আগে এসে খারাপ ঘরে উঠে এসেছ? ওইদিকে সূর্যটা দেখতে পাও নি? এখানে অন্ধকারে মুখ গুঁজে থাকো এখন।“  যাব্বাবা এ আবার কি!?  যাঁরা আগে ছিলেন তাঁরা সামনের ঘরে ঢুকে গেছেন এর মধ্যে আমাদের কী ভূমিকা? নাহ সেসব উনি শুনতে রাজী নন। মিসেস পার্ফেক্ট  রূপমকে ডেকে কথা বলতে বলেন। নাহ তাও তিনি বলবেন না, তিনি কাউকেই কিছুই বলবেন না। আমরা, আমরাই দায়ী আমরাই ভুগব। সে নাহয় হল, কিন্তু আমরা খাবারঘরে গেলেই তো দেখতে পাব সূর্যাস্ত। এত কাঁইকিচিরের কী আছে রে বাপু! ধুত্তেরি নিকুচি করেছে, আমি বিরক্ত হয়ে মাচা থেকে নামি, পায়ে পায়ে এগোই খাবারঘরের দিকে। তথাকথিত ‘ভাল ও লোভনীয়’ বাংলোর কাছাকাছি  পৌঁছেছি কি পৌঁছাই নি পেছন থেকে বজ্রপাতের মত মিসেস পার্ফেক্টের গর্জন ভেসে আসে ‘রূপঅম এদিকে শুনে যান’। সেই গর্জনে গোটা ক্যাম্পচত্বর স্থানু হয়ে যায়, শুধু রূপম কুলকাল  এগিয়ে যান। 

    ‘আমাদের কেন খারাপ ঘর দেওয়া হয়েছে’ অভিযোগের উত্তরে সেই ভাল ঘরে উঠে যাওয়া দম্পতি সানন্দে ঘর বদলে নেওয়ার প্রস্তাব দেন, রূপম ঝটপট মালপত্র শিফট করানোর ব্যবস্থা করেন, দুটো ঘরই বদলানোর প্রস্তাবও দেন। কিন্তু মিস্টার পার্ফেক্ট ওই পাশেরটাতেই থেকে যাবেন, কোত্থাও শিফট করবেন না জানান। পুরো ব্যপারটার কদর্যতায়  আমার বড় অপ্রস্তুত লাগে, লজ্জা করে। বারেবারে সরি বলি রূপমকে, দেবাশীসকে। দেবাশীস হাত নাড়ে ‘ছাড়ো তো। তুমি সরি সরি করছ কেন?’ এই ঘরের ব্যালকনি থেকে সূর্য শুধু নয় একফালি উপত্যকা আর ফিতের মত দিবাং নদীও দেখা যাচ্ছে। তাড়াতাড়ি বাথরুমে ঢুকি, খাবারঘর সংলগ্ন বারান্দা ডাকছে। রুম্মি সেই গর্জনের পর থেকেই একেবারে চুপ করে গেছেন,  ব্যালকনিতে বসে আছেন। খাবারঘর থেকে চা আর বিস্কুট দিয়ে গেছে,  খেতে খেতে  ওদিকে যাবেন  কিনা জিগ্যেস করায় রুম্মি জানান নাহ যাবেন না। সামান্য দু’একটা প্রশ্নেই বেরিয়ে আসে আরো অনেক কিছু। মেয়েদের সেই চিরন্তন একপক্ষকে খুশী করতে গিয়ে অপরপক্ষের  কাছে অতি খারাপ হয়ে যাওয়ার গল্প। চুপ করে শুনি,  বিশ্বাস করি  একজন মানুষের প্রতিটা কাজের দায়িত্ব তার নিজেরই, কিছুই বলি না অবশ্য। মনটা আরো অন্ধকার হয়ে যায়। 
     

     
    খাবারঘর পেরিয়ে কাঠ ও বাঁশের টানা বারান্দা। ক্যামেরা ফোন ইত্যাদি বাগিয়ে সবাই উপস্থিত সেখানে। আর সামনে দিগন্তজোড়া ক্যানভাসে চলছে রঙে রেখায় ছবি আঁকা। কমলা থেকে লাল হয়ে মেরুণ হয়ে সূর্য টুপ্পুস করে নেমে যায়, ডুব দেয় দিবাঙে। বিশাল উপত্যকা ছড়িয়ে থাকে রূপোলি থেকে  নীল হয়ে পার্পল হয়ে যাওয়া দিবাঙের ধারাগুলো বুকে নিয়ে, কমলালেবু গাছেরাও সেজে ওঠে লাল কমলার নানা শেডে, সূর্য ডুবে যাওয়ার পরে আরো পঁয়তাল্লিশ মিনিট কি একঘন্টা পশ্চিম আকাশ ধরে রাখে রঙের ছোপ। ওখান থেকে নেমে ভেতরের প্রাঙ্গনে এসে দাঁড়াই, খাবারঘরের জানলা দরজা দিয়ে লালে লাল  আকাশ আর মাথার উপরে পেট্রোল ব্লু আকাশ ধীরে ধীরে মুছে নেয় মনের উপর লেপ্টে থাকা  কালো  অন্ধকার। 
    ‘কলুষ কল্মষ বিরোধ বিদ্বেষ হউক নির্মল,হউক নিঃশেষ-‘ সুচিত্রা মিত্রর জোরালো বলিষ্ঠ গলার সাথে মিশে যেতে থাকে  আমার গলা।   
      
    সূর্যাস্তের এক ঘন্টা পরে - রোয়িং 
    | | | | ৫  | | | |
  • ভ্রমণ | ৩০ জানুয়ারি ২০২২ | ৭৩৬ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • সমরেশ হালদার | 150.129.66.9 | ৩০ জানুয়ারি ২০২২ ২৩:১২503301
  • বেশ তো এগোচ্ছে। রোয়িং শহরটার জন্য দুএকটা লাইন বরাদ্দ করা যেত। আর, ব্রিটিশ আমলের বাংলো, তার কাঠের খাবার ঘর, আর মিষ্টি কুকুরছানাও একটা জায়গা আশা করেছিল। তবুও, বেশ সুন্দর হয়েছে বর্ণনা। ভালো, এবার চলুন যাই মায়োপিয়া পাস।
  • | ৩১ জানুয়ারি ২০২২ ০৯:৩৬503328
  • আসবে আসবে,  সবই আসবে। :-)
  • Swati Ray | 117.194.36.71 | ৩১ জানুয়ারি ২০২২ ২০:০০503356
  • এইটা এখানে পড়তে বেশি ভাল লাগছে দেখছি . ছবিগুলো খাপে খাপ বসেছে , লেখাটা আরো ভাল লাগছে। 
  • dc | 122.164.225.108 | ৩১ জানুয়ারি ২০২২ ২০:০৩503357
  • ছবিগুলো অসাধারন আর লেখাটাও খুব ভালো এগোচ্ছে। 
  • kk | 2600:6c40:7b00:1231:f983:a058:5c8a:b4b9 | ৩১ জানুয়ারি ২০২২ ২১:১৫503371
  • হ্যাঁ,আমারও খুব ভালো লাগছে লেখা আর ছবি। ডোরাকাটা প্রজাপতির একটা ছবি দেখতে পেলে বেশ হতো।
  • | ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ১১:৪৬503422
  • স্বাতী, হ্যাঁ ফেসবুকে তো ছবি জায়গামত দেওয়া যায় না, সেইজন্যইখানিকটা এখানে তুলছি। তবে ফেসবুকে ইন্টার‌্যাকশান বেশী হয়। 
     
    বাকীরা, থ্যাঙ্কু। 
  • Ranjan Roy | ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ১২:৪৪503424
  • সত‍্যি, বাঘমার্কা প্রজাপতির ছবি দেখতে পেলে!
  • reeta bandyopadhyay | ২১ মার্চ ২০২২ ২৩:০১505153
  • এই লেখা অনন্তকাল চলুক।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খারাপ-ভাল প্রতিক্রিয়া দিন