বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  ধারাবাহিক  উপন্যাস  শনিবারবেলা

  • চার রঙের উপপাদ্য - গ্রীষ্ম-২

    ইন্দ্রাণী
    ধারাবাহিক | উপন্যাস | ১১ ডিসেম্বর ২০২১ | ১৫৪৯ বার পঠিত
  • ছবি - ঈপ্সিতা পাল ভৌমিক


    গ্রীষ্ম-২

    শেষ বিকেলে বোলতার চাক ভাঙতে পঙ্কজ বাগানে এল । কয়েক ফালি রোদ এখন ওর মাথায় আর পিঠে পড়ছে- জ্বালা করছিল ঘাড়, পিঠ। আজ রবিবার। ছুটির দিনে বাড়িতে তিষ্ঠোতে পারে না- অফিসে গেলে তাও দিন কেটে যায় এক রকম; উইকএন্ডে পরাশর , শান্তারা ওদের বাড়ি যেতে বলেছে বার কয়েক -সুবিমল লিপিও। পঙ্কজের ইচ্ছে করে না। উপরোধে,পরাশরের কাছে গিয়েছিল একদিন সন্ধ্যের দিকে, কিছুক্ষণ পরেই বিরক্ত লাগতে শুরু করল- সেই এক কথা, এক রসিকতা, এক প্রশ্ন; তার মধ্যে সুবিমল আর পরাশরের কথা কাটাকাটি শুরু হয়ে গিয়েছিল। দেশে ইলেকশনে কী হবে সেই নিয়ে প্রথমে হাল্কা কথা, তারপর তর্কাতর্কি ঝগড়ার দিকে টার্ন নেয়; পরাশর তেড়ে যায় সুবিমলের দিকে- লিপি মাঝখানে পড়ে ম্যানেজ করে শেষ অবধি। বন্ধুদের আড্ডায় এই সব হরবখত হয়েই থাকে, বিশেষত ইলেকশন নিয়ে যখন তেতে আছে সবাই। পঙ্কজ তর্ক করতে ভালোবাসত-হয়ত কথা বলত একটু বেশিই- তীক্ষ্ণতার বদলে ভার থাকত সেই সব কথায়- ছাত্রজীবনে রাজনীতির সঙ্গে যোগ ছিল, ফলে নিজস্ব চিন্তা আর উৎসাহ নিয়েই যোগ দিয়েছে তর্কে - লিপি বলত, "আরো বলুন, পঙ্কজদা", সুবিমল বলত- "জ্জিও বস, পড়ানো উচিত ছিল তোমার।" ইদানিং যেন সব কিছু অর্থহীন লাগছে; অবয়বহীন এক শূন্যতার সামনে দাঁড়িয়ে পঙ্কজ, যার শুরু দেখা যায় না, শেষও নেই সম্ভবত - যেন এক অতল খাদ, ঘোর কুয়াশা উঠে আসছে সেখান থেকে । পঙ্কজ দুই হাত নেড়ে নেড়ে কুয়াশা সরানোর চেষ্টা করে, কুয়াশার ঘনীভবনে তার চশমার কাচে জলবিন্দু জমা হয়, সে বারে বারে চশমা খোলে, কাচ মোছে, ফোকাস করার চেষ্টা চালায় আর একটি চারপেয়ে প্রাণী স্রেফ তার ল্যাজ নেড়ে নেড়ে নস্যাৎ করে দিতে থাকে সব- বৃহত্তম গণতন্ত্রের পার্লামেন্টারি ইলেকশনের ফোরকাস্ট, একজিট পোল, ডান আর বাঁ দিক ঘেঁষা রাজনীতির চাপানউতোর- সব, সব, সব। বন্ধুদের বাড়ি অ্যাভয়েড করছিল পঙ্কজ- কেউ যেতে বললে, অফিসের প্রচুর চাপ, গোটা উইকএন্ড জুড়েই কাজ করতে হবে বলে কাটিয়ে দিচ্ছিল ইদানিং; অথচ বাড়িতে থাকলেই ঘরের আনাচে কানাচে বনময়ূরের ঝরা লোম, সোফায় বনময়ূরের গায়ের গন্ধ, চিবোনো খেলনা, খাওয়ার বাটি পঙ্কজকে অস্থির করে তুলছিল- নিজের ছায়াকে বনময়ূর ভেবে চমকে উঠছিল, সামান্য আওয়াজেই মনে হত ঐ বুঝি বনময়ূর হাঁটছে, আর কাঠের মেঝেয় নখ ঠোকার আওয়াজ উঠছে - ঠকঠক ঠকঠক ঠকঠক ... তখন ঘর থেকে বাইরে পালিয়ে এলে আবার রোদের তাতে পুড়ে যেতে হচ্ছিল ইদানিং-

    এবারের গ্রীষ্ম শুরু থেকেই তার যাবতীয় পরাক্রম দেখাতে সক্রিয়। এত বছরে পঙ্কজ সূর্যের এই তেজ দেখেনি এই দেশে। পাড়ায় ঢোকার মুখে কাঠের প্যানেলে বুশফায়ারের ডেঞ্জার রেটিংএ কোড অরেঞ্জ দেখাচ্ছে গত দু সপ্তাহ। আজ এখন রোদ পড়তে বাগানে এসেছে। পরশু অফিসে বেরোনোর সময় বাগানের দিকের দরজায় চাক তৈরি হতে দেখেছিল। তারপর অফিস ফেরত স্প্রে কিনে এনে উইকএন্ডের অপেক্ষায় ছিল। এখন স্প্রের ক্যান হাতে নিয়ে বোলতার চাক নিরীক্ষণ করছিল পঙ্কজ- প্রাইমারি স্কুলের ছাত্রর তৈরি কাগজের ফুলের মত লাগছিল বোলতার বাসাকে- একটু ভারি কাগজ দিয়ে ছ কোণা খোপের পাশে খোপ জুড়ে জুড়ে তৈরি করা ফুল যেন। এই মুহূর্তে কোনো বোলতা দেখা যাচ্ছিল না আশে পাশে। দূর থেকে স্প্রে করতে শুরু করল পঙ্কজ। বার চারেক স্প্রে করার পরে, পরের স্টেপ নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত ছিল , তারপর হাতে প্লাস্টিক জড়িয়ে এক টান মারল চাকে- যেন ফুল ছিঁড়ছে। সঙ্গে সঙ্গে, সেই ছ কোণা কাগজের ফুল থেকে বেরিয়ে এল গোটা দশ মিনিয়েচর ফাইটার প্লেন- "আঃ আঃ" ককিয়ে উঠল পঙ্কজ- প্লাস্টিকের ওপর দিয়ে হুল বসিয়েছে এক ফাইটার। জ্বালা ব্যথায় অস্থির হয়ে মুহূর্তের জন্য কিছু চেয়েছিল ও, চেয়েছিল- কেউ আসুক, একবার ওর হাত ছুঁয়ে আহা বলুক এই মুহূর্তে । তারপর নিজেই খারিজ করে দিয়েছিল সে চিন্তা। ওদিকে কিছু বোলতা মাটিতে ঝরে পড়ছিল টুপটুপ করে, তাদের দেহ নিঃসৃত ফেরোমন সম্ভবত কনেক্ট করছিল বাকিদের- তারা পাক খাচ্ছিল মাথার ওপর, উড়ে আসছিল পঙ্কজের দিকে। এলোপাথাড়ি স্প্রে করছিল পঙ্কজ - যেন একের পর গুলি করছে ওর নিজের যাবতীয় অতীত, বর্তমান আর ভবিষ্যৎ কে।





    -লাফটার কানেকট্স পীপল
    -এ আর নতুন কথা কী হল?
    -নতুন কথা নয় বলছ? তুমি জানতে?

    লিপি উত্তর দিল না। অফিস বেরোনোর জন্য রেডি হচ্ছিল। কথা শুরু হলেই দেরি হয়ে যাবে। চটপট তিনজনের লাঞ্চবক্স প্যাক করছিল। তিন্নি বাথরুম থেকে বেরোলেই মা মেয়ে বেরিয়ে পড়বে। তারপর মেয়েকে স্কুলে ড্রপ করে অফিস যাবে লিপি। সুবিমলের অফিস ডাউনটাউনে- পাবলিক ট্রান্সপোর্টে সুবিধে। তিন্নি বেরোলে স্নানে ঢুকবে সুবিমল ; এখন ল্যাপটপে খুটখাট করতে করতে কথা বলছিল - টীম বিলডিং এর কী ওয়র্কশপ অ্যারেঞ্জ করার দায়িত্ব পাওয়ার কথা- সেই নিয়ে এক্সাইটেড ; নানা আইডিয়া মাথায় কিলবিল করছে, এই নেট ঘাঁটছে, তো এই একে তাকে জিগ্যেস করছে; লিপিকে চেঁচিয়ে ডাকল-
    -আরে বলবে তো?
    -কী বলব?
    -লাফটার দিয়ে কানেকশনের আইডিয়াটা কেমন?
    -নতুন কিছু নয় তো বললাম
    - সে তো লাফিং ক্লাব ট্লাব হয়েছে অনেক, তাই বলবে তো? আরে এটা অন্যরকম- টীম বিল্ডিং, বুঝলে লিপি? খুব ইন্টারেস্টিং।
    লিপি কথা বাড়াল না, পিঠে ব্যাগ নিয়ে তিন্নি এসে দাঁড়াতেই বেরিয়ে পড়ল দুজনে। আর ল্যাপটপ নিয়ে বাথরুমে ঢুকে গেল সুবিমল।

    অফিস চত্ত্বরে ঢুকে ছায়া খুঁজতে সময় লাগে লিপির।কারপার্কে গোটা কয়েক ঝাঁকড়া গাছ- ইতস্তত ছায়া। সেই সব গাছের নিচে গাড়ি রাখার অলিখিত কম্পিটিশন চলে। লিপি অজান্তেই নাম লিখিয়েছে কম্পিটিশনে। চোখ মুখ সুঁচোলো করে অখণ্ড মনোযোগে ছায়া খুঁজছিল সে। টয়োটা থেকে মুখ বাড়ালো সুধা- "এই তো এখানে পার্ক করো।"
    -আর তুমি?
    - আমি শেড লাগিয়ে নিচ্ছি।
    - না না ঠিক আছে। তুমি এখানেই পার্ক কর। আমি অন্য জায়গা দেখে নিচ্ছি।
    - আরে একদিনই তো। কাল আর ছাড়ব না।
    লিপি হেসে ফেলল।
    গাড়ি লক করে অফিসে ঢুকেছিল লিপি। সুধা হাঁটছিল পাশে পাশে - সামান্য হাঁফাচ্ছে।
    -শরীর খারাপ লাগছে?
    ফিক করে হাসল সুধা-" চার মাস চলছে। সকালে এই সময়টা একটু টায়ার্ড লাগে। তোমার ক'টি? সরি। আমার জিগ্যেস করা উচিত হচ্ছে না। "
    লিপি তিন্নির কথা বলছিল। সুধা বলছিল," আমিও মেয়ে চাই। মেয়েই হবে, দেখো।" নিজের পেটের ওপর আলতো হাত বুলিয়েছিল তারপর।
    - তুমি তো ল্যাবে। এত সব কেমিক্যাল নিয়ে কাজ করা কি ঠিক হচ্ছে? কথা বলেছ হেল্থ অ্যান্ড সেফটির সঙ্গে?
    -বলেছি। কিছু কিছু কেমিক্যাল ইউজ করতে পারব না। বাকি কাজে অসুবিধে নেই। গ্যাব্রিয়েলা, আমাদের সুপারভাইজর। সেই মত কাজ অ্যালট করে।
    -কোনো অসুবিধে হলে বোলো।

    পাশাপাশি হাঁটছিল ওরা। ধুলোভরা সুপ্রাচীন কার্পেট মাড়িয়ে সরু সিঁড়ি বেয়ে উঠল দুজনে। তারপর লিপি ঢুকল নিজের কিউবিকলে। সুধা চলে গেল ল্যাবে- ওর আলাদা অফিস নেই। কিউবিকলের জানলা দিয়ে বাইরে দেখ্ল লিপি। দেখছিল, ঝাঁকড়া গাছের তলায় কী ভাবে স্পীড কমিয়ে কমিয়ে একদম দাঁড়িয়ে পড়ছে গাড়িরা। সকালের আলো সেই সব গাড়িদের শরীরে প্রতিফলিত হয়ে লিপির চোখে পড়ছিল। সকালকে দুপুর মনে হচ্ছিল লিপির। মনে হচ্ছিল, এই গ্রীষ্মে সুভাগা যেন সূর্যমন্ত্র উচ্চারণ করেই চলেছেন আর পাথরের দেওয়াল, লোহার দরজা আগুনে আগুনে গলিয়ে সূর্যদেব দর্শন দিয়েছেন; সুভাগা যথারীতি দুহাতে মুখ ঢেকে বলছেন , হে দেব রক্ষা কর, সমস্ত পৃথিবী জ্বলে যায়। সূর্যদেব বয়সোচিত কারণেই কানে শোনেন না। ফলত সুভাগার প্রার্থনায় যখন তাঁর আলো ক্ষীণ হয়ে আসার কথা, তিনি তাঁর জ্যোতি বাড়িয়েই চলেছেন- সে আলো মানুষের চোখে সহ্য হচ্ছেনা। লিপি ব্লাইন্ড নামিয়ে দিল।





    বুল্টিকে একটা পার্সেল পাঠানোর ছিল। মলে যেতে হয়েছিল সেই সব কারণে। কাজ সেরে ফিরে আসছে, হঠাৎ মনে হল, কী হবে এখন বাড়ি ফিরে ! একটা কোণা খুঁজে বসে পড়ল পঙ্কজ। পরের উইকএন্ডেও তাই । পরপর রবিবার গুলো জমজমাট শপিং মলে টানা বসে থাকতে শুরু করল পঙ্কজ। ছুটির দিনে ভীড়ে ভীড়ে গমগম করে দোকানপাট, বিউটি পার্লার, আইসক্রীমের স্টল, ক্যাফে, ফুডকোর্ট। উজ্জ্বল, হাসি খুশি মানুষ , হাতে বাহারি ব্যাগ , অথবা উপচে পরা ট্রলি ঠেলে ঘুরে বেড়াচ্ছে- এদের মধ্যে একজনও এই মুহূর্তে পঙ্কজের মত খাদের সামনে দাঁড়িয়ে নেই? নাকি গোটা পৃথিবী জাস্ট দুটো ভাগে ভাগ হয়ে গেছে- এ' এক আলোর জগত, আনন্দ, হাসি , স্বাস্থ্যের দীপ্তি ফুটে ফুটে বেরোচ্ছে, আর এক মলিন দুনিয়া কোথায় মুখ লুকিয়ে বাদুড়ের মত ঝুলে আছে, সেই ম্লান, অন্ধকার জগৎ থেকে পঙ্কজ যেন ভুল করে এখানে এসে পড়েছে-

    এখন রাত হয়েছে অনেক। পঙ্কজের চোখের সামনে শপিং মলের আলো নিভে যাচ্ছিল এক এক করে। ঘড়ঘড় শব্দে শাটার নামছিল, কোথাও ভাঁজ করা পেল্লায় দরজা দু দিক থেকে টেনে এনে তালা পড়ছিল এবং কিওস্কগুলি ঢেকে যাচ্ছিল ঘন নীল ভারি কাপড়ে। কিম্ভূতকিমাকার অন্ধকারের স্তূপের তলায় ঝলমলে পশরা চাপা পড়ে যাচ্ছে- অনেকটা মৃত্যুর মত। ফুড কোর্ট, গ্রসারি এখনও খোলা। খদ্দেরের সংখ্যা কমে আসছে। কর্মচারীরা ন্যাতা আর স্প্রে নিয়ে বাসি খাবারের গন্ধ মুছছে, ঝকঝক করে তুলছে কাউন্টার, ছোটো কিচেনের চিমনি; শাটার পড়বে একটু পরেই। পঙ্কজের বাঁ দিকে মাছের দোকান বন্ধ হবে এখন, স্টীলের বড় বড় ট্রের ওপর জমে থাকা পুরোনো বরফ পরিষ্কার করছিল টুপিপরা তরুণ। বেলচা প্রথমে বরফ স্পর্শ করছিল তারপর বরফ কেটে ধাতব তল ছুঁয়ে হাওয়া কাটছিল - দুটো আওয়াজের ফারাক করতে পারছিল পঙ্কজ। নিজের হৃদপিণ্ডের ওপর ঐ রকম একটা আঘাত চাইছিল সে। চাইছিল একটা বেলচার ঘা পড়ুক; এতদিনের জমাট বাঁধা বরফের চাঁই -যেমন ভারি তেমনই ঠান্ডা- কেউ বেলচা দিয়ে তাকে সরিয়ে নিক, প্রাচীন বরফ স্তূপ হয়ে পড়ে থাকুক রাস্তায়, তারপর গলে যাক-

    গ্রীষ্মের রাতে নদীর দিক থেকে হাওয়া বাতাস খেলে যায় শহরের বুকে। মল থেকে বেরিয়ে তিনবারের চেষ্টায় সিগারেট ধরালো পঙ্কজ। পার্কিংএর দিকে হাঁটল। গাড়ির দরজা খুলতে যাবে, যেন হাওয়া ফুঁড়ে বেরিয়ে এল এক মূর্তি- ফাটা জুতো, মলিন জামা প্যান্ট, গোঁফ দাড়ি, লম্বা চুল- মুখ থেকে ভকভক করে দুর্গন্ধ বেরোচ্ছে, একহাত পঙ্কজের দিকে এগিয়ে দিয়েছে, অন্যহাত পিছনে। পঙ্কজের হৃদয়ের বরফ আতঙ্কের উত্তাপে গলতে শুরু করেই আবার জমাট বেঁধে গেল। পার্কিং লটের আলোয় লোকটার চোখের দিকে তাকিয়ে তার মনে হল, যে নিরানন্দ জগত থেকে আগত একমাত্র মানুষ মনে হচ্ছিল নিজেকে , এ লোক সেই জগতেরই কেউ। এই আলোয়, এই নিয়ন সাইনের নিচে যাকে মানায় না। পঙ্কজের সামনে দাঁড়িয়ে হাত পাতল সেই লোক। সিগারেট চাইল। তারপর যেন হাওয়ায় অন্য হাত ঘুরিয়ে এনে পঙ্কজের সামনে ধরল ছোটো শীর্ণ চারাগাছ, বেগনে সাদায় একটা ফুল ধরেছিল সম্ভবত সকালে, এখন শুকিয়ে গেছে।

    -নেবে তুমি?

    পঙ্কজ স্পষ্ট দেখল, টবের গায়ে মলেরই এক দোকানের প্রাইস স্টীকার সাঁটা। চুরি করে এনেছে নাকী? সামান্য দ্বিধা করেছিল প্রথমে তারপর নিজের জগতের দ্বিতীয় এক বাসিন্দার সঙ্গে মোলাকাত হওয়ার স্বস্তিতে টবটা নিয়েই নিল পঙ্কজ; স্টার্ট দিল গাড়িতে। পার্কিং লট থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিল গাড়ি, আর রিয়র ভিউ মিররে ছোটো হতে হতে মিলিয়ে গেল লোকটা।





    অফিস যাওয়া এখন নেশার মত। ফ্রী ওয়ে থেকে বাঁ হাতি একজিট নিলেই বড় পুতুল থেকে মেজ পুতুল, সেজ পুতুল, শেষে ছোটো পুতুল বেরিয়ে আসে; এতই আলাদা সে দুনিয়া- লিপির নিজেকে অ্যালিস মনে হয় । সেই জগতে কালচে ইঁটের ছোটো ছোটো বাড়ী, দোকান, ধূ ধূ মাঠ জুড়ে চোরকাঁটা; বন্ধ ক্যাফে, পুরোনো গ্যাস স্টেশনের পাশ দিয়ে ক্রীক বয়ে যায়; সকালে ছায়া খোঁজার কম্পিটিশন চলে পার্কিং লটে আর কাঁটাহীন ঘড়ির পাশের সিঁড়ি বেয়ে ওঠানামা করে লোকজন। সাদা ওভার-অল, আই প্রটেকশন, নীল নাইট্রাইল গ্লাভস্ পরে প্রডাকশন থেকে স্যাম্পল নিয়ে আসে মাইকেল। "আর্জেন্ট, "ভেরি ভেরি আর্জেন্ট"- গ্যাব্রিয়েলা বলে যায়। সে পিছন ফিরলে লরেল মুচকি হাসে, চোখ মটকায়। স্টীভ হাই তোলে, ঘাড় রগড়ায়, স্ট্রেচ করে- কাল লেট নাইট গেছে। স্টীভ যযাতির গল্প জানে না , অথচ বুড়ো হওয়াকে ভয় পায় মারাত্মক; সে ভয় এমন পর্যায়ে, যে লিপি পর্যন্ত টের পেয়ে যায় - বুড়োদের কী মারাত্মক ঘেন্না করে স্টীভ। লিপি ওকে মেটলারের টলারেন্স চেক করতে বললে, ও রাউলের ঘাড়ে দোষ দেয়- "রাউল কাজ জানে না, সত্যযুগের ট্রেনিং, মেটলার ইউজ করতেই জানে না, ভুলভাল করে রেখেছে।" তারপর পিঠ রগড়ায় খানিক। মেটলার ছেড়ে কম্পিউটারে বসে, চাকরি খোঁজে আর বিড়বিড় করে -"লাইফ সাকস ম্যান। লাইফ সাকস। এই করে করেই বুড়ো হয়ে যাব না কী! আই ওয়ান্ট মোর মানি, মোর মানি।" গলার জোর এমনই লিপির কিউবিকল অবধি পৌঁছে যায় সেই সব কথা। স্টেফানি বাফারের পিএইচ চেক করে, মোবাইল ফেজ ফিলটার করে আর অবিশ্রান্ত কথা বলে যায়-'আই ওয়ান্ট ভেকেশন , আই ওয়ান্ট সী বীচ, অনলি সী বীচ। নাথিং এলস্। নো মানি, নো ম্যান, নাথিং।' হৃদয়রাম এখানে হার্ডে। কোয়ারেন্টাইন স্লিপ টাইপ করে। প্রিন্ট নেয়। কমলা রঙের চৌকোনা, আঠালো স্লিপ।একের পর এক। মেরি চুং প্যাকেজিং থেকে ল্যাবে আসে- পেপার ওয়ার্ক খোঁজে। হাঁসফাঁস করে। এরমাঝে লিপির সেলফোন অবিরাম বাজে। ফিলিং লাইন নাম্বার থী নট ওয়ার্কিং। টেম্পারেচর ডাউন। ক্যাথি খুরখুরিয়ে হাঁটে-হাতে পেন,কাগজ-'লটো? লটো? এইটি মিলিয়ন ডলার টু নাইট। এইটি মিলিয়ন।' একটা গাঢ় নীল কাগজে একরাশ সংখ্যা-জোড়ায় জোড়ায়। ক্যাথি পাঁচজোড়া সংখ্যা বেছে নেয়। এ'সপ্তাহের পাওয়ার বল-'হু উইল প্লে?ইয়ু?ইয়ু?' লিং ফ্যাসফেঁসে গলায় গল্প শোনায় ভিয়েতনাম যুদ্ধের। হাই স্টুলে বসে। পা দোলায়। স্লীভস গুটিয়ে ক্ষত দেখায়।

    এই জগতে লাঞ্চরুম অপরিচ্ছন্ন। দাগধরা সিঙ্ক, মাইক্রো-ওয়েভের ভিতরে মরচে ধরা। এখানে ফ্রিজের দরজা খুললেই ধাক্কা দেয় বাসি গন্ধ- লিপির খিদে মরে যায়। লাঞ্চ আওয়ারে ইতস্তত ঘুরে বেড়ায় লিপি। সাপোর্টিং ফ্রেমের ওপর ঈষৎ ঢালু ছাদের নিচে র মেটেরিয়াল ওয়ারহাউজ- সেখানে সাবানের গন্ধ, কখনও জোয়ানগুঁড়োর,কখনো মোমপোড়া গন্ধ । ক্যাফের পাশে রেলস্টেশন; টানেলের ওপারে পুরোনো পেট্রল পাম্প। স্টেশনের বেঞ্চে, পশ্চিমের রোদ মুখে বসলে পরিত্যক্ত ওয়ারহাউজ- স্প্রে পেইন্টিংএ সবুজ নারকেল গাছ আর নীল সমুদ্র। তলায় কালো রঙের খুলি, হাড়-গোড়। টানেলের দেওয়ালে বেগুণী, সবুজ, লাল, কালো অক্ষর আর ছবি- ইয়েলো ব্রিক রোড ধরে হেঁটে যাচ্ছে ডরোথি, টিনম্যান,স্কেয়ারক্রো আর লায়ন, উইজার্ড অফ অজের চাপ দাড়ি, মাথায় বেসবল ক্যাপ। তলায় লাল টকটকে মোটা হরফ-'ফাক ইয়ু পোলিস', তার নিচে, 'ডেভিড ওয়াজ হিয়ার'- যেন কেউ রেগে উঠেই চুপ করে গেল, চোয়াল শক্ত করে চোখ বন্ধ করল, হাত মুঠো করল শক্ত করে-

    - সুধা, আর ইয়ু তামিল?
    -শ্রীলঙ্কান তামিল আমি , লিপি। রেফিউজি হয়ে এসেছিলাম।





    বাগানের সেই সব মৃত বোলতারা আকাশে উঠে হলুদ কালো মেঘ ফর্ম করেছে- পঙ্কজের মনে হচ্ছিল। মোবাইলে এমবার অ্যাটাকের ওয়ার্নিং এসেছে কাউন্সিল থেকে- আশেপাশের জঙ্গলে আগুন লেগেছে। ঘন ধোঁয়ার স্ফীত কুন্ডলী ব্যাংএর ছাতার অবয়ব নিচ্ছিল, আকাশ বদলে দিচ্ছিল অত্যন্ত দ্রুত- নীল থেকে ধূসর হতে হতে কালো; হলুদের ছিটে ক্রমশ কমলা হয়ে গেল- সেই আকাশের তলায় পঙ্কজের পড়শিরা জড়ো হচ্ছিল এক এক করে। সাদা ছাই এর সঙ্গে পোড়া পাতা, বাকল, গুটিয়ে ছোটো হয়ে যাওয়া মৃত শুঁয়োপোকারা উড়ে আসছিল। জ্বলন্ত কাঠের টুকরো উড়ে আসতে লাগল তারপর। কাঠের ছাদ বা ডেকে পড়লেই আগুন ধরে যাবে- সতর্ক থাকুন- মোবাইলে ওয়ার্নিং আসছিল ঘন ঘন। ছ'তলা বাড়ির হাইট থেকে ড্রোন দিয়ে ছবি নিলে এ'দৃশ্য শিয়োর উল্কাপাতের মত লাগবে। ঘোর কমলা অ্যাপোক্যালিপটিক আকাশের তলায় জলের হোস হাতে অপেক্ষা করছিল পঙ্কজের পড়শিরা- যেন এ'গ্রহের দখল নিতে পাইরোকিউম্যুলাস ফাটিয়ে নেমে আসবে ভিনগ্রহীর দল - আর এ'পাড়ার লোকজনের ওপর যেন তাদের প্রতিহত করার দায়িত্ব বর্তেছে। " ইয়ু হ্যাভ টু প্রটেক্ট ইয়োর প্রপারটি, ম্যান"- অ্যালেন, বব , ডাফনি ওকে বলছিল। বাগানের জলের কলের মুখে লাগানো পাইপ ময়াল সাপের মত পড়ে ছিল, তার প্যাঁচ খুলে দু হাতে ধরে দাঁড়িয়ে রইল পঙ্কজ। ওর কোনো অপেক্ষা ছিল না।





    তিন্নিকে নিয়ে বাড়ি এল লিপি। সুবিমল ফিরে এসে ল্যাপটপ খুলে বসেছে।

    - ভাত বসিয়ে দিয়েছি। চট করে স্টারফ্রাই করে নেব খাওয়ার আগে। না কি রুটি খাবে? হ্যাঁ লিপি? আজ এত দেরি হল? তোমার ফোন পেলাম না। বিজি বলছিল।পঙ্কজদাদের ওদিকে বুশফায়ার , টেনশন হচ্ছিল। ভাবছিলাম, আমিই তিন্নিকে নিয়ে আসব কী না-

    এক আশ্চর্য জগৎ থেকে ফিরেছে লিপি, ভিয়েতনাম যুদ্ধের সেনানীর সঙ্গে চা খেয়েছে, সুধার পালিয়ে আসার গল্প শুনেছে - কাল আবার তিন্নিকে স্কুলে পৌঁছে দিয়েই আবার ঐ জগতে ঢুকে পড়বে - এই সব বুড়বুড় করছিল মনে। সুবিমলের কথার তোড়ে কিছুই বলা হয়ে উঠছিল না- সুবিমলের অফিসের কানেকটিং ইভেন্ট, এ শহরের বাড়ির দামের ওঠা পড়া, রুটি না ভাত, চিকেন না মাটন-যেন গোটা দুনিয়ায় এর বাইরে আর কিছুই ঘটে নি, ঘটছে না। যেন সুধা তাড়া খেয়ে এ দেশে এসে লুকোয় নি, যেন স্টীভ বার্ধক্যকে ভয় পায় না, যেন ভিয়েতনামের যুদ্ধই হয় নি- গোটা জগতে অনন্তকাল শুধু সুবিমল, তিন্নি আর সে স্টারফ্রাই খেয়ে চলেছে-

    গলা খাঁকরে কথা চালিয়ে গেল লিপি-
    -বাড়িতে ফোন করেছিলাম, কথা হল অনেকক্ষণ
    -কী খবর? তোমার মা প্রেশারের ওষুধ খাচ্ছেন নিয়মিত? দেয়াল টেয়াল আর দুলছে না তো?
    - বলল তো খাচ্ছে।
    -গুড। আচ্ছা সেই যে কানেক্টিং ইভেন্টের কথা বলছিলাম না, সেই যে লাফটার কনেক্টস...
    -শোনো
    -কথাটা শেষ করতে দাও-
    -বলো না। শুনছি। আমার এক মিনিট লাগবে বলতে। কাল থেকে তুমি তিন্নিকে নিয়ে ফিরো। পারবে?
    -পারব, কিন্তু কী হল? দেরি হবে ফিরতে?
    -কাল থেকে গাড়ি নেব না। ট্রেনে যাব, আসব।
    -কেন? প্রবলেমটা কী ?
    লিপি মুখে বলল, স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই বলল- "এ’ কলকাতার মধ্যে আছে আরেকটা কলকাতা, হেঁটে দেখতে শিখুন- কী বুঝলেন, সাহেব?" মনে মনে বলল- ফাক ইয়ু লাইফ, ফাক ইয়ু।


    (ক্রমশঃ)
  • ধারাবাহিক | ১১ ডিসেম্বর ২০২১ | ১৫৪৯ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • | ১১ ডিসেম্বর ২০২১ ১৯:৩০501973
  • লেখা ত বটেই, ছবিটা থেকেও চোখ সরাতে পারছি না। 
  • বিদিশা দাশ | 182.66.148.110 | ১১ ডিসেম্বর ২০২১ ২০:১৩501977
  • এতো বর্ণ এতো বিবর্নতা এতো সপ্রাণ মূমূক্ষা--কতো আর সয?
  • সিদ্ধার্থ ভট্টাচার্য | 43.251.179.219 | ১১ ডিসেম্বর ২০২১ ২০:২৭501978
  • এক পর্বের মধ্যে অনেক কিছু, বিভিন্ন স্তর অথচ প্রত্যেকেই প্রত্যেকের সঙ্গে সম্পর্কিত লেখার অনবদ্য বাঁধনে.... 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা খুশি প্রতিক্রিয়া দিন