এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • ভারতীয় বিজ্ঞান - নির্মাণ ও বিনির্মাণ

    ইন্দ্রাণী লেখকের গ্রাহক হোন
    ৩০ মার্চ ২০২৪ | ৩৩৫ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • ভারতীয় বিজ্ঞান - নির্মাণ ও বিনির্মাণ
    রূপালী গঙ্গোপাধ্যায়
    গুরুচন্ডা৯
    দাম ১৫০ টাকা

    অর্থনীতিবিদ ডঃ কৌশিক বসুর একটি লেখা পড়ছিলাম কিছুক্ষণ আগে। গত পঁচাত্তর বছরে আমাদের দেশের যাত্রাপথ নিয়ে কথা শুরু করেছেন, বলছেন, " ভারত গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে বেছে নিয়েছিল, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেছিল, তৈরি করেছিল  উচ্চশিক্ষা ও বিজ্ঞানচর্চার একাধিক প্রতিষ্ঠান। ভুলত্রুটি বিলক্ষণ ছিল কিন্তু সব মিলিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে ভারত যা অর্জন করতে পেরেছিল, তা বিশ্বের উন্নততম দেশগুলির সঙ্গে তুলনীয় ছিল।"  জরুরী অবস্থার কলঙ্কের কথা বলেছেন, ভারতীয় গণতন্ত্রের পরিপক্কতার পক্ষে কিছু গল্প বলেছেন।  উচ্চশিক্ষা প্রসঙ্গে লিখছেন, " দেশ স্বাধীন হওয়ার পরেই একাধিক আইআইটি  এবং বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার পিছনে যে বিনিয়োগ করেছিল ভারত, উচ্চ শিক্ষার পরিসরে মুক্ত চিন্তা, আলোচনা, তর্কের, এবং নতুন কথা বলার যে সংস্কৃতি গড়ে তুলেছিল, তার জোরেই আমরা আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্বচ্ছন্দ  হতে পেরেছিলাম। " তারপর বর্তমানের ভয়াবহ অর্থনৈতিক অসাম্যের কথা বলে স্বল্প পরিসরে কারণ অনুসন্ধানে  গিয়েছেন। বলছেন, কারণ মূলত দুটিঃ ঘৃণা ও মেরুকরণের রাজনীতি ভারতের অর্থনৈতিউক ভিত্তির ক্ষতি করছে। আর দ্বিতীয় কারণটি " এখন ভারতে রাজনীতি করতে আর স্লোগান দিতে যত সময় ব্যয় করা হয়, বিশ্লেষণ, পরিসংখ্যান আর বিজ্ঞানের পিছনে তার অংশমাত্রও দেওয়া হয় না। ... এখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলি যত রাজনীতির কবলে পড়ছে, বাকস্বাধীনতা যত খর্বিত হচ্ছে, ততই বিজ্ঞানকে পিছনে  ঠেলে দিয়ে রাজনৈতিক সুবিধাবাদ তার জায়গা দখল করছে।" পরিস্থিতির ভয়ংকর পরিণাম বলতে গিয়ে একটি গল্প শোনাচ্চ্ছেন কৌশিক বসু। ঘটনা পঞ্চাশের দশকের আমেরিকা, সে দেশে তখন পৃথিবীর আকার নিয়ে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় গোষ্ঠীর বিবাদ চরমে; সেই প্রেক্ষাপটে এক শিক্ষকপদপ্রাথী যুবককে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে- পৃথিবী গোল না সমতল? এবং যুবক জবাব দিচ্ছেন, " আমি দু রকমই পড়াতে পারব।"

    ঠিক এই জায়গাতেই রূপালী গঙ্গোপাধ্যায়ের বইটি আমাদের হাতে এক আয়ুধ হয়ে এলো। বইটি শুরুই হচ্ছে প্রশ্ন করতে শেখা ও  শেখানোর গুরুত্ব নিয়ে। তারপর পাঁচটি পর্বে একে একে আসছে বিজ্ঞানদিবসের থিমের তালিকা যেখানে থিমে ২০১৫ পরবর্তী বদল লক্ষ্যণীয়, বিজ্ঞান শহীদদের কথা( ডঃ দাভলকরের কথা মনে করুন), গবেষণায় অনুদানের অসাম্য, বিজ্ঞানচেতনার অভাব, অপবিজ্ঞানের প্রচার, জাতীয় বিজ্ঞাননীতি, পরিবেশপাঠ, দূষণ, জলবায়ু  বিপর্যয়। 
    তথ্য সমৃদ্ধ, বিশদ, যুক্তিবহুল বলিষ্ঠ লেখা প্রতিটি। রূপালী পরিসংখ্যান সহযোগে  দেখাচ্ছেন, একদিকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দপ্তরের জন্য সরকারি বরাদ্দ কমে চলেছে, অন্যদিকে সরকারি তরফে বিজ্ঞানীদের কাছে বার্তা যাচ্ছে, যে দেশের উন্নতির জন্য 'দরকারি বিষয়ে গবেষণা করতে হবে। যুক্তি সহ লিখেছেন কী ভাবে জি এস টি ও জি ই এমের সাঁড়াশি আক্রমণে দেশের বিজ্ঞানচর্চা কীভাবে বেহাল হয়ে পড়ছে। চন্দ্রযানের সাফল্যে 'অভিভাবকদের' ভাগ বসানোর কথা বলে একই সঙ্গে সংশয় প্রকাশ করেছেন," ভয় হচ্ছে মহাকাশ গবেষণা যে ছবি বানানোর চেয়েও সস্তায় করা যায়-েই তত্ত্বটা না প্রতিষ্ঠা পেয়ে যায়!"। মনে করিয়ে দিয়েছে, যে সব প্রতিষ্ঠানে এই যন্ত্রাংশ তৈরি, তাদের পাওনা মেটানো হয় নি। বইয়ের চতুর্থ পর্বে বিশদে ধরা নীতির সেকাল ও একাল। বইটি শেষ হচ্ছে বিজ্ঞানীর নীতিবোধের কথা বলে, স্পষ্ট বলা হচ্ছে "বিজ্ঞানী তাঁর নীতিবোধ ও দায়বদ্ধতা থেকে সরে আসছেন বলেই অপবিজ্ঞানের চর্চা এত রমরমিয়ে উঠবার সুযোগ পাচ্ছে।" 
     
    কিছু প্রসঙ্গ, কিছু কথা হয়তো ঘুরে ঘুরে এসেছে, কিন্তু লেখকের মতো পাঠকও বিশ্বাস করে অনেক সত্যি কথাই বার বার বলতে হয়, বলে যেতেই হয়।

    আমরা বলে চলব।  রূপালী আমাদের অস্ত্র দিয়েছেন - আসুন, হাতে হাতে তুলে নিই। শান দেওয়া চলুক।

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আদরবাসামূলক প্রতিক্রিয়া দিন