• বুলবুলভাজা  ধারাবাহিক  উপন্যাস  শনিবারবেলা

  • চার রঙের উপপাদ্য - চতুর্থ পর্ব

    ইন্দ্রাণী
    ধারাবাহিক | উপন্যাস | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৭৮১ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • হেমন্ত-৪


    ভিজিটিং আওয়ার শেষ হলে রাস্তায় বেরোল স্মিতা- চা খাবে। জেম্মা একই রকম- ঘোরের মধ্যে যেন। রোজই কানের কাছে মুখ নিয়ে জেম্মাকে ডাকে স্মিতা, একাধিকবার। আজ একবার উঁ বলে সাড়া দিয়েছিল। তারপর আবার যেন ঘুমোচ্ছে। নড়া চড়া নেই- ধীরে নিঃশ্বাস বইছে শুধু। ডাক্তারবাবুর রাউন্ডে আসার কথা ঘন্টা দুয়েক বাদে- কথা বলতে হবে। চা খেয়ে অপেক্ষা করবে স্মিতা।

    শনি রবিবার হলে, বাবলুদা, বৌদি, ঝিমলি, মেজোপিসি কেউ না কেউ আসেই ভিজিটিং আওয়ারে। পল্টনরা কালীপুজোর সময় দিল্লী গিয়েছিল- ফেরেনি এখনও। ঝিমলিরাও কোথায় যেন বেড়াতে যাবে বলছিল। আজ বুধবার, স্মিতা একাই জেম্মার পাশে বসেছিল সারাক্ষণ।
    কাচ দরজা পেরিয়ে সিঁড়ি দিয়ে রাস্তায় নামতে স্মিতার আরাম লাগছিল - এতক্ষণের এসির হিমঠান্ডার পরে ঈষৎ আর্দ্র উষ্ণতা পাতলা কাঁথার মত- ছাড়তে ইচ্ছে করে না। এই সময় কে যেন ডাকল ওর নাম ধরে।

    কোন কোন দিন এমন হয়। হয়তো স্মিতা শাওয়ারের তলায় তখন। জল পড়ছে। কেউ যেন ডাকল স্মিতার নাম ধরে। চেনা গলা- অথচ মনে পড়ে না নাম। সে নিজে ঠিক যে কোথায়- গুলিয়ে যেত তার। বাষ্পে ভরা ঘর, জানলা, আয়না। শাওয়ার কার্টেন, দরজার নব হাতড়ে হাতড়ে কোনো ক্রমে বেরিয়ে আসত সে। ভেজা আঙুলে ফোনের স্ক্রীনে মিসড কল খুঁজত। তারপর নিজেই ফোন করত একে তাকে। কিম্বা হয়ত এমন হয়েছে, রাতের দিকে ট্র্যাশ ফেলছে সে; কাচের ওপর কাচে শব্দ উঠে জাস্ট মিলিয়ে গিয়েছে আর স্মিতার মনে হয়েছে, কে যেন ডাকল -তারপর লম্বা একটা গাছ দেখেছে- রাতের আকাশের রঙের সঙ্গে মিশে দাঁড়িয়ে। মরা চাঁদের ওপর মেঘ ভেসে যেতে দেখেছে তারপর। সঙ্গে সঙ্গে ঘরে ঢুকে ফোন করেছে -" পায়েল, জেম্মা ভালো আছে? কথা বলতে পারবে? একটু দে।" আসলে তখন ওর ছোটোবেলার কথা মনে পড়ত। মা, বাবা, জেঠু, জেম্মা, বাড়ি, পেয়ারাগাছ আর বাড়ির পিছনের পুকুর, যেখানে জলের তলায় সে আর এক শহর দেখেছিল।

    স্মিতাদের বাড়ির পিছনে অনেকটা ঘাসজমি -তাতে নিমগাছ, পেয়ারাগাছ , টগর, বকুল, জবা, কলাবতীর ঝাড়, বুগেনভিলিয়ার অগোছালো বাগান, সে বাগান পেরিয়ে পুরোনো পুকুর, বাঁধানো ঘাট। বুল্টুকাকুর বিয়ের সকালে ঘুম ভেঙে সে পুকুরের দিকে গিয়েছিল সুষমা পিসির সঙ্গে। জলভরা শেষ করে ঘাটের সিঁড়ি ভেঙে বাগানের পথ ধরেছিল বাকিরা, সেই সময় কেউ ডেকেছিল তাকে। স্মিতা পিছন ফিরেছিল, অন্যমনস্ক পিসির হাত ছাড়িয়ে দৌড়ে গিয়েছিল পুকুরের দিকে। হলফ করে স্মিতা বলতে পারে, সে দেখেছিল জলতল যেখানে শেষ হয়েছে ঠিক সেখান থেকেই আর একটা শহর মাথা নিচু করে ঝুলে আছে-একটা গোটা শহর যেন ঐ পুকুরের তলায় ঢুকে পড়েছে। শহরে পাহাড়, তার গায়ে ছোটো ছোটো বাড়ি, চার্চ, ঘোড়সওয়ারের মূর্তি, জলের তলার শহরে তখন রাত, চাঁদ দেখা যাচ্ছে। আরও ভালো করে দেখবে বলে স্মিতা মাথা ঠেকিয়ে দিয়েছিল জলের ওপর। কানে, চোখে নাকে টের পাচ্ছিল কনকনে ঠান্ডা জল- তখনই সুষমাপিসি ঝপ করে স্মিতাকে কোলে তুলে নিয়ে চিল চীৎকার-"কী করছিলি এখানে?" স্মিতা এক ঝলক তাকিয়ে দেখে নিয়েছিল, পুকুরের ওপর আবার কুয়াশা - যেন একটা দরজা নিঃশব্দে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

    বিয়ের পর, বাপের বাড়ির পুকুরের নিচে অচেনা শহরের স্মৃতি তীব্র হয়ে ফিরে এসেছিল। তার নতুন বরকে ঐ পুকুরের মত মনে হয়েছিল স্মিতার - যেন সে যাকে বিয়ে করেছে তার অভ্যন্তরে আর এক মানুষ উল্টো হয়ে ঝুলে আছে, আর পঙ্কজ সেই উল্টো মানুষকে সযত্নে আড়াল করছে স্মিতার থেকে। এই আড়াল করার বেদনা যেন একটা বিবর্ণ মশারির মত গুটিয়ে ঝুলে থাকছে ওদের দুজনের ওপর , তারপর ভার বইতে না পেরে একদিন সটান নেমে আসছে - ক্রমে এই বসবাসেই অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে দুজন।

    আজ এই হেমন্তের সন্ধ্যায় হাসপাতালের সামনের ফুটপাথে সেই কুয়াশা তাকে আবার ঘিরে ধরেছিল- যে কুয়াশা তাকে এই ক'বছরে বারে বারে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে তার শৈশবে আর সে কখনও মা, কখনও বাবা , কখ্নও জেম্মার সঙ্গে কথা বলেছে ফোনে। আজ সে' উপায় ছিল না- তার শৈশবের শেষ যোগসূত্র এই হাসপাতালের চারতলার ঘরে নাকে মুখে নল নিয়ে শুয়ে ছিল তখন। হাসপাতালের কাচ দরজা খুলছিল, বন্ধ হচ্ছিল। নীল আলো জ্বালিয়ে অ্যাম্বুলেন্স এসে থামছিল পরপর। হিম নামছিল ফুটপাথে। সেই হিমের সঙ্গে হাসপাতালের চারতলা থেকে কুয়াশার মত মৃত্যুর ছায়া এসে মিশছিল যেন।

    রাস্তা পেরিয়ে চায়ের দোকান। স্ট্রীটলাইটের আলো পিচরাস্তায় রিফ্লেক্ট করছিল। ফুটপাথে দাঁড়িয়ে স্মিতা সময় দেখল; তারপর পঙ্কজের সময় হিসেব করে, যখন মোবাইল ঢুকিয়ে নিতে চাইছিল ব্যাগে- হাতের রুমাল, মোবাইল দুইই পিছলে গেল ফুটপাথে। নিচু হয়ে কুড়িয়ে নিতে গিয়ে স্মিতা পিঁপড়ে দেখতে পেল - ছোটো কালো এক বিন্দু হেঁটে আসছিল । ফুটপাথের ওপরে সিগারেটের খালি প্যাকেট, তোবড়ানো কোকের ক্যান, চকোলেটের র‍্যাপার - সে সব পেরিয়ে পিঁপড়ে আসছিল। এক মোচড়ানো স্ট্রয়ে উঁকিঝুঁকি দিয়েছিল। তারপর সামান্য থেমে শুঁড় বুলিয়ে নিয়েছিল ফুটপাথের শানে, শুঁড় উঁচু করেছিল। স্মিতার মনে হল, যেন গ্রীট করল তাকে তারপর পাশ কাটাল ।

    ফুটপাথ ঘেঁষে হাইড্র্যান্ট- ধাতবজালের ঝাঁঝরি। পিঁপড়ে হেঁটে গেল-যেন সার্কাসের রোপ ওয়াকিং । সামান্য হাওয়া উঠেছিল হঠাৎ। অথচ সে এঁটে রইল লোহার জালে। শুঁড় বুলিয়ে পরখ করে নিল সামনের পথ। এগোলো আবার। এই সময় ট্র্যাফিক সিগনাল গ্রীন হয়েছিল। সমস্ত গাড়ি স্পীড তুলেছিল একসঙ্গে । হাওয়ার দমকে উড়ে পিঁপড়ে উড়ে এসে পড়েছিল ফুটপাথে । পড়েই ছিল খানিকক্ষণ। স্মিতা অবাক হয়ে দেখল, আবার সে শুঁড় বোলাচ্ছে বাঁধানো ফুটপাথে , আবার পেরোচ্ছে লোহার জাল - সন্তর্পণে। রাস্তায় নামল পিঁপড়ে, আবার। রেড সিগনালে সেই মুহূর্তে পথ ট্র্যাফিকহীন। স্মিতা লক্ষ্য করে পিঁপড়ে এগোচ্ছে। এইসময় সিগনালের আলো বদলায়- অবশ্যম্ভাবী। স্মিতা দেখে, গাড়ীর চাকা, একের পর এক , বিরামহীন। ধূসর অ্যাসফল্ট। একটি কালো বিন্দু ওকে নাম ধরে ডাকে। ট্রাফিকের স্রোত ওকে টানে । সিগনাল তখনও সবুজ- স্মিতা পা রাখল রাস্তায় তারপর সরিয়ে নিল। ওর মনে হয়েছিল, ওকে আপের পথে হাঁটতে হবে আরো অনেকদিন। ফুটব্রিজ দিয়ে রাস্তা পেরোল স্মিতা। দোকানের বেঞ্চে বসে আদা চা চাইল।

    কয়েক পশলা বৃষ্টির ফোরকাস্ট ছিল। অথচ আকাশ পরিষ্কার - তারায় তারায় ভরে আছে এখন । সন্ধ্যার পরে এই রকম সময় একলা মানুষজন আকাশের দিকে তাকায়, তারা দেখে, সামান্য অন্যমনস্ক হয়। তারপর হোঁচট খেলে, রাস্তায় চোখ নামিয়ে ঘরবাড়ির দিকে হাঁটে। রাস্তার ওপর পড়ে থাকা নুড়ি, ইটের টুকরো সরিয়ে দেয় যত্ন করে।
    অফিসের পরে বাড়ির দিকে হাঁটতে হাঁটতে সনৎ তারাদের কথা ভাবছিল। ছোটোবেলায় সব বাচ্চাকেই মা বলে, মানুষ মরে গেলে তারা হয়। সনতের মাও বলেছিল তারপর স্টোভ ফেটে নিজেই স্টার হয়ে গিয়েছিল। সম্ভবত লিটল স্টার ; সনতের মনে হত- ওর রোগা ছোট্টো মা- সে কী করে জায়ান্ট স্টার হবে? রাতের আকাশে মা কে খুঁজতে খুঁজতে নিতান্ত শৈশবেই সনতের মাথার মধ্যে গ্রহ তারা সেঁধিয়ে গিয়েছিল , মস্তিষ্কের শিরা ধমনী ফুঁড়ে দিয়ে রক্তে মিশে গিয়েছিল একদম-



  • সনতের মাথার ওপর দুশো বিলিয়ন তারা থাকা উচিত এখন-যদিও, এই মুহূর্তে মা'কে খুঁজছিল না সনৎ; আকাশের দিকে তাকিয়ে সে বিশাল বিশাল হাইড্রোজেনের মেঘ কল্পনা করছিল - লাল বেনারসী, কনে চন্দন পরা হাইড্রোজেনের মেঘ একের পর এক অরিয়ন কমপ্লেক্স ফর্ম করছে। কী বিশাল কী বিশাল - সনৎকে তারা যেন টেনে নিচ্ছিল তাদের দিকে- জুতোর নিচে পাড়ার রাস্তাকে ফীল করছিল না সনৎ, মাথা টলটল করছিল তার। সে ঘাড় নামাল। এ কাঁধ থেকে ও কাঁধ করল অফিসের ব্যাগ।

    পুকুরের পাশের বাড়িটার দোতলার জানলা আজও বন্ধ। গোটা বাড়ি ঝিম মেরে পড়ে আছে। অনেকখানি অন্ধকার মাড়িয়ে বাড়ি ঢুকল সনৎ। কদিন আগেও ও'বাড়ির জানলা খোলা ছিল। আলো জ্বালা ছিল ঘরে।

    সনতের ঘরদোরে আজ গরম রুটির গন্ধ। তার মানে মন্টুর মা এই সবে রান্না সেরে বেরিয়েছে। চাবিটা ছুঁড়ে ফেলে ঢকঢক করে জল খেল সনৎ তারপর শোয়ার ঘরে ডেস্কটপ অন করল । ইসরোর সাইটে লঞ্চিংএর নতুন ডেট কী দিয়েছে দেখতে হবে- মোবাইল থেকে খোলা যাচ্ছিল না। আজই অফিসে তন্ময়ের সঙ্গে এই সব নিয়ে তর্ক । তন্ময় বলছিল, “যত ভাঁওতাবাজি, প্রজ্ঞান না অজ্ঞান।“ সনৎ কমার্সের ছাত্র। কিন্তু ইস্রোর সাইট মুখস্ত করে উগরে দিচ্ছিল অফিসে। তন্ময় হাসছিল-" শালা, তুই যেন কী। যেন তোর মেয়ের বিয়ে"। বলেই চুপ করে গিয়েছিল।

    সনৎ প্লাগের ওপর দুবার হাত দিয়ে চাপ দিল- কানেকশন স্লাইট লুজ ছিল; এবার সুইচ টিপলে, গোঁ গোঁ করে সিপিউ তে সবুজ আলো জ্বলল । সনৎ ডেস্কটপের ঢাকনা খুলল যত্ন করে। ল্যাপটপ কিনতে হবে। ডেস্কটপটা কোনোরকম জোড়াতাপ্পি দিয়ে চলছে, এবার খারাপ হলে আর সারানো যাবে না।

    তিনবারের চেষ্টায় ডেস্কটপ চালু হলে ইউটিউবের সাবস্ক্রাইবড চ্যানেলের নোটিফিকেশন আসছিল টুং টাং করে- সনৎ সটান ইউ টিউবে গেল। নাসার চ্যানেলে হাবল টেলিস্কোপের ওপর ডকুমেন্টারি চালু করে ফ্যানের সুইচ অন করল - ঘাম শুকিয়ে নিয়ে বন্ধ করে দেবে; শীত আসছে শহরে- ভোর রাতে হিম পড়ছে আজ ক'দিন।

    সে শার্ট প্যান্ট বেল্ট খুলে বিছানায় ছুঁড়ল। পাজামা গেঞ্জি গলাতে গলাতে ডকুমেন্টারি শুরু হয়ে গিয়েছিল। ওর অন্ধকার ঘরে টেবিলের ওপর রাখা মনিটর এখন বেগুনী আলো ছড়াচ্ছে- স্ক্রীনের ওপর নীল সাদা হলুদ লাল সবুজ রঙের অজস্র শিরা উপশিরা শঙ্কুর মত প্যাঁচ খেয়ে নিচে নেমে যাচ্ছে, সেখানে চোখের মণির মত সুগোল বৃত্ত। কখনও সমুদ্রের ঢেউএর মত লাগছিল, কখনও মনে হচ্ছিল কাঞ্চনজঙ্ঘার রেঞ্জের টপ ভিউ- সনৎ জিভ চাটল। খরখরে দাড়িতে হাত বোলালো। বিড়বিড় করে বলল , থার্টিটু মিলিয়ন লাইটইয়ারস। থার্টিটু মিলিয়ন। ওর শরীর কাঁপছিল। নিজের নাভিতে তর্জনী ঠেকালো সনৎ, হাতের চেটো বুলিয়ে নিল আলতো করে, যেন এম সেভেন্টি ফোরের গ্র্যান্ড স্পাইরালকে ছুঁচ্ছে এইভাবে নখ বসাল গভীরে তারপর পাজামা নামাল। রক্তে ঘুরে বেড়ানো গ্রহ তারাদের ছুঁয়ে ফেলছিল সনতের আঙুল। কুইপার বেল্ট পেরিয়ে ওর্ট ক্লাউড। যেন মহাজাগতিক ধুলোকণা হিমের মত ওর আঙুল বেয়ে নামছে।
    খালি গা, ভেজা পাজামায় ডকুমেন্টারির বাকিটুকু দেখছিল সনৎ- দেখছিল এনজিসি ইলেভেন থার্টি টু - থ্রীটুয়েন্টি মিলিয়ন লাইট ইয়ার্স দূরে, দেখছিল কেমন করে গ্যালাক্সি মিশে যাচ্ছে আর এক গ্যালাক্সিতে, দেখছিল বিশাল আলোকময় সেতু, দেখছিল সহস্র তারার নদী, দেখছিল আবছা কচি কচি আকর্ষর আঙুল- মহাজাগতিক ধুলোর তৈরি- এই আছে, এই নেই।

    পুকুরের পাশের হলুদ বাড়ির দোতলার জানলায় তখন আলো জ্বলছিল। হাসপাতাল থেকে ফিরে জানলা খুলছিল স্মিতা। পাশের বাড়ির অন্ধকার ঘরে নীল বেগুণী গোলাপী হলুদ আলো জ্বলছিল, নিভছিল- প্রথমে টুনি বাল্বের মত লাগছিল স্মিতার, তারপর দেখল, সেই আলোর তরঙ্গ যেন রঙীন সুতোর মত জানলা পেরিয়ে বাইরে আসছে আর রাতের ঘন আলকাতরার মত অন্ধকার ক্রমশ তরল হয়ে আকাশ বেয়ে গড়িয়ে নামছে।

    জানলা বন্ধ করল স্মিতা।

    বৃষ্টি নেমেছে। যেমন কথা ছিল।


    ক্রমশঃ

    ছবি- ঈপ্সিতা পাল ভৌমিক
  • বিভাগ : ধারাবাহিক | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৭৮১ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • শঙ্খ | 2402:3a80:a4b:7195:ffa5:1e6a:22a5:ce0b | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৪:০৫498690
  • পড়ছি, ডিটেলের কারুকার্য দেখছি
  • বিদিশা দাশ | 42.110.152.10 | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৫:৪৯498692
  • নতুন মানুষেরা, হেঁটমুন্ড শহর,নিজেকে আড়াল করার বেদনা,সূক্ষ্ম বিজ্ঞানে অদ্ভূত প্রতিক্রিয়া---উড়ুক উড়ুক তারা স্বপনের জ্যোত্স্নায় নীরবে উড়ুক
  • সিদ্ধার্থ ভট্টাচার্য | 43.251.179.219 | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২৩:১৬498702
  • বেশ ভালো লাগলো... ; বেশ ইন্টারেস্টিং হয়ে উঠেছে... 
  • Gopa Deb | ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৮:২১498753
  • অপূর্ব বর্ণনা ! কালো পিঁপড়ের গতিপথ ।.লেখা এগোচ্ছে মুগ্ধতা বাড়ছে l
  • ইন্দ্রাণী | ০১ অক্টোবর ২০২১ ১৭:৫৮498924
  • যাঁরা পড়ছেন, প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন, সবাইকে ধন্যবাদ। সবে চার পর্ব। আরো অনেকখানি পথ। সঙ্গে থাকবেন।

    কিছু কথা হয়ত একদম শেষ পর্ব প্রকাশের পরে বলতাম, তার খানিকটা বলি- মনে হচ্ছে, বললে ভালো হয়।
    কিছুটা বলেছি এখানেই-এদিক ওদিক, বা ব্যক্তিগতভাবে ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের-

    দেখুন, এ যাবৎ যা লিখেছি, তার বেশির ভাগের সঙ্গে আমার মানসিক সংযুক্তি লেখা প্রকাশের পরেই কেটে গেছে- আমি তখন পরবর্তী লেখায় গেছি।
    শুধু কিছু লেখা- সামগ্রিক কাহিনী নয়, হয়তো কয়েকটা লাইন, একটা কী দুটো প্যারা, একটা জায়গার বিবরণ বা জাস্ট চিত্রকল্প আমি পকেটে নিয়ে ঘুরেছি এতকাল- পনেরো ষোলো বছর আগের লেখাও আছে, আবার গত দু তিন বছরের মধ্যে লেখাও-
    আমার মনে হয়েছে, এদের অন্যভাবে ব্যবহার করা যেত, এদের রাখবার সঠিক জায়গা আমি পাই নি-
    আবার মনে হয়েছে- ধরুন একটি গল্পে যে চিত্রকল্প বা লাইন গল্পের আত্মা, সেই লাইন বৃহত্তর ক্যানভাসে ব্যবহার হলে জাস্ট একটা আঁচড়, অথচ সে ক্যানভাসের অংশ, তাকে বাদ দিলে ক্যানভাস অসম্পূর্ণ থাকছে; আবার একটা সিকোয়েন্স হয়ত গল্পে একরকম , বড় আখ্যানে অন্যরকম করে ব্যবহার করা যায় হয়ত- এসব নিয়ে খেলা করতে ইচ্ছে হয়েছে, পকেটে পুরে ঘুরেছি ফলত। আরো কিছু ভাবনা- অত বিশদে যাচ্ছি না।
    পাঠকের এত কথা জানার দরকারও নেই। বা পড়তে গিয়ে এত কিছু ভাবার। তাঁকে আমার মত করে ভাবাবো না কোনদিন। অ্যাকচুয়ালি, এই কথাগুলো তাই উপন্যাসএর শেষ পর্ব প্রকাশিত হওয়ার পরেই লেখার কথা ভেবেছিলাম।
    পাঠক তাঁর মত করে পড়বেন গোটা আখ্যান। পুরোনো লেখার লাইন খুঁজে পেয়ে বিরক্ত হওয়া তাঁর স্বাধীনতার মধ্যে পড়ে।

    আমার দিক থেকে বলার এইটুকুই যে উপন্যাস লিখতে বসে, পকেট ঝেড়ে ঝুড়ে খালি করে দিয়েছি। আশা করছি, এই আখ্যানের পরে এই ক'টি পুরোনো লেখার অংশের দিকে আমাকে আর ফিরে তাকাতে হবে না।

    সকল পাঠককে নমস্কার।
  • বিপ্লব রহমান | ০২ অক্টোবর ২০২১ ১০:৪২498973
  • বিচ্ছিন্নভাবে পড়ছি। স্মিতার পুকুরের তলার শহরটিকে ভাল লেগে গেল
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভালবেসে মতামত দিন