• বুলবুলভাজা  ধারাবাহিক  সমাজ  শনিবারবেলা

  • ভালো রেখো সাইকেল

    অমল সরকার
    ধারাবাহিক | সমাজ | ২৬ জুন ২০২১ | ৯৯৪ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • সম্পর্ক-সূত্র বীজ বপনে শুরু। তার পর দশ মাস দশ দিন। রক্তের সেই সম্পর্ক ভালবাসা যায়, অবহেলা করা যায়। ছেঁড়া যায় না। পাল্টানোও যায় না। তার পর জীবনভর কত না সম্পর্কের জন্ম। এবং মৃত্যুও। কিছু সম্পর্ক শাসনের, অনুশাসনের, বাঁধনের। কিছু সম্পর্ক ভেসে যাওয়ার। চলতি হাওয়ার পন্থী। কিছু সম্পর্ক আঁকড়ে রাখি। কিছু আপনিই বয়ে যেতে দিই। নাম দিতে পারি না এমন অনেক সম্পর্ক থেকে যায় মনের মণিকোঠায়। সম্পর্কের নতুন সংজ্ঞা দিচ্ছে নেট মাধ্যমও। শুধু কি মানুষ, সম্পর্ক তো চার পাশের কত কিছুর সঙ্গে। পুঁথি বা পর্দার চরিত্র, পুকুর ঘাট বা চিলেকোঠার সিঁড়ি। পাতার ভাঁজে রেখে দেওয়া প্রথম পাওয়া গোলাপ। রাতে গলির মোড়ে আমার ফেরার অপেক্ষায় থাকা নেড়ি। সম্পর্কের সাগরে ভাসছি, ডুবছি। সম্পর্কের নুড়ি কুড়িয়ে চলেছি। ছুঁড়ে ফেলছি। - শুরু হয়েছে নতুন ধারাবাহিক, সম্পর্ক। আজ দ্বিতীয় পর্ব।

    জানো, আজ একটু ঘুরপথে এলাম তো, তাই পনেরো কিলোমিটার হয়ে গেল। অন্য দিন, এত হয় না। আর, সব মিলিয়ে কত হল জানো? আজ চোদ্দোশো ক্রস করলাম।

    ঘুরিয়ে ফিরিয়ে প্রতি দিন মোটের উপর এই কথাগুলিই শুনতে হত। শুনতেই হত। রেহাই পাওয়ার উপায় ছিল না। ব্যস্ততার ফাঁকে ক্যান্টিনে, চা-সিগারেটের আড্ডায়, নিউজরুমের হালকা পরিবেশে, যাঁকে যখন কাছে পেয়েছেন, গরুর রচনার মতো বলে গিয়েছেন। অনেকটা প্রেম সেরে বাড়ি ফিরে ঘনিষ্ঠজনকে সব কিছু শেয়ার করার মতো। রূপদার যত প্রেম তখন সাইকেলের সঙ্গে। অফিস পৌঁছে সাইকেলটা জায়গা মতো রেখেই রূপকুমার বসু পকেট ডায়েরিটায় লিখে নিতেন, সে দিন কত কিলোমিটার পথ পেরোল এবং কেনার পর থেকে সব মিলিয়ে কত পথ ছুটেছে তাঁর সাইকেল। তার পর, বাড়ি ফেরার আগ মূহূর্ত পর্যন্ত চলত সাইকেল-কথা। ক্রমে সবাই বুঝে গেল, ওটাই রূপদার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। অতএব, চা, সিগারেট তো বটেই, মাঝেমধ্যে ক্যান্টিনের আড্ডায় বাকিদের টিফিনের দামটাও সাইকেল চর্চায় মশগুল রূপদাই মেটাতেন। যেন সেটাই পূর্ব-নির্ধারিত ছিল।

    রূপদা থাকেন রাজাবাজার ট্রামডিপোর বিপরীত দিকে। সেখান থেকে খালপাড় ধরে ই এম বাইপাসের অফিস যাতায়াত করতেন। তখন আবার বেশির ভাগ দিনই ধুতি-পাঞ্জাবি পরতেন। সাইকেলের উপযোগিতা বোঝাতে ধুতিকে জড়িয়ে অপপ্রচারের বিরুদ্ধেও প্রায়ই সরব হতেন। কোনও প্রসঙ্গ ছাড়াই বলতেন, এই যে তোমরা বল না, ধুতি পরে নাকি সাইকেল চালানো যায় না। প্যাডেলে আটকে যায়, এটা একদম বাজে কথা। আমি তো রোজ আসা-যাওয়া করি। কই আমার তো কখনও এমন হয়নি। বোঝা যেত, ওটাও ছিল রূপদার সাইকেল-প্রেমের এক বহিঃপ্রকাশ। একেবারে উছলে ওঠা যাকে বলে। যানটির বিরুদ্ধে কাল্পনিক, অতিরঞ্জিত অভিযোগ সাজিয়ে নিজেই সেগুলি নস্যাৎ করে সাইকেলের মহিমাকীর্তন করতেন।

    রূপদা তখন বরিষ্ঠ সাংবাদিক। উঁচু পদে আসীন। সম্পাদকীয় পাতার দায়িত্ব সামলানোর আগে দীর্ঘদিন বিজ্ঞানের পাতার দায়িত্বে ছিলেন। কলকাতায় বিজ্ঞান বিষয়ক সাংবাদিকতায় পথিক গুহর পাশাপাশি তাঁর নামও উচ্চারিত হত একটা সময়। দু’জনের দারুণ মিল। খ্যাতি-জনপ্রিয়তা, এসব গায়ে মাখেন না। রূপদার সাইকেলের প্রতি ভালোবাসাও ছিল পুরোমাত্রায় বিজ্ঞান-নির্ধারিত সিদ্ধান্ত।

    সাইকেল আর বই, এই তাঁর জগৎ। রাজাবাজারের বাড়িতে বইয়ের ভিড়ে বাকি সব কিছুই অদৃশ্য বলা চলে। সে বাড়িতে প্রথম যে দিন গেলাম, বিচিত্র অভিজ্ঞতা। রূপদার গলা শুনতে পাচ্ছি, মানুষটাকে দেখতে পাচ্ছি না। অনেক পরে নজর করি, দুটি বইয়ের তাকের ফাঁকে এক চিলতে জায়গায় গা এলিয়ে রূপদা। কথায় কথায় বললেন, দেশের বাড়ি থেকে সে দিনই সকালে ফিরেছেন। জানতাম, দেশের বাড়ি ভগবানপুর। অনুমান করতে পারছিলাম, রূপদা কীভাবে গিয়ে থাকতে পারেন। তবু, খানিক মজা করার জন্যই বললাম, এই গরমের মধ্যেও কি নন-এসি বাসে…। বাক্যটি শেষ করার ফুরসত পেলাম না। রূপদা যেন রীতিমতো অপমানিত বোধ করলেন। পাল্টা প্রশ্ন, ‘কেন, বাস কেন? সাইকেল থাকতে বাস কেন?’ মার্জনা চেয়ে বললাম, সব ঠিক আছে। কিন্তু বম্বে রোডে ঝড়ের গতিতে চলা গাড়ির মধ্যে সাইকেলে চলাফেরা ঝুঁকি হয়ে যাচ্ছে না! রূপদা কথাটা কানেই তুললেন না।

    সাইকেলটা ছিল বেশ দামি। কিছু যন্ত্রপাতি বিদেশ থেকে আনিয়েছিলেন। যে বয়সে গিয়ে আম ভারতীয় মধ্যবিত্ত একটা চারচাকা কেনার স্বপ্ন বাস্তবায়নে মরিয়া হয়ে ওঠে, রূপদা সেই বয়সে কিনলেন সাইকেল। তাতে ডায়নামো লাগানো বিজলি বাতি ছিল, কলকাতার রাস্তায় যার দরকার পড়ত না। রূপদা বলতেন, এটা আইন। বাতিহীন সাইকেল পুলিশ বাজেয়াপ্ত করতে পারে। দমে যেতেন, যখন বলা হত, কলকাতার নব্বই ভাগ রাস্তাতেই সাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ। তখন গলা নামিয়ে বলতেন, পুলিশ ধরলে দেখা যাবে। সাইকেলটায় একটি স্পিডোমিটারও ছিল। তাই তো গাড়ির মতো রূপদার সাইকেলেরও লগবুক ছিল। পরম যত্নে রোজকার কিলোমিটারের হিসেব লিখে রাখতেন।

    সাইকেলে হাজার কিলোমিটার পূর্ণ করার দিনটি রূপদা সেলিব্রেট করলেন। আমাদের কয়েক জনকে ক্যান্টিনে ডেকে নিয়ে খাওয়ালেন। আড্ডা জমে গেলে রূপদা শুরু করতেন সাইকেল আখ্যান। সুইডেনের রাজা থেকে মুম্বইয়ের ডাব্বাওয়ালাদের সাইকেল-প্রীতির অজানা কাহিনি শোনা যেত। আর আজকাল রামদেবপ্রেমীদের আয়ুর্বেদ পিরিতের মতো রূপদাও এক বার না এক বার বলতেনই, সাইকেল হল মেডিসিন।

    আরও এক দিন খাওয়ালেন, উপলক্ষ, সাইকেল কেনার পুরো খরচটাই নাকি সেদিন উসুল হয়েছে। কী ব্যাপার! খাতা-কলম নিয়ে রূপদা বোঝালেন সাইকেল-অর্থনীতি। বাস-ট্রাম কিংবা অফিসের গাড়ি ইত্যাদি ব্যবহার করলে সে দিন পর্যন্ত যে অর্থ খরচ হত, তার থেকে খানিক কম টাকায় তিনি সাইকেলটা কিনেছিলেন। এ ছাড়াও গাড়ি ব্যবহারে জ্বালানির দাম এবং দূষণের বোঝার আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করে বোঝালেন, সাইকেল ব্যবহারে কেবলই সাশ্রয়, পকেট এবং পরিবেশ, দুইয়েরই।

    ক’দিন আগে বিশ্ব সাইকেল দিবসে অনুজ সাংবাদিক মণিপুষ্পক সেনগুপ্তর ‘ভালো থেকো সাইকেল’ লেখাটি একজন পাঠ করে, সঙ্গে আনন্দ-বেদনা জাগানো সাইকেলের কিছু সাদাকালো ছবি জুড়ে অনবদ্য এক সৃষ্টি ফেসবুকে দিয়েছিলেন। তাতে সাইকেল ও প্রেম পর্যায়টি এক কথায় অনবদ্য। কত না প্রেম, বন্ধুত্বে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে এই যানটি। সে সব সম্পর্ক গড়ার টানটা জড় বস্তুটাই যেন প্রথম টের পায়। প্রথমবার বান্ধবীকে সাইকেল চাপানো, মেয়েটির রাজি হওয়া, দু-য়ের মনেই সাহস জুগিয়ে চলেছে সাইকেল। প্রেম, অর্থাৎ প্রকৃতি নির্ধারিত ক্ষমতায়নে কাণ্ডারী সেই সাইকেল।

    স্কুলবেলায়, পৃথিবীটা যখন বড্ড ছোট, তখন দু’টি যন্ত্রকে আমার মনে হত পৃথিবীর সেরা আবিষ্কার, রেডিও এবং সাইকেল। রেডিওয় কানে পেতে খানিক মালুম হত, পৃথিবীটা শুধু গোল নয়, অনেক, অনেক বড়ও। আর কাছের জায়গাগুলিকে আরও কাছে এনে দিয়েছিল সাইকেল। পরিবেশ এবং সম্পর্ক— দুইয়ের সঙ্গেই সাইকেলের দারুণ সখ্য। ‘ভালো থেকো সাইকেল’— মানুষ ও সাইকেলের সম্পর্কের আখ্যান।

    কলেজে সহপাঠীদের মধ্যে সমীরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গোড়া থেকেই। সেই সম্পর্ক সতেজ ছিল বিশ্ববিদ্যালয় এবং তার পরেও। যদিও দু’জনের বিষয় আলাদা, ক্যাম্পাস ভিন্ন। মাঝে বহু বছর সে সম্পর্ক ছিন্ন ছিল সমী মার্কিন মুলুকের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার পর। বছর দুই আগে অচেনা নম্বর থেকে ফোন এল। এটা-সেটা কথা চালাচালির পর সমী জানতে চাইল, ‘চেনা যাচ্ছে আমি কে?’ কণ্ঠস্বর মানুষের কত বড় পরিচয় বয়ে বেড়ায়, এই সব বিরল মুহূর্তে বোঝা যায়। বললাম, ‘সমী ভালো আছিস। আমেরিকার কোন মুলুকে থাকিস?’ সমী দেশে ফিরবে, খুবই জরুরি ব্যক্তিগত প্রয়োজন। তার সিদ্ধান্ত, বন্ধুদের মধ্যে একমাত্র আমার সঙ্গেই দেখা করবে এবং বাড়িতে আসবে।

    সমীর সঙ্গে গোড়াতেই আমার সম্পর্কটা পাকাপোক্ত করে দিয়েছিল একটা সাইকেল। দুর্গাপুরের বাড়ি ছেড়ে মধ্যমগ্রামে মামাবাড়িতে থেকে সমী কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পর্ব পার করে। দুর্গাপুরে ওদের সরকারি কোয়াটার্সটি ছিল বেশ সাজানো গোছানো। অবাক করেছিল মাসিমার আধুনিক রান্না ঘরে বয়ামে বয়ামে সাজানো শুঁটকি মাছ।

    মধ্যমগ্রামে বসুনগর এক কী দুই, মনে নেই, সমীর মামাবাড়ি। তখনকার দিনে, তিরিশ-পঁয়ত্রিশ বছর আগে, বসুনগর ছিল অনেকটা সাজানো দ্বীপের মতো। চারপাশে, গায়ে দারিদ্র লেপ্টে থাকা মহল্লার মাঝে বসুনগরে সুদৃশ্য সব অট্টালিকা। অনেক বাড়িতেই গাড়ি, ফুলের বাগান। সমীর দাদুর বা মামার বাড়িটিও ছিল সেই পর্যায়ের। সেই অট্টালিকাতেই পরম যত্ন পেত একটি সাইকেল। নীচতলার ড্রয়িং রুম, দোতলার সিঁড়ির দেওয়াল, বারান্দা, সর্বত্র ছিল সেই সাইকেলের টুকরো টুকরো ছবি। সাইকেলে ভারতভ্রমণ করেছেন দাদু। আমরা বন্ধুরা জাদুঘরে রাখা প্রাচীন, বিলুপ্ত রত্ন দেখার মতো কৌতূহল নিয়ে আসল সাইকেলটা দেখতাম।

    কাছাকাছি সময়ে, আমি তখন এলআইসি-র এজেন্ট, ক্লায়েন্টের পিছনে ছুটছি, বলা যায় দৌড়চ্ছি। এলআইসি, এনএসসি-র এজেন্টরা সমাজের চোখে তখন যেন কুষ্ঠরোগী বা এখনকার করোনা আক্রান্তের মতো। পরিচিতরা দূর থেকে মুখ ঘুরিয়ে, রাস্তা বদলে সরে পড়ত। পাছে তাকে ধরি, ‘এলআইসি করুন’। খাটাখাটুনি খানিক লাঘব হল একটা সাইকেলের দৌলতে। পুরনো, বেশ পুরনো, দেখে বোঝার উপয় নেই, শুনলাম, বয়স অন্তত বছর পঞ্চাশ হবে। পাড়ার এক প্রান্তে এক ধনী পরিবার বাড়ি কিনে এসে উঠল। তাদেরই জিম্মায় ছিল হাম্বার সাইকেলটি। কিনে ফেললাম। এলআইসি-র কমিশন, মানে নিজের টাকায় আমার কেনা প্রথম অ্যাসেট। গৃহকর্তা বারে বারে ব্রিটিশ কোম্পানিটির গুণগান গাইছিলেন এবং আমাকে বোঝাচ্ছিলেন, আমি খুবই ভাগ্যবান, এমন একটি সাইকেল ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছি।

    সুযোগই বটে। সাংবাদিকতায় এমএ করার ফাঁকে এলআইসি-র এজেন্সির কমিশনের টাকায় এ কাগজ, সে কাগজে ফ্রিল্যান্সিং করি। সাইকেল কেনার পর আমার কাস্টমার সার্ভিস ভালো হয়। কাস্টমার বাড়ে। বাড়ে আয়। এক বন্ধুর সূত্র ধরে খবর এল, বারাসত থেকে নতুন একটি পত্রিকা বেরোবে। সদ্যই তখন ২৪ পরগনা ভেঙে বারাসতকে সদর শহর করে নতুন জেলা হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা। নতুন কাগজের জন্মলগ্ন থেকে লেগে পড়লাম। তাতে উস্কানির কাজ করল সেই সাইকেল। বদলে গেল জীবনের চাকা। সমীর দাদুর সাইকেলে ভারত-ভ্রমণের ছবিগুলি মনে থেকে গিয়েছিল। সাত-পাঁচ ভাবিনি, নিজের অজান্তে, যেমন করে প্রেম আসে, ঠিক তেমন, কখন যেন, সাইকেল আমাকে সাংবাদিকতায় ঠেলে নিয়ে গেল। প্রতি রবিবার সকাল ৯টায় বেরিয়ে পড়তাম। সাইকেলে ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই পৌঁছে যেতাম বারাসত। যাওয়ার পথে বহু দিন মধ্যমগ্রাম রোডের বাঁ-দিকে সমীর মামা বাড়ির রাস্তা ধরেছি, বাড়িটা দেখব বলে। বারাসতের এ গলি, সে গলি, এর বাড়ি, ওর বাড়ি, কলোনি মোড়ে সাংবাদিক দাদা অভ্রনীল মুখোপাধ্যায়, ন’পাড়া কালীবাড়ির বাসিন্দা ব্যাঙ্কের বড় কর্তা প্রেমেন্দ্র মজুমদার, অদূরে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের কর্তা সুদীন চট্টোপাধ্যায় প্রমুখের বাড়ি, প্রেস ইত্যাদি ঘুরে ঘুরে কাগজের নানা কাজ সেরে বাড়ি ফিরতে ফিরতে রাত গড়িয়ে যেত।

    আমার সাইকেলে স্পিডোমিটার ছিল না। তাছাড়া, তখন জানার চেষ্টাও করিনি, এখন গুগল করে দেখলাম, সোদপুর স্টেশন থেকে বারাসত কলোনি মোড় ১৩ কিলোমিটার। তখন, আটের দশকের শেষ লগ্নেও নব্বই ভাগ এলাকা বিদ্যুৎহীন। তার উপর লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা। সোদপুর-বারাসত রোডের ষোলআনা সারা বছর ভাঙাচোরা। সাইকেলে যাতায়াত বেশ বিপজ্জনক। নিঝুম রাতে যুগান্তর কাগজের মালিকদের বাগানবাড়ি শিশিরকুঞ্জর সামনের পথটা পেরনোর সময় বুক কেঁপে উঠত। তখন বিরক্ত হতাম, এখন বেশ বুঝতে পারি, আমরা লোডশেডিং প্রজন্মের লোকেরা, যন্ত্রণা, অপ্রাপ্তি, ইত্যাদি সইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা আমাদের খানিক বেশি। খবরের সন্ধানে এবং বেড়ানোর কৌতূহল নিয়ে সাইকেলে কাঁচড়াপাড়া, মোহনপুর, দত্তপুকুর, দেগঙ্গা, বারাকপুর, বেলঘরিয়া, মাইলের পর মাইল ঘুরেছি। করোনা-লকডাউনকালে সাইকেলেই রিভিজিট করলাম এমন বহু জায়গা। টিটাগড়, খড়দহের ফেরিঘাটে, জুট মিল শ্রমিকদের মহল্লায় সূত্র ধরিয়ে দিতে এক-দু’জন মনে করতে পারলেন পুরনো প্রসঙ্গ। তাঁদের এক জন বিন্ধেশ্বরী সাউ, আমারই বয়সি, একদা দৌড়ঝাঁপ করা শ্রমিক নেতা, হা-হুতাশ করলেন। হিন্দি টানে বাংলায় রসিকতা করে বললেন, ‘আজকাল শুনছি পুরনো বাড়িঘর নাকি বেড়াবার জায়গা হয়েছে। লোগ খুব যাচ্ছে। বন্ধ কারখানাও তো দেখার জিনিস হতে পারে। হতে পারে না কি? কী বলেন?’

    তিন-সাড়ে তিন দশক আগে, তখনও বেশির ভাগ কারখানা বন্ধই থাকত। দেওয়াল জুড়ে জানান দিত শ্রমিকদের দাবিদাওয়া, প্রতিবাদের কথা। বিসিএমইউ অর্থাৎ সিপিএমের শ্রমিক সংগঠন সিটুর বেঙ্গল চটকল মজদুর ইউনিয়নের কথা মুখে মুখে ঘুরত। এখন বেশির ভাগেরই নামটা অজানা। সমস্যা আছে, প্রতিবাদ নেই। বন্ধ কারখানার শ্রমিক মহল্লার দেওয়াল জুড়ে কোথাও পানমশলা, কোথায় বিড়ি, কোথাও খৈনির বিজ্ঞাপন। কারখানার সাইকেল শেডগুলি কোনওটা শনি, কোনওটা কালী, কোনওটা সন্তোষীর থান হয়েছে। সেগুলির সাজসজ্জায় মহল্লার জীবনযাত্রা, অনটন ইত্যাদির ছাপ নেই।

    সাইকেলের চাকায় অনটন-মুক্তির অসংখ্য কাহিনি চার পাশে ছড়িয়ে আমাদের। যে বয়সটা পর্যন্ত আমাদের মধ্যে অপু-দুর্গা বাস করে, সেই বয়সে পাড়ায় এক বৃদ্ধ, পরে তাঁর ছেলে আসতেন দুধ বেচতে। সুযোগ পেলেই ওঁদের কাছে জানতে চাইতাম, কোথা থেকে আসেন। বৃদ্ধ বলতেন, ‘সে অনেক দূর।’ মনে মনে সেই অনেক দূরের সীমা মাপতে মাপতে বড় হয়েছি। বৃদ্ধের ছেলে জানিয়েছিলেন, ওঁরা আসতেন মধ্যমগ্রাম ছাড়িয়ে বাদু থেকে। আমাদের এলাকা থেকে বিশ-বাইশ কিলোমিটার।

    বড় রাস্তা থেকে পাড়ার তস্য গলি সাইকেলে বীরদর্পে চষে বেড়াতেন খবরের কাগজের হকার ভদ্রলোক। মন্ত্রী-সান্ত্রীর গাড়ি এলে রাস্তা ফাঁকা করে দেওয়ার মতো তাঁকে সবাই জায়গা ছেড়ে দিত। সাইকেলে ব্রেক, বেল-এর বালাই ছিল না। শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা রোজ সকালে গলা চড়িয়ে নিজের উপস্থিতি জানান দিতেন ‘ও বাবু, ও দিদিমণি, কাগজ পড়ো, কাগজ, খবরের কাগজ, আনন্দবাজার-যুগান্তর-অমৃতবাজার-টেসম্যান।’ ব্রেক কষতেন পা দু’টি মাটিতে ঠেকিয়ে। বিহার থেকে ছোট্টবেলায় বাবার হাত ধরে কলকাতায় চলে এসেছিলেন। এক দিন কথায় কথায় বলেছিলেন, সাইকেলটা কিনেছিলেন দাদু। তাঁরা বাপ-ব্যাটা বিহারের ভিটে ছাড়ার সময় সাইকেলটা সঙ্গে নিয়ে হাওড়াগামী ট্রেনে চেপেছিলেন। তবে, তখন কাগজওয়ালারাই হকারদের সাইকেল জোগাতেন। এখন প্রতি বছরে টি-শার্ট, টুপি আরও কত কী দেয়। স্বাস্থ্যপরীক্ষার ব্যবস্থা করে। সাইকেল দেওয়ার চল উঠে গেছে বহু কাল।

    সাংবাদিকতার সূত্র ধরে নয়ের দশকের গোড়ায় বিহারে যাতায়াত শুরু। অখণ্ড বিহার। সেই বিহার আরও অনেক বেশি পিছড়া। ঘরে ঘরে দারিদ্র-অভাব-অনটন। আবার গোলাভরা ধানের মতো ছিল আতিথেয়তার বিপুল আয়োজন। চিনি-জল, চিনি-গুড় কিংবা ফোটানো দুধের চা যেন অমৃত। অতিথি দেবো ভব, প্রথম উপলব্ধি করতে পেরেছিলাম বিহারের দারিদ্রপীড়িত গ্রামে গিয়েই। তখন বাস, অটো, টেম্পোতে বড় রাস্তায় নেমে অনেকটা পথ হাঁটতে হত কাঙ্ক্ষিত জায়গা কিংবা ব্যক্তিকে খুঁজে পেতে। কত অচেনা মানুষের সাইকেল চেপেছি। এক বিকালে পাটনার অদূরে বক্তিয়ারপুরের কল্যাণবিঘা গ্রামে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের পৈত্রিক বাড়িতে যাব। একজন নিজের সাইকেলটা এগিয়ে দিয়ে বললেন, ‘গাঁওমে পত্রকার! না কভি শুনা, না দেখা। বহত খুশি কী বাত।’

    স্কুলের ছেলেমেয়েদের সাইকেল দেওয়ার কাজটা খানিক আগে শুরু করেছিলেন নীতীশ। যত দূর মনে পড়ে, ২০০৫-’০৬-’০৭ নাগাদ। একদা বিহারে বামপন্থীদের শক্ত ঘাঁটি নওয়াদার এক পরিবারের কথা মনে আছে, সরকারের দেওয়া দু-হাজার টাকা দামের একটি সাইকেল কী ভাবে তাদের জীবন বদলে দিয়েছিল। পরিবারের কর্তা সকালে বাড়ির গোয়ালের দুধ নিয়ে সাইকেলে গঞ্জে ছোটেন। ফিরে আসেন আটটা-সাড়ে আটটায়। দশটায় সাইকেল চালিয়ে মেয়ে স্কুলে যায়। বিকেলে সে বাড়ি ফিরলে দুধ নিয়ে বাবা ফের গঞ্জে যান। সন্ধ্যায় তিনি ফিরে এলে, রাতে সেই সাইকেলে দাদা গঞ্জের বাজারে নৈশপ্রহরীর ডিউটিতে ছোটেন। ফেরেন ভোরের আলো ফোটার পর। যাতায়াত খরচ শূন্য। নির্ঝঞ্ঝাট জীবন। বাংলায় এমন পরিবার এখন অসংখ্য। সবুজসাথী প্রকল্পে কয়েক লাখ ছেলেমেয়ে সরকারের সাইকেল পেয়েছে। নতুন দৃশ্য সাইকেলে সওয়ার কিশোরীর দল। বছর কয়েক আগেও ওই বয়সের মেয়েরা কেউ বাবা, কেউ পরিবারের অন্য কোনও পুরুষ সদস্যের সঙ্গে সাইকেলে চেপে স্কুলে, হাটে-বাজারে যেত। এখন ওদের সাইকেলে সওয়ার পরিবারের বাকিরা। ভারতীয় সমাজে এই পরিবর্তনকে অসঙ্কোচে বিপ্লব বলা চলে। বয়ঃসন্ধি পর্বে এবং আরও কিছু বছর, শরীরের নানা পরিবর্তন এবং মাসিকের মতো শারীরবৃত্তীয় চক্র ঘিরে কিশোরীর দেহ-মনে ক্রমশ নারীসত্তা বাসা বাঁধে, তখন নিজেদের তারা গুটিয়ে রাখে অথবা সামাজিক-পারিবারিক অনুশাসনে নিজেকে আড়ালে রাখতে বাধ্য হয় তখন, সেই বয়সে একটা সাইকেল লিঙ্গ-বৈষম্য দূর করে মেয়েদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে। সামাজিক প্রেক্ষাপটে পরিবর্তনটাকে নিষ্ঠার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করেছেন বন্ধু, সাংবাদিক শুভাশিস।

    এ পর্যন্ত যা লিখেছি, এমন ধারনা তা থেকে হওয়া অস্বাভাবিক নয়, সাইকেল হল গরিব মানুষের যান। শ্রেণিবিভক্ত ভারতীয় সমাজে গাড়ি, বিশেষ করে চার চাকা যে কুলীন বিবেচিত হবে, তাতে আর অবাক হওয়ার কী আছে। যে কারণে লাখ টাকার ন্যানো গাড়ি বেচতেই পারল না টাটার মতো কোম্পানি। একে সস্তা। তার উপর নাম কি না ‘পিপলস কার’। এ দেশে যা কিছু জনসাধারণের তাই-ই নিম্নমানের, এটাই যেন স্বতঃসিদ্ধ। কিন্তু ইউরোপ-আমেরিকা এবং এশিয়ার উন্নত অংশ সাইকেলকে আঁকড়ে ধরে আছে বহু কাল। সাইকেলের জন্য আলাদা পথ, পার্কিং প্লেস, সাইকেল কিনতে অল্প সুদে ঋণ, উৎসাহদানের নানা আয়োজন। ব্যাঙ্কক-সহ থাইল্যান্ডের শহরগুলি এখন গোটা বিশ্বের পর্যটকদের গন্তব্য। যানজটে জেরবার ব্যাঙ্ককে মেট্রো, আধুনিক বাস পরিষেবার পাশাপাশি আছে সাইকেল। প্রতিটি বাস স্ট্যান্ডে আছে সাইকেল পার্ক করার ব্যবস্থা। অর্থাৎ, নিরুপায় হয়ে, কিংবা আর্থিক কারণেই শুধু নয়, সাইকেল গুরুত্ব পাচ্ছে তার প্রয়োজনের গুরুত্বের জন্যই। আমাদের দেশে পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়লে নেতা-মন্ত্রীরা প্রতিবাদ স্বরূপ এক-দু’দিন সাইকেলে যাতায়াত শুরু করেন। ব্যতিক্রম ছিলেন ওড়িশার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজু পট্টনায়ক। তিনি শুধু যুদ্ধবিমানের দক্ষ পাইলট ছিলেন তা-ই নয়, ভালোবাসতেন সাইকেল চালাতে। ১৯৩২-এ কটক থেকে সাইকেলে পেশোয়ার পৌঁছে গিয়েছিলেন। যাওয়া-আসা মিলিয়ে সাড়ে চার হাজার কিলোমিটার। বাইপাস সার্জারির পরও, মুখ্যমন্ত্রী বিজু জ্বালানি খরচ বাঁচাতে প্রতি বুধবার সাইকেলে অফিস যাতায়াত করতেন।
    শরীর-স্বাস্থ্য রক্ষা ছাড়াও সাইকেলের গুণের শেষ নেই। দ্য এনার্জি অ্যান্ড রিসোর্সেস ইনস্টিটিউট (টেরি) এবং অল ইন্ডিয়া সাইকেল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন সাইকেলের যে ছ’টি উপযোগিতা নিয়ে প্রচার শুরু করেছে, তার সব ক’টি সম্পর্কেই আমরা পরিচিত। দূষণবিহীন যানটির গুণের শেষ নেই। লিঙ্গ বৈষম্য দূর এবং ক্ষমতায়নের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হতে পারে সাইকেল। এ ছাড়া, যাতায়াত খাতে ব্যক্তিগত সাশ্রয় তো আছেই। টেরি তাদের একটি সমীক্ষায় দেখিয়েছে, শহরে ছোট ছোট দূরত্বে যদি গাড়ির বদলে সাইকেল ব্যবহার করা হয়, তা হলে বছরে সাশ্রয় হতে পারে ১৮ লক্ষ কোটি টাকা, যা দেশের জিডিপির ১.৬ শতাংশের সমান।

    তবু এ দেশের শহরগুলিতে সাইকেলের ব্যবহার তুলনামূলক ভাবে কম। কিন্ত সাইকেল ব্যবহারের ইতিহাস নবীন নয়। আজকাল আমরা যে কথায়-কথায় হোম ডেলিভারির কথা বলি, সাইকেলে তা সেই কবেই চালু হয়েছে। যাযাবর ছদ্মনামে বিনয় মুখোপাধ্যায়ের দৃষ্টিপাত উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৪৭-এ। তাতে তৎকালীন দিল্লির রাজপথে সাইকেল ব্যবহারের কথা একাধিক জায়গায় আছে। যেমন, এক জায়গায় লিখেছেন, ‘সকালবেলা ঘুম ভাঙলে যে-দৃশ্যটা চোখে পড়ল সে হচ্ছে ফিরিওয়ালার ক্যাভেলকেড। দু্‌ধ, সবজি, মাছ, মাংস, ডিম, সবই এখানে ঘরে বসে পাওয়া যায়। পসরা আসে দরজায়। মাথায় চেপে নয়, সাইকেলে। ওই জিনিসটা এখানে অসংখ্য। কলকাতায় সাইকেল চাপতে দেখি খবরের কাগজের হকারকে। কিন্তু নয়াদিল্লিতে গয়লা, ধোপা, নাপিত, জেলে, কসাই, ব্লাউজের ছিট, গায়ের সাবান বিক্রেতা আসে সাইকেলের পিছনে মস্ত ঝুড়ি বা বাক্স চাপিয়ে।’ আর এক জায়গায় অফিস টাইমের বর্ণনা দিয়েছেন, ‘চাপরাশিদের পরে যায় কেরানি, অ্যাসিস্ট্যান্ট ও সুপারিন্টেন্ডেন্টরা। সাইকেল, সাইকেল, সাইকেলের পর সাইকেল। ঠিক যেমন একটা সাইকেলের প্রসেশন।’ আমার দেখা প্রথম হোম ডেলিভারির বাহনও ছিল সাইকেল। বছর পঁচিশ আগের কথা। পাড়ার মুদি দোকানি গৌতমদাকে ল্যান্ডফোনে ফর্দ শুনিয়ে দিতাম। গৌতমদার কর্মচারী সাইকেল ছুটিয়ে বাড়ি পৌঁছে দিত মালপত্র। সল্টলেক স্টেডিয়ামের গায়ে সুইট অ্যান্ড সাওয়ার রেস্তরাঁ বছর তিরিশ আগে বহু তরুণের রোজগারের রাস্তা খুলে দিয়েছিল সাইকেলে হোম ডেলিভারি চালু করে। এখনকার হোম ডেলিভারিতে পরিষেবার ওই গালভরা নামটি আর অ্যাপ নামক প্রযুক্তি, এইটুকুই যা নতুন। বাকি সব সাধারণের মস্তিষ্কজাত।

    কলকাতার মতো বেশ কিছু শহরেই সাইকেল চলাচলে নানা বিধিনিষেধ আছে। তা ছাড়া বিভিন্ন গবেষণায় একটি বাস্তব সমস্যার দিকও উঠে এসেছে। গ্রীষ্ম-বর্ষায় সাইকেলে পুরোপুরি ভরসা রাখা কঠিন। তাই উপযুক্ত দামে নতুন মডেলের সাইকেলের কথা ভাবা দরকার। এ বছর ১৩-তে পা দিল সাইকেল ও সমাজ নামে কলকাতার সাইকেল-প্রেমীদের সংগঠনটি। কলকাতার রাস্তায় সাইকেলের উপর বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের দাবিতে কাজ করে চলেছে তারা। শহরের থানাগুলির মালখানার দিকে চাইলেই বোঝা যায়, আইন রক্ষকদের চোখে সাইকেল এক নিষিদ্ধ যান। ওই সংগঠন জানাচ্ছে, ২০১৬-তে বাইসাইকেলকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করার একটা উদ্যোগ ইতালিতে নেওয়া হয়েছিল। সাশ্রয়, স্বাস্থ্য, সামাজিক যোগাযোগ ও পরিবেশ রক্ষা—সাইকেলের নানা গুণাবলির সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছিল যুদ্ধে গোপন বার্তা বিতরণ-সহ অনেক অজানা গল্প। তবে শেষ পর্যন্ত উদ্যোগ সফল হয়নি। কিন্তু মানবকল্যাণে সাইকেলের উপযোগিতা নিয়ে একটা চর্চা শুরু হয়েছিল।

    চাকা আবিষ্কারের পর মানুষ বহু বছর মূলত পশুচালিত যান ব্যবহার করে এসেছে। পরবতী পৃথিবীতে আমূল বদলের সূচনা হয়েছিল সাইকেলের হাত ধরে। সেই সাইকেলকে টিকিয়ে রাখতে, জনপ্রিয় করতে এখন নানা রকম উদ্যোগের প্রয়োজন পড়ছে। শুধু দূষণবিহীন যান বলেই নয়, ২০১৮ সালে রাষ্ট্রপুঞ্জ-ঘোষিত বিশ্ব সাইকেল দিবসে (৩ জুন) সংকল্পপত্রে বলা হয়, সাইকেল মানবিক সম্পর্ক বাড়ায় এবং সমাজে একটা সাম্য ভাবনা গড়ে তোলে। সাইকেল-প্রেমীদের বিশ্বব্যাপী সংস্থা আমস্টারডামের বিওয়াইসিএস ২০৩০-এর মধ্যে অর্ধেক রাস্তা সাইকেলের জন্য উন্মুক্ত করার ডাক দিয়েছে। সাইকেলের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে তারা বড় শহরগুলিতে এক জন সাইকেল-প্রেমীকে বাইসাইকেল মেয়র নির্বাচিত করেছেন। কলকাতার বাইসাইকেল মেয়র শতঞ্জীব গুপ্ত বলছিলেন, ‘যানবাহনের সঙ্গে মানুষের মনের যোগাযোগ সম্পর্কিত একটি গবেষণার ফলাফলে মনোবিজ্ঞানীরা সাইকেলে যাতায়াতকে বর্ণনা করেছেন, দ্য হ্যাপিয়েস্ট ফর্ম অব ট্রান্সপোর্ট হিসেবে। কথাটা নিজে পরখ না-করলে বোঝানো একটু মুশকিল।’



    কৃতজ্ঞতা—সাইকেল ও সমাজ, কলকাতা
  • বিভাগ : ধারাবাহিক | ২৬ জুন ২০২১ | ৯৯৪ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
আরও পড়ুন
মেলা - Swati Chakraborty
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Anindita Roy Saha | ২৬ জুন ২০২১ ২০:৪৩495316
  • উন্নয়নশীল দেশে সাইকেলকে জনপ্রিয় করতে হলে আগে দরকার সুষম উন্নয়ন। অর্থাৎ মানুষ যেন সাইকেল দূরত্বের মধ্যে দৈনিক সব প্রয়োজন মেটাতে পারে , স্কুল কলেজ হাসপাতাল থেকে শুরু করে কর্মস্থল। উন্নত দেশে যা সম্ভব আমাদের মতো দেশে তা সহজ নয়।  ৪ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে সব পরিকাঠামো তৈরী করতে পারলে সাইকেল-নির্ভর দুনিয়া গড়া যেতে পারে , এই ধারণাটি সম্প্রতি শোনা যাচ্ছে। কঠিন চ্যালেন্জ। 

  • চৈতালি | 2402:3a80:1f0c:8527:1325:c79:9d9c:fc36 | ০৩ জুলাই ২০২১ ১৩:১১495563
  • অনবদ্য,  মনে হয় একটা সাইকেল ট্র্যাক যদি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে, মেট্রোপোলিটন শহরগুলিতে করা সম্ভব হতো।.. 

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। মন শক্ত করে মতামত দিন