• বুলবুলভাজা  অন্য যৌনতা

  • যৌনকর্মীদের পিতা ডাক্তার স্মরজিৎ জানা

    প্রদীপ দত্ত
    অন্য যৌনতা | ০১ জুন ২০২১ | ১৩৪৩ বার পঠিত | রেটিং ৪.২ (৫ জন)
  • মে মাসের আট তারিখে (৮/৫/২০২১) কোভিড মহামারীতে আক্রান্ত হয়ে চলে গেলেন ডাক্তার স্মরজিৎ জানা। বলতেন, ‘জানিস তো আমি মাঝেমধ্যেই ভাবি অ্যাট দি এন্ড অব দি ডে কী দাঁড়াল? কী করলাম জীবনে?’ যৌনকর্মীদের নিয়ে যা করেছেন তা ইতিহাস হয়ে থাকলেও তাতে তৃপ্তি ছিল না, সমাজ বদলের আরও নানা কাজে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার বাসনা ছিল। যেমন এদেশে গ্রিন পার্টির স্বপ্ন দেখতেন। তা গড়ার কাজে সক্রিয় হতে চেয়েছিলেন। ভিমা কোরেগাঁও মামলায় যেসব অ্যাক্টিভিস্ট ও বুদ্ধিজীবিরা জেলে তাঁদের মুক্ত করার জন্য ২০১৯ সালে কিছুটা সক্রিয় হয়েছিলেন।

    এখন নানা দেশের সরকার যৌনকর্মীদের ব্যাপারে দুটো পদক্ষেপ নিচ্ছে। প্রথমটা হল তাদের সংগঠিত করে হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়া। কারণ তাদের কমিউনিটি অর্গানাইজেশন গড়তে হবে ও ওনারশিপ তৈরি করতে হবে, কালেক্টভ বার্গেইনিং পাওয়ার বাড়াতে হবে। দ্বিতীয়ত স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ উন্নত করতে হবে। পৃথিবীকে এই পথে চলতে শিখিয়েছিলেন মহামারী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক (এপিডেমিওলজিস্ট) স্মরজিৎ জানা (স্মরজিৎদা)।

    আজ ‘যৌনকর্মী’ কথাটা উচ্চারণ যতটা সহজ লাগে নব্বইয়ের দশকে তা ছিল না। আশির দশকের দ্বিতীয় ভাগ থেকে নব্বইয়ের দশকে এইডস মহামারী সমাজে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। রোগটা ছড়াচ্ছিল মূলত যৌনকর্মীদের যৌনরস ও রক্ত থেকে, তাঁদের থেকে অন্যেরা আক্রান্ত হচ্ছিলেন, অন্যের থেকে তাঁরাও আক্রান্ত হচ্ছিলেন। এই রোগকে বাগে আনতে ১৯৯২ সালে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব হাইজিন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ-এর তরফে এসটিডি/এইচআইভি ইন্টারভেনশন প্রজেক্ট-এর ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব এসে পড়ে স্মরজিৎদার উপর। এশিয়ার বৃহত্তম যৌনপল্লি সোনাগাছিতে শুরু হয় ‘সোনাগাছি প্রজেক্ট’। কিন্তু কাজ শুরু করার কিছুদিন পর তাঁর মনে হয়েছিল, শুধু প্রচারের মাধ্যমে যৌনকর্মীদের শিক্ষিত করে, আক্রান্তের চিকিৎসা করে এইসব রোগের সংক্রমণ থামানো যাবে না। যৌনকর্মীদের কালেক্টভ বার্গেইনিং পাওয়ার না বাড়াতে পারলে এইডস বা সিফিলিস, গনোরিয়ার মত সেক্সচুয়ালি ট্রান্সমিটেড ডিজিস (এসটিডি) কমানো যাবে না। সংক্রমণ বাগে আনতে গেলেও যৌনকর্মীদের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে যৌনকর্মে কন্ডোম ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে। এই পর্যন্ত তাঁর ভাবনা ছিল বিশেষজ্ঞের। এ কথা বলে তিনি সরে যেতে পারতেন। বলতে পারতেন যৌনকর্মীদের ক্ষমতায়ন একজন ডাক্তারের কাজ নয়। তা না করে যৌনকর্মীদের মধ্যে এইসব রোগ নির্মূল করার কাজে নেমে পড়লেন। সারা জীবন ধরে রয়ে গেলেন তাদের ভালমন্দে। তাঁর নেতৃত্বে শুরু হল যৌনকর্মীদের মর্যাদার লড়াই। তাঁর নির্দেশিত পথেই এইডস কমল। এখানেই তিনি অদ্বিতীয়, এই জন্যই সারা পৃথিবীতে তিনি বন্দিত।

    যৌনকর্মীদের তরফে বাইরে থেকে সিদ্ধান্ত না নিয়ে তিনি তাঁদের ক্ষমতায়ন চেয়েছিলেন, কমিউনিটির যোগদান চেয়াছিলেন। অর্থাৎ যাঁদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বা যাঁরা আক্রান্ত তাঁদের সমগোত্রীয়দের উপর ভিত্তি করে রোগ সারানোর চেষ্টা। ব্যাপারটা খুবই কঠিন ছিল। যৌনকর্মীরা তাদের পল্লীতে খুবই নিপীড়িত হয়ে থাকে। কন্ডোম ব্যবহার করবে কি না বাস্তবে সেই সিদ্ধান্ত নেবার মালিক তারা নয়। পল্লীতে যুগ যুগ ধরে বাড়িওলি, দালাল, মাস্তান ও বাবুদের যে চক্র চলে তা ভাঙ্গতে না পারলে কন্ডোম ব্যবহার বাধ্যতামূলক হবে না। তাঁদের নিয়ে, তাঁদের সঙ্গে, তাঁদের উদবুদ্ধ করে কাজ করাটা এ পর্যন্ত যে কোনও মানুষের কাছেই ছিল অভাবনীয়। দরকার তাদের সংগঠন এবং লড়াই। অবশেষে ১৯৯৫ সালে তৈরি হল সংগঠন ‘দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটি’ (ডিএমএসসি)। এই ভাবে যৌনকর্মী গোষ্ঠী হয়ে উঠল প্রকল্পের অংশীদার। যা ছিল রোগ সারানোর কর্মসূচি তা হয়ে দাঁড়াল যৌনকর্মীদের অধিকার আন্দোলন। ক্ষমতায়নের ফলে তাঁরা কাস্টমারকে বলতে পেরেছিলেন কন্ডোম ব্যবহার করতেই হবে। তাঁরা ডাক দিলেন নো কন্ডোম নো সেক্স। সেই সময় তা ছিল বিপ্লবী চিন্তা। এই পদ্ধতিতেই পরবর্তীকালে শুধু এইডসই নয় এইচআইভিও নিয়ন্ত্রিত হয়েছে। এদেশে এইডস নিয়ন্ত্রণের কৃতিত্ব মূলত তাঁরই প্রাপ্য। কারণ তিনিই তা নিয়ন্ত্রণের জন্য পাব্লিক হেলথের বুনিয়াদি নিয়ম তৈরি করেছিলেন। পরবর্তীকালে আন্দোলন আরও প্রসারিত হল, কয়েক বছরের মধ্যে  সোনাগাছি প্রজেক্টের সুনাম পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ল, পৃথিবীর মডেল হয়ে উঠল।

    যাঁদের এক কথায় বলা হত ‘বেশ্যা’ স্মরজিৎদাই তাঁদের ‘যৌনকর্মী’ বলতে শিখিয়েছেন। তাঁদের যৌনকর্মকে তিনি পেশা হিসেবেই দেখেছেন। তিনিই প্রথম তাঁদের মানুষের অধিকারের কথা বলেছিলেন। অর্থের বিনিময়ে যৌনকর্ম যাঁরা করেন শ্রমিক হিসেবে তাঁদের অধিকারের কথা বলেছিলেন। স্লোগান তুলেছিলেন ‘গতর খাটিয়ে খাই শ্রমিকের অধিকার চাই’। দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটি গড়ে তোলার পর একই বছরে গড়ে উঠেছিল ‘উষা মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি’, যৌনকর্মীর ছেলেমেয়েদের জন্য ‘রাহুল বিদ্যানিকেতন’ ও ‘দুর্বার স্পোর্টস অ্যাকাডেমি’। প্রতিটির জন্মই ছিল যুগান্তকারী ঘটনা। যে সময়ে এইসব কাজ তিনি করছেন বাঙালির প্রগতিশীল মহলেও যৌনকর্মীদের সঙ্গে থেকে কাজ করাটাকে সুনজরে দেখা হত না।

    যৌনকর্মীদের রোজগার যেন সুরক্ষিত থাকে সেই লক্ষ্যে তাঁর উদ্যোগে কোঅপারেটিভ ব্যাঙ্ক তৈরি হয়। যৌনকর্মীদের জন্য ব্যাঙ্ক থাকতে পারে কি না তা নিয়ে বিধানসভায় বিতর্ক ওঠে। কিন্তু এ কাজে তাঁর  অদম্য মানসিকতার জন্য শেষ পর্যন্ত এই সক্রান্ত পুরনো আইনের প্রয়োজনীয় রদবদল করতে হয়। অবশেষে ১৯৯৫ সালের জুন মাসে তেরোজন সদস্য ও তিরিশ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে যৌনকর্মীদের দ্বারা পরিচালিত ‘উষা মাল্টিপারপাস কোঅপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড’ চালু হয়। দুবছরের মধ্যে সদস্য সংখ্যা বেড়ে হয় তিরিশ হাজার। এখানে জমানো টাকাও সুদসহ সুরক্ষিত থাকে। সবচেয়ে বড় কথা হল এক সময় যারা ২০০ থেকে ৩০০ শতাংশ সুদে যৌনপল্লীর সুদের কারবারিদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে দেনার দায়ে জেরবার হতেন এখন তাঁরা অতি অল্প সুদে উষা কোঅপারেটিভ থেকে ধার নিয়ে নানা প্রয়োজন মেটাচ্ছেন। এখন ওই কোঅপারেটিভ থেকে বছরে তাদের মোট ধারের পরিমাণ আট-ন’ কোটি টাকা। উষা কোঅপারেটিভ তাঁদের জীবনে বিরাট পরিবর্তন এনেছে।

    তিনি ছিলেন যুক্তিবাদী, চিন্তক এবং আপোষহীন। কিন্তু ভদ্রসমাজ, এমনকি অনেক অ্যাক্টিভিস্টও তাঁর এই কাজকে ভাল চোখে দেখেননি। একে যৌনকর্মীদের নিয়ে, তায় বিদেশি ফান্ড নিয়ে কাজ। তিনি এসব বিষয় একেবারেই গায়ে মাখেননি। কাজ শুরুর কয়েক বছর পর তাঁর অফিস ‘অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব হাইজিন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ’-এ কথা ওঠে যে, বড় বড় বিদেশি অর্থ সাহায্যের প্রকল্প তাঁরা পাচ্ছেন না, ডক্টর জানারাই পাচ্ছেন। সেই ইর্ষা থেকে তাঁদের কাছে স্মরজিৎদা হয়ে গেলেন ‘মিরজাফর’। ১৯৯৯ সালে সেখান থেকে বেরিয়ে কোঅপারেটিভ ফর অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যান্ড রিলিফ এভরিহোয়ার বা ‘কেয়ার ইন্টারন্যাশনাল’-এ যোগ দিলেন। সেই বছরই পেয়েছিলেন ন্যাশনাল পাবলিক সার্ভিস এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ড। কেয়ারের চাকরিতে ঢুকে বাংলাদেশ, ব্যাঙ্কক ঘুরে শেষে আস্তানা গাড়েন দিল্লিতে। এইসময় আমেরিকার কয়েকজন রিপাব্লিকান সেনেটর প্রেসিডেন্ট বুশের কাছে দরবার করলেন, ডক্টর জানারা যৌনকর্মীদের যে অধিকারের দাবি তুলছে তা হতে পারে না। চাপ এল, কেয়ার-এর ডিরেক্টর পড়লেন ফাঁপরে। তাই ২০০৬ সালে সেই চাকরি ছাড়লেন। এরপর ২০০৭-০৯ দু’বছর ন্যাশনাল এইডস কন্ট্রোল অর্গানাইজেশনের (ন্যাকো) উপদেষ্টা হয়ে দেশে এইডস নিয়ন্ত্রণের মূল্যবান কাজ করেন। ১৯৯৯ সাল থেকে যতদিন বাইরে ছিলেন গোটা পর্বে দুর্বারের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল নিবিড়। পরবর্তীকাল থেকে আমৃত্যু ছিলেন দুর্বারের অবৈতনিক মুখ্য উপদেষ্টা। তাঁর কাজের জন্য পেয়েছেন নানা পুরস্কার। রোজগারের উপায় ছিল বছরে কয়েকবার আন্তর্জাতিক কনসালটেশন।

    বারুইপুরে ‘রাহুল বিদ্যানিকেতন’ গড়ে উঠেছে বেশ কয়েক একর জায়গা নিয়ে। সেখানে যৌনকর্মীর ছেলে-মেয়েদের থাকার হস্টেল তৈরি হয়েছে। আমলাশোলের কিছু আদিবাসী মেয়েকেও রাখা হয়। লেখাপড়া ছাড়া ফুটবলের ট্রেনিং, চাষবাস, মাছ চাষ – সবই হয়। সেখানে তৈরি হচ্ছে বয়স্ক যৌনকর্মীদের থাকার জায়গা। তৈরি হয়েছে ‘দুর্বার স্পোর্টস অ্যাকাডেমি’। ছেলেদের ভাল ফুটবল টিম হয়েছে। প্রথম দিকে একজন ট্রেনিং দিতেন, এখন দু-তিনজন ভাল কোচ রয়েছে্ন। কিছুদিন আগে ছেলেদের ফুটবল টিম ডেনমার্ক ঘুরে এসেছে। দুজন ফুটবলার ন্যাশনাল টিমে সিলেক্টেড হয়ে পোল্যান্ডও গেছে। স্মরজিৎদা বলতেন ‘আশা করা যায় কয়েক বছরের মধ্যে খেলার মাঠে এই ফুটবল টিমের নামও শোনা যাবে। একটা বারো-তেরো বছরের মেয়ে আছে, দারুণ খেলে।’ আরেকটা ঘটনার কথাও বলতেন, ‘পুরুলিয়ায় যখন তিনদিন ধরে দুর্বারের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয় ফুটবল মাঠে মেয়েদের টিমও নামে। এক বিবাহিত মেয়ে ফুটবল প্লেয়ারকে প্রশ্ন করলাম, তুমি যে খেলতে আস বাড়ি থেকে আপত্তি করে না? আমাকে অবাক করে দিয়ে সে বলল, মাঠে আসার আগে শাশুড়ি আশীর্বাদ করে বলেছে, যাও খেলে জিতে এসো।’

    সুপ্রিম কোর্টে বুদ্ধদেব কর্মকার বনাম পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মামলায় তিনি সুপ্রিম কোর্ট মনোনীত প্যানেলের সদস্য ছিলেন। ২০১৬ সালে প্যানেল সুপারিশ করে, ভোটার এবং রেশন কার্ড ইস্যুর মাধ্যমে তাদের আইনি স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন এবং ১৯৫৬ সালের ইমমরাল ট্র্যাফিক (প্রিভেনশন) অ্যাক্টে বদল এনে তাদের দুষ্কৃতকারী ভাবা বন্ধ করা দরকার। ভোটার  ও রেশনকার্ডের বিনিময়ে তারা সামাজিক কল্যাণের সুবিধা পাবে।

    বলতেন, ‘লেখার জন্য আজকাল তেমন সময় পাই না। করোনার প্রথম পর্যায়ে অনেকেই অনেকটা সময় বাড়িতে ছিল, আমি কিন্তু পুরোটাই অফিস করলাম। আমাদের কর্মকাণ্ড তো বেশ বড়, অফিস না গেলে হয় না। লকডাউনের প্রথম ঢেউয়ের ধাক্কায় এ রাজ্যের যৌনকর্মীরা বিপন্ন হয়ে পড়েছিল। তাই অন্যসব কাজ ছাড়া এরইমধ্যে নানা সংগঠন ও ব্যক্তির কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে রাজ্যের নানা প্রান্তে আমাদের পঁয়ষট্টি হাজার যৌনকর্মীর কাছে রিলিফ পৌঁছে দিতে হল। সে এক বিরাট কর্মযজ্ঞ, প্রতিটি মেয়ের জন্য রিলিফের আলাদা প্যাকেট তৈরি হয়েছে। শেষের দিকে সরকার কিছু কিছু রিলিফ দেওয়া শুরু করল। (গত বছর দেশ জুড়ে লকডাউনের ফলে যৌনকর্মীদের দুর্দশা নিয়ে ডিএমএসসি-র এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলিকে বলা হয় তারা যেন যৌনকর্মীদের বিনামূল্যে রেশন দেয়।) আমি তো লিখতেই চাই, লেখার কথা মাথায়ও আছে, কিন্তু বছরখানেক ধরে একেবারে সময় পাচ্ছি না।’

    মাস ছয়েক আগে বললাম, ‘তোমার বইয়ের মধ্যে সবচেয়ে ভাল লাগে ‘চেনা দেশ অচেনা মানুষ’। বইটা বেশি পাঠকের কাছে পৌঁছনোর জন্য ভাল পাবলিশারকে দেওয়া দরকার। অত ভাল বই অথচ লোকে জানেই না! তুমি নানা বিষয়ে অনেক লিখেছ, ‘দুর্বার ভাবনা’র বড় বড় এডিটোরিয়ালগুলো তো খুবই ভাল, আশির দশকে ‘উৎস মানুষ’-এর লেখা, ‘ড্রাগ অ্যাকশন ফোরাম’-এর হাজার হাজার কপি বিক্রি হওয়া ‘মানুষের জন্য ওষুধ না ওষুধের জন্য মানুষ’ ইত্যাদি বুকলেটগুলো, ইদানীংকালে ‘চিকিৎসার জন্য মানুষ না মানুষের জন্য চিকিৎসা’ এবং ফ্রন্টিয়ারে তোমার লেখা অসাধারণ। এর মধ্যে করোনা নিয়ে লিখেছ, স্বদেশি-বিদেশি কাগজে, চ্যানেলে ইন্টারভিউ দিয়েছ। তবে অনেকদিন ধরে সত্যিই তুমি কম লিখছো।’

    একসময় বলেছিলাম, ‘যৌনকর্মীদের নিয়ে  তোমার কাজের জীবনে নিশ্চয়ই অনেক প্রতিকূলতা পেরিয়েছ? সেই অভিজ্ঞতার কথা কিছু শোনাও।’
     
    বললেন, ‘নানারকমের অনেক ঘটনা আছে। তবে সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং ঘটনাটা বলি শোন। দুর্বার মেয়েদের প্রজেক্ট আর আমি ছেলে -- এই অজুহাতে আমাকে সেখান থেকে সরানোর প্ল্যান করেছিল আমাদের এক ডোনার সংগঠনের সর্বময় কর্ত্রী। তারা কিছু ফান্ড দিত, তবে আমাদের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন ছিল। তার ধারণা ছিল, দুর্বারের যদি ইভ্যালুয়েশন করা হয় তাহলে আমার বদলে একজন মেয়েকে সে বসাতে পারবে। ওইটাই ছিল তার লক্ষ্য। ইভ্যালুয়েশনের জন্য সে চারজনকে ঠিক করে। একজন ছিল নন্দিনী বন্দ্যোপাধ্যায়, সে ব্রিটিশ কাউন্সিলের স্কলারশিপ  নিয়ে কয়েক বছর ইংল্যান্ডে কোর্স করেছে। আরেকজন হল চেরি মার্টেন, সে হু-র (ডব্লিউএইচও) হাই লেভেলের লোক। আর ছিল কেভিন ওরাইলি, কেভিন বিহেভিয়ার ইস্যু নিয়ে কাজ করত। চেরি মার্টেন শেষে আসতে পারেনি। আমি বললাম, না না তোমাকে আসতে হবে। সে যাই হোক, আরেকজন ছিল দিল্লি এইমস-এর ডিন। একজন ছাড়া কেউ বাংলা জানে না। তাঁরা আমাদের মেয়েদের সঙ্গে কথা বলেছেন। মেয়েরা আমি কী করে হাঁটি, কেমন ভাবে কথা বলি হেনা ত্যানা সব ক্যারিকেচার করে দেখিয়েছে। প্রজেক্ট ভিজিট করে, মেয়েদের সাথে কথাবার্তা বলে ওরা ফাইনালি লিখল -- দিস ইস ওয়ান অফ দি বেস্ট প্রজেক্ট, ইফ নট দি বেস্ট প্রজেক্ট ইন দি ওয়ার্ল্ড। বোঝ ঠেলা! পরে তো আমার সঙ্গে তাঁদের খুব বন্ধু্ত্ব হয়েছিল। জিজ্ঞেস করলাম, তোমরা কী করে এসব লিখলে? বলে, দেখো আমরা বিষয়টা অন্য ভাবে দেখি। বহু জায়গায় গেছি কিন্তু প্রজেক্টের হেডকে এইরকম ক্যারিকেচার করা আবার ভালোবাসা, মাথায় তুলে রাখা -- এটা কোথাও দেখিনি। এগুলো ছোট ছোট ব্যাপার কিন্তু ভেরি ইম্পর্ট্যান্ট ইস্যুজ। সেই বাঙালি মহিলা নন্দিনী পরে তো আমাদের প্রজেক্টে ঢুকে গেল। বলে যে, এরকম একটা ভাইব্রান্ট কমিউনিটি! দূর ওদের কথা কী শুনব! অনেক ইন্টারপার্সোনাল, ছোট ছোট ইস্যুগুলো লোকে দেখে। তার সাথে হয়তো কাজের বিরাট কোনও সম্পর্ক নেই।’ 
            




    পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন দেখাতে গিয়ে আমায় একজন বলেছিল, তোমার প্রতি একটা সন্দেহ ছিল। এত ভাল পাওয়ার পয়েন্ট যারা প্রেজেন্ট করে তারা ভাল লোক হয় না, বানিয়ে ভাল বলে। সে কেয়ার-এ ছিল, এখন গেটস ফাউন্ডেশনের কাজ করে। আমাদের প্রজেক্ট ভিজিট করে, দেখে-ঠেকে বলে, জানো তো আমার ওইটা মনে হয়েছিল। আজকাল এরকম একটা ক্যাটেগরি আছে, তারা ওই রকমই হয়। দারুন কথাবার্তা বলছে, ছবি দেখাচ্ছে,  হ্যানো ত্যানো।’
     
    স্মরজিৎদা মনে করতেন মানুষের জীবনে ফ্রিডম ইজ ওয়ান অফ দি বেসিক নেসেসিটিস। সেই প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘আজকাল যৌনকর্মীদের জন্য যে হোম তৈরি হচ্ছে, সেগুলোর কী খবর?’
     
    বললেন, ‘আমাদের গরিব দেশে সবাই ভাবে, ভাল খাওয়া পরা পেলেই হল। কিছু এনজিও আছে যারা মনে করে যৌনকর্মীদের পুনর্বাসন, দুবেলা খাওয়াদাওয়া আর থাকার বন্দোবস্ত করা গেলেই সমাজ থেকে এই ব্যাধি দূর করা যাবে। তারা বিশাল বিশাল থাকার জায়গা বানিয়েছে। চারপাশে উঁচু পাঁচিল তুলে দিয়েছে, বারো-চোদ্দ ফুট পর্যন্ত উঁচু করেছে। তারপরও সেখান থেকে মেয়েরা পালিয়ে আসে। কিছুদিন আগে পাঁচিল টপকে পালিয়ে আসতে গিয়ে দু-তিনজনের পা ভেঙেছে। সেই মেয়েদের খুঁজতে দুর্বারে পুলিশ এসেছিল। বললাম, কী করে বলব মেয়েরা কোথায়  আছে!’ 
     
    ‘স্বাধীনতা যে মানুষের কত বড় চাহিদা তা ওই এনজিওরা জানে না। ব্যাপারটা পরিষ্কার হল আরও কিছুদিন পরে। এক এমএলএ রাজনীতি ছেড়ে দিয়ে সামাজিক উন্নয়ন করে বেড়ায়, হোম চালায়, স্কুল চালায়, নানা কিছু করে। এমএলএ ছিল বলে লাইনআপ আছে। মেদিনীপুর টাউনের ওপর বিশাল জায়গা নিয়ে ট্রেনিং সেন্টার, স্কুল, মেয়েদের রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার করেছে। আমাকে একদিন ফোন করে সে বলল, ডক্টর জানা আপনি দারুন কাজ করছেন। বললাম, কী ব্যাপার! বলে, আপনি মেয়েদের বলুন এখানে এসে একবার ভিজিট করে যাক। ভাল লাগলে থাকবে না হলে থাকবে না। ভাবলাম ভালই তো বলছে। মেদিনীপুর থেকে আধ ঘন্টার রাস্তা খড়গপুর। সেখানে আমাদের দুটো ব্রথেল আছে। কিছু যৌনকর্মী রয়েছে যাদের বয়স হয়েছে, শরীর ভেঙ্গেছে, কাস্টমার হয় না। সেখানে গিয়ে আমি তাদের সাথে কথা বললাম। অনেক বলে কয়ে সাতজনকে সেখানে পাঠানো হল। বললাম, চলে যাও, দেখে-বুঝে এসো, এখনই থাকতে হবে না, পছন্দ হলে থাকবে না হলে চলে আসবে, কেউ আটকাতে পারবে না, আমি কথা দিচ্ছি। তারা ফিরে এসে কয়েকদিন পর জানাল সেখানকার সব ব্যবস্থাই খুব ভাল। সকাল, দুপুর, সন্ধ্যার খাবার ভাল, যত্ন নেয়। সকালে লুচি আলুরদম দিয়েছে, দুপুরে নিরামিষ কিন্তু ভাল খাবার, বিকেলে চা বিস্কুট খেয়ে চলে এসেছে। তবু তারা সেখানে থাকতে চায় না। বললাম, কিন্তু অসুবিধাটা কোথায়! দুদিন পরেতো তোমরা খেতেও পাবে না। বয়স হয়েছে রোজগারপাতি তো নেই, রোজগার হয়? বলে, না, চেয়ে চিন্তে চলে। কোনও মেয়ের যদি ছোট বাচ্চা থাকে তার দেখভাল করে মাসে পাঁচ-ছশো টাকা হয়। তাতে চলে? না, এই-ই হয়। তাহলে যাচ্ছ না কেন? বলে, ওখানে নিয়ম আছে, কখন বেরতে হবে, কখন খাবার দেবে এইসব। সকাল আটটায় ব্রেকফাস্ট, দুপুর একটায় লাঞ্চ। এই বয়সে এত নিয়ম আমাদের পোষায় না। বললাম, কিন্তু হস্টেলে বা ওইরকম কোথাও থাকলে তো নিয়ম মানতে হবে, এটা আর কি এমন! বলে, তারপর যেমন জানেনই তো স্যার, সন্ধ্যাবেলা একটু টানার ইচ্ছে হল, তা তো ওখানে চলবে না। এই বয়সে যদি আমার এইটুকু ইচ্ছা পূরণ না হয় তাহলে কী করে হবে? ফের বললাম, দুদিন পরেতো তোমরা না খেয়ে মরবে? আর কদিন তোমাদের অন্য মেয়েরা পয়সা দেবে? বলে, খাই না খাই আমরা নিজের জায়গায় আছি, সেটা অনেক সুখের। ওখানে গেলে স্বস্তি পাব, সুখ পাব না। মুক্ত জীবনে তাদের কাস্টমার হয় না, খাবার জোটানোই মুশকিল। তবু খাওয়া জুটুক না জুটুক তারা সেখানে বন্দির মত থাকতে চায় না।’         

     
    একদিন বললাম, ‘তোমার কাজের প্রথম উনিশ-কুড়ি বছর ছিল বামফ্রন্ট শাসন। নানা প্রতিকূলতার জন্য মন্ত্রী-সান্ত্রীদের সঙ্গে নিশ্চয়ই দেখা-সাক্ষাত হয়েছে? সেই অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?’

    ‘ভাল কথা বললি। দুর্বারের অনেক বছর হয়ে গেল, কাজকর্ম এখন স্বাভাবিক ভাবেই চলে। এখনকার মন্ত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ কম হয়। কোনও অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আসে, তাদের সঙ্গে ফর্মাল কথাবার্তা হয়। মন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাতের তেমন প্রয়োজন হয় না। বামফ্রন্ট পশ্চিমবঙ্গকে ডুবিয়েছে, অথচ এদের নেতা-মন্ত্রী যত জনের সঙ্গে যৌনকর্মীদের নিয়ে কথা হয়েছে প্রত্যেককেই আমার ভালোমানুষ বলে মনে হয়েছে। ব্যাপারটা বেশ অদ্ভুত না?’
     
    ‘একবার ট্রপিক্যাল থেকে সোনাগাছির মেয়েদের এইচআইভি টেস্ট করার চেষ্টা শুরু হল। মেয়েরা তো সুই ফোটানোর ভয়ে এদিক ওদিক পালাচ্ছে, পুলিশ তাদের ধরে ধরে আনছে। মেয়েদের মধ্যে বিপুল বিক্ষোভ, হই হই লেগে গেল। স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রশান্ত শূরের কাছে গেলাম। তাঁকে চিনতাম না। ভাল করে বিষয়টা বুঝিয়ে বললাম। মেয়েরা কি জন্তুজানোয়ার নাকি যে জোর করে সুই ফুটিয়ে রক্ত পরীক্ষা করতে হবে, তবে এইচ আই ভি-র সুরাহা হবে! তিনি বুঝলেন। পিএ-র মাধ্যমে স্বাস্থ্যসচিব ও স্কুল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিনের মাতব্বরকে পুলিশ দিয়ে ধরপাকড়ের কর্মসূচি বন্ধ করতে বললেন। আরেকবার কোনও এক বিষয়ে আলোচনার জন্য তাঁর বাড়িতে গেছি। থাকতেন সাদামাটা পুরনো সরকারি আবাসনে। জোরালো বৃষ্টি শুরু হল। যেখানে বসে কথা বলছি তার দুই দেয়াল বেয়ে বৃষ্টির জল নামছে। বৃষ্টির ঠেলায় বসে থাকা  যাচ্ছে না। সেখানে বসে কথা বলতে অসুবিধা হচ্ছে দেখে শোবার ঘরে নিয়ে গেলেন! রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ওইরকম আটপৌরে জীবন ভাবা যায়?’
     
    ‘আরেক মন্ত্রী পার্থ দে একবার আমাদের দুর্গাপুরের ক্লিনিক উদ্বোধন করতে যেতে রাজি হলেন। বললেন, সেকেন্ড ক্লাসে আমাদের সঙ্গেই যাবেন। কোনও মতে তাঁকে নিরস্ত করলাম। সভাস্থলে ছোট মঞ্চে বসেছেন। সেখানকার এমপি ফিস ফিস করে তাঁকে বোঝাচ্ছেন, যেখানে মেয়েদের ক্লিনিক হতে চলেছে জমিটা ডিএসপি-র, তাই তিনি যদি অনুষ্ঠানের ফিতে কাটেন তাহলে বেআইনি ব্যাপার স্বীকৃতি পায়। মন্ত্রী তো চুপচাপ তার কথা শুনছেন। আমি ভাবছি, মিটিং-এর সুর না কেটে যায়! ফিতে কাটার আগে মন্ত্রী বললেন, তিনি কিছু বলবেন। সাধারণত ফিতে কাটার পরই প্রধান অতিথি বক্তব্য রাখেন। ও মা! মাইক টেনে তিনি বলতে শুরু করলেন। জিজ্ঞেস করলেন, এই ব্রথেল কতদিনের? সবাই বলল, ষাট-সত্তর বছর। মন্ত্রী বললেন, ষাট-সত্তর বছর ধরে ডিএসপি-র জমিতে ব্রথেল রয়েছে, ডিএসপি কি জানতো না? তা যখন অন্যায় হয়নি, মেয়েদের ভালোর জন্য ক্লিনিক চালু হলে মোটেই অন্যায় হবে না। আমি ডিএসপি-কে অনুরোধ করব, এই ক্লিনিকের খরচ যেন তারা বহন করে।’ একটু থেমে বললেন, ‘মানুষটা এত ভাল যে এখনও আমাদের যোগাযোগ আছে’।

    ‘অনেকদিন আগে (১৯৯৭ সাল) একবার আমরা ঠিক করলাম সল্টলেক স্টেডিয়ামে কয়েকদিন ধরে বড় সম্মেলন করব। বাইরের দেশ থেকেও লোকজন আসবে। সুভাষ চক্রবর্তীর কাছে গিয়ে স্টেডিয়ামের পার্মিশন পেয়ে গেলাম। কিন্তু পুলিশের পার্মিশন কিছুতেই পাচ্ছি না। পুলিশ দপ্তর মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর হাতে। ফের সুভাষ চক্রবর্তীর কাছে গেলাম। বাইরের ঘরে বসে আছি। আমার মত আরও অনেকে বসে আছে। তাঁর স্ত্রী রমলাদি সবাইকে চা-সিঙ্গারা খাওয়াচ্ছেন। আমার ডাক এল। সমস্যার কথা শুনে বললেন, আগের দিন রাতে দুশো মেয়েকে স্টেডিয়ামে ঢুকিয়ে দাও। স্টেডিয়ামের ভিতরে আমাকে না জিজ্ঞেস করে কিছু করতে পারবে না, ওটা আমার এক্তিয়ারে। তবে বাইরে পুলিশ ধরলে কিছু করতে পারব না। সেইমত সন্ধ্যার পর থেকে শ’খানেক মেয়ে স্টেডিয়ামে ঢুকে গেল। রাত দশটা নাগাদ পুলিশ পার্মিশন পেলাম। সম্মেলন চলাকালীন একদিন এসে বললেন, কালকের ডিনারের খরচ আমি দেব। আমাদের সামনেই বিরিয়ানি যে রাঁধবে তাকে ডাকা হল। কিসের বিরিয়ানি হবে? সে বলল, মাটন ছাড়া ভাল বিরিয়ানি হয় না। পরের দিন বৃহস্পতিবার, মাটন পাওয়া যাবে না। অর্ডার হল আজ রাতেই মাটন কিনে রাখ। পরের দিন সম্মেলনের দেড় হাজার লোক বিরিয়ানি খেল।’

    ‘সেই কনফারেন্সে সিপিআই-এর ইন্দ্রজিৎ গুপ্ত এসেছিলেন। তখন তিনি কেন্দ্রে হোম মিনিস্টার। অনেকেই এসেছিলেন কিন্তু তিনি আসাতে অবাকই হয়েছিলাম। দিন তিন-চার আগে তাকে আমরা ইমেল মারফৎ নিমন্ত্রণ করেছিলাম। কী বলেছিলেন এখন মনে নেই, তবে যৌনকর্মীদের নিয়ে অনেক ভাল কথা বলেছিলেন, মেয়েরা খুব খুশি হয়েছিল।’

    ‘ওদিকে বিনয় চৌধুরী অসাধারণ লোক ছিলেন। তাঁর জীবনযাপন ছিল দেখবার মত। আমাদের কথা শুনতেন, সাধ্যমত সাহায্য করতেন। মেদিনীপুরে আমার স্কুলের একশো বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে গেছি। তিনি প্রধান অতিথি। সামনের সারি থেকে আমাকে ডেকে নিলেন ডায়াসে। জানা, ওপরে চল, তোমার সঙ্গে কথা আছে।’
    ***
    বলতেন, ‘কমিটমেন্ট বলে একটা কথা আছে। সেটা থাকতে হবে, দীর্ঘদিন ধরে। এই আমি দুটো ভাল লেখা লিখলাম কিংবা কিছুদিন ভাল কাজ করলাম তারপর আর পারছি না, চলে গেলাম, এরকম করে হয় না।’

    কোভিড নিয়ন্ত্রণের জন্য তৈরি ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্সের সদস্য ছিলেন। কোভিড রোধের জন্য টিকাও নিয়েছিলেন।  তারপরও চলে গেলেন কোভিডেই।

  • বিভাগ : অন্য যৌনতা | ০১ জুন ২০২১ | ১৩৪৩ বার পঠিত | রেটিং ৪.২ (৫ জন)
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Mahasweta Mukherjee | 2402:3a80:196b:e20:678:5634:1232:5476 | ০১ জুন ২০২১ ২০:০২106709
  • Khub sundor likhechen prodip da.suru theke sesh pray purotai chhuye gechen.Durbarer baireo anek bishoy nie sir kaj korechen.apnake dhonnobad eto valo kore lekhar jonyo.

  • Timir Baran Mukherjee | 2402:3a80:1967:e99f:478:5634:1232:5476 | ০২ জুন ২০২১ ১১:৩৪494454
  • Atodin Swarajiter sammabdhe j lekalhaguo peyechi durvagyakrome Drug Action Forumer katha thik pai ni, abarer lekhay kichuta holeo se byapare kichuta beshi alochanay valo laglo. Amra Dhanbade CFRI Sindri te convention o hoyechilo jekhane chilam. Osudher janna manush amra prochareo chilam. Jaihok ai lekhatai aneker janar ichye puran korbe. Dhonybad bondhu, dhonyabad

  • রবীন মজুমদার | 2402:3a80:a50:41fa:0:47:5c5b:6901 | ০৩ জুন ২০২১ ০৭:২৪494493
  • স্মরজিৎ জানা 


    খুব ভালো লিখেছ পকাই। ধন্যবাদ।


    শুধু শিরোনামটা আমার মনে ধরলো না।

  • বিপ্লব রহমান | ০৪ জুন ২০২১ ০৭:৩৯494526
  • এপারে “দুর্বার” এর কাজ নিয়ে বেশ আগে একটি লেখা পড়েছিলাম। এখন এর নেপথ্য নায়কটিকে জেনে ভাল লাগলো। কি বিশাল মাপের মানুষ! তাদের দেখানো পথই আগামী।

    বিনম্র শ্রদ্ধা

  • Amitranjan Basu | ০৪ জুন ২০২১ ০৮:০৪494527
  • লেখাটা ভালো লাগল। স্মরজিৎ আমার ব্যাচমেট ছিল। ওর কাজের ব্যাপারে জানতাম, দু-একটা কাজ‌ও করেছি ওদের সাথে। এই লেখায় অনেক তথ্য আছে যা আমার অজানা ছিল। লেখককে ধন্যবাদ।

  • বিপ্লব রহমান | ০৪ জুন ২০২১ ০৮:৩৬494529
  • অমিত্রাঞ্জন বাবু,

    আপনিও তাকে নিয়ে লিখুন না! অন্তত কিছু স্মৃতিকথা… জেনে সমৃদ্ধ হই। বিনীত অনুরোধ রইলো  

  • বিপ্লব রহমান | ০৪ জুন ২০২১ ০৮:৩৬494528
  • অমিত্রাঞ্জন বাবু,

    আপনিও তাকে নিয়ে লিখুন না! অন্তত কিছু স্মৃতিকথা… জেনে সমৃদ্ধ হই। বিনীত অনুরোধ রইলো  

  • Tapan Kumar SenGupta | ২৮ জুন ২০২১ ১৬:২৭495394
  • প্রদীপ বাবুর লেখায় স্মরজিৎ স্মরণ এক অসাধারণ প্রতিবেদন। 

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। সুচিন্তিত মতামত দিন