• হরিদাস পাল  ব্লগ

  • বিলেতে করোনা: গন্ডগোলটা কোথায়? 

    Rajarshi Raychaudhuri লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ১৪ ডিসেম্বর ২০২০ | ৭২৮ বার পঠিত | ১ জন)
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • ডিপার্টমেন্টে ঢুকে দেখি কেলোর কীর্তি! আইসোলেশন এরিয়ায় ঢোকার মুখে রুগীদের খাবার সাপ্লাই করার জন্যে যে প্যান্ট্রিটি আছে তার ছাদ ভেঙে পড়েছে , সেই সাথে জলের পাইপ ফেটে চতুর্দিক জলময়! তার মধ্যে অ্যাম্বুলেন্সএ করে রুগী আসার কোনো ছুটকারা নেই! তারই মধ্যে কোনোমতে কাজ শুরু করলাম! রাগে গা জ্বলে গেলো কারণ এই সমস্যার কথা বহুবার ম্যানেজমেন্টকে জানানো হয়েছে; তাঁরা নট নড়ন চড়ন নট ফট! এখন (আক্ষরিক অর্থে) বাবুদের কানে জল গেছে , ম্যানেজার বাবুরা গজগজ করতে করতে ঝাঁটা , মপ ইত্যাদি হাতে বন্যা পরিষ্কার করতে নেমেছেন! 


    কোনোমতে অবস্থাটা একটু সামাল দেবার পর মনে হলো যে ঘটনাটার মধ্যে একটা প্রতীকী ব্যাপার আছে। আমাদের হাসপাতালের ছাদ ভেঙে একটা মিনি সুনামি হওয়া আর সারা যুক্তরাজ্যে করোনা ভাইরাস মহামারীকে সামাল দেওয়ার চেষ্টার অব্যবস্থা , দুটোই মোটামুটি একই গোত্রীয় ঘটনা। 


    একটা বছর পিছিয়ে যাওয়া যাক। মোটামুটি এই সময় দিয়ে উহানে দু-একটা ছুটকো-ছাটকা নিউমোনিয়া রুগী ডাক্তারদের নজরে আস্তে আরম্ভ করেছিল। তারপর বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে দিয়ে দেখা গেছে যে নভেল করোনা ভাইরাস সারা  বিশ্বকে জয় করতে পারে কারণ আমাদের হাতে এর কোনো ডেফিনিট চিকিৎসা নেই। ব্রিটেনে প্রথম করোনা রুগী দেখা যায় ২১ ফেব্রুয়ারী। প্রায় সেই একই সময়েই ইতালি এবং স্পেনে কোভিড একেবারে বিদ্ধংসী চেহারা নিয়েছিল; বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ইতালিয়ান সরকার বারংবার সেই কথা ব্রিটেনকে জানিয়েও ছিল। ১৩ই মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনা ভাইরাসকে  অতিমারী ডিক্লেয়ার করে। আশা করা গেছিলো যে ব্রিটেন এই সতর্কতাকে সিরিয়াসলি নেবে। 


    কা কস্য  পরিবেদনা। ব্রিটেনে ফুটবল ম্যাচ থেকে শুরু করে চেলটেনহ্যামের ঘোড়ার রেস সবই চলেছে। বিদেশ থেকে মোটামুটি অবাধে লোকজন বিভিন্ন এয়ারপোর্ট দিয়ে ঢুকেছেন। লক ডাউনের প্রসঙ্গ উঠলে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন যে সমস্যাটা তেমন কিছু নয়! এমনকি হাসপাতালে গিয়ে করোনা রুগীদের সঙ্গে করমর্দন করার কথা বলে সমস্যাটাকে trivialise করার চেষ্টাও করেছেন বীরবিক্রমে! প্রধানমন্ত্রীর বাবা , স্ট্যানলি জনসন বলেছেন পাব বনধ করে তাঁর প্রবল আপত্তি কারণ পাবে যাবার "প্রয়োজন" হলে তিনি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেও পাবে যাবেন! 


    এদিকে ডাক্তার -নার্সরা কোভিদ আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ এমনকি মারা যাচ্ছেন তখনও সরকারি মহল থেকে খুব একটা হেলদোল দেখা যায় নি; পিপিইৰ ব্যবস্থা বা সুষ্ঠূ  পরীক্ষা করার ব্যবস্থা নিয়েও খুব একটা চেষ্টা সরকারি পক্ষ থেকে হয় নি। বরং , বরিস জনসন প্রচুর মৌখিক আস্ফালন করেছেন হার্ড ইমিউনিটি নিয়ে! বস্তুত ব্রিটিশ সরকারের প্রথম উদ্দেশ্য ছিল করোনা ভাইরাস যাতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং তার ফলে যাতে হার্ড ইমিউনিটি তৈরী হয় তার ওপর। আমরা এখন জানি যে এই গড়িমসির জন্যে ব্রিটেনে অন্তত ২০০০০ মানুষ মারা গিয়েছেন যাঁরা হয়তো প্রথম থেকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিলে আজকেও বেঁচে থাকতেন। 


    প্রথম ওয়েভ শেষ হলে দেখা যায় যে ব্রিটেন সারা ইউরোপের শীর্ষে! 


    ৪ঠা জুলাই  ব্রিটেনে পাব ক্লাব , ও রেস্তোরাঁর ওপর করোনা - জনিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলো। ডেইলি মেইল , ডেইলি এক্সপ্রেস ইত্যাদি দক্ষিণপন্থী সংবাদ পত্র ব্যাপারটাকে আখ্যা দিলো Independence ডে! গ্রীষ্মের ছুটিতে বিভিন্ন সী  বীচে রেকর্ড ভীড় হলো। এই সঙ্গে আর একটা "আন্দোলন" শুরু হলো - মাস্ক বিরোধী আন্দোলন। করোনা ভাইরাস তো চলেই গেছে! এমনি ভাবখানা। সত্যিই তখন কোভিড রুগীর সংখ্যা খুবই কমে এসেছিলো; এমনকি আমার হাসপাতালে এমন আলোচনা শুরু হয় যে আইসোলেশন  এরিয়া  এবার উঠিয়ে দিলেই হয়! 


    শুধু  Scientific Advisory Group for Emergencies (SAGE) বলে যাচ্ছিলেন "Everything is NOT Hunky-Dory!" ভাইরাস আছে ,  আমরাও আছি। ভ্যাকসিন এখনো দূর অস্ত! 


    সেপ্টেম্বর থেকে দুটো - একটা করে কেস বাড়তে আরম্ভ করলো। অক্টোবর মাসে স্কুলের দু সপ্তাহ ছুটি থাকে; রুগীর সংখ্যা তখন প্রতিদিন ক্রমবর্ধমান। বরিস জনসনকে বারংবার অনুরোধ করা হলো আবার লক ডাউনের জন্যে , কিন্তু তিনি অনড়!  ক্রিস্টমাসের আগে সব কিছু বন্ধ করলে ব্যবসার সর্বনাশ হবে! সেই সারা দেশ ব্যাপী ব্যবস্থা নিতেই হলো , কিন্তু ততদিনে পাখি উড়ে গেছে! নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর লক ডাউন; কিন্তু তখন দ্বিতীয় ওয়েভ প্রায় সুনামির আকার ধারণ করেছে। 


    বর্তমানে ব্রিটেনের অবস্থা - আঠারো লক্ষের ওপর মানুষ করোনা আক্রান্ত হয়েছেন; চৌষট্টি হাজার একশো সত্তর জন মৃত (এই সংখ্যাটা প্রায় নিশ্চিতভাবে ভুল , কারণ প্রথম ওয়েভ এর অনেককেই এর মধ্যে ধরা হয় নি।) প্রতি  মিলিয়নে মৃতের সংখ্যা ৯৪৩! বিশ্বের ছ নম্বরে! 


    এমনটা হবার তো  কথা  ছিলোনা! ব্রিটেন  বিশ্বের পাঁচ নম্বর ধনী দেশ। ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস সারা বিশ্বের ঈর্ষণীয় । রাজনৈতিক ভাবেও অসুবিধে নেই; বরিস জনসন অল্প কিছুদিন আগেই বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন! How did we mess it up so badly!


    উত্তর খুঁজতে হলে একটু অন্য দিকে তাকান। চারটি  দেশ কিভাবে এই সমস্যাকে মোকাবেলা করেছে তার দিকে একটু নজর দেওয়া যাক। আফটার অল ছোটবেলায় শিখেছিলাম , বানান ভুল হলে ঠিক বানানগুলো শিখবি , ভুল বানান দেখবি না! তাই দেখা যাক নিউ জিল্যান্ড , ভিয়েতনাম , কিউবা এবং চীন কিভাবে এই যুদ্ধটা করেছে। 


    সর্বাগ্রে চীন। রোগটা প্রথম ওই দেশেই আত্মপ্রকাশ করে। উহান , বাদুড় , ধামাচাপা দেবার  চেষ্টা , বিভিন্ন কনস্পিরেসি থিওরির পরেও কয়েকটা তথ্য খুব পরিষ্কার। চীনা বিজ্ঞানীরা ভাইরাসএর জেনেটিক ম্যাপ প্রকাশ করেন ১ জানুয়ারী। উহান এবং হুবেই প্রভিন্সএ অত্যন্ত করা লক ডাউন করা হয়। কিন্তু সেই সঙ্গে পাবলিক সার্ভিস ছিল অক্ষুন্ন। জনজীবন স্তব্ধ হলেও সবার বাড়িতে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছেছে বিনা বাধায়। বিশাল দুটো হাসপাতাল তৈরির কথা এমনিতেই সুবিদিত তার দিকে নতুন করে যাচ্ছি না। নতুন যে জিনিসটা জানতে পারলাম সেটা হচ্ছে এই ব্যাপার - যে রুগীরা সুস্থ হচ্ছেন তাঁদের ব্যায়াম করানোর জন্যে তাই চি এক্সপার্টদের রাখা হয়েছিল। নতুন ধরণের অনেক চিৎসার চেষ্টা হয়েছিল। হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন , এন্টিভাইরাল ওষুধের কম্বিনেশন ইন্টারফেরন আল্ফ়া -২বি সব গুলোই চীনা ডাক্তার এবং বিজ্ঞানীরা চেষ্টা করে দেখেছেন। ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট এ  যে ব্যবস্থাগুলো আমরা নিচ্ছি , সেগুলোর অনেক কিছুই চীনা ডাক্তারদের মাথা থেকে বেরিয়েছে। 


    কয়েকটা সামাজিক ব্যবস্থাও কাজে লেগেছিলো। ব্রিটেনে বৃদ্ধ লোকেদের একটা বড়ো  অংশ বাস করেন রেসিডেন্সিয়াল বা নার্সিং হোম এ। সংখ্যাটা প্রায় ২৯%। সেখানে চীনে এই সংখ্যাটা মাত্র ৩%! ফলে বয়স্কদের সেবা করার ব্যবস্থা এসেছে তাঁদের পরিবার থেকেই। বিলেতে care worker, ও তাঁদের থেকে এই জাতীয় কেয়ার হোমগুলোতে সংক্রমণ ছড়িয়েছে মারাত্মক ভাবে। চীন যখন সবার পরীক্ষার ওপর জোর দিচ্ছিলো এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মাধ্যমে সেই তথ্য বহির্বিশ্বের কাছে জানাচ্ছিল , বিলেতে ম্যাট হ্যাংকক বরিস জনসন প্রমুখেরা প্রধানত কিছু জাতীয়তাবাদী স্লোগান এবং কিছু মিথ্যাচার দিয়ে বিস্তৃতভাবে পরীক্ষা করার অক্ষমতাকে ঢাকবার অক্ষম চেষ্টা করছিলেন। 


    ড্রোন ব্যবহার করে চীনা নেতৃত্ব জনগণের ওপর নজর রেখেছিলেন। ইউটিউবে খোঁজ করলেই পাবেন , ড্রোনের থেকে ইনার মঙ্গোলিয়ায় এক মহিলাকে বলা হচ্ছে "আন্টি! হ্যাঁ আপনাকেই বলছি। ঘরে ঢুকে যান। আর মাস্ক না পরে বেরোবেন না!" ইন ফ্যাক্ট আমি বাড়িতে যে করোনা টেস্ট কিট ব্যবহার করছি সেটাও ওই চীন দেশেই তৈরী! 


    তারপর নিউ জিল্যান্ড। আর জাসিনডা আর্ডেন। রাজনৈতিক নেতৃত্ব কি ভাবে দিতে হয় সেটা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েছেন এই মহিলা। ইতিপূর্বে ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে আক্রমণের সময় থেকেই ক্রাইসিস কিভাবে সামাল দিতে হয় তা দেখিয়েছেন আর্ডেন। প্রথম থেকেই  Test, Trace and Isolate, WHO প্রকাশিত এই গাইডলাইন একেবারে অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছে নিউজিল্যান্ড সরকার। অবশ্য নিউজিল্যান্ডের জনঘনত্ব খুবই কম। ফলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাটা খুব একটা অসুবিধা হয় নি। বলাই বাহুল্য , আর্ডেনকে প্রচুর সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয়েছে। তাঁর সবচেয়ে বড়ো অ্যাডভান্টেজ ছিল বিজ্ঞান মনস্কতা। প্রবল সমালোচনার সামনেও তিনি প্রমান করতে পেরেছিলেন যে বিজ্ঞানীদের বাৎলানো উপায়গুলোতে সত্যিই কাজ হয়! বিশ্বের কাছে এখন পরিষ্কার যে সুষ্ঠূ রাজনৈতিক নেতৃত্বের নাম জাসিনডা আর্ডেন। 


    কিউবা! অতিমারীর শুরুর দিকে যখন ইতালির লোম্বার্ডি টলোমলো , তখন ২১শে মার্চ কিউবার  হেনরি রীভ ব্রিগেডের  ৫৩ জন ডাক্তার এবং নার্স সেখানে পৌঁছোন করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা করবার জন্যে! তাঁদের অধিনায়ক , ৬৮ বছর বয়স্ক লেওনার্দো ফার্নান্দেজ। এই ভদ্রলোক পাঁচ বছর আগে লাইবেরিয়ায় এবোলা এপিডেমিকের মধ্যে চিকিৎসক দল  নিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয় আপনার ভয় করে না? তিনি বললেন , "করবে না? তবে এটা  আমাদের বৈপ্লবিক দায়িত্ব। যাদের ভয় করে না তারা তো সুপারম্যান! আমরা সুপারম্যান নই। আমরা ডাক্তার। so we take out our fear and put it to one side!"


    কয়েক হাজার কিউবান  ডাক্তার  এই মূহূর্তে পৃথিৱীৰ বিভিন্ন  দেশে করোনা রুগীদের চিকিৎসা করছেন। ৯৪২৩ জন অসুস্থ হয়েছেন। ১৩৭ জন মারা গেছেন। প্রতি মিলিয়নে মৃতদের সংখ্যা - ১২! মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লাগাতার এম্বারগো সত্ত্বেও কিউবা বিশ্বের জনগণকে দেখিয়েছে  When The Going Gets Tough, The Tough Gets going!


    সবশেষে ভিয়েতনাম। সুধী পাঠককে অনুরোধ করবো একবার Patient 91 গুগল সার্চ করতে। তারপর ভিয়েতনামি ডাক্তার নার্সদের সম্মন্ধে নিজেরাই মতামত তৈরী করতে পারবেন। (এই বিশেষ রুগীকে নিয়ে পরে আরো লেখার দিচ্ছে কাছে যাই এখনই সব কিছু জানিয়ে দিচ্ছিনা। সাস্পেন্সটা থাকুক! )


    ভিয়েতনাম কমিউনিস্ট দেশ চীনের মতোই। চীনের সঙ্গে একটা বিশাল বর্ডারও আছে। ভিয়েতনাম প্রথম থেকেই জানিয়ে দিয়েছিলো যে তারা মানুষের জীবনকে দেখবে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার ওপরে। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্ত আলোচনা পার্টি মেশিনারির মাধ্যমে সমাজের সমস্ত স্তরে  ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল একদম প্রথম থেকে।  ফলে। প্রথম ঝটকায় ভিয়েতনামে মৃতের সংখ্যা ছিল ......শূন্য!! হ্যাঁ! একজন মারা যায় নি! ইন ফ্যাক্ট সারা দেশের লোক এই রেকর্ড নিয়ে এটি গর্বিত ছিল যে ওই ৯১ নম্বর রুগীকে বাঁচানোর জন্যে বেশ কিছু লোক তাঁদের ফুসফুস দোনাতে করতেও রাজি ছিল! 


    ভিয়েতনামের Worldometer data এইরকম। কেসের সংখ্যা ১৩৯৭; মৃত্যু ৩৫; প্রতি মিলিয়নে মৃত্যু - শূন্য দশমিক ৪ !!


    ও হ্যাঁ! এর মধ্যে ভিয়েতনাম তাঁদের "চিরশত্রু" মার্কিন  যুক্তরাষ্ট্রকে  দু হাজার টন পিপিই পাঠিয়েছিল। 


    সবশেষে এইটুকুই মনে হয়; অতিমারীর চিকিৎসা একটি আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা। প্রতিটি দেশের অধিকার এবং দায়িত্ব আছে অন্য সব দেশকে সাহায্য করার। ইউরোপ আর আমেরিকার তথাকথিত উন্নত দেশগুলোর ক্ষেত্রে দেখছি তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর প্রতি অবজ্ঞা; যাকে  অনেকে বলছেন White Exceptionalism! গ্রিক ভাষায়  একটা কথা আছে - HUBRIS; কথাটার অর্থ দর্প। যে দর্পের  বশবর্তী হয়ে আমাদের পৌরাণিক অনেক চরিত্রের অকালে মুণ্ডচ্ছেদ হয়েছিল। আর দুটো লক্ষণীয় ব্যাপার এই সব কোটা দেশেই জনগণের ট্যাক্সের পয়সায় চলা স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আছে; এখন আপনি বলবেন সেই একই ব্যবস্থা তো ব্রিটেনেরও। ব্রিটেনের মুশকিল , এই ব্যবস্থাকে গত দশ বছরের টোরি শাসনে একেবারে তছনছ করে দিয়েছে। অতিমারীর চিকিৎসায় বামপন্থী চিকিৎসাব্যবস্থা থাকতেই হবে এমন নয় (নিউজিলান্ড পশ্য ) কিন্তু  লিবারাল গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা থাকলে সুবিধাই হয়। 


    সূত্র: 


    1. Worldometer 13/12/2020


    2. Lancet: China's Successful control of COVID 19. Talha Burki.


      Published October 08, 2020DOI: HTTPS://DOI.org/10.1016/S1473-3009(20)30800-8


    3. NEJM Editorial 08 October 2020. 


    N Engl J Med 2020; 383:1479-1480
    DOI: 10.1056/NEJMe2029812


    4. BBC report: patient 91: how Vietnam saved a British Pilot and kept a clean COVID 19 sheet.


    5. Guardian. Vietnam is fighting Covid without pitting economic growth against public health.


    6. Guardian. Cuba sets example with successful programme to control coronavirus.


    7. Reuters. Cuban doctors head to Italy to battle coronavirus. by Nelson Acosta. 22nd March 2020.


  • বিভাগ : ব্লগ | ১৪ ডিসেম্বর ২০২০ | ৭২৮ বার পঠিত | ১ জন)
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন গ্রাহক পুনঃপ্রচার
আরও পড়ুন
হাত - Nirmalya Nag
আরও পড়ুন
অমৃত  - Lipikaa Ghosh
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Rajarshi Raychaudhuri | ১৪ ডিসেম্বর ২০২০ ০২:০৮101089
  • একটা মারাত্মক ভুল হয়েছে। চীনের বৈজ্ঞানিকরা জেনেটিক ম্যাপিং পাবলিশ করেন ১০ই জানুয়ারি। পয়লা জানুয়ারি নয়! কম্পিউটারের গোলযোগ অবশ্যই, কিন্তু তার জন্য আমি ক্ষমা পর্থী।


    আর একটা ব্যাপার, চীনা ডাক্তার ও বৈজ্ঞানিকদের সব চিকিৎসা, যেমন হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন, বা রিটোনাভির/ফ্ল্যাভিপিরাভির ইত্যাদি, কাজ করেনি। কিন্তু তা বলে প্রথম প্রথম চেষ্টা করতে তো আপত্তি নেই!

  • Snehamay Chaudhuri | 150.107.215.191 | ১৪ ডিসেম্বর ২০২০ ০৯:০৬101094
  • খুব সুন্দর তথ্য সমৃদ্ধ লেখা , লেখক  কে ধন্যবাদ  ও অভিনন্দন .

  • হিলিবিলি | 37.111.239.169 | ১৫ ডিসেম্বর ২০২০ ০০:৪৩101102
  • শুরু থেকেই বৃটিশ প্রধানমন্ত্রির গা ছাড়া ভাব নজরে পড়েছে


    এর পিছনে কোনো গুঢ়হ কারণ আছে


    নাকি ট্রাম্পের মত হুদ্দাই আলগা চালিয়াতি


    কে জানে

  • Rajarshi Raychaudhuri | ১৬ ডিসেম্বর ২০২০ ০০:১১101111
  • হিলিবিলি 


    একটা ব্যাপার লক্ষ্য করেছেন নিশ্চয়ই। যে দেশে দক্ষিণপন্থী সরকার আছে, (আমেরিকা, ব্রিটেন, ভারতবর্ষ, ব্রাজিল ইত্যাদি) করোনাভাইরাস তাদের ছিঁড়ে খেয়েছে।


    ব্যাপারটার কারণ সমাজবিজ্ঞান ও পলিটিকাল সায়েন্টিস্টরা আরো ভালো বলতে পারবেন, তবে মনে হয় এই নেতারা সব অবস্থাতেই চেষ্টা করেন তাঁদের "স্পন্সরদের" ইন্টারেস্ট দেখতে!

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আলোচনা করতে মতামত দিন