• হরিদাস পাল  গপ্পো

  • গোরেস্তানে পঙ্খিরাজ

    রোমেল রহমান লেখকের গ্রাহক হোন
    গপ্পো | ১২ জুন ২০২০ | ২০৬ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • গোরেস্তানে মধ্যরাত্রে পঙ্খিরাজ টানা গাড়ি নামে! গাড়ি ভরা লাশ! গোরেস্তানের নীরবতায় ঝিঁঝিঁর ঝিমঝিম টানা সুরের মধ্যে ঝুমঝুমি বাজিয়ে পঙ্খিরাজ গাড়িটা নাজেল হয়ে আস্তে আস্তে এগিয়ে আসে আর  ঘোড়ার ক্ষুরের ক্লান্ত শব্দ চারদিকের মৌনতার মধ্যে রহস্য ঢেলে দেয়! গোরখোদক দুজনের নাম চান মিয়া আর তারা মিয়া! তারা দুইজন যমজ ভাই! চান মিয়া পান খায় আর তারা মিয়া গুল নেয়! দাঁত দেখে আলাদা করা যায় তাদের! কথাবার্তা বলে খুব কম! ফাজিল ছেলেপেলেরা বলে, এরা হইলো কবরের ফেরেশতা মুনকার-নকির! এইসব বেদাতি কথাবার্তা থাক, মূল গল্পে আসা যাক! চান মিয়া তারা মিয়া গত দুই যুগ মুর্দাফরাসের কাজ করতে করতে দাড়িতে পাক ধরিয়ে ফেলার পর একসময় দুনিয়ায় মহামারী লাগে! প্রথম যেই রাত্রে পঙ্খিরাজ গাড়ি ভর্তি লাশ আসে দাফনের জন্য, সঙ্গে থাকে দুজন পুলিশ আর ঘোড়ার সহিস! চান মিয়া তারা মিয়া এতো লাশ দেখে বলে, এক্সিডেন্টের লাশ? পুলিশ বলে, অতো জানার কাজ কি? এখন থেকে রোজ লাশ আসবে, দাফন দিবা! যদি ১৪টা দাফন দেও, খাতায় লিখবা ৪ টা! ২৯ টা হইলে ৯ টা, ৬০ টা হইলে ৬ টা! তারা মিয়া বলে, এইটা কেমন কারবার? পুলিশ বলে, এইটা ছোট সংখ্যা বড় সংখ্যা খেলা, তোমরা বুঝবা না; তোমাদের কাজ কোদাল চালানো আর কবর দেয়া! এহন লাশ গুলান রে কবর দেও! সেদিন সারারাত কেটে যায় তাদের দুজনের লাশগুলো কবর দিতে! ভোরবেলায় পুলিশ যাবার আগে বলে যায়, বাসায় গিয়া ঘুমাও! কেউ বেশি কিছু জিগাইলে বলবা, থানায় খোঁজ নিতে! 



    এর সপ্তাহখানেকের মধ্যে একটা ব্যারাছ্যাড়া লাগে সমস্ত রাজ্যে! গোরেস্তানে দাফনের হিড়িক বেফাঁস হয়ে যায়! ফলে সেদিন রাত্রে যখন পঙ্খিরাজ ভর্তি লাশ আসে! লাশ দাফনের আগে পুলিশ সুঁই সুতো আর শানানো ছুরি দিয়ে বলে, লাশ গুলার মুখ সেলাই কইরা দেও আর চোখ তুইলা আমাদের বস্তায় দেও! চান মিয়া ক্ষেপে গিয়ে বলে ওঠে, এইসব কি বলেন আবোলতাবোল? পুলিশ বলে, আমি বলি না তয় আমার বলতে হয়! তারা মিয়া বলে, মুর্দার সাথে এইসব করতে আমরা রাজি না! পুলিশ বলে, তোমরা করবা না তোমাদের বাপে করবে! চান মিয়া  বলে, এইসব কেন করতে  হবে? পুলিশ বলে, লাশ গুলান যাতে দাফনের পর ফেরেশতাকে সত্য কথা গুলো বলতে না পারে তাই জবান সেলাই করে দেয়া হবে! আর চোখ তুলে নেয়া হবে যাতে চোখ সাক্ষী দিতে না পারে সে কি কি দেখেছিলো জিন্দা অবস্থায়!



    ফলে এক ভয়ঙ্কর দিন নাজেল হয় চান মিয়া আর তারা  মিয়ার জীবনে! তাদেরকে আর বাসায় যেতে দেয়া হয় না! গোরেস্তানের অফিসেই তারা থাকে আর তাদেরকে খানাদানা দেয়া হয়! কিন্তু দুই ভাইয়ের চোখের ঘুম উড়ে যায় আর ক্রমে তাদেরকে দেখলে মনে হয় লোকদুটো জ্যান্ত আছে তবে বহুদিন আগের মরা! কিন্তু মুর্দার ঠোঁট সেলাই করতে করতে আর চোখ তুলতে তুলতে তারা মিয়া উন্মাদ হয়ে যায়! একদিন সে গোরেস্তানের এক দাঁড়কাককে বলে ফেলে এই কুৎসিত সত্য! দাঁড়কাক শুনেই আঁতকে ওঠে! ফলে পরের দিন থেকে আর তারা মিয়াকে দেখা যায় না! আগের রাত্রে তারা মিয়াকে একটা অতিরিক্ত কবর খুঁড়তে হয় এবং চান মিয়াকে দাফনের কাজটা করতে হয় একা একা! ফলে পরের দিন সকালে দেখা যায়, চান মিয়া নিজের হাতে সুঁই সুতো দিয়ে তার ঠোঁট সেলাই করতে থাকে এবং কৃষ্ণচূড়া গাছের ডালে বসে থাকা দাঁড়কাকটা আতঙ্ক নিয়ে কাঁপতে থাকে এই জন্য যে, ঠোঁট সেলাই শেষ হলে চান মিয়া কি তার চোখদুটো নিজ হাতে উপড়ে ফেলবে সমস্ত সাক্ষী মুছে ফেলতে?



    ১১ মে ২০২০

  • বিভাগ : গপ্পো | ১২ জুন ২০২০ | ২০৬ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন গ্রাহক পুনঃপ্রচার
আরও পড়ুন
গল্প - Mahua Dasgupta
আরও পড়ুন
গল্প - Mahua Dasgupta
আরও পড়ুন
ছিপ - Jeet Bhattachariya
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঝপাঝপ প্রতিক্রিয়া দিন