• হরিদাস পাল
  • খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে... (হরিদাস পাল কী?)
  • পাখির মুখে শোনা

    Ritwik Sengupta
    বিভাগ : আলোচনা | ২৪ মার্চ ২০২০ | ১২৫ বার পঠিত
  • অভয়দা আমাদের পাশের পাড়ায় থাকে। মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতির সময়, বেশী পড়াশুনো করতে গিয়ে, নাকি পাগল হয়ে গিয়েছিল। শান্ত পাগল। আমরা এই পাড়ায় এসে অবধি এমনটাই শুনেছি। একদিন আমাদের খেলার মাঠের লাগোয়া ক্লাবঘরের পাশে, বাউন্ডারির থেকে বল কুড়োতে গিয়ে আরো কিছু শুনলাম। ক্লাবের ছেলেদের আলোচনা কানে এসেছিল -। বেশীসময় কাটালাম ঝোপ থেকে বল খোঁজার অজুহাতে। আড়ি পেতে শোনার ঔৎসুক্যে। এই ঔৎসুক্যের একটা কারণ ছিল, অবশ্য, বাড়িতে একুশে-আইন মাফিক নিষেধ- ক্লাবের দাদাদের আলোচনা যেন না শুনি।

    আমি তখন ক্লাস 7 এ উঠব। পুজোর ছুটির ঘটনা।

    আমাদের বাড়ির পাশের মাঠের একদিকে নিরুপমাদি-দের বাসা। বাসা বলছি, কারণ, ওরাও আমাদের মতন ভাড়াটে ছিল। ছোটবয়সে বাবা বুঝিয়েছিলেন - যে বাড়িতে সাময়িক আশ্রয়, যেটা নিজেদের নয়, সেই বাড়ি হল বাসা। আমি বর্তমানেও, সেই অর্থে একটি বাসায় থাকি। বাবা বলেছিলেন - পাখি যেমন, মন চাইলে বাসা পরিবর্তন করতে পারে! মনে ধরেছিল বেশ এই উপমাটা।

    ফিরে আসি নিরুপমাদির কথায়।
    মা-কাকিমাদের আলোচনা শুনেছিলাম, নিরুপমাদিরা তিন বোন আর এক ভাই। ওদের বাবার একার টাকায় সংসার চলবে না বলে নাকি নিরুপমাদি tuition করত। তাছাড়া, আমি তাকে উনান ধরাতে দেখেছি আর দুধ আনতে যেতে ও পুকুরে কাপড় কাচতে আসতে দেখেছি। আর শুনেছিলাম নিরুপমাদি ভালো গান গাইত। কিন্তু তার ভাই হারমোনিয়ামের শব্দে পড়াশুনোয় মন দিতে পারবেনা বলে গান গাওয়ার মত তুচ্ছ সাধ শিকেয় তুলেছে নিরুপমাদি। এই ঘটনাগুলোর একটাও আমার এই গদ্যে নিরুপমাদিকে স্থানাধিকার দেয়নি। যেমন তার কর্মপটুতা ও স্নিগ্ধাপ্রতিমা তাকে সংসার করার অধিকার দেবার জন্য যথেষ্ট ছিলনা।
    যেমন শুরু করেছিলাম - cricket ball কুড়োতে গিয়ে শুনলাম দেবুদা ক্লাবঘরে বসে বলছে - "আসলে ওই অভয় আর নিরুপমার ব্যাপারটা, কোনদিন কেউ মেনে নিতে পারবেনা। তবে এইসব কি চেপে রাখা যায় রে? দেখিস না, ওইদিকে দোকান যেতে গেলে ওই মেয়েটা কেমন অভয়দের বাড়ির গা ঘেঁসে হাঁটে।" সত্যি বলতে, দেবুদার এই কথার মানে তখন বুঝিনি - কিন্তু মনস্থির করেছিলাম একদিন বিকেলে নিরুপমাদিকে দোকানের পথে অনুসরণ করবো।

    যেদিন অনুসরণ করলাম, দিনটা ছিল বেশ কয়েক মাস পরে। আমার ক্লাস 7 এর summer vacationএ।
    নিমকি বিস্কুট কেনার অজুহাতে, খেলার মাঠ থেকে পিছু নিলাম। কয়েক পা সামনে নিরুপমাদি। ধোপার পুকুর ছাড়িয়ে রাস্তাটা যেখানে বাঁদিকে তেরছা হয়েছে, সেখানে একটা জোড়া-অশ্বথ গাছ। তার নীচে লাল সিমেন্টের বেদি। এখানে, গরমের দুপুরে, স্কুল থেকে ফেরার সময়, অনেক মানুষকে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে আয়েস করতে দেখেছি। কখনো কখনো আমারও ইচ্ছে করত এখানে বসে পড়তে। এই গাছের নীচে বসে পড়লাম আমি। দেখতে পাচ্ছি, অদূরে মিন্টুদার দোকানে নিরুপমাদিও রয়েছে। হঠাৎ পিছন থেকে কেউ শচীন কর্তার গান গাইতে শুরু করল -। দেখি ওদের বাড়ির জানলার পাশে বসে নিখাদ কন্ঠে গান গাইছে অভয়দা। কিন্তু পাগল তো, ভাবলাম যদি আমাকে দেখে কিছু বলে বা বাইরে আসে! উঠে আবার বাড়ির রাস্তায় কিছু দূর গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লাম গানটা শুনে যাবো বলে। সেই গানটা শেষ হতেই বুঝতে পারলাম একটা হারমোনিয়াম বেজে চলেছে। এর ফাঁকে আমার দাঁড়িয়ে থাকা রাস্তার বাঁকের কাছাকাছি ফিরতি পথে নিরুপমাদি। অভয়দা পরের গান ধরতেই, আচমকা থেমে, জোড়া-গাছের নীচে বেদিতে বসে পড়ল নিরুপমাদি। এখনও মনে পড়ে - সহজ ঢঙে, ঈষৎ মাথা ঝুঁকিয়ে, এক হাত আড় করে , আরেক হাত গালে দিয়ে। ঠিক যেন "সে সুরেরও মায়াডোরে রাধা বিবসা, চকিতা হরিণিসম থামে সহসা!"..........
    আমি ভাবছি এরপরে কী হয়েছিল ? মনে পড়ছে নিরুপমাদির পিঠময় বিকেলের রোদ আর অমলিন মুখটা একটু উপরে তুলে গান শুনছে। মাথার উপরে গাছের পাতাগুলো ঝুঁকে পড়ে যেন খোঁজ নিচ্ছে কোন রচনার । সে রচনার সম্ভাবনা সীমাহীন ...ওদের সব-পাড়াতে একই অবস্থা....অভয়দা শান্ত পাগল, আর নিরুপমাদির তখনও বিয়ে হয়নি.......। অনেকে বলত গান না গাইতে দেওয়ার অভিমানে নিরুপমাদি নাকি একদিন সন্ধ্যাবেলা নিজের হারমোনিয়ামটা পুকুরে ফেলে দিয়েছিল?!

    শুক-সারি পাখির মুখে শুনলাম, আসলে সেইদিন হারমোনিয়ামটা কাউকে দিয়ে দিয়েছিল নিরুপমাদি। সেই সন্ধ্যার অন্ধকার অশেষ করেছিল তাদের সঙ্গীত ও যৌবন।।

    ঋত্বিক সেনগুপ্ত।।
  • বিভাগ : আলোচনা | ২৪ মার্চ ২০২০ | ১২৫ বার পঠিত
আরও পড়ুন
বলি! - Tridibesh Das
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা ভাইরাস

  • করোনা ভাইরাস

  • গুরুর মোবাইল অ্যাপ চান? খুব সহজ, অ্যাপ ডাউনলোড/ইনস্টল কিস্যু করার দরকার নেই । ফোনের ব্রাউজারে সাইট খুলুন, Add to Home Screen করুন, ইন্সট্রাকশন ফলো করুন, অ্যাপ-এর আইকন তৈরী হবে । খেয়াল রাখবেন, গুরুর মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করতে হলে গুরুতে লগইন করা বাঞ্ছনীয়।
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত