এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • বইনী

    একক লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ১৮ মে ২০১৬ | ১০০৬ বার পঠিত
  • বাড়ি খুঁজছি তখন। অপশন তিনটে। পাহাড়ের ওপর। নদীর ধার। বাজার। পাহাড়ের টং এ বাড়ি নেওয়া চাপের। নিজের গাড়ি নেই। তোর্সা নদীর ধারে নিলে অনেকটা হেঁটে এসে তবে ট্যাক্সি স্ট্যানড, কাজেই চলো মার্কেট এরিয়া। ইমিডিএট বস জিগমে ওয়াংদি কথা দিলো চিন্তা কোরনা অত, তোমার হোটেলে থাকার আয়ু তো আরও একুশ দিন আছে, আমি দেখে দেবো বাড়ি ; চলো বিয়ার খাই।

    অতএব আমরা রোজ আপিসের পরে বিয়ার খাই। তোর্সা নদীর ধারে নাইট ক্যাম্প ও হয়ে গ্যালো একদিন, বাড়ি খোঁজা আর হলনা। প্রমাদ গুনলুম। একদিন ইচ্ছে করে জিগমের সামনেই সীইও কে বল্লুম আমি বাড়ি পাইনি এখনো এভাবে হোটেল থেকে আপিস করা কিঞ্চিত সমস্যার। তিনি দেখি জিগমের হাল -কায়দা সম্বন্ধে বেশ ওয়াকিবহাল। একটু হেসে তারপর সিরিয়াস মুখ করে বললেন : ওটা তাড়াতাড়ি মিটিয়ে নাও। তোমার বসের সঙ্গে নাইট ক্যাম্প করার ফাঁকে একটু গাড়ি নিয়ে শহরে চক্কর দিলেই বাড়িও পেয়ে যাবে। যাঃ কেলো !

    জিগমে ভারী ব্যস্ত হয়ে সেই শনিবার লাঞ্চের পরে গাড়ি নিয়ে হাজির। চলো আজ কয়েকটা বাড়ি দেখে নি। তারপর বাস্কেটবল গ্রাউন্ডে যাবো। আগে বাড়ি। অতএব ঝাড়া দেড় ঘন্টা কুএন্সেল কাগজে বিজ্ঞাপন দেখে দেখে একে তাকে ফোন, বাড়ি ওয়ালাদের সঙ্গে কথা। শনিবারের মার্কেট খুব ভীড় না। ছড়িয়ে ছিটিয়ে এসপারাগাস, ব্রকোলি, তিন চার রকমের ছুর্পি নিয়ে বসা দোকানদার। সকলেই যত না বিক্রিবাটা তারচে বেশি গপ্পে মত্ত। চির্বিরে রোদ,ধুলোতে গলাটা শুকিয়ে আসছে কিন্তু ভয়ে জিগমেকে বলছিনা। এক্ষুনি বাড়ি দেখার পাট চুকিয়ে বলবে চলো বিয়ার খাই। তবে সাঁকো না নাড়াতেই আসে। জিগমে আমাকে বোঝায়: দেখো তুমি বাঙালি, এই মার্কেট এলাকার বাড়িগুলোর টিপিকাল পরিবেশ। তোমার অসুবিধে হবে। আমরা বরং কালকে নদীর ধারে খুঁজবো। চলো আজ কোথাও গিয়ে বসি। তবে বিয়ার খাই বলে বারে ঢুকে যায়না। মার্কেট ছাড়িয়ে এসে একটি পুরনো ধাঁচের বাড়িতে ঢোকে। সাজানো গোছানো লামা পরিবার। গৃহ কর্তা বৃদ্ধ। জপযন্ত্রে নিবিষ্ট। একটি পতঙ্গের মত রোগা কাগজের মত ফর্সা বাচ্চা মেয়ে বেড়িয়ে এসে জিগমে কে হাই বলে। জিগমে তড়িঘড়ি আলাপ করায় এ হচ্ছে মনীষা। আমার একটু কেমন জানি লাগে। নেপালিদের কালচার মত ভুটানিরাও মেয়েদের বইনী বলে ডাকে। বইনী মানে বোন। আমি দুসপ্তাহ এরকম অজস্র বইনী দের সঙ্গে পরিচিত হবার পর অলরেডি ঘোষণা করে দিয়েছিলুম যে এমন পাইকারী হারে মেয়ে দেখলেই বোন বলা আমার পক্ষে সম্ভব না। হুটহাট বোন কীসের ? নাম ধরে ডাকবো।আমাকেও যেন নাম ধরেই ডাকা হয় |জিগমে মেনেও নিয়েছিল। মনীষার ক্ষেত্রে দেখলুম নিজেও নাম ধরে ডাকলো। যাগ্গে যাক।

    মেয়েটি আমাকে জানায় মার্কেটে বাড়ি খুঁজে লাভ নেই | বড্ড ধুলো | বরং নদীর ধারে তার পরিচিত একজন আছে |তাদের চার কামরা ফ্ল্যাট ফাঁকা হয়েছে |ভাড়া দেবে | জিগমে হঠাত এর মধ্যে নাক গলিয়ে বলে শোনো দেব কিন্তু তোমাকে নাম ধরে ডাকবে, সিস্টার না ! মনীষা হেসে ফ্যালে | হাসলে তার লম্বা ফর্সা মুখে চোয়ালের হাড় দৃশ্যমান হয় |

    তপাই মনীষা ভন্নু, মো তপাইলাই দাজু ভনছু, ল ? আমি হেসে ফেলি খানিক অপ্রতিভ হয়ে। এত ছোট মেয়ে দাদা বলতেই পারে। নো প্রবলেম। টুকটাক একথা সেকথার পর বিদায় নিলুম আমরা সেদিন। মনীষা কথা দেয়,পরের দিন গিয়ে নতুন বাড়ি দেখিয়ে দেবে।

    দিন গুলো এগোয় পাগলের মত দ্রুত গতিতে। রাতগুলো মন্থর। আপিসে কাজের চাপে সকাল ন টা থেকে সন্ধ্যে সাতটা-আট টা অবধি মুখ তোলার সময় পাইনা। সিস্টেম স্টাডি -মিটিং এই বেশি সময় চলে যাচ্ছে। পুরনো সফ্টওয়ার সিস্টেমটি একটি আদ্দিকালের ডাইনোসর। চোদ্দ বছরের ডেটা নিয়ে চলে যখন, সে এক দেখার মত জিনিস। গুচ্ছ গুচ্ছ ব্যাচ প্রসেস যার যখন দরকার হয়েছে লিখেছে। রীডানডান্ট কোডে ভর্তি।| তার ওপর, একটা রিপোর্ট চেয়ে পাঠালুম তো দেড়ঘন্টা বাদে সাতশো পাতার প্রিন্ট আউট দিয়ে গ্যালো। ক্ষেপে গিয়ে একটা খুব বেসিক কনভার্টার লিখে নিলুম। জিগমে পাশ থেকে টুকটাক সাহায্য করছে। যেমন, "প্রিন্ট আউট না দিয়ে অমুক কনভার্টার ইউস করে সফ্ট কপি পাঠাবে" এইটা এপ্রুভ করে হাই প্রায়োরিটি অফিস অর্ডার বানিয়ে সীল মেরে সব ডিপার্টমেন্ট এ পাঠিয়ে দিলো। এখানে আবার অফিস অর্ডার ইস্যু না হলে কোনো কাজ হয়না। কোথায় এলুম রে ভাই !

    নদীর ধারে থাকা শুরু করেছি তদ্দিনে। মনীষার দেখা সেই বাড়িতেই। আফটার অফিস জিগ্মের সঙ্গে বিয়ার পানের টেবিলে তার সঙ্গে মোলাকাত হয়েছে কয়েকবার। যদিও একবার বেশ অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তে। ভ্যালেনটাইন এর দিন আমি কিরকম আঁচ করে জিগমেকে এড়িয়ে চোলছিলুম। দেওরাজ এর সঙ্গে বসব সেরকম ঠিকঠাক। জিগমে এসে পাকড়ে নিয়ে গেল। আসলে আপিস থেকে বেরিয়েই দুজন দুবোতল খেয়ে সারাদিনের কাজের একটা সামারি করা
    আমাদের অভ্যেস হয়ে গিয়েছিল। সেদিন ওদিক থেকে মনীষার ফোন আসছে টের পাচ্ছি। জিগমে এদিক থেকে যেই বলেছে বন্ধুর সঙ্গে বসে বিয়ার টানছে অমনি প্রবল চিত্কার। খাইসে রে, এইগুলোকেই আমি এভয়েড করি। এদিকে জিগমে ছাড়বেনা আমাকে। এটা সেটা হেজিয়ে যাচ্ছে, বলছে মনীষা এসে গেলে তুমি দেওরাজদের টেবল এ যেও। রাত্তির দশটা নাগাদ তিনি এলেন | রাগত মুখ, কালো চশমা, কালো পুলোভার। জিগমের ভয় ভয় মুখ।

    তপাই 'সাথী' ভনেকো, দেব দাজু ভন্নু সাকদেই না ?

    এসেই চার্জ। জিগমে একটু ভ্যাবাচ্যাকা মুখ করে বলে : দেব মেরো সাথী হো ! হেসে ম্যানেজ দেবার চেষ্টা করে।

    মনীষা আর রাগ দেখায় না। আমাকে বোঝাবার চেষ্টা করে আরে কাদের সঙ্গে কোথায় বসে মদ গেলে সারারাত ওরকম হুট করে বন্ধুর সঙ্গে আছি বল্লে আমি কী বুঝবো বলো তো ? আমি এদিকে উঠবার চেষ্টা করছি। আজকের দিন দুজনে এনজয় করুক। একটু উসখুস করতেই মনীষা আবার ক্ষেপে যায়। ঐতো দেওরাজদের টেবিলে গিয়ে বসবে, তারচে এখানে বসো। ডিনার করবো। আমি জিগ্মের দিকে তাকাই। অদ্ভূত পাবলিক। কোনো অস্বস্তি নেই। বরং মনীষার রাগ কমেছে দেখে উল্লসিত হয়ে আরও বিয়ার ঢালছে। সেদিন আর ওঠা হলো না। হংস মধ্যে বক যথা হয়ে ডিনার-ফিনার করে বিদায় নিলুম। জিগমের বউ এর কল এসেছিলো মাঝখানে দুবার।

    ঐটুকু মেয়ে আর তার এত চ্যাটাং চ্যাটাং এটিটিউড দেখে বেশ মজাই লাগে। জিগমের এক স্ত্রী বর্তমান এবং তিনি প্রবল পরাক্রমশালী। আর্মি জেনেরাল এর মেয়ে, প্রচুর পরিচিতি ইত্যাদি। তার বরের সঙ্গে চুটিয়ে প্রেম করে চলেছে মনীষা। ভুটানে একাধিক বিয়ে করা প্রচলিত। যদিও রেজিস্টারড ম্যারেজ একটাই করা যায়। মদ খাওয়ার সময় -নদীর ধরে ক্যাম্পে বউ ফোন করলে জিগমে আমাকে ধরিয়ে দেয়। সাক্ষাত প্রমান যে ঐমুহুর্তে কোনো মহিলার সঙ্গে নেই, নেহাতই ছেলে বন্ধুদের নিয়ে ফুর্তি করতে বেরিয়েছে। একদিন জিগমে কে বল্লুম আর মেয়ে পেলেনা এতো বয়েসে অনেক ছোট। প্রবল মাথা ফাথা ঝাঁকিয়ে আমাকে উড়িয়ে দিলো: অনেক ছোট কোথায় ? কুড়ি হয়ে গ্যাছে ! তোমার কথা বাদ্দাও। বয়েসে বড় ছাড়া মনে ধরে না। কী আর বলি। আশিক জনতাকে বোঝানোর চে নতুন বোতলের ছিপি খোলা কাজের কাজ। হাসি ঠাট্টা মদে ডুবে যাই ফের।

    বছর কাটে। ঘুরেফিরে একই জীবন। পাহাড় বেয়ে আপিস যাওয়া, সারাদিন কাজ, নদীর ধার ধরে হাঁটা, রাতভোর আড্ডা আর নেশা। নতুন দুটো মডিউল ডেভেলপ করে স্টেবল হয়ে গ্যাছে। পারচেস আর স্টক। প্রডাকশন মডিউল চলছে। কখনো সেই কাজে থিম্ফু বা দ্রাল্হা ফ্যাক্টরি তে যাই। কখনো নিজে হেড আপিস থেকে অন্য কাওকে পাঠিয়ে দি। ফ্যাক্টরির হেড সিয়াম দর্জের সঙ্গে দিনে দুবার অনলাইন মিটিং আর বাকি দিন ঘাপিয়ে কোড, টিমের কাজ দেখা। কাজের সময় এখানে আড্ডা তামাশার কোনো ব্যাপার নেই। ঠিক সন্ধ্যে হলেই এদের প্রানের মাঝারে এনজয়দেবতা জেগে ওঠেন।

    একদিন দুপুর নাগাদ, শনিবার হবে বোধহয়, বইএর পাতা ওলটাচ্ছি ; জিগমে আর মনীষা হাজির। দুজনেরই চোখ মুখ বেশ থমথমে। জিগমে একটু অস্থিরভাবে চেয়ার টানাটানি করে বসলো । একগেলাস মাত্র বিয়ার দ্রুত মেরে দিয়ে জানালো : বাড়ি ছেড়ে দিয়েছি।

    মানে ? বউ এর সঙ্গে ঝগড়া ?

    দেখো, ছাড়তে তো হতই। আর ছাড়লে ওই বাড়িটাও খোরপোষে যাবে। বাচ্চাটা ইস্কুলে যায়।

    আমি ঘাবড়ে যাই। কথায় কোথায় জানতে পারি বর-বউতে বিশাল ঝামেলা হয়েছে। আমাকে ফোন-সাক্ষী রেখেও বেচারার লাভ হয়নি । বউ ঠিক জানতে পেরেছে মনীষার সঙ্গে সম্পর্কের কথা। ঘরের জিনিসপত্র ভাংচুর করেছে। পুলিশ দিয়ে মনীষাকে আটক করবে ভয় দেখিয়েছে।

    আমি বোকার মত তাকিয়ে থেকে বল্লুম : দুটো-তিনটে বউ তো তোমাদের কালচারে চলে !

    জিগমে হেসে ফেলল : তুমিও যেমন। চলবে না ক্যানো। ঠিকই চলবে। তাই বলে হঠাত জানতে পারলে ফ্লাওয়ার ভাস ছুঁড়ে মারবেনা বা পুলিশ লাগাবেনা এমন কোনো কথা তো নেই !

    গম্ভীর হয়ে গ্যালো তারপর। বউ সত্যিই তার বাপের পরিচিতি কাজে লাগাচ্ছে। হ্যারাস করতে পারে। দুজনে তাই তাজ-টাশি তে ঘর বুক করে আছে। তাতেও যে হ্যারাস করবেনা এমন কথা নেই। আমার মাথা কাজ করেনা। এরকম একটা দিকে যেতে পারে একদিন, ভাবা ছিলো, কিন্তু জিগমের বউ যে এতটা রুদ্রমূর্তি নেবে ভাবিনি। চটপট খানিক হুইস্কি খাই নিজেকে শান্ত করতে। মনীষা আজ আর বকবক বা অন্যদের বকাবকি কিছুই করছে না।
    চুপ হয়ে আছে। একবার আস্তে আস্তে বললো : ইন্ডিয়া চলে যাবে ? দিল্লি তে আমার রিলেটিভ আছে। জিগমে ঝাঁঝিয়ে উঠলো : অফিসে কত কাজ কোনো ধারণা আছে তোমার ? চাকরি চলে যাবে হঠাত এমন ছুটি নিলে। কথাটা সত্যি। জিগমে কোড লেখার কিছু বোঝেনা বিশেষ কিন্তু টেক কল বাদে বাকি যাবতীয় ম্যানেজমেন্ট ওই সামলায়। এদের এই টিপিকাল রয়াল বিউরক্রাসী নিয়ে আমাকে কোনো হ্যাপা পোয়াতে হয়না শুধু ওর জন্যে। মনীষা উঠে ফ্ল্যাটের মধ্যে এদিক ওদিক ঘুরছিল।

    জিগমে কে বল্লুম, এখানে এসেছ তোমার বউ জানে ?

    না, মনে হয়। বর্ডারের ওপার থেকে ভাড়ার ক্যাব নিয়ে সরাসরি এসেছি। ড্রেস কিনতে গেছিলাম। বেড়নোর সময় কিছুই নেওয়া হয়নি।

    এখানেই থেকে গেলে তোমাদের সমস্যা হবে ? আমার প্রবলেম নেই। একা মানুষ, চারটে ঘর।

    জিগমে মনীষার দিকে তাকায়। আমি উঠে বরফ আনতে যাই হুইস্কির জন্যে। আমার পক্ষে যতটুকু সম্ভব জানিয়ে দিয়েছি। এইসব সংসারী লোকদের জৈব প্যাচাল নিয়ে এর চে বেশি মাথা ঘামাবার মানে হয়না। বরং মদ খেলে কাজে দেবে।

    ওরা থেকে যায়। জিগমে একদিন বাদ দিয়ে অফিস জয়েন করে। মনীষা প্রথম দুদিন শকড ছিলো। ধাতস্থ হয় ধীরে ধীরে। আমি শুধু জানিয়ে দিই আমার স্টাডি গোছাবার কোনো অপপ্রয়াস যেন না করে। কিন্তু সে শোনে না। জেদী টাইপ মেয়ে। আমিও আর ঘাঁটাই না। তবে রান্নাঘরে ঢোকার চেষ্টা করেনা। জিগমে হাসতে হাসতে বলে ও খুব ভালো জল গরম বানাতে পারে। তোমার খেতে ইচ্ছে হলে বোলো। ওরা যে কদিন ছিলো বাড়িতেই আড্ডা। আমি রান্না করলেও খাওয়ার টাইমটা মনীষা ঘড়ি ধরে মেন্টেন করে। মাঝরাত অবধি আমি আর জিগমে উপুর্চুপুর মদ গিলবো খালি পেটে সেই সীন নেই। ওদিকে পুলিশ-আদালত এইসব হ্যাংগাম মিটিয়ে একটা সেটলমেন্টএর বন্দোবস্ত হয়ে যায় মাসখানেকের মধ্যে। বাড়িটা গ্যালো, কিছু এককালীন ক্যাশ আর মাসোহারার অঙ্গীকার। মনীষার মুখে এতদিনে স্বাভাবিক হাসি দেখি। এসে বলে :দেব দাজু, বাড়িতে যাব বাবা-মা কে দেখতে। পুরো সময়টা টেনশনে ছিলো মেয়েটা। যদি পুলিশ বাবা-মা কে কোনভাবে হ্যারাস করে। আমি সঙ্গ দিই। এতদিন আমিই বা কোন আক্কেলে এরকম একটা উদ্ভট এডভেঞ্চারে এদের সঙ্গী হলুম ভাবি যেতে যেতে। বাড়িতে পুলিশ এলে কী করতুম। এক্স্যাক্টলি জানিই না কী করতুম। এইজন্যেই চেচে আমাকে, প্রতিবার পারো যাবার রাস্তায় দূর পাহাড়ের মাথায় জেলঘর দেখিয়ে বলে ...ওই যে দেখে রাখো, তোমার যা কান্ডকারখানা তাতে কোনো একদিন কী করে ওখানে চলে যাবে আর ইয়াক শাকাম খেয়ে থাকতে হবে। বরং এখন থেকেই ইয়াক শাকাম খাওয়া প্রাকটিস করো !

    তবু মনীষার দিকে তাকিয়ে এসব দুর্ভাবনা মাথা থেকে বিদায় দি। কিছু একটা বেপরোয়া জেদ আছে এই বাচ্চা মেয়েটার মধ্যে। ও জিগমেকে ভালবাসে। বিয়ে করে সংসারের স্বপ্ন দেখে। এবং সেজন্যে জিগমের বউএর মত প্রবল প্রতিপক্ষের ঘরে থাবা বসাতে পিছপা নয়। জিগমের আগের বাড়ি -ব্যান্ক ব্যালান্স এসব নিয়ে ওর টান নেই। বাড়িতে গিয়ে আমাকে পরিচয় করিয়ে দেয়। দেখি এই বাড়িতে দেব দাজুর নাম সকলেই জানে।

    এইরকম ভাঙ্গা ভাঙ্গা জীবন আর কী। গল্পের পারম্পর্য নেই কোনো। মাঝখানে কিছুদিন দ্র্ল্হা ফরেষ্ট্রী কাটিয়ে এলুম। আমার ইআরপি ডেভেলপমেন্টএর সঙ্গে কোনো সরসরি সম্পর্ক নেই কারন ওই সিস্টেম ডিসাইন ডকুমেন্ট এমনিতেই পেয়ে গেছি, তবু ফ্যাক্টরি ভিসিট মিটে যাওয়ার পর মনে হলো কদিন একা জঙ্গলে থাকি গিয়ে। সে এক বিশাল কর্মযজ্ঞ। ইন্ডিয়াতে অনেকে গাছকাটা নিয়ে এত কথা বলে আরেকদিকে আরেকদল মানুষ নির্বিচারে কেটে যায়। এখানে দেখলুম কতটা সিস্টেমেটিক প্রসেসে এফোরেস্টশন হতে পারে। পুরো জঙ্গলের গাছের ডেটাবেস, কোনটা কত বয়েসে কাটা হবে, তাহলে তার আগেই নতুন গাছ কী পরিমানে লাগানো দরকার, গ্রোথ সিমুলেশন.. সমস্ত ব্যাপারটা এরা মেন্টেন করে চলেছে এত বছর ধরে সুষ্টুভাবে। আমি মাঝখান থেকে ওই হিসেব গুলোকেই অটোমেশন দিয়ে কম্পিউটার স্ক্রীনে তুলে ধরে ক্রেডিট নেব। মিটিং এ কিছু জার্গন ঝাড়ব, ব্যাস। কিন্তু যে সদিচ্ছা, যে ইন্টিগ্রিটি থাকলে মানুষ জঙ্গলকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে তা আমার পক্ষে কোনো মডেল দিয়েই সিমুলেট করা সম্ভব না। এরা অরণ্য কে ভালবাসে। তাই, যা নেয়, ফিরিয়ে দেবার দায় তার চেও বেশি।

    হেড আপিস ফিরেই শুনলুম জিগমে আর মনীষা বিয়ে করছে কদিন বাদেই। এইজন্যেই আমি জঙ্গলে গিয়ে থাকার আর্জি করায় জিগমে ফোনে ঘ্যানঘ্যান করছিল ! হোটেল জুমাল্হারী তে বিয়ে প্লাস রিসেপশন। এইসব রিসেপশন ইত্যাদি অনুষ্টান বেশ বোরিং লাগে। কিন্তু এক্ষেত্রে না গেলে মুশকিল। আমাকে মোটামুটি বরকর্তা গোছের বানিয়ে ফেলেছে এরা। মনীষা বারবার জানতে চায় আমি ঠিক কটায় পৌছচ্ছি। ভুটানিরা এমনিতেই আমুদে জাত। বিয়ে কেন্দ্র করে আরও হই চৈ লেগে যায় বন্ধু-কলীগ দের মধ্যে। মনীষার মুখে টেনশন। স্বাভাবিক। বিয়ে বলে কথা।

    অফিস আওয়ার বাদ্দিলে আমার জীবনে রুটিন বলে কিছু ছিলনা। কাজেই বিয়ের আগের দিন কেঝাং -নর্বু-পালদেন দের সঙ্গে সারারাত তোর্সা নদীতে হল্লা করে কাটলো। সান্তারার সীসন। অস্থায়ী ক্যাম্প বসেছে আর সেখানে অঢেল মদ ও খাদ্যের ব্যবস্থা। কে আর বাড়ি ফেরে। সকাল বেলা ক্যাম্পেই ঘুম ভাঙ্গতে লাফিয়ে উঠে কেঝাং কে জাগালুম। সে কোনদিকে না তাকিয়ে আমাকে নিয়ে গাড়ি স্টার্ট করে দিলো। পড়িমড়ি করে হোটেল জুমাল্হরী। দৌড়ে সিঁড়ি দিয়ে উঠছি তখনও ঘড়ি দেখিনি। নিশ্চই দেরী হয়ে গ্যাছে। কে একটা পাশ কাটিয়ে চলে গ্যালো আপাদমস্তক কালো পোশাকে। হলে এসে ঘড়ি দেখলুম, নাহ আমরা তো আগে আগে পৌছেছি। জিগমে দের আসতে এখনো দুঘন্টা দেরী। যুমাল্হারির ম্যানেজার চেনা। হাই হেলো করে বিয়ার পাঠিয়ে দিলো দুবোতল। খোয়াড়ি কাটানো দরকার। একটু মদ না হলে কাটবেনা।

    কেঝাং দেখি কেমন গুম। মালটার নেশা কাটেনি নির্ঘাত। একচুমুক বিয়ার নিয়ে বলল : ডিড ইউ নোটিশ হার ?

    কো ? মো হেরেকো ছইনা !

    মনীষা। হোয়াইল উই ওয়ার রানিং থ্রু দ্য স্টেয়ারকেস।

    ফাক ! তপাই মাতেকো ছ ! হাউ কাম শী এপিয়ার এট দিস আওয়ার ? যদি এসেও থাকে আমাদের দেখে ডাকবে না ?

    মো মাতেকো ছু ? ? ! কেঝাং সমস্যায় পড়ে যায়। যে পরিমান মদ সারারাত গিলেছে তাতে ভুলভাল দেখা অসম্ভব না। চুপচাপ বিয়ার খেতে থাকে। ঘড়ি দেখে।

    কেঝাং কে ফুল সাজানো তদারক করতে বলে আমি উঠে আসি। চোখে কী আমারও পরেনি। নাহ, চোখ না। গন্ধ। একটা চেনা মানুষ পাশ দিয়ে যত দ্রুতই বেড়িয়ে যাক, বিশেষত মেয়েরা। অস্বস্তি নিয়ে করিডরে পায়চারী করি। মনীষা কোনো' একটা রুমে গেছে। ম্যানেজারকে জিজ্ঞেস করলেই বলে দেবে। জিজ্ঞেস করিনা। করিডোর বেয়ে শেষ কর্নারে লাউঞ্জ বার এর দরজা। একটা জিন নিয়ে দাঁড়িয়ে সিপ দিতে থাকি। মাথায় অনেক ছবি চলতে থাকে। ওরা যেদিন আমার বাড়িতে এসেছিল সেদিন ভেবেই এসেছিল এখানে শেল্টার নেবে। বুদ্ধিটা কার ? আগের পক্ষের ডিভোর্স ফর্মালিটি মিটে গ্যাছে। আরও কিছুদিন কোর্টশিপ চালালে ক্ষতি কী ছিলো। এত তাড়াহুড়ো কিসের। মনীষা এখানে রুমে ঢুকে কী করছে। আবার মাথা কাজ করছেনা। জিনটুকু সাবরে দি।

    খুব কাছাকাছি এসে তবেই মনীষা আমাকে দেখতে পায়, দরজার ভেতর দিকে দাঁড়িয়ে ছিলুম বলে। দাঁড়িয়ে পড়ে। কালো চশমা, চুল অন্যভাবে আঁচরানো| সেই ব্ল্যাক পুলোভার-লেগিংস।

    হোয়াটস আপ ?

    আমিই মুখ খুলি। গলার স্বর থেকে চাইলেও কর্কশ ভাব সরাতে পারিনা। ফাঁকা করিডোর। এখনো লোকের ভীড় শুরু হয়নি। দুটো ফ্লোর ক্লীনার কাত করে রেখে কারা চলে গ্যাছে। বার কাউন্টারের লোকজন নিজেরাই ঝিমন্ত।

    মনীষা একটু এগিয়ে এসে, দাজু ...বলে চুপ করে থাকে।

    কেটে কেটে বলে : সাম ওল্ড ফাইল নিডেড টু বি ক্লোসড।

    আর ইউ সিওর ?

    ইয়েস দাজু।

    আমি তার চোখ দেখতে পাইনা। চোয়ালের হাড় দেখি। রোগা ফর্সা পতঙ্গপ্রতিম মেয়েটার রুজ -মেকাপ -ঝুলে থাকা চুলের কায়্দাবাজি লকস ভেদ করে জেগে থাকা দুটো ম্যান্ডিবল বোনস। নীচে ট্যাক্সি দাঁড় করানোই ছিলো। সে দ্রুত নেবে বেড়িয়ে যায়।

    বিয়ের অনুষ্টান যেমন হয় বিশাল হৈহল্লা, গান, মদের ফুর্তি। কেঝাং আরও মদ খায়। আমি কিছু অভিনব ককটেল বানাতে গিয়ে ছড়াই মত্ত অবস্থায় কম-বেশি ঢেলে ফেলে। খাওয়া-দাওয়া আনন্দ অনুষ্টান শেষে নতুন বর-বউ কে গাড়িতে তুলে যখন সবাই ফিরছি তখন একেকজনকে ধরে রাস্তা দিয়ে গড়িয়ে দিলেই যে যার বাড়ি পৌছে যাবে এমন অবস্থা। তার পরেও মাঝ রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে মাতাল দের গান -বাজনা হয়। কার গলা দিয়ে যে কী সুর বেরোচ্ছিল তা তোর্সানদীর ড্রাইভওয়ের ভুটে কুকুরেরা মনে রাখতে পারবে। আমার অন্তত মনে নেই।

    বছর কেটে গেছে তারপর। কাজের ব্যস্ততা বেড়েছে। উইকএন্ড ছাড়া সবার সঙ্গে দেখাই হয়না। তারই মধ্যে হঠাত এক দুর্ঘটনা ঘটিয়ে আমি ঘরে শয্যাশায়ী। বুকের খান চারেক রিবস দু টুকরো, পাহাড় থেকে গড়িয়ে পড়ে। জিগমে দৌরদৌড়ি করলো অফিসের কাজ সামলেই। সাতদিন রাম আর ওয়াই ওয়াই খেয়ে শুয়ে রইলুম ব্যথার চোটে। তারপর মা এলেন কলকাতা থেকে। হই চৈ ব্যাপার। প্রচুর এটেনশন পাচ্ছি। এদিকে আমার উল্টোদিকের ফ্ল্যাটের বিহারী গৃহবধু যিনি কস্মিনকালেও আমার সঙ্গে কথা বলেন না,এই সময় যেচে আলাপ করে মা কে শুনিয়ে দিয়েছেন যে আমার ফ্ল্যাটে পার্টি লেগেই থাকে আর কে একটা হাফপ্যান্ট পরা মেয়ে প্রায়ই আসে এবং অনেকক্ষণ থাকে।

    দুদিন বাদেই হাফপ্যান্ট এর সঙ্গে মায়ের আলাপ করানোর সৌভাগ্য হলো যা হোক। মনীষা বুম্থাং হপ্তাদুই আগে রিলেটিভএর বাড়ি। সদ্য আজ সকালে ফিরেছে। সেই সুপার কনফিডেন্ট মিনিওন মূর্তি এসেই .......আন্টি আপনি বিশ্রাম নিন আমি দাজু কে খেতে দিচ্ছি বলে লাঞ্চ বক্স খুলে বের করলো গরম গরম এস্পার্গাস-বীফ কারী। ভুরভুর করে ভুজ্জলাকিয়ার সুগন্ধ বেরোচ্ছে তাই দিয়ে। আর চীস-মাশরুম। কতদিন বাদে পেটপুরে খেলুম মনে হলো। পাশ ফেরা বারণ আর গিলতে গেলেই রিবস নড়ে যায় খটখট করে এই ভৌতিক আত্মানুভুতি টুকু বাদ্দিলে তোফা লাঞ্চ। এদিকে মা বলছেন, কী এনেছে রে মনীষা ....চিকেন স্টু ? সে থতমত খেয়ে আমাকে জিগায় : আন্টি বীফ খান না, না ? তুমি খাও। আমি ওদিকে সামলাচ্ছি ! চেটেপুটে খেয়ে যাই। মেয়েটা এরকম রান্না করতে শিখে নিল কবে কেজানে। আর এমন লুকিয়ে লুকিয়ে খাইনি কতোকাল। সেই ছোটব্যালায় বোন আচার এনে দিত জ্বরের সময়। অনেক, অনেকদিনের কথা সেসব।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ব্লগ | ১৮ মে ২০১৬ | ১০০৬ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    নাইটো - একক
    আরও পড়ুন
    সিপাহী - একক
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • de | ১৮ মে ২০১৬ ০২:১৩54691
  • ক্ষীইই ভালো!!
  • Ekak | ১৮ মে ২০১৬ ০২:৪৪54692
  • শ্চ

    উপহার পেতে তো ভালই লাগবে, তার ওপর ভূটনিস গান :)
  • dd | ১৮ মে ২০১৬ ০৩:৩১54693
  • দুটো কথা ছিলো।

    যদিও এই লেখাগুলি ঠিক উপন্যাসের মতন পর পর ঘটনা নয়, প্রতিটি এপিসোডই ইন্ডিপেন্ডেন্ট অফ ইচ আদার - তাও ও, এগুলানেরে একত্তর করে রাখা যায় না?মানে আলাদা আলাদা করে না লিখে পর পর একটা"এককের ভুটান সমগ্র" ব্লগ খুলে?

    আর সেকেন্ডলি - একেকটা লেখায় প্রচুর পরিমানে ভুটানী কথা থাকে। সেগুলো বাদ্দিলে কী হয়? যাস্ট একটা দুটো ভুটানী শব্দ না, বেশ কথাবার্ত্তা থাকে ভুটানীতে। হোয়াই? মনে পরলো বিষ্ণু দে, সে প্রায় পঞ্চাশ বছর আগে ভয়ানক সংস্কৃত ঘেঁষা পদ্যে দুম দাম জর্মন শোলোক লাগিয়ে দিতেন। মানে চার লাইন বাংলা আর তার পর চার লাইন জর্মন। বিশুদ্ধ আঁতলামী বা নিতান্ত বোরিং।

    না কি?
  • b | ১৮ মে ২০১৬ ০৪:৩২54694
  • নেপালী তো। ভূটানী লয় কো।
  • Ekak | ১৮ মে ২০১৬ ০৮:১০54695
  • হোয়াই :

    প্রথমত ভুটানি অর্থাত জংখা ভাষা "ইটটি ওয়ে " লেখাটিতে একদম প্রথম কনভার্সেশন এ চার লাইন আছে। এছাড়া কোথাও নেই। যে শ্লোক বা গানগুলো আছে ওগুলো পালি। জংখা না। জন্গ্খার সংস্পর্শে এসে পালির উচ্চারণ রীতি পুরো বদলে গ্যাছে বলে অন্যরকম লাগে কিন্তু কান করে শুনলেই বোঝা যায়। যা সংস্কৃতে "চিত্তয়া " তা পালিতে "চিতথাযা " আর ভুটানে এসে হচ্ছে সিটভায়া। "ইত্থা" ভুটানে এসে হয়ে যাচ্ছে "ইটটি ওয়ে"। সংস্কৃত "বোধিসত্ত্বয়া" ভুটানে এসে "বু ডি সাটভায়া "।

    এসব বাদে বাকি কনভারসেশন অর্থাত যা বাংলা বা ইংরিজি নয় তা সবই নেপালি। ইংলিশ -জংখা-নেপালি মিশিয়ে কথা বলা ভীষণ কমন ভুটানে। মানে একই বাক্যে নেপালির মধ্যে প্রচুর জংখা শব্দ ঢুকে থাকে বাস্তবে। যেটা আমি এখানে কন্শাশ্লি বর্জন করেছি কারণ ঐভাবে লিখলে পাঠক কিছুই বুঝতে পারবেন না। যদিও এটাই ওখানকার মজা, প্রচুর শব্দ রাত্রদিন শুনতুম যার মানে তক্ষুনি বোঝা যেত না। কখনো কন্টেক্স্ট থেকে, কখনো জিজ্ঞেস করে একটা ধারণা হত। কিন্তু পাঠক কে সেরকম এক্সর্সাইস এর মধ্যে ফেললে মুশকিল, তাই ওই নেপালি -জংখা মিশ্রভাষা এড়িয়ে কথ্য নেপালী তেই লেখা বেশ কিছু কনভার্সেশন।

    সেটুকুও রাখার কারণ, নেপালী -মৈথিলি -বাংলা খুবই কাছাকাছি ভাষা। অনেকেই শুনে বুঝতে পারেন। যা বাংলা কবিতার "হেরিয়া " ওদের তাই "হেরেকো"। কবিতায় যাকে "ভনই বিদ্যাপতি " পড়ছেন ওটাই নেপালি তে গিয়ে "বিদ্যাপতি লে ভনেকো "। বাঙালি পাঠক দের মৈথিলি এক্স্পসার আছে তাই টুকটাক নেপালি বুঝতে অসুবিধে হবেনা এটাই ভেবেছিলুম। পাশাপাশি চর্চিত ভাষা মিশ্র ফর্মে লেখার প্রচলন তো সাহিত্যে আছে, তাই না ? কত উত্তরবঙ্গের, এমনকি কলকাতার বাঙালি ফ্লুএনটলি নেপালি বলেন। সংস্কৃতে জর্মন গুঁজে দেওয়ার সঙ্গে এটা কতটা তুল্য জানিনে।কারণ সংস্কৃত ও জর্মন আদি তে সম্পর্কযুক্ত হলেও পাশাপাশি চর্চিত ভাষা না।

    এর পরেও অসুবিধে হলে, ফুটনোট এ সবকিছুর বাংলা লিখে দিতে পারি, গোটা লেখাকে বাঙালিকরণ করে রসহানি করতে চাই না।
  • একক | ১৮ মে ২০১৬ ০৯:২৭54686
  • #
  • shouvik ghosh | ১৮ মে ২০১৬ ১০:২৭54687
  • শৌভিক ঘোশ

    খুব ভলো গল্পো

    আরো এরোকোম গল্পো চই
  • avi | ১৮ মে ২০১৬ ১০:৪১54688
  • আরে এটা তুখোড় গপ্পো হয়্রছে তো। খুব ভালো লাগলো পড়ে।
  • sch | ১৮ মে ২০১৬ ১২:২৫54689
  • একক এই লেখা টার জন্য কি এপনাকে দুটো নতুন ভূটানী গান উপহার দেব?
  • sch | ১৮ মে ২০১৬ ১২:২৫54690
  • একক এই লেখা টার জন্য কি এপনাকে দুটো নতুন ভূটানী গান উপহার দেব?
  • শান্তনু কুমার দাশ | ১৯ মে ২০১৬ ০৩:৩৮54697
  • অসম্ভব সুন্দর। একে বলে লেখা।
  • শান্তনু কুমার দাশ | ১৯ মে ২০১৬ ০৩:৩৮54696
  • অসম্ভব সুন্দর। একে বলে লেখা।
  • Prativa Sarker | ২০ মে ২০১৬ ০৬:২৫54700
  • নিটোল গল্প। ছোট ছোট ছেঁড়া ছেঁড়া ছবি সবটা জুড়ে। তারমধ্য দিয়েই চমৎকার ফুটে ওঠে সব চরিত্রগুলো আর ঘটনারা।
    ঐদিকে ছোটবেলা কাটাবার সুবাদে এরা প্রত্যেকে আমার চেনা। যেন দেখতে পেলাম সবাইকে।
    আরো চাই।
  • d | ২০ মে ২০১৬ ০৮:৪৩54698
  • বাহ এইটে ভারী ভাল তো! বেশ নরমমত মিষ্টিমত।
  • de | ২০ মে ২০১৬ ০৮:৪৮54699
  • ভাষা প্রসঙ্গে আমার অভিমত -

    নেপালী/ভূটানি ভাষা ইউজ করে একটা অন্যরকম ফ্লেভার এসেছে লেখাটায়। ইন ফ্যাক্ট, সব কিছুর মানে লিখে দেবার মোটেও দরকার নেই - ওই একটু অজানা, একটু আন্দাজ করে নেওয়া - এইটেই দিব্বি লাগে!
  • ঝর্না | ২২ মে ২০১৬ ০৪:৪৪54701
  • দারুন গল্প...খুব ভালোলাগল পড়ে...
  • একক | ০১ জুলাই ২০১৬ ০১:০৭54702
  • আগের দুটো বেটার ছিল| এটায় কথা বেশি|
  • zaman | ০৬ জুলাই ২০১৭ ০৭:১১54703
  • আমার মনে হয় এই বাস্তব কাহিনী, না হলে এত বিস্তারিত হয় কিভাবে !!!!!!!!!
  • Shn | ১০ জুলাই ২০১৭ ১২:৪৮54704
  • বেশ ভালো লাগলো, একক। অনেকদিন পরে তোমার লেখা পড়লাম।
  • শঙ্খ | ২৩ জুলাই ২০১৭ ০৬:৩৫54705
  • বাহ, দারুণ লাগলো পড়ে। খুব ফ্লুয়েন্ট। জঙ্খা র ব্যবহারও মাপমত, খুব একটা অসুবিধে হয়নি বুঝতে।
  • . | ০৫ এপ্রিল ২০১৯ ০৪:১৫54706
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা মনে চায় মতামত দিন