এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • ব্যোমকেশ, ফেলুদা ও মগজাস্ত্র

    শারদ্বত লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ০৩ মে ২০১৬ | ২৫১৬৬ বার পঠিত
  • সত্যজিৎকে নিয়ে আমরা কথা বলতে ভালোবাসি। আমরা খুবই সামান্য মানুষ। উচ্চাকাঙ্ক্ষা-স্বপ্ন-পরিশ্রম-লক্ষ্য সবই ছোটমাপের করে গড়ে নিই আমরা, তাই চারপাশে কেউ একটা অসাধ্য-সাধন করে বসলে আমরা তাঁর মতো হওয়ার পরিশ্রম না করে পুজো করতে শুরু করে দিই তাঁকে। শর্টকাট। কিন্তু এই পোস্ট সেজন্য নয়, সেই পুজো-সমালোচনার বাইরে কয়েকটা কথা বলতে ইচ্ছে হল। যাদবপুরে শেষ সেমেস্টারে স্পেশাল পেপার ছিল 'গোয়েন্দা-সাহিত্য'। সেই ক্লাসগুলোয় আমরা কিছু আলোচনা করতাম শম্পাদি-কাফিদার সঙ্গে। সেই সময়ের আলোচনা আর নিজস্ব চিন্তা থেকে তুলে আনা কিছু কথা আজকে প্রাসঙ্গিক হতে পারে।

    আমরা সবাই রাজনৈতিক। আমাদের প্রতিটি আচরণের, প্রতিটি কথার, প্রতিটি চুপ করে থাকার একটা করে রাজনৈতিক অবস্থান আছে। আমাদের সাহিত্যও, রাজনৈতিক উপন্যাস থেকে ননসেন্স ভার্স, সবকিছুরই একটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকে, সাহিত্যের পাঠকরা সেটা জানি। বাংলা সাহিত্যের সেরা দুই গোয়েন্দা চরিত্রের মধ্যে আমরা যদি রাজনীতি খুঁজতে থাকি, অনেক মণিমুক্তোই বেরোবে, অস্বস্তিও।

    আমার ব্যোমকেশকে ফেলুদার চেয়ে ঢের বেশি ভালো লাগে, তাকে মনে হয় অনেক বেশি পরিণত, শাণিত, মার্জিত। অন্যদিকে ফেলুদা টিন আইডল। টিন-এজ পেরনোর পর তাই বোধহয় ফেলুদা আর পাতে ওঠে না পাঠকের। ব্যোমকেশের কিন্তু এই বয়েসের বাধাটা নেই। সত্যজিৎ যখন ফেলুদা লিখতে শুরু করছেন, তখন বাজার ছেয়ে আছে দেব-সাহিত্য-কুটীর-সিরিজে-স্বপনকুমারে। এই ধরণের বইগুলোয় গোয়েন্দার বুদ্ধিবৃত্তির চেয়ে টিন এজারদের মনোরঞ্জনের উপাদান রাখার গুরুত্বটাই বেশি ছিল। ফলে আজগুবি কাহিনি আর সস্তা চমকে বোঝাই ছিল। সেকালের বাবা-মায়েরা 'ডিটেকটিভ বই' পড়তে দেখলে সেজন্যই চটে যেতেন। শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়কেও ব্যোমকেশ লেখার সময় এরকম প্রতিকূল পরিস্থিতি সামলাতে হয়েছিল। ডিটেকটিভ সাহিত্য সম্পর্কে পাঠকদের নাক সিঁটকানো দেখে তিনি লিখেছিলেন, '... আমাদের দেশে উহার প্রতি সাধারণের এত অশ্রদ্ধা কেন? প্রথম কারণ, যাঁহারা এদেশে সর্বাগ্রে গোয়েন্দা গল্প লিখিতে আরম্ভ করিয়াছিলেন তাঁহাদের অক্ষমতা। তাঁহারা গোড়াতেই জিনিসটাকে খেলো করিয়া দিয়া গিয়াছেন। ... ডিটেকটিভ গল্প যেন অন্ত্যজের ঘরেই জন্মগ্রহণ করিয়াছে, তাই বর্ণশ্রেষ্ঠদের কাছে হেয় ও অবজ্ঞাত হইয়া রহিল। ইহা ডিটেকটিভ গল্পের দোষ নহে- দোষ তাহার জন্মদাতাদের। দ্বিতীয় কারণ, বিদেশ হইতে তৃতীয় শ্রেণির ডিটেকটিভ গল্পের আমদানী...'

    সত্যজিতের সময়ে এই শ্রেণির সাহিত্য বাজার ছেয়ে ফেলেছে। সেসময় ফেলুদার কৌলীন্য বজায় রাখা হয়েছিল 'দেশ' পত্রিকায় প্রকাশ করে। আজকের দিনে প্রকাশিত হলে আমরা ব্যোমকেশকে 'দেশ'এর পাতায় দেখতে পেতাম, ফেলুদাকে কিন্তু 'আনন্দমেলা'র বাইরে ভাবাই যেত না। এসব কথা থাক, দু'একটা ঘটনা বা পরিস্থিতি উল্লেখ করলে এই লেখকদ্বয়ের জিনিয়াস আন্দাজ করতে পারি আমরা...

    ব্যোমকেশ বল্লভভাই প্যাটেলের অনুরোধে একটি কেস সলভ করতে যায় দিল্লিতে। এই উল্লেখ থেকে শরদিন্দুর রাজনৈতিক অবস্থানটা স্পষ্ট ধরা যায় বটে, কিন্তু আরো মজা আছে 'আদিম রিপু'তে। গল্পটা আমরা পড়েছি, বা না পড়ে থাকলেও অঞ্জন দত্তর ফিল্মটা দেখেছি। যদিও ফিল্মের সময়টা এগিয়ে যাওয়ায় এই সূক্ষ্ম দিকটা মাঠে মারা গেছে।

    'আদিম রিপু'র শেষ দিকটা মনে করা যাক। অনাদি হালদারকে খুন করা সত্ত্বেও ব্যোমকেশ প্রভাত হালদারকে পিতৃপরিচয় জানার শাস্তি দিয়েই ছেড়ে দ্যায়। ছেড়ে দেওয়ার আরেকটা কারণ, সেদিন ভারতের স্বাধীনতা পাওয়ার দিনটা। এই ঘটনা-কাল-রাজনৈতিক পরিস্থিতির পেছনে আরেকটা সূক্ষ্ম দিক আছে। অনাদি হালদার একজন ডাকাত-পিতৃহন্তার পাশাপাশি একজন কালোবাজারিও ছিল। যুদ্ধ ও দুর্ভিক্ষের সময় কালোবাজারির মাধ্যমেই সে বিপুল সম্পত্তির অধিকারী হয়েছিল, তাকে মারার জন্য প্রভাতের কোনো শাস্তিই হল না... পাঠকের মনে আছে, নেহরুর সেই বিখ্যাত লাইন, 'স্বাধীনতার পর প্রত্যেক কালোবাজারিকে ল্যাম্পপোস্টে ফাঁসি দেওয়া হবে!' সেই লাইনটা মনে রেখে আরেকবার 'আদিম রিপু' পড়ে ফেলুন।

    সত্যজিতের প্রথমদিকের উপন্যাসে লালমোহনবাবুর অস্তিত্ব নেই। সোনার কেল্লায় তাঁকে প্রথম দেখি আমরা। তার আগে ফেলুদার কাহিনিগুলো উপভোগ্য হলেও মজার হয়ে ওঠেনি সেরকম। লালমোহনবাবু আসার পর ফেলুদা সিরিজ সব বয়েসের সমস্ত পাঠকের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ফিল্ম হওয়ার পর থেকে বাকিটা ইতিহাস। এবার লালমোহনবাবু চরিত্রটাকে যদি আমরা একটু খুঁটিয়ে দেখি, দেখতে পাব, আদ্যন্ত সাধাসিধে, বোকাবোকা প্রশ্ন করেন, ভাবেন কম, অথবা, যেটুকু ভাবেন তা ভুল ভাবেন। অথচ এই চরিত্রটা একজন বেস্টসেলার কিশোর উপন্যাস রচয়িতা, যাঁর নায়ক প্রখর রুদ্র, উপন্যাসগুলোর নাম যতটা না সত্যিকারের, তার চেয়ে ঢের বেশি প্যারডি, যাঁর কাহিনিতে উটেরা পাকস্থলীতে জল নিয়ে মরুভূমি পাড়ি দ্যায়। বুদ্ধিমান ফেলু মিত্তির তাঁকে কথায় কথায় অপদস্থ করেন, তিনি এতটাই সরল (পড়ুন বোকা) যে সেটাও ধরতে পারেন না।

    খুব সূক্ষ্মভাবে এখানে সত্যজিৎ অন্যান্য বেস্টসেলার কিশোর রচয়িতাদের কী ভাবতেন, তার ছায়া পড়ে। ফেলুদা তো সত্যজিতেরই প্রতিভূ। ভাবুন দেখি, যাকে পরাজিত (মগজাস্ত্র ও বাজার, দু'জায়গাতেই) করতে চাইছেন, তাকে নিজেরই সিরিজে একটা কমিক চরিত্র বানিয়ে তাকে ক্ষণে ক্ষণে অপদস্থ করা, পাঠকের কাছে একইসঙ্গে হাস্যাস্পদ আর জনপ্রিয় করে তোলা, পাঠকের মনে এই লেখকদের সম্পর্কে একটা স্থায়ী তাচ্ছিল্যের বীজ পুঁতে দেওয়া- এই সবকটা পাখি একঢিলে মারতে হলে, কীরকম জিনিয়াস হতে হয়। এঁকে বাকিরা প্রণাম করুন গে, আমি বরং বলি, 'আয় তোর মুন্ডুটা দেখি, আয় দেখি “ফুটোস্কোপ” দিয়ে'।

    মগজাস্ত্রকে সেলাম।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ব্লগ | ০৩ মে ২০১৬ | ২৫১৬৬ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Tim | ০৫ মে ২০১৬ ০৬:০৩54430
  • সব বাংলাই ভালো লাগেনা। চিয়ার্সের বদলে উল্লাস বিশ্রি লাগে। হয়ত বয়স হয়েছে বলে।

    স্যান, স্বপ্নকে স্বপ্ন বলবোনা তো কি বলবো? ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল মানে ফিটফাট ইউনিফর্ম, কো এড, স্টাইলিশ। সব মিলিয়ে একটা স্মার্ট প্যাকেজ, যা সেই সময়ের বাংলা মাধ্যম কিশোর কিশোরীদের কাছে স্বপ্নরাজ্য ছিলো। হ্যাঁ এর ব্যতিক্রম কি নেই, যাদের বাড়িতেই শিক্ষক শিক্ষিকা আছেন, পড়াশুনোর খুব চর্চা, তাদের হতোনা এসব হীনমন্যতা। কিন্তু ছাপোষা বাড়িতে এগুলো খুব মনে হওয়ার কথা। এটা জে হীনমন্যতা ও অনর্থক তা জেনেও এসকেপ করা যেতনা।
  • উমেশ | ০৫ মে ২০১৬ ০৬:০৪54433
  • বাংলা বলার খেলাটা 'বিজয়নগরের হীরা' গল্পটা তে ছিল।
    ওটা মনে হয় ৯১-৯৪ এর কোনো একটা সময় শারদীয়া তে বেরিয়েছিল।

    অন্য কোনো কাকাবাবু'র লেখা তে আর দেখিনি।
  • Atoz | ০৫ মে ২০১৬ ০৬:০৬54434
  • কী যেন একটা কারখানা ছিল ওদের, সাবান না ডিটার্জেন্ট কী যেন বানাতো।
  • Tim | ০৫ মে ২০১৬ ০৬:০৭54338
  • হ্যাঁ এই নারীবর্জিত জীবনটা খুব ইন্টারেস্টিং। সত্যজিৎ সুনীল কেউই অপেক্ষাকৃত সিরিয়াস কাজে এ জিনিস করেননি। তাহলে কি এখানে ছোটদের জন্য লেখার প্রতি সামান্য কম মনোযোগ/অশ্রদ্ধা দেখানো হলো? হতে পারে।

    স্টোরিটেলার হিসেবে সন্তু আর তোপসের মিল হলো দুজনেই বশংবদ সহকারী, কিন্তু তোপসে যদি সাধারণ ঘরের ছেলেপুলের চেয়ে দশ কদম এগিয়ে থাকে, সন্তু একশো কদম এগিয়ে। সেই সময় কটা বাড়ির ছেলে ক্যারাটে কুংফু সাঁতার এলিট স্কুলিং পেত হাতে গোনা যাবে। ব্যক্তিগতভাবে বলতে পারি কলকাতার মোটামুটি নামী ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে যারা পড়তো তাদের অন্য গ্রহের মানুষ মনে হতো। সুতরাং সুনীল গল্পটা সেটই করছেন আয়ত্তের বাইরে। স্বপ্নরাজ্যের বিজ্ঞাপণ? কনজিউমারিজমের যে হুল্লাট প্রকাশ কাকাবাবুর গল্পে বিভিন্ন ফর্মে আসে, সেটা কোথাও গিয়ে আবাপের আজকের বিনোদন পাতার প্রিকার্সার লাগে না? বা সাবলাইম যে যৌনতার কথা আলোচনায় এলো, তার থেকেই যেন মনে হয় আজকের ঊনিশ কুড়ির জন্ম। আমরা এখন পাঠ্যপুস্তকে ব্রেইন ওয়াশ নিয়ে অনেক কথা বলি, কিন্তু যেভাবে সাংস্কৃতিক মাধ্যমগুলোকে হাতিয়ার করে আইডিওলজিকাল শিফট হয়েছে তার জবাব নেই।
  • sch | ০৫ মে ২০১৬ ০৬:০৭54337
  • হ্যাঁ সে যদি ধরেন বোম্বাইয়ের বোম্বেটেতে ভিক্টর পেরুমলের সাথে ক্যারাটে লড়া, জাস্ট শুধু ব্রুস লি দেখে করা প্রাকটিসের ওপর নির্ভর করে - তাহলে অবশ্যই লার্জার দ্যান লাইফ। কিন্তু সে তো সব ডীটেকটিভই তাই। সাধারণ মানুষ তো ডিটেকটিভ হয় না।

    আমি কিন্তু রিয়াল লাইফে এমন লোক দেখেছি যে ক্যারাটে করা, প্রফেসারি, সাহিত্য সবই above average proficiency তে করে। ধরে নি ফেলু-দা ওরকম কেউ

    আর cb, কাকাবাবু মাঝে মাঝেই দিল্লী গেছেন একা একা - আবার কোনো গল্পে আগেই স্পটে গেছেন - পরে জোজো আর সন্তু গেছে। অত কিন্তু সন্তু নির্ভরও না
  • Arpan | ০৫ মে ২০১৬ ০৬:০৭54435
  • বিজয়নগরের হীরে - ১৯৮৮।
  • Atoz | ০৫ মে ২০১৬ ০৬:০৯54436
  • এই থ্রী চিয়ার্সকে তিন উল্লাস বলা কাদের করা? আগে শুনিনি, এই নেট যুগে মাঝে মাঝে শুনি। বিরক্তিকর।
  • Arpan | ০৫ মে ২০১৬ ০৬:০৯54437
  • শেষ ঠিকঠাক কাকাবাবু পড়েছিলাম "কাকাবাবু হেরে গেলেন"। বোধহয় ১৯৯১ সালে। তারপর থেকেই কেমন ঝুল হয়ে গেল, অথবা আমিই বড় হয়ে গেলাম।
  • সে | ০৫ মে ২০১৬ ০৬:১০54438
  • উপেন্দ্রকিশোর ঊনবিংশশতাব্দীর লেখক। তখন মেয়েরা সবে ঘরের বাইরে গিয়ে লেখাপড়া করছে। ১২৬বছর আগে দ্বিতীয় মেয়েদের ইস্কুল বানানোর মূল হোতাদের একজন ছিলেন তিনি (প্রথম মেয়েদের ইস্কুল তার আরো চল্লিশ বছর আগে বেথুন সায়েব তৈরী করেছেন)। কাজেই উপেন্দ্রকিশোর রচিত শিশু সাহিত্যে মেয়েদের উপস্থিতি নিয়ে বা নামকরণ নিয়ে এখনকার সময়ে তুলনা চলে না। সুকুমার রায়ের ক্ষেত্রেও ঐ। উনি বিংশ শতকের দ্বিতীয় দশকেই মারা যান। কিন্তু সত্যজিৎ রায় কিশোর সাহিত্য লিখতে শুরুই করেছেন ষাটের দশকের মাঝামাঝি, এবং সত্তরের দশক পেরিয়ে নব্বইয়ের দশকের গোড়া অবধি ক্রমাগত লিখে গেছেন। প্রায় পঁচিশ বছর বা বেশি। এই টাইমফ্রেমে যুগের বদল প্রতিফলিত হয়েছে লেখার মধ্যে, কম বেশি। যেটা হয়নি, সেটা হচ্ছে নারীচরিত্রের প্রবেশ। এটাই ভিজিবল। প্রকট। মেয়েদের ভূমিকা/পার্টিসিপেশান কিন্তু বাইরের দুনিয়ায়/সমাজে ততক্ষণে প্রচুর পাল্টেছে। ষাটের দশকের কিশোরীর সঙ্গে আশির দশকের কিশোরীর অনেক তফাৎ। সেইটে সত্যজিৎ নিজের লেখায় ইনক্লুড করতে পারেন নি। বা করতে চান নি হয়ত। যে ছকের মধ্যে ওঁর কিশোর সাহিত্যের পপুলারিটি, সেই ফ্রেমের বাইরে পা বাড়ান নি। এই জিনিসটা খুব ভিজিবল। চোখে পড়ার মত। ওঁর ভাষার স্টাইল, গল্পের অলংকরণ, গল্পের প্লট, অন্যান্য চরিত্র, তাদের আচরণ অল্প স্বল্প বদলেছে। মূলচরিত্রগুলোয় মেয়ে ঢোকানোর কোনো দাবি করিনি, পার্শ্বচরিত্রে বা ব্যাকগ্রাউন্ডে নারীচরিত্র নেই সেটাই বলেছি। শিশু চরিত্রগুলো সব বাচ্চা ছেলে, বাচ্চা মেয়ে নেই কেন? আগেও পয়েন্ট আউট করেছি, আবারো লিখলাম। আরেকটা জিনিস এই আলোচনায় চোখে পড়ছে, যে এইটা পয়েন্ট আউট করতে গিয়ে দেখছি রিয়্যাকশানগুলো বেশ বায়াসড।
  • avi | ০৫ মে ২০১৬ ০৬:১১54439
  • হলুদ খামের রহস্য শুরু করলাম। থ্যাঙ্ক য়ু। ঃ-)
  • Ekak | ০৫ মে ২০১৬ ০৬:১২54440
  • " বারো-চোদ্দো বছর হলেই বিয়ে হয়ে যেত আর তারপরে কারুর সাতটি, কারুর আটটি, কারুর বারোটি ছেলেপিলে হতো। "

    এটা একটু জেনেরালায়স্দ ধারণা আগেকার দিন সম্বন্ধে। ঠাকুমা ঠাকুরদা দের সময়ে বা তার আগে একচুয়ালি কি হত খোঁজ নিয়ে দেখুন। দশ -বারো তে বিয়েহত এটা সত্যি কিন্তু মেয়ে "ডাগর " না হওয়া অবধি বাপের বাড়িতে থাকত। বার বছরে সাত আট টি ছেলেপুলে মোটেও শিক্ষিত মধ্যবিত্ত বাড়িতে হত না। গ্রামের দিকে একেবারে হতনা তা নয়। কিন্তু এটা কমন নয়। "বছর বিযন্তি " হওয়া ব্যাঙ্গাত্মক শব্দ ছিল, মোটেই গর্বের না।

    বাঙালিদের মধ্যে এই কনশাসনেস টুকু গ্রো করার প্রধান কারণ বহুবিবাহ বন্ধ হওয়া, দ্রুত গ্রামীন সভ্যতার স্বচ্ছলতার পতনের কারণে পরিবার ছোট হতে শুরু করা এরকম একাধিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্যারামিটার। একটা বৌকে টিঁকিযে বাঁচিয়ে রাখা দরকার হয়ে পরেছিল। ওই গল্পে পড়া, অমুকের প্রথমা স্ত্রী মারা যাইতেই দ্বিতীয় দ্বার পরিগ্রহ করিলেন, ওগুলো এফর্দ করার ক্ষমতা সবার ছিলনা। দোজবরে ছেলেদের বিয়ে হওয়া কঠিন ছিলো অর্থাত পাত্রী একটু দেখতে শুনতে ঠিকঠাক হলে ফার্স্ট চয়েস দোজবরে বর কখনই হত না।
  • Atoz | ০৫ মে ২০১৬ ০৬:১২54441
  • সন্তু-কাকাবাবুর "মিশর রহস্য" ভালো লেগেছিল। তবে এখন কেমন লাগবে কেজানে! সিনেমাটায় তো মনে হয় অনেক বদলে দিয়েছে। হানি আলকাদি সেখানে, "মিশরেরে সেই স্বর্গে করো উদ্বোধিত" না কী একটা বললো! ঃ-)
  • Atoz | ০৫ মে ২০১৬ ০৬:১৯54443
  • আরে তারাশঙ্করের গল্পে পড়ছিলাম, বারো বছরের বৌ য়ের এখনো ছেলেপিলে হয় নি বলে চিন্তায় পড়ে গ্যাছে শ্বশুরবাড়ী, "সে কি বৌমা বাঁজা নাকি!"
    ডাগর না হওয়া অবধি বাপের বাড়ীতে থাকা মনে হয় একটু সচ্ছল আর প্রভাবশালীদের মধ্যে ছিল। আমার নিজের ঠাকুমারই তো এগারো বছরে বিবাহ হয়, সঙ্গে সঙ্গে শ্বশুরবাড়ী। প্রথম বাপের বাড়ী নাইয়র আসতে পারল ঋতুমতী হবার পরে, ঐটে নাকি দস্তুর ছিল, বাপের বাড়ীতে ঋতুমতী হওয়া চলবে না, তার আগে থাকতেই বিবাহিতা ও স্বামীর বাড়ীতে থাকতে হবে। সেই কন্ডিশন ফুলফিল করতে পারলে তারপরে নাইয়র যাওয়া।
    কৃত্তিবাসের রামায়ণেও এই রেফারেন্স পাই, মনে ভীষণ গন্ডগোল দেশ জুড়ে, দুর্ভিক্ষ খরা ইত্যাদি, রাজা গিয়ে জ্যোতিশীর কাছে জিগাচ্ছে কেন এমন হল। তখন জ্যোতিষী কইলেন তোমার রাজ্যে কুমারী ঋতুমতী হয়েছে, সেই পাপে এই কেস। শিগগীর গিয়ে খুঁজে বের করে সমাধান করো।
  • Tim | ০৫ মে ২০১৬ ০৬:১৯54442
  • কিশোর পাঠক হিসেবে কিশোরী চরিত্র গল্পে এলে খুশিই হতাম, এটুকু বলতে পারি। আশাপূর্নার ছোটদের গল্পে এই ব্যাপারটা ছিলো।

    তবে সেই সময় যদি কাউকে বলতাম কেন ফেলুদার গল্পে কোন আমাদের বয়সী মেয়ে নেই পিঠের চামড়া তুলে দিতো ঃ-))
  • Tim | ০৫ মে ২০১৬ ০৬:২২54340
  • আর এই জটায়ু নিয়ে আমাদের দূর্বলতা সম্ভবত সন্তোষ দত্তর জন্য। ঐ ভদ্রলোক এমনই সব কাজ করেছেন যে সেটা স্বাভাবিক। কিন্তু কথা হলো ফেলু মিত্তির যতই ঠাট্টাতামাশা করুক, জটায়ু মোটেই ফ্যালনা নন। না পারিবারিক বন্ধু হিসেবে (অনেক গপ্পে ফেলুদা স্পষ্ট করেই জানিয়েছে থ্রি মাস্কেটিয়ার্সের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ জটায়ু), না স্পনসর হিসেবে (ফেলুদার গাড়ি, সময় অসময়ের খ্যাঁটন), না সহকারী হিসেবে (জপযন্ত্রের বাড়ি)। সাফল্যের কথা তো ছেড়েই দিলাম, ছেলেমেয়েরা গোগ্রাসে গেলে এমন রহস্য উপন্যাস লিখে চলা লোক আর যাই হোক হ্যাভ নটস দের মধ্যে পড়েনা সেটা মানিকবাবু ভালোই জানতেন।

    আবার অন্যদিক থেকে, ফেলুদার জটায়ুর প্রতি অন্যায় খোঁচাগুলো যদি দোষ হিসেবেই ধরেন তাহলে তো সমাজের বাস্তবতার মেডেল মানিকবাবুর গলায় পরাতেই হবে। সরলের প্রতি এই খিল্লি বাঙালীর চিরন্তন, এতে তো অবাক হওয়ার কিছু নেই।
  • sch | ০৫ মে ২০১৬ ০৬:২২54339
  • উহু TIm - শুধু ফেসিলিটি না - সন্তু সবেতেই অসাধারণ। মাধ্যমিকে স্ট্যান্ড করা। সুনীল কিন্তু স্পটলাইট-টা সমান ভাবেই শেয়ার করেছেন দুজনের মধ্যে।

    আর নারী সুদ্ধু একটু ভাবুন তো - সন্তু এসে কাকিমার সাথে গল্প করছে বা তোপসে এসে ফেলু বৌদিকে বলছে কিভাবে মগনলালকে জব্দ করল। বা ফেলু বৌসি আর তোপসে গঙ্গার তীরে মগনলালের ডেরার কাছে ফেলুদা'র জন্য অপেক্ষা করছে। নাঃ পারলাম না ভাবতে। ভাবতে গেলেই জিনিসটা বাংলা সিনেমা হয়ে যাচ্ছে।
  • Atoz | ০৫ মে ২০১৬ ০৬:২২54444
  • তোপসের মতন ক্যাবলা অ্যাসিস্ট্যান্ট এর বদলে স্মার্ট একটি কলাবতী ভাইঝি বা ভাগ্নী থাকলে গল্পগুলো আরো ভালো হতে পারতো। তোপসেকে দিয়ে তো ফেলু কেবল মুখস্থ করিয়ে করিয়ে কাজ চালাতো।
  • Tim | ০৫ মে ২০১৬ ০৬:২৪54341
  • হ্যাঁ সন্তু হওয়া মানে স্বপ্নের মত একটা ব্যাপার। ভূতের রাজার বর লাগবে। বাড়িতে কাকাবাবু থাকলেও আপনি সন্তু নাও হতে পারেন। অন্যদিকে বাড়িতে একটা ফেলুদা থাকলেই আপনি তোপসে হতে পারবেন।
  • সে | ০৫ মে ২০১৬ ০৬:২৪54445
  • কিশোরী নেই, শিশুরাও মেয়ে শিশু নয়। সবকটা বাচ্চা ছেলে। মুকুল, রুকু, সাধন, পিকু, ...
  • lcm | ০৫ মে ২০১৬ ০৬:২৫54342
  • সত্যজিৎ রায়ের লেখাগুলো তো ভালো- ফেলু রহস্য গল্প, বা, প্রফেসর শংকু, বা ঐ ডজন ডজন ছোট গল্প গুলো - খুব ভালো।
  • Atoz | ০৫ মে ২০১৬ ০৬:২৫54446
  • সন্দেহ হয় যে সত্যজিৎ আসলে একজন প্রচ্ছন্ন প্ররাচৌ। ঃ-)
  • cb | ০৫ মে ২০১৬ ০৬:২৬54343
  • না না শেষের দিকে ভাল ডিপেনডেন্সি এসেছিল। কাকাবাবু অথর্ব তো নয়। দিল্লী তো উনি হামেশাই যাতায়াত করেন। কিন্তু কাকাবাবুর যেটা ফোর্টে, অ্যাডভেঞ্চার, সেখানে সন্তু খুব ইমপরট্যান্ট কগ। হি টেকস কেয়ার অফ মেনি থিংস।

    আর বহু বহু দিন আগে পড়েছিলাম, কে লিখেছিলেন মনে নেই (রঞ্জন বন্দ্যো কি?), ফেলুদা হল বঙ্গনারীর আল্টিমেট সেক্স আইকন, একেই নাকি মহিলারা নিঃশব্দে কামনা করে এসেছেন প্রজন্মের পর প্রজন্ম। যিনি লিখেছিলেন তাঁকে কেউ এই থ্রেডটা পড়াও, হ্যা হ্যা হ্যা হ্যা
  • Ekak | ০৫ মে ২০১৬ ০৬:২৭54447
  • এইটাই মুশকিল। ফিকশনে লেখক সর্বদা কর্নার কেস তুলে আনেন পাঠকের মনে কড়া নাড়ার জন্যে । সেটা বাস্তবের একটা অংশ গোটা বাস্তব নয়। আমি তাহলে আরেকটা উদাহরণ দিচ্ছি ফিকশন নয় কিন্তু সাহিত্য থেকেই। "দেখি নাই ফিরে "....রামকিঙ্কর এর জীবনী। সময়টা রবীন্দ্রনাথের বৃদ্ধ বয়েসের সমসাময়িক। কিঙ্কর এর বন্ধু দের সবার কম বয়েসে বিয়ে হয়ে যাচ্ছে কিন্তু বউ দের ডাগর হতে বাপের বাড়ি পাঠানো হচ্ছে। ওরা কেও স্বচ্ছল মধ্যবিত্ত নয়। বাঁকুড়ার গ্রামের নাপিত পাড়ার লোক। ঋতুমতি নিয়ে এই গল্প টা ছিল কিন্তু তার মানে বিয়ে করে এনেই ন দশ বছর বয়েস থেকে একনাগারে বাচ্চা পয়দা করছে এমন না। আমার দাদুর মুখেই শুনেছি গরমের ছুটি তে কলকাতা থেকে দেশের বাড়ি যেতেন দিদা কে দেখতে, কিন্তু একসঙ্গে থাকার অনুমতি ছিলনা। আলাদা ঘর। সেই নিয়ে আমরা নাতি-নাতনিরা কত ফাজলামি করতুম দাদুর মুখে গল্প শুনে :))
  • Tim | ০৫ মে ২০১৬ ০৬:২৯54448
  • একক টাইম ফ্রেমটা উল্লেখ করলে বুঝতাম কনট্রাডিক্ট করা হবে কিনা। শহর কলকাতায় তো বারোটি ছেলেমেয়ে অপ্রতুল না।
  • sch | ০৫ মে ২০১৬ ০৬:৩২54345
  • সেই রঞ্জন বন্দ্যো এখনো অজিত সত্যবতীর মধ্যে সাবলাইম সেক্সুয়াল এট্রাকশান নিয়ে কেন যে লেখেন নি কে জানে।
  • d | ০৫ মে ২০১৬ ০৬:৩২54344
  • টিমের এই সেকেন্ড প্যারাটায় ভীষণ একমত।

    টি-এর বক্তব্যও ভাল লাগল বেশ।

    অন্য একটা পোস্টে কেউ একজন বোধহয় সিকি বলেছে যে সিঙ্গল ডিজিট বয়সে অতকিছু শ্রেনীচেতনা ইত্যাদি আসে কীকরে। তো সে প্রসঙ্গে বলার হল যে যখন আমি শার্লক হোমস পড়ি তখন জানিই যে সে একেবারে অজানা অচেনা জায়গা মানুষ। সেখানে নিজের কোনও কল্পনা ধারণা রেডি থাকে না। গল্পটা এগোবার সাথে সাথে কল্পনা গড়ে উঠতে থাকে, এগোতে থাকে। কিন্তু যখন ফেলুদা বা ঘনাদা পড়ছি তখন আশেপাশের কলকাতা সম্পর্কে একটা ধারণা অবচেতনে কাজ করেই চলে। সেটার সাথে মিল না থাকলে ধাক্কা খাওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।

    আমি হাউন্ড অব বাস্কারভিলস পড়ি ক্লাস ফোরে বাংলা অনুবাদে। তখন একেবারে অজানা অচেনা একটা ব্যপার, পুরোটাই একটু একটু করে কল্পনা করে মনের মধ্যে বানিয়ে নিয়েছিলাম। এদিকে যখন ফেলুদা পড়ছি তখন কিন্তু আমার দেখা দক্ষিণ কলকাতা দিব্বি মনে মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। আমরা থাকতাম ইন্দ্র রয় রোডে। ইন্দিরা সিনেমার দিক দিয়ে বেরোতে গেলে আমাদের বাড়ীর গলি থেকে বেরিয়ে ইন্দ্র রয় রোডে পা দিলেই একটা মস্ত ডাস্টবিন ডানদিকে। চারদিকে উপছে পড়া জঞ্জাল। তো ফেলুদার গল্পে সেরকম কিছু কোথাও না দেখলে একটু অদ্ভুত লাগে বৈকী। সিঙ্গল ডিজিট বয়সেই লাগে। একটা অস্বস্তি হয় কেমন অচেনামত।

    এবারে ব্যক্তিগতভাবে আমার রিলেট না করতে পারলে বিশেষ সমস্যা হয় না। খুব খুউউব কম গল্পের সাথেই তো পুরোপুরি রিলেট করা যায়। কিন্তু অন্য কারো রিলেট করতে না পারলে অনেক বেশী অস্বস্তি হতেই পরে। যেমন এখানে দেখছি সে'র হয়েছে। আর বোধহয় সৌম্যরও। তো এটা তো ব্যতিবিশেষের ক্ষেত্রে সাবজেক্টিভ।
  • বিশেষ | ০৫ মে ২০১৬ ০৬:৩২54449
  • ফেলুদার গল্পে যুগের ছবি কোথায়ই বা !!। ষাটের দশকে লেখাগুলো শুরু হল, অথচ শহর কলকাতার ছবি, রাজনীতির ছবি কিছুই নেই, উল্লেখই নেই। সত্তরের কত কি, সরকার বদল এসবের বিন্দুমাত্র নেই লেখাগুলোতে। পুরোটাই একটা প্রজন্মকে সমসময় থেকে সরিয়ে রাখার চেষ্টা। ফেলুদার ক্লায়েন্টরাও মোটামুটি উচ্চবিত্ত, ঐ সোনার কেল্লা বাদে। বেশীরভাগ গল্পই কলকাতা কেন্দ্রিক বা দেশের বিভিন্ন জায়্গায়, বিশেষ টাইপের মানুষজনকে নিয়েই। জয় বাবা ফেলুনাথএর বাড়ীটার কথাই মনে করুন, অন্তত সিনেমাতে যেমন দেখান হয়েছে, গঙ্গার ধারে, ছাদে উঠেলেই প্রচুর হাওয়া যেন, এ এক আভিজাত্যের ব্যপার!! ফেলুদা নিজেও, নিউ এম্পায়ারে ইংরেজী সিনেমা দেখতে কিংবা পার্ক স্ট্রীটে খেতেই বেশে স্বচ্ছন্দ, কলকাতা শহরের বিশেষ কিছু মানুষের ছবি যেন।
  • Atoz | ০৫ মে ২০১৬ ০৬:৩৩54450
  • ওহ্হ, নবকুমার বসুর "প্রিয়সখা" পড়ছিলাম। সেখানে ঐ অপর্ণা-বিভাসের শাশুড়ী-শ্বশুর তখনও বাচ্চা পয়দা করে চলেছেন। অগুনতি ছেলেপিলে। অনেক মরে টরে গিয়েও অনেক রয়েছে।
    এদিকে অপর্ণা বিভাসেরও চারটি হয়ে গ্যাছে। বিধানবাবু কইলেন, "চমৎকার, আর কটি হবে?"
    অপর্ণা বলে, "না আর হবে না।"
    বিধানবাবু কইলেন, "হবে না তো সবাই বলে, কিন্তু তার জন্য যে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার তা কজন নেয়?"
  • de | ০৫ মে ২০১৬ ০৬:৩৪54346
  • টি য়ের লেখাটা ভালো অ্যানালিসিস হয়েছে -

    ফেলুদা টানা পড়তে খুবই একঘেয়ে লাগে - শেষের দিকের গপ্পোগুলো শুধুই রিপিটিশন। তারপরে কোন নারীচরিত্র বর্জিত বলে রিলেট করতেও অসুবিধে হয়।
  • সে | ০৫ মে ২০১৬ ০৬:৩৬54451
  • আপনারা অনেকেই পাঠকের ফিডব্যাক নিচ্ছেন দেখে আমিও নিলাম। মেয়েকে ফোন করলাম।
    মা - ফেলুদা পড়েছিস তো?
    মেয়ে - হ্যাঁ, ছোটোবেলা পড়েছি, তখন বাংলা ছাড়া আর কোনো ভাষা জানতাম না তো।
    মা - কিছু স্পেসিফিক জিনিস চোখে পড়েছে?
    মেয়ে- স্পেসিফিক? তখন ক্রিটিক্যাল থিংকিং করতে পারতাম না, জানোই তো।
    মা - তা ও, একটু ভেবে বল।
    মেয়ে - বুঝেছি, মেয়ে ক্যারেকটার নেই, সেটা তো? ওটা ইন্ডিয়ায় নরম্যাল ব্যাপার। এখন পড়তে দিলে পড়তেই পারব না। তোমাকে দিয়ে জোর করে নতুন নতুন শঙ্কুর গল্প বলাতাম, মনে আছে? সেগুলোতেও তো তুমি__
    মা- তা ঠিক, আমি তো নকল করতাম।
    মেয়ে - জানি। তোমার কোনো দোষ নেই।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লড়াকু মতামত দিন