এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • নভেম্বর ২০১৭

    সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায় লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ১২ নভেম্বর ২০১৭ | ১৩০৬৩ বার পঠিত
  • ষাট বা সত্তর সম্পর্কে প্রত্যক্ষজ্ঞান নেই, তবে আশির দশক মোটামুটিভাবে ছিল শ্রেণীসংগ্রামের যুগ। মানে ভারতের বামঘরানার লোকজনের চিন্তনে। ফ্রান্সে ১৯৬৮ সালের বিপ্লব প্রচেষ্টা তখন অতীত। সেসব উত্তাল সময়ে অদ্ভুত তত্ত্বের জন্ম হয়েছে জানা ছিল। কিন্তু সেগুলো খায় না মাথায় দেয় তা নিয়ে কারো বিশেষ মাথাব্যথা ছিলনা। সত্তরের দশকে সোভিয়েতকে সাম্রাজ্যবাদী বলা হয়েছিল, তাও কারো অজানা ছিলনা, কিন্তু সেসব খুব জোরেসোরে বলার লোকটোক ছিলনা। তখন বিশ্বশান্তির চ্যাম্পিয়ন ব্রেজনেভের যুগ। 'সোভিয়েত দেশ' আর 'সোভিয়েত নারী' দেখ উচ্ছ্বসিত হবার সময়। তখন স্পষ্টতই আফগানিস্তান পর্যন্ত সমাজতন্ত্র এসে গেছে। মুজতবা বর্ণিত সেই পিছিয়ে পড়া কাবুলের রমনীরা পর্দা ছুঁড়ে ফেলে মিনিস্কার্ট পরে শহর দাপায়। লাদেন বা মুজাহিদিনদের নামও কেউ শোনেনি। দশ-পনেরো বছরের মধ্যে সোভিয়েত সেনা দেশে ফিরে যাবে,আফগানিস্তানে তালিবানি শাসন চালু হবে, নাজিবুল্লার লাশ ট্রাকের পিছনে বেঁধে ছ্যাঁচড়াতে ছ্যাঁচড়াতে নিয়ে গিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হবে শহরের চৌমাথায়, তখন কেউ এসব বললে লোকে নির্ঘাত পাগল ভাবত। তখন আমাদের তৃতীয় দুনিয়ায় দ্বিমেরু বিশ্ব ছিল চিরসত্য, বামপন্থীরা ছিলেন কট্টর, স্রেফ অর্থনীতিতে বিশ্বাসী। সব্বাই। সিপিএম মনে করত, বিপ্লব না করলে কিসুই হবেনা, একটা অঙ্গরাজ্যে সীমিত ক্ষমতায় কিছু করা যায়না। লোকে টিপ্পনি কাটত, সেই জন্য সিপিএম কিছুই করেনা। ইতস্তত গম্ভীর নকশালরা সমালোচনা করত, তাহলে ক্ষমতায় আছ কেন, কেনই বা বামফ্রন্টকে চোখের মনির মতো রক্ষা করতে হবে? এসবই তখন বিতর্ক ছিল। এর বাইরে একটু আধটু লিঙ্গ, জাতপাত। বিশ্বনাথ প্রতাপ সিংহ প্রথমবার ক্ষমতায় আসেন ১৯৮৯ সালে, তার আগে পর্যন্ত মন্ডল কমিশন নিয়ে বিশেষ কেউ মাথা ঘামাতনা। টুকটাক তর্কাতর্কি হত। যেমন, কোন গ্রুপ নাকি বিহারে বলেছে কাস্ট স্ট্রাগলই আসলে ক্লাস স্ট্রাগল, এই নিয়ে কথাবার্তা। সেও নির্দোষ ব্যাপার। অর্থাৎ শ্রেণীই আসল, এই নিয়ে কোনো মতপার্থক্য নেই, কিন্তু জাতই কি আসলে ভারতে ক্লাস? এই নিয়ে ছুটকো মতপার্থক্য। এছাড়াও ছিলেন মহিলা সমিতিরা, কিন্তু শ্রেণীর লেজুড় হয়ে। অর্থাৎ শ্রেণী সংগ্রাম মিটে গেলে অসাম্য টসাম্য এমনিই উবে যাবে। আর সমকামিতা নিয়ে তাত্ত্বিকভাবে ছিল নীরবতা। কিন্তু ঘরোয়া ফিসফাস আলোচনায় শোনা যেত ওগুলো "বিকৃতি"।

    নব্বইয়ে গপ্পোটা বদলাল। মুক্তিকামীদের অচঞ্চল পূর্ব ইউরোপ, সোভিয়েত ভেঙে পড়ল। যাঁরা সোভিয়েতকে স্বর্গরাজ্য মনে করতেন, তাঁদের তো স্বর্গ হইতে পতন হলই, যাঁরা "সামাজিক সাম্রাজ্যবাদ" মনে করতেন, তাঁরাও বুঝভুম্বুল হয়ে গেলেন। হবারই কথা। কারণ গল্পেও এরকম হয়না। পরশু দিন পর্যন্ত যিনি পার্টির মহাশক্তিধর সর্বেসর্বা ছিলেন, একদিন সাতসকালে তিনি সদর দপ্তরে নিজেই তালা মেরে ঘোষণা করলেন, আজ হইতে দোকান বন্ধ, এ নেহাৎই ইয়ার্কি হতে পারে, কিন্তু সিরিয়াস সমাজতন্ত্র বা সিরিয়াস সাম্রাজ্যবাদ, কারো পক্ষেই এই জিনিস ঘটানো, অ্যাবসার্ড। কিন্তু অলীক হলেও ঘটনাটা ঘটল। আমরা যারা একটু আধটু বাম চিন্তাভাবনা করতাম, তারা অনাথ হলাম ঠিকই, কিন্তু তাতে আরেকটা প্রবণতা তৈরি হল, আমরা প্রশ্ন করতে শিখলাম। যেকোনো ফর্মের ঈশ্বরে অবিশ্বাসী হলাম। আপ্তবাক্য অমান্য করা শুরু হল। "সোভিয়েত একটি স্বর্গরাজ্য" জাতীয় ঈশ্বরবিশ্বাস প্রশ্নচিহ্নের সামনে পড়ল। "শ্রেণীই মূল" -- ধারণাটা চ্যালেঞ্জের সামনে পড়ল। 'অপর'এর মতো পত্রিকা বেরোতে শুরু করল। সুমনের গান এল মার্কেটে, আর সেই ষাট থেকে তুলে আনা হল আলথুসার ইত্যাদিদের। সিপিএম তখনও দেয়ালে দেয়ালে "মার্কসবাদ সর্বশক্তিমান, কারণ ইহা সত্য" লিখে চলেছে ঠিকই, কিন্তু ভিত নড়ে গেছে, লিনিয়ারিটিকে প্রশ্ন করা শুরু হয়ে গেছে। জেন্ডার, কাস্ট, সমকামিতা, এরা কেন চিন্তার জগতে প্রান্তিক হয়ে থাকবে, কেন শ্রেণীই একমাত্র মূল হবে, এসব প্রশ্ন উঠছে। যদিও পুরোনো বুজুর্গরা কড়া ভাবে সেসব সামলাচ্ছেন, কিন্তু বোঝা যাচ্ছে কিছু একটা বদল আসবেই। আমরা ঘেঁটে গেছি, রাজনীতির স্লোগানের বদলে লেখালিখি চিন্তাভাবনাই বেশি হচ্ছে। বস্তুত, আমি ব্যক্তিগতভাবে এইসময়টাতেই লিখতে শুরু করি। আমাদের অনেকেই।

    এইভাবেই নব্বই গেল। ২০০০ এ এসে বোঝা গেল, নব্বইয়ে শুধু সোভিয়েত ভাঙেনি, শুরুতে নরসিংহ রাও আর শেষে অটলবিহারি বাজপেয়িও ছিলেন। শুরু হয়ে গেছে শাইনিং জমানা। আন্তর্জাতিক স্তরে ফ্রান্সিস ফুকোয়ামা ইতিহাসের শেষ ঘোষণা করে দিয়েছেন। দেশেও তাই। শুরু হয়ে গেছে এক নতুন যুগ, যাকে চিন্তার ভুবনীকরণের যুগ বলা যায়। ভারতীয় আইটি কোম্পানিরা হই হই করে আমেরিকার কাজ ধরছে। ওয়াই-টুকে নামটা মুখে মুখে ঘুরছে। কলকাতাতেও ঝপাঝপ খুলে যাচ্ছে মল। সল্টলেক সিটি সেন্টার চালু হল ২০০০ এর পরে। তার আগে থেকেই শাইনিং দের জয়জয়কার। এমনকি বামপন্থী মহলেও। সরকারি বামপন্থীদের মধ্যে জ্যোতি বসু অস্ত যাচ্ছেন, বুদ্ধদেববাবু ক্ষমতায় আসছেন। খবরের কাগজে শোনা যাচ্ছে অশ্রুতপূর্ব এক শব্দবন্ধঃ ব্র‌্যান্ড বুদ্ধ। মধ্যবিত্তের অ্যাসপিরেশন তৈরি হচ্ছে, সেটাই ক্রমশ চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে। পুরো ব্যাপারটাই বেশ অদ্ভুত। একদিকে আমরা রাজনীতি থেকে সরে গিয়ে তত্ত্বচিন্তা-লেখালিখি করছি, অন্যদিকে রিয়েল পলিটিকে জায়গা করে নিচ্ছে মধ্যবিত্ত শাইনিং আকাঙ্খা। দুটো কিরকম হাতে হাত ধরে চলছে। একদিকে আমরা "শ্রেণী" নামক বিষয়টার একাধিপত্য নিয়ে প্রশ্ন করছি, গোঁড়ামি নিয়ে ঠাট্টা ইয়ার্কি করছি, আর শাইনিং রা ক্লাস বস্তুটাকেই বাতিল করে দিচ্ছে। কার অ্যাজেন্ডা কে সমর্থন করছে করছে বলা খুব মুশকিল।

    এই চলল ২০০৬ অবধি। তারপরই সেই কান্ড, যার নাম সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম। ২০০৬ থেকে ২০১১। মধ্যবিত্ত শাইনিংপনার বিরুদ্ধে ব্যাকল্যাশ। চিন্তার ভুবনীকরণ, আপাতদৃষ্টিতে কিছুদিনের জন্য স্থগিত। রাজনীতি থেকে এতদিন যারা দূরে ছিল, সবাই পক্ষ নিয়ে ফেলল। সিপিএম বিরোধিদের আক্ষরিক অর্থেই রামধনু জোট। এমনকি বামপন্থীদেরও। কেউ মমতাকে মুক্তিসূর্য বলছেন, কেউ মমতা-বিরোধী কেউ মাওপন্থী, কেউ মাও বিরোধী, কেউ লিবারেটারিয়ান, সব মিলিয়ে একটা ছাতা। উল্টোদিকে সিপিএমের ছাতাটাও ছিল রামধনু। যদিও পার্টি একটাই, কিন্তু তার দুখানা প্রান্ত। একদিকে কেউ শাইনিং, অন্যপ্রান্তে কেউ একেবারে আজিজুল হকের মতো বিপ্লবী। মাঝামাঝি সব রকমের শেডের চিন্তাভাবনাও, সেই ছাতার নিচে। এই গপ্পো চলল ২০০৯ পর্যন্ত, যখন লোকসভা ভোটে সিপিএম হারল পশ্চিমবঙ্গে। তখনই দেয়ালের লিখন দেখা যাচ্ছিল। তারপর ২০১১ অবধি ঘোলা জলের গতিজাড্য। যে ভোটে বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএম যখন হারল। সে তো খুব সাম্প্রতিক ইতিহাস, বিশদে লেখার কিছু নেই।

    কিন্তু সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম নিয়ে ব্যস্ত থাকতে গিয়ে আমরা যেটা দেখিনি, সেটা হল, ২০০৬ এর আগে যে প্রবণতার কথা বলেছিলাম, অর্থাৎ, চিন্তার ভুবনীকরণ, সেটা একেবারেই থেমে ছিলনা। আমরা "শ্রেণী" নামক বিষয়টার একাধিপত্য নিয়ে প্রশ্ন করছি, গোঁড়ামি নিয়ে ঠাট্টা ইয়ার্কি করছি, আর শাইনিং রা ক্লাস বস্তুটাকেই বাতিল করে দিচ্ছে, এই যে প্রবণতা, এটা এই বিবাদের মধ্যেও গতি পেয়েছে। এবং সেটা আর ঠিক স্থানীয় নয়। গপ্পোটা আন্তর্জাতিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। লেফট শব্দটা আর তেমন শোনা যাচ্ছেনা, শোনা যাচ্ছে লেফট লিবারাল। সেটা বস্তুত "লিবারাল" এর সমার্থক, লেফট আর কোথাও নেই। ১৯৯০ এ আমরা যারা প্রশ্ন তুলছিলাম, শ্রেণীর একাধিপত্য নিয়ে, কেন লিঙ্গ, জাত এরা জায়গা পাবেনা আলোচনায়, তারা অবাক হয়ে দেখলাম, মূলস্তরের আলোচনা থেকে শ্রেণী ব্যাপারটাই ক্রমশ হাওয়া হয়ে গেছে। পড়ে আছে জেন্ডার, কাস্ট আর রেস।
    ভারতবর্ষে এটা স্পষ্ট করে দেখা গেল ২০১০ সালের পরে। ২০১২ সালে দিল্লিতে ঘটে গেল জঘন্যতম এক গণধর্ষণের ঘটনা, যার মিডিয়া প্রচারিত নাম নির্ভয়া কান্ড। দিল্লিতে সে ঘটনার পর সঙ্গত কারণেই ব্যাপক বিক্ষোভ হল। ২০১৬ সালে আত্মহত্যা করলেন রোহিত ভেমুলা। সে নিয়েও দেশব্যাপী তুমুল আলোড়ন হল। সেটাও সঙ্গত কারণেই। কিন্তু এই দুটি ঘটনার পর দেখা গেল মূল ধারার অ্যাকটিভিজম ক্রমশ কেবলমাত্র জাত এবং লিঙ্গ নির্ভর হয়ে দাঁড়িয়েছে। সে অ্যাকটিভিজমও ব্যাপকার্থে জেন্ডার এবং কাস্ট আপরাইজিং কিছু না। মিডিয়া এবং সোশাল মিডিয়ায় একটি করে শত্রু খুঁজে বার করে নেমিং এবং শেমিং -- বড়ো কাজ বলতে এটা। শ্রেণী-টেনি তো হাওয়া বটেই, লিংগ এবং জাত নিয়েও দীর্ঘমেয়াদী কোনো চিন্তা নেই, শুধুই চটক। মজা হচ্ছে, এই অ্যাকটিভিটিস্টদের অনেককেই উত্তাল সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম পর্বে, পস্কো আন্দোলনে, এমনকি আদিবাসী উচ্ছেদ নিয়েও কোনো কথা বলতে দেখা যায়নি। সেটা অপরাধ না, কিন্তু প্রবণতা হিসেবে এটা ইন্টারেস্টিং। এই অ্যাটিভিজমটা এক অর্থে বিশুদ্ধ শাইনিং, সেটা খানিক হয়তো এর থেকে বোঝা যায়।

    আন্তর্জাতিক স্তরেও দেখলাম একই গপ্পো। ওই ২০১১ র পরেই। এরকম সমাপতনের নিশ্চয়ই কোনো গভীর কারণ আছে, কিন্তু সেটা এখানে আলোচ্য না। যা দেখলাম, সেটাই বলি। ২০১১ র পশ্চিমবঙ্গ যেমন সশরীরে দেখেছি, তার পরের আমেরিকাটাও চোখে দেখলাম। সেখানেও লেফট-লিবারাল ডিসকোর্স থেকে ক্লাস উবে গেল। তবে কাস্ট নয়, এখানে জায়গা নিয়ে রেস আর জেন্ডার। টিম হান্ট পর্ব (সে অবশ্য আমেরিকা নয়, কিন্তু আন্তর্জাতিক তো) দেখলাম। একই গপ্পো। শাইনিং রা লেফট লিবারালদের ঠিকা নিয়ে নিয়েছেন। সেখানেও ব্যাকল্যাশ হল। বার্নি স্যান্ডার্স হারলেন, এবং ট্রাম্প জিতলেন। ক্লাস বিবর্জিত, শরৎচন্দ্রের মেজদার মতো কড়া ও পলিটিকালি কারেক্ট, রেস - জেন্ডার সর্বস্ব ক্লিন্টন ক্যাম্প প্লেটে করে সাজিয়ে দিলেন জয়। "উনি মহিলা তাই ফেমিনিস্ট"। "ওবামা ওনার পক্ষে তাই উনি কালো লোকেদেরও পক্ষে"। এই রকম যুক্তি সাজানো হল। কিছু সজোরে কিছু ফিসফিসিয়ে। এবং বলাবাহুল্য ক্লাস ব্যাপারটা হাওয়া। শুরু হয়েছিল নব্বইয়ে, এই বলে, যে, ক্লাস বা অর্থনীতি কেন একা রাজার পার্ট নেবে। শেষ হল, ক্লাসকে বিসর্জন দিয়ে। অর্থনীতিকে চুলোর দোরে পাঠিয়ে। বার্নি স্যান্ডার্সের প্রাইমারিতে লড়া একটি ঐতিহাসিক ঘটনা ছিল। এরকম শেষ ঘটেছিল ১৯৬৮ সালে, যখন ববি কেনেডি ভিয়েতনাম যুদ্ধের বিরুদ্ধপক্ষীয়দের হয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেন। পিছনে ছিল বামঘরানার গোটা বেবি বুমার প্রজন্ম। সেবার কেনেডিকে থামিয়েছিল আততায়ীর গুলি। এবার আর তার প্রয়োজন হলনা। লিবারালরা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে থামিয়ে দিলেন বার্নিকে। বৃত্ত সম্পূর্ণ হল।
    এদেশ হোক, আর ওদেশ, লিবারালদের অ্যাকটিভিটির মধ্যে শাইনিংত্ব দুটো ব্যাপারে প্রবল। এক, শ্রেণী বা অর্থনীতির অনুপস্থিতি। দুই, অসহিষ্ণুতা। দীর্ঘ দীর্ঘদিন ধরে, অন্যান্য ঘরানার থেকে বামপন্থার একটা পার্থক্য ছিল (সোভিয়েত বা চিনের কথা বলছিনা, ওগুলো দেখিনি), সেটা হল প্রশ্ন চিহ্ন। অর্থনীতি কেন চরম? প্রশ্ন করা যেত। কেন জেন্ডার বা রেসকে হিসেবে ধরবনা? প্রশ্ন করা যেত। কেন সিঙ্গুরে শিল্পায়ন করতেই হবে? প্রশ্ন করা যেত। উত্তপ্ত বাদানুবাদ হত, হবেই, কিন্তু প্রশ্ন করা যেত। মানে এমন কোনো হেজিমনি ছিলনা, যাতে প্রশ্ন করা যাবেনা। কিন্তু এখন এরকম একটা মতাদর্শগত আধিপত্য তৈরির প্রক্রিয়া চলছে, যেখানে প্রশ্ন করা যায়না। "কেন হিলারি ফেমিনিস্ট? মেয়ে হলেই কি ফেমিনিস্ট হয় নাকি?" প্রশ্ন করতে লোকে ভয় পাচ্ছে, কারণ, "আপনি বাবা ততটা লিবারাল না" স্ট্যাম্প পড়ে যাবে। "কেন কালো মানুষ বা মেয়ে হলেই নিপীড়িত ধরব?" খুব ভ্যালিড প্রশ্ন। কিন্তু করা যাবেনা। এর সঙ্গে দুটো ইয়ার্কি যোগ করলে তো, ওরে বাবা টিম হান্ট কান্ড হবে। ছহি লিবারালপনা একেবারে ধর্মপালনের সমগোত্রীয় ব্যাপার হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এর আদর্শ রোলমডেল হিসেবে সামনে আসছেন হিলারি ক্লিন্টনের মতো মানুষরা, যাঁরা যুদ্ধবাজ হোন, আমেরিকান 'মিলিটারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স' এর পোস্টার গার্ল হোন, স্রেফ লিঙ্গচিহ্ন এবং লিবারাল বুলির জন্যই 'আদর্শ'।

    ২০১৭ সালে ইন্টারনেটে যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে "মিটু" নামক একটি ক্যাম্পেন শুরু হল আমেরিকা থেকেই। সেটাকে আরও "র‌্যাডিকাল" পথে "হিম টু"তে নিয়ে চলে যাওয়া হল। এই র‌্যাডিকাল পরিবর্তনের পিছনে রয়েছেন ক্রিস্টিন ফেয়ার, যিনি একদা আমেরিকার ইরাক এবং মূলত আফগানিস্তানে ড্রোনযুদ্ধ চালানোর প্রবল পক্ষপাতদুষ্ট ভিলেন (অসত্য ভাষণের দায়েও অভিযুক্ত) হিসেবে তৎকালীন "র‌্যাডিকাল" মহলের কাছে ভীষণ ভাবে সমালোচিত ছিলেন। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই অনাবাসী "দলিত" অ্যাকটিভিস্ট প্রকাশ করে ফেললেন সেই বহুল প্রচারিত তালিকা। সেখানে প্রায় সমস্ত "অভিযুক্ত" ব্যক্তিই বাম ঘরানার। এই ঘটনা একেবরেই আপতিক নয়, বরং প্রায় প্রতীকিই, কারণ, লিবারাল গোষ্ঠীরা অবিকল একই জিনিস ঘটিয়ে চলেছেন দেশ এবং পৃথিবী জুড়ে। তাঁরা "পলিটিকালি কারেক্ট" হবার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। মুখোশধারী বিভীষণ খুঁজে বেড়ানোর কাজে সময় ব্যয় করে চলেছেন। এটাকেই তাঁরা অ্যাকটিভিজম বলছেন। তাঁরা বার্নি স্যান্ডার্সের শ্রেণীভিত্তিক রাজনীতিকে সরাসরি আক্রমণ করছেন লিঙ্গ এবং জাতির ভিত্তিতে (বার্নি ব্রো - এই কয়েনেজ থেকেই যেটা পরিষ্কার)। এবং কারেক্টনেসের যুদ্ধে চ্যাম্পিয়ন করছেন ক্রিস্টিন ফেয়ার বা হিলারি ক্লিন্টনকে। যাঁদের উপস্থাপনা খুবই "কারেক্ট" হলেও বিশ্বাসযোগ্যতা একেবারে তলানিতে। লেনিনের সঙ্গে রোজা লুক্সেমবার্গের তুলনা শোনা যাচ্ছে, একদম লিঙ্গচিহ্নের প্রশ্নেই। নভেম্বর বিপ্লব আসলে একটি সামরিক অভ্যুত্থান মাত্র, এরকম থিয়োরাইজেশনও শোনা যাচ্ছে। যেমন শোনা যাচ্ছে "সাবল্টার্নরা আসলে কথা বলিতে পারেনা" আসলে একটি ব্রাহ্মণ্যবাদী চক্রান্ত। কারেক্টনেসের চক্করে মোহাবিষ্টরা এর বিরুদ্ধে কিছু বলতেও পারছেননা। যেহেতু "সেনসেশন" তৈরিও নাকি একটি রাজনৈতিক প্রকল্প। আর ফাঁকতালে ছিপ নিয়ে যাচ্ছে চিলে। এই ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসেও একটা সমীক্ষায় দেখা গেছে আমেরিকার পঞ্চাশ শতাংশ মতো মানুষ বিশ্বাস করেন "লিবারাল মিডিয়া" ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বানিয়ে কথা বলে।

    লেফট লিবারালদের অজস্র বিভাগ, টুকরো, চুলোচুলির পরেও লোকে একটি কারণেই সমঝে চলত। তা হল, তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা। নভেম্বর বিপ্লবের ১০০ বছর পূর্তিতে প্রশ্ন এই, যে, সেটুকুও আর থাকবে কী?
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ব্লগ | ১২ নভেম্বর ২০১৭ | ১৩০৬৩ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • S | ২০ নভেম্বর ২০১৭ ০২:৪৫60252
  • হ্যাঁ আসলে আমি যেটুকু শিখেছিলাম তাতে ক্লাসিকাল ইকনমিক্স (ঐ অ্যাডাম স্মিথ ইত্যাদির লেইসি ফেয়ার ইত্যাদি) আর কেইন্সের থিয়োরি ঠিক ডিমান্ড সাপ্লাই এর পার্থক্য দিয়ে নয়। উনি যদিওবা ডিমান্ড সাপ্লাই কার্ভ ব্যবহার করেছিলেন ডিপ্রেশনকে এক্সপ্লেইন করতে।

    কিন্তু আসলে উনি যেটা বলেছিলেন তা হলো যে ফ্রি মার্কেটকে নিজের মতন চলতে দিলে স্টেবিলিটি পুরো ঘেঁটে যাবে। ফলে ফ্রি মার্কেটও থাকবেনা। তাই সরকারকে প্রয়োজন অনুযায়ী হস্তক্ষেপ করতে হবে (ফিসকাল পলিসি আর মনিটারি পলিসি দ্বারা) ফ্রি মার্কেটকে ফ্রি রাখার জন্য।

    পরবর্তী কালে বোধয় ক্লাসিকাল ইকনমির ছাত্ররা সাপ্লাই সাইড আর কেইনিসিয়ানরা ডিমান্ড সাইড ধরে বসেন - এটা আন্দাজ।
  • Ishan | ২০ নভেম্বর ২০১৭ ০২:৫৩60253
  • আরে গ্রাফে কোনো ভুল নেই। প্রাইসের সঙ্গে সাপ্লাই বাড়ে, তাতেও কোনো ভুল নেই। কিন্তু প্রোডাক্ট মার্কেট আর লেবার মার্কেট দুটো আলাদা জিনিস তো। একটার যেটা ডিমান্ড অন্যটার সেটা সাপ্লাই। মোটামুটিভাবে।

    ছোটো করে বলি। আপনি কোনোভাবে লোকের হাতে পয়সা বাড়িয়ে দিলেন (ধরা যাক মজুরি বাড়িয়ে)। প্রোডাক্টের ডিমান্ড বাড়ল। ডিমান্ড কার্ভ ডানদিকে সরল। সাপ্লাই কার্ভ নড়লনা। ইকুইলিব্রিয়াম ডান দিকে সরে এল।

    এবার, লেবার মার্কেটে এতে কী হল? মজুরি বেড়ে যাওয়ায় সাপ্লাই অফ লেবার বাঁদিকে সরল। ডিমান্ড কার্ভে কোনো নড়চড় হলনা।

    অবশ্যই এতে একগুচ্ছ অ্যাসামশান আছে। ইলাস্টিসিটি ইত্যাদি ধরা হয়নি। মোদি যেমন বলেছেন।
  • S | ২০ নভেম্বর ২০১৭ ০৩:০২60254
  • মজুরি বেড়ে গেলে সাপ্লাই অব লেবার কমবে কেন (বাঁদিকে সরবে)? লোকে তো বেশি কাজ করতে চাইবে। এবং ডিমান্ড কমবে, কারণ এম্প্লয়াররা কম লোককে চাকরী দিতে পারবে। কার্ভ দুটো তো তাই বলছে। সাপ্লাই কাভ বলছে, মজুড়ি বাড়লে একজন লোক বেশি কাজ করবে, তাই তা উর্দ্ধগামী। ডিমান্ড কার্ভ উল্টোটা।

    আরেকটু বুঝিয়ে বললে ভালো হয়।

    ইলাস্টিসিটি তো ধরাই হয়নি মানেও বুঝলাম না। দুটো কার্ভ রয়েছে, তাদের শেপ দেখতে পাচ্ছি, ইলাস্টিসিটি তো গিভেন।
  • Ishan | ২০ নভেম্বর ২০১৭ ০৩:১৮60255
  • সাপ্লাই অফ লেবার কমবে কেন?
    মজুরি বাড়া মানে কী? একই পরিমান লেবারের জন্য আগের চেয়ে বেশি মজুরি দিতে হবে। সেটা করলেই কার্ভটা বাঁ দিকে সরবে।
  • S | ২০ নভেম্বর ২০১৭ ০৩:২০60256
  • হ্যাঁ আমিও তো তাইই লিখেছিলাম আগে "যাতে সাপ্লাই কার্ভটা বাঁদিকে সরবে, এম্প্লয়মেন্ট কমবে।"

    আপনি ভুল বললেন কেন, বুঝলাম না।
  • modi | ২০ নভেম্বর ২০১৭ ০৩:৪৩60257
  • ম্যক্রো ১০১ এ এই যে চাহিদা যোগানের তত্ত্বটা শেখানো হয়, সেখানে ধরে নেওয়া হয় মজুরী বাড়লে লেবারের ডিম্যান্ড কার্ভ একই থাকবে। কিন্তু ভোগ্যদ্রব্যের চাহিদার ইলাস্টিসিটির ওপর নির্ভর করে, মজুরী বাড়লে শ্রমের চাহিদারেখা বদলে যেতে পারে। কেন না, মজুরী বাড়লে ভোগ্যদ্রব্যের চাহিদা বাড়বে এবং, বেশী শ্রমিক খাটিয়ে অতিরিক্ত লাভের পথ খুলে যাবে। ফ্রেশম্যান সফোমোরেদের এটা পড়ানো হয় না। কিন্তু সিনিয়র বা এন্ট্রি লেভেল গ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্টরা এটা জানে।

    এখন এটা সত্যি সত্যি হবে কিনা সেটা অনেকগুলো প্যারামিটারের ওপর নির্ভর করবে। যেমন অন্য ভোগ্যদ্রব্যের প্রাইস ইলাস্টিসিটি কিরকম (যেটা শ্রমের ডিম্যান্ড সাপ্লাই কার্ভ থেকে জানা যাবে না), ক্যাপিটাল সাপ্লাই কেমন আছে (বাজারে সারপ্লাস ক্যাপিটাল সাপ্লাই আছে কিনা) ইত্যাদি ইত্যাদি। এটা পুরোটা মডেল করা সহজ নয়। এখানে সেই চেষ্টা করছিও না।
  • Ishan | ২০ নভেম্বর ২০১৭ ০৩:৪৬60258
  • "সাপ্লাই সাইড ইকনমিক্স হলো ক্লাসিকাল ইকনমির থিয়োরি। যাতে সাপ্লাই কার্ভটা বাঁদিকে সরবে, এম্প্লয়মেন্ট কমবে।"

    না, সাপ্লাই সাইডের জন্য এটা হবেনা। লেবার মার্কেটে এটা হবে ডিমান্ড সাইডের জন্য। অর্থাৎ এক্ষেত্রে মজুরি বাড়ানোর জন্য। যেটা এতক্ষণ ব্যাখ্যা করলাম। এইজন্য ভুল বললাম।

    আর ইলাস্টিসিটি ধরা নেই বললাম এই কারণে, যে, ডিমান্ড সাইড ইকনমিক্সে এক্ষেত্রে ধরে নেওয়া হয়, যে মজুরি সামান্য বাড়ার জন্য শ্রমের চাহিদায় এক্ষেত্রে বিশেষ কোনো পরিবর্তন হবেনা। ফলে এমপ্লয়মেন্ট একই থাকবে। এর মধ্যে শ্রমের ইলাস্টিসিটি অফ ডিমান্ড ধরলে হিসেব জটিল হয়ে যাবে। মজুরি বেড়ে গেলে চাকুরিদাতারা প্রচুর লোক ছাঁটাইও করতে পারে। এটার জন্য সামাজিক নিরাপত্তাকেও মজুরি বাড়ানোর সঙ্গে একটা প্যাকেজ হিসেবে দেওয়া হয়। মানে, আইডিয়ালি, দেবার কথা বলা হয়।
  • S | ২০ নভেম্বর ২০১৭ ০৩:৪৯60259
  • আচ্ছা আরেকটু ভালো করে লিখে দিই। একটু মন দিয়ে পড়বেন।



    y অ্যাক্সিসে w* এর উপরে একটা পয়েন্ট নিন। এবারে সেইখান থেকে একটা হরাইজন্টাল লাইন টানুন। সেই লাইন যেখানে ডিমান্ড কার্ভকে মীট করবে, সেখান থেকে ভার্টিকাল লাইন নীচে টানলে যে পয়েন্টে x অ্যাক্সিস মীট করলো ধরুন QD। যেটা Q* এর থেকে কম। আর সেই একই লাইন যেখানে সাপ্লাই কার্ভকে মীট করবে, সেখান থেকে ভার্টিকাল লাইন নীচে টানলে যে পয়েন্ট হলো ধরুন QS। যেটা Q* এর থেকে বেশি।

    এই (QS - QD) হলো আনএম্প্লয়মেন্ট।

    এখন একদল বলবেন যে যেহেতু "একই পরিমান লেবারের জন্য আগের চেয়ে বেশি মজুরি দিতে হবে", এম্প্লয়ার কম লোককে নিয়োগ করবে। এবং QD হবে এম্প্লয়মেন্ট লেভেল। ফলে ইকুইলিব্রিয়ামে আসতে গেলে সাপ্লাই কার্ভকেই সরে আসতে হবে বাঁদিকে।

    এর অনেক অন্য এক্সপ্লেনেশন আছে। একই টাকা যদি কম কাজ করেই পাওয়া যায়, তাহলে অনেকেই কম কাজ করবেন ইত্যাদি। কিন্তু এর মানে এই নয় যে ওয়েজ রেট বাড়ালে সাপ্লাই কমে যায়। সাপ্লাই বাড়ে। মনে করুন আজকে যদি ওয়েজ রেট বেড়ে যায়, তাহলে অনেকেই রিটায়রমেন্ট ভেঙ্গে আবার লেবার ফোর্সে ফিরে আসবেন। অনেক ছাত্র ইস্কুল ছেড়ে কাজে লেগে যাবে। তাছাড়াও অনেকে বেশি উপার্জনের জন্য বেশি কাজ করবেন। ইত্যাদি। উল্টোটাও সত্যি কথা।

    এসবই শর্ট টার্মের জন্য এবং অন্য কিছু নড়ছে না ধরে নিয়েই, এবং অবশ্যই কোনো কার্ভই পারফেক্টলি ইলাস্টিক বা ইনিলাস্টিক নয় - যেটা লেবার মার্কেটের জন্য খুবই ভ্যালিড অ্যাজাম্পশন।
  • S | ২০ নভেম্বর ২০১৭ ০৩:৫৬60260
  • আরেকদল বলবেন যে যেহেতু বেশি লোক কাজ করতে রাজী আছে (বা লেবার সাপ্লাই বেড়ে QS হয়েছে), এম্প্লয়ার বেশি লোককে নিয়োগ করে বেশি প্রফিট করবে। এবং QS হবে নতুন এম্প্লয়মেন্ট লেভেল। ফলে ইকুইলিব্রিয়ামে আসতে গেলে ডিমান্ড কার্ভ সরে আসতে হবে ডানদিকে।
  • Ishan | ২০ নভেম্বর ২০১৭ ০৪:১০60261
  • দেখলাম। এখানে বেসিক সমস্যাটা হল সাপ্লাই কার্ভটা নিয়ে। মিনিমাম ওয়েজ হল সেই মজুরি, যার নিচে কোনো লোক কাজ করবেনা, অর্থাৎ শ্রমের সাপ্লাই শূন্য। এটা লজিকালি ঠিক তো? যদি লজিকালি ঠিক হয়, তো সাপ্লাই কার্ভটা শুরু হবে (x=0,y=wmin) থেকে। এখানে দেখছি শুরু হচ্ছে (x=0,y=0) থেকে। অর্থাৎ, মিনিমাম ওয়েজের নিচে কাজ করার লোক পাওয়া যাচ্ছে। সেটা মিনিমাম ওয়েজের প্রাথমিক সংজ্ঞাটাকেই স্যাটিসফাই করছেনা।

    এইটাই সমস্যা। আপনি wmin1 থেকে মিনিমান ওয়েজ যদি বাড়িয়ে wmin2 তে করেন, সাপ্লাই কার্ভ লাভ মেরে x=0,y=wmin1 থেকে x=0,y=wmin2 তে চলে যাবে। অর্থাৎ, বাঁ দিকে সরবেই। স্লোপ অবশ্য বদলাতেই পারে, কিন্তু সেটা এখানে ধরা হচ্ছেনা।
  • modi | ২০ নভেম্বর ২০১৭ ০৪:১১60262
  • এবারে কিন্তু আমি একটু অভিমান করব। ঃ-)

    কেন ধরে নিচ্ছেন আমি আপনার লেখাটা (বা স্পার্ক নোটস) পড়িনি? আমার তো মনে হচ্ছে আপনিই আমার লেখাটা পড়েন নি।

    আপনার অ্যানালিসিস ধরে নিচ্ছে এই সাপ্লাই ও ডিম্যান্ড কার্ভদুটো অপরিবর্তনীয়। আপনি বলছেন শর্ট টার্মে। এক সেই শর্ট টার্মটা কত শর্ট? সেটার কোন উত্তর ম্যাক্রো ১০১ এ দেওয়া থাকে না। আসলে সেটার কোন বাঁধাধরা উত্তরও নেই। কিন্তু সেটা আমার প্রধান কথা নয়।

    আমার প্রধান কথা হল এই কার্ভ দুটো ওরকম অপরিবর্তনীয় কিছু নয়। মাইনে বাড়লে অন্য জিনিষের ডিম্যান্ড বাড়বে। সেই অতিরিক্ত উৎপাদনের জন্য অতিরিক্ত শ্রম লাগবে। তার জন্য লেবারের ডিম্যান্ড কার্ভ ডাইনে শিফট করে যাবে। এবারে বাকীটা দেখে নিন, তার ফলে এমপ্লয়মেন্টের কি হবে।

    এখন এই নতুন ইকুইলিব্রিয়াম কি হবে, সেটা রিচ করতে কত সময় নেবে, সেগুলো মডেল করাটা ট্রিভিয়াল কাজ নয়। আমার বক্তব্য এটুকুই, মজুরী বাড়ালে এমপ্লয়মেন্ট বাড়তেও পারে। মজুরী বাড়লে এমপ্লয়মেন্ট কমবেই, সেটা ওভাবে ব্ল্যাঙ্কেট বলা যায় না।

    এর মধ্যে লেবারের অ্যানোম্যালাস সাপ্লাই কার্ভের প্রসঙ্গ আসছে না। সেটা মিনিমাম ওয়েজের আলোচনায় প্রযোজ্যও নয়। তবে সবকিছু স্থির আছে সেটা ধরে নিতে আমি রাজী নই। ম্যাক্রো ১০১ এর বাইরে আর কোথাও সবকিছু স্থির থাকে না। ;-)
  • S | ২০ নভেম্বর ২০১৭ ০৪:২০60263
  • ঈশানদা, এই চার্টগুলোতে সবাই হলো প্রাইস টেকার। মানে যিনি লেবার ডিমান্ড করছেন আর যিনি লেবার সাপ্লাই করছেন, দুজনেই শুধু মাত্র তাদের কোয়ান্টিটি টুকু ডিসাইড করতে পারেন। প্রাইস মার্কেট (মিনিমাম ওয়েজের ক্ষেত্রে সরকার) ডিসাইড করে। এই কার্ভগুলো দেখায় যে বিভিন্ন ওয়েজ লেভেলে এম্প্লয়ার এবং এম্প্লয়ি কতটা লেবার ইমান্ড আর সাপ্লাই করবেন। তাই (0,0) থেকেই দুটো কার্ভ শুরু করবে।

    এইবারে হঠাত আর্টিফিশিয়ালি Wmin যা কিনা W* এর বেশি, তা দিয়ে দেওয়া হলো। তখন কি হবে ইকুইলিব্রিয়ামে?
  • S | ২০ নভেম্বর ২০১৭ ০৪:২২60264
  • * দুটো না। একটা কার্ভ (০,০) অন্যটা (০,Wmax) থেকে শুরু হচ্ছে।
  • Ishan | ২০ নভেম্বর ২০১৭ ০৪:৩১60265
  • Wmax না, Wmin তো?

    বেশ তো দুটো কার্ভ তাহলে। নতুন সাপ্লাই কার্ভ 0,Wmin থেকে শুরু হল। আর্টিফিশিয়াল মিনিমাম ওয়েজের ঠেলায় সে Qs অবধি সোজা গেল। তারপর পুরোনো রাস্তা ধরে উপরে উঠল। সব মিলিয়ে তো বাঁ দিকেই সরল। নতুন ইকুইলিব্রিয়াম হল (Qd, Wmin)। ঠিকই তো আছে তাহলে। চাপ কী?
  • S | ২০ নভেম্বর ২০১৭ ০৪:৩২60266
  • ১) মোদি, অভিমান করবেন না। আপনার প্যারা ধরে ধরে উত্তর দিচ্ছি। এটা প্রথম প্যারার জন্য।

    ২) আমার লেখাটা ঈশানদার উদ্দেশ্যে। স্পার্ক্স নোট পড়িনি, ঐ ছবিটা এক্সপ্লেইন করতে সুবিধে হবে বলে ইমেজ সার্চ করে নিয়েছি।

    ৩) শর্ট টার্ম বলতে যেখানে ফিক্সড কস্ট চেন্জ করা যায়্না। মানে অবস্থা বুঝে মানিয়ে নেওয়া ছাড়া কারোরই কিছু করার নেই।

    ৪) এবং ৫) হ্যাঁ অনেক ডাইনামিক রিলেশনস আছে। ইশানদাও সোসাল সিকিউরিটি ইত্যাদির কথা লিখেছেন যেগুলো এইসব ক্ষেত্রে কাজ করতে শুরু করবে। তাছাড়া ইনফ্লেশন ইম্প্যাক্ট করবে ইত্যাদি। আমি খুব সহজে বোঝার চেস্টা করেছি।

    ৬) সবকিছু স্থির থাকবে না, সেটা দিয়েই লেখা শুরু করেছিলাম। সেইজন্যই বলেছি এটা মডেল। আমার 12:32:04 IST এর পোস্টটা দেখলে বোধয় বুঝতে পারবেন।
  • Ishan | ২০ নভেম্বর ২০১৭ ০৪:৩৭60267
  • আমিও বুদ্ধি করে স্পার্কনোটস টা পড়ে ফেললাম। দিব্বি লেখা। পুরোটাই পষ্টো করে বলা আছে। পড়ে ফেলেন। এই যে লিংক। http://www.sparknotes.com/economics/micro/labormarkets/labordemand/section1/page/3/
  • modi | ২০ নভেম্বর ২০১৭ ০৪:৪১60269
  • S, আপনার কথাটা এইবারে বুঝলাম।

    একটা কথা যোগ করব। আমেরিকায় এই মুহুর্তে ইকনমির ক্যাপাসিটি ইউটিলাইজেশন কম। কর্পোরেটের হাতে সারপ্লাস ক্যাশও অনেক। সুতরাং, শর্ট টার্ম বলতে ফিক্সড কস্ট চেঞ্জ করা যাবে না ধরলেও মজুরী বাড়লে এমপ্লয়মেন্ট বাড়বে বলে মনে হয়। সেক্ষেত্রে ঐ বসে থাকা ক্যাপাসিটির (ও সারপ্লাস ক্যাশের) কিছুটা ব্যবহার হবে, ফিক্সড কস্ট না বাড়িয়েই।
  • S | ২০ নভেম্বর ২০১৭ ০৪:৪১60268
  • না না। এইবারে ঈশানদাকে বকবো।

    সাপ্লাই কার্ভ যখন তৈরী হয় তখন জিগানো হয় ০ ওয়েজ দিলে ক ঘন্টা কাজ করবেন সপ্তাহে। উত্তর ০। এখন ০ ওয়েজ নিস্চই জগতে কোথাও নাই। তারপরে জোগায় ১ ডলার দিলে? ২ ডলার দিলে? ইত্যাদি। সাধারণতঃ ঘন্টাটা বাড়ে*। তাই সাপ্লাই কার্ভ (০,০) থেকেই শুরু হচ্ছে।

    আর ডিমান্ড কার্ভ শুরু হবে (০, Wmax) থেকে। কারণ চাকরীদাতাকে জিগানো হবে যে সবথেকে বেশি ওয়েজ দিলে কতঘন্টা কাজ করাবে? উত্তর ০। আর ০ ওয়েজ করে দিতে হলে বলবে প্রচুর।

    *বুঝতেই পারছেন অলস লোক হলে একটু বেশি পয়সা দিলেই কম কাজ করবে (বাঙালী)। কিন্তু ধরে নেওয়া হয়েছে যে সক্কলে র‌্যাশনাল বিয়িঙ্গ মানে সক্কলে নিজের ভালো বোঝে মানে সবসময়ই বেশি আয় করতে চাইবে। সাধারণ জনতার জন্য সেটা সমসময়ই লাঘু হয়। যদিওবা লাইনদুটোর কোনোটাই বোধয় রিয়েল লাইফে সরলরেখা হবেনা।
  • S | ২০ নভেম্বর ২০১৭ ০৪:৫৬60270
  • মোদিজী, এইবারে অন্য প্রসঙ্গ। প্রচুর ডাইগ্রেস করেছি, আরেকটু করলাম। রিসেশনের পর থেকেই আম্রিগাতে রিয়েল ডিমান্ড বোধয় খুব কমে গেছে। ওবামার ফিসকাল স্টিমুলাস যেকারণে এক্সপেক্টেশনের থেকে কম কাজ করেছে। শুনেছিলাম যে স্টিমুলাসে দেয়া পয়সার ভেলোসিটি নাকি খুব কম ছিলো। ফলে স্লো রিকভারি হয়েছে। এর জন্য অনেক কারণ আছে। পলিটিকাল ডিভাইড, ফলে যেকোনও রিফর্ম প্রায় অসম্ভব ছিলো। প্রচুর দেনা হয়েছে বিগত ১৫ বছরে। আর সেন্টিমেন্ট খুব ডাউন। ফলে লোকে কনজিউম কম করছেন। আর যারা সেভ করছেন, তারা মেইনলি প্রপার্টি আর মার্কেটে ঢেলে দিচ্ছেন। ফলে তেমন কারণ ছাড়াই মার্কেট বেড়ে চলেছে, আর প্রপার্টি প্রাইস ২০০৬ লেভেল পেরিয়ে গেছে।

    কর্পোরেটরা ঐ ক্যাশ দিয়ে ঠিক কি করবে জানা নেই। হয়তো কিছু অ্যাকুইজিশন হবে, ঐ সেই মার্কেটেই ফিরে যাবে। তেমন কোনও মারাত্মক বড় কিছু প্ল্যানও তো দেখিনা। অ্যামাজন ৫ বিলিয়ন দিয়ে নতুন হেডকোয়ার্টার তৈরী করবে বলেছে। তার জন্য নিউ জার্সি রাজ্য সরকার ৫ বিলিয়নের বেশি ট্যাক্স ব্রেক অফার করেছে।
  • modi | ২০ নভেম্বর ২০১৭ ০৫:০৬60271
  • ঠিকই বলেছেন। মার্কেটে লিকুইডিটি ঢোকালেই তো হবে না। কোথায় ঢোকানো হচ্ছে তার ওপর নির্ভর করবে ইঞ্জেক্টেড মানির ভেলোসিটি কি হবে। সেটা যদি কম হয় তো মাল্টিপ্লায়ার এফেক্ট ঠিকঠাক হবে না। তখন খরচ করে সরকারের ধারই বাড়বে, গ্রোথ সেরকম হবে না।

    ফেড অনেক চেষ্টা করেছে মানিটারী পলিসি দিয়ে। কিন্তু মানিটারী পলিসি দিয়ে খুব টার্গেটেড লিকুইডিটি ইঞ্জেক্ট করা সম্ভব না। আর ফিসকাল স্টিমুলাসের কথা তো বললেন ই। আমেরিকার খোঁড়া পলিটিকস।
  • ??? | ২০ নভেম্বর ২০১৭ ০৬:১৫60272
  • নভেম্বর সতেরোর লিবেড়াল আলোচনা। এরা বোধহয় নিও।
  • Ishan | ২২ নভেম্বর ২০১৭ ০৪:১৩60273
  • "হুম। সাপ্লাই সাইড ইকনমিক্স হলো ক্লাসিকাল ইকনমির থিয়োরি। যাতে সাপ্লাই কার্ভটা বাঁদিকে সরবে, এম্প্লয়মেন্ট কমবে। আর ডিমান্ড সাইড হলো কেইনিসিয়ান ইকনমিক্সের মডেল, যাতে ডিমান্ড কার্ভ ডানদিকে সরে এম্প্লয়মেন্ট বাড়াবে।"

    এইটা আপনি কী লিখেছেন একটু বুঝিয়ে বলেন তো। এর মানে আমি যা করেছি, তা হল, মজুরি বাড়াটা সাপ্লাই সাইড থিয়োরি।

    এখন পড়ে দেখলাম, অন্য একটা মানেও হতে পারে। মজুরি বাড়লে কী হবে, তার দুটো ব্যাখ্যা আছে। সাপ্লাই সাইডের আর ডিমান্ড সাইডের। সেই দুটোও আপনি লিখে থাকতে পারেন।

    কোনটা লিখেছেন একটু বলুন।
  • S | ২২ নভেম্বর ২০১৭ ০৪:১৬60274
  • "মজুরি বাড়লে কী হবে, তার দুটো ব্যাখ্যা আছে।" এইটাই লিখেছি।
  • S | ২২ নভেম্বর ২০১৭ ০৪:১৯60275
  • আমার মতে মিনিমাম ওয়েজ বাড়ালে প্রথম কয়েক মাস ছাড়া ইকনমির প্রভুত উন্নতি হবে। কিন্তু সে হবার নয়। এইযে বড়লোকেদের আর কর্পোরেটদের ট্যাক্স কমানো হলো, তার জন্য প্রথম কয়েক বছরে মার্কেট খুব উঠবে, হয়তো কিছু কাজও তৈরী হবে। কিন্তু তারপরে রিশেসন আসবে, সঙ্গে সঙ্গে মার্কেট দুম করে পড়বে।
  • Ishan | ২২ নভেম্বর ২০১৭ ০৪:২২60276
  • ওহো তাহলে হান্ড্রেড পার্সেন্ট ঠিক আছে। আমি ভুল করেছি।
    খালি লাস্ট ডিমান্ড কার্ভটা ছাড়া। ওটায় Wmaxটা কোথায়? খুঁজে পাইনি।
  • S | ২২ নভেম্বর ২০১৭ ০৪:২৯60277
  • Wmax ছবিতে নেই। ডিমান্ড কার্ভটা যেখানে y অ্যাক্সিসে মিশছে সেটাকে আমি Wmax ধরছি। কারণ ওটাই ম্যাক্সিস্মাম ওয়েজ রেট, যেখানে লেবারের ডিমান্ড আর থাকছেনা কারণ ওয়েজ রেট এতো বেশি।
  • Ishan | ২২ নভেম্বর ২০১৭ ০৪:৩১60278
  • ওহো। সেটা ঠিক আছে, কিন্তু অন্য একটা সমস্যা আছে। কাল লিখব।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। না ঘাবড়ে মতামত দিন