পঁচিশে বৈশাখ ————— সুপ্রিয়া চৌধুরী ————— ফিরে এলো পঁচিশে বৈশাখ ফুরালো যে কত যুগ, তবু যেন শুনি আজ নতুনের ডাক রেখে গেছো কত গান কত কথা কত সুর দুঃখে সুখে অনুরাগে
শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি মামলার দুটো স্তর আছে। একটায় মানি ট্রেল দেখা হচ্ছে অন্যটায় ওএমআর শিটে দুর্নীতি দেখা হচ্ছে। প্রথমটায় ইডি আর দ্বিতীয়টায় সিবিআই। দ্বিতীয়টায় সিবিআই তাদের অযোগ্য তালিকা দিয়েছে আর সেটা আগেই হাইকোর্টে পেশ করেছে। তখন এসএসসি মানে রাজ্য সরকার এই তালিকার গ্রহণীয়তা নিয়ে তেনামেনা করছিল।পরে রাজনৈতিক ভাবে চাপ খেয়ে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে গ্রহণীয়তা স্বীকার করছে। এখন সিবিআই যে তালিকা ... ...
জীবন তরঙ্গ - পর্ব ১০ নয়নের ছোটমামা আগ্রহী শ্রোতাদের কাছে ধীরে ধীরে মেলে ধরল কোলকাতার উন্নয়নে ব্যয় করা অর্থের উৎসের কাহিনী। -- তোমরা আশাকরি লর্ড ওয়েলেসলির নাম শুনেছ। আঠার শতকের একেবারে শেষ দিকে ওয়েলেসলি ভারতে বড়লাট হয়ে আসেন। বছর সাতেক ভারত অধীশ্বর হয়ে এই শহরে ছিলেন। এই শহরটা ছিল তখন ভারতের রাজধানী। তাঁর আমলেই কোলকাতাকে একটা রাজকীয় শহর করার স্বপ্ন দেখা শুরু হয়। ওয়েলেসলি ছিলেন দক্ষ প্রশাসক। তিনি বুঝেছিলেন যে শহরের ... ...
জীবন তরঙ্গ - পর্ব ৯ অল্প বিরতির পর চায়ের কাপে ছোট্ট চুমুক দিয়ে ছোট মামা আবার শোনাতে শুরু করল শহরের সেকালের কাহিনী। -- বর্গিরা ছিল দস্যুর দল। এই হানাদারেরা কাছেপিঠের কেউ নয়, আসত সেই মহারাষ্ট্রের নাগপুর থেকে। যেখানে আসত সেখানকার সব কিছু লুট করে নিয়ে যেত। লোকেদের ওপর চরম অত্যাচার করত, কখনো কখনো প্রাণেও মেরে ফেলত। তবে ওই দস্যুরা ঘোড়ায় চড়ে আসত বলে গঙ্গা পার হয়ে এদিকে আসেনি। যা কিছু বদমায়েশি সব গঙ্গার পশ্চিম পারেই করেছে। কিন্তু তাই বলে তো চুপ করে বসে থাকা চলে ... ...
জীবন তরঙ্গ - পর্ব ৮ ২৪ পরগণা সেই সময় একটাই ছিল, উত্তর আর দক্ষিণে ভাগ হয়নি। শেয়ালদা দক্ষিণ লাইনে বারুইপুর তখনো শহরের তকমা পায়নি। অঞ্চলটা একটা বর্ধিষ্ণু গ্রাম ছিল। দিগ্বিজয় মিত্র ছিলেন ওই গ্রামের একজন প্রভাবশালী লোক। দিগ্বিজয় আলীপুর কোর্টে ওকালতি করতেন। ভাল পসার ছিল, ফলে পয়সাও প্রচুর ছিল। অনেকটা জমি জায়গা সমেত বেশ বড় বাড়ি ছিল। দিগ্বিজয়্বর এক ছেলে এক মেয়ে। রজতের মা বাণী বড়, ছেলে রণজয় ... ...
জীবন তরঙ্গ - পর্ব ৭ শ্রীমন্ত রহড়া সংঘের ফুটবল টিমের প্রথম একাদশে সুযোগ পেত না। খুব ঠেকায় না পড়লে ক্লাব কর্তৃপক্ষ ওকে মাঠে নামাত না। ও ছিল বিশ পঁচিশ মিনিট খেলার প্লেয়ার। সেদিন ট্রেনের গোলযোগের জন্য রহড়া সংঘ টিমের দূরের যাদের বাড়ি, তারা কেউ আসতে পারেনি। শ্রীমন্তকে নিয়ে কোনমতে এগারো জন হয়েছে। জোড়াতালি দিয়ে টিম হলেও খেলা সমানে সমানে চলছিল। হাফ টাইম হতে তখন আর মিনিট পাঁচেক ... ...
জীবন তরঙ্গ - পর্ব ৬নয়নের বাড়ি সাঁতরা পাড়ায়। রজতদের চৌধুরী পাড়ার একেবারে গায়েই। নয়ন আর রজত বাল্যবন্ধু। ক্লাস ওয়ান থেকে মিশনে একসাথে পড়াশুনা করছে। একেবারে নিচু ক্লাসে শিবু স্যার ছিলেন ওদের হেডমাস্টার। সব ছাত্র ওনাকে খুব ভয় পেত। কোনরকম বেচাল দেখলেই হুংকার ছাড়তেন। বাণীর দৃঢ় বিশ্বাস শিবু স্যারের দাবড়ানিতেই ওর দামাল ছেলেটা পথে এসেছিল। মিশন পাড়ার গৌতমও ওদের ক্লাসেই পড়ত। গৌতম লেখাপড়ায় খুব ভাল ছিল। ও প্রতি বছর ওদের ক্লাসে ফার্স্ট হত। নয়ন লেখাপড়ায় খারাপ ছিল না। নম্র, ভদ্র আচরণ ছিল। দেখতে সুন্দর, স্বভাব সুন্দর, এমন ছেলেকে সকলেই ভালবাসবে। কিন্তু নয়ন ছিল মিচকে বদমায়েশ। তখন ওরা ক্লাস ফাইভে পড়ে। সেশন ... ...
সব যখন ছেড়ে গেল, শুধু আমি বসে রইলুম, আমার অবশিষ্ট শরীর আর মুক্তি উন্মুখ আত্মা নিয়ে, যে কটা কাক বসে ছিল, তারাও চলে গেল, আবার কালকে আসবে বলে গেল - যদি মরি! কিন্তু আমি আর একটু বাঁচতে চেষ্টা
জীবন তরঙ্গ - পর্ব ৫রজতদের আদি বাড়ি মদনপুরে। ওখানেই ওদের কয়েক পুরুষের বাস। রজত যখন খুব ছোট তখন ওর বাবা বিকাশ পৈত্রিক বাড়ি ছেড়ে রহড়ায় চলে আসে। বিকাশ গুপ্ত তখন ব্যারাকপুর রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ কলেজের বাংলার অধ্যাপক। কিছুটা কর্মস্থলে যাতায়াতের সুবিধা আর অনেকটাই ছেলেকে রহড়া রামকৃষ্ণ মিশনে পড়াবার বাসনায় রহড়ার মিশন পাড়ায় বাসা ভাড়া নেয়। কলেজের এক সহকর্মী রহড়ার নন্দন কাননে থাকতেন, উনিই মিশন পাড়ার বাড়িটায় ভাড়া থাকার ব্যবস্থা করে দেন। বাড়িওয়ালা ভাল মানুষ। কলকাতায় চাকরি করে। বিপত্নীক, বছর দুয়েক আগে স্ত্রী মারা গেছে। একটিমাত্র ছেলে, বিকাশেরই কলেজে পড়ে। বাড়িওয়ালা দোতলায় থাকে আর বিকাশরা একতলায়। দিনের বেলা এক এক করে যে ... ...
জীবন তরঙ্গ - পর্ব ৪ পাহারার প্রথম পর্বে পাড়াটা একবার প্রদক্ষিণ করে একদিন তেমাথার মোড়ে সকলে দাঁড়িয়ে আছে, হঠাৎ দেখা গেল বাজারের দিক থেকে একটা লোক ছুটে আসছে। ডিফেন্স পার্টির এতগুলো লোক, একজনকে আটকানোয় কোন রিস্ক নেই। বীর দর্পে এগিয়ে গিয়ে সকলে ওকে ঘিরে ধরল। ও তার মধ্যে থেকেও ফাঁক দিয়ে ... ...
জীবন তরঙ্গ - পর্ব ৩আড্ডায় তপন নামে একটি নতুন ছেলে একদিন যোগ দিল। ওর সাথে কোন সূত্রে রজতের পরিচয় ছিল, ওই সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিল। তপনের বাড়ি কৃষ্ণনগরে। ও মাসকয়েক আগে কোলকাতায় চাকরি পেয়েছে। কয়েক মাস বাড়ি থেকেই যাতায়াত করেছে। অত দূর থেকে যাতায়াতে কষ্ট হয় বলে এখানে বাড়ি ভাড়া করেছে। রজতই চৌধুরী পাড়ায় ওর বাড়ির কাছাকাছি তপনের জন্য থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। তপন ছোট গ্রুপের অনেকের থেকেই বয়সে কিছুটা বড় ছিল। কিন্তু অল্পদিনের মধ্যেই সকলের সাথে বন্ধুর মত মিশে গিয়েছিল। আড্ডাস্থল থেকে একটু এগিয়ে একটা পুজো মন্ডপ আছে। ওখানে বেশ বড়সড় একটা জগদ্ধাত্রী পুজো হত। হত বলা ভুল হল, ... ...
জীবন তরঙ্গ - পর্ব ২ আড্ডার অকুস্থলেই ঘটেছিল আর একটা মজার ঘটনা। তখন ফুটবলে এখনকার মত টাকার জোয়ার তেমনভাবে আসেনি। কালিদাস বিভিন্ন সময়ে অনেক খেপুড়ে খেলোয়াড়কে এনে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় খেলাত। সেদিন ছিল রবিবার। চায়ের দোকানে তখন ভরা আসর। হঠাৎ দেখা গেল এক যুবক দোকানের দিকে এগিয়ে আসছে। পরনে বিচিত্র এক প্যান্ট, যা হাঁটুর বিঘৎ খানেক নিচে গিয়ে থেমে গেছে। অনেকটা এখনকার থ্রি কোয়ার্টার প্যান্টের মত। বয়স তিরিশের ... ...
গত শতকের সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময়। দুঃস্বপ্নের বেশ কয়েকটা বছর পার হবার পর হানাহানি স্তিমিত হয়ে গেছে। বারুদের গন্ধ নিত্যদিন বাতাসকে আর ভারি করে না। সন্ধের পরেও তখন বাড়ির জানলাগুলো খোলা থাকে, অজানা আতঙ্কে আর বন্ধ করে দিতে হয় না। রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকলেও সাধারণ মানুষের জীবন অনেকটাই চেনা পথে চলে এসেছে। স্কুল-কলেজ, ডেলি প্যাসেঞ্জারি, দোকান, বাজার, সামাজিক কাজকর্ম, দৈনন্দিন যাপনের সব কিছুই ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। কয়েক বছরে মনের কোনে জমে ওঠা ভয় আর সন্দেহকে দূরে সরিয়ে চায়ের দোকান আর রকের আড্ডাগুলোও ফিরে পেয়েছে তাদের পুরনো ছন্দ।সে সময় রহড়া বাজারের কাছে বুড়োদার চায়ের দোকান আর পাশেই হাঁড়ি পুকুর ঘাটে ... ...
এভাবে বহুদূর চলে যাওয়া যায়,সীমানাগুলো সব পেরিয়ে,দিগন্তের কাছাকাছি।কেন যাব জানি না,এতদূর যে এসেছি,এটাও তো হিসেব না করেই এসেছি,ভালো লেগেছে বলে,কিংবা আমার চারিদিক,(যেটা আছে আর কি!)ভালো লাগেনি বলে।এক কথায় পালিয়ে এসেছি আমি।তবে আমার খোঁজ পড়েনি এজন্য।পড়ে না।কারণ পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে ওরা জানে,আমি আবার ফিরে যাব।যদি এখন উধাও হয়ে যাওয়া যায়!খুব একটা খারাপ হবে না কিন্তু!কিন্তু আমার কোমরে অদৃশ্য শিকলে বাঁধা আছে -মায়া, মোহ, ভালোবাসা, দায়িত্ব, কর্তব্য.....এসব লোহা।চুম্বক আছে একখানা,আমার গন্ডির মধ্যে,বিভিন্ন জায়গায়,প্রয়োজনমতো চালু করে,তড়িৎচুম্বক তো!আমি ফিরতি পথ ধরি,কেউ সুইচ দিয়েছে চুম্বকে। ... ...
কন্যাশ্রী, লক্ষীর ভাণ্ডার, বার্ধক্য ভাতা ইত্যাদি স্কিমগুলোর বিরুদ্ধে আমরা কেন বলব? উন্নয়নের সুযোগ বেশির ভাগ লোকের কাছে যায় না। সেসব বড্ডজোর মধ্যবিত্ত অবধি পৌঁছয়। পেছিয়ে পড়া মানুষের পক্ষে কর্পোরেট উন্নয়ন থেকে চুঁইয়ে পড়া চাকরি বাকরিতে ঢোকা সম্ভব নয়। তাদের, সমাজের পেছিয়ে পড়া অংশের জন্য সরাসরি টাকা পৌঁছানোর সামাজিক সুরক্ষার স্কিমগুলো বিরাট ফলদায়ক। এগুলো তাদের ... ...
হাসতে মানা নেই ————— সুপ্রিয়া চৌধুরী ————— আকাশ যে আজ বেজায় খুশী মলিন মেঘে ঢাকবেনা তাই তো হাসে অট্টহাসি বৃষ্টি হয়ে কাঁদবে না। প্রখর তাপে তপ্ত ধরা মাটি ফেটে চৌচির চলো সবাই খুঁজবে চলো কোথায় নদী ? নদীর
যখন তিনি শিশু ছিলেন, আমাদের বাড়িটা ছাড়া কিছু জানতেন না। দুই পিসির কাছেই খুব আদর পেয়েছেন তবে মামনপিসিকে বেশি দিন কাছে পাননি। আজকে তাঁর শৈশবের কয়েকটা ঘটনা বলব। সোহমের তখন বছর ছয়েক বয়স। তাঁর ঠাকুমার স্ট্রোক হওয়ার পর ডাক্তারের নির্দেশে সাতসকালে অ্যাম্বুলেন্স ডেকে শিশুটির বাবা মা ঠাকুমাকে নিয়ে শ্যামবাজারে একটা নার্সিং হোমে ছুটেছিলেন। সোহমকে আমাদের বাড়ি রেখে যাওয়া হয়েছিল। ক্রমশ ভেঙে যাওয়া ঘুমের মধ্যে থেকে ব্যাপারটা আমি একটু একটু টের পাচ্ছিলাম তবে ঘুম থেকে তখনো উঠিনি। তারপরে সোহমের প্রচন্ড কান্নায় বিছানা ছাড়তে বাধ্য হ'লাম। কী ব্যাপার, এত কান্না কিসের? জানা গেল, আমাদের বাড়িতে আসার পরই তাঁর একটা দাঁত পড়ে গিয়েছিল। দাঁতটা তিনি ... ...
“Better to live one day as a tiger Than a thousand years as a sheep ”............................................................পাঁচ মাস কুকুরের মত এক দুর্গ থেকে আরেক দুর্গে পালিয়ে বেড়ালেন মারাঠা হিন্দু কুলতিলক দ্বিতীয় বাজীরাও। ত্রয়োদশ পেশোয়া এই আশায় ছিলেন যে সিন্ধিয়া অথবা হোলকার কিংবা ভোঁসলে রাজারা তাঁকে সাহায্য করতে আসবেন। কিন্তু কেউ এলোনা! ১৮০২ সালেই ... ...
রাত্রি একটু ভেবে নিয়ে বলল, ' তোদের বাড়িতে একদিন যেতে হবে রে সঞ্চারী। তোর দাদাভাইয়ের রিঅ্যাকশানটা ডায়রেক্টলি জেনে নিতে চাই। আমাদের জন্য প্রতিটি ফিডব্যাকই ইমপর্ট্যান্ট। নিখিল স্যার সেরকমই বলেন ... ' ----- ' ও ব্বাবা ... তোরা তো একেবারে ডেডিকেটেড সোলজার মনে হচ্ছে। দেখিস ... একটু ভেবেচিন্তে পা ফেলিস। জালে একবার জড়িয়ে গেলে কিন্তু আর বেরোতে পারবি না। আনবায়াসড জাজমেন্ট দিয়ে বিচার করা ... ...
এই কদিন যখনই হাত চলে যায় পেছনদিকে,প্যান্টের ভেতর, আমি পরিষ্কার একটা বাড়তি প্রবর্ধকের অস্তিত্ব বুঝতে পারি। প্রথম যেদিন আবিষ্কার করি,বেশ চমকে উঠেছিলাম। অনুভূতির যে ধারা বয়ে গিয়েছিল,তাতে ভয়ের অনুপাত ছিল সবচেয়ে বেশি। তারপর থেকে ধীরে ধীরে