
প্রায় দেড় বছর ধরে চলছে চেঙ্গারার দলিতদের অসামান্য লড়াই। ২০০৭ সালের ৫ই অগাস্ট সাধু জনবিমোচনা সংযুক্ত বেদীর ( SJVSV ) নেতৃত্বে প্রায় ২০০০ ভূমিহীন আদিবাসী দখল করে হ্যারিসন মালায়ালম রাবার প্ল্যান্টেশন এর ২৫০০ হেক্টার জমি। প্রসংগত, আর পি গোয়েঙ্কা গ্রুপ এর এই কোম্পানির লিজ শেষ হয়ে গিয়েছিলো ২০০৬ সালে। তার পর থেকে বেআইনি ভাবে জমিটি দখল করে রয়েছে রাবার এস্টেটটি। ... ...

উৎসবের নাম দুর্গাপূজো। মারাঠিদের যেমন গণেশ চতুর্থী, উত্তরভারতীয়দের যেমন দিওয়ালী, বাঙালির তেমনি ট্রেড সিম্বল হল দুর্গাপূজো। এমনিতেই বাঙালি কমিউনিটিপ্রিয় জাতি, বাংলার বাইরে এসে বাঙালির মত কমিউনিটি তৈরি করতে আর কোনও প্রবাসী ভারতীয় জাতি পারে না। তবে প্রবাসে সব ঐক্যের শেষ ঐক্য খাটে এই দুর্গাপূজোর সময়ে। ... ...

আজকের খবরগুলি ৮ই মার্চ উপলক্ষে। সেই ১৯১১ তে ক্লারা জেটকিন, আলেকসান্দ্রা কোলনতাই দের হাত ধরে সমান অধিকার অর্জনের, মানুষের মতন বাঁচার অধিকার অর্জনের লড়াই শুরু যে দিনটাতে। আজ ও চলছে সমানে। আরো কতদিন চালাতে হবে কে জানে। সেই লড়াইয়ের ই কিছু সেভাবে খবর না হয়ে ওঠা খবরের খন্ডচিত্র রইলো আজকের খবর্নয়(?) তে। ... ...

সপ্তাহখানে আগের ঘটনা। সাতাশে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯। উত্তরপ্রদেশের নাচনিতে এক কুড়ি বছরের বিবাহিতা যুবতীকে ধর্ষণ করে গোপাল ও পূরণ সিং নমে ঐ এলাকার দুই ব্যক্তি। মহিলা তাঁর স্বামীর সঙ্গে একটি স্থানীয় মেলা থেকে ফিরছিলেন। এমন সময় এই দুজন তাঁদের আক্রমণ করে। স্বামীকে বেঁধে রাখা হয় গাছে। এবং মহিলাকে এক এক করে ধর্ষণ করে এই দুজন। ... ...

NRGEA, মানে সহজ বাংলায় যাকে একশো দিনের কাজের প্রকল্প বলে, তা নিয়ে টাকা নয়ছয়, দুর্নীতির অভিযোগ আছে সব জায়গাতেই। গ্রামে গ্রামে এই নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর কাজ করছেন বহু কর্মী, তাই স্থানীয় প্রশাসনের রোষেও পড়তে হচ্ছে তাঁদের। এরই সাম্প্রতিকতম উদাহরণ ভুখন সিং আর নিয়ামত আনসারি। ঝাড়খন্ডের লাটেহার জেলার কোপে আর জেরুয়া গ্রাম প্ঞ্চায়েতে তাঁরা গ্রামবাসীদের লড়াইয়ের পাশে থেকেছেন, লোক আদালতের রায়ে ঐ জেলার বিডিওকে জরিমানা দিতে হয়েছে, গ্রামবাসীরা পেয়েছেন বেকারভাতা। তারই বদলা নিতে ভুখনদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১৫ই ফেব্রুয়ারী, পরেরদিন জেলেও পাঠানো হয়েছে তাঁদের। ... ...

আবার অন্যদিক থেকে দেখলে, দিল্লিতে বাঙালি, পুনরায়, দুই প্রকার। এক গ্যাঁড়ার মত লোকজন, যারা প্রায়শই বড়মেজ বিভিন্ন রকমের চাকরি পেয়ে বাংলার মাটি ছেড়ে দুর্জয় ঘাঁটি গেড়ে বসছে দিল্লি এনসিআরের বুকে, এবং এখানেই থেকে করেকম্মে খাচ্ছে, পয়দা করছে সেকেন্ড, থার্ড জেনারেশন প্রবাসী বাঙালি। চাকরি অথবা উচ্চশিক্ষা, সঙ্গে সাইড ডিশ হিসেবে উইকএন্ডে বাংলা কল্চর, এই এদের গল্প তো শুনেছেন আগের বারে। ... ...

এলোমেলো আঁকিবুকি / চাপাচুপি ঢাকাঢুকি / হিজিবিজি জোখালেখা / মিল্মিশ্? একা একা? ... ...

কবির গোপন ডায়েরি থেকে উঠে এল জীবনের প্রতিটি ধাপে যাপনের অসহ্য বেদনার গোপন ও গম্ভীর শিলালিপি। গম্ভীর, কারণ নিষিদ্ধ কামনা ও প্রত্যাখ্যানের উপাখ্যান ব্যতিক্রমহীনভাবেই সিরিয়াস। গোপন, কারণ, কবি লিখেছেন, 'প্রণয় প্রকাশ হলে হয় লোকনিন্দা / রাধার প্রণয় আছে প্রকাশের বৃন্দা'। ... ...

এইখানে ধূসর পাঠে মগ্ন ছিল নষ্ট দেবতা / সন্তানের হাত ধরেছে সে পিচ্ছিল পৃথিবীতে / মায়াময় প্রতিবিম্বটি ফেরে তার পিছন পিছন / প্রাকৃত সংলাপ লিখে গেছে অস্থির বালকে - ... ...

সন্ধ্যার ভিতর শুনি তার গল্প, বাতাসের গায়ে / অষ্টাদশ শতকের ঘাট, তার পুরাতনী কথা / ধূসর ক্রেনের ছায়া পড়ে / মন, যেন লক্ষকোটি বছরের দীর্ঘশ্বাস, নিজেকে বাজায় ... ...

চা যখন খেয়েই-ছি, থ্যাংক ইউ বলাই দস্তুর / এভাবেই পরম্পরা মেনে নিয়ে ক্রিয়া ও বস্তু-র / ভাঁড় ভেঙে হেঁটে গেছি, ঝাঁঝরির ফাঁকে পোড়া মাটি ... ...

ফার্নান্ডো পেসোয়ার নির্বাচিত কবিতা থেকে অনুবাদ করেছেন মিঠুন ভৌমিক ... ...

কথা ছিলো সব নেওয়া যাবে একটাই বাক্সতে / ধার দেনা আলোচাল যার যেটুক আছে এই যাত্রা / মাটির রাত্রি ধরে তেষ্টা চুমুক দেয় আলগোছে ... ...

১৯৯৬ য়ের জুন মাস। বাংলাদেশের ময়মনসিংহ শহরের দূর্গাবাড়ি রোডের রাস্তায় একটি টয়োটা গাড়ি। ভর-দুপুরে গাড়িটি ঢিমে লয়ে চলছে, এদিক-ওদিক, দোকানের সামনে থেমে জানতে চাইছে - সূর্যসিঁড়ি নামের বাড়িটি কি করে যাব? বাড়ির সামনে গাড়ি থেকে নামে তারা দু'জন। কমবয়েসি ছেলেটি রজ্জাক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম বিভাগের ছাত্র। এক বন্ধুর দাদার দেওয়া যোগাযোগে কদিন ধরে কাজকম্ম ছেড়ে ঘুরছে কোলকাতা থেকে আসা একটি বাংলা দৈনিকের সাংবাদিকের সঙ্গে। ঘুরছে চরকিবাজির মত। ... ...

না যান, না যান, না যান মাহুত রে, / মাহুত বাড়িতে বহেন রে হাল। / ভালে না হয় হাতীর চাকিরি, সাথে সাথে কাল।। ... ...

যদিও শুরু করেছিলাম এই বলে যে, ধারাবাহিকভাবে কিছু লিখব না, তবুও শুরু থেকে এতখানি পর্য্যন্ত প্রচন্ডভাবেই ধারাবাহিক হয়ে গেল, খাওয়ার পর শোওয়া, শোওয়া হলে ঘুম থেকে ওঠার মত। আসলে এক ধরণের জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে আসার পর নতুন জীবনে যাবার ট্র্যানজিশনটা এত বেশি ঘটনাবহুল মনে হয় নিজের কাছে, যে তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণের দিকে মন চলে যায়। জলপাইগুড়িতে চার বছর কাটানোর প্রতিটা দিন আর আলাদা করে মনে নেই, কিন্তু ঐ শুরুর দিনকটা ভীষণভাবে মনে আছে। ... ...

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে লড়াইটা ছিল সাগরে ও মাটিতে। এবং মূলত: সেটি ছিল জমিরই লড়াই। লক্ষ লক্ষ ইনফ্যান্ট্রি। আর তাদের পিছনে ভারী কামান। আর সাগরযুদ্ধেও কামান। কেননা নৌ যুদ্ধ ব্যাট্ল্শিপ নির্ভর। মুখোমুখি জাহাজে জাহাজে লড়াই। কামানের পাল্লার উপর যুদ্ধের ফলাফল অনেকটাই নির্ভর করত। আর যুদ্ধবিমান? তারা নেহাৎই অকিঞ্চিৎকর। যুদ্ধের ফলাফলে হেলদোল করতে পারত না সেই পুঁচকে আকাশচারীরা। ... ...

মরা সাহেবের টেবিল দিয়েই সেদিন শুরু হয়েছিলো - আসলে কি, অফিসে পরপর দুজন বড়সাহেব একই ঘরে মরে যাওয়ার পর প্রাণে ধরে এমনিতেই ওখানে আর কেউ ঢুকতে চাইছিলো না। প্রথম জন টিকলো একটি গোটা মাস, মরলো শনিবার, অফিস ছুটি হলো মঙ্গলবার। দ্বিতীয়জন বড়দিনের ঠিক আগে জিমখানায় দৌড়তে গিয়ে হাঁসফাঁস করে মাটিতে ঘামতে ঘামতে মরে গেলো, সে ছিলো হপ্তাখানেক। দুর্ঘটনার এখানেই শেষ নয়, এক ভরদুপুরে উড়ো খবর এলো যে ওপরের তলায় ডানদিকের ঘরের সাহেব নাকি ছুটিতে ছিলো,বউবাচ্চা সমেত গাড়ি অ্যাক্সিডেন্ট করে সেও নাকি মারা গেছে। খবরটা সত্যি। ... ...

আব্বার সাথে রাশেদের আজ আশ্চর্য শত্রুতা। আজ সারাদিন, দিনমান। ছোট্ট চায়ের টেবলের দু'পাশে ওরা দু'জন ঠিক দুই যুযুধানের মতন দাবার গুটি নিয়ে বসে আছে সকাল থেকে। কখনও গালে হাত, কখনও বাঁকানো ভ্রূ, কখনও চুপচাপ। আব্বার অফিস ছুটি আজ, রাশেদের ইশকুলও তাই। ওদের সারা ঘরে ছুটির আমেজ এলিয়ে আছে, বসার ঘর থেকে রান্নাঘর, সেখান থেকে বারান্দায়, সবখানে। আপাতত শুধু ছুটি নেই দুজনের মাথার ভেতর, তুমুল তান্ডব তাতে, যুদ্ধ পরিকল্পনায় ব্যস্ত, আর বাইরে তবু বেশ নিরাবেগ, অথবা ভঙ্গিটা সেরকমই, খাঁজ কাটা সুন্দর কাঠের সাদা কালো সৈন্যদের ওরা লেলিয়ে দেয় একে অপরের দিকে। ... ...

অতসী দাঁড়িয়ে আছে এক্সাইড হাউসের মোড়ে। যেখানে হলদিরামের দোকান, তার সামনে। নীলরঙা শিফন শাড়ীতে। অফিস কেটেছে অতসী। অতসী দেখতে মোটামুটি। শ্যামলা, সামান্য স্থূলকায়া। এখন সকাল এগারোটা। বাসে অফিসযাত্রীর ভীড় এখনো পুরো মাত্রায়। সরকারী চাকুরেদের বাজার,ছেলে-মেয়েদের স্কুল, পাড়ার গলির মুখে প্রাত:কালীন গুলতানি, রুটি-ভাত-চচ্চড়ির আহার সেরে এটাই অফিস যাওয়ার আসল সময়। ... ...