
ও হ্যঁ¡ আমাদের বাড়ীর পাশে গুরুদয়াল অ¡র উত্তীমলালের খাটাল ছিল। এই দুই যাদবভাই হোলি সিজন মাতিয়ে রাখত। রাত নটা-দশটা থেকে শুরু হত তাদের যাদব-গোষ্ঠীর হোরি-ধুন চৈতি গান ( হা হা গান না ফয়শ) হেঁড়ে গলায় সুরের ভুষ্টিনাশ, তার সঙ্গে ঢোলক ডুম্ডুমাডুমডুম ধ্ম, ঠনঠনাঠন খঞ্জুনি --মাঝে মাঝে পাড়ার নেড়ি কুকুর গুলো ভয়ে উঁউউউউ করে কেঁদে উঠত ( না গানে যোগ দিত, কে জানে) আরও রাত করে শুরু হত নৌটঙ্কি নাচ --কি হুল্লোড়! ছোকরা মেয়ে সেজে নাচত যদিও--তা তাও আমাদের ছোটদের দেখা বারণ ছিল--কারণ ভাষা ও অঙ্গভঙ্গি বেশ R রেটেড হয়ে উঠত। ঐ খুব চুরি করে জানলা দিয়ে একটু আধটু যা দেখেছি--খুব রাগ ধরত বড়দের ওপর--সবতাতে যে কেন এত না না ছিল, উফ! ... ...

আমি অবশ্য বাইরে বেরোতাম পাড়ার মাতাল দেখার জন্য। আর অন্য কোনদিন দেখতে পেতাম না। আমার বাড়িতে কস্মিনকালে কাউকে মদ খেতে দেখিনি। দাদু সুনীল-শক্তির যুগে কবি হয়েও খেতেন না। (আত্মীয়দের মতে, এটা ওনার জীবনের দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ কীর্তি। প্রথমটা হলো আনন্দবাজারে না লেখা) টিভিতে যদিও দেখেছি উত্তম কুমার মদ খাচ্ছেন। রাজেশ খান্না দোলের দিন মদ খেয়ে আকাশে উড়ছেন, নিচে রেখা। শুধু দোলের দিনই মাতালরা কেন দৃশ্য হয়, এটা সেই আমলে একটা ভাববার মত প্রশ্ন ছিল। আমি বাংলা রচনায় এদের কথা লিখতাম। আমি জানতাম মধ্যরাত্রির নিস্তব্ধতা একমাত্র গির্জার ঘন্টা আর এদের স্খলিত পদক্ষেপেই ভাঙে। তবুও অনেক জানা বাকি ছিল। ... ...

একমুখ ধোঁয়া গাল ফুলিয়ে গিলে ফেলে জবাব দিল দীপ্তেন, হ্যাঁ, বলতে পারিস। আসলে ভুবনেশ্বরের কিছু টিপিকাল ব্যাপার আছে। একেকটা রাস্তার মোড়কে এরা "ছকো' বলে রেফার করে। মানে সাদা বাংলায় চক্। চক্-এর ওড়িয়া হল ছক। আর ওড়িয়ারা তো যে কোনও অ-কারান্ত শব্দের শেষেই একটা করে "অ' লাগায়, তাই ছকঅ। এমনি আছে মেফেয়ার ছকঅ, মানে মেফেয়ার হোটেলের সামনের মোড়, জয়দেব বিহারঅ ছকঅ, ওমফেড ছকঅ, পাটিয়া ছকঅ ইত্যাদি। পাটিয়া চকের মোড়ে সন্ধ্যেবেলায় বাজার বসে, ঐ এলাকার লোকজন সন্ধ্যেবেলায় ওখান থেকেই সব্জিবাজার টাজার করে আর কি। ... ...

ঠাণ্ডা হাওয়ায় প্রতীক কবরস্থানের নিশুতি নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। গুটি শুটি মেরে ঘুমিয়ে পড়েছে ঘন ঘাসের উপর। লম্বা লম্বা চারকোলগুলি মাথার চাপে ভেঙে গেছে। নাকে মুখে কালো রঙ লেগেছে। কার্টিস পেপারগুলো হাওয়া হাওয়ায় ফর ফর করে ওড়ে। সঙ্গে ওড়ে দীর্ঘ একটি চুল। চুলে জবাকুসুম। অগ্রভাগ সামান্য বাঁকা। লোটাসের চুল। লোটাস নসু কাকার মেয়ে। স্কুল পাস করেছে। সাইকেলে যায়। ওর লাল দোপাট্টা মল মল করে ওড়ে। হি হি করে হাসে। বলে, আমার নাম লোটাস নয়কো। পদ্ম--পদ্মরাগমণি। পদ্মপুকুরে বাড়ি। তোমার লগে আড়ি। ... ...

একদিন আমার খুব গুলাবজামুন খেতে ইচ্ছে করছিল। দোকানে গিয়ে দেখি একটা বি-ই-ই-ই-ই-ই-গ গুলাবজামুন। এত্ত বড় যে হাতে ধরাই যায় না। দোকানদার আংকল আমায় একটা ল্যাসো দিল। বলল যে - এইটা দিয়ে ওটাকে ধর। কিন্তু তাতেও ঠিকমতো তোলা যাচ্ছে না। দিয়েগো, ডোরা, অ্যালিসিয়া - সবাই ট্রাই করল। কিন্তু তাও পারছে না। তখন ডাকছি - বাবা, বাবা, হেল্প, হেল্প। বাবা তখন কি করল, হারকিউলিস যেভাবে আর্থটাকে ঘাড়ের ওপর ধরে থাকে - সেইভাবে গুলাবজামুনটাকে তুলে ধরল। তখন আমি সেটাকে মাথার উপর নিতে পারলাম। আমাদের তো যেতে হবে দোমার (দিদা) বাড়ি। একটা গার্ডেনের মধ্যে দিয়ে ... ...

বাঘগুলো চিড়িয়াখানায় থাকত কিন্তু খাবার পেত না। একটু একটু পেত, পেট ভরত না। ওরা তাই এবার জঙ্গলে এল, সম্বার ডিয়ার এখনও খায়নি। দিয়ে এবার বাঁদরগুলো এসে কলা খেয়ে পালিয়ে যাবার আগে সম্বারগুলোকে মাথায় মেরে দিয়েছে। ... ...

আমি দুপুরবেলা ফুলের বীজগুলো মাকে দিলাম আর বললাম মা, তুমি কি এই বীজগুলো পুঁতে দেবে? মা বলল, হ্যাঁ প্রজ্ঞা, দেব। তারপর মা পুঁতে দিল বীজগুলো। আর আমি অপেক্ষা করতে থাকলাম। আমি রোজ জল দিয়েছি। কিন্তু এক সপ্তাহেও কিচ্ছু হল না। দেড় মাস পর চারা বেরোল। আরো দু ... ...

ঋভু,দুজন মাসিমনি তোকে যে গল্প লিখতে বলেছিলেন লিখলি নাতো! মা আমি তো লিখলাম, তুমি তো বললে ছোট কুট্টিরাও অনেক ভালো লেখে। তাছাড়া তুমি যে বললে আমার যখন স্পেলিং দেখলে লোক জখম হয়ে যাবে। ... ...

ঘুম ভেঙে দেখলাম অনেক লোক। কেউ হাসছে। কেউ কাঁদছে। কেউ শুধুই বসে আছে। তারপর বুঝলাম এটা একটা গ্রেভইয়ার্ড। আমি আমার নিজের কবরের ওপর দাঁড়িয়ে আছি। আমি মরে গেছি চিরকালের মত। কি করেছি আমি যার জন্য কবর ছাড়া আমার আর কিচ্ছু পড়ে রইল না! ... ...

মা বলল, চৈতালি তোমার ফ্রেন্ড, না? ফ্রেন্ডদের বিটিং করে না আর ফ্রেন্ডদের সাথে সব শেয়ার করতে হয়। এই বলে মা আমার টিফিনবক্সে দুটো চকলেট দিয়ে দিল। আমি স্কুলে গিয়ে টিফিনবক্স খুলে একটা চকলেট চৈতালিকে দিলাম। চৈতালি খুব হ্যাপি হল আর বলল, সে। আমিও বললাম, সে। ... ...

একটা ছোট সাদা মাউপুষি ছিল। সে সারাদিন বাইরে বাগানে খেলা করত। বিকেল বেলা বাড়ি যেত। এক দিন বাইরে খেলতে খেলতে উঁচু গাছের মাথায় উঠে গেল। সেখান থেকে লাফিয়ে আকাশে চলে গেল। যেই না আকাশে গেছে অমনি আকাশের নীল রংটা তার সারা গায়ে লেগে গেছে। আর সাদা মাউপুষিটা নীল মাউপুষি হয়ে গেছে। বাড়ি আসার পর ওর মামা মাউপুষি, বাবা মাউপুষি, দিদা মাউপুষি সবাই বলছে "আমাদের সাদা মাউপুষি কোথায় গেল? ... ...

একটা পাখি বলেছে "তুমি ভালো করেছ'। কাক বলল ভাল থাকতে হবে। কাক বলল আজ থেকে আমি কুমিরের বন্ধু। কাক খুব খুশি- কুমির আসবে দুটো বাচ্চাকে নিয়ে। ... ...

একটা ছোত্ত বাচ্চা মেয়ে। মেঘের মেয়ে। সে টাইগারকে জিগ্গেস করলো, তোর নাম কী রে? টাইগার বললো, আমার নাম টাইগার ! মেঘবালিকা জিগ্গেস করলো, তুই কী করিস? টাইগার বললো, আমি খুব ঘুরে বেড়াই। মানুষ-টানুষ ধরে খাই। সব জায়গা দেখি। আমি খুব ভালো। মানুষদের খাই না। -সে কী রে? এই যে বল্লি, মানুষ ধরে খায়? -না, না, ও মানুষফানুষ কিছু খায় না। শুধু হরিণের মাংস খায়। ভালো টাইগার। ... ...

একটা লাল চিটি ছিল, একটা কালো চিটি ছিল, আর একটা সাদা চিটি ছিল। কালো চিটি আর সাদা চিটি লাল চিটিটাকে জিজ্ঞেস করল, হ্যাঁরে হ্যাঁরে, তুই এ রকম লাল কেন? তখন লাল চিটিটা বলল, আমি তো রক্ত খেয়েছি মানুষদের, তাই আমি এ রকম লাল। তখন লাল চিটি আর সাদা চিটি কালো চিটিটাকে বলল, হ্যাঁরে হ্যাঁরে তুই এত কালো কেন? তখন কালো চিটিটা বলল, আমি তো খুব রোদ্দুরে ঘুরেছি, তাই আমি কালো হয়ে গেছি। তখন লাল চিটি আর কালো চিটি সাদা চিটিটাকে জিজ্ঞেস করল, হ্যাঁরে হ্যাঁরে তুই এরকম সাদা কেন? তখন সাদা চিটিটা বলল আমি তো রোজ ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি মাখি, তাই আমি এরকম সাদা হয়ে গেছি। ... ...

নতুন একটা 'রাইড' এসেছে, তার নাম হল 'স্যাটার্ণ রাইড'। একটা বিরাট বড় বল আর তার চারপাশে 'রিঙ'। খুবই ভয়ংকর 'রাইড', কারণ সবাইকে ঐ 'রিঙের' ওপর বসতে হয় আর বলটা খুব জোরে ঘুরতে থাকে। শুধু টাক মাথা লোকেরাই এই 'রাইড' চড়তে পারে... ... ...

ওরা ১১ মিনিট ধরে হাসিঠাট্টা করতে লাগলো যতক্ষণ না ওরা একটা কুকুরের ডাক শুনতে পেল। সোমা ভাবল, "এটা কোন আওয়াজ হতে পারে?' অ্যানজেল ও সিলভেরি একসঙ্গে বলে উঠলো, "এটা একটা কুকুরের আওয়াজ কিন্তু এটা বেশ অন্ধকার দেখতে'। তাই ওরা দৌড়ে পালাল আর যে মলটাতে যাবার প্লান ছিলো সেই মলটাতে চলে গেল। ... ...

একদিন ওশানে আগুন লেগে গিয়েছিল। বেশি জল ছিলনা যেটা দিয়ে আগুনটা চলে যেত। ওশানে গাছ আছে। যখনি মশা বা মাছি বসে তখন ঐ গাছটা ওদেরকে খেয়ে নেয়। ওদের গায়ের ভিতরে যেটা থাকে সেটা বের করে দেয়... ... ...

মাকে খুঁজতে ও তখন আরো জোরে দৌড়তে শুরু করলো। ওকে স্টপ করলো একজন সিকিওরিটি। সে জিগেস করল "তোমার নাম কি?' লিলি বললো "আমি লিলি।' সিকিওরিটি বললো "তুমিই লিলি? তোমার মা অনেকক্ষণ ধরে তোমায় খুঁজছে।' লিলি জিগেস করলো "কোথায় মাম্মা?' সিকিওরিটি বললো "সোজা গেলে দেখবে তোমাদের অ্যাপার্টমেন্ট। তার সামনে তোমার মা দাঁড়িয়ে আছে।' লিলি ছুটে গেল। দেখতে পেলো মা দাঁড়িয়ে আছে। মাকে একটা বিগ হাগ দিলো ও। আর কোনোদিনও কিন্তু এরপর লিলি রং বাস স্টপে নামে নি। ... ...

লেখক এবং তাঁর সহকর্মীরা কিছুদিন আগেই একটি ছক্কা মেরে একটি গাড়ির সমূহ ক্ষতিসাধন করেছেন। লেখক এবং তাঁর সহকর্মীদের পরিবারবর্গকে যৎপরোনাস্তি অপমানিত হতে হয়েছে এবং ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছে। লেখকের মায়ের মতে সত্য ঘটনা অবলম্বনে রচিত এই কাহিনীর নাম হওয়া উচিৎ ""খারাপ ছেলের স্বপ্ন''। লেখকের ইচ্ছা এই গল্পের নাম হোক 'দ্য ড্রীম টিম' ... ...

পাশেই একটা জায়গায় একটা জিরাফ একা একা দাঁড়িয়েছিলো। তাকে দেখে রাজের বড় দু:খ হল, কারণ ওই জিরাফটার কোনো বন্ধু ছিলো না। তাই রাজ ওই মাঠে আর একটা জিরাফ এঁকে দিলো আর তার পাশে দুটো গাছ এঁকে দিলো, যাতে ক্ষিদে পেলে ওরা গাছের পাতা খেতে পারে। জেব্রা, সিংহ আর চিতা দেখে কুমীরের দিকে যাওয়ার সময় রাজ দেখলো দুটো ছোট ছেলেমেয়ে উটের পিঠে চড়ে ঘুরছে। কুমীরের পুকুরের সামনে গিয়ে রাজ দেখলো পুকুরে একটুও জল নেই - কুমীরটা ডাঙায় শুয়ে আছে। তাই দেখে রাজ পুকুরে জল এঁকে দিলো। আর কুমীরটাও অমনি সরসর করে জলে নেমে গেলো। ... ...