এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  উপন্যাস

  • অচলায়তনের রূপকথাঃ পর্ব ১৪

    Ranjan Roy লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | উপন্যাস | ০৮ এপ্রিল ২০২৩ | ১০৩০ বার পঠিত | রেটিং ৪.৫ (২ জন)

  • পরের দিন রাত্তিরে দশটা নাগাদ একটা গুজব কানাঘুষোয় গোটা আশ্রমে ছড়িয়ে পড়ল। রাত আটটা থেকে ন'টার মধ্যে যখন ফার্স্ট ব্যাচ খেতে  বসেছে, ঘরগুলো খালি, তখন কে বা কারা রণজিৎদার ঘরের জানলা দিয়ে ওঁর বিছানায় কোন কড়া অ্যাসিড ঢেলে দিয়েছে। বিছানার চাদর ফুটো ফুটো, ভাঁজকরা লেপে পুড়ে তুলো বেরিয়ে পরেছে। হ্যাঙারে ঝোলানো দুটো টেরিলিনের শার্ট-- সেগুলোও গেছে।
    রণজিৎদা প্রায় হিস্টিরিয়াগ্রস্ত।
    --ওরা আমাকে মারতেই চেয়েছিল। ভাগ্যিস খেতে গিয়েছিলাম। ঠাকুর রক্ষে করেছেন।
    দু’দিন পরে সোমবার। স্কুল শুরু হবে সকাল আটটায়, কারণ গরম বেড়ে গেছে। এইভাবে দু' সপ্তাহ চলবে, তারপর সোজা গরমের ছুটি।
    মিটিংয়ে ঠিক হল আমরা পালা করে ক্লাস বাংক করব। প্রথম দিন বিপ্লব ও প্রশান্তের সায়েন্স এর প্র্যাকটিক্যাল আছে, ধরা পরে যাবে। ফলে প্রথম দু'দিন আমি আর গুরু। পরের দু'দিন ওরা।
    সেইভাবে তৈরি হলাম। চৌকির নীচে খালি জায়গাটা জল দিয়ে মুছে সতরঞ্চি পেতে দুজনের বালিশ ফিট করা হল। তক্তপোষের ওপরে টানটান বিছানা। একটা ডবল সাইজের চাদর মেজে অব্দি ঝোলানো, যাতে কারও চোখ চৌকির নীচে না যায়।
    এই প্ল্যানের কথা মানস জানে না। ও যে মেজমহারাজের স্পাই। ও বেরিয়ে গেলে বিপ্লব ও প্রশান্ত বাইরে থেকে দরজায় তালা মেরে চাবি নিয়ে চলে গেল। তাতে কি! আমি দরজার লোহার কড়ার একটার নাট ঘরের ভেতর থেকে সাঁড়াশি দিয়ে আলগা করে আবার হালকা করে লাগিয়ে দিয়েছি। বাথরুম পেলে হাত দিয়েই নাট খুলে নেব, তালাশুদ্ধ জোড়া কড়া আলগা হয়ে যাবে। ফিরে এসে আবার ভেতর থেকে নাট লাগিয়ে নেব। বাইরে থেকে দরজায় তালা লাগানো-- কোন কথা হবে না।
    এমন চমৎকার প্ল্যান! কিন্তু এবার ভগবান আমার সঙ্গে নেই।
    খানিকক্ষণ নীচু স্বরে গল্প করতে করতে দুজনেই কখন ঘুমিয়ে পড়েছি জানি না। গাঢ় ঘুমে তলিয়ে গিয়ে স্বপ্নে তখন একটা হেরে যাওয়া টেনিস বলের পুরনো ম্যাচ রি-ওয়াইন্ড করে আবার দেখছি--এবার হয়ত জিতে যাব।
    এমন সময় ঘুমটা ভেঙে গেল। ঘরের মধ্যে কারা যেন চলে ফিরে বেড়াচ্ছে, নীচু গলায় কথা বলছে। কিস্যু মাথায় ঢুকছে না।
    ধরা পড়ে গেলাম? কেউ বেইমানি করেছে? কোন শালা!
    চাদরের তলা দিয়ে ফ্লোর লেভেল থেকে চোখ রেখে যা দেখলাম তাতে আমার ভয়ের চোটে হাত-পা পেটের ভেতরে!
    ঘরের মধ্যে তিনজন হাঁটাচলা করছে ও নীচু গলায় পরামর্শ করছে।
    একজন রণজিৎদা ওয়ার্ডেন, আর একজন চামচা মানস, ও নির্ঘাৎ ঘরের চাবি বিপ্লবদের থেকে চেয়ে এনেছে। কিন্তু তৃতীয়জন? আমাদের কেমিস্ট্রির হেড-- সুনন্দ স্যার।
    অমন কড়া কেমিস্ট্রির এইচ ও ডি সুনন্দ স্যার, রোজ সন্ধ্যেবেলা নিয়ম করে আশ্রমের গেটের উল্টোদিকে শুকতারা সিনেমার পাশে ওঁর বন্ধুর ইলেকট্রিক গুডস্‌ এর দোকানে বসে আড্ডা মারেন। কিন্তু ক্লাসে উনি টেরর। ওঁর সেট ডায়লগ—ওরে, দিনের বেলায় আকাশে তারা দেখিয়ে ছাড়ব!
    তা উনি স্কুল ছেড়ে চুপিচুপি আমাদের ঘরে! কেসটা কী?
    ধরাপড়ার ভয়ের থেকেও কৌতুহল বেশি। নাকটা বাড়ালাম। না, ওঁরা কিছুই টের পার নি। আর মানস দালাল হলেও আসলে একটি ঢেঁড়স।
    দেখি, রণজিৎদা কোথা থেকে একটা মাস্টার কী জোগাড় করেছেন। তাই দিয়ে কাঠের র‌্যাকের উপরে রাখা আমাদের চারজনের ট্রাংক একে একে খুলছেন আর মানসকে জিগ্যেস করছেন কোনটা কার ট্রাঙ্ক। যা বুঝলাম, গুরুর ট্রাংক সার্চ করা হয়ে গেছে। এবার আমার পালা। জামাকাপড় হাটকে একটা পানামা সিগ্রেটের প্যাকেট বেরল।
    এবার আমার ফাঁসি হবে। কিন্তু কোনভাবে যদি বেঁচে ফিরি তো মানসকে দেখে নেব।
    মনে পড়ল গার্লস স্কুলে পড়ার সময় ক্লাস থ্রি তে হাতের লেখা লিখতে হত। রেখা বলে মেয়েটি লিখেছিল --পাপের বেতন মৃত্যু। কথাটা এখন মনে পড়ে গেল।
    কিন্তু সিগ্রেটের প্যাকেটের মত মারাত্মক কন্ট্রাব্যান্ড পেয়েও সার্চ পার্টির কোন হেলদোল নেই। ওরা এর ওর দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়ছেন। তবে কি ওঁরা অন্য কিছু খুঁজছেন? কী সেটা?
    বিপ্লবের ট্রাংক খুলতেই --ইউরেকা! রণজিৎদা ও মানসের মুখে একগাল হাসি। কোণা থেকে বেরল খবরের কাগজ দিয়ে মুড়ে রাখা একটা বীকার। তাতে টলটল করছে একটা তরল পদার্থ।
    অ্যাসিড! সেরেছে। তবে কি বিপ্লবই রণজিৎদার বিছানায় অ্যাসিড ঢেলেছে? কী করি! কীভাবে ওদের খবর পাঠাই? গুরুকে ঘুম থেকে তুলতে গেলে সার্চ পার্টি টের পেয়ে যাবে।
    পোদো , তুই এখন মহাভারতের সঞ্জয় হয়ে যা। অর্জুন হওয়া তোর কপালে নেই।
    এবার রণজিৎদা তুলে ধরল একটা পুরনো নোংরা ঘরমোছার ন্যাকড়া গোছের এক টুকরো কাপড়। সুনন্দস্যার সন্তর্পণে বীকার থেকে একটু অ্যাসিড ঢাললেন। নাঃ, কোন ধোঁয়া নয়, কিছু নয়। বীকারের দশফোঁটা অ্যাসিড ওই ন্যাকড়া বেমালুম হজম করে নিল।
    সুনন্দস্যার মুখ বেঁকালেন।--এটা নয়।
    এরপর প্রশান্তর ট্রাংক। ওর ট্রাংক থেকেও ওইরকম একটা বীকার বেরল। সেটার থেকেও দশফোঁটা ওই কাপড়ে ঢালা হলে স্যার মাথা নেড়ে বললেন-- নাঃ। এগুলো একটাও নয়।
    ক্রুদ্ধ হতাশ রণজিৎদা এবার ওই কাপড়টার কোণা দুহাতে ধরে মারলেন একটা হ্যাঁচকা টান। ফ্যাঁস করে শব্দ হল। একটা কানি ছিঁড়ে আলগা হয়ে রণজিৎদার হাত থেকে ঝুলতে লাগল।
    উল্লসিত রণজিৎ দা বললেন-- দেখলেন স্যার? এরাই আসল কালপ্রিট।
    স্যারের গলায় তাচ্ছিল্যের সুর।
    --না ভাই রণজিৎ; ওটা আপনি জোর লাগিয়ে টেনে ছিঁড়লেন, পচা কাপড়। আপনার বিছানায় জামাকাপড়ে ঢালা হয়েছে সালফিউরিক অ্যাসিড। সম্ভবতঃ যেগুলো পায়খানা সাফ করতে কাজে আসে। আর এগুলো হল হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড। এতে অমন করে লেপে ফুটো হয় না।
    রণজিৎদা ভাঙবেন তবু মচকাবেন না।
    --স্যার, এরা ল্যাব থেকে অ্যাসিড চুরি করে লুকিয়ে রেখেছে। কেন? হয়ত ওই সালফিউরিক অ্যাসিড ওরাই এনেছে, কিন্তু অন্য কোথাও লুকিয়ে রেখেছে। ভাল করে জেরা করলেই জানা যাবে।

    সন্ধ্যেবেলা পুরো ক্লাস টেন এর প্যারেড নিলেন বড় মহারাজ।
    --এসব কী শুরু হয়েছে? তোরা ভেবেছিসটা কী? সাপের পাঁচ পা দেখেছিস! ওয়ার্ডেনের বিছানায় জামাকাপড়ে অ্যাসিড ঢেকে দেওয়া? ল্যাব থেকে অ্যাসিড চুরি করে আনা! তোরা কী চাস? আর বিপ্লব ও প্রশান্ত, সত্যি কথাটা বলে ফেল। কে অমন নোংরা কাজটি করেছে?
    বলবে না?
    মেজমহারাজ বললেন-- মুখ খোলানোর কায়দা আমার জানা আছে। এই যে আমাদের গুডবয় প্রদ্যুম্ন। তুমিই বলে ফেল, তোমাদের ঘরে অ্যাসিড লুকিয়ে রাখা হচ্ছে আর তুমিই জান না?
    --- ঠিক বলেছেন মহারাজ, আমাদের ঘরের ব্যাপার হলে আমি নিশ্চয়ই জানতাম। কিন্তু কে বলেছে যে আমাদের ঘরে অ্যাসিড পাওয়া গেছে? আমি বিশ্বাস করি না।
    -- কী বলছ? ওয়ার্ডেন রণজিৎ ও কেমিস্ট্রির স্যারের সামনে বিপ্লব আর প্রশান্তর ট্রাংক খুলে চেক করা হয়েছিল, তার ভেতরে অ্যাসিডের বীকার পাওয়া গেছে।
    -- হতে পারে না! রণজিৎদা মিথ্যে কথা বলছেন। উনি কী করে জানবেন কোনটা প্রশান্তর আর কোনটা বিপ্লবের? ওদের সামনে কেন খোলা হয় নি? আর ওরা দুজন ক্লাসে রইল, চাবি ওদের পকেটে অথচ ওদের ট্রাংক খোলা হয়ে গেল? রণজিৎদা ম্যাজিক জানেন নাকি? সব মিথ্যে কথা। কেমিস্ট্রির স্যারকে কার না কার ট্রাংক দেখানো হয়েছে!
    --শাট আপ্‌। মানস তোমাদের রুম পার্টনার। ও দেখিয়ে দিয়েছে কোনটা কার; আর ও-ই একটা মাস্টার কী দিয়ে ওগুলো খুলেছে।
    -- সরি মহারাজ। কারও পারমিশন ছাড়া তার বাক্সপ্যাঁটরা হাটকানো ও অন্য চাবি দিয়ে খোলা চুরির পর্যায়ে পড়ে।
    এখন যদি প্রশান্ত আপনার কাছে রাইটিং এ নালিশ করে যে আজ সন্ধ্যের পর থেকে ও বাক্স খুলে একশ টাকার খুচরো পাচ্ছে না--তো আপনি নিশ্চয়ই তারও তদন্ত করবেন?
    মহারাজ প্রশান্ত ও বিপ্লবের মুখে র্দিকে তাকালেন। ওরা আস্তে করে ওপর নীচে মাথা নাড়ল।
    মেজমহারাজ ধৈর্য হারালেন।
    -- চোরের মায়ের বড় গলা! এই দুজনকে এখনই সাতদিনের জন্যে সাসপেন্ড করে বাড়ি পাঠিয়ে দিন। আর এই অকালপক্ক উকিল প্রদ্যুম্ন? তুইও এর মধ্যে আছিস, এতে কোন সন্দেহ নেই। দু'দিন সময় দিলাম। ভাল করে ভেবে নে। দোষ স্বীকার করলে শাস্তি কম হবে।

    অ্যাসিড কান্ডে সারা আশ্রম তোলপাড়।
    দুটো সিনিয়র ছেলে --লেখাপড়ায় ভাল-- সাসপেন্ড হবে।
    আমরা গিয়ে মহারাজকে বললাম-- যা করি নি তার শাস্তি কেন ভোগ করব? রণজিৎদার কথা ছাড়ুন; উনি এক পক্ষ, কাজেই বায়াসড্‌। যদি কেমিস্ট্রির হেড সুনন্দ স্যার বলেন যে এই দুজনের কাছ থেকে যে অ্যাসিড পাওয়া গেছে সেটাই আসল জিনিস তো মেনে নেব।
    আপনি ওনাকে ডেকে জিগ্যেস করুন।
    এদিকে আমরা ডেসপারেট; সুনন্দ স্যারের সঙ্গে দেখা করলাম।
    স্যার একটু দেখুন না! আপনার নাম করে মহারাজ এই দুই ছাত্রকে সাসপেন্ড করছেন। আপনি যা সত্যি তাই বলবেন-- রণজিৎদা একটা পচা ন্যাকড়া ছিঁড়ে বলছেন যে ওটা নাকি আপনার সামনে অ্যাসিড ঢেলে পরীক্ষা করা হয়েছে । আপনি তো জানেন ওটা সালফিউরিক অ্যাসিড নয়।
    স্যার গম্ভীর; এক এক করে আমাদের মুখে চোখ বোলালেন। তারপর বললেন--চিন্তা কর না; যেটা সত্যি সেটাই বলব।
    আমরা ফিরে আসছি--উনি ডাকলেন। অ্যাই শোন, এই কালো ছেলেটা! কোন ক্লাসে পড়িস? তুই তো আমার ছাত্র নোস্‌!
    --না স্যার, ক্লাস টেন আর্টস্‌।
    --বটে, তুই কী করে জানলি যে রণজিৎ নিজে জোর লাগিয়ে ন্যাকড়া ছিঁড়েছিল আর আমি বলেছি যে ওর ঘরে যে অ্যাসিড ঢালা হয়েছে সেটা সালফিউরিক?
    বক্কেশ্বর শ্রীমান পোদোর মুখে কেউ লিউকোপ্লাস্ট লাগিয়ে দিয়েছে।
    --কী রে বল? এমনি এমনি চলে যাবি? না বললে তোকে দিনের বেলায় তারা দেখিয়ে ছাড়ব।
    রামে মারলেও মারবে, রাবণে মারলেও মারবে! যা থাকে কপালে!
    ঠাকুরের নাম নিয়ে ডাইভ মেরে স্যারের পা ছুঁয়ে দিলাম।
    --একী একী! ওঠ, উঠে সত্যি কথাটা বল।
    --স্যার, আপনার পা ছুঁয়ে বলছি। আমার সেদিন শরীরটা ভাল ছিল না। খাটের নীচে বিছানা করে ঘুমোচ্ছিলাম। আপনারা যখন সার্চ করছিলেন আমি তখন জেগে গেছলাম। প্লীজ স্যার, এসব মহারাজকে বলবেন না।
    --বেরিয়ে যা ! যত বাঁদরের পাল আশ্রমে জুটেছে।
    আমরা প্রায় দৌড়ে বেরোলাম। কানে এল দোর্দন্ডপ্রতাপ সুনন্দস্যার হো-হো করে হাসছেন।
    সুনন্দস্যার মহারাজের প্রশ্নের উত্তরে সত্যি কথাই বলেছিলেন। এমনকি এটাও বলেছিলেন , সায়েন্সের নতুন স্টুডেন্টরা অমন একটু আধটু বিউরেট, পিপেট, বীকার ঘরে নিয়ে আসে। এটা নিয়ে উনি ছেলেদুটোকে বকে দেবেন। আলাদা করে শাস্তি দেওয়ার দরকার নেই।
    সরকারি ভাবে অ্যাসিড কান্ডের সেখানেই ইতি। ওটা রহস্য হয়েই রইল।

    ফুটনোটঃ
    মূল ঘটনার সাতদিন পরে একদিন শ্রীমান পোদো বিকেলে খেলার মাঠে না গিয়ে লাইব্রেরি থেকে বই ইস্যু করাল-- স্বামী অভেদানন্দের "মরণের পারে"। তারপর বই বগলদাবা করে হোস্টেলে ফিরে এল।প্রেয়ারের ঘন্টা না পড়া অব্দি জমিয়ে পড়বে। মরণ নিয়ে ওর ভারি কৌতূহল।
    কিন্তু ঘর যে বন্ধ। কী আপদ, বার বার কড়া নেড়েও কোন সাড়া নেই। কোন শালা ভেতরে ঘোড়া বেচে ঘুমুচ্ছে! সবাই খেলার মাঠে, নইলে ওর দরজায় ধাক্কার চোটে দোতলায় ভীড় জমে যেত।
    অবশেষে দ্বার খুলিল এবং পোদোর প্রবেশমাত্র পুনঃ বন্ধ হইল, তথা দ্রুত খিল আঁটিয়া দেওয়া হইল।
    ঘরের মধ্যে অপরাধী মুখে দাঁড়াইয়া দুইটি প্রাণী-- গুরু অমিয়দা ও উঁহার দক্ষিণহস্ত প্রশান্ত।
    না , দাঁড়াইয়া বলিলে ভুল হইবে, উভয়েই উবুড় হইয়া বসিয়া ঘর মোছার বালতিতে ন্যাকড়া ডুবাইয়া মেজে পরিষ্কার করিতে রত। কিন্তু ঘর কেরোসিন ও সরিষার তেলের গন্ধে পরিপূর্ণ। উহারা তেল ও কেরোসিন দিয়া ঘর মুছিতেছে! কী কারণে?
    কিংকর্তব্যবিমুঢ় পোদো বিছানায় উঠিয়া বসিল।
    সহসা তাহার দৃষ্টিপথে ধরা দিল প্রশান্তর জানলার উপরে নয়ফুট উঁচুতে একটি ঘুলঘুলি যে স্থানে চড়াইপক্ষী খড়কুটো দিয়া বাসা বাঁধিয়াছে। সেখান হইতে একটি ধারা দেওয়াল বাহিয়া মেজে পর্য্যন্ত পৌঁছিয়াছে এবং তাহার কটু গন্ধ কেরোসিন তেলের গন্ধেও চাপা পড়ে নাই।
    পোদোর মাথায় টিউবলাইট জ্বলিয়া উঠিল। সে চক্ষু গোল গোল করিয়া গুরুকে বলিল-- তাহলে তোমরাই! এতবড় অপারেশনটা দুজনে মিলে করলে--গুরু আর ডানহাত, বাঁহাত টের পেল না! এ বহোত না ইনসাফি!
    গুরু দাঁত বের করল। ‘শোন, ডানহাতের কথা বাঁ হাত জানবে না। সব সাকসেসফুল অপারেশনের এটাই মন্ত্র। রাগ করিস নে! তোকে বললে তুই রাজি হতিস না। উল্টে মানা করতিস। কাজটা ঠিক করি নি। কিন্তু তখন ঝোঁকের মাথায়।
    --কিসের সাকসেস? ঘরের মধ্যে ছড়িয়েছ, একটু পরে মানস বিপ্লব সব জেনে যাবে।
    -- না, জানবে না। জমাদার বৃহস্পতি দাস মুখ খুলবে না। এটা দোয়াতে করে ঘুলঘুলিতে চড়াইয়ের বাসায় রেখে দিয়েছিলাম, কিন্তু আজকে ওদের নড়াচড়ায় বোধহয় উল্টে গেছে। ঘরমোছা শেষ হলে সব দরজা জানলা খুলে রেখে দেব, গন্ধ চলে যাবে।
    কিন্তু এই গল্পটা আশ্রম ছাড়া পর্য্যন্ত কাউকে বলবি না। তোর প্রাণের বন্ধু বিপ্লবকেও না।

    অ্যাসিড রহস্যের ফলশ্রুতিতে আশ্রম জীবনে বেশ কিছু পরিবর্তন হল। রণজিৎদাকে ওনার অনুরোধে একতলায় লোয়ার ক্লাসের বাচ্চাদের ওয়ার্ডেন করে দেওয়া হল। দোতলায় টেন ও ইলেভেনের জন্যে কোন ওয়ার্ডেন থাকবে না। কাছেই হেডস্যার আছেন। ফলে বেয়াড়া ছেলেপুলেরা একটু সমঝে চলবে।
    হ্যাঁ, মানস এর রুম বদলে গেল। ট্রাঙ্ক খোলার ব্যাপারের ওর সক্রিয় ভূমিকার ব্যাপারটা জানাজানি হওয়ায় জুনিয়র ব্যাচের ছেলেরা পর্য্যন্ত ওকে শুনিয়ে শুনিয়ে দালাল-দালু-পচা আলু এসব বলতে আরম্ভ করল। প্রশান্ত ওকে সবার সামনে ডেকে বলল-- একশ' টাকা ফেরত দে।
    --কিসের টাকা?
    --যেটা আমার ট্রাঙ্ক থেকে নিয়েছিলি?
    -- বাজে কথা! আমি আবার কবে তোর ট্রাঙ্ক থেকে টাকা নিলাম?
    -- তা জানি না। তবে তুই মাস্টার কী দিয়ে আমাদের ট্রাঙ্ক খুলতে পারিস --কাউকে না জানিয়ে -এটা তো সত্যি! চুপি চুপি কতবার খুলেছিস তার ঠিক আছে? দেখছি ট্রাঙ্কে টাকা নেই। তুই ছাড়া কে করতে পারে?
    -- মানস, টাকাটা দিয়ে দে।
    আমাদের গুরুর গলার স্বর খাদে নামা , ক্যাজুয়াল।
    বিব্রত মানস আমাদের সবার মুখের দিকে অনুনয়ের ভঙ্গিতে তাকায়। আমরা কোন কথা বলি না।
    তারপর কোন কথা না বলে বিছানা থেকে উঠে গটগটিয়ে বেরিয়ে যায়।
    মানস ফিরল দু'ঘন্টা পরে। তখন প্রেয়ারের সময় হতে বেশি বাকি নেই। সোজা নিজের বিছানা জামাকাপড় বইপত্তর গুছিয়ে নিয়ে চলে গেল। তার আগে কারও দিকে না তাকিয়ে বলল-- মেজমহারাজ আমাকে নীচের তলায় ১৫ নম্বর ঘরে বদলি করে দিয়েছেন।
    পরে জানলাম, ও মহারাজদের কাছে রুম বদলে দেওয়ার জন্যে কান্নাকাটি করেছে। ওঁরা প্রথমে রাজি হন নি। দশদিন পরেই গরমের ছুটি হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ও ভয় পাচ্ছে ওর গায়েই না কেউ অ্যাসিড ঢেলে দেয়। ওর অবস্থা দেখে মহারাজরা মেনে নিলেন। আগামী দশদিন পর্য্যন্ত আমরা চারজন, মানসের তক্তপোষ খালিই থাকবে।
    বিপ্লব বলে-- আপদ গেছে, বেশ হয়েছে। থাকলে আরও ঝাড় খেত।

     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ধারাবাহিক | ০৮ এপ্রিল ২০২৩ | ১০৩০ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Ranjan Roy | ০৮ এপ্রিল ২০২৩ ১৫:৩৯518451
  • সতর্কবাণী এবং বিনম্র অনুরোধঃস সংশোধন
    আমার ভুলে প্রথমবার মাত্র শেষ দুটো প্যারাগ্রাফ পোস্ট হয়েছিল। যে ৬২ জন পড়েছেন তাঁরা নিঘঘাৎ খিস্তি করছেন--এ আবার কি ইয়ার্কি!
     এখন ্ঠিক করে দিয়েছি, আবার পড়ুন।
    বিফলে মূল্য ফেরৎ !
  • Kishore Ghosal | ০৯ এপ্রিল ২০২৩ ২১:৪৫518500
  • স্কুল লাইফে এত সহজে ল্যাব থেকে অ্যাসিড ঝেড়ে দেওয়া যেত?  মিশনের মহারাজরা এতটাই কাছাখোলা ছিলেন?  খুবই বিপজ্জনক অবস্থা সন্দেহ নেই। 
  • Ranjan Roy | ০৯ এপ্রিল ২০২৩ ২২:৪৫518502
  • প্রায় 60 বছর আগের ঘটনা দেখানো হচ্ছে। নাইনে ওঠা নতুন ছেলের দল প্রথম বার সামান্য কিছু হোস্টেলে এনেছিল। আর বিছানায় ঢালা হয়েছিল পায়খানা পরিষ্কারের অ্যাসিড -- গল্প অনুসারে। 
  • kk | 2601:14a:500:e780:9e31:9550:d017:4443 | ০৯ এপ্রিল ২০২৩ ২৩:০৪518503
  • রঞ্জনদা,
    আমার দুটো প্রশ্ন আছে। সেগুলো ঠিক এই লেখা নিয়ে তা নয়। তবে এই লেখা যিনি লিখেছেন তিনি উত্তর দিতে পারবেন বলেই মনে করি।

    ১) অনেক জায়গাতেই দেখি 'শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ' বা 'শ্রী শ্রী ঠাকুর' এই জাতীয় সম্বোধন করা হয়। শ্রী কথাটা দুবার ব্যবহার করার কারণ কী? এতে কি বেশি শ্রদ্ধা বোঝানো যায়?

    ২) রামকৃষ্ণ মিশনের হস্টেলে এই যে এত প্রার্থনা, উপাসনা, "ঠাকুরের দয়া" ইত্যাদির প্রাচুর্য্য, এবার যেসব ছেলেরা ঈশ্বরে বিশ্বাসী নয়। বা অন্তত পক্ষে রিচুয়ালসে বিশ্বাসী নয়, বা হিন্দুধর্মের মূল তত্ত্বে বিশ্বাসী নয়, তারা কী করে? তারা কি জাস্ট নিয়ম রক্ষার্থে এই আচারবিধি পালন করে? সেটা করার সময় মনে খুব টানা পোড়েন হয়না? প্যালারাম বাবু এই নিয়ে একবার লিখেছিলেন। তবু প্রশ্নটা থেকেই গেছে।
  • Kishore Ghosal | ০৯ এপ্রিল ২০২৩ ২৩:৩৫518505
  • @KK বাবু, 
     
    আমাদের ছোটবেলায় তো বটেই হয়তো এখনও আমাদের নাম বলার সময় শ্রী যোগ করে বলাটা আন্তরিকভাবে শেখানো হত, এবং পিতৃদেবের নামের আগে শ্রীযুক্ত, মাতৃদেবীর নামের আগে শ্রীযুক্তা বা শ্রীমতী। 
    আমাদের  মতো হাবিজাবি লোকেরা সবাই সে সময় শ্রী ছিলাম,  অতএব আধ্যাত্মিক বা ঐশ্বরিক মানবদের বিশিষ্টতা  আরোপের জন্যেই  শ্রী-র দ্বিত্ব ব্যবহার করা হয়, হয়তো। রঞ্জনদা আরও ভালো বলতে পারবেন।  
  • Ranjan Roy | ১০ এপ্রিল ২০২৩ ১১:১৭518510
  • 1 ঠিকই বলেছেন। অনেক পূজ্যপাদের নামের আগে শ্রী শ্রী 108 যুক্ত করা  হয় দেখে থাকবেন। 
    ওই 108 ব্যাপারটা ঠিক জানি  না।
    আমার অনুমান, 108 টি পদ্ম দিয়ে বন্দনা গোছের কিছু   হবে।
  • Ranjan Roy | ১০ এপ্রিল ২০২৩ ১১:৪৩518512
  • 2
    কেকে ,
    আমি লিখেছি স্কুল জীবনের কথা। সে বয়সে সবাই  আস্তিক।
    যে কয়েকজনের মনে সামান্য প্রশ্ন উঠেছিল তাদের মধ্যে আমি ছাড়া সবাই আস্তিক। সবাই হয়ত ততটা রিচুয়ালিস্টিক নয়। কিন্ত অধিকাংশের,, যেমন আমাদের দুই মেয়ের, কোর বিলিফ হল:
    ক)
    স্রষ্টা ছাড়া সৃষ্টি সম্ভব নয়। কাজেই  বিশ্বের সৃষ্টিকর্তা কেউ আছেন,  তিনিই ঈশ্বর। 
    খ) 
     বিনা উদ্দেশ্য কোন কাজ হয় না। এই বিশাল সৃষ্টির কোন উদ্দেশ্য নিশ্চয়ই আছে। কে ভেবেছে? কোন  সুপার মাইন্ড,  তিনিই ঈশ্বর। 
    এগুলোই ঈশ্বরের অস্তিত্বের পক্ষে বিখ্যাত অন্টোলজিক এবং টেলিওলজিক  প্রুফ। 
     
    অন এ লাইটার ভেন: 
    আমার স্কুল জীবনের দুই লং আইল্যান্ডবাসী বন্ধুর একজন বেশ মদ খান। কিন্ত ড্রিংক করার আগে শ্রীমার ফটোর সামনে গেলাস তুলে বলেন -' মাকে নিবেদন করে খাচ্ছি, আমার কোন ক্ষতি হবে না।
    এই অন্ধবিশ্বাস ও অসভ্যতায় অন্যেরা বিরক্ত  হন।
     
  • dc | 2401:4900:1f2a:7124:f49d:acee:72f6:5f1 | ১০ এপ্রিল ২০২৩ ১১:৫০518513
  • শ্রী শ্রী ১০৮ ব্যাপারটা আমি জানি, তবে কিনা এখানে তো শুধু বড়োরা আসে, তাই ওসব ছোটদের ব্যপার এখানে লেখা যাবে না। 
  • Ranjan Roy | ১০ এপ্রিল ২০২৩ ১৪:১৪518514
  • :)))
  • kk | 2601:14a:500:e780:b671:70c:8fb2:10cf | ১০ এপ্রিল ২০২৩ ২১:৪৮518529
  • রঞ্জনদা আর কিশোর বাবুকে ধন্যবাদ। ডিসির শ্রী শ্রী ১০৮ এর উত্তরটাও শোনার ইচ্ছে ছিলো :-)
  • পলিটিশিয়ান | 2607:fb91:8882:1302:7957:3673:1c98:6864 | ১০ এপ্রিল ২০২৩ ২৩:০৭518532
  • আমিও ডিসির উত্তর শুনতে চাই।
  • ১০৮ | 49.37.38.92 | ১০ এপ্রিল ২০২৩ ২৩:৩৭518533
  • https://www.anandabazar.com/horoscope/significance-of-the-number-108-dgtl-1/cid/963488

    ১০৮ র গুরুত্ব পড়ে নিন।

    আর শ্রীশ্রী ১০৮ মানে সুন্দর করে ১০৮ বার। কিন্তু, সুন্দর করে কী, সেটা ডিসি বলবে। (সেই তথ্য আবাপের এই লেখার সাথে জুড়ে আবাপকে পাঠিয়ে দিতে পারেন।)
  • Ranjan Roy | ১১ এপ্রিল ২০২৩ ০০:৩৭518536
  • বাকি গুলো বুঝলাম, কিন্তু মহাভারতের ১৮ পর্বের সঙ্গে ১০৮ এর সম্পর্ক কেমন যেন অস্পষ্ট। অবশ্য গীতায়ও ১৮ অধ্যায়। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা হল ৮। অষ্ট বসু, অষ্টাঙ্গ যোগ ইত্যাদি। একসময় চার, আট এবং ষোলকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হত। 
    আমার ছোটবেলায় ধারাপাতে সব ১৬ দিয়ে ছিল। চার আনা আট আনা ছিল। একটাকা বরাবর ষোল আনা হত। ১ মণ = ৪০ সের। সেই আটের খেলা। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা খুশি প্রতিক্রিয়া দিন